পর্ব-২১

ঈদ-পর্ব-০১

ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সবাই আনন্দ -উৎসব উদযাপন করবেন, করুক…। কিন্তু, যারা আল-কুর’আন সম্পর্কে আগ্রহী, তারা কি জানেন ঈদ/ঈদান শব্দ দিয়ে মহান আল্লাহ কি বলেছেন?
পাশাপাশি, ঈদের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘মায়িদাহ’ শব্দ দিয়ে কি বলা হয়েছে?
যারা জানতে চান এবং নিজেকে ইসলাহ (সংশোধন) করতে চান, তাঁরা পড়তে পারেন।

ঈদ:

Al-Ma’idah ৫:১১৪

قَالَ عِيْسَي ابْنُ مَرْيَمَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَاۤ اَنْزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَآءِ تَكُوْنُ لَنَا عِيْدًا لِّاَوَّلِنَا وَاٰخِرِنَا وَاٰيَةً مِّنْكَ ۚ وَارْزُقْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرّٰزِقِيْنَ
প্রচলিত অনুবাদ
ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।

ঈদ অর্থ হলো ‘জলাধার’; এবং মায়িদাহ হলো ‘পানযোগ্য বৃষ্টিধারা’/কুরআন/কিতাব।
মূলত, আরবি ঈদান (عِيدًا) শব্দটি একবারই এসেছে ৫:১১৪ আয়াতে।

🚩 আধুনিক ফার্সি (Modern Persian) ভাষাতেও ঈদ শব্দটি পাওয়া যায়।
যার অর্থ:
১.আনন্দ
২.উৎসব
৩.উৎসবের আনন্দ।
অন্যদিকে আরবি ঈদান (عِيدًا) শব্দটির অর্থ ব্যবহারিক ফার্সি ভাষার অর্থ নয়।

আরবি ঈদ (عِيدًا) শব্দের আভিধানিক অর্থগুলো হলো:
১.পুনরুদ্ধার,
২.পুনরাবৃত্তি,
৩.ফেরানো,
৪.পাঠানো,
৫.সুনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

✅তবে,
কুরআনে ব্যবহৃত অর্থটি হলো- জলাধার, Water Reservoir./কুরআন।
ঈদান (عِيدًا) শব্দের ধাতু- আইন ওয়া দাল (ع و د)। এ থেকে উদ্ভূত অন্যান্য শব্দের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি হলো: ইউয়িদু (يُعِيدُ) যা ১১টি আয়াতে পাওয়া যায়।
✅ ইউয়িদু (يُعِيدُ) শব্দের অর্থ পুনরাবৃত্তি নয়, বরং ‘সংরক্ষণ’।
এই ১১টি আয়াতের বিশ্লেষণ দেখুন এখানে।
আরবি ঈদান (عِيدًا)বা ইদ শব্দটির ক্রিয়াবাচক শব্দ হলো ইউয়িদু (يُعِيدُ)। ঈদান (عِيدًا) শব্দের একবারই ব্যবহার পাওয়া যায় ৫:১১৪ আয়াতে। যেখানে নবী ও রসুল ঈসা আকাশ থেকে মাইদাতান নাযিল করার প্রার্থনা করেন। আমরা ২ আয়াত আগে থেকে দেখি।
Al-Ma’idah ৫:১১২

اِذْ قَالَ الْحَوَارِيُّوْنَ يٰعِيْسَي ابْنَ مَرْيَمَ هَلْ يَسْتَطِيْعُ رَبُّكَ اَنْ يُّنَزِّلَ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَآءِ ؕ قَالَ اتَّقُوا اللّٰهَ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ

প্রচলিত অনুবাদ
যখন হাওয়ারীরা বললঃ হে মরিয়ম তনয় ঈসা, আপনার পালনকর্তা কি এরূপ করতে পারেন যে, আমাদের জন্যে আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করে দেবেন? তিনি বললেনঃ যদি তোমরা ঈমানদার হও, তবে আল্লাহকে ভয় কর।

সঠিক অনুবাদ
৫:১১২ হাওয়ারিরা ঈসা নবীকে বলেছিল ‘আকাশ থেকে মায়িদাহ’ (مائدة من السماء) পাঠানোর জন্য; ঈসা নবী সতর্ক করে বলেন- আল্লাহর ব্যাপারে সজাগ-সচেতন-সতর্ক হও যদি তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাকো (اتقوا الله إن كنتم مؤمنين)!

Al-Ma’idah ৫:১১৩

قَالُوْا نُرِيْدُ اَنْ نَّاْكُلَ مِنْهَا وَتَطْمَئِنَّ قُلُوْبُنَا وَنَعْلَمَ اَنْ قَدْ صَدَقْتَنَا وَنَكُوْنَ عَلَيْهَا مِنَ الشّٰهِدِيْنَ

প্রচলিত অনুবাদ
তারা বললঃ আমরা তা থেকে খেতে চাই; আমাদের অন্তর পরিতৃপ্ত হবে; আমরা জেনে নেব যে, আপনি সত্য বলেছেন এবং আমরা সাক্ষ্যদাতা হয়ে যাব।

সঠিক অনুবাদ
এরপর ৫:১১৩ তে হাওয়ারিগণ তাদের মায়িদাহ প্রত্যাশার কারণ ব্যাখ্যা করে। তা হলো: মায়িদাহ অবতীর্ণ (يُنَزِّلَ) হলে
১. তারা পানাহার করবে (نَّأْكُلَ مِنْهَا)/কিতাবের বিধান গ্রহন করবে।
২. তাদের হৃদয় প্রশান্ত হবে/মন জুড়াবে (تَطْمَىِٕنَّ قُلُوْبُنَا)
৩. তারা এ বিষয়ে কিতাবের সাক্ষীদাতা হবে (ٱلشَّٰهِدِينَ)।

Al-Ma’idah ৫:১১৪

قَالَ عِيْسَي ابْنُ مَرْيَمَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَاۤ اَنْزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَآءِ تَكُوْنُ لَنَا عِيْدًا لِّاَوَّلِنَا وَاٰخِرِنَا وَاٰيَةً مِّنْكَ ۚ وَارْزُقْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرّٰزِقِيْنَ
প্রচলিত অনুবাদ
ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।

সঠিক অনুবাদ
তারপরই ৫:১১৪ তে নবী ঈসা নিশ্চিত হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন:
· মারিয়ামের ছেলে ঈসা বলেছিল (قَالَ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ), আল্লাহুম্মা আমাদের রব, আমাদের জন্য আকাশ থেকে ‘মায়িদাতান’/কিতাব/বিধান অবতীর্ণ করুন (اللهم رَبَّنَآ اَنْزِلْ عَلَيْنَا مَاۤىِٕدَةً مِّنَ السَّمَاۤءِ) যা-হবে আমাদের জন্য ‘ঈদ’ (تَكُوْنُ لَنَا عِيْدًا) পূর্ববর্তীদের জন্য ও আমাদের পরবর্তীদের জন্য এবং আপনার একটি নিদর্শন (لِّاَوَّلِنَا وَاٰخِرِنَا وَاٰيَةً مِّنْك) এবং আমাদেরকে রিজিক/জীবনোপকরণ দিন, আর আপনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা (وَارْزُقْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرّٰزِقِيْنَ)।

এখানে, ‘মায়িদাতান’ ও ‘ঈদ’ শব্দ দুটি অনুবাদ করা হবে যুক্তি দিয়ে, যাতে সর্বোচ্চ সঠিক অর্থ পাওয়া যায়। এই শব্দ দু’টি একে অপরের সঙ্গে জড়িত। আকাশ থেকে ‘মায়িদাহ’/কিতাব পাঠালে ‘ঈদ’ হবে।
হাজার হাজার বছর আগে, মারিয়ামের পুত্র ঈসা বলল, আল্লাহুম্মা আমাদের রব (قَالَ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللهم رَبَّنَآ), আমাদের জন্য অবতীর্ণ করুন (اَنْزِلْ عَلَيْنَا) আকাশ থেকে মায়িদাহ/কিতাব (مَاۤىِٕدَةً مِّنَ السَّمَاۤءِ) যা হবে আমাদের জন্য ঈদান/জলাধার (تَكُوْنُ لَنَا عِيْدًا) পূর্ববর্তীদের জন্য ও আমাদের পরবর্তীদের জন্য এবং আপনার একটি নিদর্শন (لِّاَوَّلِنَا وَاٰخِرِنَا وَاٰيَةً مِّنْكَ); আর আমাদেরকে রিজিক/জীবনোপকরণ দিন আর আপনিই সর্বোত্তম আর-রজিকিন/রিজিকদাতা (وَارْزُقْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرّٰزِقِيْنَ)। (৫:১১৪)

অর্থাৎ,
প্রচলিত অনুবাদে মায়িদাহ (مائدة) অর্থ টেবিল ভর্তি খাবার বা খাদ্য ভর্তি ডালা নয়, তা আকাশ থেকেও আসে না।

মায়িদাহ (مائدة) অর্থ:
১.কিতাব
২.বিধান
৩.কুরআন
৪.পানযোগ্য ও সংরক্ষণ যোগ্য সুপেয় অঝোর ধারায় বৃষ্টি!

পাশাপাশি,
ঈদান (عِيدًا)শব্দের অর্থ:
১.জলাধার বা Water Reservoir.
২.নবী ও রসুল ঈসা আ.এর সেই বিশাল জলাধার এখনও থাকতে পারে, যেহেতু তিনি “পূর্ববর্তীদের জন্য ও আমাদের পরবর্তীদের জন্য এবং আপনার একটি নিদর্শন (لِّاَوَّلِنَا وَاٰخِرِنَا وَاٰيَةً مِّنْكَ)” চেয়েছিলেন।

আপনি ঈদ করুন, অথবা খ্রিস্টমাস করুন, পূজা-পার্বন করুন, বৌদ্ধপূর্ণিমা করুন তাতে কোনো সমস্যা দেখি না।
তবে, কুরআনে আল্লাহ ঈদ সম্পর্কে কি বললেন, তা জানতে কারও বাধা আছে কি? বিস্তারিত বিশ্লেষণ

পরের পর্বে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *