SURAH 23 : Al-Mu’minûn

Ayat 1

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ

“নিশ্চয়ই সেই পরম মানসিক শান্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারীরা চূড়ান্ত সাফল্য, বিকাশ ও সমৃদ্ধি লাভ করেছে (Qad aflahal-mu'minūn)।”

Keywords:

  • أَفْلَحَ (Aflaha): সমস্ত প্রকার বাধা-বিপত্তি ও সংকটের দেয়াল ভেঙে বীজ থেকে মহীরুহ হওয়ার মতো মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক কাঠামোর চূড়ান্ত বিকাশ ও সফলতায় পৌঁছানো।
  • الْمُؤْمِنُونَ (Al-Mu’minūn): যারা অন্ধবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরম মানসিক শান্তি এবং সত্যের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় অর্জন করেছে।

Ayat 2

الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ

“তারাই তারা, যারা নিজেদের সামাজিক অনুশাসন, ঐশী সংযোগ ও দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থায় অত্যন্ত বিনীত, সমর্পিত ও অহংকারমুক্ত থাকে (Fī Salātihim khāshi'ūn)।”

Keywords:

  • صَلَاتِهِمْ (Salāt): আল্লাহর বিধানের সাথে মানুষের সার্বক্ষণিক সচেতন সংযোগ, সামাজিক অনুশাসন ও নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলা।
  • خَاشِعُونَ (Khāshi’ūn): ভেতরের সমস্ত অহংকার, জেদ ও গোঁড়ামি ত্যাগ করে কোনো মহৎ উদ্দেশ্য বা আইনের সামনে সম্পূর্ণ শান্ত ও বিনীত হওয়া।

Ayat 3

وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ

“এবং যারা সর্বপ্রকার অসার, নিরর্থক, ভিত্তিহীন দর্শন ও বিকৃত ক্রিয়াকলাপ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে রাখে বা বর্জন করে ('Anil-laghwi mu'ridūn)।”

Keywords:

  • اللَّغْوِ (Al-Laghw): এমন সমস্ত কথাবার্তা, প্রথা বা কর্ম যার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই এবং যা মানুষের চেতনা ও সমাজকে কলুষিত করে।

Ayat 4

وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ

“এবং যারা সমাজে আত্মশুদ্ধি, মেধার বিকাশ ও ভারসাম্য বজায় রাখার পুষ্টি উপাদান সচল ও কার্যকর রাখতে অবিরাম সক্রিয় ভূমিকা পালন করে (Liz-Zakāti fā'ilūn)।”

Keywords:

  • الزَّكَاةِ (Zakāt): মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনার বিকাশ, শুদ্ধিকরণ এবং সমাজের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক উপাদান।

Ayat 5

وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ

“এবং যারা নিজেদের সমস্ত অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, উন্মুক্ত প্রবেশদ্বার এবং চারিত্রিক শুদ্ধিতাকে সর্বপ্রকার বিকৃতি থেকে কঠোরভাবে সুরক্ষিত রাখে (Lifurūjihim hāfizūn),”

Keywords:

  • لِفُرُوجِهِمْ (Lifurūjihim): আক্ষরিক গুপ্তাঙ্গের পাশাপাশি ধারণাগত প্রাতিষ্ঠানিক পরিভাষায় এর অর্থ—কোনো চরিত্র বা ব্যবস্থার এমন দুর্বল বা উন্মুক্ত প্রবেশদ্বার যা দিয়ে ক্ষতিকর বিকৃতি প্রবেশ করতে পারে (ধাতুমূল: ফ-র-জ = ফাঁক বা উন্মুক্ত অংশ)।

Ayat 6

إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ

“নিজেদের সেই সুনির্দিষ্ট সামাজিক সহচর বা জীবন-সঙ্গী (Azwājihim) অথবা নিজেদের আইনসঙ্গত অধিকারভুক্ত ও সুসংগত চালিকাশক্তিসমূহ ব্যতীত; কারণ এগুলোর ক্ষেত্রে তারা বিন্দুমাত্র কোনো নিন্দা বা ত্রুটির শিকার হবে না;”


Ayat 7

فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ

“অতঃপর যে কেউ এই নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে অন্য কোনো পথ বা বিকৃতি অন্বেষণ করবে, তারাই হবে মূল আইনি সীমালঙ্ঘনকারী ও সমাজ-বিপর্যয়কারী (Humul-'ādūn)।”


Ayat 8

وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ

“এবং যারা নিজেদের ওপর অর্পিত আমানত বা সামাজিক দায়িত্বসমূহ এবং নিজেদের সম্পাদিত পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি বা শাসনতান্ত্রিক চুক্তি নিখুঁতভাবে রক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করে (Li-amānātihim wa 'ahdihim rā'ūn)।”

Keywords:

  • عَهْدِهِمْ (‘Ahd): সমাজ বা আল্লাহর আইনের সাথে সম্পাদিত অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, সুদৃঢ় ও অপরিবর্তনীয় প্রতিশ্রুতি বা শাসনতান্ত্রিক চুক্তি।

Ayat 9

وَالَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ

“এবং যারা নিজেদের সামাজিক অনুশাসন, ঐশী সংযোগ ও দায়িত্বের প্রতিটি স্তরকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সুরক্ষিত ও কায়েম রাখে ('Alā salawātihim yuhāfizūn)।”


Ayat 10

أُولَٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ

“তারাই হলো প্রকৃত উত্তরাধিকারী ও মূল কাস্টোডিয়ান বা মোড়ল (Humul-wārisūn),”


Ayat 11

الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

“যারা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করবে ‘ফিরদাউস’ নামক সেই পরম সুখ, প্রাচুর্য ও সুউচ্চ সুরক্ষার সামাজিক বাগান; তারা সেটির ভেতরে চিরকাল সমাসীন থাকবে।”

Keywords:

  • الْفِرْدَوْسَ (Al-Firdaws): এমন এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রাচুর্য, নিরাপত্তা ও সুউচ্চ স্তরের পরম শান্তির সমাজ যা আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার ফলে মানুষ লাভ করে।

Ayat 12

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ

“আর নিশ্চয়ই আমি মানবসত্তাকে (তার অস্তিত্বের আদি পর্যায় থেকে) সৃষ্টি করেছি নিষ্প্রাণ মাটির এক সুনির্দিষ্ট সুসংগত নির্যাস থেকে (Min sulālatim min tīn),”


Ayat 13

ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ

“অতঃপর আমি তাকে এক বিন্দু তরল উপাদান বা শুক্রকীট হিসেবে এক অত্যন্ত সুদৃঢ়, সুরক্ষিত ও সুসংগঠিত গর্ভাশয় বা ক্ষেত্রে স্থাপন করেছি (Fī qarārim makīn),”


Ayat 14

ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ ۚ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

“অতঃপর আমি সেই তরল উপাদানকে জরায়ুর দেয়ালে নিবিড়ভাবে ঝুলে থাকা রক্তপিণ্ড বা সংযোগের অবস্থায় রূপান্তর করেছি, অতঃপর সেই সংযোগের অবস্থাকে এক সুনির্দিষ্ট মাংসপিণ্ড বা সুবিন্যস্ত কায়ায় রূপ দিয়েছি, অতঃপর সেই মাংসপিণ্ডকে এক সুদৃঢ় সুসংগত হাড়ের কাঠামোয় রূপান্তর করেছি, অতঃপর সেই হাড়ের কাঠামোকে ঢেকে দিয়েছি মাংসের সুষম আবরণ দিয়ে; অতঃপর আমি তাকে এক সম্পূর্ণ নতুন ও স্বতন্ত্র সৃষ্টি হিসেবে উন্মেষ বা বিকাশ ঘটিয়েছি; সুতরাং অফুরন্ত কল্যাণ ও বরকতের আধার হলেন আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম সৃষ্টি ও রূপদানকারী।”


Ayat 15

ثُمَّ إِنَّكُم بَعْدَ ذَٰلِكَ لَمَيِّتُونَ

“অতঃপর নিশ্চয়ই তোমরা এই জীবনের (স্বাভাবিক কর্মকালের) পর অবধারিতভাবে জড়তা বা মৃত্যুর মুখোমুখি হবে,”


Ayat 16

ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ

“অতঃপর নিশ্চয়ই সেই চূড়ান্ত ফলাফল ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিনে তোমরা এক নতুন জীবন বা উত্থানে পুনরুজ্জীবিত হবে (Tub'asūn)।”


Ayat 17

وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غَافِلِينَ

“আর নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সুউচ্চ সুরক্ষায় সৃষ্টি করেছি সাতটি সুনির্দিষ্ট স্তর বা কক্ষপথের অমোঘ নিয়ম-ব্যবস্থা (Sab'a tarā'iqa), আর আমি আমার সৃষ্টি-ব্যবস্থা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র উদাসীন বা বেখবর নই।”


Ayat 18

وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ فَأَسْكَنَّاهُ فِي الْأَرْضِ ۖ وَإِنَّا عَلَىٰ ذَهَابٍ بِهِ لَقَادِرُونَ

“এবং আমি উচ্চ সুরক্ষার বা মেঘের স্তর থেকে পুষ্টিকর জীবন-উপকরণ বা পানি বর্ষণ করি এক সুনির্দিষ্ট পরিমাপ ও ভারসাম্য বজায় রেখে (Biqadarin), অতঃপর আমি সেটিকে এই সমাজ-জমিনের বুকে স্থিতিশীল ও জমা রাখি; আর নিশ্চয়ই আমি সেটিকে সম্পূর্ণরূপে অপসারণ বা বিলীন করে দিতে পূর্ণ সক্ষম।”


Ayat 19

فَأَنشَأْنَا لَكُم بِهِ جَنَّاتٍ مِّن نَّخِيلٍ وَأَعْنَابٍ لَّكُمْ فِيهَا فَوَاكِهُ كَثِيرَةٌ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ

“অতঃপর আমি সেটির দ্বারা তোমাদের জন্য গড়ে তুলি খেজুর ও আঙুরের মতো সুদৃঢ় ও ফলপ্রসূ আদর্শের পরম সুরক্ষার বাগানসমূহ (Jannātim min nakhīlin wa a'nāb), যেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে বহুবিদ ফলপ্রসূ উৎপাদন ও ফলাফল, যা থেকে তোমরা পুষ্টি শোষণ ও ভোগ করো;”


Ayat 20

وَشَجَرَةً تَخْرُجُ مِن طُورِ سَيْنَاءَ تَنبُتُ بِالدُّهْنِ وَصِبْغٍ لِّلْآكিলِينَ

“এবং আমি সৃষ্টি করেছি এমন এক চিরসবুজ জীবন-বৃক্ষ বা আদর্শ যা সীনা পাহাড়ের সুউচ্চ সুদৃঢ় মঞ্চ থেকে উৎসারিত হয় (Takhruju min Tūri Sīnā'a), যা ধারণ করে এক অত্যন্ত স্নিগ্ধ তেল বা চালিকাশক্তি এবং পুষ্টি গ্রহণকারীদের জন্য এক অনন্য আদর্শিক রঙ বা স্বাতন্ত্র্য (Wa sibghil-lil-ākilīn)।”

Keywords:

  • صِبْغٍ (Sibgh): আক্ষরিক রঙ হলেও ধারণাগত পরিভাষায় এটি আল্লাহর কিতাবের এমন এক অনন্য চারিত্রিক রঙ, আদর্শিক বৈচিত্র্য বা স্বাতন্ত্র্য যা মানুষের ব্যক্তিত্বকে রাঙিয়ে তোলে।

Ayat 21

وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً ۖ نُّسْقِيكُم مِّمَّا فِي بُطُونِهَا وَلَكُمْ فِيهَا مَنَافِعُ كَثِيرَةٌ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ

“আর নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য জীবন ধারণের সহজলভ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপকরণ বা পশুসম্পদের মধ্যেও রয়েছে এক অত্যন্ত চাক্ষুষ ও সুগভীর মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা (La-'ibratan); আমি তোমাদের পুষ্ট করি সেগুলোর পেটের ভেতর থেকে আসা উপাদানের দ্বারা এবং সেগুলোর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে বহুবিদ সামাজিক উপকারিতা এবং তা থেকে তোমরা লাভবান হও;”


Ayat 22

وَعَلَيْهَا وَعَلَى الْفُلْكِ تُحْمَلُونَ

“আর সেগুলোর ওপর এবং সমাজ-সমুদ্রে সচল থাকা সুশৃঙ্খল মতাদর্শ বা প্রাতিষ্ঠানিক চালিকাশক্তিগুলোর ওপর আরোহণ করে তোমরা তোমাদের গন্তব্যে এগিয়ে যাও (Wa 'alal-fulki tuhmalūn)।”

Keywords:

  • الْفُلْكَ (Al-Fulk): আক্ষরিক অর্থে ‘নৌযান’ হলেও সমাজতাত্ত্বিক পরিভাষায় এটি এমন সুশৃঙ্খল মতাদর্শ বা নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যা মানুষের সমাজ জীবনকে সচল রাখে।

Ayat 23

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ أَفَلَا تَتَّقُونَ

“আর নিশ্চয়ই আমি নূহের আদর্শকে তার জাতির নিকট বাণীবাহক হিসেবে প্রেরণ করেছিলাম; সে বলেছিল: হে আমার জাতি! তোমরা কেবল একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব ও অনুশাসন কার্যকর করো (A'budullāha), তিনি ব্যতিরেকে তোমাদের অন্য কোনো মনগড়া ইলাহ বা প্রথার বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা নেই; তবে কি তোমরা বিন্দুমাত্র সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করবে না?”


Ayat 24

فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُرِيدُ أَن يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَنزَلَ مَلَائِكَةً مَّا سَمِعْنَا بِهَٰذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ

“অতঃপর তার জাতির মধ্যকার সেই উচ্চবিত্ত, অহংকারী ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারী শোষক শ্রেণীটি (Al-Mala'ul-lazīna kafarū) সাধারণ মানুষকে উস্কে দিয়ে বলেছিল: এ তো তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ বৈ আর কিছুই নয়, সে কেবল তোমাদের ওপর নিজের সুউচ্চ মোড়লিপনা বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় (Yurīdu ay-yatafaddala 'alaykum); আর আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তিনি কোনো অলৌকিক অদৃশ্য শক্তিস্তর বা ফেরেশতা অবতীর্ণ করতেন, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যুগে তো কখনো এমন শাসনতান্ত্রিক কথা শুনিনি!”

Keywords:

  • الْمَلَأُ (Al-Mala’): সমাজে কায়েমি স্বার্থবাদী, উচ্চবিত্ত, কর্পোরেট বা রাজনৈতিক শোষক গোষ্ঠী যা সমাজকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সত্যকে অবদমন করে।

Ayat 25

إِنْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ بِهِ جِنَّةٌ فَتَرَبَّصُوا بِهِ حَتَّىٰ حِينٍ

“এ তো কেবল এমন একজন ব্যক্তি যার মানসিকতায় এক চরম উন্মাদনা বা অদৃশ্য ঘোরের আচ্ছন্নতা রয়েছে (Bihī jinnatun); সুতরাং তোমরা এক সুনির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত এর পরিণতির জন্য প্রতীক্ষা করো।”


Ayat 26

قَالَ رَبِّ انصُرْنَا بِمَا كَذَّبُونِ

“সে আরজ করল: হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমার এই পরম সত্যকে সরাসরি অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে, তার বিপরীতে তুমি আমাকে এক অমোঘ সাংগঠনিক বিজয় বা সাহায্য দান করো (Rabbinsurnī bimā kazzabūn)।”


Ayat 27

فَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِ أَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا فَإِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ Тَّنُّورُ ۙ فَاسْلُكْ فِيهَا مِن كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَن سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ مِنْهُمْ ۖ وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا ۚ إِنَّهُم مُّغْرَقُونَ

“অতঃপর আমি তার প্রতি এই মর্মে সুনির্দিষ্ট ঐশী বার্তা ও আইনি ডিক্রি জারি করলাম—তুমি আমার নিখুঁত পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনার অধীনে সেই সামাজিক সুরক্ষার সুশৃঙ্খল কিস্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করো (Isna'il-fulka); অতঃপর যখনই আমার অবধারিত শাসনতান্ত্রিক আদেশ চলে আসবে এবং সমাজের বৈপ্লবিক চুল্লি বা চিন্তার কেন্দ্রটি তীব্র ক্ষোভে ফেঁপে উঠবে (Wa fārat-tannūru), তখন তুমি সেই কাঠামোর ভেতরে প্রতিটি প্রয়োজনীয় উপাদানের সুষম জোড়া বা ভারসাম্যপূর্ণ অংশসমূহ প্রবেশ করাও এবং তোমার আদর্শিক পরিবারকেও—তাদের মধ্য থেকে সে ব্যতীত, যার বিরুদ্ধে অন্যায়ের কারণে পূর্বেই ধ্বংসের রায় অবধারিত হয়ে গেছে; আর তুমি এই ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী জালিমদের পক্ষে আমার নিকট বিন্দুমাত্র কোনো আইনি সুপারিশ কোরো না; নিশ্চয়ই তারা (নিজেদের ভুলের অবধারিত ফল হিসেবে) লক্ষ্যহীন বিভ্রান্তির প্লাবনে সম্পূর্ণরূপে ডুবে ধ্বংস হতে চলেছে।”

Keywords:

  • وَفَارَ Тَّنُّورُ (Wa fārat-tannūr): আক্ষরিক মাটির রুটি বানানোর তন্দুর বা চুলা নয়, বরং সমাজের মনস্তাত্ত্বিক ও শাসনতান্ত্রিক ক্ষেত্রে তীব্র অসন্তোষ, ক্ষোভ ও ওলটপালটের বৈপ্লবিক চুল্লি বা অগ্ন্যুৎপাত অবস্থা।

Ayat 28

فَإِذَا اسْتَوَيْتَ أَنتَ وَمَن مَّعَكَ عَلَى الْفُلْكَ فَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَجَّانَا مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

“অতঃপর যখন তুমি এবং তোমার সাথে থাকা সত্যপন্থীরা সেই সুশৃঙ্খল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা লাভ করবে, তখন তুমি সুস্পষ্ঠভাবে ঘোষণা করো: সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবল একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য, যিনি আমাদের সেই ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী শোষক জাতি থেকে সম্পূর্ণ উদ্ধার বা সুরক্ষা দান করেছেন।”


Ayat 29

وَقُل رَّبِّ أَنزِلْنِي مُنزَلًا مُّبَارَكًا وَأَنتَ خَيْرُ الْمُنزِلِينَ

“আর তুমি অবিরত আবেদন করো: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে এক অত্যন্ত বরকতময়, অফুরন্ত কল্যাণ ও বিকাশমুখী সুউচ্চ স্তরে অবতীর্ণ বা সমাসীন করো (Munzalam mubārakan); আর তুমিই তো স্থিতিশীলতা ও সুউচ্চ স্থান দানকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।”


Ayat 30

إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ وَإِن كُنَّا لَمُبْتَلِينَ

“নিশ্চয়ই এই সম্পূর্ণ ঐতিহাসিক বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যে নিহিত রয়েছে সুগভীর চাক্ষুষ নিদর্শন ও অকাট্য প্রমাণ; আর আমি তো (এই ধরনের সামাজিক সংকটের মাধ্যমে মানব সমাজকে) অবিরত পরীক্ষা ও যাচাই করে থাকি।”


Ayat 31

ثُمَّ أَنشَأْنَا مِن بَعْدِهِمْ قَرْنًا آخَرِينَ

“অতঃপর তাদের (সেই ধ্বংসপ্রাপ্তদের) পর আমি এক সম্পূর্ণ নতুন সুদীর্ঘ সময়কাল বা নতুন এক শক্তিশালী প্রজন্মের উন্মেষ ঘটালাম (Qarnan ākharīn),”


Ayat 32

فَأَرْسَلْنَا فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ أَفَلَا تَتَّقُونَ

“অতঃপর আমি তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই এক যোগ্য বাণীবাহককে তাদের নিকট প্রেরণ করলাম এই বার্তা দিয়ে—তোমরা কেবল একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব ও অনুশাসন কার্যকর করো, তিনি ব্যতিরেকে তোমাদের অন্য কোনো মনগড়া ইলাহ বা প্রথার বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা নেই; তবে কি তোমরা বিন্দুমাত্র সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করবে না?”


Ayat 33

وَقَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِهِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ الْآخِرَةِ وَأَتْرَفْنَاهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا مَا هَٰذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ

“অতঃপর তার জাতির মধ্যকার সেই উচ্চবিত্ত শোষক শ্রেণীটি—যারা ভবিষ্যতের দীর্ঘস্থায়ী বৈপ্লবিক জীবন বা চূড়ান্ত ফলাফলের মুখোমুখি হওয়াকে সরাসরি অস্বীকার করেছিল এবং যাদের আমি এই ক্ষণস্থায়ী বৈষয়িক জীবনে চরম বিলাসিতা ও কায়েমি অন্ধ মোহে মত্ত করে রেখেছিলাম (Wa atrafnāhum), তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বলেছিল: এ তো তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ বৈ আর কিছুই নয়, তোমরা যা কিছু পুষ্টি হিসেবে গ্রহণ করো এ-ও তা থেকেই শোষণ করে এবং তোমরা যা কিছু পান করো এ-ও তা থেকেই পান করে (অর্থাৎ এর মধ্যে কোনো বিশেষ অলৌকিকত্ব নেই)!”

Keywords:

  • وَأَتْرَفْنَاهُمْ (Atrafnāhum): কোনো সমাজ বা শ্রেণী যখন অতিরিক্ত বৈষয়িক প্রাচুর্য, ক্যাপিটালিস্টিক লাক্সারি ও বিলাসিতার কারণে সম্পূর্ণ অন্ধ ও বিবেকহীন হয়ে পড়ে।

Ayat 34

وَلَئِنْ أَطَعْتُم بَشَرًا مِّثْلَكُمْ إِنَّكُمْ إِذًا لَّخَاسِرُونَ

“আর তোমরা যদি তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষের তৈরি আইনের বা নির্দেশনার অন্ধ আনুগত্য করো, তবে তোমরা সেটির অবধারিত ফল হিসেবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে।”


Ayat 35

أَيَعِدُكُمْ أَنَّكُمْ إِذَا مِتُّمْ وَكُنتُمْ تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّكُم مُّخْرَجُونَ

“সে কি তোমাদের এই অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে—যখন তোমরা (সামাজিকভাবে বা স্বাভাবিক নিয়মে) অচল বা মৃত হয়ে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং কেবল নিস্প্রাণ হাড়ে পরিণত হবে, তখন তোমাদের নাকি পুনরায় এক নতুন সজীব জীবন বা উত্থানে বের করে আনা হবে?”


Ayat 36

هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ لِمَا تُوعَدُونَ

“সুদূরপরাহত! অত্যন্ত সুদূরপরাহত ও সম্পূর্ণ অবাস্তব সেই বিষয় যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের অবিরত দেওয়া হচ্ছে!”


Ayat 37

إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ

“আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী বৈষয়িক জীবনটাই তো একমাত্র আসল বাস্তবতা, এখানেই আমাদের একদল অচল বা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং অন্য দল নতুন সজীবতা লাভ করছে, আর আমাদের কোনো অবস্থাতেই পুনরায় কোনো নতুন বৈপ্লবিক উত্থান বা পুনরুজ্জীবন দেওয়া হবে না;”


Ayat 38

إِنْ هُوَ إِلَّا رَجلٌ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا وَمَا نَحْنُ لَهُ بِمُؤْمِنِينَ

“এ তো কেবল এমন একজন ব্যক্তি যে আল্লাহর বিধানের নামে এক সুগভীর মিথ্যা ও মনগড়া রূপকথা বানিয়ে সাজিয়েছে (Iftarā 'alallāhi kazibā), আর আমরা কোনো অবস্থাতেই এর উপস্থাপিত থিওরিতে বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।”


Ayat 39

قَالَ رَبِّ انصُرْنَا بِمَا كَذَّبُونِ

“সে আরজ করল: হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমার এই পরম সত্যকে সরাসরি অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে, তার বিপরীতে তুমি আমাকে এক অমোঘ সাংগঠনিক বিজয় বা সাহায্য দান করো।”


Ayat 40

قَالَ عَمَّا قَلِيلٍ لَّيُصْبِحُنَّ نَادِمِينَ

“ঘোষণা হলো: খুব সামান্য সময়ের বা পর্যায়ের পরেই তারা নিজেদের কৃতকর্মের ভয়ঙ্কর কুফলে চরম অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে চলেছে (Layusbihunna nādimīn)।”


Ayat 41

فَأَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَةُ بِالْحَقِّ فَجَعَلْنَاهُمْ غُثَاءً ۚ فَبُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

“অতঃপর পরম সত্যের অমোঘ নিয়মে এক ভয়ঙ্কর বৈপ্লবিক আওয়াজ বা সামাজিক ওলটপালটের মহাবিপদ তাদের গ্রাস করল (Fa-akhazathumus-sayhatu bil-haqq), ফলে আমি সেগুলোকে স্রোতে ভেসে যাওয়া নিস্প্রাণ আবর্জনা বা খড়কুটার মতো মূল্যহীন করে দিলাম; সুতরাং চিরতরে দূর হয়ে যাক সেই ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী শোষক জাতি!”

Keywords:

  • الصَّيْحَةُ (As-Sayhah): আক্ষরিক কোনো চিৎকার নয়, বরং সমাজে পুঞ্জীভূত অন্যায়ের অবধারিত কুফল হিসেবে হঠাৎ নেমে আসা এক ভয়ঙ্কর শাসনতান্ত্রিক বা প্রাকৃতিক বৈপ্লবিক ওলটপালটের মহাবিপদ।

Ayat 42

ثُمَّ أَنشَأْنَا مِن بَعْدِهِمْ قُرُونًا آخَرِينَ

“অতঃপর তাদের (সেই ধ্বংসপ্রাপ্তদের) পর আমি এক এক করে বহুবিদ সুদীর্ঘ সময়কাল বা নতুন শক্তিশালী প্রজন্মসমূহের উন্মেষ ঘটালাম,”


Ayat 43

مَا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَأْخِرُونَ

“কোনো আদর্শিক সমাজ বা জাতিই (Min ummatin) তার নিজের জন্য নির্ধারিত প্রাকৃতিক সময়সীমা বা লক্ষ্যকে বিন্দুমাত্র অতিক্রম বা তরান্বিত করতে পারে না এবং সেটিকে বিলম্বিতও করতে পারে না।”


Ayat 44

ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَىٰ ۖ كُلَّ مَا جَاءَ أُمَّةً رَّسُولُهَا كَذَّبُوهُ ۚ فَأَتْبَعْنَا بَعْضَهُم بَعْضًا وَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ ۚ فَبُعْدًا لِّقَوْمٍ لَّا يُؤْمِنُونَ

“অতঃপর আমি আমার বাণীবাহক বা আদর্শিক চালিকাশক্তিগুলোকে একের পর এক ধারাবাহিকতায় অবিরত প্রেরণ করতে থাকলাম (Rusulanā tatrā); যখনই কোনো আদর্শিক সমাজের নিকট তার নিজস্ব বাণীবাহক আগমন করল, তখনই তারা তাকে সরাসরি অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করল; ফলে আমি (আমার অমোঘ নিয়মে) তাদের একদলকে অন্য দলের পেছনে ধ্বংসের মিছিলে লেলিয়ে দিলাম এবং তাদের কেবলই ইতিহাসের অসার রূপকথা বা কেচ্ছাকাহিনীতে পরিণত করে ছেড়ে দিলাম (Waja'alnāhum ahādīsa); সুতরাং চিরতরে দূর হয়ে যাক সেই জাতি যারা বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে না!”


Ayat 45

ثُمَّ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ وَأَخَاهُ هَارُونَ بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِينٍ

“অতঃপর আমি মূসা এবং তার সহযোগী ভাই হারূনকে প্রেরণ করলাম আমার সুস্পষ্ট আয়াত বা আইনি অনুশাসনসমূহ এবং এক অত্যন্ত প্রকাশ্য ও অকাট্য শাসনতান্ত্রিক দলিল বা প্রমাণাদিসহ (Wa sultānim mubīn),”

Keywords:

  • سُلْطَانٍ مُّبِينٍ (Sultānim mubīn): এমন এক অকাট্য, প্রকাশ্য শাসনতান্ত্রিক দলিল, আইনি কর্তৃত্ব বা যৌক্তিক ক্ষমতা যা প্রতিপক্ষের সমস্ত মিথ্যা যুক্তিকে চাক্ষুষভাবে পরাভূত করে।

Ayat 46

إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا عَالِينَ

“ফেরাউন এবং তার উচ্চবিত্ত শোষক আমলাতন্ত্রের নিকট; কিন্তু তারা নিজেদের কায়েমি অহংকারে সত্যকে চরম ঔদ্ধত্যের সাথে প্রত্যাখ্যান করল (Fastakbarū) এবং তারা ছিল এক অত্যন্ত উগ্র, সীমালঙ্ঘনকারী ও নিপীড়ক জাতি।”


Ayat 47

فَقَالُوا أَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَابِدُونَ

“তারা বলেছিল: আমরা কি আমাদের মতোই এমন দুজন সাধারণ মানুষের তৈরি দর্শনে বা আইনি রূপরেখায় বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ তাদের গোটা সমাজ ও জাতি অলরেডি আমাদেরই তৈরি করা দাসত্ব ও শৃঙ্খলের অধীনে অবিরত খাটছে (Wa qawmuhumā lanā 'ābidūn)?”


Ayat 48

فَكَذَّبُوهُمَا فَكَانُوا مِنَ الْمُهْلَكِينَ

“অতঃপর তারা সেই দুজনকে (তাদের উপস্থাপিত ঐশী আইনকে) সরাসরি অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, সেটির অবধারিত ফল হিসেবে তারা প্রাকৃতিক নিয়মে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো।”


Ayat 49

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ

“আর নিশ্চয়ই আমি মূসাকে সেই বিধিবদ্ধ কিতাব বা শাসনতান্ত্রিক রূপরেখা দান করেছিলাম, যাতে তারা সেই সমাজ-শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে সঠিক ও সোজা পথের সন্ধান লাভ করতে পারে।”


Ayat 50

وَجَعَلْنَا ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ آيَةً وَآوَيْنَاهُمَا إِلَىٰ رَبْوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَمَعِينٍ

“এবং আমি মারিয়ামের গর্ভে লালিত সেই ঐশী মেধা বা ফসলকে (ঈসাকে) এবং তার মূল গর্ভাশয় বা ক্ষেত্রটিকে এক অমোঘ চাক্ষুষ নিদর্শন বা প্রমাণ হিসেবে স্থাপন করলাম (Āyatan), এবং আমি তাদের উভয়কে আশ্রয় ও স্থায়িত্ব দান করলাম এক অত্যন্ত সুউচ্চ, উর্বর ও নিরাপদ জ্ঞানতাত্ত্বিক মঞ্চে (Ila rabwatin), যা ছিল পরম স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছ সুপেয় জ্ঞান-স্রোতে সমৃদ্ধ (Zāti qarāriw-wa ma'īn)।”

Keywords:

  • رَبْوَةٍ (Rabwah): আক্ষরিক টিলা বা সুউচ্চ ভূমি হলেও জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিভাষায় এটি এমন এক সুউচ্চ, উর্বর ও সম্মানিত বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণাগার বা স্টেজ যা মানুষের চেতনাকে এক লাফে উচ্চে নিয়ে যায়।

Ayat 51

يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا ۖ إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ

“হে বাণীবাহকগণ! (হে কিতাবের বিপ্লবী চালিকাশক্তিসমূহ!) তোমরা সর্বপ্রকার পবিত্র, বিকৃতিহীন ও বিশুদ্ধ পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করো এবং সমাজে সংশোধনমূলক ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করো (Wa'malū sālihā); নিশ্চয়ই তোমরা যা কিছু করছ, সে সম্পর্কে আমি নিখুঁতভাবে পরিজ্ঞাত।”


Ayat 52

وَإِنَّ هَٰذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ

“আর নিশ্চয়ই তোমাদের এই যে কিতাবের আদর্শিক সমাজ ব্যবস্থা, তা মূলত এক সুসংহত ও একক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটিই অবিভাজ্য সমাজ (Ummataw wāhidatan); আর আমিই তোমাদের একমাত্র লালনকর্তা ও বিধানদাতা, সুতরাং তোমরা কেবল আমারই বিধান লঙ্ঘনের অবধারিত ক্ষতি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখো।”


Ayat 53

فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًا ۖ كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ

“অথচ তারা নিজেদের কায়েমি স্বার্থ ও মনগড়া অন্ধ মতাদর্শের কারণে নিজেদের শাসনতান্ত্রিক ঐক্য ও মূল কিতাবের আইনকে নিজেদের মধ্যে দল উপদলে টুকরো টুকরো করে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলল (Zuburā); আজ প্রতিটি উপদল বা মনগড়া রাজনৈতিক গোষ্ঠী কেবল তাদের নিজেদের কাছে থাকা অসার উপাদান নিয়েই আত্মতুষ্টি ও অহংকারে মত্ত হয়ে বসে আছে (Kullu hizbim bimā ladayhim farihūn)।”

Keywords:

  • حِزْبٍ (Hizb): সত্যের একক ভিত্তিকে বর্জন করে নিজেদের কায়েমি এজেন্ডা ও গোঁড়ামির স্বার্থে তৈরি করা অত্যন্ত উগ্র রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উপদল বা সিন্ডিকেট।

Ayat 54

فَذَرْهُمْ فِي غَمْرَتِهِمْ حَتَّىٰ حِينٍ

“সুতরাং তুমি তাদেরকে তাদের সেই অজ্ঞতা, মোহ এবং মনস্তাত্ত্বিক অন্ধত্বের অতল গহ্বরে এক সুনির্দিষ্ট সময়কাল বা বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মুহূর্ত পর্যন্ত পরিত্যক্ত অবস্থায় ছেড়ে দাও (Fazarhum fī ghamratihim).”


Ayat 55

أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُم بِهِ مِن مَّالٍ وَبَنِينَ

“তারা কি মনে মনে এই অত্যন্ত ভুল ও অবাস্তব ধারণা পোষণ করছে যে—আমি তাদের বৈষয়িক প্রাচুর্যের স্বার্থে যে ধন-সম্পদ ও আদর্শিক অনুসারী বা জনবল দিয়ে দীর্ঘ ঢিল বা অবকাশ দিচ্ছি,”


Ayat 56

نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ ۚ بَل لَّا يَشْعُرُونَ

“—সেটির দ্বারা আমি বুঝি সমাজে তাদের সর্বপ্রকার কল্যাণকর ও সফলতার দিকে তীব্র গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি? কখনই নয়! বরং তারা বিন্দুমাত্র নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা ও অভ্যন্তরীণ উপলব্ধি দিয়ে আসল সত্য টের পাচ্ছে না (Bal lā yash'urūn)।”


Ayat 57

إِنَّ الَّذِينَ هُم مِّنْ خَشْيَةِ رَبِّهِم مُّشْفِقُونَ

“নিশ্চয়ই তারা—যারা তাদের প্রতিপালকের বিধিবদ্ধ আইনের অমোঘ গাম্ভীর্য ও প্রাকৃতিক নিয়মের প্রতি অত্যন্ত সচেতন ও শ্রদ্ধাশীল আশঙ্কায় সদা সতর্ক থাকে (Min khashyati Rabbihim mushfiqūn),”

Keywords:

  • مُّشْفِقُونَ (Mushfiqūn): কোনো আইন বা নিয়মের প্রতি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ, সুক্ষ্ম সতর্কতা ও পরম যত্নের সাথে দায়িত্বশীল থাকা যাতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি না ঘটে।

Ayat 58

وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ

“এবং যারা তাদের প্রতিপালকের অকাট্য বিধি-বিধান ও চাক্ষুষ নিদর্শনসমূহের প্রতি পূর্ণ মানসিক শান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে,”


Ayat 59

وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ

“এবং যারা তাদের প্রতিপালকের দেওয়া চূড়ান্ত আইনের ও সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি অন্য কোনো মানুষের মনগড়া আইন বা সমাজকে বিন্দুমাত্র অংশীদার বা সমান কর্তৃত্ব দেয় his (Lā yushrikūn),”


Ayat 60

وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوا وَّقُلُوبُهُمْ وَجِلَتْ أَنَّهُمْ إِلَىٰ رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ

“এবং যারা সমাজে কল্যাণকর রাষ্ট্র বা অর্পিত দায়িত্বের ক্ষেত্রে যা কিছু প্রদান করা দরকার তা অকাতরে প্রদান করে, অথচ তাদের সচেতন মন বা চিন্তাকেন্দ্র সর্বদা এই জ্যান্ত আশঙ্কায় প্রকম্পিত ও সজাগ থাকে যে (`Wa qulūbuhum wajilat)—নিশ্চয়ই তাদের প্রতিটি কর্ম ও সিদ্ধান্ত নিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিপালকের বিধিবদ্ধ নিয়মের দিকেই প্রত্যাবর্তিত হতে হবে;”


Ayat 61

أُولَٰئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ

“তারাই হলো সেই অগ্রগামী দল, যারা সমাজে সর্বপ্রকার কল্যাণকর, গঠনমূলক ও সংশোধনমূলক কর্মে তীব্র গতিতে প্রতিযোগিতা করে এবং তারাই সেটির সুফল অর্জনে সবার চেয়ে এগিয়ে যায়।”

আয়াত ৬২

وَلَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۖ وَلَدَيْنَا كِتَابٌ يَنطِقُ بِالْحَقِّ ۖ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

“আর আমি কোনো সত্তার ওপর তার নিজস্ব ধারণক্ষমতা, যোগ্যতা বা সামর্থ্যের বাইরে বিন্দুমাত্র দায়িত্ব বা বোঝা চাপিয়ে দিই না (Illā wus'ahā); আর আমার নিকট রয়েছে এক পরম আইনি রেকর্ড বা বিধিবদ্ধ কিতাব যা পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্যের সাথে চাক্ষুষ প্রমাণ উপস্থাপন করে (Kitābuy yantiqu bil-haqq); আর তাদের অধিকার বিন্দুমাত্র খর্ব বা জুলুম করা হবে না।”

Keywords:

  • كِتَابٌ يَنطِقُ (Kitābuy yantiqu): আল্লাহর দেওয়া কিতাব এবং মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক রেকর্ডের এমন এক সক্রিয় কার্যকারিতা যা মানুষের কৃতকর্মের অকাট্য ও চাক্ষুষ প্রমাণকে জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলে।

আয়াত ৬৩

بَلْ قُلُوبُهُمْ فِي غَمْرَةٍ مِّنْ هَٰذَا وَلَهُمْ أَعْمَالٌ مِّن دُونِ ذَٰلِكَ هُمْ لَهَا عَامِلُونَ

“বরং তাদের সচেতন মন বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাকেন্দ্র এই পরম সত্যের বিষয়ে এক গভীর বিভ্রান্তি, অজ্ঞতা ও মোহাচ্ছন্নতার সাগরে ডুবে রয়েছে (Fī ghamratim min hāzā); আর এর বাইরেও তাদের এমন কিছু অপকর্ম বা এজেন্ডা রয়েছে যা তারা অবিরত সম্পাদন করে চলেছে।”

Keywords:

  • غَمْرَةٍ (Ghamrah): এমন এক গভীর মোহাচ্ছন্নতা, অন্ধ আবেগ বা অজ্ঞতার প্লাবন যা মানুষের বিবেক ও কিতাবের সত্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে।

আয়াত ৬৪

حَتَّىٰ إِذَا أَخَذْنَا مُتْرَفِيهِم بِالْعَذَابِ إِذَا هُمْ يَجْأَرُونَ

“যতক্ষণ না যখন আমি তাদের মধ্যকার সেই বিলাসী, দাম্ভিক ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী এলিট শ্রেণীকে (Mutrafīhim) আমার প্রাকৃতিক নিয়মে অবধারিত ধ্বংসাত্মক পরিণতির দ্বারা পাকড়াও করি, অমনি তারা তীব্র চিৎকার, হাহাকার ও আর্তনাদ করতে শুরু করে (Izā hum yaj'arūn)।”

Keywords:

  • مُتْرَفِيهِم (Mutrafīhim): কোনো সমাজের সেই চরম ভোগবিলাসী, সম্পদ ও ক্ষমতার দাপটে অন্ধ এলিট গোষ্ঠী যা সত্য ও ন্যায়ের ভারসাম্য নষ্ট করে নিজের আখের গোছায়।

আয়াত ৬৫

لَا تَجْأَرُوا الْيَوْمَ ۖ إِنَّكُم مِّنَّا لَا تُنصَرُونَ

“(আমার প্রাকৃতিক ও আইনি অনুশাসন চাক্ষুষ ফায়সালায় জানিয়ে দেয়:) আজ তোমরা বিন্দুমাত্র কোনো চিৎকার বা হাহাকার কোরো না; নিশ্চয়ই আমার বিধিবদ্ধ নিয়মের বিরুদ্ধে তোমাদের কোনো প্রকার সাহায্য বা উদ্ধারকারী দেওয়া হবে না।”


আয়াত ৬৬

قَدْ كَانَتْ آيَاتِي تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فَكُنتُمْ عَلَىٰ أَعْقَابِكُمْ تَنكِصُونَ

“ইতিপূর্বে আমার সুস্পষ্ট আয়াত ও অকাট্য বিধি-বিধানের নিদর্শনসমূহ তোমাদের নিকট ধারাবাহিক বিশ্লেষণ করে শোনানো হতো (Kānat āyātī tutlā 'alaykum), কিন্তু তোমরা অহংকারবশত নিজেদের পেছনের পুরোনো কুসংস্কার ও কায়েমি অভ্যাসের দিকেই পিছলে পড়তে ('Alā a'qābikum tankisūn)।”


আয়াত ৬৭

مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ سَامِرًا تَهْجُرُونَ

“তোমরা সেই সত্যের বিরুদ্ধে চরম দাম্ভিকতা প্রদর্শন করতে (Mustakbirīna bihī), এবং সামিরী মানসিকতায় মত্ত হয়ে রাতের গল্পগুজবের মতো অসার দর্শনের মারপ্যাঁচে সত্যকে বর্জন ও অগ্রাহ্য করতে (Sāmiran tahjurūn)।”

Keywords:

  • سَامِرًا (Sāmira): কিতাবের গভীর জ্ঞান বর্জন করে কেবল নিজেদের কায়েমি স্বার্থে তৈরি করা অসার গল্প, প্রোপাগান্ডা বা মনগড়া যুক্তির মারপ্যাঁচে মেতে থাকা (ধাতুমূল: স-ম-র = রাতে গল্প করা বা ফাঁপা বিনোদন)।

আয়াত ৬৮

أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ أَمْ جَاءَهُم مَّا لَمْ يَأْتِ آبَاءَهُمُ الْأَوَّلِينَ

“তবে কি তারা এই পরম সত্যের বাণীর গভীরে বিন্দুমাত্র বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাভাবনা ও সুদূরপ্রসারী গবেষণা করেনি (A-falam yaddabbarul-qawla), নাকি তাদের কাছে এমন কোনো নতুন বিষয় এসেছে যা তাদের পূর্ববর্তী প্রাচীন পিতৃপুরুষদের নিকট কখনো আসেনি?”

Keywords:

  • يَدَّبَّرُوا (Yaddabbarū): কোনো বিষয়ের কেবল বাহ্যিক রূপ না দেখে সেটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা, পেছনের কার্যকারণ অনুধাবন করা এবং সুদূরপ্রসারী ফলাফলের গভীরে বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা করা (ধাতুমূল: দ-ব-র = পেছনে বা গভীর অনুসন্ধান)।

আয়াত ৬৯

أَمْ لَمْ يَعْرِفُوا رَسُولَهُمْ فَهُمْ لَهُ مُنكِرُونَ

“নাকি তারা তাদের সেই সুনির্দিষ্ট বাণীবাহক বা আদর্শিক রূপরেখাকে চিনতে ও বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে (Am lam ya'rifū Rasūlahum), যার কারণে তারা সেটিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করছে?”


আয়াত ৭০

أَمْ يَقُولُونَ بِهِ جِنَّةٌ ۚ بَلْ جَاءَهُم بِالْحَقِّ وَأَكْثَرُهُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ

“নাকি তারা দাবি করে যে এর (এই বাণীবাহকের) মধ্যে কোনো মনস্তাত্ত্বিক উগ্রতা, ভারসাম্যহীনতা বা পাগলামি রয়েছে? অথচ সে তাদের নিকট নিয়ে এসেছে পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্য (Bal jā'ahum bil-haqq), কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই সেই পরম সত্য ও ন্যায়বিচারকে তীব্রভাবে অপছন্দ ও ঘৃণা করে।”


আয়াত ৭১

وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْوَاءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ ۚ بَلْ أَتَيْنَاهُم بِذِكْرِهِمْ فَهُمْ عَن ذِكْرِهِم مُّعْرِضُونَ

“আর সেই পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্য যদি তাদের এই মনগড়া অন্ধ কামনার বা কুপ্রবৃত্তির অনুগামী হতো (Walowittaba'al-haqqu ahwā'ahum), তবে নিশ্চিতভাবেই সুউচ্চ সুরক্ষামূলক স্তরসমূহ, এই বাস্তব পৃথিবী এবং এই দুইয়ের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু চরম বিপর্যয় ও ধ্বংসের মুখে পতিত হতো; অথচ আমি তাদের নিকট নিয়ে এসেছি তাদের নিজেদেরই প্রকৃত মর্যাদা ও চেতনার পরম রূপরেখা (Bi-zikrihim), কিন্তু তারা নিজেদের সেই পরম রূপরেখা থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।”


আয়াত ৭২

أَمْ تَسْأَلُوهُمْ خَرْجًا فَخَرَاجُ رَبِّكَ خَيْرٌ ۖ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

“নাকি তুমি (এই সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে) তাদের নিকট কোনো বৈষয়িক কর, শুল্ক বা প্রতিদান দাবি করছ? অথচ তোমার প্রতিপালকের দেওয়া লালন-উপাদান ও প্রতিদানই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ; আর তিনি লালন ও বিকাশ-ব্যবস্থা দানকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম।”


আয়াত ৭৩

وَإِنَّكَ لَتَدْعُوهُمْ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

“আর নিশ্চয়ই তুমি তাদেরকে আহ্বান করছ এক অত্যন্ত সুষম, সোজা ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত জীবন-পথের দিকে (Ilā sirātim mustaqīm)।”


আয়াত ৭৪

وَإِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنَاكِبُونَ

“আর নিশ্চয়ই যারা ভবিষ্যতের দীর্ঘস্থায়ী বৈপ্লবিক জীবন ও কর্মের অবধারিত ফলাফলের প্রতি বিন্দুমাত্র দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে না, তারা সেই সুষম সোজা পথ থেকে অবলীলায় ছিটকে পড়া এক বিচ্যুত গোষ্ঠী।”


আয়াত ৭৫

وَلَوْ رَحِمْنَاهُمْ وَكَشَفْنَا مَا بِهِم مِّن ضُرٍّ لَّلَجُّوا فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ

“আর আমি যদি তাদের প্রতি বিশেষ অনুকম্পা প্রদর্শন করে তাদের ওপর আপতিত সমস্ত ক্ষতি বা সামাজিক বিপর্যয় দূরও করে দিতাম, তবুও তারা নিজেদের সেই উগ্র সীমালঙ্ঘন ও অহংকারের অন্ধকূপেই অবিরাম দোদুল্যমান ও দিকভ্রান্ত হয়ে মত্ত থাকত (Lalajjū fī tughyānihim ya'mahūn)।”

Keywords:

  • طُغْيَانِهِمْ (Tughyānihim): আল্লাহর দেওয়া আইনি সীমারেখা ও সামাজিক ভারসাম্য ভেঙে চরম স্বৈরাচার ও ঔদ্ধত্যে মেতে ওঠা।

আয়াত ৭৬

وَلَقَدْ أَخَذْنَاهُم بِالْعَذَابِ فَمَا اسْتَكَانُوا لِرَبِّهِمْ وَمَا يَتَضَرَّعُونَ

“এবং আমি তাদেরকে (সতর্ক করার জন্য) প্রাকৃতিক নিয়মে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ধ্বংসাত্মক পরিণতি বা সংকটের দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, তবুও তারা তাদের প্রতিপালকের বিধিবদ্ধ আইনের সামনে বিন্দুমাত্র বিনীত হয়নি এবং কোনো প্রকার সমর্পণ বা কোমলতা প্রদর্শন করেনি।”


আয়াত ৭৭

حَتَّىٰ إِذَا فَتَحْنَا عَلَيْهِم بَابًا ذَا عَذَابٍ شَدِيدٍ إِذَا هُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ

“যতক্ষণ না যখন আমি তাদের ওপর খুলে দিই এক চূড়ান্ত ও অত্যন্ত কঠোর ধ্বংসাত্মক পরিণতির দ্বার (Bāban zā 'azābin shadīd), অমনি তারা সেটির ভেতরে সম্পূর্ণ আশাহত, নিরাশ, স্তব্ধ ও নির্বাক হয়ে পড়ে।”

Keywords:

  • مُبْلِسُونَ (Mublisūn): সমস্ত আশা-ভরসা হারিয়ে চরম অনুশোচনায় পাথর হয়ে যাওয়া এবং আত্মসংশোধনের সমস্ত সুযোগ চিরতরে হাতছাড়া হওয়া (ধাতুমূল: ব-ল-স = ইবলিস মানসিকতার চূড়ান্ত পরিণতি)।

আয়াত ৭৮

وَهُوَ الَّذِي أَنشَأَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۚ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ

“আর তিনিই তোমাদের (অস্তিত্বের আদি বিকাশ প্রক্রিয়ায়) দান করেছেন কিতাবের বাণী নিবিড়ভাবে গ্রহণ করার শ্রবণক্ষমতা, বাস্তব সত্য প্রত্যক্ষ করার অন্তর্দৃষ্টি এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মননশীল চিন্তাশক্তি (Was-sam'a wal-absāra wal-af'idah); অথচ তোমরা খুব কমই এই নিয়ামতগুলোর সঠিক বাস্তব মূল্যায়ন বা ব্যবহার করো।”

Keywords:

  • الْأَفْئِدَةَ (Al-Af’idah): মানুষের ভেতরের সেই তীব্র অনুভূতিসম্পন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাকেন্দ্র যা অর্জিত তথ্য ও দর্শনকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সঠিক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নেয়।

আয়াত ৭৯

وَهُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

“আর তিনিই তোমাদেরকে এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে সামাজিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দিয়েছেন ও বিকসিত করেছেন, এবং তাঁরই অমোঘ বিচার ও নিয়ম-ব্যবস্থার দিকে তোমাদের সবাইকে জড়ো করা হবে।”


আয়াত ৮০

وَهُوَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ وَلَهُ اخْتِلَافُ اللَّيْلِ وَالنَّهارِ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

“আর তিনিই (নিষ্প্রাণ সমাজ-চেতনাকে কিতাবের জ্ঞান দিয়ে) পুনরুজ্জীবিত ও সজীব করেন এবং তিনিই কর্মকালের সমাপ্তি ঘটান, আর প্রকৃতির ও সমাজের বুকে অন্ধকার ও আলোর ধাপে ধাপে যে বৈচিত্র্যময় আবর্তন ও পরিবর্তন ঘটে তা কেবল তাঁরই বিধিবদ্ধ নিয়মের অধীনে; তবে কি তোমরা বিন্দুমাত্র নিজের বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগাবে না?”


আয়াত ৮১

بَلْ قَالُوا مِثْلَ مَا قَالَ الْأَوَّلُونَ

“বরং তারা (কোনো যুক্তি না মেনে) ঠিক তেমনই অন্ধ কথাবার্তা বলেছে যেমনটি বলেছিল তাদের পূর্ববর্তী প্রাচীন যুগের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষেরা—”


আয়াত ৮২

قَالُوا أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ

“—তারা বলেছিল: যখন আমরা (সামাজিকভাবে বা স্বাভাবিক নিয়মে) অচল বা মৃত হয়ে যাব এবং মাটিতে ও নিস্প্রাণ হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদের পুনরায় এক নতুন বৈপ্লবিক উত্থান বা সজীব জীবনে বের করে আনা হবে (A-innā lamab'ūsūn)?”


আয়াত ৮৩

لَقَدْ وُعِدْنَا نَحْنُ وَآبَاؤُنَا هَٰذَا مِن قَبْلُ إِنْ هَٰذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ

“নিশ্চয়ই এই একই ধরনের প্রতিশ্রুতির ভয় আমাদের এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের ইতিপূর্বেও অবিরত দেখানো হয়েছে; এগুলো তো সুদূর অতীতের প্রাচীন মানুষদের অন্ধ রূপকথা ও মনগড়া বানোয়াট উপাখ্যান ব্যতিরেকে আর কিছুই নয় (In hāzā illā asātīrul-awwalīn)।”

Keywords:

  • أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ (Asātīrul-awwalīn): বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক ভিত্তিহীন এমন সমস্ত প্রাচীন প্রথা, মিথ বা রূপকথা যা মানুষের চিন্তাশক্তিকে অন্ধ অনুকরণের শৃঙ্খলে আটকে রাখে।

আয়াত ৮৪

قُل لِّمَنِ الْأَرْضُ وَمَن فِيهَا إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

“তুমি তাদের চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জে জিজ্ঞাসা করো: এই পৃথিবী এবং এর ওপর যা কিছু বিদ্যমান, তার সমস্ত কিছুর আসল মালিকানা ও Custody কার নিয়ন্ত্রণে, যদি তোমাদের বিন্দুমাত্র কোনো বাস্তব জ্ঞান থাকে?”


আয়াত ৮৫

سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

“তারা অবধারিতভাবেই স্বীকার করে বলবে: এ সমস্তই কেবল আল্লাহর; তুমি বলো: তবে কি তোমরা বিন্দুমাত্র নিজের চিন্তাকে জাগ্রত করবে না ও শিক্ষা গ্রহণ করবে না (A-falā tazakkarūn)?”


আয়াত ৮৬

قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

“তুমি বলো: সেই সুউচ্চ সাতটি সুরক্ষামূলক স্তরের লালনকর্তা কে এবং সেই মহিমান্বিত ও সুউচ্চ শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতার কেন্দ্রের লালনকর্তা ও মালিক কে (Wa Rabbul-'Arshil-'Azīm)?”

Keywords:

  • الْعَرْشِ (Al-‘Arsh): আল্লাহর মহাজাগতিক ও শাসনতান্ত্রিক সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতীক, সুউচ্চ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বা সুনির্দিষ্ট সুশৃঙ্খল আইনি সিংহাসন।

আয়াত ৮৭

سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ

“তারা অবধারিতভাবেই স্বীকার করে বলবে: এ সমস্তই কেবল আল্লাহর; তুমি বলো: তবে কি তোমরা সুরক্ষামূলক সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করবে না?”


আয়াত ৮৮

قُلْ مَن بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

“তুমি বলো: কার করতলগত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মহাবিশ্বের প্রতিটি সত্তা ও উপাদানের চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব ও রাজত্ব (Malakūtu kulli sha'i), এবং যিনি সবাইকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দান করেন কিন্তু তাঁর আইনের বিরুদ্ধে কাউকে বিন্দুমাত্র আশ্রয় বা ঢাল দেওয়া সম্ভব নয়, যদি তোমাদের বিন্দুমাত্র কোনো বাস্তব জ্ঞান থাকে?”


আয়াত ৮৯

سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ فَأَنَّىٰ تُسْحَرُونَ

“তারা অবধারিতভাবেই স্বীকার করে বলবে: এ সমস্তই কেবল আল্লাহর; তুমি বলো: তবে তোমরা কোন বিভ্রান্তিকর কূটকৌশল বা জাদুকরী প্রোপাগান্ডার মোহে অন্ধ হয়ে সত্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছ (Fa-annā tusahārūn)?”


আয়াত ৯০

بَلْ أَتَيْنَاهُم بِالْحَقِّ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ

“বরং আমি তাদের নিকট নিয়ে এসেছি পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্য (Bal ataynāhum bil-haqq), অথচ তারা নিজেরা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে সত্যকে অস্বীকার করছে।”


আয়াত ৯১

مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَٰهٍ ۚ إِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَٰهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ

“আল্লাহ নিজের জন্য কোনো আক্ষরিক সন্তান বা উপজাত গ্রহণ করেননি এবং তাঁর নিয়মের সাথে অন্য কোনো মনগড়া ইলাহ বা সমান্তরাল শাসন-কর্তৃত্বের বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা নেই; যদি তেমনটি হতো, তবে প্রতিটি ইলাহ তার নিজের সৃষ্টি ও আইন নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং তাদের একদল অন্য দলের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে মহাবিশ্বকে ধ্বংস করে দিত; তারা আল্লাহর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অবাস্তব ও মনগড়া গুণের আরোপ করছে, আল্লাহ তা থেকে পরম পবিত্র ও সুউচ্চ স্তরে সমাসীন (Subhānal-lāhi 'ammā yasifūn)।”


আয়াত ৯২

عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ

“তিনি ভবিষ্যতের সমস্ত অদৃশ্য বা সুদূরপ্রসারী বিষয় এবং বর্তমানের প্রতিটি চাক্ষুষ বাস্তবতার নিখুঁত পরিজ্ঞাত; সুতরাং তারা তাঁর আইনের পাশাপাশি অন্য যাকে যাকে সমান কর্তৃত্ব বা অংশীদার বানাচ্ছে, তিনি তা থেকে পরম পবিত্র ও সুউচ্চ স্তরে সমাসীন।”


আয়াত ৯৩

قُل رَّبِّ إِمَّا تُرِيَنِّي مَا يُوعَدُونَ

“তুমি অবিরত আবেদন করো: হে আমার প্রতিপালক! তুমি যদি তাদের যে ধ্বংসাত্মক পরিণতির অবধারিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ, তা আমার চোখের সামনে চাক্ষুষভাবে ফুটিয়ে তোলো—”


আয়াত ৯৪

رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِي فِي الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

“—তবে হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে কোনো অবস্থাতেই সেই ভারসাম্যহীন অন্যায়কারী ও জালিমদের অন্তর্ভুক্ত কোরো না (অর্থাৎ তাদের বিপর্যয় থেকে আমাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষায় রেখো)।”


আয়াত ৯৫

وَإِنَّا عَلَىٰ أَن نُّرِيَكَ مَا نَعِدُهُمْ لَقَادِرُونَ

“আর নিশ্চয়ই আমি তাদের যে ধ্বংসাত্মক পরিণতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তা তোমার চোখের সামনে চাক্ষুষভাবে ফুটিয়ে তুলতে পূর্ণ পরিমাপ, সামর্থ্য ও ক্ষমতার অধিকারী।”


আয়াত ৯৬

ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ السَّيِّئَةَ ۚ نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَصِفُونَ

“তুমি সর্বপ্রকার মন্দ, অন্যায় ও নেতিবাচক পরিস্থিতিকে এমন এক পন্থায় প্রতিহত বা মোকাবেলা করো যা সবচেয়ে বেশি চমৎকার, সুষম ও গঠনমূলক (Idfa' billatī hiya ahsanu-s-sayyi'ah); তারা যে সমস্ত অবাস্তব ও মনগড়া কথাবার্তা বা চক্রান্তের জাল বুনছে, সে সম্পর্কে আমি সবচেয়ে ভালো জানি।”

Keywords:

  • ادْفَعْ (Idfa’): কোনো আক্রমণ, মন্দ বা নেতিবাচক সামাজিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সুকৌশলে আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ বা ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেওয়া।

আয়াত ৯৭

وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ

“আর তুমি অবিরত আবেদন করো: হে আমার প্রতিপালক! আমি সেই শয়তানি শক্তি ও কুপ্রবৃত্তির সুক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক প্ররোচনা, উসকানি ও ক্ষতিকর স্পর্শসমূহ থেকে সুরক্ষার জন্য একমাত্র তোমারই বিধিবদ্ধ আইনের আশ্রয় গ্রহণ করছি (A'ūzu bika min hamazātish-shayātīn)।”

Keywords:

  • هَمَزَاتِ (Hamazāt): মানুষের চিন্তাজগতে বা সমাজে কুপ্রবৃত্তির সুক্ষ্ম ধাক্কা, উসকানি বা এমন মনস্তাত্ত্বিক প্ররোচনা যা মানুষকে উত্তেজিত করে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

আয়াত ৯৮

وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ

“এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি—যাতে সেই শয়তানি মানসিকতার অপশক্তিগুলো আমার কোনো সাংগঠনিক বা মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র উপস্থিত বা কার্যকর হতে না পারে।”


আয়াত ৯৯

حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ

“যতক্ষণ না যখন তাদের কারও স্বাভাবিক কর্মকাল বা ক্ষমতার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে (Jā'ahumul-mawt), তখন সে (চরম অনুশোচনায়) চিৎকার করে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে পুনরায় আমার পূর্বের কর্মক্ষেত্রে বা সুযোগে ফিরিয়ে দাও—”


আয়াত ১০০

لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ

“—যাতে আমি যে ক্ষেত্র বা সুযোগ হাতছাড়া করে এসেছি, সেখানে একনিষ্ঠভাবে সংশোধনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করতে পারি (La'allī 'amlu sālihā); (জবাব আসবে:) কখনই নয়! এটি তো কেবলই একটি মুখের বুলি যা সে নিরুপায় হয়ে বলছে; আর তাদের পেছনে অবধারিতভাবে রয়েছে এক অলঙ্ঘনীয় প্রাচীর বা মনস্তাত্ত্বিক অন্তরাল (Barzakhun), যা তাদের সেই চূড়ান্ত বৈপ্লবিক উত্থান বা ফলাফল প্রকাশের দিন পর্যন্ত আটকে রাখবে (অর্থাৎ তাদের ফিরে আসার কোনো আইনি সুযোগ নেই)।”

Keywords:

  • بَرْزَخٌ (Barzakh): দুটি অবস্থার মধ্যকার এমন এক অলঙ্ঘনীয় আইনি বা প্রাকৃতিক অন্তরাল যা কোনো সত্তাকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে সম্পূর্ণ বাধা দেয়।

আয়াত ১০১

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلَا أَنسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ

“অতঃপর যখন সমাজে বিপ্লব বা পরিবর্তনের বিগিল ফুঁকে দেওয়া হবে (Nuフィkha fis-Sūri), তখন সেই সন্ধিক্ষণে তাদের নিজেদের মধ্যকার সমস্ত কায়েমি রক্তসম্পর্ক, বংশগৌরব বা পারিবারিক আঁতাত বিন্দুমাত্র কার্যকর থাকবে না এবং কেউ কারও খোঁজখবর নেওয়ার সুযোগ পাবে না।”


আয়াত ১০২

فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

“অতঃপর (ঐশী মূল্যায়নের মানদণ্ডে) যাদের কর্মের সুষম পাল্লা বা ওজনের মানদণ্ড ভারী ও সুসংগত হবে (Thaqulat mawāzīnuhū), তারাই হবে চূড়ান্তভাবে সফল, বিকসিত ও সমৃদ্ধিশালী।”

Keywords:

  • مَوَازِينُهُ (Mawāzīnu): প্লুরাল অব মীযান; আল্লাহর কিতাবের দেওয়া সেই অমোঘ ন্যায়বিচার, সাম্য ও নিখুঁত ভারসাম্যপূর্ণ মানদণ্ড যার ভিত্তিতে মানুষের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কর্মের আসল গুণগত মূল্য পরিমাপ করা হয়।

আয়াত ১০৩

وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ

“আর যাদের কর্মের সুষম পাল্লা হালকা ও মূল্যহীন সাব্যস্ত হবে, তারাই মূলত নিজেদের সত্তা ও সুপ্ত সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস ও লোকসানের মুখে ঠেলে দিল; তারা চিরকাল সেই তীব্র মানসিক অশান্তি ও অনুশোচনার নরক-অবস্থায় নিমজ্জিত থাকবে।”


আয়াত ১০৪

تَلْفَحُ وُجُوهَهُمُ النَّارُ وَهُمْ فِيهَا كَالِحُونَ

“সেই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দহনের আগুন তাদের বাহ্যিক দাপট ও মর্যাদা প্রকাশের অভিব্যক্তিকে ঝলসে বিকৃত করে দেবে (Talfahu wujūhahumun-nāru), এবং তারা সেটির ভেতরে এক অত্যন্ত কদর্য, বিবর্ণ ও বীভৎস রূপ ধারণ করে পড়ে থাকবে।”


আয়াত ১০৫

أَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فَكُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ

“(আমার অমোঘ শাসনতান্ত্রিক ফায়সালায় তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে:) আমার সুস্পষ্ট আয়াত ও অকাট্য বিধি-বিধানের নিদর্শনসমূহ কি তোমাদের নিকট ধারাবাহিক বিশ্লেষণ করে শোনানো হতো না? অথচ তোমরা অহংকারবশত সেগুলোকে অবিরত মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে ও উড়িয়ে দিতে!”


আয়াত ১০৬

قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ

“তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নিজস্ব কুসংস্কার, চরম অবক্ষয় ও দুর্ভাগ্যই আমাদের চেতনার ওপর পুরোপুরি প্রাধান্য বিস্তার করেছিল (Ghalabat 'alaynā shiqwatunā), আর আমরা ছিলাম প্রকৃতপক্ষে এক চরম দিকভ্রান্ত ও লক্ষ্যহীন পথভ্রষ্ট জাতি!”


আয়াত ১০৭

رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ

“হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এই তীব্র ধ্বংসাত্মক দহনাবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বের করে আনো; অতঃপর আমরা যদি পুনরায় সেই পুরোনো অন্যায় ও অবাধ্যতায় ফিরে যাই, তবে আমরা নিশ্চিতভাবেই চরম জঘন্য অন্যায়কারী ও জালিম সাব্যস্ত হব।”


আয়াত ১০৮

قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ

“ঘোষণা হবে: তোমরা অত্যন্ত অপদস্থ ও ধিক্কৃত অবস্থায় সেটির ভেতরেই পড়ে থাকো (Ikhsa'ū fīhā) এবং আমার বিধিবদ্ধ আইনের সামনে বিন্দুমাত্র কোনো অসার অজুহাতের অবান্তর কথা বোলো না।”


আয়াত ১০৯

إِنَّهُ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْ عِبَادِي يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

“নিশ্চয়ই আমার অনুগত দাসদের মধ্যে এমন এক সুনির্দিষ্ট বিপ্লবী দল ছিল যারা সর্বদা আবেদন করত—হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা পূর্ণ মানসিক শান্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছি, সুতরাং তুমি আমাদের সমস্ত ত্রুটি দূর করে সুরক্ষার ঢাল দাও এবং আমাদের প্রতি তোমার বিশেষ লালন-অনুকম্পা বর্ষণ করো; আর তুমিই তো লালন ও অনুগ্রহকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।”


আয়াত ১১০

فَاتَّخَذْتُمُوهُمْ سِخْرِيًّا حَتَّىٰ أَنسَوْكُمْ ذِكْرِي وَكُنتُم مِّنْهُمْ تَضْحَكُونَ

“অথচ তোমরা তাদেরকে চরম উপহাস, ঠাট্টা ও বিদ্রূপের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলে, যার অবধারিত কুফল হিসেবে তোমাদের সেই অহংকার একসময় আমার এই পরম স্মরণিকা ও ঐশী আইন ব্যবস্থাকে তোমাদের মন থেকে সম্পূর্ণরূপে ভুলিয়ে দিয়েছিল (Huttā ansawkum zikrī); আর তোমরা অবিরত তাদের কর্ম ও আদর্শ নিয়ে অট্টহাসি হাসতে!”


আয়াত ১১১

إِنِّي جَزَيْتُهُمُ الْيَوْمَ بِمَا صَبَرُوا أَنَّهُمْ هُمُ الْفَائِزُونَ

“নিশ্চয়ই তারা সত্যের পথে চলতে গিয়ে যে কোনো বাধা ও কষ্টের মুখে অত্যন্ত দৃঢ় ও অবিচল ছিল (Bimā sabarū), সেটির অবধারিত ফল হিসেবে আজ আমি তাদের এক মহিমান্বিত প্রতিদানে ভূষিত করলাম; নিশ্চয়ই তারাই হলো চূড়ান্তভাবে সফল, বিজয়ী ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সমাসীন।”

Keywords:

  • الْفَائِزُونَ (Al-Fā’izūn): যারা সমস্ত বাধা ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের দেয়াল ভেঙে সত্যের পতাকাতলে নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য ও পরম জয় লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।

আয়াত ১১২

قَالَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِي الْأَرْضِ عَدَدَ سِنِينَ

“(ঐশী হিসাবের নিখুঁত চাক্ষুষ মূল্যায়নে তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে:) তোমরা এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে বা তোমাদের সেই কায়েমি ক্ষমতার চক্রে কত বছর বা কত সুদীর্ঘ সময়কাল অবস্থান করেছিলে?”


আয়াত ১১৩

قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَاسْأَلِ الْعَادِّينَ

“তারা (চরম লাঞ্ছনা ও সত্যের গাম্ভীর্যে) বলবে: আমরা তো মাত্র একটি দিন বা একটি দিনের সামান্য কিয়দংশ সময়কাল অবস্থান করেছিলাম; সুতরাং আপনি নিখুঁত হিসাব ও গণনায় দক্ষ চালিকাশক্তিসমূহকেই জিজ্ঞাসা করুন।”


আয়াত ১১৪

قَالَ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا ۖ لَّوْ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

“ঘোষণা হবে: তোমরা তো সেখানে মাত্র অত্যন্ত সামান্য কিছু সময়কাল অবস্থান করেছিলে, যদি তোমরা পূর্বেই কিতাবের চাক্ষুষ জ্ঞান দিয়ে এটি সুস্পষ্ঠভাবে অনুধাবন করতে পারতে!”


আয়াত ১১৫

أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ

“তবে কি তোমরা এরূপ অবান্তর ধারণা পোষণ করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন, নিরর্থক ও তামাশা হিসেবে সৃষ্টি করেছি (Annamā khalaqnākum 'abasā), এবং তোমাদেরকে কোনো অবস্থাতেই আমার বিধিবদ্ধ নিয়ম-ব্যবস্থার জবাবদিহিতায় ফিরিয়ে আনা হবে না?”

Keywords:

  • عَبَثًا (‘Abasā): কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক বা শাসনতান্ত্রিক উদ্দেশ্য ছাড়া নিরর্থক, ভিত্তিহীন ও খেলনা হিসেবে কোনো কিছু তৈরি করা (আল্লাহর সৃষ্টির প্রতিটি অণু পরমাণু ও কিতাবের আইন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যমুখী)।

আয়াত ১১৬

فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

“সুতরাং সুউচ্চ, পরম মহিমান্বিত ও সর্বপ্রকার মানবিক সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হলেন আল্লাহ—যিনি একমাত্র প্রকৃত সার্বভৌম শাসন-কর্তৃপক্ষ ও পরম সত্য (Al-Malikul-Haqq); তিনি ব্যতিরেকে অন্য কোনো মনগড়া ইলাহ বা প্রথার বিন্দুমাত্র কোনো বৈধতা নেই, তিনি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানিত শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতার কেন্দ্রের লালনকর্তা ও আসল মালিক (Rabbul-'Arshil-Karīm)।”


আয়াত ১১৭

وَمَن يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِندَ رَبِّهِ ۚ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ

“আর যে কেউ আল্লাহর চূড়ান্ত আইনের পাশাপাশি অন্য কোনো মনগড়া উপাস্য বা আদর্শকে নিজের ক্ষমতার উৎস হিসেবে আহ্বান করবে, যার সপক্ষে তার কাছে বিন্দুমাত্র কোনো অকাট্য যৌক্তিক প্রমাণ বা দলিল নেই (Lā burhāna lahū bihī), সেটির অবধারিত হিসাব ও কঠোর শাস্তি তো কেবল তার প্রতিপালকের বিধিবদ্ধ নিয়মে সুনিশ্চিত; নিশ্চয়ই সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা কখনই চূড়ান্ত বিকাশ ও সফলতা লাভ করতে পারে না।”

Keywords:

  • بُرْهَانَ (Burhān): এমন এক সুষ্পষ্ট, চাক্ষুষ ও অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যা কোনো সত্যকে সমস্ত প্রকার সংশয়মুক্ত করে সূর্যের আলোর মতো মেলবন্ধন করে ফুটিয়ে তোলে।

আয়াত ১১৮

وَقُل رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

“আর তুমি অবিরত আবেদন করো: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাদের সমস্ত ত্রুটি দূর করে সুরক্ষার ঢাল দাও এবং আমাদের প্রতি তোমার বিশেষ লালন-অনুকম্পা বর্ষণ করো (Rabbigh-fir warham); আর তুমিই তো লালন ও অনুগ্রহকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।”


[1]  The materialistic concept of life is not a contrivance of our own age! It is a very old concept.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *