SURAH 17 : BANI ISR’AEL
সূরা ১৭. আল-ইসরা – জীবনের এক পথ/ব্যবস্থা থেকে অন্য পথে যাত্রা।

ঘোষণা করুন আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।

১] এই মহাবিশ্বে তিনিই একমাত্র সার্বভৌম, যিনি জাহেলিয়াতের অন্ধকারময় সময়ে তাঁর রাসূলকে এক সফরে নিয়ে গিয়েছিলেন, যাতে তিনি মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক নিষিদ্ধ প্রথার স্বরূপ সম্পর্কে তাঁকে আলোকিত করতে পারেন এবং সেই মহিমান্বিত প্রথা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, যাতে আমরা মানবজাতির জন্য সমৃদ্ধি স্থাপন করেছি, যাতে আমরা তাঁকে আমাদের কিছু নির্দেশিকা কার্যক্ষেত্রে দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তাঁর রব সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। পবিত্র ও মহিমাময় সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে ‘লাইল’ (অজ্ঞতা ও নিষ্ক্রিয়তার অন্ধকার অবস্থা) থেকে ‘মসজিদুল হারাম’ (আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় ও পবিত্র আইনসংহিতা)-এর মাধ্যমে ‘মসজিদুল আকসা’ (জ্ঞানের দূরতম গন্তব্য বা সত্যের চূড়ান্ত লক্ষ্য)-তে উন্নীত করেছেন—যাকে আমি স্থায়িত্ব ও বিকাশের (Barakna) মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি এবং তার প্রভাবের পরিধিকে (Hawlahu) হিদায়াতের আলোয় সমৃদ্ধ করেছি যাতে তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু শুনেন এবং দেখেন।
২] একই উদ্দেশ্যে আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং একে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক বানিয়ে দিয়েছিলাম এই বলে যে, তোমাদের নিরাপত্তার জন্য আমার দ্বারা সুপারিশকৃত পথ ছাড়া অন্য কোনো জীবনধারা গ্রহণ করো না আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তাকে ‘বনী ইসরাঈল’ (আল্লাহর আইন দ্বারা পরিচালিত মানবগোষ্ঠী)-এর জন্য ‘হুদান’ (পথনির্দেশ) করেছি যে, তোমরা আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে তোমাদের ‘ওয়াকিল’ (কার্যনির্বাহী বা অভিভাবক) হিসেবে গ্রহণ করো না।
। ৩] তোমরা তাদের বংশধর, যাদের আমি নূহের সাথে (ধ্বংস থেকে) রক্ষা করেছিলাম; নিশ্চয়ই সে ছিল এক অতীব কৃতজ্ঞ বান্দা (Abd)।(আমাদের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং তিনি অবশ্যই নিজেকে নামের যোগ্য পুরুষ হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন।)
৪] এর পাশাপাশি আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাবে পূর্বেই সতর্ক করেছিলাম যে, তোমরা আমার শাসনের বিরুদ্ধে চরম বিদ্রোহ করে এবং মানবতার সীমা লঙ্ঘন করে পৃথিবীতে দুইবার যুদ্ধ বাধিয়ে দেবে এবং এর জন্য যথাসময়ে তার পরিণাম ভোগ করবে।  আর আমি ‘বনী ইসরাঈল’-এর জন্য সেই অলঙ্ঘনীয় বিধানের (Al-Kitab) মধ্যে এই পদ্ধতিগত ও অনিবার্য পরিণতি (Waqadayna) নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম যে, নিশ্চয়ই তোমরা পৃথিবীতে বিভিন্ন পর্যায়ে (Marratayn) ‘ফাসাদ’ (বিপর্যয়) সৃষ্টি করবে এবং বড় ধরনের ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করবে।
৫] যখন দুই সতর্কবাণীর প্রথমটির ঘটনা পূর্ণ হলো, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কিছু পরাক্রমশালী যোদ্ধাকে (অসুরীয়দের) উত্থান ঘটালাম, যারা তোমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাণ্ডব চালিয়ে সেগুলোকে ওলটপালট করে দিয়েছিল, যেগুলোর বিষয়ে তোমাদেরআগেই সতর্ক করা হয়েছিল।  অতঃপর যখন সেই পর্যায়গুলোর মধ্যে প্রাথমিক বা প্রধান পর্যায়ের (Ulahuma) সেই নির্ধারিত ফলাফল (Wa’du) দৃশ্যমান হলো (Ja’a), তখন আমি তোমাদের ওপর (Alaykum) আমার এমন বান্দাদের (Ibad) উত্থান ঘটালাম (Ba’asna) যারা ছিল প্রচণ্ড সামর্থ্য ও অদম্য শক্তির অধিকারী (Ulee Ba’asin Shadeedin);তারা তোমাদের শক্তির মূল ভিত্তিগুলোতে (Diyar) প্রভাব বিস্তার করেছিল
৬] এরপর আমি তোমাদেরকে তাদের ক্ষতি ও ধ্বংস কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিলাম, আমার দেওয়া ভিত্তির ওপর সমৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করে এবং এভাবেই আমি তোমাদেরকে আরও জনশক্তি দান করলাম।
৭] যদি তোমরা উত্তম ভারসাম্যপূর্ণ কাজ (Ahsan) করো তবে তা তোমাদের নিজেদের সত্তার (Nafs) জন্যই… যখন পরবর্তী পর্যায়ের (Wa’du-al-akhira) সেই নির্ধারিত ফলাফল দৃশ্যমান হলো, তখন (আল্লাহর আইন বাস্তবায়িত হলো) যাতে তোমাদের সেই মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলোকে (Wujuh) অকার্যকর বা বিপর্যস্ত (Li-yasu’u) করা হয় এবং তারা যেন ‘মসজিদে’ (আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের কেন্দ্রে) সেভাবেই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যেভাবে তারা প্রাথমিক পর্যায়ে বা মূল অবস্থায় (Awwala Marratin) অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং তারা যা জয় করেছিল তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস (Tabbir) করার জন্য আবির্ভূত হলো।
৮] এখন তোমাদের রব এই রাসূলের মাধ্যমে তোমাদের জন্য তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ পরিকল্পনা অনুযায়ী তোমাদেরকে পুনরায় শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করতে পারেন, কিন্তু যদি তোমরা একই আচরণের পুনরাবৃত্তি করো, তবে আমরাও একই পরিণতি ঘটতে দেব, কারণ আমরা এমন একটি ব্যবস্থা স্থাপন করেছি যে, যারা
আমাদের উপদেশ মেনে চলে না এবং মর্যাদাপূর্ণ মানুষে পরিণত হয় না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক দুর্ভোগ গ্রাস করবে।
৯] নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন এক পথের হিদায়াত দেয় যা সর্বাপেক্ষা সুদৃঢ় ও সঠিক (Aqwama) এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যারা সংশোধনমূলক কাজ (Amal-e-Swalehaat) করবে। এর অনুসারে শান্তির জন্য এমনভাবে কাজ করা, যা মানবজাতির মধ্য থেকে বিভেদ ও ফাটল দূর করবে, আর একারণেই তাদের জন্য রয়েছে এই মহান পুরস্কার—শান্তি ও সমৃদ্ধির জীবন।
১০] অপরদিকে, এটি তাদের জন্য কঠোরতম সতর্কবাণী দেয় যারা উত্তম পরিণামের জন্য শান্তির কাজে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় না যে, তারা এক ভয়ানক যন্ত্রণাদায়ক দুর্ভোগে পর্যবসিত হবে, যা বেছে নেওয়ার সুযোগ আমরা তাদের নিজেদের জন্যই রেখে দিয়েছি। (আর যারা আখিরাত-এ বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমি অর্জিত প্রতিফল (Atadna) হিসেবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি। )
১১] সুতরাং মানবজাতির এমন জীবনধারার উপর নির্ভর করা উচিত যেখানে তারা একে অপরের উপকার করে,
এমন জীবনধারার উপর নির্ভর করার পরিবর্তে যেখানে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের ক্ষতি ও ধ্বংস সাধন করে। কিন্তু মানুষ মানব ভ্রাতৃত্বের বিনিময়ে দ্রুত ব্যক্তিগত লাভের জন্য একে অপরের ক্ষতি ও ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। (১১. মানুষ অনিষ্ট (Shar)-এর জন্য ঠিক সেভাবেই প্রার্থনা (Dua) করে যেভাবে সে কল্যাণের জন্য করে; প্রকৃতপক্ষে মানুষ বড়ই ধৈর্যহীন (Ajal)।) 
১২] ঠিক যেমন আমরা মানবজাতিকে ভ্রাতৃত্ব ও শত্রুতার মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম,তেমনি আমরা দুটি নির্দেশক হিসেবে রাত্রি (যেমন অজ্ঞতার অন্ধকার বা দারিদ্র্যের অন্ধকার দিন) এবং দিন (যেমন জ্ঞানের আলো বা উন্নতি ও সমৃদ্ধির উজ্জ্বল দিন) এর মতো দুটি ঘটনা নিয়ে এসেছি।(লাইল (অজ্ঞতার অন্ধকার) এবং নাহার (আলোকিত জ্ঞান) রাতে আমরা সবকিছু অন্ধকারে ঢেকে রাখি এবং দিনে সবকিছু আলোর নিচে দৃশ্যমান করে তুলি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে জীবিকা নির্বাহের পথ খুঁজে নিতে পারো এবং তোমাদের অন্যান্য কাজের জন্য বছর গণনা ও সময় নির্ধারণ করতে পারো। এভাবেই আমরা সমস্ত প্রয়োজনীয় বিষয় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি। (অতঃপর আমি অজ্ঞতার নিদর্শনকে ম্লান (Mahu) করে দিয়েছি এবং জ্ঞানের নিদর্শনকে আলোকোজ্জ্বল ও প্রজ্ঞাময় (Mubsirah) করেছি যাতে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ (Fazal) তালাশ করতে পার এবং বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় (Sin-een) ও কর্মফলের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড (A’adad) জানতে পার। আর আমি প্রতিটি বিষয়কে (পদ্ধতিগতভাবে) বিস্তারিত ব্যাখ্যা (Tafsila) করেছি।)
১৩] এভাবেই আমরা সমগ্র মানবজাতির ভাগ্যকে তার নিজের প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত করেছি, সুতরাং যদি মানবজাতি আমাদের পরিকল্পনা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই (ফলাফল) পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর্যায়ে (Youm-al Qiyamah) আমরা তার কৃতকর্মের ফল সকলের দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেব।
১৪] সুতরাং তোমাদের কৃতকর্মের ফলাফলের দিকে ভালোভাবে তাকাও।স্বাধীনতা, পথনির্দেশনা এবং
জীবিকার পরিপ্রেক্ষিতে আজ তুমি যা করেছ, তার জন্য নিজেকে জবাবদিহি করার জন্য তুমিই যথেষ্ট।
১৫] সুতরাং কেবল সেই জাতিই পথনির্দেশনা অন্বেষণ করে, সে তার নিজের ভালোর জন্যই পথপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু যে জাতি পথনির্দেশনা উপেক্ষা করে, সে পথভ্রষ্ট হয় এবং নিজেরই ক্ষতি করে। কোনো জবাবদিহিমূলক জাতি অন্য জাতির দায়িত্বের জন্য দায়ী নয় এবং আমরা কোনো জাতিকে ততক্ষণ পর্যন্ত কষ্ট পেতে দিই না, যতক্ষণ না আমরা তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করি এবং তারা তাকে উপেক্ষা করে, যার ফলস্বরূপ তারা যন্ত্রণাদায়ক দুর্ভোগে পড়ে। (যে ব্যক্তি হিদায়াত (Hudan) প্রাপ্ত হয়, সে তা কেবল নিজের সত্তার (Nafs) কল্যাণের জন্যই পায়; আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, সে মূলত নিজের সত্তার বিরুদ্ধেই যায়। কোনো দায়িত্বশীলই (Wazirah) অন্য কারো দায়ের বোঝা (Wizra) বহন করবে না। আর আমি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো পর্যায়কে শাস্তি বা বিপর্যয়ে (Mu’azzibeen) নিপতিত করি না, যতক্ষণ না সেখানে একটি স্পষ্ট বার্তা বা পদ্ধতিগত দিকনির্দেশনা (Rasool) প্রেরণ করি।)
১৬] যখনই আমি কোনো জনপদকে আত্ম-ধ্বংসের জন্য ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা করি, তার একমাত্র কারণ হলো, আমি তার শাসক ও পুরোহিতদের কাছে আমার হেদায়েত প্রেরণ করি, যারা তাদের জনগণের শোষণে আরামে জীবনযাপন করে। ফলে তারা আমার হেদায়েতের সাথে তাদের অসামঞ্জস্যতা প্রদর্শন করে এবং এর ফলস্বরূপ আমার সতর্কবাণী তাদের জন্য পূর্ণ হয়। এভাবেই আমি সেই জনপদকে তার দুর্দশাগ্রস্ত জনগণের বিদ্রোহের মাধ্যমে মাটিতে মিশিয়ে দিই। (১৬. আর যখন কোনো জনপদ (তার কর্মফলের কারণে) অকার্যকর হয়ে যাওয়ার (Nuhlik) চূড়ান্ত লক্ষ্যের (Aradna) দিকে ধাবিত হয়, তখন আমি সেখানকার বিলাসপ্রিয় নেতাদের (Mutrafin) (সংশোধনের) আদেশ দিই; but তারা সেখানে সীমা লঙ্ঘন করে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে সেই অমোঘ বিধান (Al-Qaul) অকাট্য হয়ে যায় এবং আমি তাকে সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত (Tadmir) করে দিই।)
১৭] দেখো! নূহের (আঃ) সময় থেকে আমি কত প্রজন্মকে এইভাবে আত্ম-ধ্বংসের জন্য ছেড়ে দিয়েছি ? তোমার রবের সার্বজনীন বিধান যথেষ্ট কার্যকর। তিনি তাঁর প্রজাদের কর্মের ফল তাদের সামনে প্রকাশ করেন এবং সকল বিষয় দেখার ও নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে তাঁর সামর্থ্য প্রদর্শন করেন। ( আর নূহের (পর্যায়)-এর পর আমি কত সুসংগঠিত শক্তিশালী মানবগোষ্ঠীকে (Qurun) অকার্যকর বা ধ্বংস করেছি! তোমার রব তাঁর অনুসারীদের (Ibad) বিচ্যুতি ও পাপাচার সম্পর্কে সম্যক অবগত (Khabiran) ও দর্শক (Basira) হিসেবেই যথেষ্ট।)
১৮] যে ব্যক্তি কেবল এই ‘আজিলা’ (Ajila)—অর্থাৎ তাৎক্ষণিক লাভ ও ক্ষুদ্র পার্থিব স্বার্থ—কামনা করে, আমি (সিস্টেমের মাধ্যমে) যাকে ইচ্ছা তাকে এখানে তা দিয়ে দিই; অতঃপর তার জন্য জাহান্নাম (সংশোধনাগার/কারাগার) নির্ধারিত করি, যেখানে সে নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
১৯] আর যে ব্যক্তি ‘আখিরাত’ (Akhira)—অর্থাৎ কর্মের চূড়ান্ত ও স্থায়ী সুফল—কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ ‘সা’য়া’ (Sa’ya)—অর্থাৎ ঐকান্তিক চেষ্টা ও সংগ্রাম—করে, তাদের প্রচেষ্টাই হবে প্রশংসিত ও স্বীকৃত।
২০] এভাবেই আমরা সবার কর্মের ফল দান করি—যারা আমাদের কর্মসূচি অনুসরণ করে এবং যারা করে না তাদের উভয়কেই—তোমার রবের দান থেকে। কারণ তোমার রবের এই অবদান (আ’তা’আ) কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সবার উপকারের জন্য উন্মুক্ত।
২১] দেখ, কীভাবে আমরা এই জীবনে মানুষের নিজেদের কর্মের ভিত্তিতে এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের ওপর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি (আ’লা) প্রকাশ করেছি; নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যতের এই বিভাজন ও জবাবদিহিতা হবে আরও বিশাল ও গুরুতর।
২২] সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো শাসককে গ্রহণ করো না, পাছে তোমরা মানবজাতি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ো, দারিদ্র্যে নিমজ্জিত হও এবং এই অবস্থায় চিরদিনের জন্য আটকা পড়ে যাও।
আয়াত ২৩:
তোমার রব এই বিধান দিয়েছেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো আইনের অধীনে জীবন পরিচালনা করবে না (আল্লা তা’বুদু ইল্লা ইয়্যাহ)। আর তোমাদের কর্মসূচির সেই মূল ভিত্তি বা লালনকারী শক্তির (ওয়ালিদাইন) প্রতি সুসংগঠিত কল্যাণমূলক কর্মসূচি (ইহসান) নিশ্চিত করবে; যদি তোমাদের দায়িত্বাধীন কর্মক্ষেত্রে বা নিয়ন্ত্রণে (ইনদাকা) সেই ভিত্তিগুলোর কোনো একটি দিক বা তার প্রতিটি অংশই (আহাদুহুমা আও কিলাহুমা) তাদের চূড়ান্ত বা জটিলতম পর্যায়ে (কিবার) পৌঁছায়, তবে সেই ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ফাটল বা দুর্বলতা (উফ) সৃষ্টি করো না, সেগুলোকে সঠিক পথ বা অবস্থান থেকে বিচ্যুত বা অপসারিত করো না (নাহার) এবং সেই বুনিয়াদের অনুকূলে অত্যন্ত সম্মানজনক ও সুপ্রতিষ্ঠিত কর্মনীতি বা আদর্শিক সিদ্ধান্ত কার্যকর (ক্বওলান কারীমা) করো। 
আয়াত ২৪:
সেগুলোর প্রতি বিনয়ী হও এবং তোমার কর্মের মাধ্যমে রবের সেই পরামর্শ ও নির্দেশনাগুলো প্রকাশ করো; এবং আল্লাহর বিধিবদ্ধ আইনের ওপর নির্ভর করে এই আদর্শিক অবস্থান ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করো— “রবের সেই লালনকারী বিধান এই কাঠামোগুলোকে বিকাশিত ও পরিচালিত করে (রব্বি ইরহামহুমা) যাতে সেগুলোকে তাদের প্রাথমিক পর্যায় (সিগারা) থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ সক্ষম সত্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে (রাব্বাইয়ানি)।” 
আয়াত ২৫:
তোমাদের মনস্তাত্ত্বিক গঠন বা প্রকৃত উদ্দেশ্যের (নূফুসিকুম) মধ্যে যা নিহিত রয়েছে, সে সম্পর্কে রবের বিধানই সবচেয়ে ভালো জানে। যদি তোমরা সংশোধনকারী বা সামঞ্জস্যপূর্ণ (সালেহীন) হিসেবে কাজ করো, তবে নিশ্চয়ই যারা নিজেদের ভুল বা বিচ্যুতি শুধরে বারবার তাঁর বিধানের দিকে ফিরে আসে (আউয়াবীন), তিনি তাদের জন্য পরম বিবর্তনমূলক বিকাশ ও সুরক্ষা (গাফুর) সক্রিয় রাখেন। 
আয়াত ২৬:
আর কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট অংশীদার বা উপাদানসমূহকে (যাল কুরবা) তাদের প্রাপ্য হক বা প্রয়োজনীয় সক্ষমতা কার্যকর করো এবং সেই সাথে মিসকীন (যাদের উৎপাদনশীলতা বা গতিরোধ হয়েছে) ও ইবনাস সাবীল (যিনি কর্মসূচির পথে ধাবমান)-দেরও; কিন্তু কখনো শক্তির অপপ্রয়োগ বা বেহিসাবি সম্পদ বণ্টন (তাবযীর) করো না। 
আয়াত ২৭:
নিশ্চয়ই যারা সক্ষমতার অকার্যকর ব্যবহারকারী (মুবাজ্জিরিন), তারা শয়তানি শক্তিসমূহ বা ধ্বংসাত্মক প্রবণতাগুলোর সহযোগী; আর শয়তানি শক্তিগুলো তাদের রবের দেওয়া সক্ষমতার প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ বা কার্যকর ব্যবহারে বিমুখ (কাফুর)। 
আয়াত ২৮:
আর যদি রবের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো রহমত বা সম্পদের অন্বেষণে তাদের (সেই হকদারদের) থেকে বিমুখ থাকতে হয়, তবে তাদের সাথে অত্যন্ত নম্র ও সহজসাধ্য কর্মনীতি বা সিদ্ধান্ত (ক্বওলান মাইসুরা) গ্রহণ করো। 
আয়াত ২৯:
আর তোমাদের সক্ষমতা বা সম্পদকে সংকীর্ণ বা প্রবাহহীন করে রেখো না (মাজলুলাতান ইলা উনুক্বিকা), আবার তাকে পুরোপুরি অবারিত বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে দিও না; তাহলে তোমরা নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে স্থবির বা অকেজো (মাহসূরা) হয়ে পড়বে। 
আয়াত ৩০:
নিশ্চয়ই রবের সুনির্দিষ্ট আইন ও কার্যকারণ বিধি অনুযায়ী (মাঁই ইয়াশাউ) জীবনবিকাশের উপকরণ (রিজক) বিস্তৃত হয় এবং সেই একই নিয়ম অনুযায়ী তা সুপরিমিত বা নিয়ন্ত্রিত (ইয়াক্বদির) হয়। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর আইনগত অনুগত্যে থাকা সমগ্র সৃষ্টিজগত বা সত্তাসমূহের (ইবাদিহি) অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবহিত এবং তাদের কার্যকারিতার ওপর গভীর দৃষ্টি রাখেন (বাসীরা)। 
৩১] দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বা নতুন সম্ভাবনাগুলোকে (আওলাদ) ধ্বংস করো না, কারণ আমরাই আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের এবং তোমাদের জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করি। নিশ্চয়ই তাদের ধ্বংস করা একটি মারাত্মক ভুল সামাজিক কাঠামোর পরিচায়ক।
৩২] এবং তোমরা কখনোই ‘ফাহাশা’-র (আল্লাহর আইনের বাইরের ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক জীবনধারা) কাছেও যেও না; কারণ এটি একটি চরম ক্ষতিকর পথ এবং জীবন ধারণের নিকৃষ্টতম পন্থা।
অত্যন্ত নিকৃষ্ট পদ্ধতি বা ধারা (Sabeel)।” (33) You should not take away anyone’s life, which Allah has made sacred – unjustly. If anyone is killed unjustly, the Divine Order itself becomes responsible for securing justice for him. The authority deciding the case should also see that the punishment does not out-step the bounds of justice. Justice should be done to both parties, (5/32, 2/178, 6/152, 42/40);13. ৩৩. “এবং আল্লাহ যে জীবনকে (Nafs) সম্মান ও নিরাপত্তা দান করেছেন, তাকে যথাযথ কারণ (Haqq) ব্যতীত বিনাশ করবেন না। আর যে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আমরা তার উত্তরসূরিকে কর্তৃত্ব (Sultan) দান করেছি; তবে প্রাণের বিনিময়ে প্রতিশোধের ক্ষেত্রে সে যেন সীমা লঙ্ঘন না করে।” (০.১.১৮)
৩৪. “আর আপনারা ইয়াতীমের অধিকারের (Maal) কাছেও যাবেন না, যতক্ষণ না সে পূর্ণতা লাভ করে—তবে তাদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে হলে ভিন্ন কথা। আর আপনারা অঙ্গীকার (Ahd) পূর্ণ করুন; নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।” (০.১.৩২)
৩৫. “এবং যখন পরিমাপ করবেন, তখন পূর্ণ মাত্রায় করবেন এবং সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মানদণ্ডে (Qistasil Mustaqim) ওজন করবেন; এটিই উত্তম এবং এর পরিণাম (Ta’wila) অত্যন্ত চমৎকার।” (০.১.১৩, ০.১.২৫)
৩৬. ; আর যে বিষয়ে তোমার কাছে প্রমাণিত জ্ঞান (ইলম – Ilm) নেই, তার অনুগামী হয়ো না (Taqfu – সাক্ষ্য দিও না বা ভিত্তিহীন তথ্যের পেছনে ছুটো না)। নিশ্চয়ই শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি (Bachar) এবং অন্তঃকরণ (ফুয়াদ – বিচারবুদ্ধি)—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কেই অনুসন্ধান/জবাবদিহি করা হবে।
৩৭. তোমার দম্ভকে প্রকাশ করো না; if you do then তুমি সত্যের ভিত্তিকে কখনও বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং পাহাড়ের ন্যায় অবিচল শ্রেষ্ঠত্বও (A’ala) অর্জন করতে পারবে না।
Zina (যিনা): হিদায়াতের লক্ষ্য বা ঐশী উদ্দেশ্য (Guidance/Purpose) ছাড়া কোনো পথে চলা বা উদ্দেশ্যহীনভাবে ধাবিত হওয়া
Tabtheer (তাবযীর): আল্লাহর দেওয়া সামর্থ্য বা সম্পদকে সঠিক উদ্দেশ্য ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া বা নষ্ট করা (০.১.২৯)।
Qistas (কিসতাস): জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমতা এবং সুনির্দিষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ মানদণ্ড (34) You should not touch the property of the orphan who is under your guardianship unless it is to his benefit, till he reaches the age of maturity (6/153);14. You should always fulfil your commitments, for every commitment shall have to be accounted for.15. (35) Whenever you measure out anything, you should measure it in full; whenever you weigh anything, you should hold the scale evenly. (This is how society will be able to maintain its economic balance (83/1-3).) This is fair (for everyone) and much better in the final analysis.16. (36) You should not take a stand (regarding anything) where you have no personal knowledge (Use all means of inquiry and then come to a conclusion – Allah has given you all the faculties for this purpose.) Mind it, the ear and the eye and the heart – all of them shall have to answer in regard to the question whether personal inquiry was made about the concerned matter;17. (37) You should not walk proudly for you cannot cleave the earth nor can you attain the stature of mountains (31/19, 40/75, 3/187).(38) Going against any of these directives will be odious to your Rabb.
৩৮): এই নিষিদ্ধ বিষয়গুলো তোমাদের জন্য অবৈধ; কারণ এগুলো তোমাদের (মানবজাতির) জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক এবং তোমার রবের নিকট অত্যন্ত ঘৃণ্য। 
(39)  এগুলো সেই হিকমত (Hikmat – প্রজ্ঞা ও জীবন বিধানের অটল আইন), যা তোমার রব ওহী হিসেবে তোমার নিকট পাঠিয়েছেন। অতএব, আল্লাহর বিধানের সাথে অন্য কোনো উপাস্য (অন্য কারো আইন বা মনগড়া পদ্ধতি) সাব্যস্ত করো না; অন্যথায় তুমি নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
 (40). বলো, ভেবে দেখো যে—তোমাদের রব কি তোমাদের সুদৃঢ় নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, যেখানে তিনি নিজের মিশনের জন্য এমন বার্তাবাহকদের গ্রহণ করবেন যারা দুর্বল? প্রকৃতপক্ষে, তাঁর এই কর্মসূচিকে সমর্থন না করে তোমরা তোমাদের সিদ্ধান্তে এক বিশাল ভুল প্রকাশ করছ Amad  (আমাদ – সুদৃঢ় নীতি/ভিত্তি) Afwah (আফওয়াহ – মনগড়া প্রজেকশন/ভুল
৪১): তারা এটি করে (অসত্যের পথে চলে) এই সত্যটি উপেক্ষা করেই যে—আমরা এই কোরআনে বিভিন্নভাবে বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করেছি যাতে তারা এই হিদায়াহ ব্যবহার করতে পারে এবং নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করে একটি মহৎ জীবন লাভ করতে পারে; কিন্তু এটি (তাদের একগুঁয়েমির কারণে) কেবল তাদের বিমুখতাই (নুফুর) বৃদ্ধি করেছে।”সিদ্ধান্ত)
(42) বলো, যদি তাঁর সাথে আরও উপাস্য থাকত—যেমনটি তারা দাবি করে— তারা আরশের অধিপতির বিপরীতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো না কোনো উপায় (সাবীল) বের করে [Sabeel]
(43) আল্লাহ বিধান ত্রুটিহীন ও নিষ্কলঙ্ক; এবং তারা যা বলে (যেসব মনগড়া বৈশিষ্ট্য আরোপ করে) তা থেকে তিনি অনেক উচ্চে (তা’আলা) এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব অত্যন্ত মহান।
 (44) উচ্চতর আইন ও ব্যবস্থাপনা (সামাওয়াত), এবং যা কিছু প্রকাশ বা উপস্থাপন করা হয়েছে (আরজ) এবং এদের মধ্যে যা কিছু বিদ্যমান—সবই তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচি ও শৃঙ্খলা (তাসবীহ) অনুসরণ করে; এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসা ও এই শৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় না; কিন্তু তোমরা তাদের সেই শৃঙ্খলা বা কর্মপদ্ধতি (তাসবীহ) বুঝতে পারো না।”
(45আর যখন তুমি কোরআন পাঠ করো (এর বিধান প্রচার করো), তখন তোমার এবং যারা আখিরাতে (কর্মফলের ধারাবাহিকতায়) বিশ্বাস করে না, তাদের (মানসিক) অক্ষমতা (আবা) তাদের মাঝে এক অদৃশ্য প্রতিবন্ধক (হিজাব) হয়ে দাঁড়ায়।”
৪৬): এবং তারা তাদের এই অক্ষমতার কারণে (আবা) সত্য গ্রহণে বিমুখ হয়ে পেছনে ফিরে যায়। [A’aba] এক প্রকার স্থবিরতা বা বোঝা (ওয়াক্বরা/Waqra) তৈরি হয়, যাতে তারা তা (কুরআন) গভীরভাবে অনুধাবন করতে না পারে।”
যার ফলে তারা বার্তাটি সঠিকভাবে বুঝতে ব্যর্থ হয়; কারণ বার্তা শোনার ক্ষেত্রে তাদের ভেতরে শুরু থেকেই একটি ত্রুটি বা স্থবিরতা (ওয়াক্বরা/Waqra) বিদ্যমান। তাই যখন আপনি কুরআনের মাধ্যমে আপনার রবের সেই কর্মসূচির কথা বলেন যা তাঁর শাসনের অধীনে মানবজাতির ঐক্যের (Oneness) কথা ঘোষণা করে, তখন তারা বিতৃষ্ণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়
৪৭):আমি আপনার কাছে স্পষ্ট করে দিই কেন সেই সব নেতা, পুরোহিত ও তাদের সমর্থকরা আপনার কুরআন পাঠ শুনতে আসে এবং আমি আপনাকে আরও জানিয়ে দিই যে আপনার বার্তা শোনার পর তারা যখন গোপনে নিজেদের মাঝে কথা বলে তখন তারা কী বলে। আমাদের এই কর্মসূচির বিরোধীরা (জালেম/Zalimeen) একে অপরকে বলে, “নিশ্চয়ই তোমরা এমন এক ব্যক্তির অনুসরণ করছো যে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র (মাসহুরান/Mas-hooran) পাকাচ্ছে।”
(১৭:৪৮): দেখুন, তারা আপনার বার্তার কেমন সব অপব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্ত (ডিডাকশন) দাঁড় করায়! তারা নিশ্চিতভাবেই বার্তার উদ্দেশ্যকে বিকৃত করে, যেহেতু তারা সঠিক জীবন পথ (সাবেল/Sabeel) খুঁজে পাওয়ার জন্য বার্তাটি সঠিকভাবে শোনার প্রয়োজনই মনে করেনি।]
(১৭:৪৯): তাদের কেউ কেউ বলে, ” আমরা তো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও চূর্ণ-বিচূর্ণ (ডিজিনটিগ্রেটেড) হয়ে গেছি; আমরা কি সত্যিই পুনরায় একটি সার্থক জাতি বা সম্প্রদায় হিসেবে গড়ে উঠতে পারব?
**এবং তারা বলে, ‘যখন আমরা এমন অবস্থায় পৌঁছাব যেখানে আমাদের সক্ষমতা অকেজো হয়ে পড়বে (ইজাম) এবং আমরা এক অসার বা ভিত্তিহীন সত্তায় (রুফাত) পরিণত হব, তখনও কি আমরা নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?
(১৭:৫০): বলো—তোমরা পাথরের ন্যায় কঠোর (অনুভূতিহীন) হয়ে যাও কিংবা লোহার ন্যায় অনমনীয় (প্রবল জিদ সম্পন্ন); (অর্থাৎ সত্যের বিপরীতে তোমরা যতই কঠোর বা অনমনীয় অবস্থান নাও না কেন, আল্লাহর আইন থেকে তোমরা রেহাই পাবে না)।
(১৭:৫১): অথবা এমন কোন সৃষ্টি, যা তোমাদের অন্তরে বড় মনে হয়।’ তবুও তারা বলবে, ‘কে আমাদের পুনরায় (সৃষ্টি) করবে?’ বল, ‘যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।’ অতঃপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবে, ‘কবে এটা?’ বল, ‘আশা করা যায় যে, তা নিকটেই হবে।’
আমাদের এই মর্যাদাশীল জীবনে কে ফিরিয়ে আনবে?” বলুন, “তিনিই, যিনি বারবার মানবজাতিকে মর্যাদার স্তরে উন্নীত করেছেন।” তবুও তারা আপনার সামনে মাথা নাড়বে এবং জিজ্ঞেস করবে, “আপনি যা বলছেন তা যদি সত্যিই ঘটার হয়, তবে তা কখন ঘটবে?” বলুন, “যদি তোমরা এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করো, তবে তা খুব শীঘ্রই (ক্বারীবা/Qareeba) ঘটতে পারে।”
(১৭:৫২): এটি সেই দিন ঘটতে পারে যখন তোমাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য জমিনে আল্লাহর বিধান (কনস্টিটিউশন) প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানানো হবে এবং তোমরা তাঁর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে (হামদ/Hamd) সেই আহ্বানে সাড়া দেবে; আর এভাবেই তোমরা উপলব্ধি করবে যে তোমরা এতদিন অত্যন্ত সীমাবদ্ধ বা সংকীর্ণ (ক্বালীল/Qaleel) জীবন যাপন করছিলে।
(১৭:৫৩): অধিকন্তু, আমার এই কর্মসূচির সমর্থকদের (ইবাদি/Ebadi) বলুন তারা যেন একে অপরকে এমন কথা বলে যা গঠনমূলক ও কল্যাণকর (আহসান/Ahsan)। নিশ্চয়ই সেই ক্ষতিকারক ও ধ্বংসাত্মক নেতৃত্ব (শয়তান/Shaytan), যারা আমার মিশনের বিরোধী, তারা সর্বদা তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টির সুযোগ খোঁজে। বাস্তবতা হলো, যারা আমার মিশনের বিরোধিতা করে সেই নেতৃত্ব স্পষ্টতই মানবজাতির শত্রু
(১৭:৫৪): আপনার রব তোমাদের (মানুষের) প্রতি তাঁর উদ্বেগের কারণেই রাসূলের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করেন, যাতে তোমাদের কেউ চাইলে তাঁর কর্মসূচি অনুসরণ করে এক আনন্দময় (রাহমত/Rahmat) জীবনে পৌঁছাতে পারে, অথবা কেউ চাইলে তাঁর কর্মসূচি থেকে দূরে থেকে নিজের তৈরি করা নরক-যন্ত্রণার (আযাব/Azab) মধ্যে নিমজ্জিত থাকতে পারে। আমি আপনাকে তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী (ওয়াকিল/Wakil) হিসেবে পাঠাইনি।
(১৭:৫৫): এবং তোমার রব ভালোভাবেই জানেন যারা উচ্চতর আইন ও ব্যবস্থাপনায় (সামাওয়াত) এবং যারা যারা পদদলিত (ডাউন-ট্রডেন আরজ) আছে। একারণেই আমি নবীদেরকে অন্যদের তুলনায় বেশি অধিকার ও দায়িত্ব দিয়ে উন্নীত করেছি; এবং আমি দাউদকে ‘যাবুর’ (Zabur) দিয়েছি যাতে তিনি তাঁর নিযুক্ত বিচারসীমার মধ্যে সেই সব নেতা, পুরোহিত ও তাদের সমর্থকদের মোকাবেলা করতে পারেন।
(১৭:৫৬): বলো, “তোমরা ডাকো তাদের, যাদেরকে তোমরা আল্লাহ ছাড়া উপাস্য মনে করো; তারা তোমাদের কষ্ট দূর করার বা তা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা (আবা) রাখে না।” [A’aba – ০.১.১]
 (57) Amongst those whom they set up as peers to Allah the ones whom they consider to be nearest to Allah are those who themselves strive to attain nearness to Allah and hope for His Rahmat and fear His chastisement which should be shunned (at all costs)! (58) এমন কোনো জনপদ নেই যার উম্মত (ভিত্তি বা মূল কাঠামো) তার কৃতকর্মের পরিণাম ভোগ করবে না; আমরা সেই জনপদকে তার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাব অথবা কঠোর শাস্তির সম্মুখীন করব—সেই সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিতার সময়কাল (Youm Al-Qayyamat) আসার আগেই। এটি আল্লাহর কিতাবে (বিধান বা প্রাকৃতিক নিয়মে) সুনিশ্চিতভাবে নির্ধারিত।

ইউম আল-ক্বিয়ামা (Youm Al-Qayyamat): এটি এমন একটি অবস্থা বা সময়কাল যেখানে মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য স্থায়ীভাবে জবাবদিহি করবে। এটি কেবল ধ্বংস নয়, বরং সত্য ও মিথ্যার চূড়ান্ত পার্থক্য নিরূপণ
ইয়াওম (Youm): এটি কোনো ২৪ ঘণ্টার দিন নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট বা সুপ্রতিষ্ঠিত সময়কাল বা ঘটনা (Event/Process)
কিয়ামত (Qayyamat): এটি কেবল মৃত্যুর পরের ঘটনা নয়, বরং এটি হিসাব বা জবাবদিহিতার একটি পর্যায় (State of accountability/Establishment) যা এই পৃথিবীতেও শুরু হতে পারে।১. ধ্বংস নয়, বরং ফলাফল: প্রচলিত অনুবাদে একে কেবল ‘ধ্বংস’ বলা হয়, কিন্তু আপনার ফাইল অনুযায়ী এটি হলো আ’কিবাত (A’qibatu) বা কর্মের যৌক্তিক ফলাফল।
২. মহাপ্রলয় নয়, বরং জবাবদিহিতা: ‘কিয়ামতের দিন’ বলতে এখানে সেই সময়কে বোঝানো হয়েছে যখন কোনো জাতি বা সমাজ তার ভুল নীতি ও কর্মের জন্য চূড়ান্ত সামাজিক বা রাজনৈতিক পতনের মুখোমুখি হয় (Accountability process)।
আ’কিবাত (A’qibatu): জনপদের ওপর আসা বিপর্যয় কেবল ধ্বংস নয়, বরং তাদের গ্রহণ করা জীবনবিধান ও কর্মের যৌক্তিক পরিণতি বা রিট্রিবিউশন
কিতাব (Kitaab): এটি কোনো সাধারণ বই নয়, বরং আল্লাহর সেই সব সুনির্দিষ্ট আইন বা রেগুলেশনস, যা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই মহাবিশ্বে কার্যকর থাকে 
(59) আর আমাদের নিদর্শনসমূহ (আল্লাহর অমোঘ নিয়ম) পাঠানো থেকে কোনো কিছুই বিরত রাখেনি কেবল এ ছাড়া যে, পূর্ববর্তীরা একে অস্বীকার (কাজ্জাবা/Kazaba) করেছিল। আর আমরা সেই সব উদ্ধত ও অহংকারী ব্যক্তিদের (সামুদ) প্রদান করেছিলাম একটি অকাট্য দলিল ও যৌক্তিক প্রমাণ (নাক্বাতান/(নাক্বাতা মুবসিরাতান/Naqata Mubsiratan)) যা ছিল সত্য উপলব্ধির জন্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট, কিন্তু তারা তার প্রতি জুলুম (সত্য গোপন ও অবমূল্যায়ন/(জালামু/Zalamu)) করেছিল। আর আমরা নিদর্শনসমূহ পাঠাই কেবল সতর্ক (তাখভীফ/Takhweef) করার জন্য (যাতে মানুষ তাদের কর্মধারার যন্ত্রণাদায়ক পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হতে পারে)।
নিদর্শনসমূহ (আয়াআত) পাঠানো থেকে আমাদের কোনো কিছুই বিরত রাখেনি, কেবল এই সত্যটি ছাড়া যে পূর্ববর্তী জাতিগুলো একে মিথ্যা বা অস্বীকার করেছিল। যেমন আমরা সামুদ জাতিকে একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বা চাক্ষুষ নিদর্শন  দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তার প্রতি জুলুম বা অবাধ্যতা  করেছিল। আমরা নিদর্শনগুলো পাঠাই কেবল সতর্ক  করার উদ্দেশ্যে।
৬০) স্মরণ করুন, আমি আপনাকে বলেছিলাম যে, আপনার রবের পরিকল্পনা ও বিধান সমগ্র মানবজাতিকে পরিবেষ্টন (আহাতা/Ahata) করে আছে।
আমি আপনাকে কুরআনে যে বাস্তব দৃশ্য বা নিদর্শন (রউইয়া/Ru’ya) প্রকাশ করেছি, অভিশপ্ত বা সমাজ-বিচ্যুত গোষ্ঠী (শাজারাতাল মালউনাহ/Shajaratal Mal’unah ) একটি পরীক্ষা (ফিতনাহ/Fitnah)বা লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছি। আমি তাদের সতর্ক করি ( নুখাভ্ভিফুহুম/ Nukhawwifuhum) , কিন্তু এটি কেবল তাদের চরম অবাধ্যতা ও বিদ্রোহকেই বৃদ্ধি করে।

((পরীক্ষা (ফিতনাহ/Fitnah)বা লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ যা অর্জনে ক্ষতিকারক ও ধ্বংসাত্মক শক্তির বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম করতে হবে। শাজারাতাল মালউনাহ/Shajaratal Mal’unah এটি ‘লা’নাত’ থেকে এসেছে, যার অর্থ আল্লাহর রহমত বা প্রাকৃতিক ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত বা দূরে সরে যাওয়া,’শাজারাতাল মালউনাহ’ বলতে সেই সব অশুভ শক্তি, শোষক গোষ্ঠী বা বিচ্যুত মতাদর্শকে বোঝানো হয়েছে যা মানুষের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।))
৬১ আর যখন আমরা সেই নির্ধারিত শক্তিসমূহকে (মালাইকা) নির্দেশ দিয়েছিলাম সেই জ্ঞানসম্পন্ন ও বিবেকবান মানবজাতির (আদম) প্রতি অনুগত হতে বা তাদের সাথে একাত্ম হতে (সাজদা), তখন ইবলিস ব্যতীত সবাই তা করল। সে বলল, ‘আমি কি এমন কারো অনুগত হব যাকে আপনি সেই মানুষদের (তি’ন/Ta’ene) মধ্য থেকে গড়ে তুলেছেন যারা এককালে অন্ধ অনুসারী ও বিভ্রান্ত ছিল?
৬২ সে (ইবলিস) বলল, ‘দেখুন, এই সেই সত্তা যাকে আপনি এই উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব (A’ala) দান করেছেন? যদি আপনি আমাকে জবাবদিহিতার চূড়ান্ত পর্যায় (Youm al-Qayyamat) পর্যন্ত অবকাশ দেন, তবে আমি অল্প কয়েকজন ছাড়া তার অনুসারীদের (Zurriyat – যারা এই জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তির পথ অনুসরণ করবে) সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে (কর্তৃত্ব) নিয়ে আসব (তাদের প্রলুব্ধ করে)। লাগাম পরিয়ে দেব বা সমূলে বশীভূত (লা-আহতানিকান্না/La-Ahtanikanna) করব।
চূড়ান্ত পরিণতি/পরবর্তী পর্যায় (ইউমিল কিয়ামাহ/Youm Al-Qiyamah): এটি কেবল বিচার দিবস নয়, বরং কোনো কর্মের শেষ পর্যায় বা চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের সময়কে বোঝায় ।
বশীভূত করা (লা-আহতানিকান্না/La-Ahtanikanna): মানুষকে তার বিবেক ও বুদ্ধি থেকে বিচ্যুত করে প্রবৃত্তির দাসে পরিণত করা, যেমন পশুকে লাগাম দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
আদম (Adam): সেই মানবস্তর যারা জ্ঞান, বিবেক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা অর্জন করেছে

১. ইবলিস (Iblees): ব্যক্তি বা সত্তার পরিচয়
আভিধানিক অর্থ: ‘ইবলিস’ শব্দটি মূলত নিরাশ হওয়া বা আশা ছেড়ে দেওয়া (despair) থেকে এসেছে। যখন ইবলিসকে আদমের প্রতি সাজদা করতে বলা হয়েছিল, তখন সে ‘A’aba’ (অক্ষম) হয়েছিল। অর্থাৎ, তার অহংকার তাকে সত্যের সামনে নত হওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষম করে দিয়েছিল।
বৈশিষ্ট্য: ইবলিস হলো সেই **নির্দিষ্ট সত্তা**, যে আল্লাহর নির্দেশের অবাধ্য হয়েছিল এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে নিজের অহংকারে আটকা পড়েছিল।

২. শয়তান (Shaytan): একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা উপাধি
আভিধানিক অর্থ: এটি ‘শাতানা’ (Shatana) থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো দূরবর্তী বা বিচ্যুত হওয়া
 AJAL’A (عجل) এবং  A’AMAHU (عمه) শব্দের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যারা হিদায়াত বা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্ধভাবে ভুল পথে পরিচালিত হয়, তারাই শয়তানের আচরণের অনুসারী।
বৈশিষ্ট্য: শয়তান কোনো **নির্দিষ্ট একক সত্তা নয়**, বরং এটি একটি উপাধি। ইবলিস যখন মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয় বা বিচ্যুত করে, তখন তাকে ‘শয়তান’ বলা হয়। এমনকি মানুষ ও জিনের মধ্যে যারা সত্য পথ থেকে অন্যদের বিচ্যুত করে, তাদেরকেও কুরআনে ‘শয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (সূরা আন-আম ৬:১১২)।
৬৩. আল্লাহ বললেন, “যাও! তাদের মধ্যে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে, এই চরম দুর্দশা ও যন্ত্রণাদায়ক অবস্থাই (Jahannam) হবে তোমাদের সবার প্রাপ্ত পূর্ণ প্রতিফল (Jaza)
৬৪. “তোমার সেই বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা বা মাধ্যম (Saut) দিয়ে তাদের বিচলিত করো, তোমার কৌশল ও জনবল (Khail & Rajil) দিয়ে তাদের ওপর চড়াও হও, তাদের সম্পদ ও সন্তানে (পরিশ্রম ও অর্জনে) অংশীদার হও এবং তাদের প্রতিশ্রুতি দাও।” শয়তান তাদের কেবল প্রতারণামূলক প্রতিশ্রুতিই দেয়।
৬৫. “নিশ্চয়ই আমার সেই বান্দাদের ওপর তোমার কোনো ক্ষমতা নেই যারা আমার আইন মেনে চলে।” কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার রবই যথেষ্ট।
৬৬. তোমাদের রব তিনিই, যিনি জ্ঞানের এই বিশাল দিগন্তের (সমুদ্রে) তোমাদের জন্য পথ চলার মাধ্যম বা হাতিয়ার (জাহাজ) সচল রাখেন যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ (বিকাশের উপায়) অন্বেষণ করতে পারো। তিনি তোমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
৬৭. যখন এই জ্ঞানের ভাণ্ডারে (সমুদ্রে) তোমাদের ওপর বিপদ আসে, তখন আল্লাহ ছাড়া যাদের তোমরা ডাকো তারা হারিয়ে যায়। কিন্তু যখন তিনি তোমাদের স্থির ও নিরাপদ আদর্শিক অবস্থানে (স্থলে) উদ্ধার করেন, তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও (A’raz)। মানুষ প্রকৃতপক্ষেই অকৃতজ্ঞ।
৬৮. তোমরা কি নিশ্চিত যে তিনি তোমাদের সেই স্থির অবস্থানের (স্থলের) কোনো অংশে তোমাদের বিভ্রান্তিতে হারিয়ে যেতে দেবেন না বা সত্যকে আড়াল (Yakhsifa) করবেন না? অথবা তিনি তোমাদের ওপর কোনো বিপর্যয় বাস্তবায়িত বা কার্যকর (Yursila) করবেন না? তখন তোমরা কাউকে সাহায্যকারী পাবে না।
 ৬৯. অথবা তোমরা কি নির্ভয় যে তিনি তোমাদের পুনরায় সেই জ্ঞানের বিশালতায় (সমুদ্রে) ফিরিয়ে নেবেন না এবং তোমাদের ওপর প্রচন্ড আদর্শিক বিশৃঙ্খলা পাঠিয়ে তোমাদের বিভ্রান্তির অতলে তলিয়ে (Gharaq) দেবেন না? তখন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকারকারী পাবে না।
৭০. আর নিশ্চয়ই আমরা আদম সন্তানকে (জ্ঞানদীপ্ত মানবজাতিকে) মর্যাদা দিয়েছি, তাদের স্থির ও গতিশীল উভয় অবস্থানে (জলে ও স্থলে) চলাচলের ব্যবস্থা করেছি, তাদের উত্তম জীবনোপকরণ (Rizq) দিয়েছি এবং আমাদের অনেক সৃষ্টির ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব (Al-A’ala) দান করেছেন।
৭১. যখন সেই সুনিশ্চিত অবস্থা (ইয়াওম) আসবে, যেখানে আমি মানুষের প্রতিটি সচেতন সত্তাকে তাদের অনুসৃত আদর্শ বা মূল কিতাবসহ (ইমাম) আহ্বান করব; তখন যাদের (কৃতিত্ব) তাদের অঙ্গীকার ও গভীর বিশ্বাসের (ইয়ামিন) ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে, তারা তাদের কিতাব/বিধান সার্থকভাবে অনুধাবন করবে এবং তাদের ওপর সামান্যতম (ফাতিল) ভারসাম্যহীনতা বা অবিচার করা হবে না।
কেন ‘যেদিন’ অনুবাদটি WQT মতে ভুল?
১. ইয়াওম (Youm): এটি সময়ের কোনো একক নয়, বরং এটি একটি ফলাফল বা পরিণতির অবস্থা। এটি এমন এক মুহূর্ত যখন মানুষের কৃতকর্মের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২. ঘটমান বাস্তবতা: এটি কেবল মৃত্যুর পরের কোনো দিন নয়, বরং সত্য যখন স্পষ্ট হয় এবং মানুষ তার কৃত অঙ্গীকারের (আইমান) মুখোমুখি হয়, সেই অবস্থাই হলো ‘ইয়াওম’।
৭২. আর যে ব্যক্তি এই বাস্তবতায় অন্ধ (বিবেক ও জ্ঞানহীন – আ’মা), সে পরিণতির ক্ষেত্রেও (আখিরাত) দিশেহারা ও অন্ধ থাকবে এবং সঠিক পথ (সাবিল) থেকে অনেক দূরে বিচ্যুত হবে।
৭৩. আর তারা তোমাকে এমন এক বিভ্রান্তিতে (ফিতনা) ফেলতে চায় যাতে আমি যা তোমার ওপর ওহী করেছি তা তোমার কাছে অস্পষ্ট বা ছদ্মবেশী (Camouflaged) মনে হয়; যেন তুমি আমার নামে সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে নিজের মনগড়া বা প্রথাগত কিছু বলো (আফতার)। আর তবেই তারা তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত।
১. ফিতনা (Fitna): WQT অনুযায়ী ফিতনা হলো এমন এক অবস্থা যেখানে সত্যকে মিথ্যা দিয়ে এমনভাবে ঢেকে দেওয়া হয় যে মানুষ তার বুদ্ধিবৃত্তিক অনুষদ (Aqal) ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়।
২. আফতার (Aftara): এটি কেবল বিচ্যুতি নয়, বরং আল্লাহর ওহীর সাথে নিজের মতামত বা প্রচলিত প্রথাকে মিশিয়ে তাকে ‘ডিভাইন’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা।
৭৪. “আর যদি তোমার কাছে সেই দৃঢ় সক্ষমতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি (ওহীর জ্ঞান) না থাকত যা আমি তোমাকে দিয়েছি, তবে তুমি তাদের প্ররোচনায় কিছুটা হলেও ঝুঁকে পড়তে।”
 ১. দৃঢ় ভিত্তি (Sabbatnaka): প্রচলিত অনুবাদে একে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সরাসরি অলৌকিক কাজ মনে করা হয়। কিন্তু এটি হলো সেই ঐশী জ্ঞান ও হিদায়াহ যা একজন রাসূলকে চারিত্রিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এত দৃঢ় করে যে তিনি বাতিলের দিকে ঝুঁকে পড়েন না।
২. সক্ষমতা (Capability): এখানে মূল বিষয় হলো মানুষের সেই বিবেক ও চারিত্রিক সক্ষমতা যা তাকে সত্যের ওপর অবিচল রাখে।
৭৫. “সেক্ষেত্রে (সেই ভুল পথে চলার) অনিবার্য পরিণতি হিসেবে সজীব ও সফল জীবনের স্বাদ দ্বিগুণ (ব্যর্থতায়) পর্যবসিত হতো এবং ধ্বংসাত্মক পরিণতির (মাউত) স্বাদও আসত দ্বিগুণ; তখন আমাদের নির্ধারিত এই প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে কোনো সাহায্যকারী পাওয়া যেত না।”
১. স্বয়ংক্রিয় নিয়ম:  আল্লাহর আইনগুলো হলো ‘কজ অ্যান্ড ইফেক্ট’ (Cause and Effect) বা কারণ ও ফলাফলের মতো। এখানে ‘আমি আস্বাদন করাতাম’ মানে হলো আল্লাহর নির্ধারিত সেই সিস্টেম বা সুন্নাত কাজ করত যা ভুল কাজের বিপরীত ফল নিশ্চিত করে।
২. ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়: আল্লাহ এখানে কোনো ব্যক্তিগত রাগের বহিঃপ্রকাশ করছেন না, বরং এটি একটি সতর্কবাণী যে, সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হলে সাফল্যের সজীবতা (হায়াত) হারিয়ে গিয়ে সেখানে ব্যর্থতার অন্ধকার (মাউত) নেমে আসে।
৭৬. “আর তারা তোমাকে তোমার প্রতিষ্ঠিত অবস্থান (আরদ) থেকে অস্থিতিশীল করার উপক্রম করেছিল যাতে তোমাকে সেখান থেকে উপড়ে ফেলা যায়; কিন্তু তোমার সেই সত্যের বিপরীতে (খিলাফ) অবস্থান নিয়ে তাদের পক্ষে কোনো স্থিতিশীলতা (লাবিসা) বজায় রাখা সম্ভব হতো না।”
১. খিলাফ (Khilaf): ‘খিলাফ’ মানে হলো বিচ্যুতি, অমিল বা বিপরীতমুখী আচরণ। এখানে এর অর্থ হলো—রাসূল (সা.) যে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত (আরদ), তার বিপরীতে বা সেই সত্যকে বর্জন করে তারা কোনো স্থিতিশীল সমাজ গড়তে সক্ষম হতো না।
২. লাবিসা (Labisa): এটি সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থানগত স্থিতিশীলতা বোঝায়। অর্থাৎ সত্যের অনুপস্থিতিতে মিথ্যার ধারক-বাহকরা নিজেদের মধ্যেও ঐক্য বা স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারে না।
১. আদর্শিক দ্বন্দ্ব: এটি কোনো জায়গা বা দেশ দখলের লড়াই নয়। এটি হলো সত্য বনাম মিথ্যার সংঘাত। এখানে ‘খিলাফাকা’ মানে হলো—রাসূল (সা.) যে ঐশী বিধান বা সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন, সেই সত্যকে বর্জন করে বা তার থেকে বিচ্যুত হয়ে (Deviance/Non-conformity) তারা কোনো মজবুত ভিত্তি গড়তে পারত না।
২. অসারতা: যখন সত্য (ওহীর জ্ঞান) সমাজ থেকে বিদায় নেয়, তখন সেখানে কেবল বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা রাজত্ব করে। বিরোধীরা যদি রাসূলকে (সা.) সরিয়েও দিত, তবুও তারা নিজেদের মধ্যে ঐক্য বা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হতো কারণ তাদের কাছে সত্যের কোনো ভিত্তি থাকত না।
৭৭:  “অতীতের প্রতিটি বার্তাবাহক বিধানের (রাসূল) ক্ষেত্রেও এটিই ছিল মহান আল্লাহর অটল নীতি; আর তুমি আমার এই প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়মে (সুন্নাত) কোনো বিচ্যুতি বা পরিবর্তন পাবে না।”
১. রাসূল (Rusul): WQT অনুযায়ী, এটি কেবল একদল মানুষ নয়, বরং এটি আল্লাহর সেই বিরামহীন বার্তা বা বিধানের শৃঙ্খলা যা যুগে যুগে মানুষের কাছে পৌঁছেছে। এখানে গুরুত্ব ব্যক্তি রাসূলের ওপর নয়, বরং তার মাধ্যমে আসা বার্তার স্থায়িত্ব ও নিয়মের (Sunnat) ওপর।
২. সুন্নাত (Sunnat): এটি আল্লাহর সেই ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যা সত্য এবং মিথ্যার দ্বন্দ্বে সবসময় একইভাবে কাজ করে। এটি কোনো বিশেষ গোত্র বা ব্যক্তির জন্য পরিবর্তিত হয় না।
১. সুন্নাত (Sunnat): আল্লাহর অটল প্রাকৃতিক ও সামাজিক নিয়ম।
২. সালাত (Salaat): ঐশী আইন বাস্তবায়ন ও তার প্রতি অবিচল থাকা।
৩. মাকাম (Maqaam): সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত উচ্চতর সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মর্যাদা।
৭৮. “আল্লাহর নিয়মাবলী কায়েম করো (সালাত)—মিথ্যা শক্তির (শামস) পতন থেকে শুরু করে অজ্ঞতার (লাইল) চরম পর্যায় পর্যন্ত; এবং যখন সত্য উদ্ভাসিত হয় (ফজর), তখন কুরআনের জ্ঞানচর্চা ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করো। নিশ্চয়ই সত্য উদ্ভাসিত হওয়ার মুহূর্তটি (ফজর) হলো কুরআনের ভিত্তিতে ন্যায়বিচারকে একটি বাস্তব ও দৃশ্যমান মডেলে (মাশহুদা) পরিণত করার সময়।”
১. মাশহুদা (Mashhooda):  এটি হলো ‘এভিডেন্সড’ (Evidenced) বা প্রমাণিত বাস্তবতা।এটি কেবল কোনো জায়গায় হাজির থাকা নয়, বরং এটি হলো ‘শাহাদা’ বা ন্যায়বিচারের এমন এক সাক্ষ্য যা মানুষের প্রতিটি কাজে ও সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়। যখন কুরআনের জ্ঞান (ফজর) মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হয় সমাজে ন্যায়বিচারকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করা যা সবার কাছে একটি স্পষ্ট উদাহরণ বা বাস্তব প্রমাণ হিসেবে দৃশ্যমান হয়।
২. বাস্তব প্রয়োগ: এটি কেবল আইনি সাক্ষ্য নয়, বরং এটি হলো কুরআনের হিদায়াহকে মানুষের জীবনের প্রতিটি কাজে বাস্তব মডেল (Role Model/Evidence) হিসেবে তুলে ধরা।
২. ন্যায়বিচার (Justice): যখন সত্য (ফজর) স্পষ্ট হয়, তখন প্রধান কাজই হলো কুরআনের বিধান অনুযায়ী সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ (Qist/Adal) প্রতিষ্ঠা করা। এটিই হলো কুরআনের প্রকৃত ‘শাহাদাত’ বা সাক্ষ্য।
১. ফজর (Fajr):এটি কোনো সময়ের একক নয়, বরং এটি হলো সত্যের উদয় বা এমন এক অবস্থা যখন মিথ্যার অন্ধকার ছিঁড়ে সত্য স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হয়।
২. কুরআনাল ফজর (Qur’an al-Fajr): এর অর্থ হলো সত্য যখন স্পষ্ট হতে শুরু করে, তখন কুরআনের জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা যাতে সেই সত্যের আলো পূর্ণতা পায়।
১. দুলুক আল-শামস (Duluk al-Shams): প্রচলিত অর্থে এটি ‘সূর্য ঢলে পড়া’।  ‘শামস’ হলো সমাজের সেই সব অহংকারী ও ক্ষমতাধর গোষ্ঠী যাদের পতন বা ক্ষয়িষ্ণু হওয়া (Duluk) অনিবার্য।
২. ঘাসাক আল-লাইল (Ghasaq al-Layl): এটি কেবল রাতের আঁধার নয়, বরং সত্য ও হিদায়াহ যখন মানুষের চোখে অস্পষ্ট বা ঢাকা থাকে (Layl), সেই অজ্ঞতার চরম অবস্থাকে নির্দেশ করে।
৭৯. “আর সমাজের সেই অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির (লাইল) বিপরীতে দাঁড়িয়ে সত্যের দাওয়াত নিয়ে নিজেকে নিয়োজিত করো (তাহাজ্জুদ), যা তোমার (মিশনের) প্রবৃদ্ধি ও সজীবতার (নাফিলা) এক বিশেষ মাধ্যম হবে; শীঘ্রই তোমার রব তোমাকে এক প্রশংসিত ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে (মাকামাম মাহমুদা) প্রতিষ্ঠিত করবেন।”
১. লাইল (Layl): এটি কোনো কাল বা সময় নয়, বরং এটি হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন মনস্তাত্ত্বিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আল্লাহর জিকর বা সত্য থেকে বিমুখ থাকে।
২. তাহাজ্জুদ (Tahajjud): এটি কেবল ঘুমের পরের নামায নয়, বরং এটি হলো সেইসব মানুষের জন্য কাজ করা যারা অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে আছে—যাতে তাদের সেই অবস্থা থেকে বের করে সত্যের পথে আনা যায়।
৩. মাকাম (Maqaam): এটি কেবল পরকালের কোনো মর্যাদা নয়, বরং এটি হলো সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এমন এক সামাজিক প্রভাব ও মর্যাদা যা মানুষকে নেতৃত্বের স্তরে পৌঁছে দেয়।
১. নাফিলা (Naafila):  এটি কেবল বাড়তি কোনো নেকি নয়, বরং এটি হলো বিকাশ বা বৃদ্ধির (Expansion/Growth) একটি বিশেষ উপকরণ। অর্থাৎ, অন্ধকারের (লাইল) মোকাবিলায় সত্য প্রচারের এই কঠিন প্রচেষ্টা তোমার নেতৃত্বের প্রভাব এবং চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
১. আসা (A’asa): প্রচলিত অনুবাদে একে ‘হয়তো’ বা ‘শীঘ্রই’ বলা হয়। আল্লাহ সবসময় সুনিশ্চিত (Definite) কথা বলেন। এখানে ‘আসা’ মানে হলো আল্লাহর সেই ক্ষমতা ও সামর্থ্য (Ability/Power) যার মাধ্যমে তিনি কোনো ব্যক্তিকে তার কাজের যোগ্য পরিণতির দিকে নিয়ে যান।
২. সুনিশ্চিত ফলাফল: এটি কোনো ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নয়, বরং এটি একটি গ্যারান্টি যে—অন্ধকারের বিরুদ্ধে সত্যের প্রচেষ্টা চালালে আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মেই তুমি সেই উচ্চতর মর্যাদায় (মাকাম) উন্নীত হবে।
৮০. “আর (তোমার কাজের মাধ্যমে) এটিই সাব্যস্ত ও ঘোষণা করো (ক্বল)—‘হে আমার ব্যক্তিত্বের পরিপালক ও বিকাশকারী (রব)! আমার যেকোনো অগ্রযাত্রা বা প্রবেশ (মুদখালা) যেন সত্য ও বিশ্বস্ততার (সিদক্ব) সাথে হয় এবং যেকোনো প্রস্থান বা বিদায় (মুখরাজা) যেন হয় সেই একই সত্য ও নিষ্ঠার সাথে আর আপনার পক্ষ থেকে আমাকে সত্যের পক্ষে এক শক্তিশালী ও সাহায্যকারী সক্ষমতা (সুলতানান নাসিরা) দান করুন।”
সুলতান (Sultan): এটি কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, এটি হলো সত্যের পক্ষে এমন অকাট্য প্রমাণ, যুক্তি ও সক্ষমতা যা শত্রুর সকল মিথ্যাকে পরাজিত করার সামর্থ্য রাখে।
১. ক্বল (Qul): WQT অনুযায়ী এটি কেবল মুখে বলা নয়, বরং এটি হলো কোনো সত্যকে নিজের কার্যের মাধ্যমে ঘোষণা বা প্রতিষ্ঠিত করা (To establish or communicate through actions)
২. রব (Rabb): প্রচলিত ‘প্রভু’ অনুবাদের চেয়ে এটি আরও গভীর। এটি হলো সেই সত্তা যিনি মানুষকে তার জন্ম থেকে শুরু করে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত যাবতীয় বিকাশ ও প্রবৃদ্ধির (Growth/Development) উপকরণ জোগান দেন।
৩. প্রবেশ ও বের হওয়া (Mudkhala/Mukhraja): এটি কোনো দরজায় ঢোকা বা বের হওয়া নয়। এটি হলো যেকোনো দায়িত্ব, মিশন বা জীবনের মোড় পরিবর্তন করার সময় সততা ও সত্যের (Sidq) ওপর অটল থাকা।
৮১. আর ঘোষণা করো (তোমার কার্যের মাধ্যমে), ‘সত্য (হক) উদ্ভাসিত হয়েছে এবং মিথ্যা বা অসারতা (বাতিল) বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা বা অসারতা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয় (যাহুক্বা)।’
হক (الْحَقُّ): যা অনড়, বাস্তব এবং সুনিশ্চিত সত্য।
বাতিল (الْبَاطِلُ): যা ভিত্তিহীন, অসার এবং যার স্থায়িত্ব নেই।
৮২. আর আমি কুরআনের মাধ্যমে অবতীর্ণ করছি এমন বিধান যা (মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ব্যাধির জন্য) নিরাময় (শিফা) এবং যারা বিশ্বাসী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (মুমিন) তাদের জন্য রহমত। কিন্তু এটি যালিমদের জন্য কেবল ক্ষতি ও ধ্বংসই (খাসারা) বাড়িয়ে দেয়।
শিফা (شِفَاءٌ): চারিত্রিক ও আদর্শিক বিচ্যুতি থেকে মুক্তি বা নিরাময়।
রহমত (رَحْمَةٌ): আল্লাহর অফুরন্ত করুণা যা মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে।
৮৩. আর যখন আমি মানুষের ওপর নিয়ামত দান করি, তখন সে বিমুখ হয় এবং ঔদ্ধত্যের সাথে সত্য থেকে দূরে সরে যায়; আর যখন তাকে মন্দ বা সংকট স্পর্শ করে, তখন সে হতাশ (ইয়াউস) হয়ে পড়ে।
৮৪. ঘোষণা করো, ‘প্রত্যেকেই তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতির (শাকিল্লাহি) ভিত্তিতে কাজ করে; আর তোমার রব ভালোভাবেই জানেন কে সঠিক পথের (সাবিল) দিকে বেশি অগ্রসর।’
শাকিল্লাহ (شَاكِلَتِهِ): মানুষের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক কাঠামোর মাধ্যমে তৈরি হওয়া নিজস্ব কাজের ধরন বা দৃষ্টিভঙ্গি।
৮৫. তারা তোমাকে ‘রূহ’ (আল্লাহর হিদায়াত/ওহী) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। ঘোষণা করো, ‘রূহ আমার প্রতিপালকের সুশৃঙ্খল প্রাকৃতিক নিয়ম (আমর) থেকে প্রাপ্ত; আর তোমাদেরকে অত্যন্ত সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে।’
রূহ (الرُّوحُ): এখানে রূহ মানে কেবল আত্মা নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া সেই নির্দেশনা বা প্রত্যাদেশ (ওহী) যা মৃতপ্রায় সমাজকে জীবন দান করে। এটি সেই শক্তি যা একটি মৃতপ্রায় সমাজ বা নিস্প্রাণ চিন্তাধারাকে জীবন দান করে। এটি আল্লাহর ‘আমর’ বা আদেশের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ এটি কোনো বস্তুগত জিনিস নয়, বরং এক নির্দেশনামূলক জ্ঞান যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করে।
আমর (أَمْرِ): আল্লাহর চূড়ান্ত বিধান বা ফায়সালা।
বাতিল (Batil): এমন সব ধারণা বা ব্যবস্থা যা ওহীর সত্যের সামনে টিকতে পারে না।
যালিম (Zalim): যারা আল্লাহর হিদায়াহ ব্যবহার না করে নিজের বা অন্যের ওপর অবিচার করে।
রূহ হলো আল্লাহর ওহী বা হিদায়াহ (Divine Message)।
২. শাকিল্লাহ (Shakilla – شَاكِلَتِهِ)
এটি মানুষের সেই মানসিক ছাঁচ (Psychological Frame) যা তার বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষার মাধ্যমে তৈরি হয়। মানুষ যা কিছু করে, তার এই ছাঁচের বাইরে বের হতে পারে না। কুরআন মানুষের এই ‘শাকিল্লাহ’ বা মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে সঠিক পথের (সাবিল) দিকে পরিচালিত করতে চায়।
৩. হক ও বাতিল (Haq & Batil)
হক হলো সেই বাস্তবতা যা ওহীর মাধ্যমে প্রমাণিত এবং যা চিরকাল টিকে থাকে। আর বাতিল হলো এমন সব ক্ষণস্থায়ী নিয়ম বা বিশ্বাস যা বাস্তবতার স্পর্শে ফেনা বা ছাইয়ের মতো উড়ে যায়।
৮৬. আর যদি আমার আইন বা নিয়ম অনুযায়ী হতো (শিনা), তবে আমি অবশ্যই তোমার কাছে যা ওহী করেছি তা প্রত্যাহার করে নিতাম; অতঃপর তুমি এ বিষয়ে আমাদের নির্ধারিত আইনের বিপক্ষে (আলাইনা) তোমার জন্য কোনো কার্যনির্বাহী বা অভিভাবক (ওয়াকিল) খুঁজে পেতে না।
৮৭. তবে এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত; নিশ্চয়ই তোমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ অনেক বড়।
৮৮. ঘোষণা করো, ““যদি সমস্ত সাধারণ মানুষ (ইনসান) ও প্রভাবশালী শক্তিগুলো (জিন্ন) একত্রিত হয় যেন তারা এই কুরআনের মতো (নিখুঁত ও কার্যকর) কোনো বিধান বা ব্যবস্থা নিয়ে আসবে, তবুও তারা তা পারবে না—যদিও তারা একে অপরকে সাহায্য (জ্বহীর) করে।
জীন (Jinn): সমাজের সেইসব প্রভাবশালী বা উচ্চবিত্ত মানুষ যারা সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে শক্তিশালী জীবনযাপন করে।
৮৯. আমরা এই কুরআনে মানুষের জন্য সব ধরণের বিধান দারাবনা (Darabna – সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি); কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কেবল কুফর (Kufr – সত্য গোপন করা বা অন্ধ অনুসরণ) করতেই লিপ্ত থাকে। অপারগ (আবা) হয়েছে।
৯০. এবং তারা বলে, “আমরা তোমার ওপর কখনো বিশ্বাস (ঈমান) আনব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য এই পার্থিব জীবন বা ভূমি (আরদ) থেকে জ্ঞানের কোনো নতুন উৎস স্পষ্ট বা উদিত (ফাজারনা) করবে।
৯১. “”অথবা তোমার কাছে কোনো উচ্চমর্যাদা (নাখীল) ও ফলপ্রসূ অর্জনের এমন কোনো গোপন নেয়ামত (জান্নাত) থাকে, যা তুমি আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে প্রকাশ (ফাত্তুফিজ্জিরা) করে দেবে।””
১. জান্নাত (Jannat) – বাগান নাকি গোপন কিছু?
আপনার শব্দকোষ অনুযায়ী, ‘জান্নাত’ শব্দটি কেবল বাহ্যিক বাগানকে বোঝায় না।
প্রকৃত অর্থ: জান্নাত হলো এমন সব বিষয় বা নেয়ামত যা মানুষের কাছে গোপন, অদেখা বা অবোধ্য ছিল এবং পরে তা প্রকাশ করা হয়েছে (All that was hidden, unseen or not understood)।
আয়াতের প্রেক্ষাপট: বিরোধীরা নবীর কাছে এমন কোনো গোপন সম্পদ বা ক্ষমতার (Hidden Bliss) দাবি করছিল যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়।
২. নাখীল: এমন কোনো ব্যবস্থা বা শক্তি যা উচ্চতা, মর্যাদা এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের প্রতীক।
ইনাব: এটি প্রাচুর্য এবং এমন ফল বা ফলাফলকে বোঝায় যা মানুষের জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক ও ফলপ্রসূ।
৩. ফাতুফিজ্জিরা (Fatufajjira – প্রবাহিত করা):
আপনার শব্দকোষ অনুযায়ী, এর রুট হলো ‘ফজর’ (Fajarna), যার অর্থ হলো কোনো কিছুকে স্পষ্ট বা উদিত (Cause to dawn, become obvious) করা।
যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো গোপন হিদায়াত বা ক্ষমতার ভাণ্ডার (Jannat) থাকে, তবে তিনি কেন সেই মর্যাদা (Nakhil) এবং তার ফলপ্রসূ ফলাফলগুলো (Inab) সবার সামনে স্পষ্টভাবে প্রকাশ (Fajjir) করছেন না। অর্থাৎ, তারা হিদায়াতের যুক্তির চেয়ে বাহ্যিক প্রভাব-প্রতিপত্তিকে সত্যের মাপকাঠি মনে করছিল।
৯২. “যদি তুমি সত্য হও এবং তোমার কাছে উচ্চতর কোনো আইন (Samaa) থাকে, তবে তুমি কেন সেই আইনের সুনির্দিষ্ট অংশ বা শাস্তিমূলক ধাপগুলো (Kisaf) আমাদের ওপর সরাসরি কার্যকর বা প্রয়োগ (Tusqita) করছ না। অথবা (তারা দাবি করে) তুমি আল্লাহ এবং তাঁর সুনির্ধারিত শক্তিসমূহকে (Malaik – Appointed forces/laws) আমাদের সামনাসামনি হাজির করো।
****অথবা তুমি আকাশকে আমাদের ওপর খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলো যেমনটি তুমি দাবি করেছ, অথবা খোদ আল্লাহ এবং তাঁর সেই কার্যকর শক্তিসমূহকে (Malaik – Powers and Forces) আমাদের সামনে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থিত করো।
**তারা হিদায়াতের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের চেয়ে তাৎক্ষণিক ধ্বংস বা ‘শাস্তির টুকরো’ দেখতে চাচ্ছিল।”
বিইত (Bayt): কেবল ঘর নয়, বরং একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা বা কাঠামো (System/Structure)। [৩]
জুখরুফ (Zukhrufin): চমৎকারভাবে সজ্জিত বা যা মানুষকে আকর্ষণ করে এমন সুপ্রতিষ্ঠিত কিছু। [৩]
সামা (Sama): আল্লাহর যিকর, কিতাব বা হিদায়াতের সেই উচ্চতর উৎস (High Source of Knowledge)। [৩২]
কিতাব (Kitaab): সেই লিখিত বা সংকলিত বিধান যা মানুষের জন্য গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে। 
৯৩. ““অথবা তোমার কাছে এমন কোনো চাকচিক্যময় ও সুসজ্জিত ব্যবস্থা (বাইতুন মিন জুখরুফ) থাকে, কিংবা তুমি শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চ শিখরে (সামা) আরোহণ করো; তবে তোমার সেই আরোহণকেও আমরা বিশ্বাস করব না “যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য এমন একটি সুসংহত জীবন বিধান (Kitab) সুপ্রতিষ্ঠিত (Tanazzal) করো যা আমরা আমাদের বুদ্ধি ও যুক্তি দিয়ে গভীরভাবে অনুধাবন ও বিশ্লেষণ (Naqrauhu) করতে পারি।” ঘোষণা করো, “পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি তো একজন শারীরিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষ (বাশার) রাসূল ছাড়া আর কিছু নই।” 
৯৪. আর মানুষের কাছে হিদায়াত আসার পর তাদের বিশ্বাস আনায় এ ছাড়া আর কিছুই বাধা দেয়নি যে তারা বলে, “আল্লাহ কি একজন বাশারকে (শারীরিক মানুষ) রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন?”
৯৫. বলো, ‘যদি পৃথিবীতে আল্লাহর সেই কার্যকর শক্তিসমূহ (Malaik) মানুষের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে (Mutmainneen) নিজেদের কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে সক্রিয় (Tamshuna) থাকত, তবে আমরা অবশ্যই আকাশ থেকে কোনো কার্যকর শক্তিকেই (Malaik) রাসূল হিসেবে প্রতিদানস্বরূপ (A’atadna) নিয়োগ করতাম।’ 
৯৬. ঘোষণা করো, “আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী (শহীদ) হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট; নিশ্চয়ই তিনি তাঁর অনুগত কর্মী বা বান্দাদের (ইবাদ) সম্পর্কে সম্যক অবগত ও দর্শক।”
৯৭. আল্লাহ যাকে হিদায়াত (Hidayah – সত্যের আলোয় আসা) দান করেন সেই সঠিক পথে থাকে; আর তিনি যাকে বিপথগামী করেন, তুমি তিনি ছাড়া তাদের জন্য কোনো ওয়ালি (Waliy – অভিভাবক) পাবে না। আমরা তাদের কিয়ামতের দিন (চূড়ান্ত প্রতিফলনের সময়) সমবেত করব এমন অবস্থায় যখন তারা সত্য হিদায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন ও বিভ্রান্ত (Umyun), সত্য গ্রহণে অনিচ্ছুক ও বধির (Sammu) এবং সত্য প্রকাশে অক্ষম (Bukum) থাকবে।
Umyun (অন্ধ): এটি কেবল চোখে না দেখা নয়, বরং আকল (Intellect) ও বিচারবুদ্ধি ব্যবহার না করার ফলে সত্য হিদায়াত থেকে নিজেকে ‘ক্যামোফ্লেজ’ বা আড়াল করে ফেলা। এটি এমন এক অবস্থা যেখানে মানুষ অন্ধ অনুকরণ (Blind following) করতে গিয়ে সত্য অনুধাবনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
Sammu (বধির): সত্যের বাণী বা হিদায়াত শোনার পর তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা না করা এবং জেনেশুনে তা উপেক্ষা করার মানসিকতা।
Bukum (বোবা): সত্য জানার পরেও তা প্রকাশ না করা অথবা হিদায়াতের পথে কোনো গঠনমূলক কথা বলতে না পারা. 
৯৮. এটিই তাদের ইকাব (Eqab – কর্মের ফল/প্রতিদান), কারণ তারা আমাদের আয়াতসমূহকে কুফর (Kufr – গোপন/অস্বীকার) করেছে এবং বলেছে, ‘আমরা যখন হাড় ও ধূলিকণায় পরিণত হব, তখনও কি আমরা নতুন সৃষ্টিরূপে উত্থিত হব?2) 
৯৯. তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ—যিনি এই ঐশী বিধান (Samawaat) এবং পার্থিব জীবনব্যবস্থা (Ard) অস্তিত্বে এনেছেন—তিনি তাদের মতো (নতুন কোনো ব্যবস্থা) সৃষ্টি করতেও সক্ষম?তিনি তাদের জন্য একটি আলাজ (Ajal – নির্দিষ্ট সময়/পরিণাম) নির্ধারণ করেছেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু জালিমরা কেবল কুফর ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করে না।
১০০. বলুন, “যদি তোমরা আমার রবের বিকাশ ও সমৃদ্ধি দানকারী উৎসসমূহের (খাযায়িন-ই-রহমত) কর্তৃত্ব বা পরিচালনার ভার পেতে, তবে তোমরা নিজেরা সীমাবদ্ধ বা সংকুচিত (Imsak) হয়ে পড়ার ভয়ে তা আটকে রাখতে বা বণ্টন করতে অস্বীকার করতে; আসলে মানুষ স্বভাবগতভাবেই হীনম্মন্যতা বা বিচ্যুতির (Qatura) শিকার।
১০১. আমরা মূসাকে (সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য) পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্ধারিত (Tisa’a) অকাট্য প্রমাণসমূহ (Bayyinaat) দান করেছিলাম; যখন তিনি তাদের কাছে এলেন, তখন ফিরআউন তাকে বলেছিল, ‘হে মূসা! আমি মনে করি তুমি ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত/বিভ্রান্ত (Mashoor)‘।’
তিসা’আ (Tisa’a – تِسْعَ): প্রথাগতভাবে একে ‘নয়’ সংখ্যা হিসেবে ধরা হলেও, আপনার কি-ওয়ার্ড ফাইলের দর্শন অনুযায়ী এটি পূর্ণাঙ্গ, সুনির্ধারিত এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য যা প্রয়োজন সেই সম্পূর্ণ সেটকে বোঝায়।
বায়্যিনাত (Bayyinaat – بَيِّنَات): এগুলো কেবল অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং অকাট্য প্রমাণ, স্পষ্ট সত্য এবং এমন যুক্তি যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য গড়ে দেয় (Distinct Proofs)।
আয়াত (Ayat – آيَات): এখানে আয়াত মানে কেবল অলৌকিক কাজ নয়, বরং আল্লাহর নিদর্শন, দিকনির্দেশনা বা প্রাকৃতিক ও ঐশী আইন যা মানুষকে সঠিক পথ দেখায়।
মাসহুর (Mashoor – مَسْحُورًا): ফিরআউন যখন মুসাকে ‘যাদুগ্রস্ত’ বলেছিল, তখন সে আসলে মুসার উপস্থাপিত যুক্তি ও অকাট্য প্রমাণগুলোকে সাধারণ মানুষের চোখে বিভ্রান্তিকর বা মায়া বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল
wrong
১. লাঠি (Staff): যা বড় সাপে পরিণত হতো (১.৩.৩, ১.৫.৬)।
২. উজ্জ্বল হাত (Radiant Hand): যা সূর্যের মতো চমকাতো (১.৩.৩, ১.৩.৯)।
৩. দুর্ভিক্ষ/অনাবৃষ্টি (Years of Famine/Drought): ফিরআউনের কওমের ওপর আসা পরীক্ষা (১.৩.৩, ১.৫.৭)।
৪. ফসলহানি (Shortage of Crops): খাদ্যের অভাব (১.৩.৬, ১.৫.৩)।
৫. প্লাবন (Flood): যা জনপদকে আক্রান্ত করেছিল (১.৩.৩, ১.৩.৬)।
৬. পঙ্গপাল (Locusts): যা সব ফসল খেয়ে সাবাড় করতো (১.৩.৩, ১.৩.৬)।
৭. উকুন (Lice): এক প্রকার মহামারি বা যন্ত্রণা (১.৩.৩, ১.৩.৬)।
৮. ব্যাঙ (Frogs): যা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল (১.৩.৩, ১.৩.৬)।
৯. রক্ত (Blood): পানি রক্তে পরিণত হওয়ার নিদর্শন (১.৩.৩, ১.৩.৬)।

১০২. মূসা বললেন, “তুমি ভালো করেই জানো যে, এই ঐশী বিধান (Samawaat) ও পার্থিব জীবনব্যবস্থার (Ard) রব ছাড়া আর কেউ এই চাক্ষুষ প্রমাণ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেননি(এই বাসায়েরা চক্ষু উন্মোচনকারী প্রমাণ))।” আর হে ফিরআউন! আমি মনে করি তুমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।’
১০৩. অতঃপর অতঃপর ফেরাউন তাদেরকে সেই পার্থিব জীবনব্যবস্থা (Ard) থেকে উৎখাত করতে চাইল (তাদের নিজেদের অন্যায়ের পরিণামে) আমি তাকে সম্পূর্ণভাবে পরাভূত এবং তাদের শক্তির উৎসসমূহকে অকার্যকর (Aghraqnahum) করে দিলাম।
***মুসা (আ.) যখন বলেন যে এই প্রমাণগুলো  এসেছে যিনি মহাবিশ্বের উচ্চতর জগত থেকে শুরু করে পৃথিবীর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়—সবকিছুরই বিধায়ক এবং নিয়ন্ত্রক। এটি ফিরআউনের পার্থিব ক্ষমতার বিপরীতে আল্লাহর বিশ্বজনীন ও মহাজাগতিক সার্বভৌমত্বের ঘোষণা।

১০৪. এরপর আমি বনি ইসরাঈলকে বললাম, ‘তোমরা এই বিচরণক্ষেত্রে (আরদ) সুপ্রতিষ্ঠিত হও/থিতু হও (اسكنوا)। অতঃপর যখন আখিরাত (চূড়ান্ত পরিণতি)-এর প্রতিশ্রুতি আসবে, তখন আমি তোমাদের সকলকে পরস্পরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়ানো অবস্থায় (Lafeefa) নিয়ে আসব’।
তিসা’আ (Tisa’a)লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্ধারিত ব্যবস্থা।
মাসহুর (Mashoor)সত্যের উজ্জ্বলতা হারিয়ে বিভ্রান্ত বা ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হওয়া।
সালাত (Salat)আল্লাহর সিস্টেমের সাথে সংযোগ এবং অর্পিত সামাজিক ও আদর্শিক দায়িত্ব
তিলাওয়াত (Tutla)যৌক্তিকভাবে অনুসরণ করা এবং ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা।
ইসকল (Iskun)কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থায় সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্থায়ী হওয়া।
লাফিফা (Lafeefa)নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা বা ওতপ্রোতভাবে মিশে থাকা অবস্থা।
ওয়ালাদ (Walad)স্থলাভিষিক্ত, অংশীদার বা উত্তরসূরি।
এওয়াজান (Ewajan)আদর্শিক বক্রতা, অসংগতি বা তথ্যের বিকৃতি।
লাফিফা (Lafeefa – لَفِيفًا): এর মূল অর্থ হলো কোনো কিছুকে স্তরে স্তরে জড়ানো বা পেঁচানো। কুরআনিক দর্শনে এটি এমন এক জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা বিভিন্ন গোত্র বা উৎস থেকে আসা সত্ত্বেও একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যে বা পরিণতির কারণে পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে
আখিরাত (Akhira): এটি সেই সময় যখন পূর্ববর্তী সকল প্রচেষ্টার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়।
১০৫. আমরা সত্যসহ কুরআন নাযিল করেছি এবং সত্যসহই তা অবতীর্ণ হয়েছে; আমরা তোমাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি।
আনঝালনা/নাঝালা (Nazal – نزل): এর মূল অর্থ হলো কোনো কিছুকে একটি অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানে নামিয়ে আনা বা স্থাপন করা। কুরআনিক দর্শনে এটি আল্লাহর উচ্চতর আইনকে (Samawat) মানুষের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে (Arz) বাস্তবায়নযোগ্য করার প্রক্রিয়া
১০৬. আর এই কুরআনকে আমরা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী (Farqn) হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে গভীর মনোনিবেশ ও বিরতি দিয়ে পাঠ করতে পারেন এবং আমি এটি পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি।
ফারাকনাহু (Faraqnahu – فَرَقْنَاهُ): এর মূল অর্থ হলো দুটি জিনিসের মধ্যে এমনভাবে বিভাজন তৈরি করা যাতে একটি থেকে অন্যটিকে আলাদা চেনা যায়। কুরআন এখানে একটি ‘ক্রাইটেরিয়া’ বা ‘পার্থক্যকারী’ (Criterion) হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, যা মানুষকে সঠিক ও ভুলের পথ আলাদা করে দেখিয়ে দেয়।
আলা মাকসিন (Ala Muksin – عَلَىٰ مُكْثٍ): এর অর্থ হলো মানুষের কাছে এটি এমনভাবে উপস্থাপন করা যাতে তারা এটি গভীরভাবে চিন্তা (Pondering) করার এবং নিজেদের জীবনে এর প্রয়োগ করার সুযোগ পায়।
১০৭: বলুন, “তোমরা এতে বিশ্বাস (ঈমান/আমানু) করো বা না করো; যাদের আগে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে (ইলম (জ্ঞান) দেওয়া হয়েছে, যখন তাদের সামনে এটি যৌক্তিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন (Tutla) করা হয়, তখন তারা সুজ্জাদা (আনুগত্যে নত হওয়া) করে।”
তিলাওয়াত (Tilawat – تِلَاوَت): এর মূল অর্থ হলো ‘অনুসরণ করা’। কুরআনিক পরিভাষায় এর অর্থ হলো আল্লাহর আয়াতগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যাতে একটির সাথে অন্যটির যোগসূত্র স্পষ্ট হয় এবং সেই নির্দেশাবলিকে বাস্তবে অনুসরণ (Follow) করা যায়।
সুজ্জাদা (Sujjada – سُجَّدًا): এটি কেবল কপালে মাটিতে ঠেকানো নয়, বরং সত্যকে জানার পর নিজের অহংকার বিসর্জন দিয়ে সেই আইন বা সিস্টেমের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা।
১০৮. ‘আমাদের রবের বিধানসমূহ সুসংগত ও সচল (সুবহান); আমাদের রবের নির্ধারিত ফলাফল (ওয়াদ) অবশ্যই বাস্তবে কার্যকর হবে”।”
ওয়াদ (وَعْدُ): কর্মফলের অমোঘ হিসাব বা প্রতিশ্রুতি।
১০৯. তারা বিনীতভাবে আল্লাহর বিধানের সামনে নতি স্বীকার (নিজেদের আমিত্বকে বিলীন) করে এবং এটি তাদের অন্তরের গভীর একাগ্রতা ও ভারসাম্য (খুশু) বৃদ্ধি করে।”
১১০:  বলুন, “তোমরা আল্লাহ নামে (আইনের উৎস হিসেবে) তাঁকে অনুসরণ করো অথবা রহমান নামে (যিনি বিনাশর্তে জীবনোপকরণ দানকারী); যেভাবেই তোমরা তাঁর প্রতিনিধিত্ব করো না কেন—সকল ভারসাম্যপূর্ণ শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য (হুসনা) তাঁরই; আর আপনার সংযোগ বা দায়িত্ব পালনে (সালাত) খুব উচ্চকণ্ঠ বা খুব নিচু হবেন না, বরং মধ্যপন্থা অবলম্বন করুন”।” আপনার সালাত (অর্পিত দায়িত্ব ও ঐশী সংযোগ) জাঁকজমকপূর্ণ বা প্রচারসর্বস্ব (Tajhar) করো না, আবার একে একেবারে অবহেলা বা সংকুচিত (Tukhafit) করো না; বরং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী একটি সুষম পথ অবলম্বন করো।

*১. ইসম (بِاسْمِ/اسْمُ): অর্থ হলো— কোনো কিছুর পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, গুণাবলী বা চিহ্ন (Attributes/Signs)। এটি কেবল ডাকনাম নয়, বরং একটি সত্তার গুণগত মানদণ্ড।
২. বাস্তব প্রয়োগ: যখন বলা হয় ‘আল্লাহর নামে’, এর অর্থ হলো— আল্লাহর যে আইন বা গুণাবলী (Attributes) রয়েছে, তার ভিত্তিতে কোনো কাজ করা বা জীবন পরিচালনা করা।রহমান (الرَّحْمَنِ): বিনাশর্তে সকল সৃষ্টির অস্তিত্ব ও বিকাশের উপায় সরবরাহকারী।
সুবহান (سُبْحَانَ): আল্লাহর বিধানের নিখুঁত ও বিরামহীন সক্রিয়তা।
ওয়াদ (وَعْدُ): কর্মফলের অমোঘ হিসাব বা নির্ধারিত ফলাফল।
হুসনা (الْحُسْنَىٰ): যা সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও কল্যাণকর।
১. সালাত (صَلَاتِكَ): আপনার ফাইলে সালাতকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে আল্লাহর বিধানের সাথে সংযোগ রক্ষা এবং অর্পিত দায়িত্ব পালন হিসেবে। এটি কেবল একটি উপাসনা বা নামাজ নয়।
২. জাহর (تَجْهَرْ): এর অর্থ এখানে কোনো বিষয়কে চরমভাবে প্রকাশ করা বা উগ্র বা প্রকটভাবে উপস্থাপন করা।
৩. তুখাফিত (تُخَافِتْ): এর অর্থ হলো দায়িত্ব পালনে ঢিলেমি করা, সংকুচিত হওয়া বা কাজকে গোপন করে রাখা।
৪. সুবুল (سَبِيلًا): আল্লাহ বলছেন এই দুই চরমপন্থার মাঝে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ বা পদ্ধতি (Way/Method) খুঁজে নিতে।
১১১. এবং বলুন, “যাবতীয় সার্বভৌম ক্ষমতা ও প্রশংসনীয় গুণাবলী (হামদ) আল্লাহর আইনের অধীনে নিবেদিত (লিল্লাহ)—যিনি (তাঁর সার্বভৌমত্বে) কোনো উত্তরসূরি বা উত্তরাধিকারী (ওলদ) গ্রহণ করেননি, যাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো শরিক (অংশীদার) নেই এবং যিনি কোনো অক্ষমতার কারণে সাহায্যপ্রার্থী (ওয়ালি) নন; সুতরাং আল্লাহর দেওয়া বিধানকেই শ্রেষ্ঠ হিসেবে (তাকবীর) ?
করুন”।”
ওয়ালাদ (Walad): প্রথাগতভাবে ‘সন্তান’ বা ‘বংশধর’ বলা হলেও, এখানে এটি এমন কাউকে বোঝায় যাকে আল্লাহর সমতুল্য ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বা তাঁর স্থলাভিষিক্ত বলে দাবি করা হয়। আল্লাহ তাঁর একক সিদ্ধান্তে এবং সার্বভৌমত্বে কারো মুখাপেক্ষী নন।[*1] 
১. হামদ (الْحَمْدُ): আপনার ফাইলে বলা হয়েছে, ‘হামদ’ কেবল মুখে প্রশংসা করা নয়। এটি আল্লাহর সেই পরম আইন ও বিচারিক ক্ষমতার (Judicial principles) স্বীকৃতি, যা নিখুঁত ও ভারসাম্যপূর্ণ।
২. লিল্লাহ (لِلَّهِ): এর অর্থ হলো এই ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব একচেটিয়াভাবে (Exclusively) আল্লাহর জন্য সংরক্ষিত। অন্য কেউ এই ঐশ্বরিক আইনের ওপর খবরদারি করতে পারে না।
৩. প্রাসঙ্গিকতা: যখন আমরা বলি ‘আল-হামদুলিল্লাহ’, তখন আমরা আসলে স্বীকার করছি যে— মহাবিশ্বের যাবতীয় মঙ্গল, বিচার এবং শাসনের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর আইন
১. লিল্লাহ (لِلَّهِ): আপনার ফাইলে বলা হয়েছে, ‘L-L-H’ বা ‘Allah’ বলতে সেই পরম আইনদাতা ও সার্বভৌম সত্তাকে বোঝায় যার আইন মহাবিশ্বের সর্বত্র সক্রিয়। তাই ‘লিল্লাহ’ মানে কেবল ‘আল্লাহর জন্য’ নয়, বরং আল্লাহর সেই নিখুঁত ব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া বা সেই আইনের অধীনে থাকা
২. প্রাসঙ্গিকতা: যখন আমরা বলি হামদ বা কর্তৃত্ব ‘লিল্লাহ’, এর অর্থ হলো— সকল ক্ষমতা ও প্রশংসনীয় গুণাবলী সেই ঐশ্বরিক বিধানের সাথে যুক্ত যা পরিবর্তনহীন এবং সবার জন্য সমান। এটি কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা নয়, বরং একটি সর্বজনীন আইনি ব্যবস্থা
৩. ১১১ নম্বর আয়াতের প্রেক্ষাপট: এখানে সার্বভৌমত্বে শরিক না থাকার অর্থ হলো— আল্লাহর আইনের ওপর অন্য কোনো মানুষের তৈরি আইনের খবরদারি চলে না। এই আইনসমূহ সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ব্যবস্থার অধীন
তাকরাআহু (لِتَقْرَأَهُ): আইন সংকলন ও তার বাস্তব প্রয়োগ।
সুবহান (سُبْحَانَ): ঐশ্বরিক ব্যবস্থার নিখুঁত গতিশীলতা।
সুজ্জাদা (سُجَّدًا): আল্লাহর আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়া।
ওলদ (وَلَدًا): উত্তরাধিকারী বা স্থলাভিষিক্ত।
তাকবীর (تَكْبِيرًا): আল্লাহর আইনকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠিত করা।


Man is not, by nature, evil and can overpower evil if he leads his life according to Allah’s directives. 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *