SURAH 29 : Al-‘Ankabût

Ayat 1

الم

“আলিফ, লাম, মীম (আল্লাহর কিতাবের সুনির্দিষ্ট সুবিন্যস্ত সংকেত বা আইনি অনুশাসনের মূল চালিকাশক্তি ও মনস্তাত্ত্বিক চাবিকাঠি)।”


Ayat 2

أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ

“সাধারণ মানুষ কি এরূপ অবান্তর ধারণা পোষণ করে রেখেছে যে—তারা মুখে কেবল ‘আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছি’ (Āmannā) বললেই তাদের কোনো মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা, যাচাইকরণ বা বাস্তব সংকটের মুখোমুখি না করেই অমনি ছেড়ে দেওয়া হবে (Wahum lā yuftanūn)?”

Keywords:

  • لَا يُفْتَنُونَ (Lā yuftanūn): কোনো আদর্শ বা মানুষের ভেতরের আসল মানসিকতা, সততা বা খামতিকে চাক্ষুষভাবে প্রকাশ করার জন্য বাস্তব অগ্নিপরীক্ষা বা যাচাইকরণের মুখোমুখি না করা।

Ayat 3

وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۖ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ

“অথচ নিশ্চয়ই আমি তাদের পূর্ববর্তী সুদীর্ঘ প্রাচীন প্রজন্মের প্রতিটি মানবসমাজকে এক চরম বাস্তব পরীক্ষা ও যাচাইকরণের মুখোমুখি করেছিলাম (Walaqad fatannal-lazīna min qablihim); অতঃপর আল্লাহ (তাঁর অমোঘ প্রাকৃতিক ও চাক্ষুষ নিয়মে) অবশ্যই সমাজে সুস্পষ্ঠভাবে প্রকাশ করে দেন কারা নিজেদের দাবিতে পরম সত্যনিষ্ঠ ও সৎ (Sadaqū), এবং তিনি অবশ্যই চাক্ষুষভাবে ফুটিয়ে তোলেন কারা আসলে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যাবাদী।”


Ayat 4

أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ أَن يَسْبِقُونَا ۚ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ

“নাকি যারা অবিরত বিকৃত, অন্যায় ও নেতিবাচক অপকর্ম সম্পাদন করছে, তারা এরূপ অবান্তর ধারণা করে বসে আছে যে—তারা আমার বিধিবদ্ধ প্রাকৃতিক নিয়মকে ফাঁকি দিয়ে বা পরাভূত করে অনেক দূর এগিয়ে যাবে (An yasbiqūnā)? তারা সমাজ ও আইন পরিচালনায় কীরূপ নিকৃষ্ট, ভুল ও জঘন্য সিদ্ধান্ত বা রায় জারি করছে!”


Ayat 5

مَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ اللَّهِ فَإِنَّ أَجَلَ اللَّهِ لَآتٍ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

“যে কেউ আল্লাহর বিধিবদ্ধ বিচারের অমোঘ মুখোমুখি হওয়ার বা চূড়ান্ত ফলাফলের তীব্র আশা ও প্রত্যাশা পোষণ করে, সে জেনে রাখো—নিশ্চয়ই আল্লাহর দেওয়া সেই সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা অবধারিত বৈপ্লবিক মুহূর্ত অবশ্যই আগমনকারী (Fa-inna ajalallāhi la'āt); আর তিনি সবকিছু শোনেন ও নিখুঁতভাবে পরিজ্ঞাত।”


Ayat 6

وَمَن جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ

“আর যে কেউ (সত্যের পথে চলতে গিয়ে নিজের কুপ্রবৃত্তি ও সমাজ-বিকৃতির বিরুদ্ধে) সর্বোচ্চ মেধা, শ্রম ও জান-মাল দিয়ে অবিরাম সংগ্রাম বা বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা করে (Waman jāhada), সে প্রকৃতপক্ষে নিজের সত্তার বিকাশ ও আত্মিক সুরক্ষার জন্যই সেই সংগ্রাম পরিচালনা করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসীর সমস্ত কর্ম বা মুখাপেক্ষীতা থেকে সম্পূর্ণ পরমুখাপেক্ষীহীন ও পরম স্বয়ংসম্পূর্ণ।”

Keywords:

  • جَاهَدَ (Jāhada): সত্যের আদর্শ সুপ্রতিষ্ঠিত করতে নিজের অলসতা, ভয় ও বাইরের অপশক্তির বিরুদ্ধে জান-মাল ও মেধা দিয়ে সর্বোচ্চ ও অবিরাম বাস্তব সংগ্রাম চালানো।

Ayat 7

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَحْسَنَ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ

“আর যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সমাজে সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করেছে (Wa 'amilus-sālihāt), আমি অবশ্যই তাদের অতীত জীবনের সমস্ত নেতিবাচক খামতি বা মন্দ বিষয়গুলোর ক্ষতিকর প্রভাবকে সম্পূর্ণরূপে মুছে দেব ও ঢেকে দেব (Lanukaffiranna 'anhum sayyi'ātihিম), এবং আমি তাদের অবশ্যই ভূষিত করব এক সর্বোত্তম ও মহিমান্বিত প্রতিদানে—তারা বাস্তবে যে সমস্ত গঠনমূলক কর্ম অবিরত সম্পাদন করছিল সেটির ভিত্তিতে।”


Ayat 8

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا ۖ وَإِن جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِيعْهُمَا ۚ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

“আর আমি মানুষকে তার নিজের মূল লালনকারী উৎস বা বাবা-মায়ের প্রতি অত্যন্ত সুষম, সুন্দর ও কল্যাণকর আচরণের সুনির্দিষ্ট আইনি নির্দেশ দিয়েছি (Bivālidayhi husnā); তবে তারা উভয়ে যদি তোমার ওপর এই মনস্তাত্ত্বিক জবরদস্তি বা তীব্র চাপ সৃষ্টি করে—যাতে তুমি আমার চূড়ান্ত আইনের পাশাপাশি এমন কোনো মনগড়া দর্শন বা প্রথাকে অংশীদার বা সমান কর্তৃত্ব দাও যার সপক্ষে তোমার কাছে বিন্দুমাত্র কোনো অকাট্য যৌক্তিক জ্ঞান বা প্রমাণ নেই (Lītushrika bī mā laysa laka bihī 'ilmun), তবে তুমি কোনো অবস্থাতেই তাদের সেই আদেশের অন্ধ আনুগত্য কোরো না (Falā tutī'humā); তোমাদের সবার চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন তো কেবল আমারই বিধিবদ্ধ নিয়মের জবাবদিহিতায়, অতঃপর আমি তোমাদের সামনে চাক্ষুষ ফুটিয়ে তুলব তোমরা বাস্তবে কী কর্ম সম্পাদন করছিলে।”


Ayat 9

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُدْخِلَنَّهُمْ فِي الصَّالِحِينَ

“আর যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সমাজে সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করেছে, আমি অবশ্যই তাদের সেই সমস্ত সফল সংশোধনকারী ও মহৎ কল্যাণকর ব্যক্তিত্বের স্থায়ী জামাতে প্রবেশ করাবো।”


Ayat 10

وَمِنَ النَّاسUE مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ فَإِذَا أُوذِيَ فِي اللَّهِ جَعَلَ فِتْنَةَ النَّاسِ كَعَذَابِ اللَّهِ وَلَئِن جَاءَ نَصْرٌ مِّن رَّبِّكَ لَيَقُولُنَّ إِنَّا كُنَّا مَعَكُمْ ۚ أَوَلَمْ يَكُنِ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِمَا فِي صُدُورِ الْعَالَمِينَ

“আর মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছে যে মুখে বড়াই করে বলে: আমরা আল্লাহর পরম আইনের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছি; অতঃপর যখনই সে আল্লাহর বিধান সুপ্রতিষ্ঠিত করার কারণে সমাজে বিন্দুমাত্র কোনো কষ্ট, সামাজিক বয়কট বা মনস্তাত্ত্বিক হানির শিকার হয়, তখন সে সাধারণ মানুষের তৈরি করা সেই সাময়িক মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা ও উৎপীড়নকে আল্লাহর দেওয়া অবধারিত ধ্বংসাত্মক শাস্তির সমকক্ষ মনে করে পিছু হটে যায় (Ja'ala fitnatan-nāsi ka-'azābillāh); অথচ তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যদি কোনো বড় সাংগঠনিক বিজয় বা সাহায্য আসে, তখন তারা (নিজেদের স্বার্থে) অবলীলায় বলে উঠবে: আমরা তো সর্বদা তোমাদের সাথেই ছিলাম! (আমার ঐশী চাক্ষুষ ফায়সালা জিজ্ঞাসা করে:) সমগ্র বিশ্ববাসীর বক্ষপঞ্জরের অন্তরালে বা গোপন চিন্তাকেন্দ্রে কী কায়েমি স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে, সে সম্পর্কে কি আল্লাহ সবচেয়ে বেশি পরিজ্ঞাত নন?”


Ayat 11

وَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْمُنَافِقِينَ

“আর আল্লাহ (তাঁর অমোঘ প্রাকৃতিক ও চাক্ষুষ পরীক্ষার নিয়মে) অবশ্যই সমাজে সুস্পষ্ঠভাবে প্রকাশ করে দেন কারা নিজেদের অন্তরে প্রকৃত দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে, এবং তিনি অবশ্যই চাক্ষুষভাবে ফুটিয়ে তোলেন কারা আসলে চরম কপট, সুবিধাবাদী ও মুনাফিক শ্ৰেণী (Walaya'lamannal-munāfiqīn)।”

Keywords:

  • الْمُنَافِقِينَ (Al-Munāfiqīn): সমাজের সেই সুবিধাবাদী, দোদুল্যমান ও কপট চরিত্র যা নিজের স্বার্থ ও সুরক্ষার জন্য সত্যপন্থীদের সাথে থাকার ভান করে, কিন্তু সংকট এলেই কায়েমি অপশক্তির সাথে হাত মেলায় (ধাতুমূল: ন-ফ-ক = সুড়ঙ্গ বা দুই মুখ)।

Ayat 12

وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا اتَّبِعُوا سَبِيلَنَا وَلْنَحْمِلْ خَطَايَاكُمْ وَمَا هُم بِحَامِلِينَ مِنْ خَطَايَاهُم مِّن شَيْءٍ ۖ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ

“আর যারা সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরেও তা আড়াল বা অস্বীকার করেছে, তারা দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারীদের প্রলোভন দিয়ে বলে: তোমরা আমাদের তৈরি করা এই সামাজিক রীতিনীতি ও প্রথার পথ অনুসরণ করো (Ittabi'ū sabīlanā), আর তোমাদের এই বিচ্যুতির কারণে যদি কোনো ক্ষতি বা অপরাধের দায় তৈরি হয়, তবে আমরাই নিজেদের কাঁধে তোমাদের সেই সমস্ত ভুলের বোঝা বহন করব! অথচ তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের সেই ভুলের বোঝার বিন্দুমাত্র কোনো অংশ নিজেদের কাঁধে বহন করার সামর্থ্য রাখে না; নিশ্চয়ই তারা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যাবাদী।”


Ayat 13

وَلَيَحْمِلُنَّ أَثْقَالَهُمْ وَأَثْقَالًا مَّعَ أَثْقَالِهِمْ ۖ وَلَيُسْأَلُنَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَمَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ

“আর (আমার প্রাকৃতিক নিয়মে) তারা নিশ্চিতভাবেই নিজেদের সেই গুরুতর অপকর্মের ভারী বোঝা নিজেদের কাঁধেই বহন করবে এবং নিজেদের সেই বোঝার সাথে অন্য যাদের তারা বিভ্রান্ত করেছে তাদের বোঝারও এক বিশাল অংশ বহন করতে বাধ্য হবে; আর তারা নিজেদের কায়েমি স্বার্থে যে সমস্ত অবাস্তব চক্রান্ত ও মিথ্যা অপদর্শন তৈরি করছিল, সে সম্পর্কে সেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দিনে তাদের অবধারিত জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হবে।”


Ayat 14

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا فَأَخَذَهُمُ الطُّوفَانُ وَهُمْ ظَالِمُونَ

“আর নিশ্চয়ই আমি নূহকে বাণীবাহক হিসেবে তার সমাজ বা জাতির কাছে প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর সে তাদের মাঝে এক সুদীর্ঘ আদর্শিক সময়কাল বা ঐতিহাসিক পর্যায় পর্যন্ত অবিরাম বৈপ্লবিক শ্রম দিয়ে অবস্থান করেছিল (Falabisa fīhim alfa sanatin illā khamsīna 'āmā); অতঃপর (তাদের অবাধ্যতার চূড়ান্ত পর্যায়ে) এক ভয়ঙ্কর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক লক্ষ্যহীন বিভ্রান্তির বিধ্বংসী প্লাবন তাদের গ্রাস করল (Fa-akhazahumut-tūfānu), যখন তারা নিজেরা চরম ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী ও জালিম অবস্থায় মত্ত ছিল।”

Keywords:

  • أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا (Alfa sanatin illā khamsīna ‘āmā): আক্ষরিক সাড়ে নয়শত বছর বাঁচার পাশাপাশি এর গূঢ় শাসনতান্ত্রিক অর্থ—নূহ সমাজে সত্যের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এক অত্যন্ত দীর্ঘ, নিখুঁত ও সুবিন্যস্ত ঐতিহাসিক বিবর্তনমূলক চক্র (আভিধানিক ‘আলফ’ = সুবিন্যস্ত/সহস্র) এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতির ধাপে ধাপে অবিরাম সাংগঠনিক লড়াই চালিয়েছিলেন।
  • الطُّوفَانُ (At-Tūfānu): আক্ষরিক পানির বন্যা ছাড়াও এর সমাজতাত্ত্বিক অর্থ—কোনো সমাজের মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয়, বিশৃঙ্খলা এবং কায়েমি শোষণের এমন এক বিধ্বংসী প্লাবন বা ঝড় যা সমগ্র সমাজ-কাঠামোকে ভাসিয়ে নিয়ে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়।

Ayat 15

فَأَنجَيْنَاهُ وَأَصْحَابَ السَّفِينَةِ وَجَعَلْنَاهَا آيَةً لِّلْعَالَمِينَ

“অতঃপর আমি তাকে এবং কิตাবের সেই সুসংগত আইনি রূপরেখা, শাসনতান্ত্রিক কেল্লা বা কিস্তির সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি নিবেদিত সহচরকে আমার অমোঘ সুরক্ষাব্যবস্থায় রক্ষা ও উদ্ধার করলাম (Wa as-hābas-safīnati), এবং আমি এই পুরো সুরক্ষামূলক আন্দোলন বা রূপরেখাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এক চিরন্তন চাক্ষুষ নিদর্শন ও পরম প্রমাণ হিসেবে স্থাপন করলাম।”

Keywords:

  • السَّفِينَةِ (As-Safīnah): আক্ষরিক কাঠের তৈরি নৌকা ছাড়াও এর আভিধানিক অর্থ—”সর্বপ্রকার বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসের প্লাবন থেকে বাঁচতে আল্লাহর দেওয়া কিতাবের অত্যন্ত মজবুত, সুসংগত ও সুরক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক কাঠামো” (ধাতুমূল: স-ফ-ন = পরিচ্ছন্ন বা কড়া যুক্ত করা)।

Ayat 16

وَإِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ ۖ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

“এবং স্মরণ করো ইব্রাহীমের আখ্যান, যখন সে তার সমাজ বা জাতিকে সুস্পষ্ঠভাবে বলেছিল: তোমরা কেবল একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব ও অনুশাসন কার্যকর করো (A'budullāha) এবং তাঁরই বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো; এটিই তোমাদের নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও সমাজ জীবনের বিকাশের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ও স্থায়ী কল্যাণকর, যদি তোমরা কিতাবের চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে তা অনুধাবন করতে পারো।”


Ayat 17

إِنَّمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَصْنَامًا وَتَخْلُقُونَ إِفْكًا ۚ إِنَّ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلَكُونَ لَكُمْ رِزْقًا وَابْتَغُوا عِندَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُوا لَهُ ۖ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

“আল্লাহর চূড়ান্ত আইনকে বর্জন করে তোমরা তো কেবল সমাজে মানুষের তৈরি করা নিস্প্রাণ কায়া, অন্ধ ঐতিহ্য ও প্রথাসমূহের দাসত্ব করছ (Innamā ta'budūna... asnāmā) এবং তোমরা নিজেদের কায়েমি স্বার্থে এক জঘন্য মনগড়া মিথ্যা বা চরম সত্য-বিচ্যুতি তৈরি করছ; নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ছেড়ে তোমরা অন্য যার যার দাসত্ব ও অন্ধ আনুগত্য করছ—তারা কোনো অবস্থাতেই তোমাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের বিন্দুমাত্র কোনো পুষ্টি উপাদান বা রিজিকের মালিকানা রাখে না; সুতরাং তোমরা একমাত্র আল্লাহর বিধিবদ্ধ নিয়মের নিকটই তোমাদের মেধা ও চরিত্র বিকাশের আসল পুষ্টি উপাদান বা রিজিক অনুসন্ধান করো (Wabtaghū 'indallāhir-rizqa), এবং কেবল তাঁরই দাসত্ব কার্যকর করো এবং নিয়ামতের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে তাঁরই প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; আর তাঁরই অমোঘ নিয়মের জবাবদিহিতায় তোমাদের সবাইকে ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনা হবে।”


Ayat 18

وَإِن تُكَذِّبُوا فَقَدْ كَذَّبَ أُمَمٌ مِّن قَبْلِكُمْ ۖ وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ

“আর তোমরা যদি (নিজেদের জেদবশত) এই পরম সত্যকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দাও, তবে জেনে রাখো—তোমাদের পূর্বেও বহুবিদ বড় বড় আদর্শিক সমাজ বা জাতি একইভাবে সত্যকে চরমভাবে অস্বীকার করেছিল; আর এই সুনির্দিষ্ট বাণীবাহক বা প্রাতিষ্ঠানিক আদর্শের ওপর তো কেবল পরম সত্যের বার্তাকে অত্যন্ত সুস্পষ্ট, চাক্ষুষ ও প্রাঞ্জলভাবে সমাজে পৌঁছানো বা ফুটিয়ে তোলা ব্যতিরেকে অন্য কোনো জোরজবরদস্তির দায়িত্ব নেই (Illāl-balāghul-mubīn)।”


Ayat 19

أَوَلَمْ يَرَوْا كَيْفَ يُبْدِئُ اللَّهُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ

“তবে কি তারা বিন্দুমাত্র নিজের চাক্ষুষ অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে প্রত্যক্ষ করে দেখেনি—কীভাবে আল্লাহ (তাঁর চিরন্তন মহাজাগতিক ও সামাজিক নিয়মে) অস্তিত্বের প্রারম্ভে প্রথম সৃষ্টির উন্মেষ ঘটান (Kayfa yubdi'ullāhul-khalqa), অতঃপর তিনি ধাপে ধাপে ধসে যাওয়া বা নিষ্প্রাণ সমাজ-কাঠামোর এক নতুন বৈপ্লবিক পুনরাবৃত্তি বা পুনর্গঠন ঘটান? নিশ্চয়ই এই পুরো রূপান্তর বা পুনরাবৃত্তির প্রক্রিয়াটি আল্লাহর অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়মে অত্যন্ত সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত।”


Ayat 20

قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ ۚ ثُمَّ اللَّهُ يُنشِئُ النَّشْأَةَ الْآخِرَةَ ۚ إِنَّ اللَّהَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

“তুমি তাদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়ে বলো: তোমরা এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে বা ইতিহাসের পাতায় বুদ্ধিবৃত্তিক বিচরণ করো (Sīrū fil-ardi), অতঃপর গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করো—কীভাবে তিনি সৃষ্টির আদি উন্মেষ ঘটিয়েছিলেন; অতঃপর আল্লাহ অনুরূপভাবেই (ইতিহাসের এক সুনির্দিষ্ট বৈপ্লবিক সন্ধিক্ষণে) ধাপে ধাপে এক নতুন সুউচ্চ দীর্ঘস্থায়ী সমাজ-কাঠামো বা এক নতুন সচেতন জীবনের চূড়ান্ত উত্থান ঘটাবেন (Thummallāhu yunshi'un-nash'atal-ākhirah); নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের ওপর পূর্ণ পরিমাপ, সামর্থ্য ও অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী।”


Ayat 21

يُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ وَيَرْحَمُ مَن يَشَاءُ ۖ وَإِلَيْهِ تُقْلَبُونَ

“তিনি (তাঁর অমোঘ প্রাকৃতিক ও আইনি নিয়মের পরিমাপ অনুযায়ী) যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ও অবাবস্থিত সাব্যস্ত হয়—তাকে কর্মের কুফলে ধ্বংসাত্মক পরিণতির মুখোমুখি দাঁড় করান, এবং যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ও অবাবস্থিত সাব্যস্ত হয়—তাকে বিশেষ ঐশী লালন ও রহমতের অনুকম্পা দান করেন; আর তাঁরই বিধিবদ্ধ অমোঘ নিয়মের রূপান্তরের দিকে তোমাদের সবাইকে ধাপে ধাপে ওলটপালট বা ফিরিয়ে আনা হবে।”


Ayat 22

وَمَا أَنتُم بِمُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ ۖ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ

“আর তোমরা কোনো অবস্থাতেই এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে কিংবা উচ্চ সুরক্ষার স্তরের প্রাকৃতিক নিয়মের পরিমণ্ডলে—আল্লাহর অমোঘ আইনকে ফাঁকি দিতে, অকেজো করতে বা পরাভূত করতে বিন্দুমাত্র সামর্থ্য রাখো না (Wamā antum bi-mu'jizīna); আর আল্লাহর চূড়ান্ত বিধান বর্জন করে তোমাদের রক্ষা করতে পারে—এমন কোনো সুদৃঢ় আদর্শিক অভিভাবক, ওলি কিংবা বিন্দুমাত্র কোনো সাহায্যকারী বা উদ্ধারকারী তোমাদের পক্ষে দাঁড়াতে পারবে না।”


Ayat 23

وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَلِقَائِهِ أُولَٰئِكَ يَئِسُوا مِن رَّحْمَتِي وَأُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

“আর যারা আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াত ও অকাট্য বিধি-বিধানের নিদর্শনসমূহকে এবং তাঁর বিধিবদ্ধ বিচারের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিকে জেনেбуঝে আড়াল বা অস্বীকার করেছে, তারাই মূলত আমার সেই বিশেষ ঐশী লালন ও রহমতের অনুকম্পা থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ ও বঞ্চিত হয়েছে (Ula'ika ya'isū min rahmatī); আর তাদের জন্যই অবধারিত রয়েছে এক অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও তীব্র ধ্বংসাত্মক পরিণতি।”


Ayat 24

فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا اقْتُلُوهُ أَوْ حَرِّقُوهُ فَأَنجَاهُ اللَّهُ مِنَ النَّارِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

“অতঃপর (ইব্রাহীমের এই অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির ধাক্কায়) তার সেই স্বৈরাচারী শোষক সমাজের কায়েমি কর্তৃপক্ষের কাছে অন্য কোনো যৌক্তিক জবাব ছিল না—কেবল এই দমননীতির দাম্ভিক ঘোষণা ব্যতিরেকে যে: তোমরা একে সাংগঠনিকভাবে বা শারীরিকভাবে হত্যা বা ধ্বংস করে ফেলো, অথবা একে সমাজ থেকে ক্ষমতার তীব্র আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণরূপে ছাই করে দাও! অতঃপর আল্লাহ (তাঁর অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়মে) তাকে সেই তীব্র সামাজিক বয়কট ও রাষ্ট্রীয় ক্রোধের আগুন থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা ও উদ্ধার করলেন (Fa-anjāhullāhu minan-nār); নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ এমন এক জাতির জন্য যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে।”


Ayat 25

وَقَالَ إِنَّمَا اتَّخَذْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ أَصْنَامًا مَّوَدَّةَ بَيْنِكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ ثُمَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُ بَعْضُكُم بِبَعْضٍ وَيَلْعَنُ بَعْضُكُم بَعْضًا وَمَأْوَاكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُم مِّن نَّاصِرِينَ

“এবং ইব্রাহীম স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল: আল্লাহর চূড়ান্ত আইনকে বর্জন করে তোমরা তো কেবল সমাজে মানুষের তৈরি করা এই নিস্প্রাণ কায়া, অন্ধ ঐতিহ্য ও প্রথাসমূহকে উপাস্য বা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছ (Innamā-ttakhaztum min dūnillāhi asnāmā)—কেবল এই ক্ষণস্থায়ী বৈষয়িক জীবনে তোমাদের নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক কায়েমি রাজনৈতিক আঁতাত ও কৃত্রিম ভালোবাসার বন্ধন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে (Mawaddata baynikum fil-hayātid-duniyā); অতঃপর সেই চূড়ান্ত ফলাফল ও অবধারিত প্রতিদান প্রকাশের দিনে তোমাদের একদল অন্য দলের সেই অন্ধ দাসত্বকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার ও পারস্পরিক বেইমানি করবে এবং তোমাদের একদল অন্য দলকে তীব্র অভিশাপ ও ধিক্কার দেবে, আর তোমাদের সবার চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল হবে সেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দহন, হতাশা ও অশান্তির সামাজিক নরক; আর তোমাদের রক্ষা করতে পারে—এমন কোনো সাহায্যকারী বা উদ্ধারকারী সেদিন তোমাদের পক্ষে দাঁড়াতে পারবে না।”


Ayat 26

فَآمَنَ لَهُ لُوطٌ ۘ وَقَالَ إِنِّي مُهَاجِرٌ إِلَىٰ رَبِّي ۖ إِنَّهُ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

“অতঃপর লূত (তার সমাজের সেই সুসংগত বুদ্ধিবৃত্তিক তরুণ মেধা) ইব্রাহীমের Presentations চাক্ষুষ দেখে তার উপস্থাপিত আদর্শের প্রতি পূর্ণ মানসিক শান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করল; এবং ইব্রাহীম ঘোষণা করে বলল: নিশ্চয়ই আমি আমার প্রতিপালকের অমোঘ বিধানের উদ্দেশ্যে আমার নিজের সমস্ত পুরোনো পরিবেশ, কায়েমি স্বার্থ ও পুরোনো মানসিকতা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করে হিজরত বা যাত্রা শুরু করছি (Innī muhājirun ilā Rabbī); নিশ্চয়ই তিনি হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী, পরম প্রজ্ঞাময়।”


Ayat 27

وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ وَآتَيْنَاهُ أَجْرَهُ فِي الدُّنْيَا ۖ وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ

“এবং আমি তাকে উপহার দিলাম ইসহাক এবং ইয়াকুবের মতো মেধা ও ধারা, আর আমি তার সেই সুসংগত আদর্শিক বংশধারা বা মেধার ভেতরেই পরম সত্যের বাণীবাহকত্ব এবং এই চিরন্তন বিধিবদ্ধ সংবিধান বা কিতাবকে চিরতরে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখলাম (Waja'alnā fī zurriyyatihin-Nubuwwata wal-Kitāb), এবং আমি তাকে তার এই ক্ষণস্থায়ী বৈষয়িক জীবনেই তার সর্বোচ্চ শ্রমের মহিমান্বিত প্রতিদান ও সামাজিক গৌরব দান করলাম; আর নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের সেই দীর্ঘস্থায়ী সমাজ-কাঠামোতেও সে সুনিশ্চিতভাবেই পরম সফল সংশোধনকারী ও মصلিনহদের সর্বোচ্চ স্তরে সমাসীন থাকবে।”


Ayat 28

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُم بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِّنَ الْعَالَمِينَ

“এবং স্মরণ করো লূতের আখ্যান, যখন সে তার সমাজ বা জাতিকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেছিল: নিশ্চয়ই তোমরা এক অত্যন্ত জঘন্য চারিত্রিক ও আদর্শিক বিকৃতির প্রকাশ্য নোংরামিতে লিপ্ত হয়েছ (Innakum lata'tūnal-fāhishah), যার কদর্য নজির তোমাদের পূর্বে সমগ্র বিশ্ববাসীর মধ্যে কোনো একটি সমাজ বা আদর্শিক ছেলেও কখনো স্থাপন করেনি—”

Keywords:

  • الْفَاحِشَةَ (Al-Fāhishah): এমন প্রকাশ্য জঘন্য অন্যায়, সীমালঙ্ঘন বা চারিত্রিক ও আদর্শিক চরম বিকৃতি যা সামাজিক ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সাম্যকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।

Ayat 29

أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالُ وَتَقْطَعُونَ السَّبِيلَ وَتَأْتُونَ فِي نَادِيكُمُ الْمُنكَرَ ۖ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا ائْتِنَا بِعَذَابِ اللَّهِ إِن كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ

“—তোমরা কি পরম ফলপ্রসূ ও সুষম প্রাকৃতিক নিয়ম বর্জন করে কেবল উগ্র দাপট, ক্ষমতার দম্ভ ও পুরুষতান্ত্রিক জবরদস্তির বিকৃতিতে লিপ্ত হচ্ছ, এবং তোমরা সমাজে প্রগতির স্বাভাবিক ও সোজা আইনি পথকে সম্পূর্ণরূপে কেটে বিচ্ছিন্ন ও অবরুদ্ধ করছ (Wataqta'ūnas-sabīl), এবং তোমরা তোমাদের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ালিশন, ক্লাব বা মজলিসসমূহের ভেতরে বসে সর্বপ্রকার বিকৃতি, অন্যায় ও চরম নেতিবাচক বিষয়ের পৃষ্ঠপোষকতা করছ (Watatūna fī nādīkumul-munkar)? অতঃপর তার সেই সমাজ বা কায়েমি কর্তৃপক্ষের কাছে অন্য কোনো যৌক্তিক জবাব ছিল না—কেবল এই দাম্ভিক উপহাস ব্যতিরেকে যে: তুমি যদি তোমার ওয়ার্নিং বা দাবিতে পরম সত্যনিষ্ঠ ও সৎ হয়ে থাকো, তবে অবিলম্বে আমাদের ওপর আল্লাহর সেই অবধারিত ধ্বংসাত্মক পরিণতি বা শাস্তি নিয়ে এসে দেখাও!”


Ayat 30

قَالَ رَبِّ انصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ

“সে অবিরত ব্যাকুল চিত্তে আবেদন করেছিল: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে এই চরম বিশৃঙ্খলা, ফাসাদ ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টিকারী জঘন্য ধ্বংসাত্মক জাতির চক্রান্তের বিরুদ্ধে অমোঘ বিজয় বা সাহায্য দান করো (Rabbinsurnī 'alal-qawmil-mufsidīn)।”


Ayat 31

وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَىٰ قَالُوا إِنَّا مُهْلِكُو أَهْلِ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ ۖ إِنَّ أَهْلَهَا كَانُوا ظَالِمِينَ

“অতঃপর যখন আমার প্রেরিত সেই সুনির্দিষ্ট চালিকাশক্তিসমূহ বা বাণীবাহকরা ইব্রাহীমের নিকট এক অত্যন্ত মহিমান্বিত বৈপ্লবিক সুসংবাদ নিয়ে হাজির হলো (Jā'at rusulunā Ibrāhīma bil-bushrā), তখন তারা ইব্রাহীমকে সাংগঠনিক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিল: নিশ্চয়ই আমরা এই সুনির্দিষ্ট জনপদ বা বিকৃত সামাজিক জনসমষ্টির পুরো কায়েমি শাসন ব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করতে যাচ্ছি (Innā muhlikū ahli hāzihil-qaryah); নিশ্চয়ই এই অঞ্চলের অধিবাসীরা বা কায়েমি মোড়লরা চিরকাল চরম ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী ও জালিম অবস্থায় মত্ত রয়েছে।”


Ayat 32

قَالَ إِنَّ فِيهَا لُوطًا ۚ قَالُوا نَحْنُ أَعْلَمُ بَمَنْ فِيهَا ۖ لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ

“ইব্রাহীম (আশঙ্কায়) বলেছিল: নিশ্চয়ই সেই সাংগঠনিক ক্ষেত্রের বা জনপদের ভেতরে তো লূতের মতো একনিষ্ঠ মেধা ও তার আন্দোলন সচল রয়েছে! তারা (ঐশী চালিকাশক্তিসমূহ) বলল: সেই ক্ষেত্রের ভেতরে কারা কারা সত্যের পক্ষে সচল রয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা সবচেয়ে ভালো জানি; আমরা অবশ্যই তাকে এবং তার সাথে থাকা প্রতিটি আদর্শিক অনুগামীকে আমার অমোঘ সুরক্ষাব্যবস্থায় সম্পূর্ণরূপে রক্ষা ও উদ্ধার করব—তার সেই সহযোগী জরাজীর্ণ, পুরোনো কুসংস্কারে অন্ধ রক্ষণশীল মানসিকতা বা উপদলটি ব্যতীত, যে অতীতমুখী ধ্বংসের খাদের বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।”


Ayat 33

وَلَمَّا أَن جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالُوا لَا تَخَفْ وَلَا تَحْزَنْ ۖ إِنَّا مُنَجُّوكَ وَأَهْلَكَ إِلَّا امْرَأَتَكَ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ

“অতঃপর যখন আমার সেই প্রেরিত চালিকাশক্তিসমূহ লূতের সাংগঠনিক ক্ষেত্রে এসে হাজির হলো, তখন সে প্রতিপক্ষের চক্রান্তের তীব্রতায় তাদের আগমনে এক অত্যন্ত কঠিন মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও বিপন্নতা বোধ করল এবং তার সাংগঠনিক ধারণক্ষমতা বা হাত অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়ল (Wadāqa bihim zar'ā); কিন্তু তারা তাকে অভয় দিয়ে বলল: তুমি বিন্দুমাত্র ভয় কোরো না এবং বিন্দুমাত্র চিন্তিত হয়ো না; নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথে থাকা প্রতিটি আদর্শিক অনুগামীকে এই মহা-বিপর্যয় থেকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা ও উদ্ধার করব—তোমার সেই সহযোগী জরাজীর্ণ, পুরোনো কুসংস্কারে অন্ধ রক্ষণশীল উপদলটি ব্যতীত, যে অতীতমুখী ধ্বংসের খাদের বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।”


Ayat 34

إِنَّا مُنزِلُونَ عَلَىٰ أَهْلِ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ رِجْزًا مِّنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ

“নিশ্চয়ই আমি এই জনপদ বা বিকৃত সামাজিক জনসমষ্টির কায়েমি মোড়লদের ওপর উচ্চ সুরক্ষার স্তর থেকে এক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর, জঘন্য ও পিষে ফেলা মানসিক ও সামাজিক মহাবিপদ বা আযাবের প্লাবন বর্ষণ করতে যাচ্ছি (Rijzam minas-samā'i)—এই অবধারিত কারণে যে তারা অবিরত নির্ধারিত আইনি সীমালঙ্ঘন ও চরম নীতিহীন অবাধ্যতায় মত্ত ছিল।”

Keywords:

  • رِجْزًا (Rijzan): এমন এক জঘন্যতম মানসিক অস্থিরতা, ভীতি, বা সমাজকে স্তব্ধ করে দেওয়া পিষে ফেলা মহামারী বা বিপর্যয় যা অন্যায়ের অবধারিত কুফল হিসেবে নেমে আসে।

Ayat 35

وَلَقَد تَّرَكْنَا مِنْهَا آيَةً بَيِّنَةً لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ

“আর নিশ্চয়ই আমি সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত কায়েমি ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে এক অত্যন্ত সুস্পষ্ট, প্রকাশ্য ও অকাট্য চাক্ষুষ নিদর্শন বা পরম প্রমাণ চিরতরে রেখে দিয়েছি (Āyatan bayyinatan) এমন এক জাতির জন্য—যারা নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তি ও যৌক্তিক কার্যকারণ বিশ্লেষণকে পরিপূর্ণরূপে কাজে লাগায়।”


Ayat 46 (Linguistic correction for sequence jump in source number 36)

وَإِلَىٰ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَارْجُوا الْيَوْمَ الْآخِرَ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ

“এবং আমি মাদইয়ানের (অর্থাৎ সেই আইন ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতির কেন্দ্রের) অভিমুখে প্রেরণ করেছিলাম তাদেরই আদর্শিক ভাই শুআইবকে; অতঃপর সে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল: হে আমার জাতি! তোমরা কেবল একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব ও অনুশাসন কার্যকর করো এবং ভবিষ্যতের সেই দীর্ঘস্থায়ী বৈপ্লবিক জীবন ও কর্মের অমোঘ ফলাফলের তীব্র আশা ও প্রস্তুতি রাখো (Warjūl-Yawmal-Ākhir), এবং তোমরা কোনো অবস্থাতেই এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে চরম বিশৃঙ্খলা, ফাসাদ ও অবক্ষয় সৃষ্টিকারী হয়ে দাপিয়ে বেড়াবে না।”


Ayat 37

فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ

“অতঃপর তারা তাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তার আন্দোলনকে উড়িয়ে দিল, সেটির অবধারিত ফল হিসেবে এক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ওলটপালট বা তীব্র মনস্তাত্ত্বিক আলোড়নের ঝাঁকুনি তাদের গ্রাস করল (Fa-akhazathumur-rajfatu), ফলে তারা নিজেদেরই তৈরি করা সেই কায়েমি সাম্রাজ্য বা বাড়িঘরের ভেতরেই উপুড় হয়ে পড়া নিস্প্রাণ নিথর কায়ায় পরিণত হয়ে সকাল অতিবাহিত করল।”

Keywords:

  • الرَّجْفَةُ (Ar-Rajfah): আক্ষরিক ভূমিকম্প নয়, বরং কোনো স্বৈরাচারী বা অন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত সমাজ কাঠামোতে নেমে আসা এক তীব্র শাসনতান্ত্রিক আলোড়ন, অর্থনৈতিক ধস বা রাজনৈতিক মহাজাঁকুনি যা সেটিকে অচল করে দেয়।

Ayat 38

وَعَادًا وَثَمُودَ وَقَد تَّبَيَّنَ لَكُم مِّن مَّسَاكِنِهِمْ ۖ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَكَانُوا مُسْتَبْصِرِينَ

“এবং আমি সমূলে ধ্বংস করলাম আদ এবং সামূদ সম্প্রদায়কে; আর তাদের ধসে যাওয়া আবাসস্থল বা প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই আজ বাস্তব সত্য তোমাদের সামনে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও চাক্ষুষ হয়ে উঠেছে (Waqad tabayyana lakum min masākinihim); অথচ শয়তানি শক্তি বা উগ্র কুপ্রবৃত্তি তাদের নিজেদের সেই সমস্ত অপকর্ম ও চক্রান্তকে তাদের নিজেদের দৃষ্টিতেই অত্যন্ত চমৎকার ও সুশোভিত করে দেখিয়েছিল, যার অবধারিত ফল হিসেবে সে তাদের সরল আইনি পথ থেকে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ ও বিচ্যুত করে দিয়েছিল, যদিও তারা নিজেরা অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, চতুরতা ও চাক্ষুষ জাগতিক অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী ছিল (Wakānū mustabsirīn)।”

আয়াত ৩৯

وَقَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ ۖ وَلَقَدْ جَاءَهُم مُّوسَىٰ بِالْبَيِّنَاتِ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ وَمَا كَانُوا سَابِقِينَ

“এবং কারূন (একচেটিয়া পুঁজিপতি সিন্ডিকেট), ফেরাউন (স্বৈরাচারী রাজতান্ত্রিক শাসক) ও হামানকে (শোষণের পৃষ্ঠপোষক আমলাতন্ত্র) স্মরণ করো; মূসা তাদের নিকট সুস্পষ্ট ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণাদিসহ হাজির হয়েছিল (Walaqad jā'ahum Mūsā bil-bayyināt), কিন্তু তারা সেই ভূখণ্ডে চরম দাম্ভিকতা ও অহংকার প্রদর্শন করেছিল; অথচ তারা আমার প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক নিয়মের গতিকে বিন্দুমাত্র পরাভূত বা অতিক্রম করতে পারেনি।”


আয়াত ৪০

فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنبِهِ ۖ فَمِنْهُم مَّنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُم مَّنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُم مَّنْ خَسَفْنَا بِهِ الْأَرْضَ وَمِنْهُم مَّنْ أَغْرَقْنَا ۚ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ

“অতঃপর (তাদের সেই অবাধ্যতার কুফলে) তাদের প্রতিটি পক্ষকেই আমি তাদের নিজেদের অপরাধের বোঝা বা বিচ্যুতির কারণে গ্রাস করলাম (Fakullan akhaznā bizanbihī); ফলে তাদের কারও ওপর আমি এক অবধারিত ধ্বংসাত্মক প্লাবন বা পাথুরে ঝড় বর্ষণ করলাম, কাউকে গ্রাস করল এক চূড়ান্ত বৈপ্লবিক মহাগর্জন বা সামাজিক উলটপালট, কাউকে আমি তার কায়েমি সাম্রাজ্যসহ ভূখণ্ডের অতল গহ্বরে ধসিয়ে দিলাম (Man khasafnā bihil-ard), এবং কাউকে সম্পূর্ণরূপে ডুবিয়ে বা ভাসিয়ে ধ্বংস করলাম; আর আল্লাহ তাদের ওপর বিন্দুমাত্র কোনো জুলুম বা অন্যায় করেননি, বরং তারা নিজেরা নিজেদের কুপ্রবৃত্তির দাসত্ব করে নিজেদের ওপরই চরম জুলুম ও অন্যায় করছিল।”


আয়াত ৪১

مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ كَمَثَلِ الْعَنكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا ۖ وَإِنَّ أَوْهَنَ الْبُيُوتِ لَبَيْتُ الْعَنكَبُوتِ ۖ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ

“যারা আল্লাহর সুনির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ আইনকে বর্জন করে নিজেদের কায়েমি স্বার্থে অন্য কোনো মনগড়া অভিভাবক বা কৃত্রিম আশ্রয়দাতাদের গ্রহণ করেছে, তাদের বাস্তব সমীকরণ বা দৃষ্টান্ত হলো ঠিক সেই মাকড়সার মতো—যে নিজের সুরক্ষার জন্য একটি নড়বড়ে ঘর বা জাল তৈরি করে (Kamasalil-'ankabūtit-takhazat baytā); অথচ সমস্ত ঘরের বা কাঠামোর মধ্যে মাকড়সার তৈরি করা ঘর বা জালই হলো সবচেয়ে বেশি ভঙ্গুর, অসার ও দুর্বলতম; যদি তারা কিতাবের চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে এটি সুস্পষ্ঠভাবে অনুধাবন করতে পারত!”

Keywords:

  • بَيْتُ الْعَنكَبُوتِ (Baytul-‘ankabūt): মাকড়সার জাল; সমাজতাত্ত্বিক পরিভাষায় মানুষের তৈরি করা এমন সমস্ত মনগড়া শোষণমূলক ব্যবস্থা, দলবাজি বা ঠুনকো আদর্শ যা বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত জটিল জাল মনে হলেও আল্লাহর আইনের অমোঘ সত্যের সামান্যতম আঘাতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

আয়াত ৪২

إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ مِن شَيْءٍ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

“নিশ্চয়ই আল্লাহর চূড়ান্ত আইন বর্জন করে তারা অন্য যার যার বা যে সমস্ত মনগড়া উপাদানের অন্ধ দাসত্ব ও সাহায্য পাওয়ার জন্য আহ্বান করছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ নিখুঁতভাবে পরিজ্ঞাত; আর তিনি অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী, পরম প্রজ্ঞাময়।”


আয়াত ৪৩

وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ ۖ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ

“আর এই সমস্ত অমোঘ বাস্তব সমীকরণ বা দৃষ্টান্ত আমি সাধারণ মানুষের চেতনার উন্মেষের জন্য উপস্থাপন করি (Watilkal-amsālu nadribuhā linnās); কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান ও গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী উলামা বা বিশেষজ্ঞরা ব্যতীত অন্য কেউই এর গূঢ় তত্ত্ব বিন্দুমাত্র অনুধাবন করতে পারে না।”


আয়াত ৪৪

خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ

“আল্লাহ উচ্চ সুরক্ষামূলক স্তরসমূহ এবং এই বাস্তব পৃথিবী পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্য এবং এক সুনির্দিষ্ট কল্যাণকর উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন (Khalaqallāhus-samāwāti wal-arda bil-haqq); নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য প্রমাণ দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারীদের জন্য।”


আয়াত ৪৫

اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ ۖ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ ۗ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ

“তোমার প্রতি উচ্চ সুরক্ষার স্তর থেকে এই বিধিবদ্ধ কিতাব বা রূপরেখার যে সুনির্দিষ্ট ডিক্রি অবতীর্ণ করা হয়েছে, তুমি সেটির ধারাবাহিক বিশ্লেষণ সমাজে উপস্থাপন করো (Atlu mā ūhiya ilayka minal-Kitābi) এবং সামাজিক অনুশাসন ও সংযোগের ব্যবস্থাকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখো (Wa aqimis-Salāt); নিশ্চয়ই এই সুসংগত সংযোগ ব্যবস্থা মানুষকে সর্বপ্রকার মনস্তাত্ত্বিক পঙ্কিলতা, চারিত্রিক বিকৃতি ও সমাজ-অস্বীকৃত অন্যায় থেকে কঠোরভাবে বিরত রাখে; আর আল্লাহর বিধিবদ্ধ আইনের বাস্তব প্রয়োগ ও রূপরেখাই হলো সবচেয়ে বড় ও সুউচ্চ শক্তিশালী উপাদান; আর তোমরা গোপনে বা প্রকাশ্যে যা কিছু নির্মাণ বা সম্পাদন করছ, সে সম্পর্কে আল্লাহ নিখুঁতভাবে পরিজ্ঞাত।”


আয়াত ৪৬

وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ ۖ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنزِلَ إِلَيْنَا وَأُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَٰهُكُمْ وَإِلَٰهُنَا وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ

“আর তোমরা কিতাবের ধারক বা অনুসারীদের সাথে বিন্দুমাত্র কোনো অহেতুক কুতর্কে লিপ্ত কোরো না, তবে এমন এক পন্থায় আলোচনা করো যা সবচেয়ে বেশি চমৎকার, সুষম ও গঠনমূলক (Illā billatī hiya ahsanu), তবে তাদের মধ্যে যারা কায়েমি স্বার্থে নিজেরা চরম ভারসাম্যহীনতা ও অন্যায়ের নীতি অবলম্বন করেছে তারা ব্যতীত; এবং তোমরা সুস্পষ্ঠভাবে ঘোষণা করো—আমাদের প্রতি উচ্চ সুরক্ষার স্তর থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে আমরা সেটির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তোমাদের প্রতিও যা অবতীর্ণ করা হয়েছিল সেটির প্রতিও আমরা বিশ্বাস রাখি, আর আমাদের ইলাহ এবং তোমাদের ইলাহ (চূড়ান্ত আইনদাতা সত্তা) হলেন একক ও অভিন্ন, আর আমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে কেবল তাঁরই আইনের সামনে নিজেদের সম্পূর্ণরূপে সমর্পণকারী।”


আয়াত ৪৭

وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ ۚ فَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۖ وَمِنْ هَٰذُلَاءِ مَن يُؤْمِنُ بِهِ ۚ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا الْكَافِرُونَ

“আর এভাবেই আমি তোমার চিন্তায় এই বিধিবদ্ধ কিতাব বা চিরন্তন রূপরেখা অবতীর্ণ করেছি; সুতরাং যাদের আমি ইতিপূর্বে কিতাবের প্রকৃত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছি, তারা এর অকাট্য সত্যতা সুস্পষ্ঠভাবে অনুধাবন করে এর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে, এবং এদের (এই বর্তমান সমাজের) মধ্য থেকেও এমন কিছু সচেতন মানুষ রয়েছে যারা এর প্রতি ইমান আনে; আর আমার সুস্পষ্ট আয়াত ও অকাট্য বিধি-বিধানের নিদর্শনসমূহকে কেবল তারাই হঠকারিতাবশত অস্বীকার করে—যারা নিজেরা কায়েমি স্বার্থে সত্যকে আড়াল বা অবদমন করতে চায় (Wamā yajhadu bi-āyātinā illal-kāfirūn)।”


আয়াত ৪৮

وَمَا كُنتَ تَتْلُو مِن قَبْلِهِ مِن كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذًا لَّارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ

“আর তুমি তো এই কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নিজে কোনো মনগড়া কিতাব বা দর্শন ধারাবাহিক বিশ্লেষণ করে পাঠ করতে না (Wamā kunta tatlū min qablihī), এবং নিজের ক্ষমতার দাপটে বা ডান হাত দিয়ে কোনো কৃত্রিম রূপরেখা তৈরি করতে না; যদি তেমনটি হতো, তবে সেই অসাড়, অলীক ও অসত্যের কারবারিরা নিশ্চিতভাবেই তোমার এই ঐশী বাণীর সত্যতা নিয়ে সন্দেহের জাল বোনার সুযোগ পেয়ে যেত।”


আয়াত ৪৯

بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ ۚ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا الظَّالِمُونَ

“বরং এই কিতাবের প্রতিটি বাণী হলো অত্যন্ত সুস্পষ্ট, চাক্ষুষ ও অকাট্য বিধি-বিধানের নিদর্শন—তাদের গোপন বক্ষপঞ্জর বা মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাকেন্দ্রে সুপ্রতিষ্ঠিত, যাদেরকে প্রকৃত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে (Fī sudūril-lazīna ūtul-'ilma); আর আমার সুস্পষ্ট আয়াত ও অকাট্য বিধি-বিধানসমূহকে কেবল তারাই হঠকারিতাবশত অস্বীকার করে—যারা নিজেরা চরম ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী ও জালিম।”


আয়াত ৫০

وَقَالُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ آيَاتٌ مِّن رَّبِّهِ ۖ قُلْ إِنَّمَا الْآيَاتُ عِندَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُّبِينٌ

“অথচ তারা (জেদবশত) বলে: এর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এর ওপর কোনো অলৌকিক চাক্ষুষ নিদর্শন বা ক্ষমতার চিহ্ন কেন অবতীর্ণ করা হলো না? তুমি চূড়ান্ত ফায়সালায় বলে দাও—নিশ্চয়ই সমস্ত অমোঘ নিদর্শন ও ক্ষমতার মূল উৎস কেবল আল্লাহর বিধিবদ্ধ প্রাকৃতিক নিয়মে সুনিশ্চিত, আর আমি তো কেবল আসন্ন ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে এক সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণাদিসহ সতর্ককারী বা গাইড ব্যতিরেকে আর কিছুই নই।”


আয়াত ৫১

أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرَىٰ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

“তবে কি তাদের জন্য এটিই এক অত্যন্ত পর্যাপ্ত ও মহিমান্বিত প্রমাণ নয় যে—আমি তোমার ওপর এই বিধিবদ্ধ কিতাব বা চিরন্তন রূপরেখা অবতীর্ণ করেছি যা অবিরত তাদের সামনে ধারাবাহিক বিশ্লেষণ করে শোনানো হচ্ছে (An-nanzalnā 'alaykal-Kitāba yutlā 'alayhim)? নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে এক বিশেষ পুষ্টিকর লালন-অনুকম্পা এবং এক পরম জ্যান্ত স্মারক বা শিক্ষা এমন এক জাতির জন্য যারা দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে।”


আয়াত ৫২

قُلْ كَفَىٰ بِاللَّهِ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ شَهِيدًا ۖ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَالَّذِينَ آمَنُوا بِالْبَاطِلِ وَكَفَرُوا بِاللَّهِ أُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ

“তুমি বলে দাও: আমার এবং তোমাদের মধ্যকার এই সত্যের দ্বন্দ্বে একমাত্র আল্লাহই চাক্ষুষ বাস্তবতার সাক্ষী হিসেবে সম্পূর্ণ যথেষ্ট (Kafā billāhi baynī wa baynakum shahīdā); উচ্চ সুরক্ষামূলক স্তরে এবং এই বাস্তব পৃথিবীতে যা কিছু বিদ্যমান, তার সমস্ত কিছুই তিনি নিখুঁতভাবে জানেন; আর যারা সেই অসাড়, অলীক ও ভিত্তিহীন মনগড়া মিথ্যার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আল্লাহর চূড়ান্ত আইনকে সরাসরি অস্বীকার করেছে, তারাই হলো চূড়ান্তভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসের সম্মুখীন।”


আয়াত ৫৩

وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ ۚ وَلَوْلَا أَجَلٌ مُّسَمًّى لَّجَاءَهُمُ الْعَذَابُ وَلَيَأْتِيَنَّهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

“আর তারা তোমার নিকট সেই ধ্বংসাত্মক পরিণতি বা শাস্তিকে দ্রুত তরান্বিত করতে চায়; অথচ যদি এক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সময়সীমা পূর্বনির্ধারিত না থাকত (Walawlā ajalum musammā), তবে সেই ধ্বংসাত্মক পরিণতি অলরেডি তাদের গ্রাস করত; আর তা নিশ্চিতভাবেই আকস্মিক এমন এক অবস্থায় তাদের ওপর আপতিত হবে যখন তারা নিজেরা বিন্দুমাত্র সেটির আগমন টের পাবে না।”


আয়াত ৫৪

يَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ

“তারা তোমার নিকট সেই ধ্বংসাত্মক শাস্তিকে দ্রুত তরান্বিত করতে চাচ্ছে, অথচ নিশ্চয়ই সেই মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক নরক-অবস্থা বা জাহান্নাম অলরেডি এই সত্য প্রত্যাখ্যানকারী অপশক্তিগুলোকে চারপাশ থেকে সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করে রেখেছে (অর্থাৎ তাদের বর্তমান সমাজই নরক হয়ে আছে)।”


আয়াত ৫৫

يَوْمَ يَغْشَاهُمُ الْعَذَابُ مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِمْ وَيَقُولُ ذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

“সেই দিন, যখন সেই ধ্বংসাত্মক পরিণতি বা মহাবিপদ তাদের সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করবে—তাদের চিন্তার সুউচ্চ কেন্দ্র বা ওপর থেকে এবং তাদের চলার গতি বা পায়ের নিচ থেকেও, এবং আমার প্রাকৃতিক অনুশাসন তাদের চাক্ষুষ ফায়সালায় জানিয়ে দেবে—তোমরা আজ নিজের অস্তিত্বে তীব্রভাবে টের পাও সেটির অবধারিত ফল যা তোমরা অতীত জীবনে অবিরত কামাই করছিলে (Zūqū mā kuntum ta'malūn)!”


আয়াত ৫৬

يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ أَرْضِي وَاسِعَةٌ فَإِيَّايَ فَاعْبُدُونِ

“হে আমার সেই অনুগত দাসগণ—যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছ! নিশ্চয়ই আমার এই কর্মক্ষেত্র বা সমাজ-ভূমি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও উন্মুক্ত (Inna ardī wāsi'ah); সুতরাং তোমরা (যদি এক জায়গায় বাধা পাও তবে অন্য ক্ষেত্রে গিয়ে) কেবল আমারই সুনির্দিষ্ট আইন ও অনুশাসন সমাজে কার্যকর করো।”


আয়াত ৫৭

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۖ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ

“প্রতিটি জীবন্ত সত্তা বা সাংগঠনিক কাঠামোর কর্মকাল স্বাভাবিক নিয়মে অবধারিতভাবে সমাপ্তির মুখোমুখি হবে (Kullu nafsin zā'iqatul-mawt); অতঃপর তোমাদের সবাইকে শেষ পর্যন্ত আমারই বিধিবদ্ধ নিয়মের জবাবদিহিতায় ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনা হবে।”


আয়াত ৫৮

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُبَوِّئَنَّهُم مِّنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

“আর যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সমাজে সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করেছে, আমি অবশ্যই তাদের সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করব অত্যন্ত সুউচ্চ, সুরক্ষিত শাসনতান্ত্রিক প্রাসাদ বা বিশেষ চেম্বারসমূহে (Lanubawwi'annahum minal-Jannati ghurafā), যার তলদেশ বা ভিত্তিমূল থেকে জ্ঞান ও জীবন-বিকাশের নদী বা অবিরাম কার্যপ্রবাহ জারি থাকে, সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে; আর সত্যের পথে সক্রিয় নিবেদিত কর্মীদের জন্য এই অবধারিত পুরস্কার কতই না চমৎকার ও মহিমান্বিত!”


আয়াত ৫৯

الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ

“তারাই তারা—যারা সত্যের পথে চলতে গিয়ে যে কোনো বাধা ও কষ্টের মুখে অত্যন্ত দৃঢ় ও অবিচল ব্যক্তিত্ব (Allazīna sabarū), এবং তারা সর্বদা কেবল তাদের প্রতিপালকের অমোঘ বিধিবদ্ধ নিয়মের ওপরই পূর্ণ মানসিক আস্থা, ভরসা ও সাংগঠনিক সমর্পণ বজায় রাখে।”


আয়াত ৬০

وَكَأَيِّن مِّن دَابَّةٍ لَّا تَحْمِلُ رِزْقَهَا اللَّهُ يَرْزُقُهَا وَإِيَّاكُمْ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

“আর পৃথিবীর বুকে কত যে জীবন্ত বা সচল সত্তা রয়েছে যারা নিজেদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের পুষ্টি বা বৈষয়িক রিজিক নিজেরা কাঁধে বহন করে নিয়ে বেড়ায় না, আল্লাহই তাদের অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়মে পুষ্টি জোগান দেন এবং তোমাদেরও জোগান দেন (Allāhu yarzuquhā wa iyyākum); আর তিনি সবকিছু শোনেন ও মহাবিশ্বের প্রতিটি সুক্ষ্ম চালচলন নিখুঁতভাবে পরিজ্ঞাত।”


আয়াত ৬১

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ ۖ فَأَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ

“আর তুমি যদি (চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে) তাদের জিজ্ঞাসা করো—কে এই সুউচ্চ সুরক্ষামূলক স্তরসমূহ ও এই বাস্তব পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে অত্যন্ত সুসংগত ও কার্যোপযোগী করে সচল রেখেছেন (Wasakharaশ-shamsa wal-qamara)? তারা অবধারিতভাবেই স্বীকার করে বলবে: এ সমস্তই কেবল আল্লাহর; তুমি বলো: তবে তোমরা কোন বিভ্রান্তিকর অপদর্শনের মোহে অন্ধ হয়ে সত্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছ?”


আয়াত ৬২

اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

“আল্লাহ তাঁর অনুগত দাসদের মধ্য থেকে যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ও নিয়মতান্ত্রিক মনে করেন—তার ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপাদান বা বৈষয়িক রিজিককে ক্রমান্বয়ে প্রসারিত করেন এবং যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত মনে করেন—তার জন্য তা এক সুনির্দিষ্ট নিখুঁত পরিমাপে সংকুচিত বা নির্ধারণ করেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে নিখুঁত পরিজ্ঞাত।”


আয়াত ৬৩

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّن نَّزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ مِن بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ ۚ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ

“আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করো—কে উচ্চ সুরক্ষার স্তর থেকে পুষ্টিকর জীবনদায়ী বাণী বা পুষ্টি উপাদান অবতীর্ণ করেছেন, অতঃপর সেটির দ্বারা এই মৃত ও অজ্ঞ সমাজ-ভূমিকে তার জড়তা ও মৃত্যুর পর পুনরায় সজীব ও পুনরুজ্জীবিত করেছেন? তারা অবধারিতভাবেই স্বীকার করে বলবে: এ সমস্তই কেবল আল্লাহর; তুমি বলো: সমস্ত সুসংগত প্রশংসা ও মহত্ত্ব কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য; কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই বিন্দুমাত্র নিজের বুদ্ধিবৃত্তি ও যৌক্তিক কার্যকারণকে কাজে লাগায় না।”


আয়াত ৬৪

وَمَا هَٰذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَهْوٌ وَلَعِبٌ ۚ وَإِنَّ الدَّارَ الْآخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوانُ ۚ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ

“আর (আল্লাহর আইন বর্জিত) এই যে বাহ্যিক ক্ষণস্থায়ী বৈষয়িক জীবন, তা তো সাময়িক বিনোদন, অসার চিত্তবিনোদন এবং কেবলই এক অবান্তর খেলার মারপ্যাঁচ ব্যতিরেকে আর কিছুই নয় (Illā lahwun wa la'ibun); অথচ নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের সেই সুউচ্চ দীর্ঘস্থায়ী বৈপ্লবিক জীবন বা সমাজ-কাঠামোই হলো একমাত্র প্রকৃত সজীব, জীবন্ত ও জ্যান্ত বাস্তব জীবন (Lahiyal-hayawān); যদি তারা কিতাবের চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে এটি সুস্পষ্ঠভাবে অনুধাবন করতে পারতো!”


আয়াত ৬৫

فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ

“অতঃপর তারা যখন কোনো চরম সংকটের মুখে কোনো সুসংগত প্রাতিষ্ঠানিক কিস্তিতে বা আদর্শিক আশ্রয়ে আরোহণ করে, তখন তারা নিজেদের সমগ্র জীবন-ব্যবস্থা ও আনুগত্যকে কেবল আল্লাহর আইনের জন্য খাঁটি করে অত্যন্ত আকুল চিত্তে তাঁকে আহ্বান করে (Da'awullāha mukhlisīna lahud-dīn); কিন্তু যখনই তিনি তাদের সেই সংকট থেকে উদ্ধার করে এক সুনিশ্চিত নিরাপদ ভূখণ্ডে বা জমিনে পৌঁছে দেন, অমনি তারা পুনরায় আল্লাহর আইনের পাশাপাশি মানুষের তৈরি আইনকে অংশীদার বানাতে শুরু করে।”


আয়াত ৬৬

لِيَكْفُرُوا بِمَا آتَيْنَاهُمْ وَلِيَتَمَتَّعُوا ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ

“যাতে তারা আমার দেওয়া কিতাবের সমস্ত নিয়মতান্ত্রিক উপাদানকে সরাসরি অস্বীকার করতে পারে এবং নিজেদের কায়েমি স্বার্থে সাময়িক ভোগ-বিলাসের উপকরণের মোহে মেতে থাকতে পারে; সুতরাং খুব শীঘ্রই তারা নিজেদের এই ভ্রান্ত নীতির অবধারিত ধ্বংসাত্মক পরিণতি চাক্ষুষ জানতে পারবে।”


আয়াত ৬৭

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا حَرَمًا آمِنًا وَيُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ ۚ أَفَبِالْبَاطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَةِ اللَّهِ يَكْفُرُونَ

“তবে কি তারা বিন্দুমাত্র চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে লক্ষ্য করে দেখেনি যে—আমি (আমার কিতাবের আইনের মাধ্যমে) এক অত্যন্ত পবিত্র, সুরক্ষিত ও পরম নিরাপদ শান্তির কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছি (Ja'alnā haraman āminā), অথচ তাদের চারপাশের সাধারণ মানুষ অবিরত প্রতিপক্ষের হিংস্রতা ও শোষণের দ্বারা হরণ বা লুণ্ঠিত হচ্ছে? তবে কি তারা স্বচক্ষে এত বড় প্রমাণ দেখার পরেও সেই অসাড়, অলীক ও ভিত্তিহীন মনগড়া মিথ্যার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে এবং আল্লাহর দেওয়া কিতাবের এই সুউচ্চ নিয়ামতকে সরাসরি অস্বীকার ও অকৃতজ্ঞতা করতে থাকবে?”


আয়াত ৬৮

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُ ۚ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكَافِرِينَ

“আর তার চেয়ে বড় জঘন্য ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী ও জালিম আর কে হতে পারে—যে আল্লাহর পরম সত্তা বা আইনের বিরুদ্ধে কোনো মনগড়া মিথ্যা বা অপদর্শন বানিয়ে আরোপ করে (Manif-tarā 'alallāhi kazibā), অথবা তার নিকট পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্য আসার পর সেটিকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দেয়? নিশ্চয়ই সেই মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক নরক-অবস্থা বা জাহান্নামের ভেতরেই কি সুনিশ্চিত ঠিকানা নির্ধারিত নেই এই সত্য প্রত্যাখ্যানকারী দাম্ভিক অপশক্তিগুলোর জন্য?”


আয়াত ৬৯

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ

“আর যারা আমার এই পরম সত্যের সুসংগত শাসনব্যবস্থা জমিনে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিজেদের জান, মাল ও মেধা দিয়ে সর্বোচ্চ ও অবিরাম বৈপ্লবিক বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম চালিয়ে যায় (Wallazīna jāhadū fīnā), আমি অবশ্যই (আমার প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়মে) তাদের সামনে আমার দিকে পৌঁছানোর প্রতিটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও সফল পথ উন্মুক্ত ও সুস্পষ্ঠ করে দেব (Lanahdiyannahum subulanā); আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বদা সমাজে ভারসাম্য ও সৌন্দর্য প্রতিষ্ঠাকারী এহসানকারীদের সাথেই রয়েছেন।”


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *