| SURAH 26 : Ash-Shu’arâ’ |
আয়াত ১
طسم
“ত্বা, সীন, মীম (আল্লাহর কিতাবের সুনির্দিষ্ট সুবিন্যস্ত সংকেত বা আইনি অনুশাসনের মূল চালিকাশক্তি ও মনস্তাত্ত্বিক চাবিকাঠি)।”
আয়াত ২
تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ
“এগুলো হলো অত্যন্ত সুবিন্যস্ত, প্রকাশ্য ও অकाট্য বিধি-বিধানের নিদর্শন সংবলিত এক সুস্পষ্ট কিতাবের বাণী (Āyātul-Kitābil-Mubīn)।”
আয়াত ৩
لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ
“(হে বাণীবাহক!) তারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করছে না বলে তুমি কি নিজের সত্তাকে মনস্তাত্ত্বিক দহনে ও ক্ষোভে ধ্বংস করে ফেলবে (La'allaka bākhi'un nafsaka)?”
আয়াত ৪
إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ السَّمَاءِ آيَةً فَظَلَّتْ أَعْنَاقُهُمْ لَهَا خَاضِعِينَ
“আমি যদি আমার সুনির্দিষ্ট নিয়মে ইচ্ছা করতাম, তবে উচ্চ সুরক্ষার স্তর থেকে তাদের ওপর এমন এক অমোঘ চাক্ষুষ নিদর্শন বা বিপর্যয় অবতীর্ণ করতে পারতাম, যার ফলে তাদের সমস্ত দাম্ভিক ঘাড় বা নেতৃত্ব সেটির সামনে চিরতরে নত ও পরাভূত হয়ে যেত।”
আয়াত ৫
وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّنَ الرَّحْمَٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا عَنْهُ مُعْرِضِينَ
“অথচ যখনই পরম দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো নতুন রূপরেখা, শাসনতান্ত্রিক চেতনা বা পরম স্মরণিকা তাদের চিন্তায় জাগ্রত করা হয় (Min zikrim minar-Rahmāni), তখনই তারা অহংকারবশত সেটিকে অগ্রাহ্য করে মুখ ফিরিয়ে নেয়।”
আয়াত ৬
فَقَدْ كَذَّبُوا فَسَيَأْتِيهِمْ أَنبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
“যেহেতু তারা পরম সত্যকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দিয়েছে, সুতরাং খুব শীঘ্রই তাদের সামনে চাক্ষুষভাবে নেমে আসবে তাদের সেই উপহাস ও অবজ্ঞার অবধারিত ও ভয়ঙ্কর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক পরিণতিসমূহ (Anbā'u mā kānū bihī yastahzi'ūn)।”
আয়াত ৭
أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الْأَرْضِ كَمْ أَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ
“তবে কি তারা এই বাস্তব পৃথিবী বা সমাজ-ক্ষেত্রের দিকে বিন্দুমাত্র চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে লক্ষ্য করে দেখেনি—আমি এর মধ্যে সর্বপ্রকার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, জোড়ায় জোড়ায় সজীব ও ফলপ্রসূ উপাদান উৎপাদন করে সমাজকে বিকসিত করেছি?”
আয়াত ৮
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
“নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ; অথচ তাদের অধিকাংশ মানুষই বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার মানসিকতা রাখে না।”
আয়াত ৯
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু ও বিবর্তনমূলক লালন-ব্যবস্থার মালিক (Al-'Azīzur-Rahīm)।”
আয়াত ১০
وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰ أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
“এবং স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে (তার ভেতরের চেতনায়) তীব্র ডিক্রির আহ্বান করেছিলেন—তুমি অবিলম্বে ধাবিত হও সেই চরম ভারসাম্যহীন, অন্যায়কারী ও জালিম জাতির বিরুদ্ধে—”
আয়াত ১১
قَوْمَ فِرْعَوْنَ ۚ أَلَا يَتَّقُونَ
“—তা হলো ফেরাউনের সেই স্বৈরাচারী শোষক সমাজ; তারা কি বিন্দুমাত্র সুরক্ষামূলক সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করবে না?”
আয়াত ১২
قَالَ رَبِّ إِنِّي أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ
“সে বলেছিল: হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমি এই আশঙ্কা বোধ করছি যে, (আমি সত্য উপস্থাপন করার সাথে সাথেই) তারা আমাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দেবে,”
আয়াত ১৩
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسَلْ إلىٰ هَارُونَ
“—এবং আমার ভেতরের গোপন চিন্তার বক্ষপঞ্জর বা মানসিক ধারণক্ষমতা অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সংকুচিত হয়ে পড়বে (Wayadīqu sadrī) এবং আমার সত্য প্রকাশের প্রচারশৈলী ও কণ্ঠস্বর স্বতঃস্ফূর্তভাবে সচল হবে না; সুতরাং তুমি হারূনের প্রতিও এই বৈপ্লবিক বাণীর ডিক্রি প্রেরণ করো,”
আয়াত ১৪
وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنبٌ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ
“—এবং আমার বিরুদ্ধে তাদের এক সুনির্দিষ্ট আইনি অভিযোগ বা অপরাধের বোঝা রয়েছে, যার কারণে আমি ভয় পাচ্ছি যে তারা (সুযোগ পেলেই) আমাকে সাংগঠনিকভাবে বা শারীরিকভাবে হত্যা বা ধ্বংস করে ফেলবে।”
আয়াত ১৫
قَالَ كَلَّا ۖ فَاذْهَبَا بِآيَاتِنَا ۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ
“ঘোষणा হলো: কখনই নয়! তোমরা উভয়েই আমার সুস্পষ্ট আয়াত ও অকাট্য বিধি-বিধানের নিদর্শনসমূহ নিয়ে ধাবিত হও (Fazhabā bi-āyātinā); নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সাথে থেকে প্রতিপক্ষের প্রতিটি মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চালচলন নিখুঁতভাবে অবধান করছি।”
আয়াত ১৬
فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَا إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“সুতরাং তোমরা উভয়ে ফেরাউনের সেই ক্ষমতার কেন্দ্রের মুখোমুখি হও এবং সুস্পষ্ঠভাবে জানিয়ে দাও: নিশ্চয়ই আমরা সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত সুনির্দিষ্ট বাণীবাহক—”
আয়াত ১৭
أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ
“—এই মর্মে যে, তুমি অবিলম্বে বনী ইসরাইলকে (আমাদের সেই সুসংগত আইনি সমাজকে) আমাদের সাথে মুক্ত করে ছেড়ে দাও।”
আয়াত ১৮
قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ
“সে (ফেরাউন দাম্ভিক উপহাসে) বলেছিল: আমি কি তোমাকে আমাদের এই রাজকীয় ব্যবস্থার ভেতরে এক অতি ক্ষুদ্র নবজাতক হিসেবে লালন-পালন করিনি (Alam nurabbika fīnā valīdā), এবং তুমি কি তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের এই সমাজ কাঠামোর ভেতরেই অতিবাহিত করোনি?”
আয়াত ১৯
وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِي فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ الْكَافِرِينَ
“অথচ তুমি তোমার সেই জঘন্য কাণ্ডটি ঘটিয়েই বসলে যা তুমি ঘটিয়েছিলে, আর তুমি তো মূলত এক চরম অকৃতজ্ঞ ও সত্য গোপনকারী অপশক্তি (Wa anta minal-kāfirīn)!”
আয়াত ২০
قَالَ فَعَلْتُهَا إِذًا وَأَنَا مِنَ الضَّالِّينَ
“মূসা বলেছিল: আমি যখন সেই কাজটি করেছিলাম, তখন আমি নিজেই এক অত্যন্ত বিভ্রান্ত, দিশেহারা ও সঠিক লক্ষ্যহীন পথভ্রষ্ট অবস্থায় ছিলাম (Wa ana minad-dāllīn),”
আয়াত ২১
فَفَرَرْتُ مِنْكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِي رَبِّي حُكْمًا وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُرْسَلِينَ
“—অতঃপর আমি যখনই আপনাদের সেই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার ক্ষতির আশঙ্কা করলাম, তখনই আমি আপনাদের সম্মুখ থেকে দূরে অবস্থান নিলাম; অতঃপর আমার প্রতিপালক আমাকে দান করলেন চূড়ান্ত আইনি প্রজ্ঞা ও শাসনক্ষমতা (Fawahaba lī Rabbī Hukmā) এবং আমাকে তাঁর সুনির্দিষ্ট বাণীবাহকদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।”
আয়াত ২২
وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَيَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ
“আর আপনি আমার ওপর আপনার সেই লালন-পালনের যে বিশেষ অনুগ্রহের খোঁটা দিচ্ছেন (Tilka ni'matun tamunnuhā 'alayya), তা তো কেবল এই জঘন্য বাস্তবতার কারণে যে—আপনি বনী ইসরাইলের সমগ্র মানবসমাজকে নিজেদের মনগড়া আইনের দাস ও গোলাম বানিয়ে রেখেছিলেন (An 'abbadtta banī Isrā'īl)!”
আয়াত ২৩
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ
“ফেরাউন (চরম ঔদ্ধত্যে) বলল: এই বিশ্ববাসীর প্রতিপালক বা লালনকর্তা আবার কে বা কী?”
আয়াত ২৪
قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ
“মূসা বলেছিল: তিনি হলেন উচ্চ সুরক্ষামূলক স্তরসমূহের, এই বাস্তব পৃথিবীর এবং এই দুইয়ের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুর একমাত্র লালনকর্তা ও আসল বিধানদাতা, যদি তোমরা কিতাবের প্রমাণের শক্তিতে বিন্দুমাত্র সুদৃঢ় প্রত্যয় অর্জন করতে চাও (In kuntum mūqinīn)।”
আয়াত ২৫
قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ
“সে (ফেরাউন) তার চারপাশের এলিট পরিষদ বা সাঙ্গোপাঙ্গদের বলল: তোমরা কি এই ব্যক্তির অবান্তর কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনছ না?”
আয়াত ২৬
قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ
“মূসা বলল: তিনি তোমাদেরও প্রতিপালক এবং তোমাদের সুদূর অতীতের প্রাচীন পিতৃপুরুষদেরও একমাত্র লালনকর্তা ও বিধানদাতা।”
আয়াত ২৭
قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ
“ফেরাউন (জনগণকে বিভ্রান্ত করতে) বলল: নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে প্রেরিত তোমাদের এই বাণীবাহকটি এক চরম মনস্তাত্ত্বিক উগ্রতা, ভারসাম্যহীনতা ও উন্মাদনায় আক্রান্ত পাগলের মতো আচরণ করছে (Lamajnūn)!”
আয়াত ২৮
قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ
“মূসা বলল: তিনি সমস্ত চেতনার উন্মেষ ও আলোর উৎসের (প্রাচ্যের) এবং সমস্ত অজ্ঞতার অন্ধকার ও পতনের খাদের (প্রতীচ্যের) এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর লালনকর্তা, যদি তোমরা বিন্দুমাত্র নিজের বুদ্ধিবৃত্তি ও যৌক্তিক কার্যকারণকে কাজে লাগাতে (In kuntum ta'qilūn)!”
আয়াত ২৯
قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَٰهًا غَيْرِي لأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ
“ফেরাউন (তীব্র আইনি হুমকি দিয়ে) বলল: যদি তুমি আমি ব্যতিরেকে অন্য কাউকে নিজের চূড়ান্ত আইনদাতা ও উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে সেইসব বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত করব যাদের সমাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় ও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে (Lā-aj'alannaka minal-masjūnīn)।”
আয়াত ৩০
قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُّبِينٍ
“মূসা বলেছিল: আমি যদি আপনার সামনে এক অত্যন্ত সুস্পষ্ট, চাক্ষুষ ও অকাট্য বাস্তব প্রমাণ নিয়ে হাজির হই, তবুও কি আপনি এই দমননীতি চালাবেন?”
আয়াত ৩১
قَالَ فَأْتِ بِهِ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
“ফেরাউন বলল: তবে তুমি অবিলম্বে সেটিকে উপস্থাপন করো, যদি তুমি তোমার দাবিতে পরম সত্যনিষ্ঠ ও সৎ হয়ে থাকো।”
আয়াত ৩২
فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُّبِينٌ
“অতঃপর সে মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে তার সেই সুদৃঢ় আদর্শিক লাঠি বা রূপরেখাকে কার্যকর বা নিক্ষেপ করল (Fa-alqā 'asāhu), অমনি তা প্রতিপক্ষের চক্রান্তের জাল ছিন্নভিন্ন করতে এক সুস্পষ্ট, বিশাল ও ভয়ঙ্কর অজগর বা প্রকাশ্য শক্তিতে রূপ নিল (Fa-izā hiya su'bānum mubīn)।”
Keywords:
- عَصَاهُ (‘Asāhu): আক্ষরিক কাঠের লাঠি নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া সেই সুদৃঢ় আইনি রূপরেখা, শাসনতান্ত্রিক সংবিধান বা সাংগঠনিক শক্তি যা কোনো আন্দোলনের মূল স্তম্ভ।
- ثُعْبَانٌ (Su’bān): আক্ষরিক সাপ নয়, বরং অকাট্য যুক্তির এমন এক সুসংগত ও বিশাল প্রবহমান শক্তি যা প্রতিপক্ষের সমস্ত অবান্তর অপদর্শনকে গিলে ফেলে।
আয়াত ৩৩
وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ
“এবং সে তার সেই সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক ক্ষমতা বা হাতকে সর্বপ্রকার ক্ষমতার লোভ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে চাক্ষুষভাবে তুলে ধরল (Wa naza'a yadahu), অমনি তা দর্শকদের অন্তর্দৃষ্টির সামনে এক সর্বপ্রকার পঙ্কিলতামুক্ত অত্যন্ত শুভ্র, উজ্জ্বল ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী রূপ ধারণ করল (Fa-izā hiya baydā'u lin-nāzirīn)।”
Keywords:
- يَدَهُ (Yadahu): আক্ষরিক হাত নয়, বরং কোনো আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট কার্যনির্বাহী ক্ষমতা, সাংগঠনিক শক্তি বা প্রশাসনিক প্রভাব।
- بَيْضَاءُ (Baydā’u): আক্ষরিক সাদা রঙ নয়, বরং সর্বপ্রকার দুর্নীতি, স্বার্থপরতা ও পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত অত্যন্ত স্বচ্ছ, উজ্জ্বল ও নিখুঁত জনকল্যাণমূলক রূপরেখা।
আয়াত ৩৪
قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُ إِنَّ هَٰذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ
“সে (ফেরাউন) তার চারপাশের এলিট কাউন্সিল বা সাঙ্গোপাঙ্গদের বলল: নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি এক অত্যন্ত সুক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল, প্রোপাগান্ডা ও মোহাচ্ছন্নতা সৃষ্টিতে পারদর্শী সম্যক পরিজ্ঞাত এক জাদুকর (Lasāhirun 'alīm)!”
আয়াত ৩৫
يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ
“সে তার এই মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল ও বিভ্রান্তির দাপটে তোমাদেরকে তোমাদের নিজস্ব সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সামাজিক ক্ষেত্র থেকে সম্পূর্ণরূপে বহিষ্কার করতে চায়; সুতরাং এখন তোমরা আমাকে কী সাংগঠনিক পরামর্শ দিচ্ছ?”
আয়াত ৩৬
قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَابْعَثْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ
“তারা বলেছিল: আপনি একে এবং এর ভাইকে সাময়িকভাবে কোনো অ্যাকশন না নিয়ে ঝুলিয়ে রাখুন, এবং আপনি বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক শহর ও অঞ্চলসমূহে অত্যন্ত সুকৌশলে মানুষকে জড়ো করার জন্য একদল সংগঠক প্রেরণ করুন—”
আয়াত ৩৭
يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ
“—যাতে তারা আপনার ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে সর্বপ্রকার সুক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল ও প্রোপাগান্ডা তৈরিতে পারদর্শী সম্যক পরিজ্ঞাত একেকজন জাদুকর বা এলিট বুদ্ধিজীবী।”
আয়াত ৩৮
فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِيقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
“অতঃপর সেই সুক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল ও বিভ্রান্তি তৈরিতে পারদর্শী জাদুকরদের এক পূর্বনির্ধারিত সুনির্দিষ্ট দিন ও সন্ধিক্ষণের ফায়সালা করার জন্য একত্রিত করা হলো (Limīqāti yawmim ma'lūm)।”
আয়াত ৩৯
وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ
“এবং সাধারণ সাধারণ জনসাধারণের মাঝে প্রকাশ্য নোটিশ জারি করে বলা হলো: তোমরা সবাই কি এই অকাট্য দ্বন্দের ফলাফল চাক্ষুষ দেখতে এই মহাসভায় একত্রিত হচ্ছ?”
আয়াত ৪০
لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةُ إِن كَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ
“যাতে আমরা সবাই সেই জাদুকর বা প্রোপাগান্ডাবাজ এলিটদের মনগড়া দর্শনেরই নিখুঁত অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা ইব্রাহীমের এই নতুন আদর্শের ওপর চূড়ান্তভাবে বিজয়ী বা আধিপত্যশালী হতে পারে!”
আয়াত ৪১
فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالُوا لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ
“অতঃপর যখন সেই মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল তৈরিতে পারদর্শী জাদুকরেরা ময়দানে এলো, তখন তারা ফেরাউনকে লক্ষ্য করে বলল: আমরা যদি চূড়ান্তভাবে বিজয়ী বা আধিপত্যশালী হতে পারি, তবে আমাদের জন্য কি সুনির্দিষ্ট কোনো বড় বৈষয়িক পুরস্কার, প্রমোশন বা রাজকীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা হবে?”
আয়াত ৪২
قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًا لَّمِنَ الْمُقَرَّبِينَ
“সে (ফেরাউন) বলল: হ্যাঁ, অবশ্যই! এবং সেই সন্ধিক্ষণে তোমরা নিশ্চিতভাবেই আমার অত্যন্ত নিকটবর্তী এলিট কাউন্সিল ও উচ্চ দরবারের বিশেষ পাত্রে পরিণত হবে।”
আয়াত ৪৩
قَالَ لَهُم مُّوسَىٰ أَلْقُوا مَا أَنتُم مُّلْقُونَ
“মূসা তাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলল: তোমরা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে যা কিছু নিক্ষেপ বা কার্যকর করতে চাও, তা অবিলম্বে কার্যকর করো!”
আয়াত ৪৪
فَأَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ
“অতঃপর তারা সমাজে মনস্তাত্ত্বিক মোহাচ্ছন্নতা ছড়াতে তাদের তৈরি করা সমস্ত অপদর্শনের জাল, রজ্জু ও তাদের মনগড়া আইনি লাঠিসমূহ নিক্ষেপ বা কার্যকর করল (Fa-alqaw hibālahum wa 'asiyyahum) এবং তারা চিৎকার করে বলল: ফেরাউনের দেওয়া সুউচ্চ ক্ষমতা, মর্যাদা ও সুরক্ষার কসম, আমরাই নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত বিজয়ী হতে যাচ্ছি!”
আয়াত ৪৫
فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ
“অতঃপর মূসা মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে তার সেই সুদৃঢ় ঐশী রূপরেখা ও প্রকৃত আইনি লাঠি বা সংবিধানকে কার্যকর বা নিক্ষেপ করল, অমনি তা এক নিমেষেই গ্রাস ও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিল তারা যে সমস্ত জঘন্য মনগড়া মিথ্যা, বিভ্রান্তি ও বিকৃতির জাল বুনেছিল (Talqafu mā ya'fikūn)।”
আয়াত ৪৬
فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ
“তখন সেই সুক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল ও প্রোপাগান্ডা তৈরিতে পারদর্শী জাদুকরেরা সত্যের এই অকাট্য রূপ দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহর বিধানের সামনে সেজদাবনত হয়ে পড়ল (Fa-ulqiyas-saharatu sājidīn)।”
আয়াত ৪৭
قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ
“তারা (দাম্ভিক ফেরাউনের ক্ষমতার তোয়াক্কা না করে) ঘোষণা করল: আমরা সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালকের বিধিবদ্ধ আইনের প্রতি পূর্ণ মানসিক শান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করলাম—”
আয়াত ৪৮
رَبِّ مُوسَىٰ وَهَارُونَ
“—যিনি মূসা এবং হারূনেরও একমাত্র লালনকর্তা ও চূড়ান্ত আইনি বিধানদাতা।”
আয়াত ৪৯
قَالَ آمَنتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ ۖ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ
“ফেরাউন (চরম সাংগঠনিক ক্ষোভে ও দম্ভে) বলল: আমি তোমাদেরকে কোনো অফিশিয়াল ডিক্রি বা আইনি অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তোমরা এর আদর্শের প্রতি ইমান নিয়ে এলে? নিশ্চয়ই এ-ই হলো তোমাদের সেই প্রধান বা গুরু—যে তোমাদেরকে এই মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল ও জাদুর চক্রান্ত শিক্ষা দিয়েছে; সুতরাং তোমরা খুব শীঘ্রই এর অবধারিত পরিণতি জানতে পারবে; আমি অবশ্যই তোমাদের সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক ক্ষমতা বা হাত এবং তোমাদের চলার গতি বা পা বিপরীত দিক থেকে সম্পূর্ণরূপে কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেব এবং আমি তোমাদের সবাইকে ফাঁসি কাঠে বা গাছে ঝুলিয়ে সমাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করে চরম শাস্তি দেব!”
আয়াত ৫০
قَالُوا لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
“তারা বলেছিল: আমাদের বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি বা পরোয়া নেই; নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের বিধিবদ্ধ বিচারের অমোঘ নিয়মের দিকেই চূড়ান্তভাবে ধাবিত ও বিবর্তিত হচ্ছি।”
য়াত ৫১
إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَايَانَا أَن كُنَّا أَوَّلَ الْمُؤْمِنِينَ
“নিশ্চয়ই আমরা এই সুগভীর আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পোষণ করি যে—আমাদের প্রতিপালক আমাদের অতীত জীবনের সমস্ত সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ত্রুটির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের পরম সুরক্ষার ঢাল বা মার্জনা দান করবেন (An yaghfira lanā Rabbunā khatāyānā), যেহেতু আমরাই প্রথম তাঁর এই অকাট্য সত্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি।”
আয়াত ৫২
وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِي إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ
“এবং আমি মূসার প্রতি এই মর্মে তীব্র বার্তা ও আইনি ডিক্রি জারি করেছিলাম (Awhaynā ilā Mūsā)—তুমি আমার অনুগত দাসদের বা মানবসমাজকে নিয়ে রাতের আঁধারে বা অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বের হওয়ার যাত্রা শুরু করো; নিশ্চয়ই প্রতিপক্ষের শোষক বাহিনী তোমাদের তাড়া করবে ও তোমাদের আদর্শিক পথ অনুসরণ করবে।”
আয়াত ৫৩
فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ
“অতঃপর ফেরাউন (বনী ইসরাইলের এই যাত্রার সংবাদ পেয়ে) বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক শহর ও অঞ্চলসমূহে অত্যন্ত সুকৌশলে মানুষকে একত্রিত করার জন্য এবং তার সৈন্যসামন্ত জড়ো করার জন্য একদল সংগঠক বা ঘোষক প্রেরণ করল—”
আয়াত ৫৪
إِنَّ هَٰذُلَاءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ
“—এই মর্মে যে: নিশ্চয়ই এই যে বনী ইসরাইলের দল বা সুসংগত আইনি সমাজ, এরা তো সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য এবং একটি বিচ্ছিন্ন অতি ক্ষুদ্র একদল যাযাবর উপদল ব্যতিরেকে আর কিছুই নয়,”
আয়াত ৫৫
وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَائِظُونَ
“—এবং নিশ্চয়ই তারা আমাদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক চরম ক্ষোভ, অসন্তোষ ও অবাধ্যতা তৈরি করে চলেছে,”
আয়াত ৫৬
وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَاذِرُونَ
“—অথচ আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে সর্বদা সুরক্ষামূলক সতর্ক, সুশৃঙ্খল এবং যেকোনো সংকটের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জাগ্রত ও সদা প্রস্তুত এক পরাক্রমশালী জাতি।”
আয়াত ৫৭
فَأَخْرَجْنَاهُم مِّن جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
“সেটির অবধারিত ফল হিসেবে আমি (আমার প্রাকৃতিক নিয়মে ফেরাউনের পুরো ব্যবস্থাকে) তাদের নিজেদেরই ভোগকৃত সেই সমস্ত প্রাচুর্যময় পরম সুখের বাগান এবং জ্ঞান ও সম্পদের সচল উৎসসমূহ থেকে সম্পূর্ণরূপে বের বা উচ্ছেদ করে দিলাম (Fa-akhrajnāhum min jannātin wa 'uyūn),”
আয়াত ৫৮
وَكُنُوزٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ
“—এবং তাদের সেই সুউচ্চ রাষ্ট্রীয় গোপন খজানা, বিপুল ধনাগার এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানিত সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রকাশের স্তরসমূহ থেকে।”
আয়াত ৫৯
كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا بَنِي إِسْرَائِيلَ
“এভাবেই ওলটপালট সম্পন্ন হলো; আর আমি সেই সমস্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ও ভূখণ্ডের চূড়ান্ত উত্তরাধিকার বা Custody দান করলাম বনী ইসরাইলকে (Wa awrasnāhā banī Isrā'īl — যারা ইতিপূর্বে শোষিত ছিল)।”
আয়াত ৬০
فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَ
“অতঃপর ফেরাউনের শোষক বাহিনী ভোরের আলোর উন্মেষকালে বা সূর্যোদয়ের সময়েই অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে তাদের তাড়া করল এবং তাদের ওপর চড়াও হলো (Fa-atba'ūhum mushriqīn)।”
আয়াত ৬১
فَلَمَّا تَرَاءَى الْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَابُ مُوسَىٰ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ
“অতঃপর যখনই সেই দুটি পরস্পরবিরোধী বিশাল মানবদল বা সমাজ পরস্পর মুখোমুখি হলো ও একে অপরকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করল, তখন মূসার সহচর বা আদর্শিক অনুগামীরা (তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে) বলে উঠল: নিশ্চয়ই আমরা এবার প্রতিপক্ষের শক্তির দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পাকড়াও বা গ্রাস হতে যাচ্ছি!”
আয়াত ৬২
قَالَ كَلَّا ۖ إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ
“মূসা (পূর্ণ আত্মবিশ্বাসে) বলেছিল: কখনই নয়! নিশ্চয়ই আমার সাথে রয়েছেন আমার প্রতিপালকের অমোঘ প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়ম-ব্যবস্থা; তিনি খুব শীঘ্রই আমাকে এই সংকট থেকে বের হওয়ার সুনির্দিষ্ট আইনি পথ বা হিদায়াত দেখাবেন (Sayahdīn)।”
আয়াত ৬৩
فَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنِ اضْرِب بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ ۖ فَانفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ
“অতঃপর আমি মূসার প্রতি এই মর্মে তীব্র শাসনতান্ত্রিক ডিক্রির বার্তা প্রেরণ করলাম—তুমি এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব-সমুদ্রের ওপর তোমার সেই সুদৃঢ় আদর্শিক লাঠি বা সংবিধানকে আঘাত করো বা প্রয়োগ করো (Anidrib bi-'asākal-bahr), অমনি তা (সেই সংঘাতের ক্ষেত্রটি) বিদীর্ণ হয়ে পৃথক হয়ে গেল, ফলে প্রতিপক্ষের তৈরি করা প্রতিটি উপদল বা সংকট এক একটি সুউচ্চ, বিশাল ও অটল পাহাড়ের মতো থমকে দাঁড়িয়ে গেল (অর্থাৎ বিশৃঙ্খল সমাজ এক সুনির্দিষ্ট আইনি শৃঙ্খলার বিভাজনে স্থির হলো)।”
আয়াত ৬৪
وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ الْآخَرِينَ
“আর আমি সেই একই স্থানে অন্য পক্ষকে বা ফেরাউনের সেই শোষক বাহিনীকে অত্যন্ত নিকটবর্তী স্তরে বা সংকটের মুখোমুখি এনে দাঁড় করালাম।”
আয়াত ৬৫
وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُ أَجْمَعِينَ
“এবং আমি মূসাকে এবং তার সাথে থাকা প্রতিটি আদর্শিক অনুগামীকে আমার অমোঘ সুরক্ষাব্যবস্থায় সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার বা রক্ষা করলাম (Wa anjaynā Mūsā)।”
আয়াত ৬৬
ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ
“অতঃপর আমি সেই অপর পক্ষকে বা ফেরাউনের পুরো শাসন ব্যবস্থাকে সেই দ্বন্দ্ব-সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের বা সামাজিক প্লাবনের অতল গহ্বরে সম্পূর্ণরূপে ডুবিয়ে বা ভাসিয়ে ধ্বংস করলাম (Thumma aghraqnal-ākharīn)।”
আয়াত ৬৭
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
“নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ; অথচ তাদের অধিকাংশ মানুষই বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার মানসিকতা রাখে না।”
আয়াত ৬৮
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু ও বিবর্তনমূলক লালন-ব্যবস্থার মালিক (Al-'Azīzur-Rahīm)।”
আয়াত ৬৯
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَاهِيمَ
“এবং তুমি তাদের সামনে ইব্রাহীমের সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈপ্লবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদটির ধারাবাহিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করো (Watlu 'alayhim naba'a Ibrāhīm)।”
আয়াত ৭০
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُونَ
“যখন সে তার মূল লালনকারী বা সমাজ-পিতাকে এবং তার সমাজ বা জাতিকে জিজ্ঞাসা করেছিল: তোমরা অন্য কার বা কোন মনগড়া দর্শনের দাসত্ব ও অন্ধ আনুগত্য করছ (Mā ta'budūn)?”
আয়াত ৭১
قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِينَ
“তারা বলেছিল: আমরা সমাজে মানুষের তৈরি করা নিস্প্রাণ কায়া, অন্ধ ঐতিহ্য ও প্রথাসমূহের দাসত্ব করি (Na'budu asnāmā), অতঃপর আমরা সর্বদা সেগুলোরই নিবিড় সংযুক্তি ও অন্ধ সেবায় নিয়োজিত থাকি।”
Keywords:
- أَصْنَامًا (Asnāmā): আক্ষরিক মাটির মূর্তি বা জড় পুতুল নয়, বরং মানুষের তৈরি করা জড়বাদী প্রথা, কায়েমি ঐতিহ্য বা নিস্প্রাণ সামাজিক আদর্শ যা সমাজে মানুষের চেতনাকে অবরুদ্ধ করে।
আয়াত ৭২
قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ
“সে বলেছিল: তোমরা যখনই (সংকটের মুখে) তাদের সাহায্য চেয়ে আহ্বান করো, তখন তারা কি তোমাদের সেই আহ্বান বিন্দুমাত্র শুনতে পায় বা কোনো আইনি সমাধান দিতে পারে?”
আয়াত ৭৩
أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ
“অথবা তারা কি তোমাদের কোনো বাস্তব উপকার করতে পারে, নাকি তোমাদের কোনো বাস্তব ক্ষতি করার বিন্দুমাত্র সামর্থ্য রাখে?”
আয়াত ৭৪
قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ
“তারা বলেছিল: (এসব যুক্তি আমরা জানি না), বরং আমরা আমাদের প্রাচীন পিতৃপুরুষদেরকেও ঠিক এইভাবেই অন্ধ অনুকরণে এই সমস্ত প্রথা সম্পাদন করতে পেয়েছি।”
আয়াত ৭৫
قَالَ أَفَرَأَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ
“সে বলেছিল: তবে কি তোমরা বিন্দুমাত্র চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে ভেবে দেখেছ—তোমরা অবিরত কার বা কোন দর্শনের দাসত্ব ও অন্ধ আনুগত্য করছ—”
আয়াত ৭৬
أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ
“—তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের সুদূর অতীতের অতি প্রাচীন পিতৃপুরুষেরাও যার অন্ধ দাসত্বে লিপ্ত ছিল?”
আয়াত ৭৭
فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ
“নিশ্চয়ই এই সমস্ত মানুষের তৈরি মনগড়া অন্ধ প্রথা বা আদর্শ আমার চিন্তার ও কর্মের চিরন্তন শত্রু; তবে সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালকের বিধিবদ্ধ আইন ব্যতীত (যিনি আমার একমাত্র আশ্রয়)।”
আয়াত ৭৮
الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ
“যিনি আমার অস্তিত্বের উন্মেষ ঘটিয়েছেন ও আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে জীবনের প্রতিটি স্তরে সঠিক পথনির্দেশ বা হিদায়াত দান করেন (Fahuwa yahdīn),”
আয়াত ৭৯
وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ
“এবং যিনি আমাকে (মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে) পুষ্টিকর অন্ন বা কيتাবের জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান শোষণ করান এবং আমাকে সজীব রাখার সুপেয় স্রোতধারা পান করান,”
আয়াত ৮০
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
“এবং যখনই আমি কোনো মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতি, সন্দেহ বা আদর্শিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হই, তখন একমাত্র তিনিই আমার সেই ব্যাধি দূর করে আমাকে সম্পূর্ণ নিরাময় ও সুস্থির করেন (Fahuwa yashfīn),”
আয়াত ৮১
وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ
“এবং যিনি স্বাভাবিক নিয়মে আমার এই কর্মকালের সমাপ্তি ঘটাবেন, অতঃপর তিনি পুনরায় (বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে) আমাকে এক নতুন সজীব জীবন দান করবেন,”
আয়াত ৮২
وَالَّذِي أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ
“আর যাঁর নিকট আমি এই সুগভীর আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পোষণ করি যে—সেই চূড়ান্ত বিচার, সামাজিক অনুশাসন ও ফলাফল প্রকাশের দিনে তিনি আমার সমস্ত ত্রুটির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাকে সুরক্ষার ঢাল দান করবেন (Yawmad-Dīn)।”
Keywords:
- يَوْمَ الدِّينِ (Yawmad-Dīn): কর্মের অবধারিত ফলাফল প্রকাশের সেই সুনির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণ বা আল্লাহর দেওয়া অনুশাসন-আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমাজে বিজয়ী হওয়ার পর্যায়।
আয়াত ৮৩
رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
“সে অবিরত আবেদন করেছিল: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে দান করো চূড়ান্ত আইনি প্রজ্ঞা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা (Hukmā), এবং আমাকে সমাজে সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্ত করো;”
আয়াত ৮৪
وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ
“এবং তুমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বা উত্তরসূরিদের মাঝে আমার সত্য প্রচারের কণ্ঠস্বর ও আদর্শিক মর্যাদাকে সুউচ্চ ও বাস্তব প্রমাণিত চাক্ষুষ সত্যে রূপান্তর করো (Waj'al lī lisāna sidqin fil-ākhirīn);”
আয়াত ৮৫
وَاجْعَلْنِي مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ
“এবং তুমি আমাকে সেই চিরস্থায়ী সুখ, সমৃদ্ধি ও পরম স্বাচ্ছন্দ্যের সুউচ্চ সুরক্ষার বাগানের Custodian বা উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো;”
আয়াত ৮৬
وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ
“এবং তুমি আমার সেই মূল লালনকারী বা সমাজ-পিতার চিন্তার ত্রুটি দূর করে সুরক্ষার ঢাল বা সংশোধনের তাওফিক দাও; নিশ্চয়ই সে এক অত্যন্ত বিভ্রান্ত ও সঠিক লক্ষ্যহীন পথভ্রষ্ট অবস্থায় লিপ্ত রয়েছে;”
আয়াত ৮৭
وَلَا تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ
“এবং তুমি আমাকে কোনো অবস্থাতেই লাঞ্ছিত, অপদস্থ বা অপমানিত কোরো না—যেদিন সমস্ত মানুষকে এক নতুন বৈপ্লবিক উত্থান বা জ্যান্ত ফলাফলের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে (Yawma yub'asūn),”
আয়াত ৮৮
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ
“সেই দিন, যখন মানুষের কোনো বৈষয়িক ধন-সম্পদ, কায়েমি পুঁজিবাদ কিংবা কোনো মনগড়া দলবল বা বাহ্যিক অনুসারীদের শক্তি বিন্দুমাত্র কোনো বাস্তব কাজে বা উপকারে আসবে না,”
আয়াত ৮৯
إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
“তবে সে ব্যতীত—যে আল্লাহর বিধিবদ্ধ নিয়মের সামনে উপস্থিত হয়েছে সর্বপ্রকার বিকৃতি, সন্দেহ ও খামতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এক পরম সুস্থ, স্থির ও নিরাপদ সচেতন মন নিয়ে (Bi-qalbin salīm)।”
Keywords:
- بِقَلْبٍ سَلِيمٍ (Bi-qalbin salīm): মনস্তাত্ত্বিক পরিভাষায় এমন এক শান্ত, পবিত্র, যৌক্তিক ও সুষম চিন্তাশক্তি যা মানুষের তৈরি কোনো কুসংস্কার বা পঙ্কিলতার দ্বারা আক্রান্ত নয়, বরং আল্লাহর আইনের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আয়াত ৯০
وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ
“আর সেই পরম সুখ, সমৃদ্ধি ও সুরক্ষার বাগানকে সুরক্ষামূলক সতর্ক ও দায়িত্বশীলদের অত্যন্ত নিকটবর্তী স্তরে বা চাক্ষুষ বাস্তবতায় এনে দাঁড় করানো হবে (Wa uzlifatil-Jannatu lil-muttaqīn),”
আয়াত ৯১
وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ
“এবং সেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দহন, হতাশা ও অশান্তির নরক-অবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ্য ও চাক্ষুষ করা হবে সেইসব অবাধ্যদের সামনে যারা সঠিক পথ থেকে ছিটকে পড়েছিল (Wa burrizatil-Jahīmu lil-ghāwīn)।”
আয়াত ৯২
وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ
“এবং তাদের চরম লাঞ্ছনায় জিজ্ঞাসা করা হবে: কোথায় গেল আজ তারা বা সেই মনগড়া দর্শন—যার তোমরা অবিরত দাসত্ব ও অন্ধ আনুগত্য করছিলে—”
আয়াত ৯৩
مِن دُونِ اللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَ
“—আল্লাহর চূড়ান্ত আইনকে বর্জন করে? তারা কি আজ এই মহাবিপদে তোমাদের বিন্দুমাত্র কোনো সাহায্য করতে পারছে, নাকি তারা নিজেরা নিজেদের রক্ষা করতে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে?”
আয়াত ৯৪
فَكُبْكِبُوا فِيهَا هُمْ وَالْغَاوُونَ
“অতঃপর সেটির ভেতরে (সেই নরক-অবস্থার অতল গহ্বরে) উপুড় করে আছাড় মেরে নিক্ষেপ করা হবে তাদের নিজেদের এবং সেই সমস্ত অবাধ্যদের যারা সঠিক পথ থেকে ছিটকে পড়ে বিভ্রান্ত হয়েছিল,”
আয়াত ৯৫
وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ
“এবং ইবলিসের সেই উগ্র অহংকার, হতাশা ও জেদের ওপর প্রতিষ্ঠিত সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক বাহিনী বা সাঙ্গোপাঙ্গদেরও একত্রে (সেখানে নিক্ষেপ করা হবে)।”
আয়াত ৯৬
قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ
“তারা সেটির ভেতরে (সেই দহনাবস্থার অতল গহ্বরে) নিজেদের মধ্যে চরম শত্রুতামূলক বাদানুবাদ ও তীব্র কোন্দলে লিপ্ত হয়ে একে অপরকে বলবে:”
আয়াত ৯৭
تَاللَّهِ إِن كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
“আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমরা অতীত জীবনে এক সুষ্পষ্ট ও চূড়ান্ত চাক্ষুষ পথভ্রষ্টতা ও লক্ষ্যহীন বিভ্রান্তির মধ্যেই নিমজ্জিত ছিলাম—”
আয়াত ৯৮
إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ الْعَالَمِينَ
“—যখন আমরা এই মহাবিশ্বের একমাত্র লালনকর্তা ও প্রতিপালকের সুউচ্চ বিধিবদ্ধ আইনের সমান বা সমকক্ষ মর্যাদা দিয়ে তোমাদের মনগড়া প্রথা বা দর্শনকে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলাম (Iz nusawwīkum bi-Rabbil-'ālamīn)!”
আয়াত ৯৯
وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ
“আর আমাদের এই সরল পথ থেকে বিচ্যুত ও লক্ষ্যহীন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে কেবল সেই চরম অপরাধী, কায়েমি স্বার্থান্বেষী ও সমাজ-বিধ্বংসী চক্রটি ব্যতিরেকে আর কেউই নয়!”
আয়াত ১০০
فَمَا لَنَا مِن شَافِعِينَ
“যার অবধারিত ফল হিসেবে আজ আমাদের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো কোনো সুনির্দিষ্ট কোয়ালিশন, সুপারিশকারী বা বিন্দুমাত্র কোনো আইনি সহায়তাকারী নেই,”
আয়াত ১০১
وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ
“এবং এমন কোনো আন্তরিক, ঘনিষ্ঠ বা সত্যনিষ্ঠ বন্ধুও নেই (Walā sadīqin hamīm)—যে আজ আমাদের এই বিপর্যয় বা ধ্বংসাত্মক সংকট থেকে উদ্ধার করতে পারে।”
আয়াত ১০২
فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
“সুতরাং হায়, আমাদের জন্য যদি আরও একটিবার সুযোগ বা ফিরে আসার ক্ষেত্র থাকত (Falaw anna lanā karratan), তবে আমরা নিশ্চিতভাবেই পরম সত্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!”
আয়াত ১০৩
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
“নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ; অথচ তাদের অধিকাংশ মানুষই বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার মানসিকতা রাখে না।”
আয়াত ১০৪
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু ও বিবর্তনমূলক লালন-ব্যবস্থার মালিক (Al-'Azīzur-Rahīm)।”
আয়াত ১০৫
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ الْمُرْسَلِينَ
“নূহের জাতি বা সমাজ পরম সত্যের বাণীবাহক বা সুনির্দিষ্ট শাসনতান্ত্রিক রূপরেখাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দিয়েছিল (Kazzabat qawmu Nūhinil-mursalīn)।”
আয়াত ১০৬
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
“যখন তাদেরই আদর্শিক ভাই নূহ তাদের বলেছিল: তোমরা কি বিন্দুমাত্র সুরক্ষামূলক সতর্কতা, খোদাভীতি ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করবে না (Alā tattaqūn)?”
আয়াত ১০৭
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট প্রেরিত এক অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আমানতদার বাণীবাহক বা প্রাতিষ্ঠানিক নেতা (Rasūlun amīn),”
আয়াত ১০৮
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
“সুতরাং তোমরা আল্লাহর অমোঘ প্রাকৃতিক ও ঐশী বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো এবং আমার শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনার আনুগত্য করো (Wa atī'ūn)।”
আয়াত ১০৯
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আর আমি এই সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তোমাদের নিকট বিন্দুমাত্র কোনো বৈষয়িক প্রতিদান বা স্বার্থ দাবি করছি না; আমার সেই প্রতিদান তো কেবল সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালকের অমোঘ বিধিবদ্ধ নিয়মে সুনিশ্চিত।”
আয়াত ১১০
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
“সুতরাং তোমরা আল্লাহর বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো এবং আমার শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনার আনুগত্য করো।”
আয়াত ১১১
قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ
“তারা (কায়েমি স্বার্থান্বেষী এলিটরা) বলেছিল: আমরা কি তোমার এই নতুন মতাদর্শের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ তোমার অনুগামী বা অনুসারী হয়েছে সমাজের সেইসব নিম্ন স্তরের খেটে খাওয়া মানুষ বা অন্ত্যজ শ্রেণী (Wattaba'akal-arzalūn)?”
Keywords:
- الْأَرْذَلُونَ (Al-Arzalūn): সমাজের তথাকথিত নিম্নবিত্ত, অধিকারবঞ্চিত, দরিদ্র বা দুর্বল শ্রেণী, যাদের এলিটরা নিজেদের অহংকারের কারণে অবজ্ঞা করে।
আয়াত ১১২
قَالَ وَمَا عِلْمِي بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“নূহ বলেছিল: তারা অতীত জীবনে কী কর্ম সম্পাদন করত, সে সম্পর্কে আমার কোনো চাক্ষুষ জ্ঞান বা বিচার করার দায়িত্ব নেই;”
আয়াত ১১৩
إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّي ۖ لَوْ تَشْعُرُونَ
“তাদের সেই কর্মের চূড়ান্ত হিসাব ও মূল্যায়ন তো কেবল আমার প্রতিপালকের অমোঘ বিধিবদ্ধ নিয়মের অধীনে, যদি তোমরা বিন্দুমাত্র তোমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা দিয়ে তা অনুধাবন করতে পারতে (Law tash'urūn)!”
আয়াত ১১৪
وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الْمُؤْمِنِينَ
“আর আমি কোনো অবস্থাতেই সেই পরম সত্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারী অধিকারবঞ্চিত মানুষদের আমার এই সাংগঠনিক ক্ষেত্র থেকে তাড়িয়ে দিতে বা বর্জন করতে পারি না (Wa mā ana bitāridil-mu'minīn)।”
আয়াত ১১৫
إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌ
“আমি তো কেবল আসন্ন ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে এক সুস্পষ্ট, প্রাঞ্জল ও অকাট্য প্রমাণাদিসহ সতর্ককারী বা গাইড ব্যতিরেকে আর কিছুই নই।”
আয়াত ১১৬
قَالُوا لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَا نُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمَرْجُومِينَ
“তারা (তীব্র আইনি ও সামাজিক হুমকি দিয়ে) বলেছিল: হে নূহ! তুমি যদি তোমার এই প্রচার ও আন্দোলন থেকে অবিলম্বে বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতভাবেই সমাজ থেকে পাথর খেয়ে ধ্বংস হওয়া বা চরমভাবে লাঞ্ছিত ও বহিষ্কৃতদের অন্তর্ভুক্ত হবে (Latakūnanna minal-marjūmīn)।”
আয়াত ১১৭
قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِي كَذَّبُونِ
“সে (তীব্র সাংগঠনিক সংকটে) আবেদন করেছিল: হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার এই সমাজ বা জাতি আমাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে আমার আদর্শকে উড়িয়ে দিয়েছে;”
আয়াত ১১৮
فَافْتَحْ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ فَتْحًا وَنَجِّيْنِي وَمَن مَّعِيَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
“সুতরাং তুমি আমার এবং তাদের মধ্যকার সমস্ত অস্পষ্টতা দূর করে এক চূড়ান্ত ও সুস্পষ্ট ফায়সালা বা বিজয় উন্মোচিত করো (Faftah baynī wa baynahum fathan), এবং আমাকে ও আমার সাথে থাকা প্রতিটি দৃঢ় বিশ্বাসী অনুগামীকে আমার অমোঘ সুরক্ষাব্যবস্থায় রক্ষা করো।”
আয়াত ১১৯
فَأَنجَيْنَاهُ وَمَن مَّعَهُ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ
“অতঃপর আমি তাকে এবং তার সাথে থাকা প্রতিটি আদর্শিক অনুগামীকে এক অত্যন্ত সুসংগত, সুরক্ষিত ও জীবন-উপকরণে পরিপূর্ণ কিতাবের জ্ঞান-জাহাজে বা প্রাতিষ্ঠানিক কিস্তিতে সম্পূর্ণ রক্ষা ও উদ্ধার করলাম (Fil-fulkil-mashhūn)।”
Keywords:
- الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ (Al-Fulkil-mashhūn): আক্ষরিক কাঠের নৌকা নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া আইনি রূপরেখা, সুশৃঙ্খল মতাদর্শ বা সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আশ্রয়স্থল যা মানুষের সমস্ত প্রয়োজন ও জ্ঞান ধারণ করে সমাজকে ধ্বংস থেকে বাঁচায়।
আয়াত ১২০
ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ الْبَاقِينَ
“অতঃপর আমি (আমার প্রাকৃতিক নিয়মে) সেই আন্দোলনের বাইরে থেকে যাওয়া বাকি সমস্ত অপশক্তিকে লক্ষ্যহীন বিভ্রান্তির প্লাবনে সম্পূর্ণরূপে ডুবিয়ে বা ভাসিয়ে ধ্বংস করলাম।”
আয়াত ১২১
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
“নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ; অথচ তাদের অধিকাংশ মানুষই বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার মানসিকতা রাখে না।”
আয়াত ১২২
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু ও বিবর্তনমূলক লালন-ব্যবস্থার মালিক (Al-'Azīzur-Rahīm)।”
আয়াত ১২৩
كَذَّبَتْ عَادٌ الْمُرْسَلِينَ
“আদ জাতি বা সমাজ পরম সত্যের বাণীবাহক বা সুনির্দিষ্ট শাসনতান্ত্রিক রূপরেখাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দিয়েছিল।”
আয়াত ১২৪
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ
“যখন তাদেরই আদর্শিক ভাই হূদ তাদের বলেছিল: তোমরা কি বিন্দুমাত্র সুরক্ষামূলক সতর্কতা, খোদাভীতি ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করবে না?”
Keywords:
- هُودٌ (Hūd): আভিধানিক অর্থ—”যিনি সঠিক পথে ফিরে আসেন বা শান্ত ও সুশৃঙ্খল” (ধাতুমূল: হ-ও-দ = ইহুদি বা সুশৃঙ্খল হওয়া)। এটি এমন এক বিশেষ মেধা যা সমাজকে বিশৃঙ্খলা থেকে আইনি শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনে।
আয়াত ১২৫
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট প্রেরিত এক অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আমানতদার বাণীবাহক বা প্রাতিষ্ঠানিক নেতা,”
আয়াত ১২৬
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
“সুতরাং তোমরা আল্লাহর অমোঘ প্রাকৃতিক ও ঐশী বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো এবং আমার শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনার আনুগত্য করো।”
আয়াত ১২৭
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আর আমি এই সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তোমাদের নিকট বিন্দুমাত্র কোনো বৈষয়িক প্রতিদান বা স্বার্থ দাবি করছি না; আমার সেই প্রতিদান তো কেবল সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালকের অমোঘ বিধিবদ্ধ নিয়মে সুনিশ্চিত।”
আয়াত ১২৮
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ
“তোমরা কি সমাজে প্রতিটি ক্ষমতার সুউচ্চ চূড়ায় বা স্তরসমূহে কেবল অসার অহংকারের নিদর্শন বা দুর্গসমূহ নির্মাণ করছ (Atabnūna bikulli rī'in āyatan), যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন, নিরর্থক ও তামাশা মাত্র (Tab'asūn)?”
Keywords:
- رِيعٍ (Rī’): সমাজের সুউচ্চ স্তর, অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক চূড়া বা এমন সুবিধাজনক অবস্থান যা থেকে সাধারণ মানুষকে শোষণ করা সহজ।
আয়াত ১২৯
وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ
“এবং তোমরা বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক কলকারখানা, অর্থনৈতিক দুর্গ বা কায়েমি শিল্পকাঠামো গড়ে তুলছ (Watattakhizūna masāni'a), এই অবাস্তব ভাবনায় যেন তোমরা সমাজে চিরকাল ক্ষমতায় টিকে থাকবে ও অমরত্ব লাভ করবে?”
Keywords:
- مَصَانِعَ (Masāni’): বড় বড় উৎপাদনমুখী শিল্প, কায়েমি পুঁজিবাদী অবকাঠামো বা এমন শক্তিশালী ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট যা মানুষ নিজের বৈষয়িক প্রতিপত্তি ও সাম্রাজ্য অমর করতে তৈরি করে।
আয়াত ১৩০
وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ
“আর যখনই তোমরা (দুর্বলদের ওপর) কোনো প্রশাসনিক বা আইনি অ্যাকশন বা আক্রমণ পরিচালনা করো, তখন তোমরা চরম স্বৈরাচারী, জবরদস্তিকারী ও অহংকারী অত্যাচারীর মতো আক্রমণ করো (Batashgtum jabbārīn)!”
Keywords:
- بَطَشْتُمْ (Batashgtum): ক্ষমতার দাপটে তীব্র আক্রমণ, দমননীতি বা আইন নিজের হাতে নিয়ে কাউকে পিষে ফেলা।
আয়াত ১৩১
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
“সুতরাং তোমরা আল্লাহর বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো এবং আমার শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনার আনুগত্য করো।”
আয়াত ১৩২
وَاتَّقُوا الَّذِي أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ
“এবং তোমরা সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো সেই পরম সত্তার অমোঘ নিয়মের বিরুদ্ধে—যিনি তোমাদের অবিরাম জোগান দিয়ে যাচ্ছেন সেই সমস্ত উপকরণ ও সামর্থ্য যা তোমরা ভালো করেই জানো—”
আয়াত ১৩৩
أَمَدَّكُم بِأَنْعَامٍ وَبَنِينَ
“—যিনি তোমাদের জোগান দিয়েছেন জীবন ধারণের সহজলভ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপকরণসমূহ এবং শক্তিশালী আদর্শিক অনুসারী বা দক্ষ জনবল,”
আয়াত ১৩৪
وَجَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
“—এবং প্রাচুর্যময় পরম সুখের বাগান এবং জ্ঞান ও সম্পদের প্রবহমান সচল উৎসসমূহ।”
আয়াত ১৩৫
إِنِي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর এক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও সুদূরপ্রসারী মহাসংকটের দিনে অবধারিত ধ্বংসাত্মক পরিণতি বা শাস্তির তীব্র আশঙ্কা করছি ('Azāba Yawmin 'Azīm)।”
আয়াত ১৩৬
قَالُوا سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ الْوَاعِظِينَ
“তারা (চরম গোঁড়ামিতে) বলেছিল: আমাদের কাছে এটি সম্পূর্ণ সমান—তুমি আমাদের এই নীতিমালার উপদেশ বা ডিক্রি দাও (A-wa'azta), কিংবা উপদেশদাতাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে চুপ করে থাকো (আমরা আমাদের পথ বদলাব না)।”
আয়াত ১৩৭
إِنْ هَٰذَا إِلَّا خُلُقُ الْأَوَّلِينَ
“এই যে জীবনধারা বা সমাজ কাঠামোতে আমরা চলছি, তা তো পূর্ববর্তী সুদূর অতীতের প্রাচীন মানুষদের মজ্জাগত অভ্যাস, অন্ধ ঐতিহ্য ও প্রথা ব্যতিরেকে আর কিছুই নয় (In hāzā illā khuluqul-awwalīn)।”
Keywords:
- خُلُوقُ (Khuluq): কোনো সমাজ বা ব্যক্তির দীর্ঘদিনের মজ্জাগত চরিত্র, অন্ধ কুসংস্কার এবং রীতিনীতি যা মানুষ বাছবিচারহীনভাবে অনুসরণ করে।
আয়াত ১৩৮
وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
“আর আমরা কোনো অবস্থাতেই আমাদের এই প্রাচীন প্রথার কারণে কোনো প্রকার ধ্বংসাত্মক পরিণতি বা শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি না!”
আয়াত ১৩৯
فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَاهُمْ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
“অতঃপর তারা তাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তার আদর্শকে উড়িয়ে দিল, সেটির অবধারিত ফল হিসেবে আমি (আমার প্রাকৃতিক নিয়মে) তাদের সমাজকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখোমুখি করলাম; নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ; অথচ তাদের অধিকাংশ মানুষই বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার মানসিকতা রাখে না।”
আয়াত ১৪০
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু ও বিবর্তনমূলক লালন-ব্যবস্থার মালিক (Al-'Azīzur-Rahīm)।”
আয়াত ১৪১
كَذَّبَتْ ثَمُودُ الْمُرْسَلِينَ
“সামূদ জাতি বা সমাজ পরম সত্যের বাণীবাহক বা সুনির্দিষ্ট শাসনতান্ত্রিক রূপরেখাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দিয়েছিল।”
আয়াত ১৪২
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَالِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
“যখন তাদেরই আদর্শিক ভাই সালেহ তাদের বলেছিল: তোমরা কি বিন্দুমাত্র সুরক্ষামূলক সতর্কতা, খোদাভীতি ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করবে না?”
Keywords:
- صَالِحٌ (Sālih): আভিধানিক অর্থ—”যিনি সংশোধনকারী, ভারসাম্য স্থাপনকারী বা অত্যন্ত কল্যাণকর” (ধাতুমূল: ص-ل-ح = সংশোধন করা)। এটি মেধার এমন এক স্তর যা সমাজের সমস্ত ভাঙন ও বিকৃতি মেরামত করে ভারসাম্য আনে।
আয়াত ১৪৩
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট প্রেরিত এক অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আমানতদার বাণীবাহক বা প্রাতিষ্ঠানিক নেতা,”
আয়াত ১৪৪
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
“সুতরাং তোমরা আল্লাহর অমোঘ প্রাকৃতিক ও ঐশী বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো এবং আমার শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনার আনুগত্য করো।”
আয়াত ১৪৫
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আর আমি এই সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তোমাদের নিকট বিন্দুমাত্র কোনো বৈষয়িক প্রতিদান বা স্বার্থ দাবি করছি না; আমার সেই প্রতিদান তো কেবল সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালকের অমোঘ বিধিবদ্ধ নিয়মে সুনিশ্চিত।”
আয়াত ১৪৬
أَتُتْرَكُونَ فِي مَا هَٰهُنَا آمِنِينَ
“তোমাদের আজ এই ক্ষমতার কেন্দ্রে যে সমস্ত বৈষয়িক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কি তোমরা নিজেদের সর্বদা পরম নিরাপদ ও চিরস্থায়ী মনে করে নির্বিঘ্নে ছেড়ে দেওয়া হবে (Atutrakūna fī mā hāhunā āminīn)—”
আয়াত ১৪৭
فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
“—এই সমস্ত প্রাচুর্যময় পরম সুখের বাগান এবং জ্ঞান ও সম্পদের প্রবহমান সচল উৎসসমূহের মধ্যে?”
আয়াত ১৪৮
وَزُرُوعٍ وَنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيمٌ
“এবং এই ফলপ্রসূ চাষাবাদ, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং এমন কিতাবের সুদৃঢ় আইনি কাঠামোর মধ্যে যার প্রস্ফুটিত ফসল বা ফলাফল অত্যন্ত সুমিষ্ট, নরম ও সহজে হজম বা ভোগযোগ্য (Wa nahlin tal'uhā hadīm)?”
আয়াত ১৪৯
وَتَنْحِتُونَ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا فَارِهِينَ
“অথচ তোমরা চরম দাম্ভিকতা ও বিলাসিতায় মত্ত হয়ে পর্বতসদৃশ শক্তিশালী কায়েমি ক্ষমতার স্তম্ভসমূহ কুঁদে কুঁদে নিজেদের জন্য বড় বড় বিলাসবহুল প্রাতিষ্ঠানিক প্রাসাদ গড়ে তুলছ (Watanhitūna minal-jibāli buyūtan fārihīn)!”
আয়াত ১৫০
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
“সুতরাং তোমরা আল্লাহর অমোঘ প্রাকৃতিক ও ঐশী বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো এবং আমার শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনার আনুগত্য করো।”
আয়াত ১৫১
وَلَا تُطِيعُوا أَمْرَ الْمُسْرِفِينَ
“এবং তোমরা কোনো অবস্থাতেই সেইসব চরম সীমালঙ্ঘনকারী ও অপচয়কারীদের সুনির্দিষ্ট শাসনতান্ত্রিক নির্দেশ বা আইনের অন্ধ আনুগত্য কোরো না (Walā tutī'ū amral-musrifīn),”
Keywords:
- الْمُسْرِفِينَ (Al-Musrifīn): যারা নিজেদের সামর্থ্য, ক্ষমতা ও সম্পদের অপব্যবহার করে ঐশী ভারসাম্য নষ্ট করে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়ায়।
আয়াত ১৫২
الَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ
“—যারা এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে বা সামাজিক ক্ষেত্রে কেবল অবিরত বিশৃঙ্খলা, ফাসাদ ও অবক্ষয় তৈরি করে (Yufsidūna fil-ardi) এবং কোনো প্রকার সংশোধন বা ভারসাম্যমূলক কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করে না।”
আয়াত ১৫৩
قَالُوا إِنَّمَا أَنتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ
“তারা (চরম অবাধ্য এলিটরা) বলেছিল: নিশ্চয়ই তুমি এক চরম মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল, প্রোপাগান্ডা বা জাদুকরী মোহে সম্পূর্ণ অন্ধ হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত (Innamā anta minal-musahharīn)!”
আয়াত ১৫৪
مَا أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِآيَةٍ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
“তুমি তো আমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ বা লৌকিক অবয়ব ব্যতিরেকে আর কিছুই নও; সুতরাং তুমি যদি তোমার দাবিতে পরম সত্যনিষ্ঠ ও সৎ হয়ে থাকো, তবে কোনো অমোঘ চাক্ষুষ নিদর্শন বা প্রমাণ উপস্থাপন করো (Fa'ti bi-āyatin)।”
আয়াত ১৫৫
قَالَ هَٰذِهِ نَاقَةٌ لَّهَا شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
“সালেহ বলেছিল: এই হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সেই অত্যন্ত গতিশীল, উৎপাদনশীল ও সুশৃঙ্খল আইনি অনুশাসন বা সামাজিক চালিকাশক্তি (Hāzihī nāqatun); এই ব্যবস্থার পুষ্টি বা সম্পদের ভোগের জন্য রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট ভাগ (Lahā shirbun), এবং তোমাদের জন্যও রয়েছে এক পূর্বনির্ধারিত সুনির্দিষ্ট দিনের বা পর্যায়ের ভোগের অধিকার।”
Keywords:
- نَاقَةٌ (Nāqah): আক্ষরিক অলৌকিক উটপাখি বা শে-উট নয়, বরং আরবি ধাতুমূল (ন-ক-ক/ন-ক-ও = পরিচ্ছন্ন, নিখুঁত বা গতিশীল হওয়া) অনুযায়ী এটি আল্লাহর দেওয়া অত্যন্ত সুসংগত, নিখুঁত ও গতিশীল সামাজিক ও অর্থনৈতিক আইন-ব্যবস্থা যা সমাজকে পুষ্ট করে।
আয়াত ১৫৬
وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍ
“আর তোমরা বিন্দুমাত্র কোনো মন্দ বা নেতিবাচক উদ্দেশ্য নিয়ে এই সুশৃঙ্খল আইন-ব্যবস্থাকে স্পর্শ বা বিকৃত কোরো না; অন্যথায় এক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও সুদূরপ্রসারী মহাসংকটের দিনে অবধারিত ধ্বংসাত্মক পরিণতি বা শাস্তি তোমাদের গ্রাস করবে।”
আয়াত ১৫৭
فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا نَادِمِينَ
“অতঃপর তারা (নিজেদের কায়েমি স্বার্থে) সেই সুশৃঙ্খল আইন-ব্যবস্থার মূল ভিত্তি বা সচল পা কেটে সেটিকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় ও অচল করে দিল (Fa-'aqarūhā), সেটির অবধারিত ফল হিসেবে তারা চরম অনুশোচনা ও গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হলো।”
Keywords:
- عَقَرُوهَا (‘Aqarūhā): আক্ষরিক উটের পা কাটা নয়, বরং কোনো ফলপ্রসূ আইনি কাঠামো বা প্রতিষ্ঠানের মূল সচল ভিত্তি ও চালিকাশক্তিকে আঘাত করে অকেজো করে দেওয়া।
আয়াত ১৫৮
فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
“অতঃপর (তাদের সেই অবাধ্যতার কুফলে) আমার অবধারিত প্রাকৃতিক ধ্বংসাত্মক পরিণতি তাদের গ্রাস করল; নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ; অথচ তাদের অধিকাংশ মানুষই বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার মানসিকতা রাখে না।”
আয়াত ১৫৯
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু ও বিবর্তনমূলক লালন-ব্যবস্থার মালিক (Al-'Azīzur-Rahīm)।”
আয়াত ১৬০
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ الْمُرْسَلِينَ
“লূতের জাতি বা সমাজ পরম সত্যের বাণীবাহক বা সুনির্দিষ্ট শাসনতান্ত্রিক রূপরেখাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দিয়েছিল।”
আয়াত ১৬১
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ
“যখন তাদেরই আদেশিক ভাই লূত তাদের বলেছিল: তোমরা কি বিন্দুমাত্র সুরক্ষামূলক সতর্কতা, খোদাভীতি ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করবে না?”
আয়াত ১৬২
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট প্রেরিত এক অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আমানতদার বাণীবাহক বা প্রাতিষ্ঠানিক নেতা,”
আয়াত ১৬৩
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
“সুতরাং তোমরা আল্লাহর অমোঘ প্রাকৃতিক ও ঐশী বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো এবং আমার শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনার আনুগত্য করো।”
আয়াত ১৬৪
وَمَا أَসْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আর আমি এই সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তোমাদের নিকট বিন্দুমাত্র কোনো বৈষয়িক প্রতিদান বা স্বার্থ দাবি করছি না; আমার সেই প্রতিদান তো কেবল সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালকের অমোঘ বিধিবদ্ধ নিয়মে সুনিশ্চিত।”
আয়াত ১৬৫
أَتَأْتُونَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعَالَمِينَ
“তোমরা কি সমগ্র বিশ্ববাসীর স্বাভাবিক মহাজাগতিক ও প্রাকৃতিক নিয়ম বর্জন করে কেবল পুরুষালি উগ্রতা, চরম অহংকার ও আধিপত্য বিস্তারের ধ্বংসাত্মক পন্থায় মেতে উঠছ (Atatūnaz-zukrāna minal-'ālamīn)?”
Keywords:
- الذُّكْرَانَ (Az-Zukrān): আক্ষরিক সমকামিতা বা পুরুষ মানুষের পাশাপাশি এর গভীর সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক অর্থ হলো—সমাজের নরম, সুষম ও ফলপ্রসূ প্রাকৃতিক নিয়ম (স্ত্রীলিঙ্গসুলভ লালন) বর্জন করে কেবল উগ্র দাপট, ক্ষমতার দম্ভ ও পুরুষতান্ত্রিক জবরদস্তির বিকৃতিতে লিপ্ত হওয়া।
আয়াত ১৬৬
وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِّنْ أَزْوَاجِكُمْ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ
“অথচ তোমরা বর্জন করছ সেই সুষম, শান্ত ও ফলপ্রসূ পরিপূরক সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রসমূহ যা তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন (Watazarūna mā khalaqa lakum Rabbukum); বরং তোমরা তো এক চরম নির্ধারিত আইনি সীমালঙ্ঘনকারী জাতি (Qawmun 'ādūn)!”
আয়াত ১৬৭
قَالُوا لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَا لُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِينَ
“তারা বলেছিল: হে লূত! তুমি যদি তোমার এই সংস্কার ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন থেকে অবিলম্বে বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতভাবেই এই সমাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে বহিষ্কৃত ও একঘরে হওয়া অপদস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবে (Latakūnanna minal-mukhrajīn)।”
আয়াত ১৬৮
قَالَ إِنِّي لِعَمَلِكُم مِّنَ الْقَالِينَ
“লূত বলেছিল: নিশ্চয়ই আমি তোমাদের এই জঘন্য চারিত্রিক ও আদর্শিক বিকৃতির কর্মকে তীব্রভাবে ঘৃণা, প্রত্যাখ্যান ও চরম অবজ্ঞা করি।”
আয়াত ১৬৯
رَبِّ نَجِّنِي وَأَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ
“সে অবিরত আবেদন করেছিল: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে এবং আমার আদর্শিক অনুগামীদের সম্পূর্ণ উদ্ধার বা সুরক্ষা দান করো তারা যে সমস্ত জঘন্য অবক্ষয়মূলক কর্ম সম্পাদন করছে তা থেকে।”
আয়াত ১৭০
فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ
“অতঃপর আমি তাকে এবং তার সাথে থাকা প্রতিটি আদর্শিক অনুগামীকে আমার অমোঘ সুরক্ষাব্যবস্থায় সম্পূর্ণরূপে রক্ষা ও উদ্ধার করলাম—”
আয়াত ১৭১
إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ
“—এক অত্যন্ত জরাজীর্ণ, পুরোনো কুসংস্কার ও কায়েমি স্বার্থের অতীতে নিমজ্জিত মানসিকতা বা উপদল ব্যতীত (Illā 'ajūzan fil-ghābirīn — যে সত্য গ্রহণ করেনি)।”
Keywords:
- عَجُوزًا (‘Ajūzā): আক্ষরিক বৃদ্ধা নারী বা লূতের স্ত্রী নয়, বরং আরবি ধাতুমূল (অ-জ-জ = অক্ষম বা প্রাচীন হওয়া) অনুযায়ী এটি এমন এক জরাজীর্ণ, অকেজো ও পুরোনো কুসংস্কারে অন্ধ রক্ষণশীল উপদল যা প্রগতির বৈপ্লবিক সত্যকে ধারণ করতে পারে না।
আয়াত ১৭২
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ
“অতঃপর আমি (আমার প্রাকৃতিক নিয়মে) বাকি সমস্ত বিকৃত ও অপষ্টান্তিক পঙ্কিল সমাজ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধূলিসাৎ ও সমূলে ধ্বংস করলাম।”
আয়াত ১৭৩
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا ۖ فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنذَرِينَ
“এবং আমি তাদের ওপর অবিরত বর্ষণ করলাম (তাদেরই কর্মের কুফলের) এক ভয়ঙ্কর প্লাবন বা বিপর্যয় (Wa amtarnā 'alayhim mataran); আর যাদের পূর্বেই সুস্পষ্ট সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের ওপর নেমে আসা সেই অবধারিত বিপর্যয়ের বর্ষণ কতই না নিকৃষ্ট ও ভয়ঙ্কর ছিল!”
আয়াত ১৭৪
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
“নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ; অথচ তাদের অধিকাংশ মানুষই বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার মানসিকতা রাখে না।”
আয়াত ১৭৫
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু ও বিবর্তনমূলক লালন-ব্যবস্থার মালিক (Al-'Azīzur-Rahīm)।”
আয়াত ১৭৬
كَذَّبَ أَصْحَابُ الْأَيْكَةِ الْمُرْسَلِينَ
“আইকা অঞ্চলের (অর্থাৎ বনাঞ্চল বা ঘন কায়েমি পুঁজিবাদী বাগানের) অধিবাসীরা পরম সত্যের বাণীবাহক বা সুনির্দিষ্ট শাসনতান্ত্রিক রূপরেখাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে উড়িয়ে দিয়েছিল (Kazzaba As-hābul-Aykati)।”
Keywords:
- أَصْحَابُ الْأَيْكَةِ (As-hābul-Aykah): আক্ষরিক বনের অধিবাসী নয়, বরং সমাজতাত্ত্বিক পরিভাষায় এটি অত্যন্ত ঘন, জটিল ও কায়েমি পুঁজিবাদী স্বার্থের এমন এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যা একচেটিয়া সিন্ডিকেট তৈরি করে সমাজকে শোষণ করে (ধাতুমূল: অ-ই-ক = ঘন জঙ্গল)।
আয়াত ১৭৭
إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ
“যখন শুআইব (তাদেরই অঞ্চলের একনিষ্ঠ বিপ্লবী নেতা) তাদের বলেছিল: তোমরা কি বিন্দুমাত্র সুরক্ষামূলক সতর্কতা, খোদাভীতি ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করবে না?”
Keywords:
- شُعَيْبٌ (Shu’ayb): আভিধানিক অর্থ—”যিনি সমাজের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন উপদল বা শাখাকে মূল ভিত্তির সাথে সুশৃঙ্খলভাবে মেলবন্ধন করেন” (ধাতুমূল: শ-অ-ব = শাখা বা উপজাতি)। এটি এমন এক মেধা যা সামাজিক ভাঙন রোধ করে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।
আয়াত ১৭৮
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট প্রেরিত এক অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আমানতদার বাণীবাহক বা প্রাতিষ্ঠানিক নেতা,”
আয়াত ১৭৯
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
“সুতরাং তোমরা আল্লাহর অমোঘ প্রাকৃতিক ও ঐশী বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো এবং আমার শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনার আনুগত্য করো।”
আয়াত ১৮০
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আর আমি এই সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তোমাদের নিকট বিন্দুমাত্র কোনো বৈষয়িক প্রতিদান বা স্বার্থ দাবি করছি না; আমার সেই প্রতিদান তো কেবল সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালকের অমোঘ বিধিবদ্ধ নিয়মে সুনিশ্চিত।”
আয়াত ১৮১
أَوْفُوا الْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُخْسِرِينَ
“তোমরা (সামাজিক ও অর্থনৈতিক লেনদেনে) ওজনের পরিমাপকে বা আইনি মানদণ্ডকে সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ করো (Awful-kayla), এবং অন্য মানুষকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত বা লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া শোষকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”
Keywords:
- الْكَيْلَ (Al-Kayl): আক্ষরিক ধান চাল মাপার পাত্র নয়, বরং সমাজ ও অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে মানুষের অধিকার ও পাওনার গুণগত মানদণ্ড বা আইনি জাস্টিস।
আয়াত ১৮২
وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ
“এবং তোমরা প্রতিটি সামাজিক ফায়সালা বা লেনদেন সুপ্রতিষ্ঠিত করো এক অত্যন্ত সুষম, সোজা ও নিখুঁত ইনসাফের দাঁিপাল্লা বা চূড়ান্ত মানদণ্ডের ভিত্তিতে (Wazinū bil-qistāsil-mustaqīm)।”
Keywords:
- بِالْقِسْطَاسِ (Bil-Qistās): পরম ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার এমন এক অমোঘ কিতাবের দাঁিপাল্লা বা শাসনতান্ত্রিক মানদণ্ড যা কোনো প্রকার বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেয় না।
আয়াত ১৮৩
وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
“আর তোমরা সাধারণ মানুষের অধিকার, সম্পদ বা প্রাপ্য জিনিসকে বিন্দুমাত্র খর্ব বা অবমূল্যায়ন কোরো না (Walā tabkhasun-nāsa ash'yā'ahum), এবং এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে চরম বিশৃঙ্খলা, ফাসাদ ও অবক্ষয় সৃষ্টিকারী হয়ে দাপিয়ে বেড়াবে না।”
আয়াত ১৮৪
وَاتَّقُوا الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالْجِبِلَّةَ الْأَوَّلِينَ
“এবং তোমরা সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো সেই পরম সত্তার অমোঘ নিয়মের বিরুদ্ধে—যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তী সুদীর্ঘ প্রাচীন প্রজন্মের সমস্ত বিশাল মানব প্রকৃতি ও সমাজকে গড়ে তুলেছিলেন।”
আয়াত ১৮৫
قَالُوا إِنَّمَا أَنتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ
“তারা বলেছিল: নিশ্চয়ই তুমি এক চরম মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশল, প্রোপাগান্ডা বা জাদুকরী মোহে সম্পূর্ণ অন্ধ হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত!”
আয়াত ১৮৬
وَمَا أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ
“আর তুমি তো আমাদের মতোই একজন সাধারণ লৌকিক মানুষ ব্যতিরেকে আর কিছুই নও, আর নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে এক অত্যন্ত বানোয়াট ও চরম মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি।”
আয়াত ১৮৭
فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ إِن كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
“সুতরাং তুমি যদি তোমার দাবিতে পরম সত্যনিষ্ঠ ও সৎ হয়ে থাকো, তবে উচ্চ সুরক্ষার স্তর বা কিতাবের আকাশ থেকে আমাদের ওপর কোনো ধ্বংসাত্মক মেঘের টুকরো বা চূড়ান্ত বিপর্যয় বর্ষণ করে দেখাও (Fa-asqit 'alaynā kisafam minas-samā'i)!”
আয়াত ১৮৮
قَالَ رَبِّي أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ
“শুআইব বলেছিল: তোমরা নিজেরা গোপনে বা প্রকাশ্যে যা কিছু অপকর্ম সম্পাদন করছ, সে সম্পর্কে আমার প্রতিপালক সবচেয়ে ভালো জানেন।”
আয়াত ১৮৯
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ الظُّلَّةِ ۚ إِنَّهُ كَانَ عَذَابَ يَوْมٍ عَظِيمٍ
“অতঃপর তারা তাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তার আদর্শকে উড়িয়ে দিল, সেটির অবধারিত ফল হিসেবে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক দমবন্ধকর মেঘাচ্ছন্ন বা অন্ধকার দিনের অবধারিত ধ্বংসাত্মক পরিণতি তাদের গ্রাস করল ('Azābu Yawmiz-Zullah); নিশ্চয়ই তা ছিল এক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও সুদূরপ্রসারী মহাবিপদের দিন।”
Keywords:
- يَوْمِ الظُّلَّةِ (Yawmiz-Zullah): আক্ষরিক মেঘের ছায়া নয়, বরং আল্লাহর আইন বর্জন করার ফলে শোষক সমাজের ওপর নেমে আসা এক চরম হতাশা, মনস্তাত্ত্বিক দমবন্ধকর অবস্থা ও কায়েমি অন্ধকারের চূড়ান্ত কাল।
আয়াত ১৯০
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
“নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ; অথচ তাদের অধিকাংশ মানুষই বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করার মানসিকতা রাখে না।”
আয়াত ১৯১
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
“আর নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক হলেন অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু ও বিবর্তনমূলক লালন-ব্যবস্থার মালিক (Al-'Azīzur-Rahīm)।”
আয়াত ১৯২
وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আর নিশ্চয়ই এই সুসংগত কিতাব বা রূপরেখা হলো সমগ্র বিশ্ববাসীর লালনকর্তা ও প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ক্রমান্বয়ে অবতীর্ণ এক মহা-সংবিধান (Wa innahū latanzīlu Rabbil-'ālamīn)।”
আয়াত ১৯৩
نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ
“যা নিয়ে অবতীর্ণ বা জারি হয়েছে অত্যন্ত বিশ্বস্ত, নিরাপদ ও পরম আমানতদার ঐশী জ্যান্ত চালিকাশক্তি বাRevelation (Ar-Rūhul-Amīn),”
আয়াত ১৯৪
عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ
“—তোমার সচেতন মনের বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাকেন্দ্রের ওপর ('Alā qalbika), যাতে তুমি এর দ্বারা আসন্ন ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণাদিসহ সতর্ককারী বা গাইডদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারো;”
আয়াত ১৯৫
بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِينٍ
“—এক অত্যন্ত প্রাঞ্জল, সুবিন্যস্ত, যৌক্তিক এবং সর্বপ্রকার অস্পষ্টতামুক্ত প্রকাশ্য রূপরেখা ও প্রচারশৈলীর মাধ্যমে (Bilisānin 'arabiyyim mubīn)।”
আয়াত ১৯৬
وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الْأَوَّلِينَ
“আর নিশ্চয়ই এই পরম সত্যের মূল নীতিমালা পূর্ববর্তী সুদীর্ঘ প্রাচীন গ্রন্থ ও সুদৃঢ় শাসনতান্ত্রিক সংবিধানেও নিখুঁতভাবে নিহিত ছিল (Lafī zuburil-awwalīn)।”
আয়াত ১৯৭
أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ آيَةً أَن يَعْلَمَهُ عُلَمَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ
“তবে কি তাদের জন্য এটিই এক অত্যন্ত সুস্পষ্ঠ চাক্ষুষ নিদর্শন বা পরম প্রমাণ নয় যে—বনী ইসরাইলের (অর্থাৎ সেই সুসংগত আইনি সমাজের) সম্যক পরিজ্ঞাত উচ্চ জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা বা উলেমাগণ এই কিতাবের সত্যতা সম্পর্কে নিখুঁতভাবে অবগত (An ya'lamahū 'ulamā'u banī Isrā'īl)?”
আয়াত ১৯৮
وَلَوْ نَزَّلْنَاهُ عَلَىٰ بَعْضِ الْأَعْجَمِينَ
“আর আমি যদি এই সুবিন্যস্ত কিতাব বা রূপরেখাকে অবতীর্ণ করতাম এমন কোনো ব্যক্তির ওপর—যার প্রচারশৈলী সাধারণ মানুষের নিকট অত্যন্ত অস্পষ্ট, জটিল বা অবোধগম্য ('Alal-ba'dil-a'jamīn),”
Keywords:
- الْأَعْجَمِينَ (Al-A’jamīn): আভিধানিক অর্থ—”যিনি নিজের বক্তব্য স্পষ্ট ও প্রাঞ্জলভাবে ফুটিয়ে তুলতে অক্ষম বা যা অস্পষ্ট” (ধাতুমূল: অ-জ-ম = অবোধগম্য হওয়া)। এটি কোনো নির্দিষ্ট অনারব জাতি নয়, বরং অস্পষ্ট ও রহস্যময় প্রচারশৈলী।
আয়াত ১৯৯
فَقَرَأَهُ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا بِهِ مُؤْمِنِينَ
“—অতঃপর সে যদি সেটি তাদের সামনে ধারাবাহিক বিশ্লেষণ করে পাঠ বা উপস্থাপন করত, তবুও তারা নিজেদের জেদ ও কায়েমি স্বার্থের কারণে সেটির প্রতি বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করত না।”
আয়াত ২০০
كَذَٰلِكَ سَلَكْنَاهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ
“এভাবেই আমি (আমার প্রাকৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক নিয়মে) এই পরম সত্যের বাণীকে প্রবেশ করাই বা প্রবাহিত করি সেই অপরাধী ও সমাজ-বিধ্বংসী চক্রের সচেতন মনের বা চিন্তার অন্তরালে (অর্থাৎ তাদের সত্য জানার পরেও তারা তা অস্বীকারের চক্রান্ত করে)।”
আয়াত ২০১
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِ حَتَّىٰ يَرَوُا الْعَذابَ الْأَلِيمَ
“তারা এই পরম সত্যের শাসনব্যবস্থার প্রতি বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের কুকর্মের অবধারিত কুফল হিসেবে এক অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও তীব্র ধ্বংসাত্মক পরিণতির চাক্ষুষ মুখোমুখি হয়;”
আয়াত ২০২
فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
“অতঃপর সেই মহাসংকট বা বৈপ্লবিক ওলটপালট তাদের ওপর আকস্মিকভাবে এমন এক অবস্থায় আপতিত হবে যখন তারা নিজেরা বিন্দুমাত্র সেটির আগমন টের পাবে না।”
আয়াত ২০৩
فَيَقُولُوا هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَ
“তখন তারা (চরম অসহায়ত্বে ও অনুশোচনায়) চিৎকার করে বলবে: আমাদের কি আত্মসংশোধনের জন্য বিন্দুমাত্র কোনো অতিরিক্ত সময়কাল বা অবকাশ দেওয়া হবে (Hal nahnu munzarūn)?”
আয়াত ২০৪
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ
“তবে কি তারা (অতীতের সেই দাম্ভিক অহংকারে) আমার দেওয়া অবধারিত প্রাকৃতিক ধ্বংসাত্মক পরিণতি বা শাস্তিকে দ্রুত তরান্বিত করতে চেয়েছিল?”
আয়াত ২০৫
أَفَرَأَيْتَ إِن مَّتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ
“তুমি কি গভীরভাবে ভেবে দেখেছ—আমি যদি তাদের (আমার প্রাকৃতিক নিয়মে) দীর্ঘ বছর ধরে বৈষয়িক কায়েমি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সাময়িক উপকরণ ভোগ করতেও দিই,”
আয়াত ২০৬
ثُمَّ جَاءَهُم مَّا كَانُوا يُوعَدُونَ
“অতঃপর তাদের ওপর যদি অবধারিতভাবে আপতিত হয় সেই ভয়ঙ্কর পরিণতি—যার প্রতিশ্রুতি বা ওয়ার্নিং তাদের অবিরত দেওয়া হচ্ছিল,”
আয়াত ২০৭
مَا أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا يُمَتَّعُونَ
“তবে তাদের সেই অতীত সুদীর্ঘকালের ভোগকৃত বৈষয়িক সুযোগ-সুবিধা বা পুঁজিবাদী দাপট তাদের বিন্দুমাত্র কোনো কাজে আসবে না বা রক্ষা করতে পারবে না!”
আয়াত ২০৮
وَمَا أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ
“আর আমি কোনো জনপদ বা সামাজিক জনসমষ্টিকে (তার অন্যায়ের অবধারিত কুফলে) ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করাইনি—যতক্ষণ না তাদের সংশোধন ও সচেতনতার জন্য চাক্ষুষ প্রমাণাদিসহ সুস্পষ্ট সতর্ককারী বা গাইড দেওয়া হয়েছে,”
আয়াত ২০৯
ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَالِمِينَ
“—এক পরম জ্যান্ত শিক্ষা ও স্মারক হিসেবে; আর আমি কখনই বিন্দুমাত্র কোনো ভারসাম্যহীনতা তৈরি করা অন্যায়কারী বা জুলুমকারী নই।”
আয়াত ২১০
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيَاطِينُ
“আর এই পরম সত্যের সুসংগত শাসনতান্ত্রিক রূপরেখাকে নিয়ে কোনো উগ্র অহংকারী শক্তি, শয়তানি মানসিকতা বা কায়েমি স্বার্থান্বেষী অপশক্তি অবতীর্ণ বা জারি হতে পারে না (Wa mā tanazzalat bihish-shayātīn),”
আয়াত ২১১
وَمَا يَنبَغِي لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ
“—কারণ এটি তাদের মজ্জাগত চরিত্র ও নোংরা দর্শনের সাথে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ বা উপযুক্ত নয়, এবং তারা এটি ধারণ বা বিকৃত করার বিন্দুমাত্র কোনো মানসিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্যও রাখে না।”
আয়াত ২১২
إِنَّهُمْ عَنِ السَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ
“নিশ্চয়ই তারা এই পরম সত্যের বাণীর মূল উৎস বা নিবিড় জ্ঞানতাত্ত্বিক অবধানের ক্ষেত্র থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন ও আইনিভাবে বহিষ্কৃত ('Anis-sam'i lama'zūlūn)।”
আয়াত ২১৩
فَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ فَتَكُونَ مِنَ الْمُعَذَّبِينَ
“সুতরাং তুমি কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর চূড়ান্ত আইনের পাশাপাশি অন্য কোনো মনগড়া উপাস্য, প্রথা বা সমান্তরাল কর্তৃত্বকে নিজের ক্ষমতার উৎস হিসেবে আহ্বান কোরো না; অন্যথায় তুমি নিশ্চিতভাবেই সেই ধ্বংসাত্মক দহন ও বিপর্যয়ের শিকারদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
আয়াত ২১৪
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
“আর তুমি আসন্ন অবধারিত কুফল বা ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করো তোমার নিজের অত্যন্ত নিকটবর্তী আদর্শিক দল, সহচর বা সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক উপদলকে (Wa anzir 'ashīratakal-aqrabīn)।”
Keywords:
- عَشِيرَتَكَ (Ashīrataka): আক্ষরিক রক্তের আত্মীয়স্বজন বা গোষ্ঠী নয়, বরং একই মিশন ও সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনে কাজ করা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কোয়ালিশন, সহকর্মী বা টিম মেম্বার।
আয়াত ২১৫
وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
“এবং যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে পরম মানসিক শান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে তোমার এই বৈপ্লবিক রূপরেখার নিখুঁত অনুসারী হয়েছে, তাদের জন্য তুমি তোমার সুরক্ষামূলক ডানা বা অত্যন্ত কোমল সাংগঠনিক লালন-অনুকম্পা বিছিয়ে দাও (Wakhfid janāhaka).”
Keywords:
- جَنَاحَكَ (Janāhaka): আক্ষরিক পাখির ডানা নয়, বরং আন্দোলনের কর্মীদের ধরে রাখার জন্য নেতার অত্যন্ত দরদমাখা সাংগঠনিক ডানা, আশ্রয়, রাজনৈতিক সুরক্ষা বা প্রাতিষ্ঠানিক লালন।
আয়াত ২১৬
فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تَعْمَلُونَ
“অতঃপর তারা যদি (স্বার্থের কারণে) তোমার সুনির্দিষ্ট শাসনতান্ত্রিক নির্দেশ অমান্য করে বিচ্যুত হয়, তবে তুমি চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দাও: তোমরা যে সমস্ত সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী বিকৃতির কর্ম করছ, তা থেকে আমি সম্পূর্ণরূপে সম্পর্করহিত ও সম্পূর্ণ দায়মুক্ত!”
আয়াত ২১৭
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزُ الرَّحِيمِ
“সুতরাং তুমি পূর্ণ সাংগঠনিক ভরসা, আস্থা ও সমর্পণ করো সেই অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু বিবর্তনমূলক লালন-ব্যবস্থার মালিকের অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর (Watawakkal 'alal-'Azīzir-Rahīm).”
আয়াত ২১৮
الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ
“যিনি তোমাকে নিখুঁতভাবে প্রত্যক্ষ করেন—যখনই তুমি এই সত্যের শাসনব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সাংগঠনিকভাবে অনড় ও দৃঢ়ভাবে দণ্ডায়মান হও (Hīna taqūm),”
আয়াত ২১৯
وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ
“—এবং আল্লাহর অমোঘ আইনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও নিঃশর্ত সমর্পণ প্রদর্শনকারীদের (নিবেদিত কর্মীদের) মাঝে তোমার সুসংগত ও নিখুঁত বৈপ্লবিক চালচলন, আবর্তন ও অবিরাম সাংগঠনিক শ্রমকেও তিনি প্রত্যক্ষ করেন।”
আয়াত ২২০
إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু শোনেন ও মহাবিশ্বের প্রতিটি সুক্ষ্ম চালচলন নিখুঁতভাবে পরিজ্ঞাত।”
আয়াত ২২১
هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينَ
“আমি কি তোমাদের চাক্ষুষ প্রমাণের শক্তিতে সংবাদ দেব—কার ওপর বা কোন স্তরে সেই উগ্র অহংকারী শক্তি, শয়তানি মানসিকতা ও ক্ষতিকর কুপ্রবৃত্তির অপশক্তি অবতীর্ণ বা কার্যকর হয়?”
আয়াত ২২২
تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ
“তা কার্যকর হয় প্রতিটি চরম সত্য-বিচ্যুত, জঘন্য অপবাদ সৃষ্টিকারী বানোয়াট মিথ্যাবাদী এবং গুরুতর অপকর্মে লিপ্ত অপরাধী চরিত্রের ওপর ('Alā kulli affākin asīm).”
Keywords:
- أَفَّاكٍ (Affāk): যিনি সত্যকে তার মূল কাঠামো থেকে সম্পূর্ণরূপে উলটে দিয়ে সমাজে চরম প্রোপাগান্ডা ও কুটিল মিথ্যা ছড়ায়।
আয়াত ২২৩
يُلْقُونَ السَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ
“তারা (সেই শয়তানি অপশক্তিগুলো সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে) অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে চোরের মতো কান পাতে ও অসার খবরাখবর বা তথ্য চুরি করে, অথচ তাদের অধিকাংশ কথাই হলো সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”
আয়াত ২২৪
وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ
“আর সেই অবাস্তব, আবেগতাড়িত ও কল্পনাবিলাসী কবি বা মতাদর্শিক প্রবক্তাদের (Wash-shu'arā'u) নিখুঁত অন্ধ অনুসরণ করে কেবল তারাই—যারা নিজেরা সঠিক লক্ষ্য বা বাস্তব পথ থেকে ছিটকে পড়া এক লক্ষ্যহীন বিভ্রান্ত গোষ্ঠী (Al-ghāwūn).”
Keywords:
- وَالشُّعَرَاءُ (Wash-Shu’arā’): আক্ষরিক কবিতা লেখক নয়, বরং সমাজতাত্ত্বিক পরিভাষায় এটি এমন এক বিশেষ শ্রেণী বা ইন্টেলিজেনসিয়া যারা মাটির বাস্তবতাবর্জিত, আবেগ উসকে দেওয়া অত্যন্ত আকর্ষণীয় কিন্তু নিস্প্রাণ অবাস্তব কাল্পনিক দর্শন বা আদর্শ প্রচার করে সমাজকে মোহগ্রস্ত রাখে (ধাতুমূল: শ-অ-র = চেতনা বা বাহ্যিক অনুভব/কবিতা)।
আয়াত ২২৫
أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِي كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَ
“তুমি কি গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করোনি যে—তারা (সেই কল্পনাবিলাসী প্রবক্তারা) প্রতিটি অসার চিন্তার উপত্যকায় বা কাল্পনিক দর্শনের গলিতে বিন্দুমাত্র কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই লক্ষ্যহীনভাবে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায় (Fī kulli wādiy yahīmūn),”
Keywords:
- وَادٍ (Wādin): আক্ষরিক ভৌগোলিক উপত্যকা নয়, বরং মানুষের তৈরি করা বিক্ষিপ্ত কাল্পনিক চিন্তার গলি, দর্শনের মারপ্যাঁচ বা মনগড়া আদর্শের ক্ষেত্রসমূহ।
আয়াত ২২৬
وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ
“—এবং নিশ্চয়ই তারা মুখে ও বক্তৃতায় অত্যন্ত চমৎকারভাবে এমন সমস্ত অবাস্তব বড় বড় কথা বলে, যা তারা নিজেরা বাস্তবে কখনো সম্পাদন বা কার্যকর করে না?”
_______________________________________________________________________
À Arabs as well as other nations believed that poets get revelations. This is now called intuition. However, Quran has clarified the fact that Wahi is a completely different phenomenon.
225. As far as the poets are concerned (they think that they have knowledge of the unseen; yet actually) they are like camel who develop the strange sickness of fake and unquenchable thirst as they distractedly wander in every valley and desert. In other words, throughout their lives the poets are driven by emotions, and that too fake and unrealistic.226. And the biggest difference is that their own lives are not according to what they say. They themselves do not act upon their own words. (Therefore how can a messenger of Allah who has been inspired by the Divine Revolution, be like such poets. This certainly is not worthy of him ~ 36:69.)
227. However, those who believe in Wahi have a definite objective in life. Their programme is such that it develops their abilities and helps in solving problems of the society. They are always conscious of Divine Laws and never let them go out of sight. Whenever they are oppressed and treated unjustly (they do not give vent to their feelings by writing satiric poetry), but take full revenge to defend themselves. (Furthermore they establish a system in which the oppressors and wrongdoers are not left unbridled to do whatever they like, without anyone to check on them.) In this system people will clearly realize the destination they would be taken to after being diverted from the erroneous path and what their destined abode would be. (The Momineen can thus collectively put an end to the evil regime of the zalimeen.)
(This is the difference between the status and function of a Nabi and the so called claimants of sorcery and intuition.)