SURAH 27 : An-Naml

আয়াত ১

طس ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْقُرْآنِ وَكِتَابٍ مُّبِينٍ

“ত্বা, সীন (আল্লাহর কিতাবের সুনির্দিষ্ট সুবিন্যস্ত সংকেত বা আইনি অনুশাসনের মূল চালিকাশক্তি)। এগুলো হলো অত্যন্ত সুবিন্যস্ত, প্রকাশ্য ও অকাট্য কিতাবের সুস্পষ্ট বাণীর নিদর্শনসমূহ (Āyātul-Qur'āni wa Kitābim Mubīn)।”


আয়াত ২

هُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ

“যা সঠিক পথপ্রদর্শন এবং পরম মানসিক শান্তি ও প্রমাণাদিসহ দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারীদের জন্য এক মহিমান্বিত সুসংবাদ।”


আয়াত ৩

الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ

“যারা সামাজিক সংযোগ ও অনুশাসনের ব্যবস্থাকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখে (Yuqīmūnas-Salāt), আত্মশুদ্ধি ও সমাজ বিকাশের উপাদানসমূহ প্রদান করে (Wayu'tūnaz-Zakāt) এবং ভবিষ্যতের দীর্ঘস্থায়ী বৈপ্লবিক জীবন ও কর্মের অবধারিত ফলাফলের প্রতি সুদৃঢ় প্রত্যয় রাখে।”


আয়াত ৪

إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ زَيَّنَّا لَهُمْ أَعْمَالَهُمْ فَهُمْ يَعْمَهُونَ

“নিশ্চয়ই যারা ভবিষ্যতের অবধারিত ফলাফলের প্রতি বিন্দুমাত্র বিশ্বাস স্থাপন করে না, আমি (আমার প্রাকৃতিক নিয়মে) তাদের সামনে তাদের নিজস্ব এজেন্ডা ও অপকর্মসমূহকে অত্যন্ত সুশোভিত করে দিয়েছি, যার ফলে তারা এক লক্ষ্যহীন অহংকারে অন্ধ ও দিশেহারা হয়ে মত্ত থাকে (Fahum ya'mahūn)।”


আয়াত ৫

أُولَٰئِكَ الَّذِينَ لَهُمْ سُوءُ الْعَذَابِ وَهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ

“তারাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে এক অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক পরিণতি; আর ভবিষ্যতের দীর্ঘস্থায়ী জীবনে তারাই হবে চূড়ান্তভাবে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত ও দেউলিয়া।”


আয়াত ৬

وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ

“আর (হে বাণীবাহক!) নিশ্চয়ই তোমাকে এই সুবিন্যস্ত ঐশী রূপরেখা বা কুরআন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে (Latulaqqal-Qur'āna) এক পরম প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞানী সত্তার বিশেষ স্তর থেকে।”


আয়াত ৭

إِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِأَهْلِهِ إِنِّي آنَسْتُ نَارًا سَآتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ آتِيكُم بِشِهَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ

“স্মরণ করো, যখন মূসা তার সমাজ বা সহকর্মীদের বলেছিল: নিশ্চয়ই আমি (প্রতিপক্ষের শিবিরে) এক তীব্র রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক আলোড়ন বা আগুনের উপস্থিতি চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছি (Ānastu nārā); আমি খুব শীঘ্রই সেখান থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক তথ্য নিয়ে আসব অথবা তোমাদের কাছে নিয়ে আসব এক প্রজ্জ্বলিত আলো বা জ্বলন্ত মশাল, যাতে তোমরা সেটির দ্বারা নিজেদের আদর্শিক শীতলতা দূর করে উষ্ণ ও সচল হতে পারো।”


আয়াত ৮

فَلَمَّا جَاءَهَا نُودِيَ أَن بُورِكَ مَن فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

“অতঃপর সে যখন সেই আলোড়নের কেন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন এক সুউচ্চ ডিক্রির আহ্বান এলো—পরম বরকত ও অফুরন্ত কল্যাণে ভূষিত করা হয়েছে তাকে—যেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক আলোড়নের ভেতরে রয়েছে এবং যারা সেটির চারপাশে সচল রয়েছে; আর আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালক, তিনি সর্বপ্রকার মানবিক সীমাবদ্ধতা থেকে পরম পবিত্র ও সুউচ্চ।”


আয়াত ৯

يَا مُوسَىٰ إِنَّهُ أَنَا اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

“হে মূসা! নিশ্চয়ই জেনে রাখো—আমিই আল্লাহ, অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী, পরম প্রজ্ঞাময়।”


আয়াত ১০

وَأَلْقِ عَصَاكَ ۚ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّىٰ مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ ۚ يَا مُوسَىٰ لَا تَخَفْ إِنِّي لَا يَخَافُ لَدَيَّ الْمُرْسَلُونَ

“এবং তুমি মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে তোমার সেই সুদৃঢ় আদর্শিক লাঠি বা রূপরেখাকে কার্যকর করো (Wa alqi 'asāka); অতঃপর সে যখন সেটিকে তীব্র গতিশীলতায় আন্দোলিত ও সচল হতে দেখল যেন তা এক অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও চঞ্চল সর্পিল শক্তি (Ka-annahā jānn), তখন সে (সাময়িক আশঙ্কায়) পেছনের দিকে মুখ ফিরিয়ে পলায়ন করল এবং বিন্দুমাত্র পেছনে ফিরে তাকাল না; (ঐশী ডিক্রি জারি হলো:) হে মূসা! তুমি বিন্দুমাত্র ভয় কোরো না; নিশ্চয়ই আমার বিশেষ সান্নিধ্যে বাণীবাহক বা প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃবৃন্দ কখনো কোনো ভয় বা আশঙ্কার মুখোমুখি হয় না—”


আয়াত ১১

إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوءٍ فَإِنِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ

“—তবে সে ব্যতীত—যে নিজের ওপর বা সমাজ-কাঠামোয় ভারসাম্য নষ্ট করে অন্যায় করেছে, অতঃপর সে তার সেই নেতিবাচক খামতি বা মন্দের পর নিজেকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সংশোধন ও ওলটপালট করে নিয়েছে; তবে নিশ্চয়ই আমি পরম সুরক্ষাদাতা, পরম দয়ালু।”


আয়াত ১২

وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ ۖ فِي تِسْعِ آيَاتٍ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ

“এবং তুমি তোমার সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক ক্ষমতা বা হাতকে তোমার নিজের বক্ষপঞ্জরের বা গোপন চিন্তার সুরক্ষিত পকেটে প্রবেশ করাও (Waadkhil yadaka fī jaybika); তা সর্বপ্রকার দুর্নীতি, স্বার্থপরতা বা মন্দ থেকে মুক্ত হয়ে এক অত্যন্ত উজ্জ্বল, স্বচ্ছ ও শুভ্র জনকল্যাণমূলক শক্তি হিসেবে চাক্ষুষ আত্মপ্রকাশ করবে; এই দুটি সহ মোট নয়টি অকাট্য চাক্ষুষ নিদর্শন বা আইনি অস্ত্র নিয়ে তুমি ধাবিত হও ফেরাউন এবং তার স্বৈরাচারী শোষক সমাজের বিরুদ্ধে; নিশ্চয়ই তারা ছিল এক চরম নির্ধারিত আইনি সীমালঙ্ঘনকারী ও নীতিহীন জাতি।”


আয়াত ১৩

فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَٰذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ

“অতঃপর যখন তাদের সামনে আমার সেই সমস্ত সুস্পষ্ট, চাক্ষুষ ও অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রতকারী আয়াতসমূহ বা নিদর্শনসমূহ আত্মপ্রকাশ করল, তখন তারা (জনগণকে বিভ্রান্ত করতে) বলে উঠল: এটি তো এক সুনির্দিষ্ট প্রকাশ্য মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল বা জাদুকরী প্রোপাগান্ডা ব্যতিরেকে আর কিছুই নয়!”


আয়াত ১৪

وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا ۚ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ

“এবং তারা তাদের নিজেদের ভেতরের তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ় প্রত্যয় ও সত্যতা অনুধাবন করা সত্ত্বেও কেবল নিজেদের অন্যায়, জুলুম এবং সমাজে সুউচ্চ দাম্ভিকতা ধরে রাখার কায়েমি স্বার্থে সেটিকে সরাসরি অস্বীকার ও অবদমন করল (Wajahadū bihā); সুতরাং তুমি গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করো—সেইসব সমাজ-বিধ্বংসী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী চক্রের চূড়ান্ত পরিণতি কীরূপ ভয়ঙ্কর হয়েছিল!”


আয়াত ১৫

وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا ۖ وَقَالَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ

“আর নিশ্চয়ই আমি দাউদ এবং সুলাইমানকে দান করেছিলাম সুগভীর অকাট্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ('Ilmā); এবং তারা উভয়ে কৃতজ্ঞতায় ঘোষণা করেছিল: সমস্ত প্রশংসা ও নিখুঁত মহিমা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য—যিনি তাঁর বহুবিদ দৃঢ় বিশ্বাসী অনুগত দাসদের ওপর আমাদের এক বিশেষ বৈপ্লবিক যোগ্যতা ও শাসনতান্ত্রিক শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।”


আয়াত ১৬

وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ ۖ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَيْءٍ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ

“এবং সুলাইমান (দাউদের রেখে যাওয়া মিশনের) চূড়ান্ত শাসনতান্ত্রিক ও আদর্শিক উত্তরাধিকার লাভ করল (Wawarisa Sulaymānu Dāwūda); এবং সে তার সমাজকে লক্ষ্য করে বলল: হে মানবসমাজ! আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে বাস্তবতাহীন অবাস্তব বা শয়তানি চিন্তার উপদলসমূহের গোপন গতিবিধি, ভাষা ও মনস্তত্ত্ব (Mantīqat-tayr), এবং আমাদের এই আন্দোলনে সমাজ পরিচালনার প্রতিটি সুনির্দিষ্ট উপকরণ ও সামর্থ্য দান করা হয়েছে; নিশ্চয়ই এটি এক সুস্পষ্ট, প্রকাশ্য ও অকাট্য বিশেষ ঐশী অনুগ্রহ।”


আয়াত ১৭

وَحُشِرَ لِسُلَيْمَانَ جُنُودُهُ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ وَالطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ

“আর সুলাইমানের শাসনতান্ত্রিক প্রয়োজনে একত্রিত ও সুশৃঙ্খল করা হলো তার সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক বাহিনী বা সাঙ্গোপাঙ্গদের—যারা ছিল সমাজের তীব্র উগ্র ও প্রভাবশালী অদৃশ্য শক্তির উপদল (Minal-Jinni), সাধারণ দৃশ্যমান সামাজিক মানুষ (Wal-Insi) এবং বাস্তবতাহীন অবাস্তব বা চঞ্চল চিন্তার বিশেষ উপদলসমূহ; অতঃপর তাদের সবাইকে কঠোর সাংগঠনিক নিয়মে সারিবদ্ধ ও সুনিয়ন্ত্রিত রাখা হতো।”


আয়াত ১৮

حَتَّىٰ إِذَا أَتَوْا عَلَىٰ وَادِ النَّمْلِ قَالَتْ نَمْلَةٌ يَا أَيُّهَا النَّملُ ادْخُلُوا مَسَاكِنَكُمْ لَا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَانُ وَجُنُودُهُ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

“যতক্ষণ না যখন তারা এক অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, কঠোর পরিশ্রমী ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সঞ্চয়মুখী নাগরিক সমাজের উপত্যকা বা গলির মুখোমুখি হলো (Wādin-namli), তখন সেই সুশৃঙ্খল সমাজের একজন ক্ষুদ্রতম প্রতিনিধি বা নেত্রী সচেতনতার সাথে ডেকে বলল: হে আমার অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিশ্রমী সমাজ! তোমরা অবিলম্বে নিজেদের সুরক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্র বা আবাসস্থলসমূহে প্রবেশ করো (Udkhulū masākinakum), পাছে সুলাইমান এবং তার এই বিশাল রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাদের অজান্তেই তাদের বিশাল প্রাতিষ্ঠানিক পদতলে পিষে তোমাদের এই ক্ষুদ্র স্বনির্ভর কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ধ্বংস না করে ফেলে!”

Keywords:

  • وَادِ النَّمْلِ (Wādin-naml): আক্ষরিক পিঁপড়াদের ভৌগোলিক উপত্যকা নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক পরিভাষায় এটি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক সঞ্চয় ও সুশৃঙ্খল নেটওয়ার্কে আবদ্ধ স্বনির্ভর এক বিশেষ নাগরিক সমাজের ক্ষেত্র বা উপত্যকা (ধাতুমূল: ন-ম-ল = পিঁপড়া বা সুশৃঙ্খল পরিশ্রমী হওয়া)।

আয়াত ১৯

فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِّن قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ

“অতঃপর সুলাইমান সেই স্বনির্ভর ক্ষুদ্র সমাজের অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী বুদ্ধিবৃত্তিক সচেতনতা ও কথার গূঢ় অর্থ বুঝতে পেরে পরম তৃপ্তির মুচকি হাসিতে প্রফুল্ল হয়ে উঠল এবং অবিরত আবেদন করল: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে এই সুগভীর সাংগঠনিক সামর্থ্য ও তাওফিক দাও—যাতে আমি তোমার সেই সমস্ত নিয়ামতের সঠিক বাস্তব মূল্যায়ন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি যা তুমি আমার ওপর এবং আমার মূল আদর্শিক লালনকারী পিতৃপুরুষদের ওপর বর্ষণ করেছ, এবং যাতে আমি এমন সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করতে পারি যা তোমার নিয়মের অমোঘ ধারায় সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট ও গ্রহণযোগ্য হয়, এবং তুমি তোমার বিশেষ রহমতের অনুকম্পায় আমাকে তোমার সেই সমস্ত সংশোধনকারী নিবেদিত দাসদের অন্তর্ভুক্ত রাখো।”


আয়াত ২০

وَتَفَقَّدَ الطَّيْرَ فَقَالَ مَالِيَ لَا أَرَى الْهُدْهُدَ أَمْ كَانَ مِنَ الْغَائِبِينَ

“এবং সে (সুলাইমান) সেই চঞ্চল ও বাস্তবতাহীন উগ্র চিন্তার বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক উপদলসমূহের সার্বিক তদারকি ও ইন্টারনাল অডিট করতে লাগল (Watafaqqadat-tayr), অতঃপর সে লক্ষ্য করে বলল: আমার কী হলো যে আমি ‘হুদহুদ’ নামক সেই অত্যন্ত সুক্ষ্ম তথ্য অনুসন্ধানকারী ও গোয়েন্দা ইউনিটটিকে তার সঠিক কর্মক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি না (Lā aral-Hudhuda), নাকি সে কোনো অনুমতি ছাড়াই প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত বা নিখোঁজ রয়েছে?”

Keywords:

  • الْهُدْهُدَ (Al-Hudhud): আক্ষরিক কোনো অলৌকিক পাখি নয়, বরং আরবি ধাতুমূল (হ-দ-দ = ভেঙে ফেলা, সুক্ষ্ম অনুসন্ধান বা গতিশীল হওয়া) অনুযায়ী এটি রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার অধীনে কাজ করা অত্যন্ত সুক্ষ্ম তথ্য অনুসন্ধানকারী, গোয়েন্দা বা বিশেষ সার্ভেল্যান্স ইউনিট।

আয়াত ২১

لَأُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا شَدِيدًا أَوْ لَأَذْبَحَنَّهُ أَوْ لَيَأْتِيَنِّي بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ

“আমি অবশ্যই তাকে (তার এই গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার কারণে) এক অত্যন্ত কঠোর ও তীব্র প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি করব, অথবা আমি তার সেই সাংগঠনিক অস্তিত্ব বা ক্ষমতাকে সম্পূর্ণরূপে জবাই বা বাতিল করে দেব (La-azbahannahu), যতক্ষণ না সে আমার সামনে নিজের অনুপস্থিতির সপক্ষে এক অত্যন্ত সুস্পষ্ট, চাক্ষুষ ও অকাট্য আইনি দলিল বা অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে (Bisultānim mubīn)।”


আয়াত ২২

فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍ فَقَالَ أَحَطتُ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِ وَجِئْتُكَ مِن سَبَإٍ بِنَبَإٍ يَقِينٍ

“অতঃপর সে (সেই তথ্য অনুসন্ধানকারী ইউনিটটি) খুব বেশি দীর্ঘ সময় পার হওয়ার আগেই ফিরে এসে হাজির হলো এবং অত্যন্ত দায়িত্বের সাথে বলল: আমি মনস্তাত্ত্বিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে এমন এক সুক্ষ্ম বিষয়ের চাক্ষুষ সন্ধান লাভ করেছি যা আপনার সীমিত বাহ্যিক পরিবেষ্টনের অন্তরালে ছিল, এবং আমি ‘সাবা’ নামক এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রভাবশালী বিশেষ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সাম্রাজ্য থেকে (Min Saba'in) আপনার কাছে নিয়ে এসেছি এক সম্পূর্ণ সুনিশ্চিত, অকাট্য ও চাক্ষুষ বাস্তব সংবাদ (Binaba'iy yaqīn)।”

Keywords:

  • سَبَإٍ (Saba’): আক্ষরিক ইয়েমেনের প্রাচীন সাবা রাজ্য হলেও সমাজতাত্ত্বিক পরিভাষায় এটি এমন এক বিশাল অর্থনৈতিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, পুঁজিবাদী সম্রাজ্য বা বাণিজ্যিক কেন্দ্র যা বিপুল সম্পদ কেনাবেচায় মত্ত থাকে (ধাতুমূল: স-ব-অ = মদ কেনাবেচা বা বাণিজ্যিক বিস্তার)।

আয়াত ২৩

إِنِّي وَجَدتُّ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِن كُلِّ شَيْءٍ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌ

“নিশ্চয়ই আমি সেখানে চাক্ষুষ সন্ধান পেয়েছি এমন এক বিশেষ প্রভাবশালী ও আকর্ষণীয় লিডারশিপ বা নারীত্বের প্রতীকের (Imra'atan)—যে তাদের পুরো শাসনব্যবস্থার ওপর একচ্ছত্র রাজত্ব বা কর্তৃত্ব করছে, এবং তাকে তাদের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার প্রতিটি সুনির্দিষ্ট বৈষয়িক উপকরণ ও সামর্থ্য দান করা হয়েছে, এবং তার জন্য রয়েছে এক অত্যন্ত সুউচ্চ, সুদৃঢ় ও মহিমান্বিত শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতার কেন্দ্র বা সিংহাসন (Walahā 'arshun 'azīm)।”


আয়াত ২৪

وَجَدتُّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمسِ مِن دُونِ اللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ

“আমি তাকে এবং তার পুরো সমাজ ও জাতিকে চাক্ষুষ লিপ্ত পেয়েছি এই জঘন্য কুপ্রথায় যে—তারা আল্লাহর চূড়ান্ত ও সুউচ্চ আইনকে বর্জন করে কেবল বাহ্যিক বস্তুগত সামাজিক শক্তির বা সূর্যের মতো প্রখর ক্ষমতার দাপটের অন্ধ দাসত্ব ও সেজদা করছে (Yasjudūna lish-Shamsi); আর শয়তানি মানসিকতা বা উগ্র কুপ্রবৃত্তি তাদের সামনে তাদের এই বৈষয়িক অপকর্মসমূহকে অত্যন্ত সুশোভিত করে ফুটিয়ে তুলেছে, যার ফলে সে তাদের পরম সত্যের মূল আইনি পথ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্যুত করে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, ফলে তারা বিন্দুমাত্র কোনো সঠিক পথনির্দেশ বা হিদায়াত লাভ করতে পারছে না—”


আয়াত ২৫

أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ

“—এই কারণে যে, তারা কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর সেই সুউচ্চ আইনের সামনে মাথা নত করতে চায় না—যিনি উচ্চ সুরক্ষামূলক মহাজাগতিক স্তরের এবং এই বাস্তব পৃথিবীর অন্তরালে লুকিয়ে থাকা প্রতিটি সুসুক্ষ্ম ও প্রচ্ছন্ন সুপ্ত সম্ভাবনাকে চাক্ষুষভাবে ফুটিয়ে তোলেন ও বিকসিত করেন, এবং তোমরা নিজেদের কায়েমি স্বার্থে যা কিছু গোপন করছ কিংবা প্রকাশ্যে যা কিছু ঘোষণা করছ, সে সম্পর্কে তিনি নিখুঁতভাবে পরিজ্ঞাত।”


আয়াত ২৬

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

“আল্লাহ—যিনি ব্যতিরেকে অন্য কোনো মনগড়া ইলাহ বা প্রথার বিন্দুমাত্র কোনো শাসনতান্ত্রিক বৈধতা নেই; তিনি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও সুউচ্চ সার্বভৌম ক্ষমতার কেন্দ্রের একমাত্র লালনকর্তা ও আসল Custodian।”


আয়াত ২৭

قَالَ سَنَنظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ الْكَاذِبِينَ

“সুলাইমান বলল: আমরা খুব শীঘ্রই অত্যন্ত নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ ও অডিট করে দেখব—তুমি কি পরম সত্যনিষ্ঠ কথা বলছ, নাকি তুমি নিজের প্রাতিষ্ঠানিক পিঠ বাঁচাতে এক অত্যন্ত জঘন্য বানোয়াট মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ।”


আয়াত ২৮

اذْهَب بِّكِتَابِي هَٰذَا فَأَلْقِهْ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَانظُرْ مَاذَا يَرْجِعُونَ

“তুমি আমার এই সুনির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ অফিশিয়াল কিতাব বা শাসনতান্ত্রিক ডিক্রি নিয়ে অবিলম্বে ধাবিত হও (Bizkitābī hāzā), অতঃপর সেটিকে অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের ক্ষমতার কেন্দ্রের ভেতরে কার্যকর বা নিক্ষেপ করো; অতঃপর তুমি সাময়িকভাবে তাদের সম্মুখ থেকে একটু আড়ালে অবস্থান নিয়ে নিবিড়ভাবে অবলোকন করো—তারা নিজেদের মধ্যে কীরূপ প্রতিক্রিয়া বা জবাব নিয়ে ফিরে আসে।”


আয়াত ২৯

قَالَتْ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ إِنِّي أُلْقِيَ إِلَيَّ كِتَابٌ كَرِيمٌ

“সে (সেই সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী বা প্রধান লিডারশিপ তার এলিট কাউন্সিলকে ডেকে) বলল: হে আমার উচ্চ দরবারের সম্মানিত এলিট পরিষদ! নিশ্চয়ই আমার এই ক্ষমতার কেন্দ্রে এক অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, সম্মানিত ও সুউচ্চ অফিশিয়াল কিতাব বা শাসনতান্ত্রিক ডিক্রি অবতীর্ণ বা কার্যকর করা হয়েছে (Kitābun karīm)—”


আয়াত ৩০

إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

“—নিশ্চয়ই এটি এসেছে সুলাইমানের সুসংগত শাসন ব্যবস্থা থেকে, এবং নিশ্চয়ই এটির মূল ব্র্যান্ড ভ্যালু ও আইনি রূপরেখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আল্লাহর পরম সার্বভৌম কর্তৃত্বের ও পরম দয়াময় লালন-অনুকম্পার সুউচ্চ ব্র্যান্ডের ওপর—”


আয়াত ৩১

أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأْتُونِي مُسْلِمِينَ

“—এই মর্মে যে: তোমরা আমার সুউচ্চ ঐশী আইনের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র কোনো দাম্ভিকতা বা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন কোরো না, এবং তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে নিজেদের সম্পূর্ণ সমর্পণ করে আমার এই শাসনতান্ত্রিক অনুশাসনের অধীনে চলে এসো (Wa'tūnī Muslimīn)।”


আয়াত ৩২

قَالَتْ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِي فِي أَمْرِي مَا كُنتُ قَاطِعَةً أَمْرًا حَتَّىٰ تَشْهَدُونِ

“সে বলেছিল: হে আমার উচ্চ দরবারের সম্মানিত এলিট পরিষদ! তোমরা আমার এই সুগভীর শাসনতান্ত্রিক সংকটের বিষয়ে আমাকে এক সুনির্দিষ্ট আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক ফায়সালা বা পরামর্শ দাও; আমি কোনো অবস্থাতেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ডিক্রি জারি করি না—যতক্ষণ না তোমরা নিজেরা আমার এই মজলিসে উপস্থিত থেকে বাস্তব সাক্ষ্য প্রদান করো।”


আয়াত ৩৩

قَالُوا نَحْنُ أُولُو قُوَّةٍ وَأُولُو بَأْسٍ شَدِيدٍ وَالْأَمْرُ إِلَيْكِ فَانظُرِي مَاذَا تَأْمُرِينَ

“তারা (দাম্ভিক এলিট কাউন্সিল) বলেছিল: আমরা অত্যন্ত সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অধিকারী এবং অত্যন্ত তীব্র সংঘাত ও যুদ্ধ-বিগ্রহে পারদর্শী এক পরাক্রমশালী বাহিনী; আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ আপনারই এখতিয়ারে, সুতরাং আপনি নিজেই ভেবে দেখুন আপনি আমাদের কীরূপ অ্যাকশন বা চূড়ান্ত আদেশ জারি করবেন।”


আয়াত ৩৪

قَالَتْ إِنَّ الْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوا أَعِزَّةَ أَهْلِهَا أَذِلَّةً ۖ وَكَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ

“সে বলেছিল: নিশ্চয়ই স্বৈরাচারী সম্রাট বা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী শক্তিগুলো (Al-Mulūka) যখনই কোনো স্বাধীন জনপদ বা সামাজিক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক প্রবেশ করে, তখন তারা সেটিকে সম্পূর্ণরূপে বিশৃঙ্খল, বিধ্বস্ত ও ধ্বংস করে ছাড়ে (Afsadūhā), এবং সেখানকার সুপ্রতিষ্ঠিত সম্মানিত উচ্চ নাগরিকদের টেনে নামিয়ে সম্পূর্ণ লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করে ছাড়ে; আর অনুরূপভাবেই তারা অবিরত দমননীতি চালিয়ে থাকে।”


আয়াত ৩৫

وَإِنِّي مُرْسِلَةٌ إِلَيْهِم بِهَدِيَّةٍ فَنَاظِرَةٌ بِمَ يَرْجِعُ الْمُرْسَلُونَ

“সুতরাং আমি (তাৎক্ষণিক কোনো যুদ্ধে না গিয়ে) তাদের ক্ষমতার কেন্দ্রের দিকে এক সুনির্দিষ্ট কৌশলগত উপঢৌকন বা লোভনীয় অর্থনৈতিক প্যাকেজ প্রেরণ করছি (Bihadiyyatin), অতঃপর আমি অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে প্রত্যক্ষ করব—আমার প্রেরিত বিশেষ দূতরা সেখান থেকে কীরূপ প্রতিক্রিয়া বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরে আসে।”


আয়াত ৩৬

فَلَمَّا جَاءَ سُلَيْمَانَ قَالَ أَتُمِدُّونَنِ بِمَالٍ فَمَا آتَانِيَ اللَّهُ خَيْرٌ مِّمَّا آتَاكُم بَلْ أَنتُم بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ

“অতঃপর যখন সেই বিশেষ বাণিজ্যিক দূত সুলাইমানের উচ্চ দরবারে এসে হাজির হলো, তখন সুলাইমান (তীব্র ক্ষোভে ও দম্ভে) বলল: তোমরা কি আমাকে সামান্য কিছু বৈষয়িক ধন-সম্পদ বা ফান্ডের খোঁটা দিয়ে প্রভাবিত করতে চাও? অথচ আল্লাহ আমাকে তাঁর কিতাবের যে সুউচ্চ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও শাসন ক্ষমতা দান করেছেন, তা তোমাদের দেওয়া এই সমস্ত বৈষয়িক পুঁজি বা ফান্ডের চেয়ে কোটি গুণ শ্রেষ্ঠ! বরং তোমরাই তোমাদের এই লোভনীয় বাণিজ্যিক উপঢৌকন বা উপহার নিয়ে উল্লাসে মেতে থাকো!”


আয়াত ৩৭

ارْجِعْ إِلَيْهِمْ فَلَنَأْتِيَنَّهُم بِجُنُودٍ لَّا قِبَلَ لَهُم بِهَا وَلَنُخْرِجَنَّهُم مِّنْهَا أَذِلَّةً وَهُمْ صَاغِرُونَ

“(সুলাইমান সেই দূতকে কড়া নোটিশে বলল:) তুমি অবিলম্বে তাদের ক্ষমতার কেন্দ্রের দিকে ফিরে যাও; আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে এমন এক অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী আদর্শিক প্রাতিষ্ঠানিক বাহিনী নিয়ে ধাবিত হব (Bijunūdin), যার মোকাবেলা করার বিন্দুমাত্র কোনো মনস্তাত্ত্বিক বা আইনি সামর্থ্য তাদের নেই, এবং আমি অবশ্যই তাদের সেই শোষক ক্ষমতার ভূখণ্ড থেকে অত্যন্ত লাঞ্ছিত ও অপদস্থ অবস্থায় বের করে ছাড়ব, আর তারা সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও পরাভূত হয়ে পড়বে!”


আয়াত ৩৮

قَالَ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَيُّكُمْ يَأْتِينِي بِعَرْشِهَا قَبْلَ أَن يَأْتُونِي مُسْلِمِينَ

“অতঃপর সুলাইমান তার উচ্চ দরবারের এলিট পরিষদকে ডেকে বলল: হে আমার সম্মানিত প্রাতিষ্ঠানিক পরিষদ! তারা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে নিজেদের সম্পূর্ণ সমর্পণ করে আমার এই শাসনতান্ত্রিক অনুশাসনের অধীনে চলে আসার পূর্বেই—তোমাদের মধ্যে কে আছে এমন যোগ্য, যে তার সেই সুউচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্র বা সিংহাসনের মূল রূপরেখাকে নিখুঁত ডেটা সহ আমার এই দপ্তরে এনে হাজির করতে পারে (Ya'tīnī bi-'arshihā)?”


আয়াত ৩৯

قَالَ عِفْرِيتٌ مِّنَ الْجِنِّ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَن تَقُومَ مِن مَّقَامِكَ ۖ وَإِنِّي عَلَيْهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٌ

“সেই উগ্র, প্রভাবশালী অদৃশ্য অপশক্তির উপদল বা এলিটদের মধ্য থেকে এক অত্যন্ত চতুর, শক্তিশালী ও কুশলী প্রযুক্তিবিদ বা থিংক-ট্যাংক বলে উঠল ('Ifrītum minal-Jinn): আপনি আপনার এই অফিশিয়াল আসন বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যালয় ত্যাগ করে ওঠার পূর্বেই—আমি সেটির মূল রূপরেখা ও নিয়ন্ত্রণ এখানে এনে হাজির করতে সম্পূর্ণ সক্ষম; আর নিশ্চয়ই আমি এই কাজের জন্য অত্যন্ত সুদৃঢ় শক্তির অধিকারী এবং পরম বিশ্বস্ত ও আমানতদার।”

Keywords:

  • عِفْرِيتٌ (Ifrīt): আক্ষরিক কোনো পৌরাণিক দৈত্য বা জীন ভূত নয়, বরং আরবি ধাতুমূল (অ-ফ-র = ধূর্ত, অত্যন্ত চালাক, প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ বা কুশলী হওয়া) অনুযায়ী এটি রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার অধীনে থাকা অত্যন্ত ধূর্ত, কুশলী ও উচ্চ প্রযুক্তিগতভাবে পারদর্শী কোনো বিশেষ থিংক-ট্যাংক বা হ্যাকার ইউনিট।

আয়াত ৪০

قَالَ الَّذِي عِندَهُ عِلْمٌ مِّنَ الْكِتَابِ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَن يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ ۚ فَلَمَّا رَآهُ مُسْتَقِرًّا عِندَهُ قَالَ هَٰذَا مِن فَضْلِ رَبِّي لِيَبْلُوَنِي أَأَشْكُرُ أَمْ أَكْفُرُ ۖ وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ

“কিন্তু যার নিকট আল্লাহর সেই সুনির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ কিতাবের অকাট্য জ্ঞান ও উচ্চ বৈজ্ঞানিক প্রজ্ঞা ছিল ('Indahū 'ilmum minal-Kitāb), সে (নিজের চরম প্রমাণের শক্তিতে) ঘোষণা করল: আপনার চোখের পলক আপনার দিকে ফিরে আসার পূর্বেই বা এক নিমেষেই—আমি সেটির মূল প্রাতিষ্ঠানিক ডেটা ও নিয়ন্ত্রণ আপনার স্ক্রিনে বা দপ্তরে এনে হাজির করছি! অতঃপর সুলাইমান যখন সেই সুউচ্চ ক্ষমতার সিংহাসনের মূল কাঠামোকে স্বয়ং নিজের সামনে সম্পূর্ণ সুস্থিত ও কার্যকর দেখতে পেল (Rā'āhu mustaqirran 'indahu), তখন সে অত্যন্ত বিনীত হয়ে বলল: এটিই হলো আমার প্রতিপালকের এক মহিমান্বিত বিশেষ অনুগ্রহ—যাতে তিনি সেটির দ্বারা আমাকে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা ও যাচাইকরণের মুখোমুখি করেন যে—আমি কি এই নিয়ামতের সঠিক বাস্তব মূল্যায়ন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, নাকি অহংকারে সত্যকে আড়াল ও অস্বীকার করি? আর যে কেউ নিয়ামতের সঠিক বাস্তব মূল্যায়ন করে, সে প্রকৃতপক্ষে নিজের সত্তার ও বিকাশের জন্যই তা করে; আর যে কেউ সত্যকে অস্বীকার করে, তবে নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সম্পূর্ণ পরমুখাপেক্ষীহীন, পরম মহান ও সম্মানিত।”


আয়াত ৪১

قَالَ نَكِّرُوا لَهَا عَرْشَهَا نَنظُرْ أَتَهْتَدِي أَمْ تَكُونُ مِنَ الَّذِينَ لَا يَهْتَدُونَ

“সুলাইমান নির্দেশ দিল: তোমরা তার সেই সুউচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রের বা সিংহাসনের বাহ্যিক রূপরেখাকে কিছুটা অপরিচিত বা ওলটপালট করে দাও (Nakkirū lahā 'arshahā), আমরা খুব নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করে দেখব—সে কি তার উচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার শক্তিতে সঠিক পথনির্দেশ বা আসল সত্যের গোড়ায় পৌঁছাতে পারে, নাকি সেও সেইসব দিকভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকে যারা সঠিক লক্ষ্য খুঁজে পায় না।”


আয়াত ৪২

فَلَمَّا جَاءَتْ قِيلَ أَهَٰكَذَا عَرْشُكِ ۖ قَالَتْ كَأَنَّهُ هُوَ prophecies ۖ وَأُوتِينَا الْعِلْمَ مِن قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ

“অতঃপর যখন সে (সেই সম্রাজ্ঞী) সুলাইমানের ক্ষমতার কেন্দ্রে এসে হাজির হলো, তখন তাকে চাক্ষুষ ফায়সালায় জিজ্ঞাসা করা হলো: তোমার সেই সুউচ্চ ক্ষমতার সিংহাসন বা কাঠামো কি ঠিক এই রকমই? সে (চরম বুদ্ধিবৃত্তিক প্রজ্ঞার সাথে) বলল: মনে হচ্ছে এটি ঠিক সেটিই! আর আমাদের কাছে এই বৈপ্লবিক সত্য চাক্ষুষ হওয়ার পূর্বেই আল্লাহর কিতাবের অকাট্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এসে পৌঁছেছিল এবং আমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে নিজেদের সম্পূর্ণ সমর্পণ করে মুসলিম হয়ে গেছি।”


আয়াত ৪৩

وَصَدَّهَا مَا كَانَت تَّعْبُدُ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ إِنَّهَا كَانَتْ مِن قَوْمٍ كَافِرِينَ

“অথচ ইতিপূর্বে আল্লাহর সুউচ্চ আইনকে বর্জন করে সে অন্য যে সমস্ত মনগড়া বস্তুগত শক্তির বা সূর্যের অন্ধ দাসত্ব করছিল, তা-ই তাকে পরম সত্যের মূল পথ থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল (Wasaddahā mā kānat ta'budu); নিশ্চয়ই সে ছিল অতীত জীবনে এক অত্যন্ত সত্য প্রত্যাখ্যানকারী ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন শোষক সমাজের অন্তর্ভুক্ত।”


আয়াত ৪৪

قِيلَ لَهَا ادْخُلِي الصَّرْحَ ۖ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَكَشَفَتْ عَن سَاقَيْهَا ۚ قَالَ إِنَّهُ صَرْحٌ مُّمَرَّدٌ مِّن قَوَارِيرَ ۚ قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

“তাকে নির্দেশ দেওয়া হলো: তুমি এই সুউচ্চ, সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান প্রাসাদে বা শাসনতান্ত্রিক চেম্বারে প্রবেশ করো (Udkhulīs-Sarha); অতঃপর সে যখন সেটিকে প্রত্যক্ষ করল, তখন সে নিজের বাহ্যিক দৃষ্টির সীমাবদ্ধতার কারণে সেটিকে এক গভীর অতল প্লাবন বা উত্তাল পানির স্রোতধারা ধারণা করল (Hasibathū lujjatan) এবং সে (আশঙ্কায়) নিজের চলার গতি বা পায়ের গোছা উন্মুক্ত বা গুটিয়ে নিল; সুলাইমান তাকে আশ্বস্ত করে বলল: তুমি বিন্দুমাত্র ভয় কোরো না, নিশ্চয়ই এটি ফুটন্ত পানির প্লাবন নয়, বরং এটি হলো স্বচ্ছ কাচ বা স্ফটিক দিয়ে নির্মিত অত্যন্ত নিখুঁত ও মসৃণ এক সুউচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক চেম্বার (Sarhum mumarradum min qawārīr); তখন সে (নিজের ভুল ও কিতাবের উচ্চ বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্ব চাক্ষুষ অনুধাবন করে) ব্যাকুল চিত্তে কেঁদে উঠল: হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমি অতীত জীবনে (অসার জড়বাদের দাসত্ব করে) নিজের সত্তার ওপর চরম অন্যায় ও জুলুম করেছি, আর আজ আমি সুলাইমানের এই নতুন বৈপ্লবিক কিতাবের আদর্শের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালক আল্লাহর বিধিবদ্ধ আইনের সামনে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করলাম (Wa aslamtu ma'a Sulaymāna lillāhi).”

Keywords:

  • الصَّرْحَ (As-Sarh): আক্ষরিক কাচের তৈরি রাজপ্রাসাদ নয়, বরং শাসনতান্ত্রিক পরিভাষায় এটি আল্লাহর আইনের দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত অত্যন্ত সুউচ্চ, স্বচ্ছ, আলোড়কময় ও সুরক্ষিত কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক বা আইনি চেম্বার।

আয়াত ৪৫

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ

“আর নিশ্চয়ই আমি সামূদ জাতির বা সমাজের নিকট তাদেরই আদর্শিক ভাই সালেহকে এক সুনির্দিষ্ট বাণীবাহক হিসেবে প্রেরণ করেছিলাম এই অমোঘ ডিক্রি সহ যে—তোমরা কেবল একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব ও অনুশাসন কার্যকর করো; অতঃপর সেটির সাথে সাথেই তারা নিজেদের কায়েমি স্বার্থের কারণে দুটি চরম প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুতামূলক পরস্পরবিরোধী উপদলে বিভক্ত হয়ে তীব্র কোন্দলে লিপ্ত হয়ে পড়ল (Fa-izā hum farīqāni yakhtasimūn)।”


“সে (সালেহ) বলেছিল: হে আমার জাতি! তোমরা কেন জীবনের সুষম কল্যাণ ও আত্মসংশোধনের পূর্বে (Qablal-hasanah) নিজেদের অপকর্মের অবধারিত ধ্বংসাত্মক কুফল বা শাস্তিকে দ্রুত তরান্বিত করতে চাও? তোমরা কেন নিজেদের মনস্তাত্ত্বিক ত্রুটি দূর করতে আল্লাহর বিধিবদ্ধ আইনের সুরক্ষামূলক ঢাল বা সংশোধন ব্যবস্থার দিকে ফিরে আসছ না (Lawlā tastaghfirūnallāha), যাতে তোমরা তাঁর বিশেষ লালন-অনুকম্পা লাভ করতে পারো?”


আয়াত ৪৭

قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ ۚ قَالَ طَائِرُكُمْ عِندَ اللَّهِ ۖ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ

“তারা বলেছিল: আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথে থাকা প্রতিটি আদর্শিক অনুগামীকে আমাদের সমাজের জন্য চরম অমঙ্গল, কুলক্ষণ ও মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী মনে করি (Ittayyarnā bika); সালেহ বলেছিল: তোমাদের সেই অবধারিত অমঙ্গল বা কর্মের কুফলের রেকর্ড তো আল্লাহর বিধিবদ্ধ আইনি পরিমাপের অধীনে নিবন্ধিত; বরং তোমরা তো এমন এক জাতি যাদের এক চরম মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা ও যাচাইকরণের মুখোমুখি করা হয়েছে (Qawmun tuftanūn)।”

Keywords:

  • اطَّيَّرْنَا (Ittayyarnā): আক্ষরিক পাখির ওড়া দেখে কুলক্ষণ বা অপয়া ভাবা নয়, বরং প্রগতির বৈপ্লবিক সত্যকে নিজের সংকীর্ণ স্বার্থের জন্য সামাজিক অমঙ্গল বা বিপর্যয় হিসেবে অপপ্রচার করা (ধাতুমূল: ত-ই-র = উগ্র আবেগ বা ক্ষণস্থায়ী প্ররোচনা)।

আয়াত ৪৮

وَكَانَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ

“আর সেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান শহরে বা ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিল নয়টি সুনির্দিষ্ট প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, উপদল বা এলিট মাফিয়া চক্র (Tis'atu rahtin), যারা এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে কেবল অবিরত বিশৃঙ্খলা, ফাসাদ ও অবক্ষয় তৈরি করত এবং কোনো প্রকার সংশোধন বা ভারসাম্যমূলক কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করত না।”

Keywords:

  • رَهْطٍ (Raht): সমাজের অত্যন্ত প্রভাবশালী, উগ্র এবং একচেটিয়া কায়েমি স্বার্থ রক্ষাকারী এমন উপদল বা অপরাধী চক্র যা মূল আইনি কাঠামোকে তোয়াক্কা করে না।

আয়াত ৪৯

قَالُوا تَقَاسَمُوا بِاللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُ وَأَهْلَهُ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ

“তারা (সেই মাফিয়া সিন্ডিকেটের সদস্যরা) নিজেদের মধ্যে কসম খেয়ে আইনি চুক্তি বা আঁতাত করল—আমরা অবশ্যই রাতের আঁধারে বা অত্যন্ত গোপনে এর ওপর এবং এর পুরো পরিবারের ওপর এক আকস্মিক মরণোত্তর সাংগঠনিক বা শারীরিক আক্রমণ চালাব (Lanubayyitannahū wa ahlahū), অতঃপর আমরা এর প্রধান অভিভাবক বা উত্তরসূরিকে নির্দ্বিধায় বলব—আমরা এর পরিবারের সেই ধ্বংসের ময়দানে বিন্দুমাত্র উপস্থিত বা সাক্ষী ছিলাম না, আর আমরা নিজেদের এই দাবিতে পুরোপুরি সত্যনিষ্ঠ ও সৎ!”


আয়াত ৫০

وَمَكَرُوا مَكْرًا وَمَكَرْنَا مَكْرًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

“এবং তারা অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে এক সুগভীর চক্রান্ত বা কুটিল রাজনৈতিক চাল চালল (Wa makarū makrā), আর আমিও (আমার অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়মে) তাদের চক্রান্ত ধূলিসাৎ করতে এক সুগভীর বৈপ্লবিক কাউন্টার-কৌশল তৈরি করলাম, অথচ তারা নিজেরা বিন্দুমাত্র সেটির চালচলন টের পেল না।”

Keywords:

  • مَكَرْنَا (Makarnā): আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মানুষের মতো “ষড়যন্ত্র করা” নয়, বরং মহাবিশ্বের এমন এক অমোঘ প্রাকৃতিক ও আইনি ফায়ারওয়াল বা কাউন্টার-কৌশল যা অন্যায়ের সুক্ষ্ম চক্রান্তকে সেটির নিজের ফাঁদেই অবধারিতভাবে অচল করে দেয়।

আয়াত ৫১

فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ مَكْرِهِمْ أَنَّا دَمَّرْنَاهُمْ وَقَوْمَهُمْ أَجْمَعِينَ

“সুতরাং তুমি গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করো—কেমন সুদূরপ্রসারী ও ভয়ঙ্কর ছিল তাদের সেই সুক্ষ্ম চক্রান্তের চূড়ান্ত পরিণতি বা কুফল! তা হলো—আমি (আমার প্রাকৃতিক নিয়মে) তাদের নিজেদের এবং তাদের সেই পুরো চক্রান্তকারী শোষক সমাজকে একত্রে সম্পূর্ণরূপে ধূলিসাৎ ও সমূলে ধ্বংস করলাম।”


আয়াত ৫২

فَتِلْكَ بُيُوتُهُمْ خَاوِيَةً بِمَا ظَلَمُوا ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

“অতঃপর এই হলো তাদের সেই বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্রসমূহ যা আজ তাদের নিজেদের ভারসাম্যহীন অন্যায় ও জুলুমের অবধারিত কুফলে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত ও জনশূন্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে পড়ে আছে (Khāwiyatan bimā zalamū); নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ এমন এক জাতির জন্য—যারা বাস্তব জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগায়।”


আয়াত ৫৩

وَأَنجَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ

“আর আমি তাদেরকে আমার অমোঘ সুরক্ষাব্যবস্থায় সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার বা রক্ষা করলাম—যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং যারা সর্বদা সুরক্ষামূলক সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করত (Wa kānū yattaqūn)।”


আয়াত ৫৪

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ

“এবং লূতের আখ্যান স্মরণ করো, যখন সে তার সমাজ বা জাতিকে বলেছিল: তোমরা কি নিজেদের সমস্ত চাক্ষুষ জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও অবিরত এমন এক প্রকাশ্য চারিত্রিক ও আদর্শিক বিকৃতির নোংরামিতে লিপ্ত হচ্ছ (Atatūnal-fāhishata wa antum tubsirūn)?”

Keywords:

  • الْفَاحِشَةَ (Al-Fāhishah): এমন এক জঘন্য চারিত্রিক, সামাজিক বা আদর্শিক সীমালঙ্ঘন ও বিকৃতি যা সমাজের সুস্থ ভারসাম্য ও প্রগতিশীল ধারাকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে কলুষিত করে দেয়।

আয়াত ৫৫

أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْมٌ تَجْهَلُونَ

“তোমরা কি সমগ্র সুষম, শান্ত ও ফলপ্রসূ প্রাকৃতিক নিয়ম বর্জন করে কেবল উগ্রতা, চরম অহংকার ও আধিপত্য বিস্তারের পঙ্গু কামনায় মেতে উঠছ? বরং তোমরা তো এক চরম মূর্খতা, অজ্ঞতা ও জড়বাদে নিমজ্জিত এক দিকভ্রান্ত জাতি (Qawmun tajhalūn)!”


আয়াত ৫৬

فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ

“অতঃপর তার জাতির দাম্ভিক কায়েমি স্বার্থবাদীদের তরফ থেকে অন্য কোনো জবাব ছিল না—কেবল এই অন্ধ অহংকারের ঘোষণা ব্যতিরেকে যে: তোমরা লূতের এই আদর্শিক পরিবার বা অনুগামীদের তোমাদের এই জনপদ বা ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণরূপে বহিষ্কার বা উচ্ছেদ করো; কারণ এরা এমন একদল মানুষ যারা সর্বদা নিজেদের চারিত্রিক ও আদর্শিক শুদ্ধিতা রক্ষা করার ভণ্ডামি করে বেড়ায় (Innahum unāsuiy yatatahharūn)!”


আয়াত ৫৭

فَأَنجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَاهَا مِنَ الْغَابِرِينَ

“অতঃপর আমি তাকে এবং তার সাথে থাকা প্রতিটি আদর্শিক অনুগামীকে আমার অমোঘ সুরক্ষাব্যবস্থায় সম্পূর্ণরূপে রক্ষা ও উদ্ধার করলাম, তবে তার সাথে সম্পৃক্ত সেই জরাজীর্ণ, পুরোনো কুসংস্কারে অন্ধ রক্ষণশীল উপদল বা মানসিকতা ব্যতীত (Illā-mra'atahū); আমি আমার প্রাকৃতিক পরিমাপের অমোঘ আইনে সেটিকে অতীতের সেই ধ্বংসের গহ্বরেই নিখুঁতভাবে নিবদ্ধ করে রাখলাম।”


আয়াত ৫৮

وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا ۖ فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنذَرِينَ

“এবং আমি তাদের ওপর অবিরত বর্ষণ করলাম (তাদেরই বিকৃতির অবধারিত ফল হিসেবে) এক ভয়ঙ্কর প্লাবন বা বিপর্যয়; আর যাদের পূর্বেই সুস্পষ্ট সতর্ক ও ওয়ার্নিং দেওয়া হয়েছিল, তাদের ওপর নেমে আসা সেই অবধারিত বিপর্যয়ের বর্ষণ কতই না নিকৃষ্ট ও ভয়ঙ্কর ছিল!”


আয়াত ৫৯

قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَىٰ ۗ آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ

“তুমি চূড়ান্ত ঘোষণা করে দাও: সমস্ত প্রশংসা ও মহিমা কেবল আল্লাহর চিরন্তন নিয়ম-ব্যবস্থার জন্য এবং পরম শান্তি ও নিরাপত্তা বর্ষিত হোক তাঁর সেই নিবেদিত দাস বা চালিকাশক্তিগুলোর ওপর—যাদের তিনি তাঁর মহৎ বৈপ্লবিক কাজের জন্য সমস্ত আবিলতা থেকে মুক্ত করে মনোনীত করেছেন (Allazīnas-stafā); তোমরা নিজেরাই বিবেক দিয়ে ভেবে দেখো—আল্লাহর সেই অমোঘ আইন সর্বশ্রেষ্ঠ, নাকি তারা তাঁর আইনের পাশাপাশি অন্য যাকে যাকে সমান কর্তৃত্ব বা অংশীদার বানাচ্ছে তা সর্বশ্রেষ্ঠ?”


আয়াত ৬০

أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَّا كَانَ لَكُمْ أَن تُنبِتُوا شَجَرَهَا ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ

“নাকি তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ—যিনি উচ্চ সুরক্ষামূলক স্তরসমূহ এবং এই বাস্তব পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং উচ্চ সুরক্ষার স্তর থেকে তোমাদের জন্য বর্ষণ করেছেন এক পরম জীবনদায়ী পুষ্টি উপাদান বা কিতাবের বাণী, অতঃপর আমি সেটির দ্বারা সমাজ-ক্ষেত্রে উৎপাদন করেছি অত্যন্ত নয়নমনোহর, প্রগতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ বহুবিদ সুরক্ষার বাগান (Hadā'iqa zāta bahjah), যার ভেতরের মূল আদর্শিক জীবন-বৃক্ষ উৎপাদন বা বিকসিত করার বিন্দুমাত্র কোনো নিজস্ব মনগড়া সামর্থ্য তোমাদের ছিল না? তবে কি আল্লাহর আইনের সাথে অন্য কোনো মনগড়া ইলাহ বা প্রথার বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা আছে? বরং তারা তো এক চরম সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ডানে-বামে বক্রতা তৈরি করা দিকভ্রান্ত জাতি (Qawmuy ya'dilūn)!”


আয়াত ৬১

أَمَّن جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَارًا وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

“নাকি তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ—যিনি এই বাস্তব পৃথিবী বা সমাজ-ক্ষেত্রকে প্রতিটি জীবনের জন্য এক সুদৃঢ় আইনি স্থিতিশীলতা ও শান্তিময় ঠিকানা করেছেন (Ja'alal-arda qarārā), এবং সেটির অন্তরালে বা প্রতিটি স্তরে জারি করেছেন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অবিরাম প্রবহমান স্রোতধারা, এবং সেটির স্থায়িত্বের জন্য স্থাপন করেছেন অটল পর্বতসদৃশ শক্তিশালী শাসনতান্ত্রিক নীতি ও স্তম্ভসমূহ, এবং সমাজ-বাস্তবতার দুটি ভিন্ন মতাদর্শের সমুদ্রের মাঝখানে স্থাপন করেছেন এক দুর্ভেদ্য অলঙ্ঘনীয় অন্তরাল বা আইনি বাঁধ (Ja'ala baynal-bahrayni hājizā)? তবে কি আল্লাহর আইনের সাথে অন্য কোনো মনগড়া ইলাহর বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা আছে? বরং তাদের অধিকাংশ মানুষই পরম বাস্তব জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত!”


আয়াত ৬২

أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ

“নাকি তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ—যিনি চরম সংকটে পড়া, নিরুপায় ও মজলুমের পরম আকুতিতে সাড়া দেন যখনই সে (নিজের সমস্ত অহংকার ভেঙে) তাঁর বিধিবদ্ধ নিয়মকে আহ্বান করে, এবং যিনি সমাজ থেকে সর্বপ্রকার মন্দ, অন্যায় ও নেতিবাচক বিপর্যয়কে সম্পূর্ণরূপে দূর করেন (Wayakshifus-sū'a), এবং তোমাদেরকে এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত বা শাসনতান্ত্রিক Custodian নিযুক্ত করেন? তবে কি আল্লাহর আইনের সাথে অন্য কোনো মনগড়া ইলাহর বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা আছে? অথচ তোমরা খুব কমই এই সমস্ত পরম চাক্ষুষ বাস্তব সত্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো ও নিজেদের চিন্তাকে জাগ্রত করো!”


আয়াত ৬৩

أَمَّن يَهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَن يُرْسَلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ

“নাকি তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ—যিনি তোমাদেরকে বাস্তব সমাজ-ক্ষেত্রের এবং উত্তাল সংঘাত-সমুদ্রের প্রতিটি অজ্ঞানতা ও মনস্তাত্ত্বিক অন্ধকারের স্তরে সুনির্দিষ্ট সঠিক পথনির্দেশ বা হিদায়াত দান করেন (Yahdīkum fī zulumātil-barri wal-bahr), এবং যিনি তাঁর বিশেষ ঐশী লালন ও রহমতের আগাম বার্তা হিসেবে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গতিশীল চালিকাশক্তি বা বায়ু প্রেরণ করেন? তবে কি আল্লাহর আইনের সাথে অন্য কোনো মনগড়া ইলাহর বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা আছে? তারা তাঁর আইনের পাশাপাশি অন্য যাকে যাকে সমান কর্তৃত্ব বা অংশীদার বানাচ্ছে, আল্লাহ তা থেকে পরম পবিত্র ও সুউচ্চ স্তরে সমাসীন।”


আয়াত ৬৪

أَمَّن يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

“নাকি তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ—যিনি অস্তিত্বের প্রারম্ভে প্রথম সৃষ্টির উন্মেষ ঘটান, অতঃপর তিনি (তাঁর বৈপ্লবিক প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়মে) সেটির পুনরাবৃত্তি ঘটান, এবং যিনি উচ্চ সুরক্ষামূলক স্তরসমূহ থেকে এবং এই বাস্তব পৃথিবী থেকে তোমাদের ব্যক্তিত্ব ও মেধা বিকাশের সমস্ত পুষ্টি উপাদান ও রিজিক অবিরত জোগান দিয়ে যাচ্ছেন? তবে কি আল্লাহর আইনের সাথে অন্য কোনো মনগড়া ইলাহর বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা আছে? তুমি তাদের চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জে ঘোষণা করে দাও: তোমরা যদি তোমাদের মনগড়া আইনি দাবিতে বিন্দুমাত্র পরম সত্যনিষ্ঠ ও সৎ হয়ে থাকো, তবে তোমাদের সপক্ষে কোনো একটি সুস্পষ্ট ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ বা বৈজ্ঞানিক দলিল উপস্থাপন করো (Hātū burhānakum)!”


আয়াত ৬৫

قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ

“তুমি চূড়ান্ত ঘোষণা করে দাও: উচ্চ সুরক্ষামূলক মহাজাগতিক স্তরে এবং এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে এমন কেউই বিদ্যমান নেই, যে ভবিষ্যতের কোনো অদৃশ্য বা সুদূরপ্রসারী জ্ঞান নিজের ক্ষমতায় ধারণ করে একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত (Illallāh); আর তারা নিজেরা বিন্দুমাত্র এটি টের পায় না বা সচেতন নয় যে—কখন বা কোন সুনির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণে তাদের এক নতুন বৈপ্লবিক উত্থান বা জ্যান্ত ফলাফলের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।”


আয়াত ৬৬

بَلِ ادَّارَكَ عِلْمُهُمْ فِي الْآخِرَةِ ۚ بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِّنْهَا ۚ بَلْ هُم مِّنْهَا عَمُونَ

“বরং ভবিষ্যতের দীর্ঘস্থায়ী বৈপ্লবিক জীবন ও কর্মের অবধারিত ফলাফলের বিষয়ে তাদের সমস্ত অর্জিত বৈষয়িক জ্ঞান ও লজিক সম্পূর্ণরূপে থমকে দাঁড়িয়ে দিশেহারা হয়ে গেছে; বরং তারা সেটির মূল সত্যের বিষয়ে এক গভীরতম ক্ষতিকর সন্দেহ ও সংশয়ের আবর্তে লিপ্ত রয়েছে; বরং তারা নিজেরা সেটির চাক্ষুষ বাস্তবতার সামনে সম্পূর্ণ অন্ধ, বিবেকহীন ও চিন্তাশক্তিহীন অবস্থায় নিমজ্জিত হয়ে আছে (Bal hum minhā 'amūn)।”


আয়াত ৬৭

وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَإِذَا كُنَّا تُرَابًا وَآبَاؤُنَا أَإِنَّا لَمُخْرَجُونَ

“আর যারা সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরেও তা আড়াল বা অস্বীকার করেছে, তারা (অজ্ঞ জড়বাদী দম্ভে) বলে: যখন আমরা এবং আমাদের সুদূর অতীতের প্রাচীন পিতৃপুরুষেরা মাটিতে বা নিস্প্রাণ উপাদানে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরায় এক নতুন বৈপ্লবিক উত্থান বা সজীব জীবনে বের করে আনা হবে (A-innā lamukhrajūn)?”


আয়াত ৬৮

لَقَدْ وُعِدْنَا هَٰذَا نَحْنُ وَآبَاؤُنَا مِن قَبْلُ إِنْ هَٰذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ

“নিশ্চয়ই এই একই ধরনের প্রতিশ্রুতির ভয় আমাদের এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের ইতিপূর্বেও অবিরত দেখানো হয়েছে; এগুলো তো সুদূর অতীতের প্রাচীন মানুষদের অন্ধ রূপকথা ও মনগড়া বানোয়াট উপাখ্যান ব্যতিরেকে আর কিছুই নয়!”


আয়াত ৬৯

قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ

“তুমি তাদের চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জে ঘোষণা করো: তোমরা এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে পরিভ্রমণ বা অতীত মানব ইতিহাসের বাস্তবতায় বুদ্ধিবৃত্তিক বিচরণ করো (Sīrū fil-ard), অতঃপর নিজেদের চোখ ও বিবেক দিয়ে গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করো—কেমন সুদূরপ্রসারী ও ভয়ঙ্কর ছিল সেইসব অপরাধী, স্বৈরাচারী ও সমাজ-বিধ্বংসী চক্রের চূড়ান্ত পরিণতি বা কুফল!”


আয়াত ৭০

وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُن فِي ضَيْقٍ مِّن مَّكْرِهِمْ

“সুতরাং তুমি তাদের সেই সত্য-বিমুখতা বা অবাধ্যতার কারণে বিন্দুমাত্র কোনো মনস্তাত্ত্বিক দুঃখ বা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ো না, এবং তারা যে সমস্ত সুক্ষ্ম চক্রান্ত বা কুটিল রাজনৈতিক চাল চালছে সেটির কারণে তোমার অন্তরের বক্ষপঞ্জর বা মানসিক ধারণক্ষমতাকে বিন্দুমাত্র সংকুচিত বা সংকীর্ণ কোরো না (Walā takun fī dayqim min makrihim)।”


আয়াত ৭১

وَقَالُوا مَتَىٰ هَٰذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

“অথচ তারা (উপহাসের সুরে) অবিরত বলে চলে: তোমরা যদি তোমাদের এই বৈপ্লবিক দাবিতে বিন্দুমাত্র পরম সত্যনিষ্ঠ ও সৎ হয়ে থাকো, তবে সেই প্রতিশ্রুত পরিবর্তনের মুহূর্ত বা ধ্বংসাত্মক পরিণতি কখন বাস্তবায়িত হবে?”


আয়াত ৭২

قُلْ عَسَىٰ أَن يَكُونَ رَدِفَ لَكُم بَعْضُ الَّذِي تَسْتَعْجِلُونَ

“তুমি তাদের চূড়ান্ত জবাবে বলে দাও: তোমরা নিজেদের দাম্ভিক অহংকারে যে ধ্বংসাত্মক পরিণতি বা সংকটকে দ্রুত তরান্বিত করতে চাইছ, সেটির কোনো একটি সুনির্দিষ্ট অংশ বা ভয়ঙ্কর কুফল হয়তো অলরেডি তোমাদের অস্তিত্বের ঠিক পেছনেই এসে থমকে দাঁড়িয়েছে (Radifa lakum ba'dullazī)!”


আয়াত ৭৩

وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ

“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সমগ্র মানবজাতির ওপর এক সুগভীর বিশেষ অনুগ্রহ, দয়া ও প্রগতির বিকাশ-উপাদানের অধিকারী (Lazū fadlin 'alān-nās), কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই এই সমস্ত নিয়ামতের সঠিক বাস্তব মূল্যায়ন বা কৃতজ্ঞতা বিন্দুমাত্র প্রকাশ করে না।”


আয়াত ৭৪

وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ

“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সুস্পষ্ঠ ও নিখুঁতভাবে জানেন—তারা তাদের ভেতরের গোপন চিন্তার বক্ষপঞ্জরে বা কায়েমি স্বার্থে কী ধরনের কুপরিকল্পনা গোপন করে রাখছে এবং তারা প্রকাশ্যে ও লৌকিকভাবে কী আদর্শ ঘোষণা করছে।”


আয়াত ৭৫

وَمَا مِنْ غَائِبَةٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ

“আর উচ্চ সুরক্ষামূলক মহাজাগতিক স্তরে কিংবা এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে এমন কোনো সুক্ষ্ম, অদৃশ্য বা সুদূরপ্রসারী গোপন তথ্য বা বাস্তবতা নেই, যা এক অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, সুশৃঙ্খল ও চাক্ষুষ সুরক্ষিত রেকর্ডের কিতাবে বা প্রাকৃতিক নিয়মের বিধিতে নিখুঁতভাবে নিবন্ধিত নয় (Illā fī Kitābim mubīn)।”


আয়াত ৭৬

إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَقُصُّ عَلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَكْثَرَ الَّذِي هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ

“নিশ্চয়ই পরম সত্যের এই সুবিন্যস্ত ঐশী রূপরেখা বা কুরআন বনী ইসরাইলের (অর্থাৎ সেই সুসংগত আইনি সমাজের) সামনে অত্যন্ত নিখুঁত ও চাক্ষুষভাবে বর্ণনা ও মীমাংসা করে দেয় (Yaqussu 'alā banī Isrā'īl)—সেই সমস্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনি বিষয়ের অধিকাংশ ভাগ, যা নিয়ে তারা নিজেরা চরম মতবিরোধ, বিভেদ ও উপদলীয় কোন্দলে লিপ্ত রয়েছে।”


আয়াত ৭৭

وَإِنَّهُ لَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ

“আর নিশ্চয়ই এই কิตাব হলো এক পরম সঠিক পথনির্দেশ বা হিদায়াত এবং এক অফুরন্ত লালন-অনুকম্পা ও রহমত সেইসব মানুষের জন্য—যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে পরম মানসিক শান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে (Lilmū'minīn)।”


আয়াত ৭৮

إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُم بِحُكْمِهِ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ

“নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক (তাঁর প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়মের অমোঘ ধারায়) তাদের সবার মাঝে তাঁর অকাট্য শাসনতান্ত্রিক প্রজ্ঞা ও চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে নিখুঁত মীমাংসা জারি করবেন (Yaqdī baynahum bi-hukmihī); আর তিনি হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং সর্ববিষয়ে নিখুঁত পরিজ্ঞাত।”


আয়াত ৭৯

فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۖ إِنَّكَ عَلَى الْحَقِّ الْمُبِينِ

“সুতরাং তুমি পূর্ণ সাংগঠনিক ভরসা, আস্থা ও সমর্পণ করো একমাত্র আল্লাহর চিরন্তন নিয়ম-ব্যবস্থার ওপর (Fatawakkal 'alallāh); নিশ্চয়ই তুমি এক অত্যন্ত সুস্পষ্ট, চাক্ষুষ ও অকাট্য বাস্তব সত্যের ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত আছ ('Alal-haqqil-mubīn)।”


আয়াত ৮০

إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَىٰ وَلَا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَاءَ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ

“নিশ্চয়ই তুমি কোনো অবস্থাতেই (তোমার নিজের ক্ষমতায়) এমন কোনো সমাজকে কিতাবের বাণী নিবিড়ভাবে শোনাতে পারো না—যার বুদ্ধিবৃত্তি ও বিবেক সম্পূর্ণ মৃত ও নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে (Lā tusmi'ul-mawtā), এবং তুমি সেইসব বধিরদেরও পরম সত্যের আহ্বান শোনাতে পারো না—যখন তারা অহংকারবশত সত্যের দিকে নিজেদের পিঠ ফিরিয়ে উলটো পথে পালিয়ে যায়।”


আয়াত ৮১

وَمَا أَنتَ بِهَادِي الْعُمْيِ عَن ضَلَالَتِهِمْ ۖ إِن تُسْمِعُ إِلَّا مَن يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا فَهُم مُّسْلِمُونَ

“আর তুমি নিজের মনগড়া চেষ্টায় কোনো এমন অন্ধ ও বিবেকহীনদের তাদের সেই চরম পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে সঠিক পথ দেখাতে পারো না; তুমি তো কেবল তাকেই কিতাবের বাণী নিবিড়ভাবে শোনাতে পারো—যে পরম আন্তরিকতার সাথে আমার অকাট্য বিধি-বিধান ও নিদর্শনসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে, অতঃপর তারাই শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে আল্লাহর আইনের সামনে নিজেদের সম্পূর্ণ সমর্পণ করে (Fahum muslimūn)।”


আয়াত ৮২

وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِّن─ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ

“আর যখনই (তাদের অবাধ্যতার চরম সীমায়) তাদের ওপর আমার অবধারিত ডিক্রি বা ধ্বংসাত্মক পরিণতির বাণী সুনিশ্চিত হয়ে আপতিত হয় (Wa izā waqa'al-qawlu 'alayhim), তখন আমি তাদের নিজেদেরই সমাজ-ক্ষেত্র বা মাটি থেকে বের করে আনি অত্যন্ত শক্তিশালী, সচল ও গতিশীল এক শাসনতান্ত্রিক চালিকাশক্তি বা মানবীয় উপাদান (Dābbatam minal-ard), যা তাদের সামনে এক অত্যন্ত কঠোর ও চাক্ষুষ বাস্তব ভাষায় কথা বলে ও আঘাত করে—এই চরম সত্যের ভিত্তিতে যে, সাধারণ মানুষ আমার অকাট্য বিধি-বিধান ও নিদর্শনসমূহের প্রতি বিন্দুমাত্র কোনো সুদৃঢ় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রত্যয় অর্জন করেনি।”

Keywords:

  • دَابَّةً (Dābbah): আক্ষরিক কোনো অলৌকিক কিয়ামতের দানব বা চারপেয়ে জন্তু নয়, বরং আরবি ধাতুমূল (দ-ব-ব = ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া বা অত্যন্ত সচল হওয়া) অনুযায়ী এটি আল্লাহর প্রাকৃতিক নিয়মে সমাজ-ক্ষেত্রের গভীর থেকে উঠে আসা অত্যন্ত সচল, গতিশীল ও পরাক্রমশালী বিপ্লবী চালিকাশক্তি বা শাসনতান্ত্রিক ডিক্রি যা দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজকে আঘাত করে চূর্ণ করে দেয়।

আয়াত ৮৩

وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٍ فَوْجًا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِآيَاتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ

“আর সেই সুনির্দিষ্ট বৈপ্লবিক রূপান্তরের দিনে আমি প্রতিটি মনগড়া আদর্শিক সমাজ বা মানবগোষ্ঠী থেকে (Min kulli ummatin) এক একটি শক্তিশালী দাম্ভিক উপদল বা সিন্ডিকেটকে একসাথে জড়ো করব—যারা আমার অকাট্য বিধি-বিধান ও নিদর্শনসমূহকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দিত, অতঃপর তাদের সবাইকে কঠোর আইনি শৃঙ্খলার অধীনে কঠোরভাবে বিন্যস্ত ও সারিবদ্ধ করা হবে (Fahum yūza'ūn)।”

Keywords:

  • يُوزَعُونَ (Yūza’ūn): কোনো বিশৃঙ্খল জনতাকে কঠোর আইনি শৃঙ্খলার ডিক্রি দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিন্যস্ত, সারিবদ্ধ ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা (ধাতুমূল: ও-জ-অ = সংযত বা বিন্যস্ত করা)।

আয়াত ৮৪

حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوا قَالَ أَكَذَّبْتُم بِآيَاتِي وَلَمْ تُحِيطُوا بِهَا عِلْمًا أَمَّاذَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

“যতক্ষণ না যখন তারা সেই চূড়ান্ত বিচারের আইনি কাঠামোর সামনে উপস্থিত হবে, তখন আমার অমোঘ শাসনতান্ত্রিক ফায়সালায় তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে: তোমরা কি বিন্দুমাত্র নিজেদের বাস্তব জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দ্বারা পরিবেষ্টন না করেই আমার অকাট্য বিধি-বিধান ও নিদর্শনসমূহকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দিয়েছিলে? নাকি তোমরা আসলে নিজেদের কায়েমি স্বার্থে কী জঘন্য কর্ম সম্পাদন করছিলে?”


আয়াত ৮৫

وَوَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِم بِمَا ظَلَمُوا فَهُمْ لَا يَنطِقُونَ

“আর তারা যে চরম ভারসাম্যহীন অন্যায় ও জুলুমের অবধারিত পথ অবলম্বন করেছিল, সেটির কুফলে তাদের ওপর আমার চূড়ান্ত ডিক্রি বা ধ্বংসাত্মক পরিণতি সুনিশ্চিত হয়ে আপতিত হলো; ফলে তারা বিন্দুমাত্র কোনো অসার অজুহাত বা কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেল।”


আয়াত ৮৬

أَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا اللَّيْلَ لِيَسْكُنُوا فِيهِ وَالنَّهارَ مُبْصِرًا ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

“তবে কি তারা বিন্দুমাত্র চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে লক্ষ্য করে দেখেনি—আমি অন্ধকার রাতকে করেছি তাদের সাময়িক নিষ্ক্রিয়তা ও মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিশীলতার জন্য, এবং কর্মব্যস্ত দিনকে করেছি অত্যন্ত চাক্ষুষ, প্রগাঢ় অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ও কর্মতৎপরতার ক্ষেত্র? নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ এমন এক জাতির জন্য—যারা পরম সত্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে।”


আয়াত ৮৭

وَيَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَفَزِعَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ۚ وَكُلٌّ أَتَوْهُ دَاخِرِينَ

“আর সেই দিন, যখন সমাজে কিতাবের পরম সত্যের বৈপ্লবিক বিগিল ফুঁকে দেওয়া হবে (Yunfakhu fis-Sūri), তখন উচ্চ সুরক্ষামূলক ক্ষমতার স্তরে এবং এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে থাকা প্রতিটি কায়েমি অপশক্তি এক চরম মহাত্রাস, আতঙ্ক ও ওলটপালটের মুখোমুখি হবে—তবে সে ব্যতীত যাকে আল্লাহ (তাঁর নিয়মের অমোঘ ঢালে) সুরক্ষায় রাখতে চান; আর প্রতিটি চালিকাশক্তি বা উপদল চূড়ান্ত লাঞ্ছনা, বশ্যতা ও চরম অপদস্থ অবস্থায় তাঁর আইনের সামনে এসে উপস্থিত হতে বাধ্য হবে (Wakullun atawhu dākhirīn)।”

Keywords:

  • دَاخِرِينَ (Dākhirīn): চরম লাঞ্ছিত, অহংকার চূর্ণ হওয়া এবং নিরুপায় হয়ে সম্পূর্ণ মাথা নিচু করে চূড়ান্ত আইনি বশ্যতা স্বীকার করার অত্যন্ত অসহায় অবস্থা।

আয়াত ৮৮

وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ ۚ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ ۚ إِنَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَفْعَلُونَ

“আর তুমি সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত পর্বতসদৃশ কায়েমি স্বার্থের শক্তিশালী স্তম্ভ বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রত্যক্ষ করছ এবং নিজের মনে সেগুলোকে অত্যন্ত অটল, স্থায়ী ও নিরেট নিশ্চল ভাবছ (Tahsabuhā jāmidatan), অথচ ওলটপালটের সেই বৈপ্লবিক দিনে সেগুলো ধাবিত ও সম্পূর্ণরূপে উড়ে বিলীন হয়ে যাবে—ঠিক যেভাবে আকাশের মেঘমালা ভেসে উড়ে চলে যায়! এটিই হলো আল্লাহর তৈরি করা সেই অমোঘ মহাজাগতিক ও সামাজিক গঠনশৈলী—যিনি মহাবিশ্বের প্রতিটি সত্তা ও উপাদানকে এক অত্যন্ত সুদৃঢ়, নিখুঁত ও অকাট্য নিয়মে সুবিন্যস্ত করেছেন (Atqana kulla sha'i); নিশ্চয়ই তোমরা নিজেরা যা কিছু কর্ম সম্পাদন করছ, সে সম্পর্কে তিনি সম্যক পরিজ্ঞাত।”


আয়াত ৮৯

مَن جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِّنْهَا وَهُم مِّن فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ

“যে কেউ (এই বৈপ্লবিক ওলটপালটের ময়দানে) সুষম কল্যাণ, আত্মসংশোধন ও গঠনমূলক কর্ম সম্পাদন করে উপস্থিত হবে, তার জন্য অবধারিত রয়েছে সেটির চেয়েও সুউচ্চ স্থায়ী কল্যাণ ও সর্বোত্তম প্রতিদান; আর তারা সেই সুনির্দিষ্ট মহা-আতঙ্ক ও ওলটপালটের দিনে সম্পূর্ণ নিরাপদ, শান্ত ও পরম সুরক্ষায় সমাসীন থাকবে (Āminūn)।”


আয়াত ৯০

وَمَن جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

“আর যে কেউ উপস্থিত হবে সর্বপ্রকার মন্দ, অন্যায় ও বিকৃতির নেতিবাচক অপকর্মের বোঝা নিয়ে, সেটির অবধারিত ফল হিসেবে তাদের সেই সমস্ত বাহ্যিক দাপট, অহংকার ও মর্যাদা প্রকাশের অভিব্যক্তিকে উপুড় করে আছাড় মেরে নিক্ষেপ করা হবে সেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দহনের আগুনের লেলিহান শিখায়; (তাদের চরম লাঞ্ছনায় বলা হবে:) তোমরা অতীত জীবনে বাস্তবে যা কিছু কামাই বা সম্পাদন করতে, তা ব্যতিরেকে কি আজ অন্য কোনো কিছুর অবধারিত প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হচ্ছে?”


আয়াত ৯১

إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَٰذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَهَا وَلَهُ كُلُّ شَيْءٍ ۖ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ

“(তুমি বাণীবাহক হিসেবে ঘোষণা করে দাও:) আমাকে তো কেবল এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে—আমি যেন একনিষ্ঠভাবে দাসত্ব ও অনুশাসন কার্যকর করি এই পরম নিরাপদ ও পবিত্র সমাজ-ক্ষেত্রের লালনকর্তা ও প্রতিপালকের (Rabba hāzihil-baldah), যিনি নিজের কিতাবের আইনে একে সর্বপ্রকার বিকৃতি ও অন্যায় থেকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও পবিত্র করেছেন, আর মহাবিশ্বের প্রতিটি সত্তা ও উপাদানের চূড়ান্ত মালিকানা কেবল তাঁরই এখতিয়ারে; এবং আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যাতে আমি শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তাঁরই সুউচ্চ আইনের সামনে নিজের সম্পূর্ণ সমর্পণকারীদের প্রথম সারির অন্তর্ভুক্ত হই,”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *