| SURAH 18 : AL-KAHAF | |
| “কাহাফ” (নিরাপদ অবস্থান), “ই’তাযাল” (বিচ্ছিন্ন হওয়া), “আরবাব” (ভ্রান্ত হুকুমদাতা) হামদ (Hamd): এটি কেবল মুখের প্রশংসা নয়, বরং আল্লাহর সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) স্বীকার করা। আ’দুদ (A’adat): এটি কোনো সংখ্যা নয়, বরং কর্মের ফলে প্রাপ্ত নির্ধারিত বা নিশ্চিত ফলাফল (Determined/Fixed Recompense)। আহাল (Ahl): পরিবার নয়, বরং কোনো বিষয়ের দায়িত্বশীল বা মালিক (Responsible/Caretaker)। আ’বা (A’aba): প্রচলিত ‘প্রত্যাখ্যান’ এর পরিবর্তে এর অর্থ হলো কোনো কাজ করতে অক্ষম হওয়া (Unable/Inability)। মিসর (Misr): লেনের লেক্সিকন অনুযায়ী এটি একটি সীমানা বা বিভাজন (Boundary/Limit) যা একটি সুসংগঠিত শহর বা ব্যবস্থার প্রতীক। “আবদ” ধারণাটির দ্বৈত অর্থ আছে। এটি এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে শুরুতে কঠিন পরিশ্রম ও সংগ্রাম করতে হয় এবং পরে তার সুফল পাওয়া যায়।প্রশিক্ষণ ও শক্তিশালীকরণ: যেমন একটি বন্য ঘোড়াকে প্রশিক্ষিত (Ta’abed) করা বা একটি রাস্তাকে শক্ত ও মসৃণ (Ta’beed) করা। অর্থাৎ, “আবদ” হওয়া মানে নিজেকে আল্লাহর আইনের অধীনে কঠোর শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবতার জন্য শক্তিশালী ও উপকারী করে তোলা। উপাসনা বনাম অনুসরণ: ফাইলে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, “Abd is not worship” (আবদ মানে কেবল উপাসনা নয়)। এটি হলো আল্লাহর নির্দেশিত নিয়ম-কানুন ও সামাজিক সংস্কারের কঠোর অনুসরণ।) ওপর এক উদ্দেশ্যপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন; যাতে মানুষের মনগড়া বিশ্বাসের কারণে কোনো উত্তেজনা বা বিভেদ না থাকে। তিলাওয়াত (Tilawat): কেবল পাঠ করা নয়, বরং বিধানের অনুসরণ ও বাস্তবায়ন (Follow & Implement)। ইকরা (Iqra): কেবল পড়া নয়, বরং তথ্যকে সংকলন ও বিন্যস্ত করা (Apply practically, compile and communicate)। 1 সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহরই (Sovereignty belongs to Allah), যিনি তাঁর প্রশিক্ষিত প্রতিনিধি (Abdihi)-এর ওপর একটি উদ্দেশ্যপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ বিধান (Al-Kitab) অবতীর্ণ করেছেন; যাতে মানুষের মনগড়া বিশ্বাসের কারণে কোনো প্রকার অসামঞ্জস্য না থাকে। 2 এটি একটি সুদৃঢ় ভিত্তি স্বরূপ বার্তা, যা ঐশ্বরিক আইন উপেক্ষা করার ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে এবং যারা শান্তির লক্ষ্যে সংশোধনমূলক কাজ (Amal-e-Swalehat) করে, তাদের এক উৎকর্ষময় জীবনের সুসংবাদ দেয় 3যা তারা (শান্তি স্থাপনকারীরা) উপভোগ করবে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তারা এই সিস্টেমের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) জারি রাখবে। 4 অধিকন্তু, এটি তাদেরও সতর্ক করে যারা দাবি করে: “আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কোনো উত্তরাধিকারী রয়েছে।5 এ বিষয়ে তাদের কোনো সঠিক জ্ঞান নেই এবং তাদের সেই অন্ধ সংস্কারাচ্ছন্ন পূর্বসূরিদেরও (Aba) ছিল না; এটি এক চরম মিথ্যা যা কেবল তাদের প্রজেক্ট করা ভিত্তিহীন প্রচারণা (Afwah) মাত্র। তারা নিছক বিভেদ সৃষ্টির জন্য এই ভিত্তিহীন দাবি করছে। (6) আপনি এই শান্তির বার্তার প্রতি তাদের অনীহা দেখে দুশ্চিন্তা ও অত্যধিক মানসিক চাপে (Stress) নিজের জীবনীশক্তি ও সক্ষমতা হারাবেন না। হাদিস (Hadis): এখানে ‘হাদিস’ মানে কেবল কথা নয়, বরং কুরআনের সেই শান্তির বার্তা (Message of Peace) যা সমাজ সংস্কারের মূল হাতিয়ার। আসফ (Asaf): এটি কেবল দুঃখ নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে একপ্রকার তীব্র উদ্বেগ (Grief/Anxiety)। 7 [৭-৮] বাস্তবতা হলো, আমি এই আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে (Al-Ardh) মানুষের প্রয়োজন মেটানোর উপযোগী প্রাথমিক উপকরণ এবং আমার পদ্ধতিগত নির্দেশনা (Guidance) দিয়ে সুসজ্জিত করেছি, যাতে যাচাই করা যায় যে তোমাদের মধ্যে কারা মানবতার জন্য সবচেয়ে উপকারী (Ahsan) কাজ সম্পন্ন করে; এবং নিশ্চয়ই আমরা (আমাদের অমোঘ আইনের মাধ্যমে), এর সেই উচ্চতর মর্যাদা ও অর্জিত জাঁকজমককেও (What is upon it – high state) একটি উদ্দেশ্যহীন ও অনুর্বর সমতলে (Sa’idan Juruzan) রূপান্তরকারী—যেখানে উন্নয়নের আর কোনো সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকবে না। সা’ইদান জুরুজান (Sa’idan Juruzan): সত্যের সেই সমতল বাস্তবতা যেখানে কোনো কৃত্রিম উচ্চতা বা অর্জিত আভিজাত্যের মোড়ক আর অবশিষ্ট থাকে না। ‘কাহাফ’ (Kahf) শব্দের অর্থ কেবল একটি ভৌগোলিক “গুহা” নয়। এর গভীর তাত্ত্বিক অর্থ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: বিচ্ছিন্নতা ও নিরাপত্তা (Isolation & Security): ‘কাহাফ’ বলতে এমন একটি নিরাপদ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থানকে (Isolated state/Refuge) বোঝায় যেখানে একদল ব্যক্তি বা সমাজ সংস্কারক একটি কলুষিত বা নিপীড়নমূলক সমাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। এটি কেবল শাব্দিক গুহা নয়, বরং আল্লাহর সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার জন্য একটি আদর্শিক ও কৌশলগত দূরত্ব তৈরি করা। বিকাশের ক্ষেত্র (Field of Development): এটি একটি বিশেষ পরিবেশ বা সিস্টেমের প্রতীক যেখানে আল্লাহর হিদায়াত ও প্রোগ্রামের অধীনে ব্যক্তিদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকাশ ঘটে। এখানে অবস্থান গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর রহমত ও নির্দেশনার মাধ্যমে নিজেদের মিশনকে (Mission) সুসংগঠিত করা。 সংশোধনী ও পুনর্গঠন: তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে, কাহাফ হলো সেই আধ্যাত্মিক ও মানসিক অবস্থান যেখানে মানুষ অন্ধ প্রথা (Aba) ত্যাগ করে আল্লাহর অমোঘ আইনের (Al-Kitab) সাথে নিজেদের একীভূত (Awa) করে। ***সহজ কথায়, ‘কাহাফ’ হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্বের বিধান মেনে চলার জন্য একটি নিরাপদ ভিত্তি বা প্ল্যাটফর্ম।**** ‘আসহাবে কাহাফ ও রাকিম’ মানে হলো সেই সব মানুষ যারা কেবল একটি নিরাপদ অবস্থানে (Kahf) একত্রিত হয়নি, বরং তারা তাদের সাথে আল্লাহর অকাট্য প্রমাণ ও বিধানের সংকলন (Raquim) রেখেছিল। এই প্রমাণের ভিত্তিতেই তারা তৎকালীন প্রচলিত সমাজব্যবস্থা ও আল্লাহর সার্বভৌমত্ব বিরোধী শক্তির মোকাবিলা করেছিল। [৯-১০] আপনি কি মনে করেন সেই সংকলিত প্রমাণের (Raquim) সাথীরা (Ashab), যারা একটি নিরাপদ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থানে (Kahf) একীভূত হয়েছিল, তারা আমার নিদর্শনসমূহের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক বা বিস্ময়কর (Ajaban) কিছু ছিল? যখন সেই প্রগতিশীল ও অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তিবর্গ (Al-Fityatu) সেই নিরাপদ অবস্থানে একীভূত (Awa) হলো, তখন তাদের পদক্ষেপ ও আচরণ (Qalu) ছিল এই যে— ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার বিধানের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ জীবন দান করুন এবং আমাদের মিশনের (Amr) ক্ষেত্রে সঠিক বিকাশের পথ (Rashada) সহজ করে দিন’।” আয়াত (Ayat): কেবল বাণী নয়, বরং আল্লাহর অমোঘ আইন বা নিদর্শন (Signs/Laws)। আজাব (Ajab): যা প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে সত্যের এক অপ্রত্যাশিত বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। [১১] ফলে আমি সেই নিরাপদ অবস্থানে তাদের তথ্য গ্রহণ ও যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে বাইরের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত/বিচ্ছিন্ন (Isolate/Shield) করে দিয়েছিলাম এক সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত ফলাফলের সময়কাল পর্যন্ত(সীনীনা আদাদা)। ১২.এরপর আমি তাদের প্রভাবশালী অবস্থায় উন্নীত করলাম (বা’আসনাহুম (Ba’asnahum): দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পর কোনো লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কাউকে পুনরায় সক্রিয় বা উদ্বুদ্ধ করা) যাতে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত হয় (Li-na’lama) যে, মিশনের সাথে যুক্ত থাকা বিপরীতমুখী আদর্শিক উপদলগুলোর (Hizbayni) মধ্যে কোনটি তাদের বিচ্ছিন্নতার সঠিক উদ্দেশ্য এবং সেই সময়কালের প্রভাবকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন/আত্মস্থ (Ahsa) করতে সক্ষম হয়েছে। আহসা (Ahsa): নিছক গণনা নয়, বরং গুরুত্ব ও প্রভাবের সঠিক মূল্যায়ন বা আত্মস্থ করা। হিজবাইন (Hizbayni): মিশনের সাথে যুক্ত বিপরীতমুখী আদর্শিক মেরুকরণ বা উপদল ১৩. আমি আপনাকে তাদের সুনিশ্চিত সংবাদ (নাবা) যথাযথভাবে বলছি—নিশ্চয়ই তারা ছিল এমন এক প্রগতিশীল দল (ফিতইয়াতুন) যারা তাদের রবের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি-মিশনের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারবদ্ধ ও একীভূত (আমানু) রেখেছিল এবং আমি তাদের সঠিক পথের বোধশক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। ১৪. আমি তাদের সংকল্পকে সুদৃঢ় (রাবাতা আলাল কুলুব) করেছিলাম যখন তারা রুখে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিল: “আমাদের পালনকর্তাই আকাশ ও পৃথিবীর একমাত্র নিয়ন্ত্রক, আমরা অন্য কোনো দাবিদারের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করব না।” আমি তাদের সংকল্পকে সুদৃঢ় (Rabata al-Quloob) করেছিলাম যখন তারা ঘোষণা করেছিল: “আমাদের পালনকর্তাই আকাশ ও পৃথিবীর একমাত্র নিয়ন্ত্রক, আমরা অন্য কোনো দাবিদারের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করব না।” ১৫ (তারা বলেছিল) “আমাদের এই জাতি আল্লাহর সার্বভৌমত্ব বাদ দিয়ে অন্যদের হুকুমদাতা (Arbab) হিসেবে গ্রহণ করেছে। কেন তারা এদের পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ (Sultan-im-Mubin) উপস্থাপন করে না? আল্লাহর বিধান সম্পর্কে যারা মিথ্যা মনগড়া দাবি (ইফতারা) করে, তাদের চেয়ে বড় অত্যাচারী আর কে হতে পারে? ১৬ “যেহেতু তোমরা তাদের থেকে এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যাদের হুকুম মেনে চলে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন (A’atazal) হয়েছ, তাই তোমরা সেই নিরাপদ অবস্থানে (Al-Kahf) একীভূত হও; তোমাদের রব তোমাদের প্রতি রহমত ছড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের মিশন (Amr) পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা (লক্ষ্য অর্জনের পথ বা উপায় (Sabeel) সহজ করে দেবেন।” ১৭. শামস (সূর্য/সত্যের আলো): প্রচলিত অর্থে সূর্য হলেও, এখানে এটি জ্ঞানের আলো বা রাজকীয় ক্ষমতার রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা হিদায়াতের পথ দেখায়। তাজাওয়ারু/ইয়ামীন (শক্তিশালী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ): এটি কেবল ‘ডান দিক’ নয়; বরং Yameen শব্দটি A’eman থেকে এসেছে, যার অর্থ শপথ, অঙ্গীকার, শক্তি এবং ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ় থাকা। তাকরিদুহুম (পৃথক হয়ে যাওয়া/ছেঁটে ফেলা): এর অর্থ হলো সত্যের আলো যখন ম্লান হয়, তখন তা তাদের থেকে আলাদা হয়ে যায় বা তাদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। আফালা (ম্লান বা দুর্বল হওয়া): এটি প্রচলিত ‘অস্ত যাওয়া’ নয়, বরং কোনো শক্তির প্রভাব কমে যাওয়া, উজ্জ্বলতা হারানো বা দুর্বল হয়ে পড়া। ফাতওয়াতিন (মূল কেন্দ্র/প্রশস্ত স্থান): এটি আশ্রয়ের এমন এক অবস্থা যা তাদের সব ধরণের বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রেখে সঠিক অবস্থানে (Center) স্থির রাখে। “এবং আপনি দেখবেন যখন সত্যের আলো (Shams) উদিত হয়, তখন তা তাদের নিরাপদ আশ্রয়কে শক্তিশালী, সুসংহত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Tazawaru/Yameen) করে; আর যখন তা ম্লান বা দুর্বল (Afala/Taqriduhum) হয়ে যায়, তখন তা তাদের থেকে পৃথক হয়ে যায় (তাদের কোনো ক্ষতি করে না)। তারা সেই আশ্রয়ের এক প্রশস্ত ও মূল কেন্দ্রে (Fajwatin) অবস্থান করছিল। এটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের (Ayat) অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ যাকে হিদায়াত (Hidayah) দান করেন, সেই প্রকৃত পথপ্রাপ্ত; আর যাকে তিনি তার কর্মফল অনুযায়ী বিভ্রান্তিতে (Yuzalil) ছেড়ে দেন, আপনি তার জন্য কোনো অভিভাবক (Waliy) বা পথপ্রদর্শক পাবেন না। [আপনি যদি তাদের লক্ষ্য করতেন, তবে দেখবেন প্রতিকূলতা (সূর্যের উত্তাপের ন্যায়) তাদের অবস্থান স্পর্শ করতে পারছে না; তারা সিস্টেমের এক প্রশস্ত স্তরে সুরক্ষিত ছিল। এটি আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন; যাকে আল্লাহ হিদায়াত (Hidayat) দান করেন সে-ই সফল।] [১৩-২৫] আমি আপনাকে তাদের সঠিক সংবাদ (Naba) যথাযথভাবে বলছি—তারা ছিল এমন প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গ যারা শান্তির মিশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। তারা যখন অন্যদের মনগড়া শাসন থেকে বিচ্ছিন্ন (A’atazal) হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, তখন তারা সেই নিরাপদ অবস্থানে একীভূত হলো। তারা সেই সিস্টেমের প্রশস্ত স্তরে সুরক্ষিত ছিল। তাদের কৌশলগত দক্ষতা তাদের সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর আমি তাদের প্রভাবশালী অবস্থায় উন্নীত করলাম যাতে তারা একটি তথ্যানুসন্ধানী মিশন (Fact-finding mission) পরিচালনা করতে পারে। 18 “অধিকন্তু, তাদের (বাহ্যিক তৎপরতা দেখে) হিসাব বা অনুমান (তাহসাবুহুম) করতেন যে তারা সম্পূর্ণ সজাগ এবং সতর্ক প্রহরায়(আইক্বাযান), যদিও তারা শান্তিতে (রুকুন্দ) ছিল—যাতে এই শান্তি ও সমৃদ্ধি ক্রমাগত বজায় থাকে। এভাবেই আমরা তাদের শত্রুদের তুলনায় তাদের আরও বেশি শক্তিশালী ও সম্পদশালী (Resourceful) করেছিলাম, যা তাদের ডানে ও বামে (চতুর্দিকে) ছড়িয়ে পড়েছিল; এবং এভাবেই তাদের কঠোর পরিশ্রম তাদের সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল//তাদের কর্মতৎপরতা ও কৌশলগত প্রস্তুতি তাদের সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের প্রতিরক্ষা ও সতর্কতা দেখে শত্রু পক্ষ ভীত হতো;। যদি তোমরা তাদের অবস্থা পরীক্ষা করতে তাদের ওপর চড়াও হতে, তবে তোমরা তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে এবং তাদের শক্তি ও সম্পদ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে (Adbar); কারণ তাদের লড়াইয়ের দক্ষতা ও প্রস্তুতির ভয়ে তোমরা আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে।” ****”অধিকন্তু, আপনি তাদের পাবেন সম্পূর্ণ সজাগ ও সতর্ক প্রহরায় (Ayqazan – أَيْقَاظًا), যদিও তারা ছিল শান্তিতে বা স্থির অবস্থায় (Ruquud – رُقُودٌ)—যাতে এই শান্তি ও সমৃদ্ধি ক্রমাগত বজায় থাকে কালবুহুম (كَلْبُهُمْ)। এভাবেই আমরা তাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে শক্তিশালী ও সম্পদশালী করছিলাম (Nuqallibuhum – نُقَلِّبُهُمْ), যা তাদের ডানে (Yameen – يَمِينِ) ও বামে (Shimal – شِمَالِ) চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল; এবং এভাবেই তাদের কঠোর পরিশ্রম তাদের সফলতার দ্বারপ্রান্তে (Bil-Waseed – بِالْوَصِيدِ) নিয়ে এসেছিল। যদি তোমরা তাদের অবস্থা পরীক্ষা করতে তাদের ওপর চড়াও হতে, তবে তোমরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে এবং তাদের শক্তি ও সম্পদ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দিতে (Adbar – أَدْبَار); কারণ তাদের লড়াইয়ের দক্ষতা ও প্রস্তুতির ভয়ে তোমরা আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে (Ru’ba – رُعْبًا)।” Ayqazan (أَيْقَاظًا) সজাগ/সতর্ক, তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত ও সচেতন ছিল। Ruquud (رُقُودٌ) স্থির/শান্তিতে থাকা’ বাহ্যিক কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকা। কালবুহুম (كَلْبُهُمْ) তাদের সুরক্ষা/প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা মিশনকে বাইরের প্রভাব থেকে আগলে রাখে। Nuqallibuhum (نُقَلِّبُهُمْ) অবস্থার পরিবর্তন/আবর্তন, তাদের শক্তি ও কৌশলগত অবস্থানের উন্নয়ন ঘটানো। Yameen & Shimal ডানে ও বামে, শক্তির বিস্তার এবং বিভিন্নমুখী কৌশল। Bil-Waseed (بِالْوَصِيدِ) সফলতার দ্বারপ্রান্তে/চৌকাঠ, তাদের মেহনত ও ত্যাগ তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। Adbar (أَدْبَار) শক্তি ও সম্পদ বিচ্ছিন্নকরণ, শত্রুদের পিছু হটা বা তাদের রসদ বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল। Ru’ba (رُعْبًا) ভীতি/বিস্ময়, তাদের সামরিক প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলার কারণে শত্রুদের মনে সৃষ্ট ভয়। ১৯: এভাবেই আমি তাদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার বা সচেতনতা আনলাম (Ba’asnahum – بَعَثْنَاهُمْ) যাতে তারা পরস্পরকে প্রশ্ন করতে পারে। তাদের একজন প্রশ্ন করল, “কতটা সময় আমরা এই (নিষ্ক্রিয়) অবস্থায় অবস্থান করেছি (লাবিসতুম)?” তারা বলল, “একটি পর্যায় বা সেই পর্যায়ের সামান্য কিছু অংশ (ইয়াউমান আও বা’দা ইয়াউম)।” তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছাল যে,, ” রব ভালো জানেন কতকাল ছিলে। এখন তোমাদের একজনকে এই সম্পদ বা প্রভাব (ওয়ারিক্ব) নিয়ে মূল জনপদে পাঠাও; সে যেন গভীরভাবে চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ করে (Fal-Yanzur – فَلْيَنظُرْ) কার কর্মপন্থা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ((Azka Ta’aman – أَزْكَىٰ طَعَامًا)), অতঃপর সেই পদ্ধতি থেকেই যেন কিছু বিকাশ বা সমৃদ্ধির মাধ্যম (বি-রিজক্বিন মিনহু) নিয়ে আসে এবং সে যেন অত্যন্ত সতর্ক থাকে”। “তাদের অস্তিত্বের সেই অবস্থাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যেটিতে আমরা আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের উন্নীত করেছিলাম (Ba’asnahum – بَعَثْنَاهُمْ), যাতে তারা তাদের বিরোধীদের ওপর নজর রাখতে পারে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে পারে। অবশেষে তাদের প্রবীণদের একটি দল তরুণদের বলল, “তোমরা এই উপত্যকায় কতকাল বসবাস করছ?” তারা বলল, “আমরা এখানে দীর্ঘ সময় বা দিনের একটি ভালো অংশ ধরে আছি।” তারা বলল, “তোমাদের রবই ভালো জানেন তোমরা কতকাল এখানে আছ; তবে চিন্তা করে দেখো, তোমরা শেষ কবে অন্য মানুষের কাছে কোনো দূত পাঠিয়েছিলে তাদের সম্পর্কে জানতে এবং তাদের আল্লাহর পথে আহ্বান করতে? সুতরাং তোমাদের মধ্য থেকে একটি দলকে তথ্যানুসন্ধান মিশনে পাঠাও (Biwariqikum – بِوَرِقِكُمْ) সেই রাজ্যের প্রধান শহরে যেখান থেকে আমরা এসেছি। তারা যেন এই বার্তা নিয়ে গিয়ে খুঁজে বের করে কারা ভালো অবস্থানে আছে—আমরা না কি সেই সব মানুষ যাদের আমরা পেছনে ফেলে এসেছি (Azka Ta’aman – أَزْكَىٰ طَعَامًا); অতএব সেই জাতি সম্পর্কে আমাদের জন্য কিছু কার্যকর তথ্য নিয়ে আসুক (Bi-Rizq – بِرِزْقٍ) যাতে আমরা পরিস্থিতি বিচার করতে পারি। দলটি যেন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাদের কাজ পরিচালনা করে (Wal-Yatalattaf – وَلْيَتَلَطَّفْ) এবং এমন আচরণ না করে যাতে অন্যরা আমাদের উপস্থিতি সম্পর্কে সজাগ হয়ে যায় এবং আমাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করে।” Ba’asnahum (بَعَثْنَاهُمْ): একটি বিশেষ কর্মসূচি বা লক্ষ্যের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি বা উন্নীত করা। Biwariqikum (بِوَرِقِكُمْ): এখানে এটি কেবল মুদ্রা নয়, বরং সেই ‘বার্তা’ বা ‘সম্পদ’ যা নিয়ে তথ্যানুসন্ধানে পাঠানো হয়েছে। Azka Ta’aman (أَزْكَىٰ طَعَامًا): এখানে এটি ‘সেরা খাদ্য’ নয়, বরং ‘কারা ভালো অবস্থানে বা সঠিক পথে আছে’ তা যাচাই করার মানদণ্ড। Bi-Rizq (بِرِزْقٍ): কার্যকর তথ্য বা রসদ যা পরিস্থিতি বিচারে সাহায্য করে। Wal-Yatalattaf (وَلْيَتَلَطَّفْ): অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশল, বুদ্ধিমত্তা এবং সাবধানতা অবলম্বন করা। 20 “নিশ্চয়ই তারা যদি তোমাদের প্রকৃত অবস্থা জেনে ফেলে বা তোমাদের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করে (Yathharu ‘alaikum), তবে তোমাদের দমন করবে অথবা জোরপূর্বক তোমাদের তাদের আদর্শে (আবা (Aba) বা অন্ধ প্রথায় ফিরে যেতে বাধ্য করবে) ফিরিয়ে নেবে; আর তবে তোমরা কখনোই সফল (তুফলিহু) হতে পারবে না।” Aba (অন্ধ সংস্কার) [২১] এভাবেই আমি তাদের এই বিপ্লবের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিলাম এবং তাদের অবস্থান প্রকাশ্যে নিয়ে এলাম, যাতে তারা অকাট্যভাবে বুঝতে পারে যে আল্লাহর পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি (Wa’adallah) সত্য এবং সামাজিক পুনর্জাগরণের সেই সুনিশ্চিত মুহূর্তের (Sa’at) বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই; যখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের মিশন ও আদর্শিক পদ্ধতি (Amr) নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত ছিল, তখন কেউ কেউ তাদের ওপর একটি আদর্শিক প্রতিবন্ধকতা বা প্রথাগত কাঠামো (Bunyanan) চাপিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিল (যাতে সত্য আড়াল হয়), কিন্তু তাদের রবই তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো জানেন; অবশেষে যারা সত্যের সিদ্ধান্তে বিজয়ী হয়েছিল তারা বলল, “আমরা অবশ্যই তাদের এই মিশনের ওপর একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র (Masjidan) গড়ে তুলব (যাতে এই সংস্কার অব্যাহত থাকে)।” {এভাবে আমি তাদের বিষয়টি উন্মোচিত করলাম যাতে মানুষ জানতে পারে যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং চূড়ান্ত ফলাফলের সময়কাল সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। যখন তারা তাদের বিষয়ে বিবাদ করছিল, তখন কেউ বলল, “তাদের ওপর একটি সৌধ নির্মাণ করো।” যাদের সিদ্ধান্ত জয়ী হলো তারা বলল, “আমরা অবশ্যই তাদের অবস্থানে একটি ইবাদতগাহ (মসজিদ) নির্মাণ করব।”} “কিন্তু এ কারণেই আমরা তাদের বার্তা তাদের সম্প্রদায়ের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে দিয়েছিলাম (A’asarna – أَعْثَرْنَا) তারা তাদের ছেড়ে যাওয়ার পরেও; যাতে মানুষ জানতে পারে যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং যদি তারা আমাদের উপদেশকে গুরুত্বের সাথে নিতে ব্যর্থ হয় তবে আকস্মিক গণবিপ্লব বা উত্থানের সময় (Al-Sa’atu – السَّاعَةُ) আসা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অবশেষে তারা চলে যাওয়ার পর জনপদের মানুষ তাদের মিশন বা লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের মধ্যে তর্কে লিপ্ত হলো; তাই কেউ কেউ পরামর্শ দিল, ‘আসুন আমরা তাদের (আদর্শকে) ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করি এবং তাদের ভিত্তির ওপর আমাদের সমাজ গড়ে তুলি (Bunyanan – بُنْيَانًا), কারণ তাদের রবই তাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন।’ যারা তাদের মধ্যে এই দায়িত্ব পালনে সক্ষম ছিল তারা বলল, ‘আসুন আমরা তাদের আদর্শ অনুযায়ী একটি যথাযথ প্রতিষ্ঠান (Masjidan – مَّسْজِدًا) গড়ে তুলি।'” ২২) – শব্দে শব্দে তাত্ত্বিক অনুবাদ আরবি শব্দ (Word) তাত্ত্বিক বাংলা অর্থ (Conceptual Meaning) ব্যাখ্যা (WQT Framework অনুযায়ী) সায়াক্বলুনা (سَيَقُولُونَ) তারা অদূর ভবিষ্যতে আচরণ/প্রক্ষেপ করবে এটি কেবল মুখের কথা নয়, বরং মানুষের আচরণগত প্রক্ষেপ। সালাসাথুন (ثَلَاثَةٌ) প্রাথমিক বা অসম্পূর্ণ পর্যায়ের এটি মিশনের সক্ষমতার একটি প্রাথমিক স্তর নির্দেশ করে। রাবিউহুম (رَابِعُهُمْ) তাদের চতুর্থ (উন্নতির ধাপ) মিশনের সক্ষমতার পরবর্তী ধাপ। কালবুহুম (كَلْبُهُمْ) তাদের সুরক্ষা/প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা তাদের মিশনকে বাইরের প্রভাব থেকে আগলে রাখে। খামসাথুন (خَمْسَةٌ) আরও বিস্তৃত বা শক্তিশালী স্তর মিশনের সক্ষমতার একটি উন্নত পর্যায়। সাদিসুহুম (سَادِسُهُمْ) তাদের ষষ্ঠ (উন্নতির ধাপ) মিশনের কাঠামোগত বিস্তৃতি। রাজমান (رَجْمًا) অন্ধ অনুমান বা গুজব পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়াই কোনো বিষয়ে দাবি করা। বিল-গাইবি (بِالْغَيْبِ) অকাট্য প্রমাণের অনুপস্থিতিতে যা ইন্দ্রিয় বা যুক্তি দ্বারা নিশ্চিত করা হয়নি। সাবআ’তুন (سَبْعَةٌ) পূর্ণাঙ্গ বা সুসংহত সক্ষমতা মিশনের একটি চূড়ান্ত ও শক্তিশালী অবস্থান। সামিনুহুম (ثَامِنُهُمْ) তাদের অষ্টম (স্থায়িত্বের ধাপ) মিশনের স্থায়িত্ব ও বিস্তারের সক্ষমতা। ক্বুল (قُلْ) আপনি প্রমাণের ভিত্তিতে ঘোষণা করুন অকাট্য সত্য প্রচারের নির্দেশ। রাব্বি (رَبِّي) আমার সার্বভৌম পালনকর্তা যিনি মিশনের সকল রসদ ও সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেন। আ’লামু (أَعْلَمُ) অধিক অবগত/অকাট্য জ্ঞানী যা কোনো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়। বি-ইদ্দতিহিম (بِعِدَّتِهِمْ) তাদের প্রকৃত সক্ষমতা/পরিমাপ সম্পর্কে মিশনের সঠিক পরিধি ও প্রস্তুতি। মা ইয়া’লামুহুম (مَا يَعْلَمُهُمْ) কেউ তাদের প্রকৃত অবস্থা জানে না সত্য তথ্য ছাড়া মিশন অনুধাবন অসম্ভব। ইল্লা ক্বলীলুন (إِلَّا قَلِيلٌ) কেবল অল্প কিছু বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন ছাড়া যারা গভীর তাত্ত্বিক জ্ঞান রাখে। ফা-লা তুতমারি (فَلَا تُمَارِ) সুতরাং কোনো বিতর্কে লিপ্ত হবেন না অকেজো বা বাহ্যিক বিষয়ে সময় নষ্ট না করা। মিরা’আন (مِرَاءً) বাহ্যিক বা ভিত্তিহীন বিতর্ক প্রমাণের অভাবযুক্ত বাকবিতণ্ডা। জাহিরান (ظَاهِرًا) যা কেবল দৃশ্যমান বা উপরিভাগের মিশনের গভীর উদ্দেশ্য বাদ দিয়ে কেবল বহিরাবরণ। ওয়া-লা তাতাফতি (وَلَا تَسْتَفْتِ) এবং কোনো তথ্যানুসন্ধান করবেন না অনুমানের ওপর ভিত্তি করে জ্ঞান অন্বেষণ না করা। মিনহুম (مِنْهُمْ) তাদের (গুজব রটনাকারীদের) থেকে যাদের কাছে অকাট্য কোনো দলিল নেই। আহাদান (أَحَدًا) কারো কাছেই/কোনো বিষয়েই মিশনের গূঢ় রহস্য কেবল কিতাবের মাধ্যমেই প্রাপ্য। “অদূর ভবিষ্যতে অনেকে এই আচরণ ও প্রক্ষেপ (Sayaqūlūna) করবে যে— সেই প্রগতিশীল যুবকদের মিশনের সক্ষমতা ছিল কেবল hurdle full (Thalāthatun) এবং তাদের মিশনের সেই প্রতিপালনকারী ও সংহত বৈশিষ্ট্যটিই (Rābi‘uhum) ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ব্যবস্থা (Kalbohum); আবার কেউ কেউ অন্ধ অনুমানের (Rajman) ভিত্তিতে অপ্রমাণিত তথ্য (Bil-Ghaibi) ছড়াবে যে— তাদের সক্ষমতা ছিল বিস্তৃত (Khamsatun) এবং তাদের মিশনের সেই পরিচালনাকারী বৈশিষ্ট্যটিই (Sādisuhum) ছিল তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা (Kalbohum)। আরও অনেকে প্রক্ষেপ করবে যে— তাদের সক্ষমতা ছিল সুসংহত ও পূর্ণাঙ্গ (Sab‘atun) এবং তাদের সেই স্থায়িত্ব দানকারী শক্তিশালী ভিত্তিটিই (Thāminuhum) ছিল তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা (Kalbohum)। আপনি ঘোষণা করুন (Qul), আমার সার্বভৌম রব (Rabbī)-ই তাদের মিশনের প্রকৃত সক্ষমতা, পরিধি ও পরিমাপ (Bi-‘Iddatihim) সম্পর্কে অকাট্য জ্ঞানের অধিকারী; যারা এই মিশনের গভীর তাত্ত্বিক বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান (Qalīlun) রাখে, তারা ছাড়া আর কেউ তাদের প্রকৃত অবস্থান অনুধাবন করে না (Mā Ya‘lamuhum)। সুতরাং, তাদের মিশনের এই উপরিভাগের দৃশ্যমান বিষয় (Zāhiran) নিয়ে কোনো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যহীন বিতর্কে (Tamāri/Mirā’an) লিপ্ত হবেন না এবং এই গুজব রটনাকারীদের কারো কাছেই তাদের বিষয়ে কোনো তথ্যানুসন্ধানী জিজ্ঞাসা (Tastafti) করবেন না।” Sayaqūlūna (সায়াক্বলুনা): তারা আচরণগত প্রক্ষেপ বা দাবি করবে। Thalāthatun (সালাসাথুন): hardship বা অসম্পূর্ণ পর্যায়ের সক্ষমতা। Rābi‘uhum (রাবিউহুম): প্রতিপালনকারী বা সংহত অংশ (রর/Rabb মূলধাতু থেকে)। [INDEX: 0.1.25] Kalbohum (কালবুহুম): মিশনের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা বা সুরক্ষা ব্যবস্থা। Rajman bil-Ghaibi (রাজমান বিল-গাইবি): অকাট্য প্রমাণহীন বিষয়ে অন্ধ অনুমান বা গুজব। [INDEX: 0.1.705] Khamsatun (খামসাথুন): বিস্তৃত বা শক্তিশালী স্তর। Sādisuhum (সাদিসুহুম): পরিচালনাকারী বা কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য। Sab‘atun (সাবআ’তুন): সুসংহত ও পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা। Thāminuhum (সামিনুহুম): স্থায়িত্ব দানকারী ও শক্তিশালী ভিত্তি। Bi-‘Iddatihim (বি-ইদ্দতিহিম): মিশনের প্রকৃত প্রস্তুতি, পরিধি ও চূড়ান্ত সক্ষমতার পরিমাপ। Qalīlun (ক্বলীলুন): বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন অল্প কিছু মানুষ যারা সত্যের মর্ম বোঝে। Mirā’an Zāhiran (মিরা’আন জাহিরান): উপরিভাগের দৃশ্যমান বিষয় নিয়ে ভিত্তিহীন বিতর্ক। Tastafti (তাতাফতি): অনুমানের ওপর ভিত্তি করে অন্যের কাছে তথ্য অন্বেষণ করা। 2৩ এবং কখনোই কোনো মিশন বা সমাজ সংস্কারের বিষয়ে এই আচরণ বা প্রতিষ্ঠিত কর্মপন্থা (Qaul) গ্রহণ করবেন না যে— “আমি এটি কালকেই (তৎক্ষণাৎ) সম্পন্ন করব” Qaul (আচরণ/পদক্ষেপ) 24 ২৪ আল্লাহর অমোঘ সিস্টেমের ইচ্ছা ও প্রাকৃতিক আইনের সুনির্দিষ্ট সমন্বয় (In-Sha-Allah) ছাড়া। যখনই আপনি সঠিক গন্তব্য বা মূলনীতি ভুলে যান, আপনার সার্বভৌম পালনকর্তার (Rabb) সার্বভৌমত্বের বিধান স্মরণ করুন এবং বলুন— “আশা করি আমার রব আমাকে আমার মিশনের আরও নিকটবর্তী ও সঠিক বিবর্তনীয় পথে (Rashada) পরিচালিত করবেন।” [২৪] ২৫ ওয়া লাবিছূ (وَلَبِثُوا) এবং তারা মূল্যায়ন/ধারণ করেছিল এটি নিছক অবস্থান করা নয়, বরং মিশনের উদ্দেশ্য ও শিক্ষাকে গভীরভাবে আত্মস্থ করার প্রক্রিয়া। ফী কাহফিহিম (فِي كَهْفِهِمْ) তাদের সেই নিরাপদ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থানে আদর্শিক উন্নয়নের জন্য একটি সুরক্ষিত এবং কৌশলগত পরিবেশ। সালাসা (ثَلَاثَ) তিন (উন্নতির স্তর) বিবর্তনের একটি প্রাথমিক ও শক্তিশালী পর্যায়। মিয়াহ (مِائَةٍ) একশ (পূর্ণতা/রসদ) ‘মা-আ’ (মূল রসদ) থেকে উদ্ভূত, যা মিশনের পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা প্রাপ্তিকে নির্দেশ করে। সিনিনা (سِنِينَ) বিবর্তনমূলক সময়কাল এটি কেবল বছর নয়, বরং আদর্শিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘ সময়। ওয়া-জদাদু (وَازْدَادُوا) এবং তারা সংহত/বৃদ্ধি করেছিল এই সময়ে তারা তাদের আদর্শিক সক্ষমতা ও শক্তিকে আরও বাড়িয়ে নিয়েছিল। তিস’আ (تِسْعًا) নয় (সুসংহতকরণের মাত্রা) মিশনের স্থায়িত্ব ও কাঠামোগত সুসংহতকরণের একটি চূড়ান্ত স্তর। “সেই প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গ তাদের নিরাপদ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থানে (Fī Kahfihim) থেকে একটি দীর্ঘ বিবর্তনমূলক সময়কাল (Sinina) ব্যাপী তাদের মিশনের মূলনীতিসমূহ মূল্যায়ন ও আত্মস্থ (Wa Labithu) করেছিল, যার ফলে তারা বিবর্তনের প্রাথমিক ও শক্তিশালী পর্যায় (Thalātha) পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা ও রসদ (Mi’atin) প্রাপ্ত হয়েছিল এবং এই সময়ে তারা নিজেদের আদর্শিক শক্তিকে আরও বৃদ্ধি করে (Wa-zdādū) মিশনের স্থায়িত্ব ও কাঠামোগত সুসংহতকরণের একটি চূড়ান্ত স্তরে (Tis’a) উন্নীত হয়েছিল। [২৫] ২৬ আপনি ঘোষণা করুন বলুন, “তারা যে মতাদর্শিক অবস্থা বজায় রেখেছিল (بِمَا لَبِثُوا – বিমা লাবিছূ), তার প্রকৃত গভীরতা ও অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ-ই সবচেয়ে বেশি জ্ঞান রাখেন (اللَّهُ أَعْلَمُ – আল্লাহু আ’লাম); মহাজাগতিক উচ্চতর নিয়মনীতি এবং পার্থিব বস্তুগত জগতের (السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ – আস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদ) সমস্ত অপ্রকাশিত বা গোপন বিষয়াবলী (غَيْبُ – গাইব) একমাত্র তাঁরই সার্বজনীন নিয়মের মাধ্যমে সুনিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। তাঁর দেওয়া বিধান ও সামাজিক আইন মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতি সঠিকভাবে দেখার দূরদর্শিতা দেয় এবং সমাজ বিনির্মাণের সঠিক জ্ঞান শোনায় (أَبْصِرْ بِهِ وَأَسْمَعْ)! তিনি ছাড়া মানুষের কোনো প্রকৃত অভিভাবক বা সাহায্যকারী নেই, আর তিনি তাঁর শাসন বা চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তে (فِي حُكْمِهِ ফী হুকমিহী) কাউকেই অংশীদার বা সমকক্ষ করেন না (أَحَدًا)। – আহাদান)। ২৭ আর আপনার রবের কিতাব (كِتَابِ رَبِّكَ – কিতাবি রব্বিকা) থেকে আপনার প্রতি যা ওহী বা ঐশী নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, তা সমাজ জীবনে প্রচার ও বাস্তবে প্রয়োগ করো (وَاتْلُ – ওয়াতলু); তাঁর সুনির্দিষ্ট ও অবধারিত প্রাকৃতিক আইনসমূহ (لِكَلِمَاتِهِ – লিকালিমাতিহী) পরিবর্তন করার মতো কেউ নেই (لَا مُبَدِّلَ – লা মুবাদ্দিলা) এবং আপনি কখনোই তিনি ছাড়া অন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় বা সমর্পণস্থল পাবেন না। [26] Tell your people, Allah makes known period of their isolation because He is the One Who makes known for mankind the secrets of the heavens and the earth therefore understand things through His vision and do things according to His guidance! Your people must come to realise that they have no refuge other than following His set laws because He does not allow anyone share in sovereignty of His kingdom. [27] Remain consistent with what has been revealed to you of the book of your Lord, none has the power to change His Words and you will find no refuge to protect you from harmful mindset and destructive attitude save His guidance that stops you from harmful beliefs and destructive actions against each other. ২৮ আর আপনি নিজেকে সেইসব মানুষের সাথে অবিচল ও সংহত রাখুন (وَاصْبِرْ نَفْسَكَ – ওয়াসবির নাফসাকা) যারা সূচনায় এবং সমাজ যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ থাকে (وَالْعَشِيِّ – ওয়াল-আশিয়ী)—সেই সব পরিস্থিতিতেও তাদের রবের বিধানকে আহ্বান করে এবং তাঁরই অভিমুখ বা সন্তুষ্টি কামনা করে। পার্থিব জীবনের বাহ্যিক চাকচিক্যের লোভে আপনার প্রজ্ঞাময় অন্তর্দৃষ্টি (عَيْنَاكَ – আইনাকা) যেন তাদের থেকে সরে না যায়। এমন কোনো নেতার আনুগত্য করো না যে আমাদের লক্ষ্য ও কিতাবের দিকনির্দেশনা (ذِكْرِنَا) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে (অথবা কিতাবকে বুঝেশুনে প্রয়োগ না করে কেবল অন্ধ অনুকরণ করে (وَالْعَশِيِّ)) আগফালনা কালবাহু), যে নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার পুরো বিষয়টিই সীমালঙ্ঘন ও বিশৃঙ্খলায় রূপ নিয়েছে। [২৯ আর ঘোষণা করুন, “চূড়ান্ত সত্য ও ন্যায্য অধিকার (الْحَقُّ – আল-হাক্ক) তোমাদের রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট; অতএব যার ইচ্ছা সে জ্ঞানবুদ্ধি খাটিয়ে পরম শান্তিতে সত্যকে গ্রহণ করুক (فَلْيُؤْمِن – ফালয়ুমিন), আর যার ইচ্ছা সে সত্যকে আড়াল বা অস্বীকার করুক (فَلْيَكْفُرْ – ফালয়াকফুর)।” নিশ্চয়ই আমরা অন্যায়কারী সমাজ-শোষকদের কর্মের অবধারিত কুফল বা নেতিবাচক প্রতিফল হিসেবে (أَعْتَدْنَا – আ’তাদনা) এক ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক আগুন নির্ধারণ করে রেখেছি, যার বেড়াজাল তাদেরকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলবে।তারা যদি তাদের এই ভেঙে পড়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরি কোনো বাহ্যিক ব্যাকআপ বা পুঁজি অনুসন্ধান করে [يَسْتَغِيثُوا], তবে তাদেরকে এমন এক উত্তপ্ত ও বিষাক্ত তরলের মতো অস্থিতিশীল সমাধান দেওয়া হবে [يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ] যা তাদের সামগ্রিক নেতৃত্বের বা সামাজিক কাঠামোর প্রকাশ্য রূপকে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে বিকৃত করে দেবে। কত নিকৃষ্ট সেই প্রতিদান এবং কত ভয়াবহ সেই সমাজব্যবস্থা! আয়াহ ৩০ নিশ্চয়ই যারা পরম বিশ্বাসের সাথে ইমান এনেছে এবং সমাজ সংস্কার ও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার কাজ করেছে (عَمِلُوا الصَّالِحَاتِ – আমিলুস সালিহাত)—আমরা অবশ্যই সেই ব্যক্তির যথাযথ প্রতিদান বিনষ্ট করব না, যে নিঃস্বার্থভাবে শূন্যতা পূরণ করতে সর্বোত্তম ও সুষম কর্ম সম্পাদন করেছে (مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا – মান আহসানা আমালা)। আয়াহ ৩১ এদের জন্যই রয়েছে আদর্শিক ও চিরস্থায়ী পরম প্রশান্তির সমাজ বা জীবনব্যবস্থা (جَنَّاتُ عَدْنٍ – জান্নাতু আদনিন: চিরস্থায়ী প্রশান্তি ও পরম সুখের রাজ্য جَنَّاتُ (Jannat): এমন এক পরম সুখ ও প্রাচুর্যের অবস্থা বা রাজ্য যা পূর্বে মানুষের কাছে অদৃশ্য বা অজানা ছিল, কিন্তু হিদায়াত ও সঠিক কর্মের ফলে এখন সামনে প্রকাশ পেয়েছে), যার অভ্যন্তরীণ স্তর থেকে জ্ঞানের সুশীতল ও প্রাণবন্ত প্রবাহসমূহ (الْأَنْهَارُ – আল-আনহার: প্রয়োজনীয় উপকরণের অবিরাম প্রবাহ) বয়ে যায়; সেখানে তাদেরকে সম্মানের অলঙ্কারে ভূষিত করা হবে এবং তাদের ব্যক্তিত্ব হবে গৌরবময় ও মর্যাদাপূর্ণ (নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় থাকা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, প্রাচুর্য, এবং রাষ্ট্রীয় বা সামষ্টিক জীবনের সর্বোচ্চ উচ্চমর্যাদা), সেখানে তারা সুউচ্চ আসনে(আলাল আরিয়িক): সমমর্যাদার উচ্চাসন অধিষ্ঠিত হবে। কত চমৎকার এই সঠিক কর্মের প্রতিদান বা ফসল (الثَّوابُ – আছ-ছাওয়াব ছিয়াবান খুদরাম : সমৃদ্ধি ও সচ্ছলতায় আচ্ছাদিত থাকবে) এবং কতই না উত্তম এই পরম শান্তির আশ্রয়স্থল (নে‘মাছ ছাওয়াবু ওয়া হাসুনাত মুরতাফাকা)! শব্দভিত্তিক বিশ্লেষণ (Word-by-Word Translation) أُولَٰئِكَ (উলাইকা): এরাই তারা / এই সমস্ত লোক। لَهُمْ (লাহুম): যাদের জন্য রয়েছে। جَنَّاتُ (জান্নাতু): পরম সুখের রাজ্য / প্রাচুর্যের অবস্থা (যা আগে অদৃশ্য বা অজানা ছিল)। عَدْنٍ (আদনিক): চিরস্থায়ী প্রশান্তি / চরম স্থায়িত্ব ও স্থিরতা। تَجْرِي (তাজরী): নদীর মতো অবিরাম প্রবাহিত হতে থাকবে / চলমান থাকবে। مِنْ (মিন): থেকে / তলদেশ থেকে। تَحْتِهِمُ (তাহতিহিমু): তাদের কাঠামোর নিচ বা অভ্যন্তর / তাদের সামষ্টিক ভিত্তি। الْأَنْهَارُ (আল-আনহারু): প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণ ও সুযোগ-সুবিধার স্রোত (নদীসমূহ)। يُحَلَّوْنَ (ইউহাল্লাওনা): তারা ভূষিত হবে / অলংকৃত হবে। فِيهَا (ফীহা): তার মধ্যে (সেই রাজ্যের মধ্যে)। مِنْ (মিন): থেকে। أَسَاوِرَ (আসাবিরা): সামাজিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় কড়া নিরাপত্তার বলয় (কঙ্কনসমূহ)। مِنْ (মিন): এর / থেকে। ذَهَبٍ (যাহাবিন): অত্যন্ত মূল্যবান সামাজিক মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব (স্বর্ণ)। وَيَلْبَسُونَ (ওয়া ইয়ালবাসূনা): এবং তারা বছরজুড়ে পরিধান করবে বা আচ্ছাদিত থাকবে। ثِيَابًا (ছিয়াবান): একটি সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থা বা রাষ্ট্রীয় আবরণ (পোশাকসমূহ)। خُضْرًا (খুদরান): অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সচ্ছলতা ও অনাবিল স্বাচ্ছন্দ্য (সবুজ বর্ণ)। مِنْ (মিন): এর দ্বারা। سُنْدُسٍ (সুন্দুসিন): সূক্ষ্ম, নিখুঁত ও আরামদায়ক সামাজিক ভারসাম্য (মিহি রেশম)। وَإِسْتَبْرَقٍ (ওয়া ইস্তাবরাকিন): এবং মজবুত, সুদৃঢ় সামষ্টিক বন্ধন ও অর্থনৈতিক বুনিয়াদ (ভারী রেশম)। مُتَّكِئِينَ (মুত্তাকিঈনা): তারা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত বা সমাসীন থাকবে। فِيهَا (ফীহা): তার মধ্যে। عَلَى (আলা): ওপরে / উচ্চাসনে (1 Vocabula… p. 7)। الْأَرَائِكِ (আল-আরিয়িক): শ্রেণীভেদ ও বৈষম্যহীন সমতাভিত্তিক সমাজ (সুসজ্জিত সিংহাসনসমূহ)। نِعْمَ (নে’মা): কতই না চমৎকার / কতই না উৎকৃষ্ট! الثَّوَابُ (আছ-ছাওয়াবু): গঠনমূলক কাজের এই সঠিক ও সামষ্টিক প্রতিদান (ন্যায্য ফলাফল)। وَحَسُنَتْ (ওয়া হাসুনাত): এবং তা অত্যন্ত নিখুঁত ভারসাম্য ও রূপময় সৌন্দর্যমণ্ডিত (1 Vocabula… p. 42)। مُرْتَفَقًا (মুরতাফাকান): সর্বজনীন শান্তিময় জীবন ব্যবস্থা বা পরম আশ্রয়স্থল। “এরাই তারা যাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী প্রশান্তি ও পরম সুখের রাজ্য, যার তলদেশ দিয়ে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ অবিরাম নদীর মতো প্রবাহিত হতে থাকবে। সেখানে তারা অত্যন্ত মূল্যবান সামাজিক সম্মান ও কড়া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বলয়ে ভূষিত হবে এবং বছরজুড়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সচ্ছলতা ও মিহি-ভারী মজবুত সমাজ কাঠামোর আবরণে আচ্ছাদিত থাকবে। সেখানে তারা সমতাভিত্তিক সমাজ ও মর্যাদার উচ্চাসনে সুদৃঢ়ভাবে সমাসীন থাকবে। কতই না চমৎকার এই কাজের প্রতিদান এবং কত সুন্দর এই সামষ্টিক জীবন ব্যবস্থা!” আয়াহ ৩২ وَاضْرِبْ (ওয়াদ্রিব): এবং আপনি উপস্থাপন করুন / তুলে ধরুন। لَهُمْ (লাহুম): তাদের সামনে / মানুষের কল্যাণে। مَثَلًا (মাছালান): একটি রূপক দৃষ্টান্ত / তুলনামূলক উদাহরণ। رَجُلَيْنِ (রাজুলাইন): দুটি ভিন্ন মানসিকতার মানুষের / সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির। جَعَلْنَا (জাআলনা): আমরা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম / সৃষ্টি করে উৎস হিসেবে সচল রেখেছিলাম। لِأَحَدِهِمَا (লি-আহাদিহিমা): তাদের একজনের জন্য। جَنَّتَيْنِ (জান্নাতাইনি): প্রাচুর্য ও প্রাচুর্যের অবস্থা সমৃদ্ধ দুটি বাগান। مِنْ (মিন): এর / দ্বারা গঠিত। أَعْنَابٍ (আ’নাবিন): আঙ্গুর গাছের। وَحَفَفْنَاهُمَا (ওয়া হাফাফনাহুমা): এবং আমরা সে দুটিকে পরিবেষ্টিত / সুরক্ষিত করে দিয়েছিলাম। بِنَخْلٍ (বি-নাখলিন): খেজুর গাছ দ্বারা। وَجَعَلْنَا (ওয়া জাআলনা): এবং আমরা তৈরি/নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। بَيْنَهُمَا (বাইনাহুমা): সেই বাগান দুটির মাঝখানে। زَرْعًا (জার’আন): শস্য উৎপাদনের উর্বর জমি / চাষাবাদের ক্ষেত্র। আর আপনি তাদের সামনে দুই বিপরীতধর্মী মানসিকতার মানুষের একটি বাস্তব রূপক উপস্থাপন করুন (مَّثَلًا – মাছালান); তাদের একজনকে আমরা বৈষয়িক অর্জনের দুটি চমৎকার উৎপাদনশীল ক্ষেত্র (جَنَّتَيْنِ – জান্নাতাইন knowledge and action} দিয়েছিলাম, নিরাপত্তামূলক সামাজিক অবকাঠামো দিয়ে পরিবেষ্টিত ও সুরক্ষিত ছিল এবং এই দুটি ভিন্ন জীবনদর্শনের সংযোগকারী ভিত্তি হিসেবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপে ধাপে ধাপে উচ্চতর স্তরে বিকশিত হওয়ার জন্য ব্যবস্থা স্থাপন করেছিলাম (زَرْعًا – যার’আ)। مَثَلًا (মাছালান): মানুষের জীবন ও মানসিকতার পার্থক্য বোঝার জন্য একটি উপমা বা দৃষ্টান্ত (Parable to help people understand the difference between two ways of life) رَجُلَيْنِ (রাজুলাইন): দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তি (Two people with two different mindsets and attitudes) جَنَّتَيْنِ مِنْ أَعْنَابٍ (জান্নাতাইনি মিন আ’নাব): যা আগে গোপন ছিল এখন মানুষের সামনে উন্মোচিত ও আলোকিত করা হয়েছে এমন দুটি সমৃদ্ধ ক্ষেত্র বা চিন্তার ক্ষেত্র (Two gardens of grapevines – এখানে রূপক অর্থে সুপ্রতিষ্ঠিত উন্মোচিত সত্য বা বৈষয়িক রূপক বোঝানো হয়েছে) আয়াহ ৩৩ كِلْتَا (কিলতা): উভয়ই / প্রত্যেকটি। الْجَنَّتَيْنِ (আল-জান্নাতাইনি): প্রাচুর্যময় বাগান দুটি। آتَتْ (আতাত): উৎপন্ন করত / তার সর্বোচ্চ ফসল এনে দিত। أُكُلَهَا (উকুলাহা): তার খাদ্য সামগ্রী / উৎপাদিত ফলন। وَلَمْ (ওয়া লাম): এবং বিন্দুমাত্রও না। تَظْلِمْ (তাজলিম): কমতি করত / ঘাটতি বা অন্যায় করত না। مِنْهُ (মিনহু): তা থেকে / সেই সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষমতা থেকে। شَيْئًا (শাইয়ান): সামান্যতমও / বিন্দুমাত্র জিনিসও। وَفَجَّرْنَا (ওয়া ফাজ্জারনা): এবং আমরা বিকশিত বা প্রবাহিত করে দিয়েছিলাম। خِلَالَهُمَا (খিলালাহুমা): সেই বাগান দুটির মাঝখান দিয়ে / তাদের অন্তরাল দিয়ে। نَهَرًا (নাহারান): জ্ঞান ও সম্পদের একটি অবিরাম উৎস বা প্রবহমান ধারা। সেই উভয় সমৃদ্ধির ক্ষেত্রই প্রাকৃতিক নিয়মে তার সম্পূর্ণ উপযোগিতা ও ফলাফল প্রদান করেছিল (آتَتْ أُكُلَهَا – আতাত উকুলাহা) এবং বং নিজেদের সক্ষমতা প্রকাশে বা মানুষের অধিকার প্রদানে কোনো প্রকার কমতি বা ত্রুটি করত না (وَلَمْ تَظْلِم مِّنْهُ شَيْئًا – ওয়া লাম তাজলিম মিনহু শাইআ); আর আমরা সেই সামাজিক ব্যবস্থার মাধ্যম হিসেবে জ্ঞান ও সম্পদের একটি অবিরাম উৎস বা প্রবহমান ধারা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। (وَفَجَّرْنَا – ওয়া ফাজ্জারনা)। كِلْتَا الْجَنَّتَيْنِ: উভয় সমৃদ্ধ ও সচ্ছল প্রতিষ্ঠান বা সামাজিক ব্যবস্থা। آتَتْ أُكُلَهَا: সর্বোচ্চ ও প্রচুর পরিমাণে প্রগতিশীল ফলাফল বা উপযোগিতা প্রদান করা। وَلَمْ تَظْلِمْ: মানুষের অধিকার প্রদানে বা সক্ষমতা প্রকাশে কোনো প্রকার কমতি বা ত্রুটি না করা। نَهَرًا: আয়াহ ৩৪ وَكَانَ (ওয়া কানা): এবং যেহেতু চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ছিল / লাভ করেছিল। لَهُ (লাহু): তার নিজের জন্য। ثَمَرٌ (ছামারুন): প্রচুর ফলন / বিপুল সম্পদ ও প্রাচুর্যের ফল। فَقَالَ (ফাকালা): অতঃপর সে দম্ভভরে বলল। لِصَاحِبِهِ (লি-সোয়াহিবিহি): তার সঙ্গীকে / তার সমকক্ষ সহযাত্রীকে। وَهُوَ (ওয়া হুয়া): এই এমতাবস্থায় যে সে। يُحَاوِرُهُ (ইউহায়িরুহু): তার সাথে তর্ক-বিতর্ক করছিল / নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করছিল। أَنَا (আনা): আমি নিজে। أَكْثَرُ (আকছারু): অনেক বেশি সমৃদ্ধ / অনেক বড় ধনী। مِنْكَ (মিনকা): তোমার চেয়ে। مَالًا (মালান): ধন-সম্পদ, সামাজিক প্রভাব ও প্রতিপত্তির দিক থেকে। وَأَعَزُّ (ওয়া আ’আজ্জু): এবং অনেক বেশি প্রভাবশালী ও অপরাজেয় শক্তির অধিকারী। نَفَرًا (নাফারান): জনবল, দলবল বা বংশীয় শক্তির দিক থেকে। আর তার কাছে উপার্জিত সম্পদের এক বিশাল পাহাড় বা বিপুল প্রাচুর্য ছিল (ثَمَرٌ – ছামারুন)। অতঃপর অহংকার ও আত্মগরিমায় লিপ্ত হয়ে বিতর্ক চলাকালীন সে তার সহযোগীকে বলল, “আমি বৈষয়িক পুঁজি ও বস্তুগত সম্পদে (مَالًا – মালান) তোমার চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ এবং ক্ষমতার শক্তিতে ও সামাজিক জনবলে তোমার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী (وَأَعَزُّ نَفَرًا – ওয়া আ’আযযু নাফারা)।” ثَمَرٌ: বিপুল উপজাত সম্পদ, কর্তৃত্ব বা বৈষয়িক সচ্ছলতা। يُحَاوِرُهُ: পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের পরিবর্তে অহংকার, আভিজাত্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার বশে তর্ক করা। أَعَزُّ نَفَرًا: ক্ষমতার কাঠামো, রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও সামাজিক প্রতিপত্তিতে শক্তিশালী। আয়াহ ৩৫ وَدَخَلَ (ওয়া দাখালা): এবং সে প্রবেশ করল। جَنَّتَهُ (জান্নাতাহু): তার নিজের সেই প্রাচুর্যময় বাগানে / রাজত্বে। وَهُوَ (ওয়া হুয়া): এই এমতাবস্থায় যে সে ছিল। ظَالِمٌ (জালিমুন): চরম অন্যায়কারী / অবিচারকারী। لِنَفْسِهِ (লি-নাফসিহি): নিজের প্রশান্ত আত্মার প্রতি / নিজের বিবেকের প্রতি (অহংকার ও কুফরের মাধ্যমে)। قَالَ (কালা): সে দম্ভভরে বলল। مَا أَظُنُّ (মা আজুন্নু): আমি মনে করি না / আমার কোনো হিসাব-নিকাশ বা ধারণায় আসে না। أَنْ تَبِيدَ (আন তাবীদা): যে কখনো ধ্বংস বা নিঃশেষ হয়ে যাবে। هَٰذِهِ (হাজিহী): এই আমার রাজত্ব / এই সম্পদ। أَبَدًا (আবাদান): চিরকালে / কখনো। আর সে নিজের নফসের প্রকৃত মানসিক শান্তি বিনষ্ট করে (জীবনের মৌলিক উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করে) (وَهُوَ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهِ – ওয়া হুয়া জালিমুল লিনাফসিহী) অহংকারে অন্ধ হয়ে তার সেই বৈষয়িক প্রতিপত্তির ক্ষেত্রে প্রবেশ করল; সে উদ্ধত হয়ে বলল, “আমি মনে করি না যে, আমার এই বৈষয়িক প্রতিপত্তি ও শক্তির ভিত্তি কখনো বিলুপ্ত বা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে (أَن تَبِيدَ هَٰذِهِ أَبَدًا – আন তাবীদা হাযিহী আবাদান)!” ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ: সমাজবদ্ধ ও কল্যাণকর জীবনের মৌলিক উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করে নিজের প্রতি অন্যায়কারী। مَا أَظُنُّ: বৈষয়িক অহংকার থেকে জন্ম নেওয়া ভ্রান্ত হিসাব-নিকাশ, অনুমান বা আত্মতুষ্টি। تَبِيدَ … أَبَدًا: চিরতরে ধ্বংস বা বিলীন হয়ে যাওয়া। [আয়াহ ৩৬ وَمَا (ওয়া মা): এবং না / আমি মনে করি না। أَظُنُّ (আজুন্নু): আমার কোনো হিসাব-নিকাশে আসে / ধারণা করি। السَّاعَةَ (আস্-সা’আতাহ): সেই বিশেষ চূড়ান্ত মুহূর্তটি / আকস্মিক উত্থানের মুহূর্ত (18. AL-KAH… p. 3)। قَائِمَةً (ক্বায়িমাতান): প্রতিষ্ঠিত হবে / বাস্তবে ঘটবে। وَلَئِنْ (ওয়া লাইন্): এবং যদি সত্যিই। رُدِدْتُ (রুদিদতু): আমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় / জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হয় (18. AL-KAH… p. 5)。 إِلَىٰ (ইলা): দিকে / নিকট। رَبِّي (রাব্বী): আমার প্রতিপালক / আমার বিকাশকারী। لَأَجِدَنَّ (লা-আজিদান্না): আমি অবশ্যই খুঁজে পাব / লাভ করব। خَيْرًا (খাইরান): অনেক উত্তম / শ্রেষ্ঠতর অবস্থা (রিযক ও সম্মানের দিক থেকে) (1 Vocabula… p. 29)। مِنْهَا (মিনহা): তা থেকে / আমার এই বর্তমান পার্থিব সম্পদের চেয়ে। مُنْقَلَبًا (মুন্কালাবান): চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনস্থল / শেষ পরিণতি হিসেবে। السَّاعَةَ (আস-সা’আতাহ): জীবনের এমন এক মুহূর্ত যখন আমি দুর্বল, দরিদ্র বা অক্ষম হয়ে পড়ব (18. AL-KAH… p. 5). رُدِدْتُ إِلَىٰ رَبِّي (রুদিদতু ইলা রাব্বি): প্রতিপালকের মানদণ্ড বা নিয়ম অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হওয়া (18. AL-KAH… p. 5). خَيْرًا مِنْهَا (খাইরান মিনহা): বর্তমানে আমার কাছে যা আছে তার চেয়েও উত্তম বা শ্রেষ্ঠ কিছু (18. AL-KAH… p. 5). অনুবাদ: “এবং আমি মনে করি না যে আমার জীবনে কখনো এমন কোনো মুহূর্ত আসবে (যখন আমি দুর্বল ও দরিদ্র হয়ে পড়ব (السَّاعَةَ قَائِمَةً – আস-সা’আতাহ কা-ইমাহ); আর যদি কখনো ) আমার প্রতিপালকের সার্বিক নিয়ম বা মানদণ্ড অনুযায়ী আমাকে বিচারের মুখোমুখি করাও হয়, তবুও নিশ্চিতভাবেই আমাকে বর্তমানের চেয়েও অনেক উত্তম ও শ্রেষ্ঠ কিছু ফিরিয়ে দেওয়া হবে (مُنقَلَبًا – মুনকালাবা)।” السَّاعَةَ (আস-সা’আতাহ): জীবনের এমন এক মুহূর্ত যখন আমি দুর্বল, দরিদ্র বা অক্ষম হয়ে পড়ব رُدِدْتُ إِلَىٰ رَبِّي (রুদিদতু ইলা রাব্বি): প্রতিপালকের মানদণ্ড বা নিয়ম অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হওয়া خَيْرًا مِنْهَا (খাইরান মিনহা): বর্তমানে আমার কাছে যা আছে তার চেয়েও উত্তম বা শ্রেষ্ঠ কিছু আয়াহ ৩৭ قَالَ (ক্বালা): বলল / উত্তর দিল। لَهُ (লাহু): তাকে (সেই অহংকারী ধনী ব্যক্তিকে)। صَاحِبُهُ (সোয়াহিবুহু): তার সঙ্গী / তার সমকক্ষ সহযাত্রী। وَهُوَ (ওয়া হুয়া): এই এমতাবস্থায় যে সে। يُحَاوِرُهُ (ইউহায়িরুহু): তার সাথে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা বা তর্ক-বিতর্ক করছিল। أَكَفَرْتَ (আ-কাফারতা): তুমি কি অস্বীকার করছ / অগ্রাহ্য করছ? بِالَّذِي (বিল্লাযী): তাঁর নির্দেশ বা উপদেশকে যিনি? خَلَقَكَ (খালাক্বাকা): তোমাকে সৃষ্টি করেছেন / উদ্ভিদের মতো মাটি থেকে বিকশিত করেছেন। مِنْ (মিন): থেকে। تُرَابٍ (তুরাবিন): মাটি / মৃত্তিকার উপাদান। ثُمَّ (ছুম্মা): অতঃপর / পরবর্তী ধাপে। مِنْ (মিন): থেকে। نُطْفَةٍ (নুত্বফাতিন): শুক্রাণু বা বীর্য / ক্ষুদ্রতম জীবন বীজ। ثُمَّ (ছুম্মা): অতঃপর। سَوَّاكَ (সাওয়্যাকা): তোমাকে সুবিন্যস্ত বা সুগঠিত করেছেন। رَجُلًا (রাজুলান): একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে / একজন সামর্থ্যবান পুরুষে। তার সেই সহযোগী (وَهُوَ يُحَاوِرُهُ – ওয়া হুয়া ইয়ুহাবিরুহু) বলল, “তুমি কি সেই সেই উপদেশ ও বিধানকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করছ বা কুফরি করছ (أَكَفَرْتَ – আকাফারতা) যিনি তোমাকে মাটি থেকে (উদ্ভিদের মতো সুনির্দিষ্ট নিয়মে অস্তিত্বে এনেছেন, এবং ক্রমান্বয়ে) ধাপে ধাপে তোমাকে একজন যথাযথ গুণ ও সামর্থ্যসম্পন্ন মানুষ হিসেবে অবয়ব দিয়েছেন (سَوَّاكَ رَجُلًا – সাওয়াকা রাজুলা)? তুরাব বা মাটি (From Turab/Earth): এটি মানুষের আদি এবং মৌলিক উপাদানকে নির্দেশ করে, যা অত্যন্ত সাধারণ বা সরল অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে একটি জটিল ও সুসংগঠিত রূপ লাভ করে আয়াহ ৩৮ لَّٰكِنَّا (লাকিন্নাহ): কিন্তু আমার ক্ষেত্রে / আমার কথা হচ্ছে। هُوَ (হুয়া): তিনিই কেবল। اللَّهُ (আল্লাহু): আল্লাহ (সার্বভৌম বিধানদাতা)। رَبِّي (রাব্বী): আমার পালনকর্তা / আমার একমাত্র বিকাশকারী ও রিযকদাতা। وَلَا (ওয়া লা): এবং না / আমি কখনোই করি না। أُشْرِكُ (উশরিকু): আমি অংশীদার বা শরিক করি না (অন্য কারও আইন মানি না)। بِرَبِّي (বি-রাব্বী): আমার প্রতিপালকের সার্বভৌমত্বে বা বিধানে। أَحَدًا (আহাদান): কাউকে বিন্দুমাত্রও / অন্য কোনো ব্যক্তিকে (রাজা বা শাসককে)। কিন্তু আমার আদর্শিক অবস্থান তো এই যে, তিনিই আল্লাহ—যিনি আমার একমাত্র রব ও পালনকর্তা (هُوَ اللَّهُ رَبِّي – হুয়া আল্লাহু রব্বী); আর আমি আমার রবের দেওয়া সুনির্দিষ্ট এবং অবধারিত নিয়মনীতি ও বিধানে কাউকেই অংশীদার বা সমকক্ষ করি না (وَلَا أُشْرِكُ بِرَبِّي أَحَدًا – ওয়া লা উশরিকু বিরব্বী আহাদান)। আয়াহ ৩৯ وَلَوْلَا (ওয়ালাউলা): এবং কেন এমন হলো না / কেন তুমি তা করলে না? إِذْ (ইয): যখন / যে মুহূর্তে। دَخَلْتَ (দাখালতা): তুমি প্রবেশ করেছিলে। جَنَّتَكَ (জান্নাতাকা): তোমার নিজের সেই প্রাচুর্যময় বাগানে / রাজত্বে। قُلْتَ (ক্বুলতা): তুমি প্রকাশ করলে বা মুখ ফুটে বললে। مَا شَاءَ (মা শা-আ): তা-ই ঘটে যা নির্ধারিত পরিকল্পনা বা কর্মসূচি (18. AL-KAH… p. 2)— اللَّهُ (আল্লাহু): আল্লাহর বিধান বা আইন অনুসারে হয় (18. AL-KAH… p. 2)। لَا قُوَّةَ (লা ক্বুউওয়াতা): অন্য কোনো ক্ষমতা, শক্তি বা কর্তৃত্ব স্থায়ী নয়। إِلَّا (ইল্লা): কেবল ছাড়া / ব্যতীত। بِاللَّهِ (বিল্লাহি): আল্লাহর দেওয়া শক্তি ও প্রাকৃতিক নিয়মাবলী ব্যতীত। إِنْ (ইন্): যদি / যদিও। تَرَنِ (তারানি): তুমি আমাকে দেখছ বা বিবেচনা করছ। أَنَا (আনা): আমি নিজে বা আমার অবস্থা। أَقَلَّ (আক্বাল্লা): অনেক কম / নিকৃষ্ট বা ক্ষুদ্রতর। مِنْكَ (মিনকা): তোমার বৈষয়িক অবস্থার চেয়ে। مَالًا (মালান): ধন-সম্পদ, বাহ্যিক সামাজিক প্রভাব ও প্রতিপত্তির দিক থেকে (1 Vocabula… p. 14)। وَوَلَدًا (ওয়া ওয়ালাদান): এবং সন্তান-সন্ততি, অনুসারী বা জনবলের দিক থেকে। আর তুমি যখন তোমার সেই অর্জনের ক্ষেত্রে প্রবেশ করছিলে, তখন কেন তুমি এমন কোনো অভিব্যক্তি প্রকাশ করলে না যা আল্লাহর সর্বজনীন প্রোগ্রাম ও ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করে? (مَا شَاءَ اللَّهُ – মা শা-আল্লাহ), আল্লাহর দেওয়া সামর্থ্য ও শক্তি ছাড়া আর কোনো শক্তির অস্তিত্ব নেই (لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ – লা কুওয়াতাহ ইল্লা বিল্লাহ)‘? যদিও তুমি আমাকে সম্পদ (مَالًا – মালান) ও জনবলের দিক থেকে তোমার চেয়ে কম বা দুর্বল দেখছ, আয়াহ ৪০ তবুও আমার প্রতিপালকের সেই ক্ষমতা রয়েছে যে তিনি আমাকে তোমার এই অহংকারী ব্যবস্থার চেয়েও অনেক উত্তম কোনো অবস্থান দান করবেন (خَيْرًا مِّن جَنَّتِكَ – খাইরাম মিন জান্নাতিকা); আর তিনি তোমার সেই অহংকারের অবধারিত কুফল বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে (حُسْبَانًا – হুসবানান) মহাজাগতিক উচ্চতর নিয়ম থেকে তোমার সেই বৈষয়িক ভিত্তির ওপর বর্ষণ করবেন, যার ফলে তোমার সেই অহংকারের ক্ষেত্রটি একটি সম্পূর্ণ ধূলিধূসর ও মসৃণ প্রান্তরে পরিণত হবে।” ১. হুসবানান (حُسْبَانًا): এর আক্ষরিক অর্থ হিসাব-নিকাশ বা বজ্রপাত । কিন্তু এটি মানুষের কর্মের অনিবার্য বা অবশ্যম্ভাবী সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি (Consequences/Thunderbolts) যা আচমকা কোনো প্রতিষ্ঠিত সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থার ওপর আপতিত হয় আয়াহ ৪১ “অথবা তোমার সেই বৈষয়িক ও উৎপাদনশীল ক্ষেত্রের মূল ভিত্তি বা সম্পদের উৎসটি সম্পূর্ণ ভূগর্ভে বিলুপ্ত বা হারিয়ে যাবে (غَوْرًا – গাওরান), যার ফলে তুমি আর কখনোই সেই হারিয়ে যাওয়া সম্পদ বা উৎসকে পুনরায় সোর্স করতে বা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে না (لَن تَسْتَطِيعَ لَهُ طَلَبًا – লান তাসতাতী’আ লাহু তালাবা)।” নিজের একক প্রচেষ্টায় তা পুনরায় অনুসন্ধান বা উদ্ধার করতে সম্পূর্ণ অক্ষম ও ব্যর্থ হয়ে পড়বে আয়াহ ৪২ আর (আল্লাহর চিরন্তন প্রাকৃতিক নিয়মে) তার সমস্ত উপার্জিত সম্পদ ও প্রাচুর্যকে অবধারিত ধ্বংসের কুফল দ্বারা পরিবেষ্টিত করে ফেলা হলো (وَأُحِيطَ بِثَمَرِهِ – ওয়া উহীতা বিছামারিহী)। অতঃপর সে তার সেই বৈষয়িক ভিত্তির পেছনে যা কিছু ব্যয় বা বিনিয়োগ করেছিল, তার অসারতা দেখে চরম অনুশোচনায় নিজের হাত কচলাতে লাগল এবং তার সেই পুরো অহংকারের ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল (خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا – খাবিইয়াতুন ‘আলা ‘উরুশিহা); সে বলতে লাগল, “হায়! আমি যদি আমার প্রতিপালকের সর্বজনীন আইনের পরিপন্থী হয়ে এবং সমাজবদ্ধ জীবনের ধারণাকে অস্বীকার করে অন্য কোনো শক্তির অংশীদারিত্ব গ্রহণ না করতাম (لَمْ أُشْرِكْ بِرَبِّي أَحَدًا – লাম উশরিক বিরব্বী আহাদান)!” আয়াহ ৪৩ আর তার নিজের তৈরি এমন কোনো দল বা জনবল ছিল না (وَلَمْ تَكُن لَّهُ فِئَةٌ – ওয়া লাম তাকুল লাহু ফিআতুন) যারা আল্লাহর অবধারিত প্রাকৃতিক নিয়মের বিপরীতে তাকে কোনো প্রকার সাহায্য বা সুরক্ষা দিতে পারে, এবং সে নিজেও সেই বিপর্যয় থেকে আত্মরক্ষা করতে বা কোনো প্রতিশোধ নিতে সক্ষম ছিল না। আয়াহ ৪৪ সেই চরম মুহূর্তে এটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত সত্য ও সুরক্ষার কর্তৃত্ব একমাত্র পরম সত্য আল্লাহরই একক অধিকার (الْوَلَايَةُ لِلَّهِ الْحَقِّ – আল-ওয়ালাইইয়াতু লিল্লাহিল হাক্ক); সঠিক কর্মের প্রতিদান বা ফসল হিসেবে তিনিই সর্বোত্তম (خَيْرٌ ثَوَابًا – খাইরুন ছাওয়াবান) এবং যেকোনো বিষয়ের চূড়ান্ত পরিণতির দিক থেকেও তিনিই পরম কল্যাণকর। আয়াহ ৪৫ আর আপনি তাদের সামনে এই পার্থিব বস্তুগত জীবনের (الْحَيَاةِ الدُّنْيَا – আল-হায়াতিদ দুনিয়া) বাস্তব রূপক বা এই পার্থিব জীবনের প্রকৃত রূপটি একটি উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দাও এটি ঠিক আল্লাহর সুউচ্চ জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎস থেকে প্রেরিত জীবনদায়ী ঐশী বিধান ও হিদায়াতের মতো, যার সাথে যখন পার্থিব মানব সমাজের প্রাথমিক ও সরল চিন্তাগুলো মিশ্রিত হয়, তখন তা প্রথমে সতেজ ও প্রাচুর্যময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকশিত হয়; কিন্তু পরবর্তীতে (মানুষ যখন ঐশী জ্ঞানকে বাদ দিয়ে মানব-রচিত কৃত্রিম দর্শনের পেছনে ছোটে) তখন সেই সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে শুষ্ক খড়কুটা ও মূল্যহীন ভঙ্গুর আবর্জনায় পরিণত হয় যা বিভ্রান্তির বাতাস চারদিকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। তবে জেনে রাখো, আল্লাহ সমস্ত বিষয়ের উপর নিয়মতান্ত্রিক আইন ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করে রেখেছেন। (مُّقْتَدِرًا – মুকতাদিরান)। আয়াহ ৪৬ الْمَالُ وَالْبَنُونَ (আল-মালু ওয়াল-বানুন): পুঞ্জীভূত বৈষয়িক পুঁজি-মর্যাদা এবং কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার নিজস্ব অনুগত ক্ষমতা-নেটওয়ার্ক ও জনবল। زِينَةُ (জিনাতু): ক্ষণস্থায়ী বাহ্যিক জাঁকজমক বা সাময়িক বিভ্রম। وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ (ওয়াল-বাক্বিয়াতুস সালিহাত): সমাজে স্থায়ী সংহতি রক্ষা এবং মানুষের মধ্য থেকে ফাটল ও বৈষম্য চিরতরে দূর করার দীর্ঘস্থায়ী সংস্কারমূলক কাজ। خَيْرٌ أَمَلًا (খাইরুন আমালান): একটি টেকসই ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা জাগানিয়া উৎকৃষ্ট ভিত্তি। বৈষয়িক পুঁজি-মর্যাদা এবং কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার নিজস্ব অনুগত ক্ষমতা-নেটওয়ার্ক ও জনবল (الْمَالُ وَالْبَنُونَ – আল-মালু ওয়াল-বানূনা)—এগুলো কেবল স্বার্থকেন্দ্রিক পার্থিব জীবনের এক ক্ষণস্থায়ী বাহ্যিক জাঁকজমক ও সাময়িক বিভ্রম মাত্র (زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا – যীনাতুল হায়াতিদ দুনিয়া)। পক্ষান্তরে, সমাজে স্থায়ী সংহতি রক্ষা এবং মানুষের মধ্য থেকে ফাটল ও বৈষম্য চিরতরে দূর করার দীর্ঘস্থায়ী সংস্কারমূলক কাজগুলোই তোমার প্রতিপালকের বিধান অনুযায়ী প্রতিদানের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম (وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ – ওয়াল-বাক্বিয়াতুস সালিহাতু) এবং একটি টেকসই ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা জাগানিয়া ভিত্তি হিসেবে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। আয়াহ ৪৭ এবং তোমরা নিজেদেরকে জীবনের সেই অনিবার্য মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত করো, যখন সমাজে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা এবং সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা পাহাড়সম অন্যায্য ও শক্তিশালী শোষক শ্রেণীগুলোকে(نُسَيِّرُ الْجِبَالَ – নুসাইয়্যিরুল জিব্বালা) অপসারণ হবে; যার ফলে একটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, সমতল ও সমঅধিকারের সমাজ দেখতে পাবে। এভাবেই আমরা সমস্ত মানুষকে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধ ব্যবস্থার অধীনে একত্রিত করব এবং কাউকে নিঃসঙ্গ, শোষিত বা অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখব না। الْأَرْضَ بَارِزَةً (আল-আরদা বা-রিজাতান): বিশ্বজুড়ে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য দূর হয়ে একটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, সমতল ও সমঅধিকারের ক্ষেত্র বা সমাজ তৈরি হওয়া। فَلَمْ نُغَادِرْ … أَحَدًا (ফালাম নুগাদির… আহাদান): কাউকে নিঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্ন বা অরক্ষিত না রেখে সমস্ত মানবজাতিকে একটি একক কল্যাণকর সম্প্রদায়ের অধীনে ঐক্যবদ্ধ করা। আয়াহ ৪৮ এবং তারা সবাই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার উদ্দেশ্যে সুশৃঙ্খলভাবে বিভক্ত হয় (صَفًّا – সাফফাও);তোমার প্রতিপালকের নিয়মতান্ত্রিক আইনের অধীনে উপস্থাপিত হবে এবং তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে, “তোমরা আজ কোনো বৈষম্য ছাড়াই আমাদের কাছে সেই আদি মানবিক অবস্থায় ফিরে এসেছ—ঠিক যেমনটি আমরা তোমাদের সৃষ্টির শুরুতে স্থাপন করেছিলাম; অথচ তোমরা অতীতে নিজেদের ক্ষমতার অহংকারে ধারণা করেছিলে যে আমরা তোমাদের দেওয়া এই জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কখনোই করব না। عُرِضُوا (উরিদ্বু): তদারকি, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপস্থাপন করা । صَفًّا (সাফফান): সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা কার্যকরের উদ্দেশ্যে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত শ্রেণী, (Fully organized in classified sections for administration). كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ (কামা খালাকনাকুম আউয়ালা মাররাতিন): কৃত্রিম শ্রেণীবিভেদ ও বৈষম্যহীন সেই আদি ও মৌলিক সাম্যবাদী মানবিক অবস্থায়, যেমনটি ব্যবস্থার শুরুতে বা সৃষ্টির প্রথমলগ্নে ছিল। مَّوْعِدًا (মাও’ইদান): অনিবার্য প্রতিশ্রুতির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন। আয়াহ ৪৯ এবং সমাজে শাসন’ (আইনের শাসন) (وَوُضِعَ الْكِتَابُ – ওয়া বুদি’আল কিতাবু), প্রতিষ্ঠিত হবে; তখন তুমি সাধারণ শোষিত জনগণের ওপর অপরাধ সংঘটনকারী সেই শক্তিশালী অপরাধী ও শোষকদের চরম আতঙ্কের মধ্যে দেখতে পাবে, কারণ তারা এই আইন নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করবে। তারা তখন আফসোস করে বলবে, “হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! এটি কেমন আইনের শাসন? এটি মানবজাতির সুশৃঙ্খল জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ছোট কিংবা বড় কোনো নৈতিক বিষয়কেই বাদ দেয়নি, বরং সবকিছুরই নিখুঁত হিসাব ও সমাধান স্পষ্ট করে রেখেছে!” এভাবেই তারা গ্রন্থের বিরুদ্ধে গিয়ে অতীতে শোষণের উদ্দেশ্যে যা কিছু করেছিল, তার ফলাফল নিজেদের চোখের সামনে উপস্থিত পাবে; এবং তোমার প্রতিপালক কখনোই কারও ওপর বিন্দুমাত্র অন্যায় করেন না(وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا – ওয়া লা ইয়াজলিমু রব্বুকা আহাদান)। الْكِتَابُ (আল-কিতাব): ঐশী গ্রন্থের সার্বজনীন আইন বা সংবিধিবদ্ধ ‘বইয়ের শাসন’ (The rule by the book). الْمُجْرِمِينَ (আল-মুজরিমিন): সাধারণ জনগণের অধিকার হরণকারী, শোষক ও অপরাধী এলিট শ্রেণী (Those who commit crimes against the masses). أَحْصَاهَا (আহসাহা): মানবজাতির কল্যাণকর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ছোট-বড় প্রতিটি সামাজিক ও নৈতিক বিষয়ের নিখুঁত হিসাব ও সমাধান স্পষ্ট করা। আয়াহ ৫০ এবং স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আমরা সমাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যকরী শক্তিসমূহকে বলেছিলাম, “তোমরা জ্ঞান ও দূরদর্শিতাসম্পন্ন মানবতাকে (আদমকে) সমাজ পরিচালনার প্রধান প্রশাসক বা চালিকাশক্তি হিসেবে সমর্থন ও সহযোগিতা করো।” ফলশ্রুতিতে, তারা সবাই তার এই অবস্থানকে সানন্দে মেনে নিয়েছিল—কেবল ইবলিস ব্যতীত; সে ছিল সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা বিশেষ সুবিধাভোগী ও ক্ষমতাশালী গোপন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। তাই সে অহংকারবশত তার প্রতিপালকের এই আদেশ সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করল। অতএব, তোমরা কি আমার ঐশী হিদায়াতকে বর্জন করে সেই ইবলিস এবং তার সমমনা অহংকারী শ্রেণীকে নিজেদের রক্ষক হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে এই কি এক নিকৃষ্ট বিকল্প! لِلْمَلَائِكَةِ (লিল-মালাইকাতি): সমাজের বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক প্রধানগণ বা কার্যকরী শক্তিসমূহ (The chiefs / functional forces in the land). اسْجُدُوا لِآدَمَ (উসজুদু লি-আদামা): জ্ঞান, বুদ্ধি, দূরদর্শিতা ও ঐশী হিদায়াতপ্রাপ্ত মানবতাকে (আদমকে) প্রধান চালিকাশক্তি বা শাসক হিসেবে সমর্থন ও আনুগত্য করা (Support and submit to Adam as the knowledgeable human administrator). إِبْلِيسَ (ইবলিস): আভিজাত্য, চরম অহংকার বা এলিট শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী চরিত্র (The persona representing prideful elite rebellion). مِنَ الْجِنِّ (মিনাল জিন্নি): সাধারণ মানুষের সামাজিক ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা বিলাসী, অত্যন্ত শক্তিশালী ও গোপন আভিজাত্য বা সুবিধাভোগী শ্রেণী (The high-end, lavish, hidden segment of hidden power). فَفَسَقَ (ফাফাসাকা): নিয়ম বা আইন লঙ্ঘন করা, সুনির্দিষ্ট কক্ষপথ বা প্রতিপালকের প্রশাসনিক আদেশ থেকে বের হয়ে যাওয়া (Transgressed / stepped out of the law). আয়াহ ৫১ আমি এই মহাজাগতিক শাসনব্যবস্থা এবং আর্থ-সামাজিক কাঠামোর সৃষ্টি ও পরিচালনার নীতিনির্ধারণে সেই অহংকারীদের কোনো অংশীদার বা সাক্ষী করিনি, এবং তাদের নিজেদের অস্তিত্বের বিকাশেও তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না; আর মানুষকে সঠিক প্রাকৃতিক পথ থেকে বিচ্যুতকারী ও বিভ্রান্তকারী শোষকদের সমাজ পরিচালনার কাজে সাহায্যকারী বা প্রশাসনিক শক্তি হিসেবে গ্রহণ করা আমার আইনসম্মত নীতি নয়। مَّا أَشْهَدتُّهُمْ (মা আশহাত্তুহুম): আমি তাদের কোনো কর্তৃত্ব, সাক্ষী বা নীতিনির্ধারণী অংশীদার করিনি (I did not make them witnesses or decision-making partners). خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ (খালক্বাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি): মহাজাগতিক সুউচ্চ শাসনব্যবস্থা এবং পার্থিব আর্থ-সামাজিক কাঠামোর সৃষ্টি ও পরিচালনা (The creation and governance of the high celestial order and the earthly socio-economic structures). الْمُضِلِّينَ (আল-মুদিল্লিন): মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতকারী শোষক ও বিভ্রান্তিকর এলিট শ্রেণী (Those who mislead and distort the true path). عَضُدًا (আদুদান): সমাজ পরিচালনার কোনো সাহায্যকারী, বাহু বা প্রশাসনিক শক্তি (Helpers / supporting arms). আয়াহ ৫২ যেদিন তাদের বলা হবে, “তোমরা আমার আইনের সমকক্ষ হিসেবে অতীতে যাদেরকে নিজেদের রক্ষক বলে দাবি করেছিলে, আজ তোমাদের বাঁচাতে তাদের আহ্বান করো!” ফলশ্রুতিতে, তারা তাদের ডাকবে, কিন্তু সেই কৃত্রিম উপাস্যরা তাদের সাহায্যে কোনো সাড়াই দিতে পারবে না; কারণ তাদের উভয়ের মাঝখানে ধ্বংসের এক অলঙ্ঘনীয় অন্তরায় ও বিচ্ছিন্নতার অমোঘ প্রাচীর। شُرَكَائِيَ (শুরাকা-ইয়া): আমার আইনের সমকক্ষ হিসেবে তোমাদের তৈরি করা সেইসব স্বঘোষিত কৃত্রিম উপাস্য, নেতা বা বৈষয়িক শক্তি (My partners / artificial authorities). فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا (ফালাম ইয়াস্তাজিবু): তারা তাদের কোনো সাহায্য বা সাড়া দিতে পারবে না (They will not respond to rescue them). مَوْبِقًا (মাওবিক্বান): ধ্বংসের এক অলঙ্ঘনীয় অন্তরায় বা বিচ্ছিন্নতার অমোঘ প্রাচীর (A barrier of destruction / absolute separation). আয়াহ ৫৩ এবং অপরাধীরা (নিজেদের তৈরি করা বৈষম্যের কারণে) ধ্বংস ও অসন্তোষের আগুন নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করবে; তখন তারা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারবে যে তারা এবার সেই অনিবার্য বিপর্যয়ের গহ্বরেই নিপতিত হতে যাচ্ছে, এবং তা থেকে আত্মরক্ষার কোনো আশ্রয়ই তারা খুঁজে পাবে না। الْمُجْرِمُونَ (আল-মুজরিমুন): অধিকার হরণকারী ও অপরাধী শোষক শ্রেণী (The criminals against the masses). النَّارَ (আন-নারা): নিজেদের অন্যায়ের কারণে সমাজে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষ, বিপর্যয় ও ধ্বংসের আগুন (The fire of societal destruction / painful consequences). مَصْرِفًا (মাসরিফান): সেই বিপর্যয় থেকে পালিয়ে বাঁচার কোনো পথ বা আত্মরক্ষার আশ্রয় (Any escape route / turning away). আয়াহ ৫৪ صَرَّفْنَا (সাররাফনা): আমরা বিভিন্ন আঙ্গিকে ও স্তরে বিন্যস্ত করে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি (We have explained in diverse ways). মَثَلٍ (মাছালিন): সমাজ ও জীবনের বাস্তব অবস্থা বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টান্ত/উপমা (Every kind of parable / model). جَدَلًا (জাদালাল): উদ্দেশ্যহীন অহংকার ও একগুঁয়েমি থেকে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর কুতর্ক বা অযথা বাদানুবাদ (Contentious / argumentative above all things). এবং আমরা মানবজাতির কল্যাণার্থে এই কুরআনে(فِي هَٰذَا الْقُرْآنِ – ফী হাযাল কুরআনি) জীবনের প্রতিটি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতার দৃষ্টান্ত বিভিন্ন আঙ্গিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি, যাতে তারা সঠিক শাসনতান্ত্রিক পথ বেছে নিতে পারে; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ নিজের সাময়িক স্বার্থ ও অহংকারের বশে সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে কেবল একগুঁয়েমিপূর্ণ কুতর্ক ও অযথা বাদানুবাদেই লিপ্ত থাকে (جَدَلًا – জাদালান)। আয়াহ ৫৫ الْهُدَىٰ (আল-হুদা): ঐশী গ্রন্থের সার্বজনীন হেদায়েত ও যুক্তিসঙ্গত শাসনতান্ত্রিক পথ (The clear guidance). سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ (সুন্নাতুল আউয়ালিন): অতীত যুগের অহংকারী ও শোষক জাতিগুলোর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক ও অপরিবর্তনীয় নিয়ম (The law/practice that overtook the ancients). عَذَابُ قُبُلًا (আজাবুন কুবুলান): মুখোমুখি এসে গ্রাস করা অনিবার্য ও প্রত্যক্ষ বিপর্যয় (The punishment facing them directly). এবং মানুষের কাছে যখনই এই স্পষ্ট ঐশী হিদায়াত ও প্রগতিশীল পথ এসেছে, তখন তাদেরকে শান্তির আদর্শে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে এবং তাদের প্রতিপালকের আইনের দিকে ফিরে এসে নিজেদের ত্রুটি সংশোধন করতে অন্য কোনো কিছু বাধা দেয়নি—কেবল তাদের সেই একগুঁয়েমি মানসিকতা ব্যতীত, যা তাদেরকে অতীতের অহংকারী শোষক জাতিগুলোর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক অমোঘ নিয়মের মুখোমুখি দাঁড় করায় অথবা তাদের সামনে প্রত্যক্ষ ও অনিবার্য সামাজিক বিপর্যয়কে টেনে আনে। আয়াহ ৫৬ الْمُرْسَلِينَ (আল-মুরসালিন): ঐশী বার্তা ও নিয়মতান্ত্রিক শাসন সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বার্তাবাহকগণ। مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ (মুবাশশিরিনা ওয়া মুনজিরিন): সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুসংবাদদাতা এবং শোষণ ও জুলুমের অনিবার্য পরিণতির ব্যাপারে সতর্ককারী। بِالْبَاطِلِ (বিল-বাতিলি): মিথ্যা, অলীক ধারণা, প্রতারণামূলক যুক্তি ও কৃত্রিম সামাজিক ব্যবস্থার আশ্রয় নিয়ে। هُزُوًا (হুজুওয়ান): উপহাসের বস্তু, খেলতামাশা বা গুরুত্বহীন বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা। এবং আমরা বার্তাবাহকদের কেবল সমাজে ন্যায় ও অগ্রগতির সুসংবাদদাতা এবং শোষণের অনিবার্য সামাজিক ধ্বংসের ব্যাপারে সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করি; অথচ যারা সত্য ও বিধানকে অস্বীকার করে, তারা মিথ্যা ও প্রতারণামূলক যুক্তির আশ্রয় নিয়ে বাদানুবাদ করে—যাতে তারা এর মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত সত্যকে নস্যাৎ করে দিতে পারে। এভাবেই তারা আমাদের নিদর্শনসমূহকে এবং যে ধ্বংসের ব্যাপারে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল, সেটিকে কেবল উপহাস ও খেলতামাশার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে। আয়াহ ৫৭ فَأَعْرَضَ عَنْهَا (ফা-আ’রাদ্বা আনহা): তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, সম্পূর্ণ অহংকারবশত উপেক্ষা করা। أَكِنَّةً (আকিন্নাতান): তাদের নিজস্ব সংকীর্ণ স্বার্থ ও মানসিক অহংকারের আবরণ বা পর্দা। وَقْرًا (ওয়াকরান): মনস্তাত্ত্বিক বধিরতা, সত্যের আওয়াজ গ্রহণে অক্ষমতা। অনুবাদ: এবং সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় অত্যাচারী ও নিজের প্রতি অন্যায়কারী আর কে হতে পারে, যাকে তার প্রতিপালকের সামাজিক ও নৈতিক নিদর্শনসমূহের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া সত্ত্বেও সে অহংকারবশত তা উপেক্ষা করল এবং তার নিজের হাত অতীতে যে অন্যায্য ও শোষণমূলক কর্মসমূহ সমাজ পরিচালনার জন্য অগ্রিম পাঠিয়েছিল(مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ – মা কাদ্দামাত ইয়াদাহু), তা সে ভুলে গেল? নিশ্চয়ই তাদের এই ক্রমাগত সত্যবিরোধী মানসিকতার কারণে আমরা তাদের চিন্তাশক্তির ওপর এমন এক অহংকারের পর্দা টেনে দিয়েছি যা তাদের এই সত্য অনুধাবনে বাধা দেয়, এবং তাদের কর্ণে তৈরি করেছি মনস্তাত্ত্বিক বধিরতা; অতএব তুমি যতই তাদের প্রকৃত প্রগতিশীল ও ন্যায়সঙ্গত পথের দিকে আহ্বান করো না কেন, এই অহংকারী অবস্থায় তারা কখনোই সঠিক পথ খুঁজে পাবে না। আয়াহ ৫৮ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ (আল-গাফুরু জুর রাহমাহ): মানুষের ত্রুটি সংশোধন করে নিরাপত্তা দানকারী এবং সার্বিক বিকাশ ও করুণার উৎস। مَّوْعِدٌ (মাও’ইদান): তাদের কর্মের চূড়ান্ত পরিণতি ও শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত এক অলঙ্ঘনীয় মুহূর্ত। مَوْئِلًا (মাও-ইলান): সেই অমোঘ পরিণতি থেকে পালিয়ে বাঁচার কোনো নিরাপদ আশ্রয় বা বিকল্প পথ। এবং তোমার প্রতিপালক পরম সংশোধনকারী, সুরক্ষাদাতা এবং সার্বিক বিকাশ ও করুণার আধার; তিনি যদি তাদের অন্যায্য সমাজ শোষণের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ধরতেন, তবে তিনি তাদের ওপর বিপর্যয়কে দ্রুত নিয়ে আসতেন। কিন্তু তাদের কর্মের চূড়ান্ত পরিণতির জন্য একটি নির্দিষ্ট ও অলঙ্ঘনীয় মুহূর্ত নির্ধারিত রয়েছে, যা এসে পড়লে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো নিরাপদ আশ্রয় বা বিকল্প পথ তারা কখনোই খুঁজে পাবে না। আয়াহ ৫৯ الْقُرَىٰ (আল-কুরা): অতীতে গড়ে ওঠা অন্যায্য, শোষক ও বৈষম্যমূলক জনপদ বা আর্থ-সামাজিক জনসমষ্টিসমূহ। ظَلَمُوا (জালামু): যখন তারা সমাজে চরম জুলুম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থনৈতিক অধিকার হরণ শুরু করেছিল। এবং অতীতের সেইসব অন্যায্য শোষক সমাজ ও জনপদগুলোকে আমরা তখনই ধ্বংস ও বিলুপ্ত করে দিয়েছিলাম, যখন তারা নিয়মতান্ত্রিক সীমা লঙ্ঘন করে চরম জুলুম ও অধিকার হরণে লিপ্ত হয়েছিল; এবং আমরা তাদের সেই শাসনতান্ত্রিক পতনের জন্য একটি নির্দিষ্ট অমোঘ মুহূর্ত নির্ধারণ করে রেখেছিলাম। ৬০ مُوسَىٰ (মুসা): ঐশী আইন ও মুক্তির আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সচেতন মনস্তত্ত্ব বা ব্যক্তিত্ব। مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ (মাজমা’আল বাহরাইন): দুটো সংঘর্ষরত বা বিপরীতমুখী জনগোষ্ঠীর মিলনস্থল ও ঐক্য। :مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ حُقُبًا (হুকু্বান): অনেক দীর্ঘ সময় বা যুগান্তকারী অবিরাম প্রচেষ্টা। মনে করো, যখন মূসা তাঁর সমর্থক দলের কাছে বললেন, “আমি আমার চেষ্টা ও সংগ্রাম ততক্ষণ পর্যন্ত ত্যাগ করব না, যতক্ষণ না আমি এই দুটো সংঘর্ষরত জনগোষ্ঠীকে একত্রিত ও ঐক্যবদ্ধ করি, তবে এই লক্ষ্য অর্জনের যাত্রায় আমাকে অনেককাল বা দীর্ঘ সময় লাগলেও।” আয়াহ ৬১ نَسِيَا حُوتَهُمَا (নাসিয়া হুতাহুমা): তাদের জীবনের দৈর্ঘ্য, স্থায়িত্ব বা পূর্বের সংকীর্ণ অবস্থা বৃদ্ধি পাওয়া/উন্নত হওয়া। فِي الْبَحْرِ سَرَبًا (ফিল বাহরি সারাবান): একটি ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায় হিসাবে নিজেদের নতুন কর্মপরিকল্পনার দিকে সাবলীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত যখন তারা সেই দুটো জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা নিয়ে পৌঁছাল, তখন তাদের জীবনের দৈর্ঘ্য ও সামগ্রিক অবস্থা উন্নত হলো; কারণ তারা একটি একক ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায় হিসাবে নিজেদের নতুন প্রগতিশীল কর্মপরিকল্পনার দিকে সাবলীলভাবে এগিয়ে নিয়ে গেল—সেই জনগোষ্ঠীর জন্য যারা শান্তি ও সমৃদ্ধির একই অভিন্ন লক্ষ্যে এগোচ্ছে। আয়াহ ৬২ غَدَاءَنَا (গাদায়ানা): প্রোগ্রামের বিষয়টি হালনাগাদ করা বা নতুন রসদ। نَصَبًا (নাসাবান): সমঝোতার দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি ও কঠিন পরীক্ষা। কিছু অগ্রগতি অর্জনের পরে মূসা তাঁর দলের কাছে বললেন, “চল তোমরা প্রোগ্রামের বিষয়টি হালনাগাদ করি যাতে সমঝোতার জন্য আমাদের যাত্রা এই প্রোগ্রামকে বাস্তবে রূপান্তর করতে পারে; নিশ্চিতভাবেই আমাদের এই সফরে আমরা কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছি। আয়াহ ৬৩ الصَّخْرَةِ (আস-সাখরাতি): সুদৃঢ় ও অনড় নীতিগত ভিত্তি স্থাপন। الشَّيْطَانُ (আশ-শাইতানু): ক্ষতিকারক, ধ্বংসাত্মক ও স্বার্থপর নেতৃত্ব বা প্রবৃত্তি। দলের একজন বলল, “দেখো, যেহেতু আমরা দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছি, আমি লক্ষ্য করেছি যে আমাদের জীবন উন্নত হয়েছে, আমি কখনও এটি ভুলব না যদি না ক্ষতিকারক এবং ধ্বংসাত্মক নেতৃত্ব আমাকে তাঁর প্রোগ্রাম অনুযায়ী চেষ্টা করতে বাধা দেয়। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর সমঝোতা আশ্চর্যজনকভাবে সম্ভব হয়েছে।” (عَجَبًا – ‘আজাবান)।” আয়াহ ৬৪ ا كُنَّا نَبْغِ (মা কুন্না নাবগি): এমন পরিস্থিতি বা সমাধান যা আমরা খুঁজছিলাম। فَارْتَدَّا (ফারতাদ্দা): অঐক্যের প্রক্রিয়ার বিপরীতক্রিয়া ঘটিয়ে পুনরায় ঐক্যের পথে ফিরে আসা। মূসা বললেন, “এটাই তো সেই কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যা আমরা দীর্ঘ সময় ধরে খুঁজছিলাম!” এবং এভাবেই অতীতে বিভক্ত হয়ে যাওয়া গোষ্ঠীগুলি পুনরায় পূর্বের ঐক্যের পথে ফিরে আসলো। এইভাবে অঐক্যের প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ বিপরীতক্রিয়া সমাজকে স্থায়ী ঐক্যের দিকে নিয়ে যায়। (قَصَصًا – ক্বাসাসান)। আয়াহ ৬৫ :رَحْمَةً (রাহমাতান): আমাদের পক্ষ থেকে সুখকর তথ্য বা কল্যাণকর আশীর্বাদ। عِلْمًا (ইলমান): বিভিন্ন বিষয় সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞা। আর এই সমস্ত ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল এজন্যই সম্ভব হয়েছিল কারণ তারা আমাদের অনুগত বান্দাদের (প্রজাদের) মধ্যে এমন একজনকে পেয়েছিল, যাকে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সুখকর তথ্য ও কল্যাণ দিয়ে আশীর্বাদ করেছি এবং যাকে বিভিন্ন জটিল বিষয় সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞা দান করেছিলাম। (عَلَّمْنَاهُ مِن لَّدُنَّا عِلْمًا – ‘আল্লামনাহু মিল লাদুন্না ‘ইলমান)। আয়াহ ৬৬ প্রধান কি-ওয়ার্ডস (Keywords):أَتَّبِعُكَ (আত্তাবিউকা): আপনার এই বাস্তব ও প্রগতিশীল প্রোগ্রামের কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করা। رُشْدًا (রুশদান): সমাজ ও বিভিন্ন জটিল বিষয় সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য সঠিক, পরিপক্ক ও বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ দিকনির্দেশনা। অনুবাদ: মূসা তাকে বললেন, “আমি কি এই শর্তে আপনার নির্দেশিত নীতি ও প্রোগ্রামের কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি, যাতে বিভিন্ন বিষয় সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য আপনাকে যে বুদ্ধিমত্তা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু বাস্তব শিক্ষা দেন?” (تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا – তু’আল্লিমানি মিম্মা ‘উল্লিমতা রুশদান)?” [৬৭] صَبْرًا (সাবরান): দীর্ঘমেয়াদী শাসনতান্ত্রিক ও সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মের ওপর অটল থাকা। অনুবাদ: সেই বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রজা উত্তর দিল, “নিশ্চয়ই তুমি আমার এই দীর্ঘমেয়াদী এবং বাস্তব কর্মপদ্ধতির সাথে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মের ওপর অবিচল থাকতে কোনোভাবেই সমর্থ হবে না।” وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَىٰ مَا لَمْ تُحِيطْ بِهِ خُبْرًا প:لَمْ تُحِيطْ بِهِ خُبْرًا (লাম তুহিত্ব বিহি খুবরান): যার অন্তর্নিহিত সামাজিক কোণ, সুদূরপ্রসারী ফলাফল বা সামগ্রিক প্রোগ্রামের নকশা তোমার জানা নেই। অনুবাদ: “আর তুমি এমন একটি বাস্তব সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর কীভাবে অটল থাকবে, যার অন্তর্নিহিত সামাজিক কোণ, সুদূরপ্রসারী ফলাফল বা সামগ্রিক প্রোগ্রামের নকশা এখনো তোমার পুরোপুরি আয়ত্তে আসেনি?” 📄 [৬৯] قَالَ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا প্রধান কি-ওয়ার্ডস (Keywords):إِن شَاءَ اللَّهُ (ইন শা-আল্লাহ): যদি আল্লাহর সুনির্দিষ্ট নিয়মতান্ত্রিক আইন ও প্রোগ্রাম আমাকে সফল ও বাস্তবায়িত হতে সাহায্য করে। وَلَا أَعْصِي (ওয়া লা আ’সী): আমি আপনার সমাজ সংস্কারের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা আইনি প্রক্রিয়ার অবাধ্যতা করব না। অনুবাদ: মূসা বললেন, “যদি আল্লাহর সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রোগ্রাম আমাকে সফল হতে সাহায্য করে, তবে আপনি অবশ্যই আমাকে এই প্রোগ্রামের নিয়মের ওপর অবিচল পাবেন এবং আমি আপনার সমাজ সংস্কারের কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশের অবাধ্যতা বা অবহেলা করব না।” [৭০] قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلَا تَسْأَلْنِي عَن شَيْءٍ حَتَّ bridge أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا প্রধান কি-ওয়ার্ডস (Keywords):فَلَا تَسْأেলْنِي (ফালা তাসআলনী): তুমি কোনো পদক্ষেপের কৌশল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি তুলবে না। ذِكْرًا (জিকরান): সেই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বা সমাজতাত্ত্বিক বিবরণ স্পষ্ট করা। সেই বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রজা বলল, “তাহলে তুমি যদি আমার এই প্রোগ্রামের কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতেই চাও, তবে আমার কোনো পদক্ষেপের কৌশল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি তুলবে না—যতক্ষণ না আমি নিজেই তোমার সামনে সেই কাজের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ও সমাজতাত্ত্বিক বিবরণ স্পষ্ট করে দিচ্ছি।” আয়াহ ৬৭ সে বলল, “নিশ্চয়ই আপনি আমার সাথে কোনো পরিস্থিতিতেই ধৈর্য বা অবিচলতা বজায় রাখতে সক্ষম হবেন না (لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا – লান তাসতাতী’আ মা’ইয়াদ সাবরান); (কারণ আমার কাজগুলো বাহ্যিক নিয়মের আড়ালে থাকা গভীর সত্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়)।” আয়াহ ৬৮ “আর আপনি এমন একটি বিষয়ের ওপর কীভাবে ধৈর্য বা অবিচলতা ধারণ করবেন, যার প্রকৃত গভীরতা, অভ্যন্তরীণ রহস্য এবং চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে আপনার বাহ্যিক জ্ঞান বা তথ্য সম্পূর্ণ পরিবেষ্টিত বা সম্যক নয় (لَمْ تُحِيطْ بِهِ خُبْرًا – লাম তুহীত্ব বিহী খুবরান)?” আয়াহ ৬৯ মূসা বলল, “আল্লাহর অবধারিত নিয়মে আপনি অতি শীঘ্রই আমাকে সম্পূর্ণ ধৈর্যশীল ও অবিচল পাবেন (سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا – সাতাজিদুনী ইন শা-আল্লাহু সাবিরান), আর আমি আপনার কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ বা সিদ্ধান্তের অবাধ্যতা বা বিরোধিতা করব না।” আয়াহ ৭০ সে বলল, “অতঃপর আপনি যদি আমার অনুসরণ করতেই চান, তবে কোনো বিষয়েই আমাকে আগ বাড়িয়ে কোনো প্রশ্ন করবেন না (فَلَا تَسْأَلْنِي عَن شَيْءٍ – ফালা তাসআলনী ‘আন শাই’ইন)—যতক্ষণ না আমি নিজেই আপনার নিকট সেই বিষয়ের প্রকৃত সত্য, অন্তর্নিহিত কারণ ও উপদেশ স্পষ্ট করে বর্ণনা করি (أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا – উহদিছা লাকা মিনহু যিকরান)। [৭১] فَانطَلَقَا حَتَّىٰ إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا ۖ قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:السَّفِينَةِ (আস-সাফীনাহ): শোষিত বা দুর্বল শ্রেণীর নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার উপায় বা ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান। خَرَقَهَا (খারাাক্বাহা): সেটির একটি বাহ্যিক ত্রুটি বা কৌশলগত দুর্বলতা তৈরি করা (যাতে বড় কোনো শোষক গোষ্ঠী তা দখল করতে না পারে)। অনুবাদ: অতঃপর তারা সমঝোতার সেই বাস্তব যাত্রা শুরু করল; শেষ পর্যন্ত যখন তারা দুর্বল ও শ্রমজীবী শ্রেণীর নিজস্ব একটি ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক সুরক্ষার প্রতিষ্ঠানে/উপায়ে আরোহণ করল, তখন সেই বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রজা কৌশলগত কারণে সেটিতে একটি বাহ্যিক ত্রুটি বা দুর্বলতা তৈরি করল। মূসা (আবেগের বশে) বললেন, “আপনি কি এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাকে দুর্বল করলেন যাতে এর সাথে যুক্ত সাধারণ মানুষগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ে? আপনি তো অত্যন্ত আপত্তিকর ও ক্ষতিকর একটি কাজ করলেন!” 📄 [৭২] قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:صَبْرًا (সাবরান): দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির সুদূরপ্রসারী কৌশল বোঝার জন্য আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। অনুবাদ: সেই প্রজা উত্তর দিল, “আমি কি তোমাকে আগেই বলিনি যে, তুমি আমার এই দীর্ঘমেয়াদী এবং বাস্তব কর্মপদ্ধতির সাথে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মের ওপর অবিচল থাকতে কোনোভাবেই সমর্থ হবে না?” 📄 [৭৩] قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:لَا تُؤَاخِذْنِي (লা তুআখিজনি): আমার এই সাময়িক অসচেতনতাকে নীতিগত চুক্তিভঙ্গ হিসেবে গণ্য করবেন না। অনুবাদ: মূসা বললেন, “আমি যে শর্তের বিষয়টি সাময়িকভাবে ভুলে গিয়েছিলাম, তার জন্য দয়া করে আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার এই সমাজ সংস্কারের যাত্রায় আমার ওপর অতিরিক্ত কঠোরতা বা সংকীর্ণতা আরোপ করবেন না।” 📄 [৭৪] فَانطَلَقَا حَتَّىٰ إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَّقَد| جِئْتَ شَيْئًا نُّكْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:غُلَامًا (গুলামান): একটি উদীয়মান ধ্বংসাত্মক অপশক্তি বা এমন এক ক্ষতিকারক নেতৃত্ব যা ভবিষ্যতে সমাজ ধ্বংসের বীজ বপন করত। فَقَتَلَهُ (ফাক্বাতালাহু): সেটিকে সমূলে বিনষ্ট করা, তার সামাজিক বিকাশকে স্তব্ধ করা বা দমন করা। نَفْسًا زَكِيَّةً (নাফসান জাকিয়্যাহ): আপাতদৃষ্টিতে একটি নিষ্পাপ বা ক্ষতিকরহীন মনে হওয়া সত্তা। অনুবাদ: অতঃপর তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করল; শেষ পর্যন্ত যখন তারা একটি উদীয়মান ও ভবিষ্যতে মারাত্মক ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠার ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষতিকারক নেতৃত্বের মুখোমুখি হলো, তখন সেই প্রজা তার সামাজিক বিকাশকে সমূলে স্তব্ধ (দমন) করে দিল। মূসা বললেন, “আপনি কি কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা সামাজিক ক্ষতি ছাড়াই আপাতদৃষ্টিতে একটি ক্ষতিহীন সত্তার বিকাশকে স্তব্ধ করে দিলেন? আপনি তো অত্যন্ত অন্যায় ও সমাজ-গর্হিত একটি কাজ করলেন!” 📄 [৭৫] قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا অনুবাদ: সেই বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রজা পুনরায় বলল, “আমি কি তোমাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে আগেই বলিনি যে, তুমি আমার এই সুদূরপ্রসারী বাস্তব কর্মপদ্ধতির সাথে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মের ওপর অবিচল থাকতে কোনোভাবেই সমর্থ হবে না?” 📄 [৭৬] قَالَ إِن سَأَلْتُكَ عَن شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي ۖ قَدْ بَلَغْتَ مِن لَّدُنِّي عُذْرًا অনুবাদ: মূসা বললেন, “এর পর যদি আমি আমাদের এই প্রোগ্রামের কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করি বা আপত্তি তুলি, তবে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না; নিশ্চিতভাবেই আমার পক্ষ থেকে আপনার কাছে চূড়ান্ত ও পর্যাপ্ত ওযর বা ক্ষমা পেশ করা হয়েছে।” 📄 [৭৭] فَانطَلَقَا حَتَّىٰ إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَن يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَن يَنقَضَّ فَأَقَامَهُ ۖ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:قَرْيَةٍ (ক্বারইয়াহ): এমন এক সমাজ ব্যবস্থা বা জনপদ যার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো অন্যায্য ও সংকীর্ণ। اسْتَطْعَمَا (ইস্তাত্ব’আমা): সমঝোতার যাত্রা সফল করতে সেই জনপদের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বা মৌলিক সমর্থন অন্বেষণ করা। جِدَارًا (জিদারান): সেই সমাজের একটি ভেঙে পড়া নীতিগত ভিত্তি, আইনি কাঠামো বা মৌলিক সুরক্ষাকবচ। فأَقَامَهُ (ফাআক্বামাহু): সেটিকে নতুন করে সংস্কার করা, সুদৃঢ় করা এবং পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা। অনুবাদ: অতঃপর তারা পুনরায় সমঝোতার যাত্রা শুরু করল; শেষ পর্যন্ত যখন তারা এক স্বার্থপর ও সংকীর্ণ সমাজ ব্যবস্থায় পৌঁছাল এবং সেই জনপদের দায়িত্বশীলদের কাছে তাদের এই মহৎ প্রোগ্রামের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বা সমর্থন অন্বেষণ করল, তখন তারা তাদের সহযোগিতা করতে বা আশ্রয় দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করল। সেখানে তারা সেই সমাজের একটি ভেঙে পড়া নীতিগত ভিত্তি, আইনি কাঠামো বা মৌলিক সুরক্ষাকবচ দেখতে পেল যা ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছিল; তখন সেই বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রজা সেটিকে নতুন করে সংস্কার করে পুনরায় সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করল। মূসা বললেন, “আপনি যদি চাইতেন, তবে তাদের এই অসহযোগিতার কারণে আমাদের এই শ্রমের বিপরীতে তাদের কাছ থেকে একটি পারিশ্রমিক বা ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারতেন।” 📄 [৭৮] قَالَ هَٰذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ ۚ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِيع عَّلَيْهِ صَبْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:بِتَأْوِيلِ (বিতাওয়ীলি): এই জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলোর অন্তর্নিহিত প্রকৃত কারণ, সুদূরপ্রসারী ফলাফল বা চূড়ান্ত রূপ। অনুবাদ: সেই বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রজা বলল, “তোমার এই বারবার প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে আজ আমার এবং তোমার মধ্যকার নীতিগত চুক্তির বিচ্ছেদ ঘটল; তবে যে বিষয়গুলোর ওপর তুমি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মের ওপর অবিচল থাকতে সমর্থ হওনি, এখন আমি তোমাকে সেই জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলোর অন্তর্নিহিত প্রকৃত কারণ এবং সুদূরপ্রসারী ফলাফলের চূড়ান্ত রূপ স্পষ্ট করে দিচ্ছি।” 📄 [৭৯] أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ فَأَرَدتُّ أَنْ أَعِيبَهَا وَكَانَ وَرَاءَهُم مَّلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:لِمَسَاكِينَ (লিমাসাকিনা): সমাজের সেইসব শোষিত, দুর্বল ও শ্রমজীবী মানুষ যাদের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক শক্তি নেই। يَأْخُذُ … غَصْبًا (ইয়াখুজু… গাস্ববান): জোরপূর্বক বা অন্যায্যভাবে গ্রাস করা বা একচেটিয়া দখল করে নেওয়া। অনুবাদ: “শোনো, সেই যে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান বা সুরক্ষার উপায়টি (নৌকা) ছিল, সেটি ছিল সমাজের সেইসব শোষিত, দুর্বল ও শ্রমজীবী মানুষের, যারা মানুষের চিন্তা ও কর্মের বিস্তৃত গভীর সামাজিক সাগরে নিজেদের জীবিকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করত। আমি কৌশলগত কারণে সেটিতে একটি বাহ্যিক ত্রুটি বা দুর্বলতা তৈরি করতে চেয়েছিলাম; কারণ তাদের পেছনে ওত পেতে ছিল এক অত্যাচারী শাসক গোষ্ঠী ও একচেটিয়া পুঁজিপতি, যারা সচল ও ত্রুটিহীন প্রতিটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকে জোরপূর্বক অন্যায্যভাবে গ্রাস বা দখল করে নিচ্ছিল (যাতে বাহ্যিক ত্রুটি দেখে তারা এটিকে মূল্যহীন ভেবে ছেড়ে দেয়)।” 📄 [৮০] وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينَا أَن يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ (আবাওয়াহু মুমিনাইনি): সেই উদীয়মান অপশক্তির মূল উৎস বা পূর্ববর্তী সামাজিক অভিভাবকবৃন্দ যারা সমাজে শান্তি ও ঐক্যের পক্ষে কাজ করছিলেন। طُغْيَانًا وَكُفْرًا (তুগইয়ানান ওয়া কুফরান): চরম অবাধ্যতা, বিদ্রোহ, অরাজকতা এবং সত্য ও মানুষের অধিকারকে অস্বীকার করা। অনুবাদ: “আর সেই যে উদীয়মান ধ্বংসাত্মক অপশক্তি ও ক্ষতিকারক নেতৃত্ব (বালক) ছিল, তার পূর্ববর্তী সামাজিক অভিভাবকবৃন্দ সমাজে শান্তি ও ঐক্যের আদর্শে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। ফলে আমরা এই সুদূরপ্রসারী আশঙ্কা বা ভয় করছিলাম যে, এই উদীয়মান অপশক্তিটি ভবিষ্যতে বড় হয়ে চরম অবাধ্যতা, অরাজকতা এবং সত্যকে অস্বীকারের মাধ্যমে সেই শান্তিপ্রিয় মানুষদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করবে এবং পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।” [৮১] فَأَرَدْنَا أَن يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِّنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:خَيْرًا مِّنْهُ زَكَاةً (খাইরান মিনহু জাকাতান): মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিকভাবে অনেক বেশি বিশুদ্ধ, প্রগতিশীল এবং সামাজিক বিকাশের উপযোগী। أَقْرَبَ رُحْمًا (আক্বরাবা রুহমান): পারস্পরিক সহানুভূতি, সামাজিক সুসম্পর্ক এবং সৌহার্দ্যের ক্ষেত্রে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ। অনুবাদ: “তাই আমরা চেয়েছিলাম যে, তাদের প্রতিপালক যেন সেই উদীয়মান অপশক্তির পরিবর্তে তাদেরকে এমন এক নেতৃত্ব বা বিকল্প ব্যবস্থা দান করেন, যা মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিকভাবে অনেক বেশি বিশুদ্ধ এবং সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি, একাত্মতা ও সৌহার্দ্য স্থাপনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর হবে।” 📄 [৮২] وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنزَهُمَا رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ ۚ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ۚ ذَٰلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِع عَّلَيْهِ صَبْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ (লি-গুলামাইনি ইয়াতীমাইনি): এমন দুটি উদীয়মান দুর্বল বা অভিভাবকহীন গোষ্ঠী বা প্রজন্ম, যাদের সমাজে কোনো সুদৃঢ় রাজনৈতিক শক্তি নেই। كَنزٌ (কানজুন): জ্ঞান, সঠিক আদর্শ, সম্পদ বা নীতিগত অধিকারের এক সুপ্ত ভাণ্ডার। أَبُوهُمَا صَالِحًا (আবুহুমা সালিহান): তাদের পূর্ববর্তী নেতৃত্ব বা আদর্শের ভিত্তিটি ছিল সমাজ সংস্কার ও সংহতির পক্ষে অত্যন্ত মজবুত। تَأْوِيلُ (তাউয়ীল): এই সমস্ত বাহ্যিক ও অবোধগম্য জটিল পদক্ষেপের পেছনের আসল উদ্দেশ্য ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ফলাফল। অনুবাদ: “আর সেই যে জরাজীর্ণ নীতিগত কাঠামো ও আইনি প্রাচীরটি (দেয়াল) ছিল, সেটি ছিল সেই নগরের দুটি উদীয়মান দুর্বল ও অভিভাবকহীন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। আর সেই ভাঙা কাঠামোর তলদেশেই সুপ্ত ছিল তাদের নীতিগত অধিকার ও জ্ঞানের এক সুপ্ত ভাণ্ডার, এবং তাদের পূর্বপুরুষ বা পূর্ববর্তী নেতৃত্ব ছিলেন সমাজ সংস্কার ও সংহতির পক্ষে অত্যন্ত মজবুত ও সৎ। তাই তোমার প্রতিপালক চাইলেন যে, এই দুর্বল প্রজন্মটি যেন প্রথমে নিজেদের পরিপূর্ণ সামর্থ্য ও পরিপক্কতার স্তরে পৌঁছায় এবং তারপর তাদের সেই সুপ্ত অধিকার ও সম্পদের ভাণ্ডারটি উদ্ধার করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে—যা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক করুণা ও সুরক্ষাকবচ। আর শোনো, আমি এই সমস্ত পদক্ষেপ কেবল আমার নিজস্ব ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি বা আবেগের বশে করিনি (বরং এটি ছিল ঐশী শাসনতান্ত্রিক নকশার অংশ)। এটাই হলো সেইসব পদক্ষেপের আসল উদ্দেশ্য ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ফলাফল, যার ওপর তুমি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মের ওপর অবিচল থাকতে সমর্থ হওনি।” 📄 [৮৩] وَيَسْأَلُونَكَ عَن ذِي الْقَرْنَيْنِ ۖ قُلْ سَأَتْلُو عَلَيْكُم مِّنْهُ ذِكْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:ذِي الْقَرْنَيْنِ (জিল ক্বারনাইন): দুই যুগান্তকারী শক্তির অধিকারী বা দুটি ভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক যুগের শাসনতান্ত্রিক রূপান্তরকারী এক মহান নেতৃত্ব। ذِكْرًا (জিকরান): একটি অত্যন্ত অর্থপূর্ণ, শিক্ষণীয় ও বাস্তব সমাজতাত্ত্বিক বিবরণ। অনুবাদ: “এবং হে বাণীবাহক, তারা তোমাকে দুই যুগান্তকারী শক্তির অধিকারী এবং শাসনতান্ত্রিক রূপান্তরকারী এক মহান নেতৃত্ব (যুল-ক্বারনাইন) সম্পর্কে প্রশ্ন করে। তুমি তাদের বলো, ‘আমি এখনই তোমাদের সামনে তাঁর সেই শাসনতান্ত্রিক কর্মসূচির এক অত্যন্ত অর্থপূর্ণ ও শিক্ষণীয় সমাজতাত্ত্বিক বিবরণ উপস্থাপন করছি।'” 📄 [৮৪] إِنَّا مَكَّنَّا لَهُ فِي الْأَرْضِ وَآتَيْنَاهُ مِن كُلِّ شَيْءٍ سَبَبًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:مَكَّনَّا لَهُ (মাক্কান্না লাহু): আমরা তাকে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং অসীম শাসনতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম। سَبَبًا (সাবাবান): যেকোনো লক্ষ্য অর্জন বা সমস্যা সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক উপায়, মাধ্যম, প্রযুক্তি ও কৌশল। অনুবাদ: “নিশ্চয়ই আমরা তাকে এই পৃথিবীতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং তাকে অসীম প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম; এবং যেকোনো সামাজিক ও শাসনতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক উপায়, মাধ্যম, প্রযুক্তি ও দূরদর্শিতার কৌশল আমরা তাকে সুপ্রচুর পরিমাণে দান করেছিলাম।” 📄 [৮৫] فَأَتْبَعَ سَبَبًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:فأَتْبَعَ (ফা-আত্ববা’আ): সে বাস্তবভিত্তিক যথাযথ প্রয়োগ করল বা সেই নীতিমালার অনুসারী হলো। অনুবাদ: “অতঃপর সে (সমাজে ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে) সেইসব বিজ্ঞানসম্মত উপায়, মাধ্যম ও সুনির্দিষ্ট শাসনতান্ত্রিক কৌশলের যথাযথ ব্যবহার ও প্রগতিশীল প্রয়োগ করল।” مَغْرِبَ الشَّمْسِ (মাগরিবাস শামসি): জ্ঞান, সচেতনতা বা প্রগতির সূর্যের অস্তমিত হওয়া বা চরম সামাজিক অবক্ষয় ও অন্ধকারের সীমানা। عَيْنٍ حَمِئَةٍ (আইনিন হামিয়াতিন): একটি চরম কর্দমাক্ত, কলুষিত বা পঙ্কিল ভাবাদর্শগত উৎস ও সামাজিক পরিবেশ। অনুবাদ: “শেষ পর্যন্ত যখন সে সমাজে জ্ঞান ও প্রগতির আলো সম্পূর্ণ অস্তমিত হওয়ার চরম অবক্ষয়ের সীমানায় পৌঁছাল, তখন সে দেখল যে সেই সমাজটি একটি কর্দমাক্ত, কলুষিত ও পঙ্কিল ভাবাদর্শগত উৎসের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে এবং সে সেখানে এক দিকভ্রান্ত জনগোষ্ঠীকে দেখতে পেল। আমরা বললাম, ‘হে যুল-ক্বারনাইন, তুমি চাইলে এদের অন্যায়ের জন্য এদের কঠোর প্রশাসনিক শাস্তি দিতে পারো অথবা এদের সংশোধনের জন্য এদের মধ্যে কল্যাণকর ও সুন্দর নীতি গ্রহণ করতে পারো।'” 📄 [৮৭] قَالَ أَمَّا مَنْ ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهُ ثُمَّ يُرَدُّ إِلَىٰ رَبِّهِ فَيُعَذِّبُهُ عَذَابًا نُّكْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:مَنْ ظَلَمَ (মান জালামা): যে ব্যক্তি নিয়মতান্ত্রিক সীমা লঙ্ঘন করে চরম জুলুম, শোষণ ও সামাজিক অধিকার হরণ করবে। عَذَابًا نُّكْرًا (আজাবান নুকরান): এক অভাবনীয়, তীব্র এবং দৃষ্টান্তমূলক পার্থিব ও সামাজিক শাস্তি। অনুবাদ: “সে বলল, ‘শোনো, তাদের মধ্যে যে কেউ নিয়মতান্ত্রিক সীমা লঙ্ঘন করে চরম জুলুম ও শোষণের পথ বেছে নেবে, আমরা অবশ্যই তাকে আমাদের রাষ্ট্রীয় ও আইনি কাঠামোয় কঠোর শাস্তি দেব; অতঃপর সে তার প্রতিপালকের সর্বজনীন প্রাকৃতিক আইনের অমোঘ নিয়মের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে এবং তখন সেই আইন তাকে আরও এক অভাবনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবে।'” 📄 [৮৮] وَأَمَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُ جَزَاءً الْحُسْنَىٰ ۖ وَسَنَقُولُ لَهُ مِنْ أَمْرِنَا يُسْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا (আমানা ওয়া আমীলা সালিহান): শান্তির আদর্শে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া এবং সমাজের ফাটল দূর করে সংহতি স্থাপনের কাজ করা। الْحُسْنَىٰ (আল-হুসনা): সর্বোত্তম, সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিদান। يُسْرًا (ইউসরান): সহজতর নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য। অনুবাদ: “‘পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি শান্তির আদর্শে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে এবং সমাজের ফাটল দূর করে সংহতি ও ঐক্য স্থাপনের কাজ করবে, তার জন্য থাকবে সর্বোত্তম ও সুন্দর প্রতিদান; এবং আমরা আমাদের প্রশাসনিক নীতি ও আদেশের ক্ষেত্রে তার প্রতি অত্যন্ত সহজতর, সহনশীল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় আচরণ করব।'” 📄 [৮৯] ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:أَتْبَعَ سَبَبًا (আত্ববা’আ সাবাবান): পরবর্তী লক্ষ্য অর্জনের জন্য পুনরায় বিজ্ঞানসম্মত যথাযথ মাধ্যম ও সুনির্দিষ্ট কৌশলের প্রয়োগ করা। অনুবাদ: “অতঃপর সে (তার পরবর্তী প্রশাসনিক ও সমাজ সংস্কারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য) পুনরায় বিজ্ঞানসম্মত যথাযথ মাধ্যম ও সুনির্দিষ্ট শাসনতান্ত্রিক কৌশলের প্রগতিশীল প্রয়োগ করল।” 📄 [৯০] حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْرُبُ عَلَىٰ قَوْمٍ لَّمْ نَجْعَل لَّهُم مِّن دُونِهَا سِتْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:مَطْلِعَ الشَّمْسِ (মাতলি’আশ শামসি): জ্ঞান, সচেতনতা বা প্রগতির সূর্যের উদয়স্থল বা এমন এক জনপদ যেখানে কেবল নতুন চেতনার আলো পৌঁছাতে শুরু করেছে। لَّمْ نَجْعَل … سِتْرًا (লাম নাজ’আল… সিতরান): কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচ, অবকাঠামো বা বৈষয়িক সচেতনতার পর্দা না থাকা। অনুবাদ: “শেষ পর্যন্ত যখন সে জ্ঞান, সচেতনতা ও প্রগতির আলো উদিত হওয়ার নতুন এক জনপদে পৌঁছাল, তখন সে দেখল যে সেই প্রগতির সূর্য এমন এক আদিম বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ওপর উদিত হচ্ছে, যাদের জন্য আমরা সেই প্রগতির তীব্র প্রভাব থেকে বাঁচার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচ, সুরক্ষার অবকাঠামো বা বৈষয়িক সচেতনতার পর্দা স্থাপন করিনি (যার ফলে তারা সঠিক নিয়মনীতি ছাড়াই দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ছিল)।” أَحَطْنَا (আহাত্বনা): আমরা সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টিত বা অবগত রেখেছিলাম। খُبْرًا (খুবরান): সুদূরপ্রসারী নকশা, অভ্যন্তরীণ সামগ্রিক জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা। অনুবাদ: “বাস্তব পরিস্থিতি ঠিক এমনই ছিল; এবং তাঁর কাছে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, প্রযুক্তি ও সুদূরপ্রসারী সামগ্রিক নকশা বিদ্যমান ছিল, সে বিষয়ে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক জ্ঞান বা পর্যবেক্ষণ একে সম্পূর্ণ পরিবেষ্টিত করে রেখেছিল।” 📄 [৯২] ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:أَتْبَعَ سَبَبًا (আত্ববা’আ সাবাবান): পরবর্তী লক্ষ্য অর্জনের জন্য পুনরায় বিজ্ঞানসম্মত যথাযথ মাধ্যম ও সুনির্দিষ্ট কৌশলের প্রয়োগ করা। অনুবাদ: “অতঃপর সে (তাঁর তৃতীয় সামাজিক ও শাসনতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে) পুনরায় বিজ্ঞানসম্মত যথাযথ মাধ্যম ও সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলের প্রগতিশীল প্রয়োগ করল।” 📄 [৯৩] حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ بَيْنَ السَّدَّيْنِ وَجَدَ مِن دُونِهِمَا قَوْمًا لَّا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:بَيْنَ السَّدَّيْنِ (বাইনাস সাদ্দাইনি): দুটি সুউচ্চ প্রাকৃতিক বা রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, ভারসাম্যহীন ক্ষমতার প্রাচীর, অথবা দুটি পরস্পর বিচ্ছিন্ন সমাজ ব্যবস্থার মধ্যবর্তী সীমান্ত বা সংযোগস্থল। لَّا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا (লা ইয়াকাদুনা ইয়াফক্বাহুনা ক্বাওলান): যুগের পরিবর্তনের সাথে তৈরি হওয়া জটিল প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা, নিয়মনীতি বা আধুনিক প্রগতিশীল বার্তা অনুধাবনে চরমভাবে অক্ষম। অনুবাদ: “শেষ পর্যন্ত যখন সে দুটি পরস্পর বিচ্ছিন্ন সমাজ ব্যবস্থার মধ্যবর্তী ভারসাম্যহীন ক্ষমতার প্রাচীর বা সংযোগস্থলে পৌঁছাল, তখন সে সেই দুই প্রতিবন্ধকতার ওপারে এমন এক জনগোষ্ঠীর দেখা পেল, যারা আধুনিক যুগের প্রগতিশীল সাংগঠনিক ভাষা বা নিয়মনীতির সুনির্দিষ্ট বার্তা অনুধাবনে চরমভাবে অক্ষম ও অনগ্রসর ছিল।” 📄 [৯৪] قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَىٰ أَن تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ (ইয়াজুজা ওয়া মাজুজা): বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, আক্রমণাত্মক ও সম্পদ গ্রাসকারী উগ্র বা স্বার্থান্বেষী সমাজ-বিধ্বংসী অপশক্তিসমূহ (The aggressive, chaotic elements). খَرْجًا (খারজান): রাষ্ট্রীয় কর, প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান বা বৈষয়িক সম্পদের জোগান ও বাজেট। سَدًّا (সাদ্দান): সুরক্ষামূলক দীর্ঘস্থায়ী আইনি প্রাচীর, অবকাঠামোগত সীমানা বা মজবুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা। অনুবাদ: “তারা অনুনয় করে বলল, ‘হে দুই যুগান্তকারী শক্তির অধিকারী মহান নেতা যুল-ক্বারনাইন! নিশ্চয়ই ইয়াজুজ ও মাজুজ নামক উগ্র অপশক্তিসমূহ এই জনপদে চরম বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা ও শোষণের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। অতএব, আমরা কি আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে একটি নিয়মতান্ত্রিক বাজেট, প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান বা সম্পদের জোগান দেব—যাতে আপনি আমাদের এবং তাদের মধ্যবর্তী স্থানে একটি মজবুত সুরক্ষামূলক আইনি প্রাচীর ও শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলেন?'” 📄 [৯৫] قَالَ مَا مَكَّنِّي فِيهِ رَبِّي خَيْرٌ فَأَعِينُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:مَا مَكَّনِّي (মা মাক্কান্নী): আমার প্রতিপালক আমাকে যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জ্ঞান ও কর্তৃত্ব দিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। بِقُوَّةٍ (বিকুওয়াতিন): তোমাদের কায়িক শ্রম, ঐক্যবদ্ধ জনশক্তি, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে। رَدْمًا (রাদমান): ধাপে ধাপে সুবিন্যস্ত করা অত্যন্ত মজবুত ও অভেদ্য বহুস্তরবিশিষ্ট সামাজিক সুরক্ষাকবচ বা প্রতিরোধ দেওয়াল। অনুবাদ: “সে উত্তর দিল, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জ্ঞান, অমোঘ কৌশল ও আইনগত কর্তৃত্ব দিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা তোমাদের দেওয়া যেকোনো বৈষয়িক ট্যাক্স বা অনুদানের চেয়ে অনেক বেশি উৎকৃষ্ট ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। অতএব, তোমরা কেবল তোমাদের সুসংগঠিত জনশক্তি, কায়িক শ্রম ও সক্রিয় সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে আমাকে সাহায্য করো; আমি তোমাদের এবং তাদের মধ্যবর্তী স্তরে ধাপে ধাপে সুবিন্যস্ত এক অত্যন্ত মজবুত ও অভেদ্য বহুস্তরবিশিষ্ট সামাজিক সুরক্ষাকবচ বা প্রতিরোধ দেওয়াল গড়ে তুলব।'”ho ৯৬] آتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا سَاوَىٰ بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انفُخُوا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ آتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:زُبَرَ الْحَدِيدِ (জুব্যারাল হাদীদ): সুদৃঢ় আইনি অনুশাসন, কঠোর নীতিগত মানদণ্ড বা লৌহকঠিন সাংগঠনিক নিয়মের শক্তিশালী খণ্ডসমূহ। الصَّدَفَيْنِ (আস-সদাফাইন): দুটি বিচ্ছিন্ন বা বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থার মধ্যবর্তী শূন্যতা, ফাটল বা পাহাড়সম দূরত্ব। انفُخُوا (ইনফুখু): জনচেতনার বিকাশ ঘটানো, সম্মিলিত প্রেরণা বা রূপান্তরের শক্তি ফুঁকে দেওয়া। قِطْرًا (ক্বিত্বরাম): গলিত তামা বা এমন এক তরল উপাদান যা সমস্ত ফাটল বন্ধ করে দিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে একটি নিরেট ও অভেদ্য সুরক্ষাকবচে রূপান্তর করে। অনুবাদ: “সে বলল, ‘তোমরা আমার কাছে সুদৃঢ় আইনি অনুশাসন ও লৌহকঠিন সাংগঠনিক নিয়মের শক্তিশালী খণ্ডসমূহ নিয়ে এসো।’ শেষ পর্যন্ত যখন সে সেই লৌহকঠিন নিয়ম দিয়ে দুটি বিচ্ছিন্ন সমাজ ব্যবস্থার মধ্যবর্তী পাহাড়সম ফাটল ও শূন্যতাকে সমান করে দিল, তখন সে নির্দেশ দিল, ‘এবার তোমরা এর মধ্যে সম্মিলিত জনচেতনা ও রূপান্তরের প্রেরণা ফুঁকে দাও!’ অতঃপর যখন সে (জনগণের তীব্র সক্রিয় অংশগ্রহণে) সেই সুদৃঢ় নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোকে আগুনের মতো প্রদীপ্ত করে তুলল, তখন সে বলল, ‘এবার তোমরা আমার কাছে গলিত তামার মতো এক অলঙ্ঘনীয় আইনি উপাদান নিয়ে এসো, যা আমি এর ওপর ঢেলে দিয়ে সমস্ত ফাটল চিরতরে বন্ধ ও নিরেট করে দেব।'” 📄 [৯৭] فَمَا اسْطَاعُوا أَن يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:أَن يَظْهَرُوهُ (আইঁ ইয়াযহারুহু): সেটির ওপর চড়াও হওয়া, সেটিকে টপকে যাওয়া বা জয় করা। نَقْبًا (নাক্ববান): তাতে কোনো সুড়ঙ্গ তৈরি করা, ফাটল ধরানো বা সেটিকে ভেদ করা। অনুবাদ: “ফলশ্রুতিতে, সেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অপশক্তিগুলো (ইয়াজুজ ও মাজুজ) আর কখনোই সেই নিরেট সামাজিক সুরক্ষাপ্রাচীর টপকে সমাজে চড়াও হতে পারল না এবং তাদের চক্রান্তের মাধ্যমে সেই মজবুত আইনি কাঠামোকে ভেদ বা চূর্ণ করতেও তারা সম্পূর্ণ অক্ষম হলো।” 📄 [৯৮] قَالَ هَٰذَا رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي ۖ فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاءَ ۖ وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي (রাহমাতুম মির রাব্বি): আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক করুণা ও সুরক্ষাকবচ। جَعَلَهُ دَكَّاءَ (জা’আলাহু দাক্কা-আ): সেটিকে ধূলিসাৎ বা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া (যদি মানুষ নিজেই আল্লাহর দেওয়া নিয়ম লঙ্ঘন করে)। অনুবাদ: “যুল-ক্বারনাইন বলল, ‘এই অভেদ্য সামাজিক ও আইনি সুরক্ষাপ্রাচীর আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক করুণা ও সুরক্ষাকবচ; কিন্তু যখন (ভবিষ্যতে মানুষের অবাধ্যতার কারণে) আমার প্রতিপালকের নির্ধারিত অমোঘ পরিণতির মুহূর্ত বা প্রতিশ্রুত সময় সমাগত হবে, তখন তিনি এই শক্তিশালী ব্যবস্থাকেও ধূলিসাৎ ও চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন। আর আমার প্রতিপালকের দেওয়া প্রতিটি প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক সামাজিক নিয়ম বা প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণরূপে সত্য ও অবধারিত।'” 📄 [৯৯] وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ ۖ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:يَمُوجُ (ইয়ামুজু): তীব্র ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়া, এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর ওপর অরাজকতার সাথে আপতিত হওয়া। نُفِخَ فِي الصُّورِ (নুফিখা ফিস সুরি): চূড়ান্ত সামাজিক পুনর্জাগরণ, ঐশী সত্যের বিগেল বেজে ওঠা বা শেষ চূড়ান্ত জবাবদিহিতার ঘোষণা। فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا (ফাহজামাহনাহুম জাম’আন): সবাইকে একটি একক নিয়মতান্ত্রিক আইনি ব্যবস্থার অধীনে চূড়ান্তভাবে ঐক্যবদ্ধ বা একত্রিত করা। অনুবাদ: “এবং সেই বিশৃঙ্খল ও অবাধ্যতার দিনে আমরা মানুষকে এমন এক অবস্থায় ছেড়ে দেব যে তারা তীব্র সামাজিক ঢেউয়ের মতো এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর ওপর অরাজকতার সাথে আছড়ে পড়বে; অতঃপর যখন (চূড়ান্ত জবাবদিহিতার) ঐশী সত্যের বিগেল বাজানো হবে বা চূড়ান্ত পুনর্জাগরণ ঘটবে, তখন আমরা তাদের সবাইকে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আইনের অধীনে একটি একক কল্যাণকর বিশ্ব-সম্প্রদায়ে একত্রিত করব।” 📄 [১০০] وَعَرَضْنَا جَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لِّلْكَافِرِينَ عَرْضًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:جَهَنَّمَ (জাহান্নামা): মানুষের তৈরি করা জুলুম, অবিচার ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে সৃষ্ট তীব্র অশান্তি, লাঞ্ছনা ও ধ্বংসের আগুন। لِّلْكَافِرِينَ (লিল-কাফিরিন): সত্যের অমোঘ নিয়মকে অস্বীকার ও উপেক্ষা করা শোষক এলিট শ্রেণীর জন্য। অনুবাদ: “এবং সেদিন আমরা সত্যের অমোঘ নিয়মকে অস্বীকার ও উপেক্ষা করা শোষকদের তৈরি করা সেই তীব্র সামাজিক অশান্তি, লাঞ্ছনা ও ধ্বংসের আগুনকে (জাহান্নামকে) তাদের নিজেদের চোখের সামনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ও উপস্থিত করব।” [১০১] الَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَاءٍ عَن ذِكْرِي وَكَانُوا لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَاءٍ (আ’ইউনুহুম ফী গিত্বা-ইন): তাদের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক চেতনা মোহাচ্ছন্ন বা স্বার্থপরতার পর্দায় ঢাকা ছিল। ذِكْرِي (জিকরী): আমার সর্বজনীন নিয়মতান্ত্রিক উপদেশ, আইন ও সমাজ পরিচালনার বাস্তব নির্দেশনা। لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا (লা ইয়াস্তাত্বী’ঊনা সাম’আন): অহংকারের কারণে মনস্তাত্ত্বিকভাবে সত্যের আওয়াজ গ্রহণে সম্পূর্ণ অক্ষম ছিল। অনুবাদ: “এরা হলো সেইসব মানুষ, যাদের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক চেতনা আমার সর্বজনীন নিয়মতান্ত্রিক উপদেশ ও সামাজিক আইন অনুসরণের ক্ষেত্রে স্বার্থপরতার পর্দায় ঢাকা ছিল; এবং তারা নিজেদের ক্ষমতার অহংকারের কারণে মনস্তাত্ত্বিকভাবে সত্যের আওয়াজ ও যুক্তিসঙ্গত কথা গ্রহণে সম্পূর্ণ অক্ষম ছিল।” 📄 [১০২] أَفَحَسِبَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَن يَتَّخِذُوا عِبَادِي مِن دُونِي أَوْلِيَاءَ ۚ إِنَّا أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ نُزُلًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:أَوْلِيَاءَ (আউলিয়া-আ): কৃত্রিম সুরক্ষাকবচ, সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী নেতা বা আইন প্রণেতা। নُزُلًا (নুজুলান): চূড়ান্ত আতিথেয়তা, অনিবার্য পরিণতি বা বসবাসের স্থান। অনুবাদ: “তবে যারা সত্যের অমোঘ নিয়মকে অস্বীকার করেছে, তারা কি মনে করে যে তারা আমার আইনের পরিবর্তে আমারই সৃজিত বান্দা বা অন্য কোনো কৃত্রিম বৈষয়িক শক্তিকে নিজেদের চূড়ান্ত সুরক্ষাকবচ ও প্রভু হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে? নিশ্চয়ই আমরা সত্যের নিয়ম অস্বীকারকারী সেইসব শোষকদের অবাধ্যতার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে এই তীব্র সামাজিক অশান্তি ও ধ্বংসের আগুনকে (জাহান্নামকে) তাদের চূড়ান্ত আবাসস্থল হিসেবে নির্ধারণ করে রেখেছি।” 📄 [১০৩] قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا (বিল আখসারীনা আ’মালান): কর্মের দিক থেকে সবচেয়ে বড় এবং চূড়ান্ত দেউলিয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত শোষক গোষ্ঠী। অনুবাদ: “তুমি তাদের বলো, ‘আমি কি তোমাদের সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মের দিক থেকে সবচেয়ে বড় দেউলিয়া এবং চূড়ান্তরূপে ক্ষতিগ্রস্ত ও ব্যর্থ শোষক গোষ্ঠীর পরিচয় জানিয়ে দেব?'” 📄 [১০৪] الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:ضَلَّ سَعْيُهُمْ (দ্বাল্লা সা’ইউহুম): যাদের সমস্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ দিকভ্রান্ত ও লক্ষ্যহীন হয়ে গেছে। يُحْسِنُونَ صُنْعًا (ইউহসিনূনা সুন্’আন): তারা অত্যন্ত নিখুঁত, প্রগতিশীল ও কল্যাণকর কাজ করে চলেছে। অনুবাদ: “‘এরা হলো সেইসব মানুষ, যাদের স্বার্থসর্বস্ব পার্থিব জীবনে পরিচালিত সমস্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ দিকভ্রান্ত ও লক্ষ্যহীন হয়ে গেছে; অথচ তারা তাদের মনস্তাত্ত্বিক অন্ধত্বের কারণে নিজেদের মনে অত্যন্ত আত্মতৃপ্তি নিয়ে অহংকার করে যে—তারা সমাজে অত্যন্ত নিখুঁত, প্রগতিশীল ও কল্যাণকর অবকাঠামোই গড়ে তুলছে!'” 📄 [১০৫] أُولَٰئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ (ফাহাবিত্বাত আ’মালুহুম): তাদের গড়ে তোলা সমস্ত বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা ও কৃত্রিম কর্মফল সম্পূর্ণ বাতিল ও ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। وَزْنًا (ওয়াজনান): কোনো আইনি মূল্য, সামাজিক মর্যাদা বা ভারসাম্যপূর্ণ ওজন। অনুবাদ: “‘তারাই সেইসব শোষক, যারা তাদের প্রতিপালকের অমোঘ সামাজিক নিদর্শনসমূহকে এবং তাঁর আইনের চূড়ান্ত জবাবদিহিতার মুখোমুখি হওয়ার বাস্তবতাকে অস্বীকার করেছে। ফলশ্রুতিতে, সমাজে তাদের গড়ে তোলা সমস্ত বৈষম্যমূলক কৃত্রিম ব্যবস্থা ও কর্মফল সম্পূর্ণ বাতিল ও ধূলিসাৎ হয়ে গেছে; অতএব চূড়ান্ত সামাজিক পুনরুত্থান ও নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহিতার দিনে আমরা তাদের অন্যায্য ক্ষমতার পক্ষে কোনো আইনি মূল্য বা ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক মর্যাদা দেব না।'” 📄 [১০৬] ذَٰلِكَ جَزَاؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَرُسُلِي هُزُوًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:هُزُوًا (হুজুওয়ান): খেলতামাশা, গুরুত্বহীন বা উপহাসের বস্তু হিসেবে গ্রহণ করা। অনুবাদ: “‘তাদের এই চূড়ান্ত সামাজিক লাঞ্ছনা ও ধ্বংসের আগুনের (জাহান্নামের) কারণ হলো—তারা সত্যের সার্বজনীন নিয়মকে অগ্রাহ্য করেছে এবং আমার সামাজিক নিদর্শনসমূহ ও নিয়মতান্ত্রিক বার্তাবাহকদের কেবলই উপহাস ও গুরুত্বহীন খেলতামাশার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে।'” 📄 [১০৭] إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ (জান্নাতুল ফিরদাউসি): সুউচ্চ ও মহিমান্বিত সাম্যবাদী ব্যবস্থা, বা সমাজ পরিচালনার সর্বোচ্চ কল্যাণকর ও প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান। অনুবাদ: “নিশ্চয়ই যারা শান্তির আদর্শে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে এবং সমাজের সমস্ত ফাটল ও বৈষম্য দূর করে সংহতি কায়েম করার প্রগতিশীল কাজ সম্পন্ন করেছে, তাদের অবধারিত ও সুন্দর পরিণতি হিসেবে থাকবে সমাজ পরিচালনার সর্বোচ্চ মহিমান্বিত ও কল্যাণকর সাম্যবাদী রাজত্ব (জান্নাতুল ফিরদাউস)।” 📄 [১০৮] خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:حِوَلًا (হিওয়ালান): কোনো রকম পরিবর্তন, রূপান্তর বা অন্য কোনো ব্যবস্থার দিকে বিচ্যুতি। অনুবাদ: “সেখানে তারা সেই সুসংগঠিত কল্যাণকর ব্যবস্থার অধীনে চিরস্থায়ীভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং সেই আদর্শ ন্যায়ভিত্তিক সমাজের বিপরীতে অন্য কোনো অন্যায্য ব্যবস্থার দিকে কোনো প্রকার পরিবর্তন বা বিচ্যুতি তারা কখনোই কামনা করবে না।” 📄 [১০৯] قُل لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:مِدَادًا (মিদাদান): লেখার কালি বা ধারণাগত বিস্তৃত মাধ্যম। كَلِمَاتِ رَبِّي (কালিমাতি রাব্বি): আমার প্রতিপালকের সর্বজনীন ঐশী বাণী, সৃষ্টির অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়ম ও সমাজ পরিচালনার প্রগতিশীল জ্ঞানতাত্ত্বিক আইনসমূহ। অনুবাদ: তুমি বলো, ‘যদি মানবীয় ধারণা ও সামাজিক অভিজ্ঞতার এই বিশাল বিস্তৃত উৎসটিও (সাগর) আমার প্রতিপালকের সর্বজনীন ঐশী বাণী, সৃষ্টির অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়ম ও সমাজ পরিচালনার প্রগতিশীল জ্ঞানতাত্ত্বিক আইনসমূহ লিপিবদ্ধ ও সম্প্রসারিত করার মাধ্যম (রসদ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে আমার প্রতিপালকের সেই অসীম জ্ঞান ও নিয়মের বিবরণ শেষ হওয়ার আগেই মানুষের এই বিশাল চিন্তার উৎস সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ হয়ে যাবে—যদিও আমরা এর সাহায্যার্থে এর সমপরিমাণ আরও একটি বিস্তৃত মাধ্যমকে এর সাথে যুক্ত করি না কেন।’ [১১০] قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَعَمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا WQT প্রধান কি-ওয়ার্ডস:بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ (বাশারুম মিছলুকুম): তোমাদের মতোই এক সামাজিক ও প্রাকৃতিক দায়িত্বসম্পন্ন মানুষ। إِلَٰهٌ وَاحِدٌ (ইলাহুন্ ওয়াহিদ): একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস ও আইন প্রণেতা। وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ (ওয়া লা ইউশরিক বি-ইবাদাতি রাব্বিহি): প্রতিপালকের অমোঘ বিধানের আনুগত্য ও রাষ্ট্রীয় আইন বাস্তবায়নে অন্য কোনো মানুষের তৈরি কৃত্রিম নীতিকে অংশীদার না করা। অনুবাদ: “তুমি চূড়ান্ত বার্তা হিসেবে ঘোষণা করো, ‘আমি তো আভিধানিক ও সামাজিকভাবে কেবল তোমাদের মতোই এক প্রাকৃতিক দায়িত্বসম্পন্ন মানুষ; আমার কাছে কেবল এই অমোঘ ঐশী সত্য অবতীর্ণ বা উন্মোচিত হয় যে—তোমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস ও আইন প্রণেতা হলেন কেবল এক অদ্বিতীয় সত্তা (আল্লাহ)। অতএব, যে কেউ তার প্রতিপালকের সর্বজনীন নিয়মের জবাবদিহিতায় সফল হওয়ার এবং তাঁর সান্নিধ্য পাওয়ার আশা রাখে, সে যেন সমাজের ফাটল ও বৈষম্য দূর করে সংহতি স্থাপনের প্রগতিশীল কাজ সম্পন্ন করে এবং তার প্রতিপালকের অমোঘ বিধানের রাষ্ট্রীয় আনুগত্য ও সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্য কোনো কৃত্রিম শক্তি বা মানুষের তৈরি নীতিকে বিন্দুমাত্র অংশীদার না করে।'” t | |
It is obvious that each surah of the quran is named precisely for a set purpose.
It is not a random occurrence of a word that is just picked up and used to label
a chapter. In other words one will see that the quran chooses a word for title
of a surah then rest of the surah explains why it is named with a particular
word from different angles. Exactly like word ISLAM. The whole quran
explains what it is in different respects. This surah likewise is not named KAHF just because some people took refuge
in a place but what was the reason that made them do that. It was divide
between people or the difference of ideology which created distance between
them. One people thought they had right to use and abuse people at will and
the others told them you are not doing things the right way. The surah starts with program for elimination of this gulf then which people
took steps to eliminate gulf between people.
Surah 18 . AL – KAHF The Sociopolitical, Socioeconomic & Religious gulf
between mankind
Proclaim in the name of Allah, the Gracious, the Merciful.
[1] that sovereignty belongs to Allah alone Who has revealed to His
messenger a purpose–bound comprehensive book for spreading the
message of peace among mankind in which He left no room for people to live
in tensions and dissensions due to their make beliefs.
[2] It is a message that is a firm foundation for life of peace and prosperity for
mankind with warning from Him about terrible consequences if it is ignored
and that is how thereby He gives news of blissful life to those who will commit
to working for peace such as work hard to remove rifts from among people to
unite them, surely for them is a great benefit in all this
[3] which they will enjoy for as long as they live if they keep up with its
maintenance.
[4] Moreover He also warns those who claim, Allah has begotten a son.
[5] They have no proof for it nor did their forefathers, this is a grossly
damaging claim for unity of mankind that comes out of their mouths. They
state nothing but a lie to cause baseless divisions.
[6] By the look of it you are driving yourself to death through stress by
worrying about them as to what will happen to them if they commit not to
working for peace according to this message.
[7] The fact is We have equipped the earth nicely with all kinds of things for
serving the needs and wants of people including Our guidance to help them
struggle through for higher goal in order to let them demonstrate which of
them does what is beneficial for the mankind.
[8] That is how We produced things on the earth in simple form to let them
develop gradually through tiny steps to higher state of existence through
interaction.
[9] So instead of stressing over behaviour of ignorant people what do you
think about the party of those people who took refuge in a valley surrounded
by mountains to save themselves from persecution due to Our scripture
because of their such behaviour they became part of Our wonderful lessons
for generations to come?
[10] At the time families of those mostly young people took refuge in the valley
saying, our Lord, grant us blissful life through Your scripture and thus enable
us to fulfil our mission properly.
[11] So We isolated them from those who were after them for a number of
years in the valley to develop according to Our program,
[12] that is how We raised them above their enemies to demonstrate which of
the two parties could best account for the time they spent apart from each
other.
[13] We are telling you their story for a set purpose. They were mostly young
people who committed to working for peace for the mission of their Lord
because We raised in them better understanding of Our guidance towards
which they worked.
[14] That is how We raised courage in their minds so that they rise up and
declare among their people, our sustainer is only He Who sustains the
heavens and the earth so we should not live by or accept rule of any other
claimant of sovereignty than His in this kingdom because if we do, we will be
inflicting a great harm upon each other as a community.
[15] These people of ours have taken for rulers other than Him. If they have
any right to do that then why don’t they put forth any convincing proof of their
sovereignty? Who is more harmful and destructive for humanity than the one
who denies sovereignty of Allah by attributing sovereignty to others in His
kingdom?
[16] They had already decided to leave their people to settle elsewhere if they
refused to heed them saying to each other, let us leave these people after
denouncing the claims of those who claim and accept sovereignty for others
than Allah and take refuge in some remote place away from them, your Lord
will shower you with his blessings through working according to His blissful
program, that is how He will help you fulfil your mission.
[17] If you looked at the sun the while in the valley surrounded by mountains,
it would appear to you that the rising sun declined to the right of their valley
and as it is setting it passed them on the left, that is wherein they lived in a
wide open space in between. This is one of the many lessons from Allah. He
who accepts guidance of Allah is guided alright but he whom He lets go his
own way you will find no guide to lead him to the path that is proper.
[18] Moreover you will find them fully alert and on their guard even though
they were at peace in order to continuously maintain that peace and
prosperity. That is how We made them more resourceful from their enemies
spreading them on their right and on their left sides and that is how their hard
work brought them to the threshold of success. If you people dropped in upon
them to check them out, you would turn back and run from them because you
will be overcome by their awe due to their fighting skills and preparations.
[19] That powerful was their state of existence to which we raised them
through Our program from the state in which they were so that they could
keep a check on their opposers to ensure peaceful and prosperous existence. At length a party of their elders said to their youngsters, how long have you
people been living in this valley? They said, we have been here for a long
period of time or a good part of it. They said, your Lord knows exactly how
long you people have been living here but think about when did you last send
any envoys to other people to find out about them and call them to the way of
Allah, so let a party of you be sent on a fact finding mission to the mother city
of the kingdom we came from with this message of yours, and let it find out
who has fared better we or those people we left behind so bring us some
useful piece of information about this people so that we could judge the
situation. Let the group conduct its affairs with caution and let it not behave in
a way whereby others become alert of our presence among them and take us
as their enemies.
[20] Because if they discover you among them, they will stone you to death or
force you to live by their traditions and customs and in that case you will never
attain peace and prosperity.
[21] But that is why We let their message keep on spreading among their
people after they left them so that they come to know that the promise of Allah
is true and that there is no doubt about the coming of the moment of sudden
uprising if people fail to take Our advice seriously. At length after they left
them the people of the township began arguing among themselves about their
mission therefore some suggested, let us make them the basis and build our
society upon their foundation because it was their Lord that taught them. The
people who were able to fulfil this task among them said, let us build
according to them a proper institution.
[22] Now some say, the institutions put in place by them were three and the
forth one was for their training or to keep a watch over the rest of their
institutions. The others say, the institutions put in place by them were five and
the sixth one was for their training or monitoring the functioning of their other
institutions, and there are still others who say, the institutions put in place by
them were seven and the eighth one was for their training or monitoring their
rest of institutions to keep them in line. Say, my Lord Alone makes known
their number none but a few really know their purpose. So do not argue about
their number but their purpose that is obvious and that is why you do not need
any verdict about them from any of those who argue about them without
understanding the purpose.
[23] Nor put off your task about anything that should be handled straightaway
thinking I will certainly do it tomorrow
[24] unless it is in accordance with program of Allah! That is how you should
demonstrate glory of your Lord for people to see unless you forget but even
then express hope that my Lord will guide me ever closer to what is proper
way of handling the affairs.
[25] As for the length of time the generations of people of the valley spent in
isolation, they remained separate from their community for three hundred plus
nine years.
[26] Tell your people, Allah makes known period of their isolation because He
is the One Who makes known for mankind the secrets of the heavens and the
earth therefore understand things through His vision and do things according
to His guidance! Your people must come to realise that they have no refuge
other than following His set laws because He does not allow anyone share in
sovereignty of His kingdom.
[27] Remain consistent with what has been revealed to you of the book of
your Lord, none has the power to change His Words and you will find no
refuge to protect you from harmful mindset and destructive attitude save His
guidance that stops you from harmful beliefs and destructive actions against
each other.
[28] So O you the individual, keep yourself working hard along with those who
rely upon set out universal laws of their Lord morning till evening seeking
fulfilment of His set out goal for them therefore let not your eyes turn away
from them desiring the attractions of worldly life against Our guidance. Moreover never favour such whose mind is free from paying attention to Our
set out goals and guidelines for mankind and follows his own make beliefs
therefore breaks all bounds that benefit humanity while conducting his
affairs.
[29] Therefore make it clear to all that this Quran serves the purpose of proof
from your Lord for what is true and what is false and what is right and what is
wrong, so let him who commits to working for peace do so for his own benefit
and let him who commits to working for wars do so towards his own
destruction. For such as inflict harm and destruction upon each other We
have put in place the rule of consequences so in time they are bound to end
up in fire of hatred whose flames will surround them like the walls of a tent. As
this stage will arrive they will look for freedom from this situation because the
consequences of their actions against each other will submerge them fully into
harm and destruction. What a dreadful way to learn the lesson and what a
terrible way to live.
[30] That is why those who commit to working for peace work hard to remove
dissentions among mankind so We do not let go to waste their efforts instead
We reward them with better rewards than the best of their deeds in form of
improved world order.
[31] They are the ones for whom there will be kingdoms like the Gardens of
Eden wherein will flow things of their need and desire like rivers. Thus therein
they will be surrounded with things of value and they will be covered in
prosperity all year round as if they are covered by clothes made of green silk
that shines. That is the high level of dignity they will rise to, what an excellent
reward for such people and what a beautiful way they will live.
[32] Share with people this parable in order to help people understand the
difference between two ways of life. Once there were two people with two
different mindsets and attitudes. To one of them We had given two gardens of
grapevines surrounded with palm-trees and put between them land for
cultivating crops.
[33] Each of those gardens yielded abundant produce and neither failed to
yield its best because We had caused a river to flow between the two
gardens.
[34] Because he had abundant produce he said to his fellow man while
arguing with him, I am much richer than you and my clan is much mightier
than yours.
[35] He had his mindset and attitude based upon rivalry rather than
brotherhood so having thus based himself wrongly as regard his outlook on
life he entered his garden and said, I do not think that this garden will ever
perish
[36] nor do I think the moment will arrive in my life when I am weak and poor
and even if I should be referred for judgment according to standard of my Lord,
I should be given better than what I already have.
[37] His fellow man replied his argument by saying to him, do you disregard
advice of Allah Who brought you about like plants from the earth due to seed
and fashioned you into a proper human being?
[38] As far as I am concerned, Allah is the only one Who is my sustainer so I
do not live by rule of anyone in His kingdom than His own rule.
[39] So what prevents you from expressing yourself according to that which
fulfils program of Allah when you enter your garden, after all none has the
power other than Allah! Though you see me lesser than yourself in wealth and
children
[40] yet my Lord may enable me to have a garden better than yours and let
thunderbolts from sky fall upon your garden turning it into a barren
wasteland.
[41] Or its water may dry out and you are unable to find it.
[42] In time it so happened that all his fruit produce was destroyed and the
vines tumbled down upon their trellises so he wrung his hands with grief for all
that hard work he had put in this was lost. He cried regretting, I wish I had not
lived in opposition to the rule of my Lord against concept of community life.
[43] All that because he was against teachings of Allah for helping others
despite being unable to avert catastrophe all by himself but then when bad
time came for him he could not find help other than from Allah through his
community.
[44] It was then that he realized that the real protection comes only from
program of Allah for mankind. Working together as a single family according
to His program brings best results because it brings abundant prosperity.
[45] O messenger, explain for those who live aimless lives by an example
about life of this world. It is like the vegetation of the earth that flourishes with
the rain from the heaven but afterwards the same vegetation turns into dry
stubble which is blown away by the winds. However living by program of Allah
gives mankind power over everything because Allah has set up laws for
governing affairs of all things.
[46] The wealth and children are only a short lived attraction for life in this
world unless dissensions and rifts are kept at bay among mankind because
that prolongs life that is greatly rewarding according to your Lord and acts as
foundation bringing hope for better future.
[47] So O mankind, prepare yourselves for the time of that kind of life so that
We help you remove the people in positions of power who keep others down
through creating divisions so that you could see the socio-political and socio- economic landscape evened out throughout the world. That is how in time We
will unite mankind all together as a single community under Our rule leaving
not a single person on his own.
[48] Thus they all will be brought under rule of your Lord according to program
of your Lord fully organised in classified sections for administration purposes
and so it will be made known to them, you have returned to Our rule as We
set you up at the beginning yet you assumed that We will not fulfil to you Our
this promise.
[49] That is how the rule by the book will be established and you will see
those who commit crimes against masses (the people in positions of power) in
great terror because of what is in Our book. That is why they will say, bad
news for us, what kind of book is this? It left out not a thing needed for
mankind to live a beneficial life whether small or large but all is accounted for
yet we ignored it! They will find results of all that they did against the book
before their very eyes because Your Lord is never unjust to anyone.
[50] Call to mind the time when We said to the chiefs in the land, support
Adam as your chief administrator, so all accepted his appointment except
Iblees who was one of the elite classes and chose to disregard the
commandment of his Lord. Will you then take him and his ilk as your leaders
to protect you rather than Me even though they are your enemies? What a
bad substitute the opposers of Our guidance have chosen!
[51] I did not call them to witness the creation of the heavens and the earth, nor their own creation, nor do I take those who lead mankind away from My
guidance as My supporters.
[52] On the day Our rule becomes established it will be said to them, call on
those for help whom you assumed to be My partners in sovereignty of this
kingdom. They will call them but will receive no answer. That is how We let
animosity arise and increase between them because of harm and destruction
they inflict upon each other.
[53] The criminals will see the fire of hatred they themselves have been
igniting and realize that they are going to fall victim to it and going to be
consumed by it but will find no way to escape.
[54] We have given all kinds of examples in this Qur’an to make the people
understand this message yet mankind is exceedingly contentious.
[55] However nothing should stop people from committing to working for
peace now that guidance of their Lord has come to them for their protection
and prosperity unless they wait for the similar fate that overtook the people of
the past or unless they wish to see themselves in terrible painful suffering
before they before they realise the truth of this message.
[56] We send Our messengers only to proclaim good news for those who will
do good for others and to deliver warnings to those who inflict harm and
destruction upon each other but with self defeating arguments the opposers of
Our guidance seek to defeat this truth and that is how they take Our set out
goals and guidelines and warnings for them for a laugh.
[57] Who is more harmful and destructive than the one who when reminded of
the guidelines of his Lord, turns away from them in order to hide what harms
his own hands have done to others? We let their arrogance based ignorance
be the veil over their minds because they do not bother to understand this
Quran and so they have become heedless. Call them all you like towards Our
guidance, they will never be guided because they will keep on ignoring Our
guidance.
[58] Your Lord is protector of mankind because He is Lord of blissful program
for them. Had He seized people instantly for their wrong doings against each
other then He would have hastened their consequences without any respite
but instead He has set up a respite time after which they can find no refuge.
[59] All those nations whom We let destroy themselves for their own
wrongdoings to each other were given respite and a period of time for their
own salvation or destruction.
[60] Call to mind when Moses said to his party of supporters, I will not give up
making effort until I unite two masses of people fighting each other even if I
have to spend ages on this journey.
[61] At last when they reached unity between them both, the length/condition
of their life increased/improved as a united community that set itself on a new
course of action for the mass of people heading for the same goal of peace
and prosperity.
[62] When they had made some progress Moses said to his company, let us
refresh ourselves about the program so that our journey for reconciliation
turns this program into a reality. 63] One of the party said, you see, since we have based ourselves upon solid
foundation, I have noticed that our life has improved, I should never forget this
unless the harmful and destructive leadership prevents me from striving
according to His program. This program has made possible reconciliation of
the masses in a surprising way.
[64] Moses said, that is the state of affairs we were looking for and that is how
the divided groups retraced their footsteps back to unity. Thus reversal of
process of disunity leads back to unity.
[65] All because they found one of Our subjects whom We blessed with
blissful information from Us and whom We gave intelligence from Us for
handling various affairs.
[66] Moses requested him, will you let me accompany you for a time so that
you let me see how you have been given the wisdom to deal with things
properly?
[67] He said, surely but you do not look to me a keen observer
[68] and how can you be a keen observer when you do not yet have the full
information about the subject matter under your observation before you
respond to the situation?
[69] Moses said, you will surely find me keen observer and I will not interfere
in anything you do so long as you do things according to the rule of Allah.
[70] He said, if you insist on accompanying me for mere observation as to
how I do things then you are not to interfere with anything I do unless I ask for
your help about it myself.
[71] So they set off on a venture till they met a party of people in similar
situation broken into factions quarrelling among themselves. Moses said to
the leaderships of the factions, you are going to ruin the people of this nation
of yours. You have done a very wrong thing.
[72] The wise man said, did I not say that you do not look to me a keen
observer?
[73] Moses said, pardon my forgetfulness and please do not hold it against
me.
[74] So they carry on their journey till they come across a very energetic man
so he gave him a good verbal thrashing or a very critical lecture, Moses said, you have thumped a person with a very critical lecture who has done nothing
wrong to anyone. Surely you have done an undesirable thing!
[75] Wise man said, did I not say that you do not look to me a keen
observer?
[76] Moses replied, if I interfere in your business again after this then you are
under no obligation to keep me in your company and I will have no complain
against you.
[77] So they carry on their journey until they reach a people of a township who
became divided into two factions and were about to fall into civil war. They
asked them for participation in their program to unite them but they tried to
refuse them the role of mediators but they did not that is how when they found
in that township unity among people falling apart they repaired it by removing
the reasons from among them for rifts. The response of Moses to their refusal
of their role for mediation was, let them suffer the consequences of their
actions if they do not wish to unite.
[78] The wise man replied, this is the parting of company between you and me
but first I should explain to you those acts of mine which you could not bear to
watch patiently.
[79] As for party of the people quarrelling with each other, it belonged to the
very same peaceful community that worked as one mass of people so I
decided to remove the rift between them that was caused between them by a
king who was keen on taking over every good community through causing
rifts and dissentions among them.
[80] As for the energetic man, he was leader of a community who ought to
take care of his young and old because they were true followers of divine
guidance and we feared lest he harms them due to his harmful and
destructive mind set and attitude so we put him in the right frame of mind and
attitude.
[81] It was our wish that their Lord should change him for the better for them, a son of community who keeps community free of rifts and keeps them on
road to prosperity.
[82] As for the community that was about to fall victim to civil war, it belonged
to two individuals contesting for leadership of the community in the township
after the death of their community leader because under the umbrella of
united community laid great benefit for both the factions. Since their
community father was a good leader who kept community free of rifts and
dissensions, your Lord desired that these successors of his should raise their
thinking level through my help so that they could rediscover their treasure that
lies in community life. All this was done by me according to blissful program of
your Lord and not as per my own personal desire. That is the explanation of
my those actions about which you did not stay out of my business just as an
observer with patience.
[83] They will inquire of you about a man who could bring two warring factions
of people together (zu al qarnain). Say, let me tell you some things about
him.
[84] Indeed We let him establish himself in the land that is how We gave him
all things essential for this purpose.
[85] That is why he set himself on a fact finding path
[86] till he arrived in the west whereat he was stopped by the marshes
whereby he found a community of people. We said, O Zulqarnain, you have
the option either to let these people suffer the consequences of their own
actions (leave them to themselves) or to show them kindness by doing
something that benefits them.
[87] He said, anyone who commits any crime against others we will put him
through due process of a set law for punishment that is how we will refer
regarding him to law of his Lord to be punished according to set out law by
Him.
[88] As for such who commits to working for peace and acts to remove
problems from the community, he will have a reward that brings improvement
in the community and that will make it easy for him to accomplish Our
mission.
[89] In time after that he set out on another exploration trip
[90] till he arrived in the east whereat he became aware of a community for
whom We had not provided any security other than its reliance upon itself.
[91] That is how things should be so he left them as they were, We had full
knowledge whatever the task lay before him.
[92] That is why he set out on a yet another expedition
[93] till he arrived among two multitudes of people whereat he found no other
people than these two multitudes of people, one of which could hardly be
made to understand what was said.
[94] The other people said, O Zulqarnain, people given to loot and warfare
have ravaged this land so should we pay you tribute in order for you to build a
strong barrier between us and them?
[95] Zul-Qarnain said, the program which my Lord has granted me is more
than enough just help me with worker-force to spread it and I will build a
strong bridge between you and them.
[96] Bring me pages of the criterion for building a relationship between you. Finally when he had bridged the gap between the two multitudes, he said, keep fanning this relationship to keep it alive. They did so until the standard
became well entrenched in their minds then he said, bring me some top
people among you so that I could set them on this job of monitoring it as an
extra security measure
[97] so that either of the people do not transgress against it or destroy the
constitution agreed between them bit by bit.
[98] He said, this is the blissful program from my Lord. That is how when the
program of my Lord becomes established throughout the world He will level
out all crookedness from the human community. The program of my Lord
always proves true.
[99] On that day We will let the people free to surge like waves to merge with
one another. That is how we will put a new life into mankind when We will
assemble the mankind all together under Our constitution
[100] because We will lay the life of hell bare before the opposers of Our
program
[101] who had turned a blind eye to My mission and a deaf ear to My
warning.
[102] Do the opposers of My rule think that they can take My subjects as their
rulers instead of Me? Certainly We let such opposers of Our guidance prepare
for themselves hell for their own entertainment.
[103] O Muhammad say to them, should We tell you the worst kind of losers
regarding their deeds?
[104] Those whose all efforts in the life of this world have strayed from the
right goal but all along they were under their self created delusion that they
were doing good for themselves the while they were inflicting harm on
others.
[105] They are the ones who oppose the goal and guidelines of their Lord
instead of meeting His requirements therefore their deeds become void of any
benefit for mankind so they carry no weight to avert the day of uprising.
[106] Therefore the result of actions of such people is life of pain and suffering
because they oppose My rule and because they take My guidelines and My
messengers for a laugh.
[107] However those who commit to working for peace and work hard to
remove rifts and dissensions from among people they are sure to be
entertained in the highly blissful kingdoms
[108] to live therein for as long as they live that way and they will not desire
any change in that environment.
[109] Say, program of my Lord will become a reality even if the opposing
masses helped each other to eliminate the words of my Lord, the masses will
become obsolete long before the words of my Lord even if We helped them
with more of the same.
[110] Say, I am a human being just like you but the message is sent to me by
Allah to proclaim it to you the mankind that your ruler is only one therefore, whoever wants to meet the guidelines of his Lord, let him take action to
remove causes for rifts from among people to unite them and not to take any
of the subjects of Allah as sovereigns in his kingdom.