SURAH 21 : Al-Anbiyâ

আয়াত ১

اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ مُّعْرِضُونَ
“মানবসমাজের জন্য তাদের কৃতকর্মের অবধারিত হিসাব-নিকাশ বা ফলাফল প্রকাশের সময় অত্যন্ত নিকটবর্তী হয়ে গেছে (Iqtaraba linnāsi hisābuhum), অথচ তারা এক চরম উদাসীনতার মধ্যে লিপ্ত হয়ে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখছে।”


আয়াত ২

مَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّن رَّبِّهِم مُّحْدَثٍ إِلَّا اسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ
“তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যখনই কোনো নতুন চেতনা-উদ্বোধক বিধি-বিধান বা পরম স্মরণিকা তাদের নিকট আসে (Min zikrim min Rabbihim), তখন তারা তা কেবল উপহাস, খামখেয়ালি ও ক্রীড়া-কৌতুকের ছলে শ্রবণ করে।”


আয়াত ৩

لَاهِيَةً قُلُوبُهُمْ ۗ وَأَسَرُّوا النَّجْوَى الَّذِينَ ظَلَمُوا هَلْ هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ۖ أَفَتَأْتُونَ السِّحْرَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ
“তাদের সচেতন মন বা বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র সম্পূর্ণ দিশেহীন ও বিভ্রান্ত (Lāhiyatan qulūbuhum); আর এই ভারসাম্যহীন অন্যায়কারীরা গোপনে কুতর্কের পরামর্শ করে বলে: এই ব্যক্তি তো তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ বৈ কিছু নয়; তবে কি তোমরা চাক্ষুষ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও এই জাদুকরী বিভ্রান্তি বা মনস্তাত্ত্বিক কূটকৌশলকে গ্রহণ করবে?”


আয়াত ৪

قَالَ رَبِّي يَعْلَمُ الْقَوْلَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“বাণীবাহক বলেছিল: উচ্চ সুরক্ষার স্তরে এবং এই বাস্তব পৃথিবীতে যা কিছু বলা বা প্রকাশ করা হয়, তার সমস্ত কিছুই আমার প্রতিপালক নিখুঁতভাবে জানেন; আর তিনি সবকিছু শোনেন ও সর্বজ্ঞ।”


আয়াত ৫

بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ
“বরং তারা (সত্যকে নস্যাৎ করতে) বলে: এগুলো তো কেবলই এলোমেলো কাল্পনিক স্বপ্নের সমষ্টি, কেউ বলে সে এটি নিজে বানিয়ে মিথ্যা আরোপ করেছে, আবার কেউ বলে সে তো একজন উগ্র আবেগ বা ভাবোচ্ছ্বাস ছড়ানো কবি (Bal huwā shā'irun); (যদি সে সত্যবাদী হয়) তবে সে আমাদের কাছে কোনো অলৌকিক চাক্ষুষ নিদর্শন বা প্রমাণ নিয়ে আসুক, যেমন পূর্ববর্তী বাণীবাহকদের পাঠানো হয়েছিল।”


আয়াত ৬

مَا آمَنَتْ قَبْلَهُم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا ۖ أَفَهُمْ يُؤْمِنُونَ
“তাদের পূর্বেও আমি যে সমস্ত জনপদ বা সামাজিক জনসমষ্টিকে (তাদের অন্যায়ের ফলে) ধ্বংস করেছি, তারা কেউই অকাট্য প্রমাণ আসার পর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেনি; তবে কি এরা দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করবে?”


আয়াত ৭

وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ إِلَّا رِجَالًا نُّوحِي إِلَيْهِمْ ۖ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
“আর তোমার পূর্বেও আমি সুনির্দিষ্ট বার্তাবাহক হিসেবে কেবল এমন ব্যক্তিত্বদেরই প্রেরণ করেছি যাদের দিকে আমি আমার সুক্ষ্ম নির্দেশ বা আইনি ডিক্রি জারি করতাম (Nūhī ilayhim); সুতরাং তোমরা যদি নিজেরা সঠিক জ্ঞান না রাখো, তবে যারা কিতাবের জ্ঞান ও পরম স্মরণিকা ধারণ করে তাদের জিজ্ঞাসা করো (Fas'alū ahla-z-Zikri)।”


আয়াত ৮

وَمَا جَعَلْنَاهُمْ جَسَدًا لَّا يَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَمَا كَانُوا خَالِدِينَ
“আর আমি তাদের এমন কোনো নিস্প্রাণ কায়া বা জড়দেহ হিসেবে তৈরি করিনি যারা এই পৃথিবীর বুকে জীবন ধারণের উপাদান বা খাদ্য গ্রহণ করত না, আর তারা কেউ এই বৈষয়িক জীবনে চিরকাল স্থায়ীও ছিল না।”


আয়াত ৯

ثُمَّ صَدَقْنَاهُمُ الْوَعْدَ فَأَنجَيْنَاهُمْ وَمَن نَّشَاءُ وَأَهْلَكْنَا الْمُسْرِفِينَ
“অতঃপর আমি তাদের সাথে করা আমার বৈপ্লবিক প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ সত্যে পরিণত করলাম, ফলে আমি তাদেরকে এবং আমি যাদের ইচ্ছা করলাম তাদের উদ্ধার বা সুরক্ষা দান করলাম, আর সেই শক্তির অপচয়কারী সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করলাম (Wa ahlaknal-musrifīn)।”


আয়াত ১০

لَقَدْ أَنزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ ۖ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট অবতীর্ণ করেছি এমন এক বিধিবদ্ধ কিতাব বা শাসনতান্ত্রিক রূপরেখা—যার মধ্যে নিহিত রয়েছে তোমাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্বের বিকাশ, আত্মমর্যাদা ও পরম স্মরণিকা (Fīhi zikrukum); তবে কি তোমরা বিন্দুমাত্র যৌক্তিক কার্যকারণ বিশ্লেষণ বা বুদ্ধিবৃত্তি প্রয়োগ করবে না?”


আয়াত ১১

وَكَمْ قَصَمْنَا مَن قَرْيَةٍ كَانَتْ ظَالِمَةً وَأَنشَأْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا آخَرِينَ
“আর কত যে জনপদকে আমি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ধ্বংস করেছি এই কারণে যে তারা নিজেরা চরম ভারসাম্যহীনতা ও অন্যায়ে লিপ্ত ছিল (Kānat zālimatan), এবং তাদের পর আমি এক নতুন সমাজ বা জাতির উন্মেষ ঘটিয়েছি।”


আয়াত ১২

فَلَمَّا أَحَسُّوا بَأْسَنَا إِذَا هُم مِّنْهَا يَرْكُضُونَ
“অতঃপর যখনই তারা আমার অবধারিত প্রাকৃতিক নিয়মের তীব্র আঘাত বা শাস্তির আগমন টের পেল, অমনি তারা সেই জনপদ থেকে তীব্র ভয়ে পলায়ন করতে উদ্যত হলো।”


আয়াত ১৩

لَا تَرْكُضُوا وَارْجِعُوا إِلَىٰ مَا أُتْرِفْتُمْ فِيهِ وَمَسَاكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُونَ
“ঘোষণা হলো: তোমরা বিন্দুমাত্র পলায়ন কোরো না! বরং তোমরা ফিরে যাও তোমাদের সেই বিলাসিতা, অহংকার ও বৈষয়িক উপকরণের দিকে যা তোমাদের মদমত্ত করেছিল এবং ফিরে যাও তোমাদের সেই নিরাপদ আবাসস্থলে; যেন তোমাদের (তোমাদের কৃতকর্মের বিষয়ে) জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়।”


আয়াত ১৪

قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ
“তারা (চরম হতাশায়) চিৎকার করে উঠেছিল: হায় আমাদের দুর্ভোগ! নিশ্চয়ই আমরা নিজেরা চরম অন্যায়কারী ও ভারসাম্যহীন ছিলাম!”


আয়াত ১৫

فَمَا زَالَت تِّلْكَ دَعْوَاهُمْ حَتَّىٰ جَعَلْنَاهُمْ حَصِيدًا خَامِدًا
“অতঃপর তাদের সেই আর্তনাদ ও বিলাপ অবিরত চলতেই থাকল—যতক্ষণ না আমি তাদের সম্পূর্ণরূপে কেটে ফেলা শুষ্ক ফসলের মতো নিস্প্রাণ ও নিষ্ক্রিয় স্তূপে পরিণত করে ছেড়ে দিলাম।”


আয়াত ১৬

وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ
“আর উচ্চ সুরক্ষামূলক স্তরসমূহকে এবং এই বাস্তব পৃথিবীকে এবং এই দুইয়ের অন্তর্বর্তী কোনো কিছুকেই আমি বিন্দুমাত্র কোনো উদ্দেশ্যহীন খেলা বা খামখেয়ালির ছলে সৃষ্টি করিনি।”


আয়াত ১৭

لَوْ أَرَدْنَا أَن نَّتَّخِذَ لَهْوًا لَّاتَّخَذْنَاهُ مِن لَّدُنَّا إِن كُنَّا فَاعِلِينَ
“যদি আমি কোনো অসার খামখেয়ালি বা চিত্তবিনোদন গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে তা আমার বিশেষ মহাজাগতিক স্তর থেকেই করতে পারতাম—যদি আমি তা করার হতাম (কিন্তু মহাবিশ্ব কঠোর কার্যকারণ নিয়মে আবদ্ধ)।”


আয়াত ১৮

بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ ۚ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ
“বরং আমি পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্যকে তীব্রভাবে নিক্ষেপ করি অসাড় মিথ্যার ওপর (Naqzifu bil-Haqqi 'alal-bātili), অতঃপর সত্য সেটির মস্তিস্ক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই মিথ্যা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত ও পরাভূত হয়ে যায়; আর তোমরা আল্লাহর প্রতি যে সমস্ত মনগড়া অলৌকিক বা ভ্রান্ত বৈশিষ্ট্য আরোপ করছ, তার কারণে তোমাদের জন্য অবধারিত রয়েছে চূড়ান্ত ধ্বংস।”


আয়াত ১৯

وَلَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ وَمَنْ عِندَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ
“উচ্চ সুরক্ষার স্তরে এবং এই বাস্তব পৃথিবীতে যারা বা যা কিছু রয়েছে, তার সমস্ত কিছুর মালিকানা ও চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কেবল তাঁরই; আর যারা তাঁর বিধিবদ্ধ নিয়মের নিবিড় সান্নিধ্যে বা সংযোগে রয়েছে, তারা কখনই তাঁর দাসত্ব ও অনুশাসন কার্যকর করতে বিন্দুমাত্র অহংকার প্রদর্শন করে না এবং কখনো ক্লান্ত বা অবসন্ন হয় না।”


আয়াত ২০

يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ
“তারা জীবনের প্রতিটি অন্ধকার প্রহরে এবং কর্মব্যস্ত আলোকময় স্তরেও আল্লাহর দেওয়া নিয়মের অমোঘ শ্রেষ্ঠত্ব ফুটিয়ে তুলতে অবিরত সচল থাকে (Yusabbihūnal-layla wan-nahāra), তারা বিন্দুমাত্র শিথিলতা প্রদর্শন করে না।”


আয়াত ২১

أَمِ اتَّخَذُوا آلِهَةً مِّنbox الْأَرْضِ هُمْ يُنشِرُونَ
“তবে কি এরা এই বাস্তব পৃথিবী থেকে এমন কিছু মনগড়া উপাস্য বা অন্ধ আদর্শকে নিজেদের কর্তৃত্বের উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা কোনো মৃত চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে?”


আয়াত ২২

لَوْ كَانَ فِيهَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ
“যদি এই উচ্চ সুরক্ষার স্তরে এবং পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো মনগড়া ইলাহ বা বহুবিধ শাসন-কর্তৃত্বের অস্তিত্ব থাকত, তবে এই গোটা মহাবিশ্ব ও সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিতভাবেই ধ্বংস ও বিশৃঙ্খল হয়ে যেত (Lafasadatā); সুতরাং আরশের লালনকর্তা ও চূড়ান্ত অধিপতি আল্লাহ পরম পবিত্র ও সুউচ্চ—তারা তাঁর প্রতি যে সমস্ত মনগড়া প্রথা বা বৈশিষ্ট্য আরোপ করে তা থেকে।”


আয়াত ২৩

لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ
“তিনি তাঁর প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়মে যা কিছু সম্পাদন করেন, সেটির জন্য তাঁকে কোনো মনগড়া প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় না; বরং মানুষের তৈরি করা সমস্ত ব্যবস্থাকেই অবধারিতভাবে জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।”


আয়াত ২৪

أَمِ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ آلِهَةً ۖ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ ۖ هَٰذَا ذِكْرُ مَن مَّعِيَ وَذِكْرُ مَن قَبْلِي ۗ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ ۖ فَهُم مُّعْرِضُونَ
“তবে কি তারা আল্লাহকে বর্জন করে অন্য কিছু মনগড়া আদর্শকে নিজেদের উপাস্য বা আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করেছে? তুমি বলো: তোমরা তোমাদের অকাট্য যৌক্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করো (Hātū burhānakum); এই হলো আমার সাথে যারা রয়েছে তাদের জন্য পরম জীবনবিধান বা কিতাব এবং আমার পূর্ববর্তীদেরও মূল ঐশী রূপরেখা; কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই অকাট্য বাস্তব সত্য সম্পর্কে কোনো সঠিক জ্ঞান রাখে না, ফলে তারা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখছে।”


আয়াত ২৫

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ
“আর তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো বাণীবাহক প্রেরণ করিনি, যার দিকে আমি এই মর্মে সুনির্দিষ্ট বার্তা ও আইনি ডিক্রি জারি করিনি যে—নিশ্চয়ই আমি ব্যতীত অন্য কোনো মনগড়া উপাস্য বা আইনের বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা নেই, সুতরাং তোমরা কেবল আমারই দাসত্ব ও অনুশাসনকে সমাজে কার্যকর করো (Fa'budūn)।”


আয়াত ২৬

وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَٰنُ وَلَدًا ۗ سُبْحَانَهُ ۚ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ
“অথচ তারা দাবি করে বসেছে: পরম দয়াময় আল্লাহ নাকি নিজের জন্য কোনো আক্ষরিক সন্তান বা উপজাত সৃষ্টি করেছেন! তিনি সর্বপ্রকার মানবিক সীমাবদ্ধতা থেকে পরম পবিত্র ও সুউচ্চ; বরং (বাণীবাহক বা ঐশী চালিকাশক্তিসমূহ হলেন) তাঁরই অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ অনুগত দাস।”


আয়াত ২৭

لَا يَسْبَقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ
“তারা আল্লাহর বিধিবদ্ধ বাণী বা সিদ্ধান্তের আগে বেড়ে নিজেদের কোনো মনগড়া কথা বলে না, এবং তারা কেবল তাঁরই সুনির্দিষ্ট আইনি নির্দেশ বা ডিক্রি অনুযায়ী সমস্ত কর্ম সম্পাদন করে।”


আয়াত ২৮

يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِم| وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَىٰ وَهُم مِّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ
“তাদের সম্মুখে যা কিছু বর্তমান রয়েছে এবং তাদের অগোচরে পেছনে যা কিছু অনাগত বা অতীত হয়ে গেছে, তার সমস্ত কিছুই তিনি নিখুঁতভাবে জানেন; আর তারা কারও পক্ষে কোনো কোয়ালিশন, সুপারিশ বা আইনি সহায়তা খাড়া করতে পারে না, তবে সে ব্যতীত—যাকে আল্লাহ সন্তুষ্টির সাথে গ্রহণ করেছেন; আর তারা নিজেরা আল্লাহর জ্যান্ত আইনের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা ও সতর্কতার কারণে সর্বদা সজাগ ও চিন্তিত থাকে।”


আয়াত ২৯

وَمَن يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَٰهٌ مِّن دُونِهِ فَذَٰلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ
“আর তাদের মধ্যে যদি কেউ এই দাবি করে বসে যে—নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর পাশাপাশি স্বয়ং এক স্বাধীন ইলাহ বা আইনের উৎস, তবে সেটির অবধারিত কুফল হিসেবে আমি তাকে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দহন ও সামাজিক নরকের অবধারিত প্রতিদান দেব; আর এভাবেই আমি সেই ভারসাম্যহীন অন্যায়কারীদের শাস্তি দিয়ে থাকি।”


আয়াত ৩০

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
“তবে কি এই সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা বিন্দুমাত্র চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখে না যে—উচ্চ সুরক্ষার স্তরসমূহ এবং এই বাস্তব পৃথিবী উভয়ই একসময় একে অপরের সাথে সম্পূর্ণ নিবিড়ভাবে জুড়ে থাকা বা একটি জমাটবদ্ধ একক কায়া ছিল, অতঃপর আমি (আমার মহাজাগতিক ও প্রাকৃতিক নিয়মে) সেগুলোকে বিদীর্ণ বা আলাদা করে বিকসিত করেছি, এবং প্রবহমান জীবন-উপকরণ বা কিতাবের ঐশী জ্ঞানের পানি দ্বারা আমি প্রতিটি সচেতন ও জীবন্ত সত্তাকে সচল রেখেছি? তবে কি তারা বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করবে না?”


আয়াত ৩১

وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَّعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ
“এবং আমি এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে বা সমাজ কাঠামোতে সুদৃঢ় অটল পর্বতসদৃশ আইনি স্তম্ভসমূহ স্থাপন করেছি (Waja'alnā fil-ardi rawāsiya), যাতে তা সমাজকে নিয়ে বিন্দুমাত্র হেলে না পড়ে বা বিশৃঙ্খল আলোড়নে মেতে না ওঠে, এবং আমি তার মধ্যে তৈরি করেছি প্রশস্ত সুগম ও উন্মুক্ত পথসমূহ—যাতে তারা জীবনের সঠিক গন্তব্য বা হিদায়াত লাভ করতে পারে।”


আয়াত ৩২

وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَّحْفُوظًا ۖ وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ
“এবং আমি উচ্চ জ্ঞান ও আদর্শিক স্তরকে এক অত্যন্ত সুরক্ষিত ছাদ বা সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্থাপন করেছি (Waja'alnas-samā'a saqfam mahfūzā); অথচ তারা সেটির মধ্যকার সুস্পষ্ট নিদর্শন ও অকাট্য বিধি-বিধান থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে রাখছে।”


আয়াত ৩৩

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ
“আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন অজ্ঞতার অন্ধকার পর্যায় ও কিতাবের আলোকময় দিন, এবং সূর্য ও চাঁদের মতো বড় বড় আদর্শিক ও প্রাকৃতিক চালিকাশক্তিসমূহ; যার প্রতিটিই নিজ নিজ সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে পরম ধারাবাহিকতায় সচল ও প্রবহমান রয়েছে (Kullun fī falakin yasbahūn)।”


আয়াত ৩৪

وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّن قَبْلِكَ الْخُلْدَ ۖ أَفَإِن مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ
“আর তোমার পূর্বেও আমি কোনো মানুষের তৈরি করা মতাদর্শ বা কোনো সাধারণ মানুষের জন্য এই বৈষয়িক জীবনে চিরস্থায়ীত্ব বা অমরত্ব নির্ধারণ করিনি; সুতরাং তোমার স্বাভাবিক কর্মকালের সমাপ্তি ঘটলে কি এরা নিজেরা চিরকাল স্থায়ী থাকবে?”


আয়াত ৩৫

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً ۖ وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
“প্রতিটি চেতনাসম্পন্ন সত্তা বা সমাজকেই (তার বিবর্তন প্রক্রিয়ায়) জড়তা বা নিষ্ক্রিয়তার অবধারিত ফল নিজের অস্তিত্বে তীব্রভাবে টের পেতে হবে; আর আমি তোমাদেরকে তীব্র প্রতিকূলতা ও অনুকূল কল্যাণের মুখোমুখি করে এক পরম মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা ও যাচাইকরণের আওতায় রাখি; আর আমারই বিধিবদ্ধ নিয়মের দিকে তোমাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে।”


আয়াত ৩৬

وَإِذَا رَآكَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَٰذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ وَهُمْ بِذِكْرِ الرَّحْمَٰنِ هُمْ كَافِرُونَ
“আর যখনই এই সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা তোমাকে প্রত্যক্ষ করে, তখন তারা তোমাকে কেবল উপহাস ও বিদ্রূপের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করে এবং বলে: এই ব্যক্তিই কি সেই, যে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত মনগড়া উপাস্য ও অন্ধ আদর্শগুলোর স্বরূপ উন্মোচন বা সমালোচনা করে? অথচ তারা নিজেরা যখন পরম দয়াময় আল্লাহর আসল কিতাব ও পরম স্মরণিকার মুখোমুখি হয়, তখন তা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে।”


আয়াত ৩৭

خُلِقَ الْإِنسَانُ مِنْ عَجَلٍ ۚ سَأُرِيكُمْ آيَاتِي فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ
“মানুষের আদি প্রকৃতি বা মানসিকতা যেন অত্যন্ত তাড়াহুড়ো, অধৈর্য ও সাময়িক স্বার্থচিন্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে; খুব শীঘ্রই আমি তোমাদের সামনে আমার অমোঘ নিদর্শন ও কর্মের অবধারিত কুফল চাক্ষুষ করিয়ে দেব, সুতরাং তোমরা আমার প্রাকৃতিক নিয়মকে তরান্বিত করার জন্য বিন্দুমাত্র তাড়াহুড়ো কোরো না।”


আয়াত ৩৮

وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
“এবং তারা (উপহাসের ছলে) বলে: তোমরা যদি কিতাবের দাবিতে সত্যিই পরম সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে এই অবধারিত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বা ধ্বংসাত্মক পরিণতি কখন বাস্তবায়িত হবে?”


আয়াত ৩৯

لَوْ يَعْلَمُ الَّذِينَ كَفَرُوا حِينَ لَا يَكُفُّونَ عَن وُجُوهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَن ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ
“হায়! যদি এই সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা সেই সুনির্দিষ্ট সময়ের ভয়ঙ্কর স্বরূপ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সঠিক জ্ঞান রাখত—যখন তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের সম্মুখ অবয়ব বা নেতৃত্ব থেকে এবং তাদের পেছন বা অনুগামীদের থেকে সেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দহন ও সামাজিক ধ্বংসের আগুনকে রুখতে পারবে না, এবং তাদের কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য বা উদ্ধার করা হবে না!”


আয়াত ৪০

بَلْ تَأْتِيهِم بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ
“বরং সেই মহাসংকট বা বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মুহূর্ত তাদের ওপর সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে আপতিত হবে, ফলে তা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে স্তম্ভিত ও অসাড় করে দেবে, তখন তারা কোনো অবস্থাতেই সেটিকে প্রতিহত করার সামর্থ্য রাখবে না এবং তাদের বিন্দুমাত্র কোনো অবকাশ দেওয়া হবে না।”


আয়াত ৪১

وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
“আর নিশ্চয়ই তোমার পূর্ববর্তী বাণীবাহকদের সাথেও একইভাবে উপহাস ও বিদ্রূপ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা যে অবধারিত পরিণতি নিয়ে উপহাস করত, সেই উপহাসের কুফল স্বয়ং সেই বিদ্রূপকারীদের ওপরই আষ্টেপৃষ্ঠে আপতিত হলো।”


আয়াত ৪২

قُلْ مَن يَكْلَأُكُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مِنَ الرَّحْمَٰنِ ۗ بَلْ هُمْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِم مُّعْرِضُونَ
“তুমি বলো: জীবনের প্রতিটি অন্ধকার প্রহরে এবং আলোকময় স্তরে পরম দয়াময় আল্লাহর অমোঘ প্রাকৃতিক আইন অমান্যের বিপর্যয় থেকে তোমাদের রক্ষা বা পাহারা দেবে কে? বরং বাস্তব সত্য হলো—তারা তাদের প্রতিপালকের আসল কিতাব ও পরম স্মরণিকা থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে রাখছে।”


আয়াত ৪৩

أَمْ لَهُمْ آلِهَةٌ تَمْنَعُهُم مِّن دُونِنَا ۚ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنفُسِهِمْ وَلَا هُم مِّنَّا يُصْحَبُونَ
“তবে কি তাদের এমন কিছু মনগড়া উপাস্য বা অন্ধ আদর্শ রয়েছে, যা আমার প্রাকৃতিক নিয়মের বিপর্যয় থেকে তাদের রক্ষা করতে পারে? তারা তো নিজেদের অস্তিত্বকেই বিন্দুমাত্র সাহায্য করার সামর্থ্য রাখে না, আর আমার বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার বিপরীতে তাদের কোনো প্রকার সহচার্য বা আশ্রয় দেওয়া হবে না।”


আয়াত ৪৪

بَلْ مَتَّعْنَا هَٰذُلَاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّىٰ طَالَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ ۗ أَفَلَا يَرَوْنَ أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا ۚ أَفَهُمُ الْغَالِبُونَ
“বরং আমি এদের এবং এদের পূর্বপুরুষদের বৈষয়িক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সাময়িক উপকরণ দিয়েছিলাম, যার ফলে তাদের কায়েমি যুগের সময়কাল অনেক সুদীর্ঘ মনে হয়েছিল; তবে কি তারা বিন্দুমাত্র চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে প্রত্যক্ষ করে না যে—আমি (আমার বৈপ্লবিক নিয়মে) এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে বা কায়েমি সমাজ-ক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এবং সেটির প্রতিটি প্রান্ত বা চারপাশ থেকে তাদের ক্ষমতা ও প্রভাবকে ক্রমান্বয়ে সংকুচিত ও খর্ব করছি (Nanqusuhā min atrāfihā)? তবে কি এরা নিজেরা বিজয়ী বা প্রাধান্য বিস্তারকারী থাকবে?”


আয়াত ৪৫

قُلْ إِنَّمَا أُنذِرُكُم بِالْوَحْيِ ۚ وَلَا يَسْمَعُ الصُّمُّ الدُّعَاءَ إِذَا مَا يُنذَرُونَ
“তুমি সুস্পষ্ঠ ঘোষণা করে দাও: আমি তো তোমাদের কেবল আল্লাহর এই জ্যান্ত ঐশী বাণী, কিতাবের প্রজ্ঞা ও নির্দেশনার মাধ্যমেই আসন্ন ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করছি (Innamā unzirukum bil-Wahyi); কিন্তু যারা সত্য শ্রবণে বধির ও গোঁড়ামিতে অন্ধ, তাদের যখনই সতর্ক করা হয়, তখন তারা পরম সত্যের সেই আহ্বান বিন্দুমাত্র নিবিড়ভাবে গ্রহণ করে না।”


আয়াত ৪৬

وَلَئِن مَّسَّتْهُمْ نَفْحَةٌ مِّنْ عَذَابِ رَبِّكَ لَيَقُولُنَّ يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ
“আর যদি তোমার প্রতিপালকের সেই অবধারিত ধ্বংসাত্মক পরিণতির সামান্যতম বাতাস বা ঝাপটাও তাদের স্পর্শ করে, তবে তারা নিশ্চিতভাবেই চিৎকার করে উঠবে: হায় আমাদের দুর্ভোগ! নিশ্চয়ই আমরা নিজেরা চরম অন্যায়কারী ও ভারসাম্যহীন ছিলাম!”


আয়াত ৪৭

وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ۖ وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا ۗ وَكَفَىٰ بِنَا حَاسِبِينَ
“আর আমি সেই চূড়ান্ত বৈপ্লবিক উত্থান ও ফলাফল প্রকাশের দিনে ইনসাফ ও পরম সাম্যের নিখুঁত মানদণ্ডসমূহ স্থাপন করব (Wanada'ul-mawāzīnal-qista), ফলে কোনো চেতনাসম্পন্ন সত্তার অধিকার বিন্দুমাত্র খর্ব বা জুলুম করা হবে না; আর যদি কোনো কর্ম অতি ক্ষুদ্র সরিষার দানা সমপরিমাণও হয়ে থাকে, তবে আমি সেটিকেও ফলাফলের সামনে হাজির করব; আর নিখুঁত হিসাব-নিকাশ বা অবধারিত কর্মফল নিশ্চিতকারী হিসেবে আমি একাই সম্পূর্ণ যথেষ্ট।”


আয়াত ৪৮

لَقَدْ آتَيْنَا مُوسَىٰ وَهَارُونَ الْفُرْقَانَ وَضِيَاءً وَذِكْرًا لِّلْمُتَّقِينَ
“নিশ্চয়ই আমি মূসা এবং হারূণকে দান করেছিলাম সত্য ও মিথ্যার পরম পার্থক্যকারী আইনি রূপরেখা (Al-Furqāna), চিন্তার আলো বা প্রজ্ঞা এবং সুরক্ষামূলক সতর্ক ও দায়িত্বশীলদের জন্য এক পরম জ্যান্ত কিতাব বা স্মরণিকা (Wa zikral-lil-muttaqīn)।”

Keywords:

  • الْفُرْقَانَ (Al-Furqāna): আল্লাহর দেওয়া কিতাবের এমন সুনির্দিষ্ট আইনি মানদণ্ড যা সমাজ ও মানুষের চিন্তার সমস্ত অস্পষ্টতা দূর করে সত্য ও মিথ্যাকে সম্পূর্ণ আলাদা ও প্রকাশ্য করে দেয়।

আয়াত ৪৯

الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ وَهُم مِّنَ السَّاعَةِ مُشْفِقُونَ
“যারা তাদের প্রতিপালকের বিধিবদ্ধ জ্যান্ত আইন ও অদৃশ্য বা সুদূরপ্রসারী ফলাফলকে অন্তরের গভীরে সুগভীর শ্রদ্ধা ও সতর্কতা দিয়ে ভয় করে, এবং যারা সেই অবধারিত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মুহূর্ত বা মহাসংকটের আশঙ্কায় সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকে।”


আয়াত ৫০

وَهَٰذَا ذِكْرٌ مُّبَارَكٌ أَنزَلْنَاهُ ۚ أَفَأَنتُمْ لَهُ مُنكِرُونَ
“আর এই (কোরআন) হলো এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ, বরকতময় ও অফুরন্ত কল্যাণের জ্যান্ত স্মারক বা কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি (Wa hāzā zikrum mubārakun); তবে কি তোমরা নিজেরা এর সত্যতাকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার ও অগ্রাহ্য করবে?”


আয়াত ৫১

وَلَقَدْ آتَيْنَا إِبْرَاهِيمَ رُشْدَهُ مِن قَبْلُ وَكُنَّا بِهِ عَالِمِينَ
“আর নিশ্চয়ই আমি ইতিপূর্বে ইব্রাহীমকে তার সঠিক পথের প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্বতা দান করেছিলাম (Ātainā Ibrāhīma rushdahū), আর আমি তার ভেতরের মৌলিক যোগ্যতা সম্পর্কে সুস্পষ্ঠভাবে পরিজ্ঞাত ছিলাম।”

Keywords:

  • رُشْدَهُ (Rushdahu): সত্যকে চাক্ষুষ অনুধাবন করার যোগ্যতা, সঠিক ও সুষম পথে টিকে থাকার মানসিক পরিপক্বতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূরদর্শিতা।

আয়াত ৫২

إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَٰذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ
“যখন সে তার মূল লালনকারী বা সমাজ-পিতা এবং তার জাতিকে বলেছিল: এই সমস্ত নিষ্প্রাণ মূর্তিসদৃশ ঐতিহ্য, সামাজিক অন্ধ ধারণা বা নিষ্প্রাণ প্রতিমাগুলো কী—যার মোহে তোমরা সবাই সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ও অন্ধ দাসত্বে লিপ্ত রয়েছ (Antum lahā 'ākifūn)?”

Keywords:

  • التَّمَاثِيلُ (At-Tamāsīlu): আক্ষরিক মাটির বা পাথরের মূর্তি ছাড়াও এর সমাজতাত্ত্বিক অর্থ—সমাজে মানুষের তৈরি করা নিস্প্রাণ অন্ধ ঐতিহ্য, কুসংস্কার বা এমন কোনো মতাদর্শ যা সত্যের আলো ছাড়াই মানুষ দেবতার মতো অনুকরণ করে।

আয়াত ৫৩

قَالُوا وَجَدْنَا آبَاءَنَا لَهَا عَابِدِينَ
“তারা (গোঁড়ামির সুরে) বলেছিল: আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এই সমস্ত ঐতিহ্যের দাসত্ব ও অন্ধ অনুকরণ করতে পেয়েছি, তাই আমরাও করছি।”


আয়াত ৫৪

قَالَ لَقَدْ كُنتُمْ أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمْ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
“সে বলেছিল: নিশ্চয়ই তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের সেই অতীত পূর্বপুরুষেরা সবাই এক সুস্পষ্ঠ, প্রকাশ্য ও চাক্ষুষ পথভ্রষ্টতা ও লক্ষ্যহীন বিভ্রান্তির মধ্যে লিপ্ত ছিলে।”


আয়াত ৫৫

قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنتَ مِنَ اللَّاعِبِينَ
“তারা বলেছিল: তুমি কি আমাদের কাছে কোনো অকাট্য বাস্তব সত্য বা যুক্তি নিয়ে এসেছ, নাকি তুমি আমাদের সাথে বিন্দুমাত্র কোনো উপহাস বা খামখেয়ালি করছ?”


আয়াত ৫৬

قَالَ بَل رَّبُّكُمْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا عَلَىٰ ذَٰلِكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ
“সে বলেছিল: মোটেও নয়! বরং তোমাদের একমাত্র লালনকর্তা ও চূড়ান্ত বিধানদাতা হলেন উচ্চ সুরক্ষার স্তরের এবং এই পৃথিবীর লালনকারী—যিনি সেগুলোর অস্তিত্বকে উন্মেষ বা সৃষ্টি করেছেন; আর আমি তোমাদের সামনে এই পরম সত্যের পক্ষে অন্যতম এক চাক্ষুষ বাস্তব সাক্ষী।”


আয়াত ৫৭

وَتَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُمْ بَعْدَ أَن تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ
“আর আল্লাহর কসম! তোমরা যখন এই অন্ধ ঐতিহ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে পেছনে চলে যাবে, তখন আমি অবশ্যই তোমাদের এই মনগড়া নিস্প্রাণ আদর্শ বা মূর্তিগুলোর বিরুদ্ধে এক অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সুগভীর চাক্ষুষ প্রতিরোধ বা আইনি কৌশল প্রয়োগ করব (La-akīdanna asnāmakum)।”

Keywords:

  • أَصْنَامَكُمْ (Asnāmakum): সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষের তৈরি করা নিস্প্রাণ সামাজিক প্রথা, অন্ধ বিশ্বাস বা জড়বাদী মূর্তিসমূহ।

আয়াত ৫৮

فَجَعَلَهُمْ جُذَاذًا إِلَّا كَبِيرًا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ
“অতঃপর সে (তার অকাট্য যুক্তির আঘাতে) সেই নিস্প্রাণ আদর্শগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ বা খণ্ড-বিখণ্ড করে দিল, তবে সেগুলোর প্রধান বা বড় কাঠামোটিকে অক্ষত রাখল; যাতে তারা (নিজেদের ভুল বুঝতে) সেটির দিকে ফিরে আসে ও যৌক্তিক দেউলিয়াত্ব টের পায়।”


আয়াত ৫৯

قَالُوا مَن فَعَلَ هَٰذَا بِآلِهَتِنَا إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ
“তারা (প্রথাগত সমাজ-কর্তৃপক্ষ ফিরে এসে) চিৎকার করে উঠল: আমাদের এই প্রতিষ্ঠিত উপাস্য বা ঐতিহ্যগুলোর সাথে এমন জঘন্য কাণ্ড কে ঘটিয়েছে? নিশ্চয়ই সে এক চরম ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী ও অপরাধী!”


আয়াত ৬০

قَالُوا سَمِعْنَا فَتًى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ
“তাদের মধ্যকার কিছু লোক বলল: আমরা এক তরুণকে এই নিষ্প্রাণ ঐতিহ্যগুলোর স্বরূপ উন্মোচন ও সমালোচনা করতে শুনেছিলাম, যাকে ইব্রাহীম নামে ডাকা হয়।”


আয়াত ৬১

قَالُوا فَأْتُوا بِهِ عَلَىٰ أَعْيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ
“কায়েমি সমাজ-নেতারা বলল: তবে তোমরা তাকে প্রকাশ্য জনসমক্ষে চাক্ষুষ আদালতে হাজির করো, যাতে সবাই এই পরম সত্যের প্রকাশ্য বিচার প্রত্যক্ষ করতে পারে।”


আয়াত ৬২

قَالُوا أَأَنتَ فَعَلْتَ هَٰذَا بِآلِهَتِنَا يَا إِبْرَاهِيمُ
“তারা (আদালতে) জিজ্ঞাসা করল: হে ইব্রাহীম! তুমিই কি আমাদের এই প্রতিষ্ঠিত উপাস্য বা ঐতিহ্যগুলোর সাথে এমন চূর্ণ-বিচূর্ণকারী আচরণ করেছ?”

আয়াত ৬৩

قَالَ بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَٰذَا فَاسْأَلُوهُمْ إِن كَانُوا يَنطِقُونَ

“সে (ইব্রাহীম) বলেছিল: বরং এদের এই প্রতিষ্ঠিত বড় ও প্রধান আদর্শটিই বা কায়েমি শক্তিই হয়তো এটি করেছে (Bal fa'alahū kabīruhum hāzā); সুতরাং তোমরা এদেরকেই জিজ্ঞাসা করো, যদি এরা বিন্দুমাত্র কোনো যৌক্তিক কথা বলতে বা মনের ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম হয়!”


আয়াত ৬৪

فَرَجَعُوا إِلَىٰ أَنفُسِهِمْ فَقَالُوا إِنَّكُمْ أَنتُمُ الظَّالِمُونَ

“অতঃপর তারা (এই অকাট্য যুক্তির ধাক্কায়) নিজেদের চিন্তার গভীরে ফিরে গেল এবং নিজেদেরই বলল: নিশ্চয়ই তোমরা নিজেরাই চরম ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী ও জালিম (Innakum antumuz-zālimūn)।”


আয়াত ৬৫

ثُمَّ نُكِسُوا عَلَىٰ رُؤُوسِهِمْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هَٰذَا يَنطِقُونَ

“অতঃপর তারা পুনরায় তাদের চিন্তার সুуচ্চ কেন্দ্র বা মস্তকসমূহকে উলটো দিকে ঘুরিয়ে দিল (অর্থাৎ তাদের পুরোনো জেদ ও অহংকারে ফিরে গেল এবং বলল): তুমি তো ভালো করেই জানো যে এরা কোনো যৌক্তিক কথা বলতে পারে না!”


আয়াত ৬৬

قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكُمْ شَيْئًا وَلَا يَضُرُّكُمْ

“সে বলেছিল: তবে কি তোমরা আল্লাহর চূড়ান্ত আইনকে বর্জন করে অন্য এমন কিছুর দাসত্ব ও অন্ধ আনুগত্য করছ (A-fata'budūna min dūnillāhi), যা তোমাদের বিন্দুমাত্র কোনো উপকারও করতে পারে না এবং কোনো বাস্তব ক্ষতি করার ক্ষমতাও রাখে না?”


আয়াত ৬৭

أُفٍّ لَّكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

“ধিক্কার তোমাদের প্রতি এবং আল্লাহর বিধান ছেড়ে তোমরা অন্য যার দাসত্ব করছ তার প্রতি! তবে কি তোমরা বিন্দুমাত্র নিজের বুদ্ধিবৃত্তি ও যৌক্তিক কার্যকারণ বিশ্লেষণকে কাজে লাগাবে না (A-falā ta'qilūn)?”


আয়াত ৬৮

قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانصُرُوا آلِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَاعِلِينَ

“তারা (কায়েমি স্বার্থবাদীরা) বলেছিল: একে সমাজ থেকে জ্ঞান ও ক্ষমতার আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণরূপে ছাই করে দাও (Harriqūhu) এবং তোমাদের প্রতিষ্ঠিত উপাস্য বা অন্ধ আদর্শসমূহের বিজয় নিশ্চিত করো, যদি তোমরা বাস্তবে কিছু করতে চাও।”


আয়াত ৬৯

قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ

“আমি (আমার প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়মে) ঘোষণা করলাম: হে তীব্র সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্রোধের আগুন! তুমি ইব্রাহীমের জন্য সম্পূর্ণ শীতল ও চরম সুরক্ষামূলক শান্তিতে পরিণত হও (Kūnī bardan wa salāman 'alā Ibrāhīm)।”

Keywords:

  • يَا نَارُ (Yā Nāru): আক্ষরিক আগুন নয়, বরং সত্যের অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়ার জন্য কায়েমি স্বার্থবাদীদের তৈরি করা তীব্র সামাজিক বয়কট, রাষ্ট্রীয় ক্রোধ ও মনস্তাত্ত্বিক নিপীড়নের ভয়ঙ্কর আগুন।

আয়াত ৭০

وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ

“এবং তারা তার বিরুদ্ধে এক অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সুgভীর চক্রান্ত বা অপকৌশল করতে চেয়েছিল (Wa arādū bihī kaydā), কিন্তু আমি (আমার অমোঘ নিয়মে) তাদেরকেই চূড়ান্তভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসের মুখোমুখি করলাম।”


আয়াত ৭১

وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ

“আর আমি তাকে এবং লূতকে সম্পূর্ণ উদ্ধার বা সুরক্ষা দান করলাম এমন এক সমাজ-ক্ষেত্রের দিকে (Ilar-ardil-latī), যেখানে আমি সমগ্র বিশ্ববাসীর সামগ্রিক বিকাশ ও দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণের অফুরন্ত বরকত ও উপাদান নিহিত রেখেছি।”


আয়াত ৭২

وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ نَافِلَةً ۖ وَكُلًّا جَعَلْنَا صَالِحِينَ

“এবং আমি তাকে উপহার দিলাম ইসহাক এবং অতিরিক্ত বা অতিরিক্ত উপহার হিসেবে ইয়াকুবকে; আর তাদের প্রতিটি সত্তাকেই আমি সমাজে সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর ব্যক্তিত্বে রূপান্তর করলাম (Wakullan ja'alnā sālihīn)।”


আয়াত ৭৩

وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ ۖ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ

“এবং আমি তাদের এমন সুদৃঢ় আদর্শিক নেতা বা গাইড হিসেবে নিযুক্ত করলাম যারা আমার সুনির্দিষ্ট আইনি অনুশাসনে মানুষকে সরল পথ দেখায় (Yahdūna bi-amrinā), এবং আমি তাদের প্রতি এই মর্মে তীব্র ঐশী বার্তা প্রেরণ করেছিলাম যে—তোমরা সর্বপ্রকার কল্যাণকর ও গঠনমূলক কর্ম সম্পাদন করো, সামাজিক অনুশাসন ও সংযোগের ব্যবস্থাকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখো (Wa iqāmas-Salāt) এবং সমাজ বিকাশের পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করো (Wa ītā'az-Zakāt); আর তারা ছিল একমাত্র আমারই নিবেদিত ও অনুগত দাস।”


আয়াত ৭৪

وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَت تَّعْمَلُ الْخَبَائِثَ ۗ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ

“এবং লূতকে আমি দান করেছিলাম চূড়ান্ত আইনি প্রজ্ঞা ও অকাট্য জ্ঞান (Hukman wa 'ilmā), এবং আমি তাকে উদ্ধার বা সুরক্ষা দান করলাম সেই জনপদ বা সামাজিক জনসমষ্টি থেকে যা অত্যন্ত জঘন্য বিকৃতি ও নোংরামিতে লিপ্ত ছিল (Minal-qaryatil-latī); নিশ্চয়ই তারা ছিল এক অত্যন্ত মন্দ, নীতিহীন ও নির্ধারিত আইনি সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।”


আয়াত ৭৫

وَأَدْخَلْنَاهُ فِي رَحْمَتِنَا ۖ إِنَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ

“এবং আমি তাকে আমার বিশেষ ঐশী লালন, বিকাশ ও অনুগ্রহের অনুকম্পায় প্রবেশ করালাম; নিশ্চয়ই সে ছিল সমাজে সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্ত।”


আয়াত ৭৬

وَنُوحًا إِذْ نَادَىٰ مِن قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ

“এবং স্মরণ করো নূহের আখ্যান, যখন সে ইতিপূর্বে (অবিরাম সংগ্রামের এক পর্যায়ে) তীব্র আকুতিতে আহ্বান করেছিল, অতঃপর আমি তার সেই আহ্বানে সাড়া দিলাম এবং তাকে ও তার আদর্শিক অনুগামীদের এক অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ভয়ঙ্কর মানসিক ও সামাজিক মহাবিপদ থেকে সম্পূর্ণ উদ্ধার বা সুরক্ষা দান করলাম (Minal-karbil-'azīm)।”


আয়াত ৭৭

وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ

“আর আমি তাকে সেই জাতির চক্রান্তের বিরুদ্ধে অমোঘ বিজয় বা সাহায্য দান করলাম যারা আমার অকাট্য বিধি-বিধান ও নিদর্শনসমূহকে সরাসরি অস্বীকার করেছিল (Kazzabū bi-āyātinā); নিশ্চয়ই তারা ছিল এক অত্যন্ত মন্দ জাতি, ফলে আমি (আমার প্রাকৃতিক নিয়মে) তাদের সবাইকে লক্ষ্যহীন বিভ্রান্তির প্লাবনে সম্পূর্ণরূপে ডুবিয়ে বা ভাসিয়ে ধ্বংস করলাম।”


আয়াত ৭৮

وَدَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ

“এবং স্মরণ করো দাউদ ও সুলাইমানের আখ্যান, যখন তারা উভয়ে সমাজের মেধা ও কর্মের ফসলি ক্ষেত্র বা উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে এক সুনির্দিষ্ট আইনি রায় বা ফায়সালা করছিল (Iz yahkumāni fil-harsi), যখন সেই ফসলি ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ও বিশৃঙ্খল স্বার্থান্বেষী চালিকাশক্তি বা পশুবৃত্তিক উপদলগুলো রাতে অবাধে বিচরণ করে তা নষ্ট করে দিয়েছিল; আর আমি তাদের সেই আইনি রায়ের প্রতিটি স্তর নিখুঁতভাবে প্রত্যক্ষ করছিলাম।”

Keywords:

  • نَفَشَتْ (Nafashat): কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই রাতের অন্ধকারে বা গোপনে কোনো ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকে সেটিকে নষ্ট বা বিশৃঙ্খল করে ফেলা।

আয়াত ৭৯

فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ ۚ وَكُلًّا آتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا ۚ وَسَخَّرْنَا مَعَ دَاوُودَ الْجِبَالَ يُسَبِّحْنَ وَالطَّيْرَ ۚ وَكُنَّا فَاعِلِينَ

“অতঃপর আমি সুলাইমানকে সেই শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সুগভীর মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি উপলব্ধি দান করলাম (Fafahhamnāhā Sulaymāna); আর তাদের প্রতিটি সত্তাকেই আমি দান করেছিলাম চূড়ান্ত আইনি প্রজ্ঞা ও অকাট্য জ্ঞান; আর আমি দাউদের সাথে পর্বতসদৃশ শক্তিশালী কায়েমি ক্ষমতার স্তম্ভসমূহকে সুসংগত ও কার্যোপযোগী করে দিয়েছি (Wa sakharnā ma'a Dāwūdal-jibāla), যা আল্লাহর বিধিবদ্ধ নিয়মের নিখুঁত কক্ষপথে সচল ছিল, এবং বাস্তবতাহীন অবাস্তব চিন্তার উপদলগুলোকেও (আমি সচল রেখেছিলাম); আর আমিই এই সমস্ত কিছু নিখুঁতভাবে সম্পাদনকারী।”


আয়াত ৮০

وَعَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍ لَّكُمْ لِتُحْصِنَكُم مِّن بَأْسِكُمْ ۖ فَهَلْ أَنتُمْ شَاكِرُونَ

“এবং আমি তাকে তোমাদের জন্য এক বিশেষ সুরক্ষামূলক আবরণ বা শাসনতান্ত্রিক ঢাল তৈরির শিল্প বা কৌশল শিক্ষা দিয়েছিলাম (San'ata labūsin lakum), যাতে তা তোমাদের নিজেদের মধ্যকার তীব্র পারস্পরিক সংঘাত ও যুদ্ধ-বিগ্রহের অবধারিত ক্ষতি থেকে তোমাদের সুরক্ষিত রাখতে পারে; সুতরাং তোমরা কি এই নিয়ামতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে?”


আয়াত ৮১

وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ عَاصِفَةً تَجْرِي بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا ۚ وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَالِمِينَ

“আর আমি সুলাইমানের জন্য বায়ুর মতো তীব্র গতিশীল ও প্রভাবশালী চালিকাশক্তিকে অত্যন্ত তীব্র ও কার্যকর করে দিয়েছিলাম (Wa li-Sulaymānar-rīha 'āsifatan), যা তার সুনির্দিষ্ট আইনি আদেশে ও অনুশাসনে সেই সমাজ-ক্ষেত্রের দিকে ধাবিত হতো যেখানে আমি অফুরন্ত কল্যাণ ও বরকত নিহিত রেখেছি; আর আমি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।”


আয়াত ৮২

وَمِنَ الشَّيَاطِينِ مَن يَغُوصُونَ لَهُ وَيَعْمَلُونَ عَمَلًا دُونَ ذَٰلِكَ ۖ وَكُنَّا لَهُمْ حَافِظِينَ

“এবং সেই চরম অহংকারী ও বিদ্রোহী মানসিকতার শক্তিগুলোর মধ্য থেকেও এমন কিছু উপাদানকে (আমি তার জন্য কার্যোপযোগী করেছিলাম) যারা তার শাসনতান্ত্রিক প্রয়োজনে সুগভীর জ্ঞান ও সম্পদের সাগরে ডুব দিত (Man yaghūsūna lahū) এবং এর বাইরেও অন্যান্য বহুবিদ জটিল সাংগঠনিক কর্ম সম্পাদন করত; আর আমিই সেই সমস্ত চালিকাশক্তিকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে ও সুরক্ষায় রাখতাম।”


আয়াত ৮৩

وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

“এবং স্মরণ করো আইয়ুবের আখ্যান, যখন সে তার প্রতিপালককে এক তীব্র আকুতিতে আহ্বান করেছিল: নিশ্চয়ই এক সুগভীর ক্ষতি বা চরম মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিপর্যয় আমাকে স্পর্শ করেছে (Anni massaniyad-durru), অথচ তুমিই তো লালন ও অনুগ্রহকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু!”


আয়াত ৮৪

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِن ضُرٍّ ۖ وَآتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنْ عِندِنَا وَذِكْرَىٰ لِلْعَابِدِينَ

“অতঃপর আমি তার সেই আহ্বানে সাড়া দিলাম এবং তার ওপর আপতিত সেই সুগভীর ক্ষতি বা বিপর্যয়কে সম্পূর্ণরূপে দূর করে দিলাম, আর আমি তাকে তার আদর্শিক অনুগামী বা সমাজ পরিবারকে পুনরায় ফিরিয়ে দিলাম এবং তাদের সাথে সমপরিমাণ আরও শক্তি উপহার দিলাম—আমার বিশেষ অনুগ্রহের অনুকম্পা হিসেবে এবং আমার বিধিবদ্ধ আইনের অনুগত দাসদের জন্য এক পরম জ্যান্ত শিক্ষা ও রূপরেখা হিসেবে (Wa zikrā lil-'ābidīn)।”


আয়াত ৮৫

وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ ۖ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ

“এবং ইসমাইল, ইদরীস এবং যুল-কিফলের আখ্যান স্মরণ করো; এদের প্রতিটি সত্তাই ছিল সত্যের পথে চলতে গিয়ে যে কোনো বাধা বা কষ্টের মুখে অত্যন্ত দৃঢ় ও অবিচল ব্যক্তিত্ব (Kullum minas-sābirīn)।”

Keywords:

  • ذَا الْكِفْلِ (Za-Kifli): আভিধানিক অর্থ—”যিনি কোনো মহৎ দায়িত্ব বা সুরক্ষার দ্বিগুণ ভাগ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে গ্রহণ ও লালন করেন” (ধাতুমূল: ক-ফ-ল = দায়িত্ব বা জিম্মাদারি)। এটি মেধার এমন এক বিশেষ স্তর যা সমাজের দুর্বলদের দায়িত্ব নিতে সিদ্ধহস্ত।

আয়াত ৮৬

وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا ۖ إِنَّهُم مِّنَ الصَّالِحِينَ

“এবং আমি তাদের সবাইকে আমার বিশেষ ঐশী লালন, বিকাশ ও অনুগ্রহের অনুকম্পায় প্রবেশ করালাম; নিশ্চয়ই তারা ছিল সমাজে সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্ত।”


আয়াত ৮৭

وَذَا النُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَىٰ فِي الظُّلُمَاتِ أَن لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

“এবং যুন-নূনের (মাছ বা কিতাবের সুবিন্যস্ত রূপরেখার বাহক ব্যক্তিত্বের) আখ্যান স্মরণ করো (Wa Zan-Nūni), যখন সে (তার জাতির অবাধ্যতায়) অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে সাংগঠনিক ক্ষেত্র ছেড়ে চলে গিয়েছিল এবং সে ধারণা করেছিল যে আমি হয়তো তার এই সিদ্ধান্তের কারণে তার ওপর কোনো কঠিন সংকীর্ণতা বা আইনি পরিমাপ জারি করব না; অতঃপর সে (নিজের ভুলের অবধারিত ফল হিসেবে) অজ্ঞতা, একাকীত্ব ও মনস্তাত্ত্বিক চরম অন্ধকারের গভীর গহ্বর থেকে তীব্র আকুতিতে আহ্বান করল (Fanādā fiz-zulumāti)—তুমি ব্যতিরেকে অন্য কোনো মনগড়া উপাস্য বা আইনের বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা নেই, তুমি সর্বপ্রকার মানবিক সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি থেকে পরম পবিত্র ও সুউচ্চ (Subhānakā), নিশ্চয়ই আমি নিজেই নিজের ওপর ভারসাম্য নষ্ট করে অন্যায় করেছি!”

Keywords:

  • ذَا النُّونِ (Zan-Nūn): আক্ষরিক মাছের অধিপতি বা ইউনুস হলেও এর শাসনতান্ত্রিক অর্থ—”যিনি কিতাবের সুবিন্যস্ত জ্ঞান, অকাট্য যুক্তি ও সুগভীর ডেটা ব্যাংক ধারণ করেন” (ধাতুমূল: ন-ও-ন = মাছ বা দোয়াত/কালি)।
  • فِي الظُّلُمَاتِ (Fiz-zulumāti): কোনো আক্ষরিক মাছের পেট নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া সাংগঠনিক ক্ষেত্র বর্জন করার ফলে মানুষের নিজের মনে তৈরি হওয়া এক চরম হতাশা, একাকীত্ব, দিশেহারা অবস্থা ও মনস্তাত্ত্বিক অন্ধকারের স্তর।

আয়াত ৮৮

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ ۚ وَكَذَٰلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ

“অতঃপর আমি তার সেই আহ্বানে সাড়া দিলাম এবং তাকে সেই চরম দমবন্ধকর মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশা থেকে সম্পূর্ণ উদ্ধার বা সুরক্ষা দান করলাম (Wa najjaynāhu minal-ghamm); আর অনুরূপভাবেই আমি পরম মানসিক শান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারীদের সর্বদা মুক্ত ও সফল করি।”


আয়াত ৮৯

وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

“এবং জাকারিয়ার আখ্যান স্মরণ করো, যখন সে তার প্রতিপালককে আহ্বান করেছিল: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে এই আন্দোলনে একা ও উত্তরসূরিহীন অবস্থায় পরিত্যাগ কোরো না (Rabby lā tazarnī fardā), অথচ তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ চিরস্থায়ী উত্তরাধিকারী ও আসলCustodian!”


আয়াত ৯০

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَىٰ وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا ۖ وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ

“অতঃপর আমি তার সেই আহ্বানে সাড়া দিলাম এবং তাকে উপহার দিলাম ‘ইয়াহইয়া’ নামক সমাজ-চেতনাকে পুনরুজ্জীবিতকারী এক অসামান্য মেধা, এবং আমি তার সাথে সম্পৃক্ত সেই বন্ধ্যা ও নিষ্ক্রিয় সামাজিক ধারণক্ষমতা বা ক্ষেত্রটিকে সম্পূর্ণ সংশোধন ও উৎপাদনশীল করলাম; নিশ্চয়ই তারা সবাই সর্বপ্রকার কল্যাণকর ও গঠনমূলক কর্মে তীব্র গতিতে প্রতিযোগিতা করত এবং তারা পরম আশা ও তীব্র সুরক্ষার আশঙ্কায় কেবল আমারই বিধিবদ্ধ নিয়মকে আহ্বান করত; আর তারা ছিল আমারই সুউচ্চ আইনের সামনে অত্যন্ত বিনীত ও সমর্পিত।”


আয়াত ৯১

وَالَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهَا مِن رُّوحِنَا وَجَعَلْنَاهَا وَابْنَهَا آيَةً لِّلْعَالَمِينَ

“এবং আমি স্মরণ করি সেই বিশেষ মেধা বা সমাজ-ক্ষেত্রকে (মারিয়াম ব্যবস্থাকে), যে নিজের সমস্ত অভ্যন্তরীণ প্রবেশদ্বার ও চারিত্রিক শুদ্ধিতাকে সর্বপ্রকার বিকৃতি থেকে কঠোরভাবে সুরক্ষিত রেখেছিল (Ahsanat farjahā), অতঃপর আমি তার সেই ক্ষেত্রের মধ্যে আমার বিশেষ ঐশী বাণী ও জ্যান্ত চালিকাশক্তি ফুঁকে দিলাম (Fanafakhnā fīhā min rūhinā) এবং তাকে ও তার গর্ভে বিকসিত সেই মেধার ফসলকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এক অমোঘ চাক্ষুষ নিদর্শন বা পরম প্রমাণ হিসেবে স্থাপন করলাম।”


আয়াত ৯২

إِنَّ هَٰذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ

“নিশ্চয়ই তোমাদের এই যে কিতাবের আদর্শিক সমাজ ব্যবস্থা, তা মূলত এক সুসংহত ও একক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটিই অবিভাজ্য সমাজ (Ummatan wāhidatan); আর আমিই তোমাদের একমাত্র লালনকর্তা ও বিধানদাতা, সুতরাং তোমরা কেবল আমারই দাসত্ব ও অনুশাসন কার্যকর করো।”


আয়াত ৯৩

وَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ ۖ كُلٌّ إِلَيْنَا رَاجِعُونَ

“অথচ তারা নিজেদের কায়েমি স্বার্থ ও মনগড়া অন্ধ মতাদর্শের কারণে নিজেদের শাসনতান্ত্রিক ঐক্য ও মূল আদর্শকে নিজেদের মধ্যে দল উপদলে টুকরো টুকরো করে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল (Wataqatta'ū amrahum baynahum); কিন্তু তাদের প্রতিটি উপদল বা সত্তাকেই শেষ পর্যন্ত আমারই বিধিবদ্ধ নিয়মের দিকে অবধারিতভাবে ফিরে আসতে হবে।”


আয়াত ৯৪

فَمَن يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْيِهِ وَإِنَّا لَهُ كَاتِبُونَ

“সুতরাং যে কেউ একজন দৃঢ় বিশ্বাসী হিসেবে সমাজে সামান্যতম সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করবে, তার সেই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা বা দৌড়ঝাঁপকে কোনো অবস্থাতেই অস্বীকৃতি বা নষ্ট হতে দেওয়া হবে না (Falā kufrāna lisa'yihī); আর নিশ্চয়ই আমি তার সেই সমস্ত কর্ম নিয়মের বিধিতে নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করছি।”


আয়াত ৯৫

وَحَرَامٌ عَلَىٰ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَنَّهُمْ لَا يَرْجِعُونَ

“আর এটি সম্পূর্ণ অসম্ভব ও আইনিভাবে নিষিদ্ধ কোনো এমন ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদ বা সামাজিক জনসমষ্টির জন্য—যাদের আমি তাদের অন্যায়ের অবধারিত কুফলে ধ্বংস করেছি, যে তারা পুনরায় কোনো দিন কোনো অর্থপূর্ণ সজীব জীবন বা উত্থানে ফিরে আসতে পারবে (অর্থাৎ একটি মৃত সমাজ কিতাবের আইন ছাড়া নিজে থেকে কখনো সোজা হতে পারে না)।”


আয়াত ৯৬

حَتَّىٰ إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبٍ يَنسِلُونَ

“যতক্ষণ না সমাজে বিশৃঙ্খলা, উগ্রতা, আগ্রাসন ও সীমালঙ্ঘনের সমস্ত মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বাঁধ ভেঙে ‘ইয়াজুজ ও মাজুজ’ নামক চরম ধ্বংসাত্মক উপদলগুলো উন্মুক্ত হয়ে পড়ে (Huttā izā futihat Ya'jūju wa Ma'jūju), এবং তারা সমাজের প্রতিটি সুউচ্চ ক্ষমতার চূড়া বা স্তর থেকে তীব্র গতিতে ধেয়ে এসে সমাজকে গ্রাস করতে শুরু করে;”

Keywords:

  • يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ (Ya’jūju wa Ma’jūju): আক্ষরিক কোনো পৌরাণিক দানব নয়, বা দেওয়ালের পেছনের কোনো জাতি নয়; বরং এর আভিধানিক অর্থ—”তীব্র লেলিহান আগুন, চরম সামাজিক উগ্রতা, বিশৃঙ্খলা, শোষণ ও আগ্রাসনের এমন এক ভয়ঙ্কর রূপ যা সমাজকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়” (ধাতুমূল: অ-জ-জ = আগুনের লেলিহান শিখা)।

আয়াত ৯৭

وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا يَا وَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَٰذَا بَلْ كُنَّا ظَالِمِينَ

“এবং যখনই সেই পরম ও অকাট্য বাস্তব প্রতিশ্রুত বৈপ্লবিক মুহূর্ত নিকটবর্তী হয়, তখনই আচমকা যারা সত্যকে আড়াল বা অস্বীকার করেছিল তাদের অন্তর্দৃষ্টি ও চোখ পাথরের মতো স্থির ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে; তারা (চরম হতাশায়) চিৎকার করে বলবে: হায় আমাদের ধ্বংস ও দুর্ভোগ! নিশ্চয়ই আমরা এই পরম সত্যের বিষয়ে এক চরম উদাসীনতার মধ্যে ডুবেছিলাম, বরং আমরা নিজেরাই ছিলাম চরম ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী ও জালিম!”


আয়াত ৯৮

إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنتُمْ لَهَا وَارِدُونَ

“নিশ্চয়ই তোমরা নিজেরা এবং আল্লাহর আইন বর্জন করে তোমরা অন্য যার যার দাসত্ব ও অন্ধ আনুগত্য করছিলে, তা সবকিছুই হবে সেই মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক নরকের অবধারিত জ্বালানি বা পাথর (Hasabu Jahannam); তোমরা সবাই নিশ্চিতভাবেই সেটির ভেতরে অবধারিতভাবে পতিত হবে।”


আয়াত ৯৯

لَوْ كَانَ هَٰذُلَاءِ آلِهَةً مَّا وَرَدُوهَا ۖ وَكُلٌّ فِيهَا خَالِدُونَ

“যদি এই মনগড়া প্রথা বা উপাস্যগুলো প্রকৃতপক্ষে কোনো বৈধ বা সত্য আদর্শের ইলাহ হতো, তবে তারা কখনই এই ধ্বংসাত্মক নরক-অবস্থার মুখোমুখি হতো না; অথচ এখন তাদের প্রতিটি সত্তা বা উপদল সেটির ভেতরে চিরকাল নিমজ্জিত থাকবে।”


আয়াত ১০০

لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ

“তাদের জন্য সেখানে থাকবে কেবলই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দীর্ঘশ্বাস, ছটফটানি ও কান্নার বুকফাটা আর্তনাদ (Lahum fīhā zafīrun), এবং তারা সেখানে কোনো প্রকার স্বস্তির কথা বা কোনো যৌক্তিক আইনি সমাধান বিন্দুমাত্র শুনতে পাবে না।”


আয়াত ১০১

إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُم مِّنَّا الْحُسْنَىٰ أُولَٰئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ

“নিশ্চয়ই যাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই সর্বোত্তম কল্যাণ, বিকাশ ও পুরস্কারের অমোঘ বাণী সুনিশ্চিত হয়ে গেছে, তাদেরকে সেই ধ্বংসাত্মক নরক বা দহনাবস্থা থেকে অত্যন্ত সুদূর দূরত্বে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখা হবে ('Anhā mub'adūn)।”


আয়াত ১০২

لَا يَسْمَعُونَ حَسِيسَهَا ۖ وَهُمْ فِي مَا اشْتَهَتْ أَنفُسُهُمْ خَالِدُونَ

“তারা সেই মনস্তাত্ত্বিক নরকের সামান্যতম সুক্ষ্ম খসখসানি বা ভীতিপ্রদ আওয়াজও শুনতে পাবে না; অথচ তাদের নিজস্ব মন ও চেতনা যা কিছু পবিত্র ও কল্যাণকর উপাদান তীব্রভাবে কামনা করবে (Mashtahat anfusuhum), তারা চিরকাল সেটির পরম সুখ ও প্রাচুর্যের মধ্যে অবস্থান করবে।”


আয়াত ১০৩

لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَٰذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ

“সেই সুদীর্ঘ সামাজিক ওলটপালট বা চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের মহা-আতঙ্ক ও তীব্র আলোড়ন তাদের বিন্দুমাত্র ভীত বা চিন্তিত করতে পারবে না (Lā yahzunuhumul-faza'ul-akbar), এবং মহাবিশ্বের সমস্ত অদৃশ্য প্রাকৃতিক ও ঐশী চালিকাশক্তি বা সুরক্ষাব্যবস্থা তাদের অত্যন্ত সম্মানিত স্বাগত জানাবে—এটিই হলো তোমাদের সেই সুনির্দিষ্ট মহিমান্বিত বৈপ্লবিক দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের অবিরত দেওয়া হচ্ছিল!”


আয়াত ১০৪

يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيدُهُ ۚ وَعْدًا عَلَيْنَا ۚ إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ

“সেই দিন, যখন আমি উচ্চ সুরক্ষামূলক বা আদর্শিক স্তরের সমস্ত পুরোনো পাতাকে বা আকাশকে সম্পূর্ণরূপে গুটিয়ে নেব—যেভাবে কোনো বিধিবদ্ধ রেকর্ডের কিতাব বা লিখিত দলিলপত্র সুসংগতভাবে গুটিয়ে রাখা হয় (Katayyi-s-sijilli lil-kutub); যেভাবে আমি অস্তিত্বের প্রারম্ভে প্রথম সৃষ্টির উন্মেষ ঘটিয়েছিলাম, অনুরূপভাবেই আমি এক নতুন বৈপ্লবিক সমাজ কাঠামোর পুনরাবৃত্তি ঘটাবো; এটি আমার ওপর এক অবধারিত শাসনতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি; আর আমিই এই সমস্ত কিছু নিখুঁতভাবে সম্পাদনকারী।”

Keywords:

  • السِّجِلِّ (As-Sijill): এমন এক আইনি দলিল, প্রাতিষ্ঠানিক খাতা বা জুডিশিয়াল রেকর্ড বুক যা সমস্ত তথ্যকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও অকাট্য প্রমাণাদিসহ ধারণ করে।

আয়াত ১০৫

وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِن بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ

“আর নিশ্চয়ই আমি পূর্ববর্তী সমস্ত ঐশী বিধি-বিধানের কিতাব ও পরম স্মরণিকার পর ‘যাবুর’ নামক সেই সুদৃঢ় শাসনতান্ত্রিক সংবিধানেও এটি অবধারিত আইন হিসেবে লিখে দিয়েছি যে (Katabnā fiz-Zabūri)—এই বাস্তব পৃথিবীর বুক বা সমাজ পরিচালনার চূড়ান্ত শাসনতান্ত্রিক মোড়লিপনা ওCustody শেষ পর্যন্ত কেবল আমারই সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর দাসরাই উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করবে (Yarisuhā 'ibādiyas-sālihūn)।”

Keywords:

  • الزَّبُورِ (Az-Zabūr): আভিধানিক অর্থ—”এমন এক অত্যন্ত সুদৃঢ়, শক্ত, খোদাই করা আইনি কিতাব বা শাসনতান্ত্রিক ডিক্রি যা সমাজকে বিশৃঙ্খলা থেকে কঠোরভাবে রক্ষা করে” (ধাতুমূল: জ-ব-র = পাথর দিয়ে মজবুত করা বা বাধা দেওয়া)।

আয়াত ১০৬

إِنَّ فِي هَٰذَا لَبَلَاغًا لِّقَوْمٍ عَابِدِينَ

“নিশ্চয়ই এই সম্পূর্ণ কিতাবের বাণীর মধ্যে নিহিত রয়েছে এক অত্যন্ত সুস্পষ্ঠ, পর্যাপ্ত ও চূড়ান্ত লক্ষ্য-উপযোগী বার্তা এমন এক জাতির জন্য—যারা কেবল আল্লাহর অনুশাসন ও দাসত্ব বাস্তবায়নে নিবেদিত রয়েছে (Labalāghan liqawmin 'ābidīn)।”

Keywords:

  • لَبَلَاغًا (Labalāghā): এমন এক অকাট্য, সুস্পষ্ঠ ও প্রভাবশালী বার্তা যা মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে বা বৈপ্লবিক লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

আয়াত ১০৭

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ

“আর (হে বাণীবাহক! হে কিতাবের বিপ্লবী আদর্শ!) আমি তোমাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর সামগ্রিক বিকাশ, সুপ্ত চেতনার লালন এবং দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার জন্য এক অমোঘ পুষ্টিকর অনুকম্পা বা রহমত ব্যতিরেকে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে প্রেরণ করিনি (Illā rahmatan lil-'ālamīn)।”


আয়াত ১০৮

قُلْ إِنَّمَا يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ

“তুমি চূড়ান্ত ঘোষণা করে দাও: আমার নিকট কেবল এই মর্মে সুনির্দিষ্ট ঐশী বার্তা ও আইনি ডিক্রি পাঠানো হয় যে—তোমাদের একমাত্র উপাস্য, শাসন-কর্তৃপক্ষ ও আইনদাতা হলেন কেবল একক ইলাহ; সুতরাং তোমরা কি শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তাঁরই আইনের সামনে নিজেদের সম্পূর্ণ সমর্পণ করবে (Fa-hal antum muslimūn)?”


আয়াত ১০৯

فَإِن تَوَلَّوْا فَقُلْ آذَنتُكُمْ عَلَىٰ سَوَاءٍ ۖ وَإِنْ أَدْرِي أَقَرِيبٌ أَم بَعِيدٌ مَّا تُوعَدُونَ

“অতঃপর তারা যদি (অহংকারবশত) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলে দাও: আমি তোমাদের সবাইকে এক সমান আইনি অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে চাক্ষুষ নোটিশ বা চূড়ান্ত ওয়ার্নিং দিয়ে দিলাম (Āzantukum 'alā sawā'in); আর আমি জানি না—তোমাদের কৃতকর্মের অবধারিত যে ভয়ঙ্কর কুফল বা পরিণতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তা কি অত্যন্ত নিকটবর্তী নাকি সুদূরপ্রসারী।”

Keywords:

  • آذَنتُكُمْ (Āzantukum): কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি নোটিশ, প্রকাশ্য ঘোষণা বা অফিশিয়াল ডিক্রি জারি করে অপর পক্ষকে চাক্ষুষভাবে সতর্ক করা।

আয়াত ১১০

إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ مِنَ الْقَوْلِ وَيَعْلَمُ مَا تَكْتُمُونَ

“নিশ্চয়ই তিনি উচ্চকণ্ঠে বলা সমস্ত প্রকাশ্য কথাবার্তা বা আদর্শিক ঘোষণা সম্পর্কেও সুস্পষ্ঠভাবে জানেন এবং তোমরা তোমাদের অন্তরের গভীরে বা কায়েমি স্বার্থে যা কিছু গোপন করছ, সে সম্পর্কেও নিখুঁতভাবে পরিজ্ঞাত।”


আয়াত ১১১

وَإِنْ أَدْرِي لَعَلَّهُ فِتْنَةٌ لَّكُمْ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ

“আর আমি জানি না—হয়তো এই সাময়িক অবকাশ দেওয়া তোমাদের জন্য এক চরম মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা ও যাচাইকরণ (La'allahū fitnatun lakum), এবং এক সুনির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত কেবল বৈষয়িক জীবন উপভোগের সাময়িক উপকরণ মাত্র।”


আয়াত ১১২

قَالَ رَبِّ احْكُم بِالْحَقِّ ۗ وَرَبُّنَا الرَّحْمَٰنُ الْمُسْتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ

“বাণীবাহক বা আদর্শ (নিজের চূড়ান্ত লড়াইয়ের ময়দানে) আরজ করল: হে আমার প্রতিপালক! তুমি পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত আইনি ফায়সালা বা রায় জারি করো (Rabbih-kum bil-haqq); আর আমাদের একমাত্র লালনকর্তা হলেন পরম দয়াময় আল্লাহ, যাঁর নিকট সমস্ত সাহায্য ও সুরক্ষার আবেদন করা হয়—তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে নিজের কায়েমি স্বার্থে যে সমস্ত অসাড়, মনগড়া ও মিথ্যা গুণের আরোপ করছ তার বিপরীতে।”

Keywords:

  • الْمُسْتَعَانُ (Al-Musta’ānu): এমন এক অমোঘ আশ্রয় বা সত্তা যাঁর বিধিবদ্ধ প্রাকৃতিক ও ঐশী আইনের নিকট সমস্ত শক্তি নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ও সাহায্য পেতে বাধ্য হয়।

[1] .    Sovereignty has been defined as “the power to be all things without accountability”. Robert Lansing “Notes on Sovereignty”, p. 3 (Quoted by Jacques Maritain in Man and the State, p. 51)

[2] Meteors are small celestial bodies of the solar system that break away from their path due to gravitational pull.  They come down as a shower of stones.  When they come down, the earth’s atmosphere grinds them down to dust.  Sometimes these stones are big and do not grind down completely; and small pieces fall on earth.  However, this happens rarely.  If the atmosphere did not do that, the stone rain would make life on earth very difficult.  The atmosphere acts like a ‘safe roof’.

[3]        Another import of this can be that the priests might have said, “We know that it is a doing of your party but we want to ascertain whether you yourself have done it or any other member of your group.”  In answer to which Abraham could have said, “No not anybody else, but the biggest of them standing right before you has personally done it.”  But to us the manner of response brought forth in the context is closer to Abraham’s mature approach mentioned in 21:51.

[4]   If these verses are considered to pertain to life after death, then they have reference to the total annihilation of this physical universe, after which another era of new creation would begin. In that case this particular verse points to a great event when, after this ‘doom’, re-creation of a new universe shall start, like it had done the first time.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *