SURAH 22 : Al-Hajj
Ayat 1
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ ۚ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ
“হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের বিধান অমান্যের ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করো এবং সুরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করো (Ittaqū Rabbakum); নিশ্চয়ই সেই অবধারিত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মুহূর্ত বা মহাসংকটের আকস্মিক ঝাঁকুনি বা আলোড়ন (Zalzalatas-Sā'ah) এক অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও সুদূরপ্রসারী বিষয়

اتَّقُوا (Ittaqū): আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক ও ঐশী আইন লঙ্ঘনের অবধারিত ক্ষতি থেকে বাঁচতে সর্বদা সচেতন, সতর্ক ও সুরক্ষিত থাকা।
زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ (Zalzalatas-Sā’ah): কায়েমি স্বার্থবাদী ও শোষক সমাজের পতন এবং সত্যপন্থীদের সুদৃঢ় উত্থানের সেই সুনির্দিষ্ট অবধারিত বৈপ্লবিক মুহূর্তের চরম সামাজিক আলোড়ন বা ওলটপালট অবস্থা।
يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা) → হে তোমরা যারা!
النَّاسُ (আন্-নাসু) → মানবজাতি / সাধারণ মানুষاتَّقُو
ا (ইত্তাকূ) → তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো (নিজের বিশ্বাস ও আমলকে চরম সতর্কতার সাথে রক্ষা ও পুষ্ট করা)
رَبَّكُمْ (রাব্বাকুম) → তোমাদের মূল বিকাশকারী ও প্রতিপালক সত্তার
إِنَّ (ইন্না) → নিশ্চয়ইزَلْزَلَةَ
(যালযালাইহি) → আকস্মিক আলোড়ন / প্রচণ্ড ঝাঁকুনি বা মহাবিপর্যয়
السَّاعَةِ (আস-সা’আতি) → সেই সুনির্দিষ্ট মুহূর্তের / জবাবদিহিতার চরম সময়ের
شَيْءٌ (শাইয়ুন) → এমন এক বিষয় / এক ঘটনা
عَظِيمٌ (আযীমু) → অত্যন্ত বিশাল / সুদূরপ্রসারী ও মহিমান্বিত মর্যাদাসম্পন্ন

Ayat 2
يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَىٰ وَمَا هُم بِسُكَارَىٰ وَلَٰكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ
“সেই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিনে তোমরা দেখতে পাবে যে, প্রত্যেক লালনকারী প্রতিষ্ঠান তার নিজের লালিত আদর্শ বা ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ উদাসীন ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে (Tazhalu kullu murdi'atin), এবং প্রত্যেক গর্ভধারণকারী বা পরিকল্পনা বহনকারী দল তার নিজের লালিত পরিকল্পনা বা এজেন্ডা অসময়েই ফেলে দেবে, এবং তুমি মানুষকে দেখবে মাতালের মতো উদ্দেশ্যহীন ও বিভ্রান্ত (Sukārā), অথচ তারা প্রকৃতপক্ষে কোনো নেশায় মাতাল নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া কর্মের অবধারিত ধ্বংসাত্মক পরিণতি ও প্রাকৃতিক নিয়ম এতটাই তীব্র ও কঠোর ('Azāballāhi shadīd)।”
Keywords:
مُرْضِعَةٍ (Murdi’ah): ধারণাগতভাবে এমন যেকোনো আদর্শিক, রাজনৈতিক বা সামাজিক লালন-ব্যবস্থা বা প্রতিষ্ঠান যা সমাজকে নির্দিষ্ট মতাদর্শে পুষ্ট করে।
حَمْلَهَا (Hamlahā): কোনো দল বা কায়েমি স্বার্থবাদীদের অন্তরে লালন করা গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, কুপরিকল্পনা বা সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা।
سُكَارَىٰ (Sukārā): চরম মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা, হতাশা ও দিশেহারা অবস্থার কারণে বুদ্ধিবৃত্তিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।
يَوْمَ (ইয়াওমা) → যেদিন / যে মুহূর্তে
تَرَوْنَهَا (তারাওনাহা) → তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে বা নিজেদের চোখে দেখবে
تَذْهَلُ (তাযহালু) → বিস্মৃত হবে / সম্পূর্ণ উদাসীন ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়বে
كُلּُ (কুল্লু) → প্রত্যেক / প্রতিটি সত্তা
مُرْضِعَةٍ (মুরদি’আতিন) → স্তন্যদাত্রী / যে নিজের বুনিয়াদ দিয়ে অন্যকে পুষ্ট বা লালন করে
عَمَّا (আম্মা) → তা থেকে / সেই বিষয় থেকে যা
أَرْضَعَتْ (আরদা’আত) → সে পুষ্ট করেছিল বা বুকের দুধ খাইয়েছিল
وَتَضَعُ (ওয়া তদা’উ) → এবং ঝরিয়ে দেবে / গর্ভপাত বা অবসান ঘটাবে
كُلּُ (কুল্লু) → প্রত্যেক / প্রতিটি
ذَاتِ (যাতি) → অধিকারী / ধারণকারী সত্তা
حَمْلٍ (হামলিন) → বোঝা বা গর্ভধারণের উপাদান
حَمْلَهَا (হামলাহা) → তার ধারণকৃত নিজস্ব বোঝা বা গর্ভকে
وَتَرَى (ওয়া তারা) → এবং তুমি দেখতে পাবে
النَّاسَ (আন্-নাসু) → মানুষদেরকে
سُكَارَىٰ (সুকারা) → মাতালের মতো / দিকভ্রান্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায়
وَمَا (ওয়া মা) → অথচ তারা মোটেও নয়
هُم (হুম) → তারা নিজেরা
بِسُكَارَىٰ (বিসুকারা) → প্রকৃত মাতাল বা মদ্যপ
وَلَٰكِنَّ (ওয়া লাকিন্না) → কিন্তু মূলত আসল সত্য হলো
عَذَابَ (আযাবা) → জবাবদিহিতার চমৎকার পরিণতি / কঠিন শাস্তি
اللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক বিধানের বা আইনের
شَدِيدٌ (শাদীদ) → অত্যন্ত কঠোর ও তীব্র মাত্রার
Ayat 3
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَّرِيدٍ
“আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা কোনো সঠিক জ্ঞান, প্রজ্ঞা বা অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর চিরন্তন বিধি-বিধান সম্পর্কে অহেতুক বিতর্ক ও ঝগড়ায় লিপ্ত হয় (Yujādilu... bighairi 'ilmin), এবং তারা প্রত্যেক চরম বিদ্রোহী শয়তানি শক্তি বা কুপ্রবৃত্তির অন্ধ অনুসরণ করে (Yattabi'u kulla shaytānim
يُجَادِلُ (Yujādilu): সত্যকে জানার চেষ্টা না করে কেবল নিজের গোঁড়ামি, অহংকার ও কায়েমি স্বার্থ রক্ষার্থে যুক্তির মারপ্যাঁচ তৈরি করা।
شَيْطَانٍ مَّرِيدٍ (Shaytānim Marīd): মানুষের ভেতরের উগ্র অহংকার, পশুবৃত্তি এবং সমাজের সেইসব চরম অবাধ্য ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী শক্তি যা কিতাবের সত্যকে নস্যাৎ করতে চায়।
وَمِنَ (ওয়া মিনাল) → এবং মানুষের মধ্য থেকে কিছু এমনও রয়েছে
النَّاسِ (আন্-নাসি) → সাধারণ মানুষ বা জনগোষ্ঠীর
مَن (মান) → যে বা যারা
يُجَادِلُ (ইউজাদিলু) → তর্কে লিপ্ত হয় / অযথা বিতণ্ডা সৃষ্টি করে
فِي (ফী) → ব্যাপারে / অভ্যন্তরে
اللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর একত্ববাদ বা তাঁর দেওয়া আইনের
بِغَيْرِ (বিগাইরি) → ব্যতীত / কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়া
عِلْمٍ (ইলমিন) → প্রকৃত জ্ঞান, বিজ্ঞান বা অকাট্য দলিল (হিদায়াতের আলো)
وَيَتَّبَعُ (ওয়া ইয়াত্তাবি’উ) → এবং সে অন্ধভাবে অনুসরণ করে চলে
كُلَّ (কুল্লা) → প্রত্যেক / প্রতিটি
شَيْطَانٍ (শাইতানিন) → চরম অবাধ্য, সত্যবিমুখ ও বিভ্রান্তিকর মানসিকতার বা শক্তির
مَّرِيدٍ (মারীদিন) → চরম বিদ্রোহী বা সীমালঙ্ঘনকারী

Ayat 4
كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّهُ مَن تَوَلَّاهُ فَأَنَّهُ يُضِلُّهُ وَيَهْدِيهِ إِلَىٰ عَذَابِ السَّعِيرِ
“সেই শয়তানি মানসিকতার ভাগ্যে এটিই অবধারিতভাবে সুনিশ্চিত করা হয়েছে যে, যে কেউ তার অভিভাবকত্ব বা নেতৃত্ব গ্রহণ করবে, সে নিশ্চিতভাবেই তাকে সত্যের সরল পথ থেকে বিচ্যুত ও বিভ্রান্ত করবে (Yudilluhū), এবং তাকে তীব্র মানসিক দহন, অনুশোচনা ও ধ্বংসাত্মক আগুনের দিকে পরিচালিত করবে (Yahdīhi ilā 'azābis-sa'īr)।”
يُضِلُّهُ (Yudilluhū): সঠিক লক্ষ্য ও যৌক্তিক ভিত্তিমূল থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে এক দিশেহীন বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেওয়া।
السَّعِيرِ (As-Sa’īr): দহনকারী আগুন; মনস্তাত্ত্বিক পরিভাষায় সত্যের বিরোধিতা এবং শয়তানি তাড়নার ফলে মানুষের নিজের ভেতরে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ ও অশান্তির নরকসদৃশ দহনাবস্থা।
كُتِبَ (কুতিবা) → সুনিশ্চিত বা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে (আইন হিসেবে অবধারিত করা)عَلَيْهِ (আলাইহি) → তার ওপরে বা সেই অবাধ্য শক্তির ভাগ্যেأَنَّهُ (আন্নাহু) → যে, সুনিশ্চিতভাবে এটিই ঘটবেمَن (মান) → যে কেউ / যে সত্তাتَوَلَّاهُ (তাওয়াল্লাহু) → তাকে বন্ধু বা অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে / তার দায়িত্বে চলবেفَأَنَّهُ (ফাআন্নাহু) → তবে নিশ্চিতভাবেই সে ( বিভ্রান্তিকর শক্তি)يُضِلُّهُ (ইউদিল্লুহু) → তাকে পথভ্রষ্ট করবে / হিদায়াতের সোজা পথ থেকে বিচ্যুত করবেوَيَهْدِيهِ (ওয়া ইয়াহদীহি) → এবং তাকে পরিচালিত করবে বা টেনে নিয়ে যাবেإِلَىٰ (ইলা) → দিকে / সীমানা পর্যন্তعَذَابِ (আযাবি) → যন্ত্রণাদায়ক পরিণতি বা শাস্তিরالسَّعِيرِ (আস-সা’ঈরি) → দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা লেলিহান আগুনের বা চরম ধ্বংসের
Ayat 5
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ۖ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْ لَا يَعْلَمَ مِن بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا ۚ وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ
“হে মানবজাতি! তোমরা যদি তোমাদের জীবন-ব্যবস্থার ভাঙনের পর নতুন কোনো সমাজ বা চেতনাগত রূপান্তরের উত্থানের ব্যাপারে সংশয়ে থাকো, তবে তোমাদের নিজেদের বিবর্তন ও চেতনার উম্মেষের দিকে তাকিয়ে দেখো—আমি তোমাদের চেতনা ও সমাজ কাঠামোর অবয়ব দিয়েছি এর প্রাথমিক অনুন্নত ও স্থবির পর্যায় (تُرَابٍ) থেকে, অতঃপর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও নিখুঁত পরিকল্পনার প্রাথমিক বিন্দুর উম্মেষের স্তর (نُّطْفَةٍ) থেকে, তারপর (সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে) কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার সাথে দৃঢ়ভাবে লেপ্টে থাকা ও সংযোগ স্থাপনের স্তর (عَلَقَةٍ) থেকে, অতঃপর প্রাথমিক সাংগঠনিক অবয়ব প্রাপ্তির স্তর (مُّضْغَةٍ) থেকে—যা পূর্ণাঙ্গ সুগঠিত কিংবা অপূর্ণাঙ্গ বা অবয়বহীন হতে পারে, যাতে তোমাদের কাছে বিবর্তন ও সৃষ্টির অলঙ্ঘনীয় নিয়ম স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলি; আর আমি আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় যা ইচ্ছা একটি সুনির্দিষ্ট ও নামাঙ্কিত মেয়াদ পর্যন্ত স্থির রাখি। অতঃপর আমরা তোমাদেরকে অত্যন্ত অপরিপক্ক, অধৈর্য ও দুর্বল স্তরে (طِفْلًا) বের করে আনি, যাতে তোমরা ধাপে ধাপে তোমাদের চিন্তাভাবনা ও চেতনার পূর্ণ শক্তি, দৃঢ়তা ও পরিপক্কতার স্তরে পৌঁছাতে পারো। তোমাদের মধ্যে কারো অর্পিত দায়িত্ব ও চেতনার জীবনচক্রটি পূর্ণমাত্রায় সফলভাবে সম্পন্ন করা হয় (يُتَوَفَّىٰ), আবার তোমাদের মধ্যে কেউ এমনও রয়েছে যাকে চরিত্র ও চেতনার দিক থেকে চরম সংকীর্ণ, পুষ্টিহীন ও মর্যাদাহীন এক জীবনকালের স্তরে (أَرْذَلِ الْعُمُرِ) ফিরিয়ে দেওয়া হয়—যার ফলে একসময় সব অর্জিত প্রজ্ঞা ও জানার পরেও সে চেতনাগতভাবে আর কিছুই ধরে রাখতে পারে না। আর তোমরা শাসন ও ক্ষমতার চত্বরকে মৃত, শুষ্ক ও সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় দেখতে পাও, অতঃপর যখনই আমরা তার ওপর জীবনের মূল বুনিয়াদ ও সঞ্জীবনী শক্তি বর্ষণ করি, অমনি তা আন্দোলিত ও জেগে ওঠে, ফুলে-ফেঁপে সমৃদ্ধ হয় এবং সর্বপ্রকার কল্যাণময় ও নয়নাভিরাম জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি উৎপন্ন করে।
الْبَعْثِ (Al-Ba’th): পশুবৃত্তি, অজ্ঞতা ও সামাজিক জড়তার অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে এক নতুন ঐশী সত্যের আলোয় সমাজ ও মানুষের চেতনার বৈপ্লবিক উত্থান।
أَجَلٍ مُّسَمًّى (Ajalum Musammā): একটি পূর্বনির্ধারিত, সুনির্দিষ্ট ও স্থির লক্ষ্য বা সময়সীমা।
أَرْذَلِ الْعُمُرِ (Arzalil-‘umur): মানুষের শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির চরম অবক্ষয় এবং বার্ধক্যের এমন এক জরাজীর্ণ অবস্থা যেখানে সমস্ত অর্জিত জ্ঞান অকেজো হয়ে যায়।
هَامِدَةً (Hāmidatan): কোনো কিতাব বা ঐশী জ্ঞান না থাকার ফলে সমাজ বা মানব চেতনার চরম বন্ধ্যা, নিষ্প্রাণ ও নিষ্ক্রিয় অবস্থা।

يَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা) → হে তোমরা যারা!
النَّاسُ (আন্-নাসু) → সমগ্র মানবজাতি!
إِن (ইন্‌) → যদি / কোনো কারণে যদি
كُنتُمْ (কুনতুম) → তোমরা নিজেরা অবস্থান করো বা হয়ে থাকো
فِي (ফী) → মধ্যে / অভ্যন্তরে
رَيْبٍ (রাইবিন) → কোনো সংশয়, সন্দেহ বা দোদুল্যমানতা
مِّنَ (মিনাল) → থেকে / ব্যাপারে
الْبَعْثِ (আল-বা’ছি) → মৃত্যুর পর পুনরায় উত্থান বা জীবন চক্রের নতুন রূপান্তরের
فإِنَّا (ফা ইন্না) → তবে জেনে রাখো যে, নিশ্চয়ই আমরা
خَلَقْنَاكُم (খালাকনাকুম) → তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি বা অবয়ব দিয়েছি
مِّن (মিন) → থেকে / উপাদান দ্বারা
تُرَابٍ (তুরাবিন) → মৃত্তিকা / মাটির কণা থেকে
ثُمَّ (ছুম্মা) → অতঃপর / পরবর্তী ধাপে
مِن (মিন) → থেকে
نُّطْفَةٍ (নুৎফাতিন)তাত্ত্বিক অর্থ: বিশৃঙ্খলা থেকে বের হয়ে মানুষের ভেতর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ চেতনার প্রাথমিক সুশৃঙ্খল বিন্দুর উম্মেষ। (এটি কোনো বস্তুগত বা জৈবিক তরল মিশ্রণ বা বীর্যবিন্দু নয়)
ثُمَّ (ছুম্মা) → তারপর
مِنْ (মিন) → থেকে
عَلَقَةٍ (আলাকাতিন) → জমাট রক্তপিণ্ড বা ঝুলে থাকা ভ্রূণ থেকে
ثُمَّ (ছুম্মা) → অতঃপর
مِن (মিন) → থেকে
مُّضْغَةٍ (মুদগাতিন) → মাংসপিণ্ড বা চর্বিত মাংসের ন্যায় আকৃতি থেকে
مُّخَلَّقَةٍ (মুখাল্লাকাতিন) → যা পূর্ণাঙ্গ আকৃতিপ্রাপ্ত বা সুগঠিত
وَغَيْرِ (ওয়া গাইরি) → এবং যা গঠনহীন / অপূর্ণাঙ্গ আকৃতির
مُّخَلَّقَةٍ (মুখাল্লাকাতিন) → সুগঠিত রূপের বিপরীত বা অবয়বহীন
لِّنُبَيِّنَ (লিনুবাইয়্যিনা) → যাতে আমরা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে বা প্রমাণ করতে পারি
لَكُمْ (লাকুম) → তোমাদের নিজেদের বোঝার সুবিধার্থে / তোমাদের জন্য
وَنُقِرُّ (ওয়া নুকিররু) → এবং আমরা স্থির রাখি বা সংরক্ষণ করি
فِي (ফী) → মধ্যে / গভীরে
الْأَرْحَامِ (আল-আরহামি) → মাতৃগর্ভ বা জরায়ুর সুরক্ষিত স্তরসমূহে
مَا (মা) → যা কিছু / যে উপাদানকে
نَشَاءُ (নাশাউ) → আমরা আমাদের নিয়ম বা ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারণ করি
إِلَىٰ (ইলা) → পর্যন্ত
أَجَلٍ (আজালিন) → একটি সুনির্দিষ্ট কাল বা পূর্বনির্ধারিত মেয়াদ
مُّسَمًّى (মুসাম্মান) → যা নামাঙ্কিত বা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে
ثُمَّ (ছুম্মা) → অতঃপর
نُخْرِجُكُمْ (নুখরিজুকুম) → আমরা তোমাদেরকে বের করে আনি বা পৃথিবীতে প্রকাশ করি
طِفْلًا (তিফ্লান) → শিশু অবস্থায় / অত্যন্ত দুর্বল মানব শিশু হিসেবে
ثُمَّ (ছুম্মা) → তারপর / পরবর্তী পর্যায়ে
لِتَبْلُغُوا (লিতাবলুগূ) → যাতে তোমরা ধাপে ধাপে পৌঁছাতে পারো
أَشُدَّكُمْ (আশুদ্দাকুম) → তোমাদের পূর্ণ যৌবন, শক্তি বা পরিপক্কতার স্তরে
وَمِنكُم (ওয়া মিনকুম) → এবং তোমাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এমন আছে
مَّن (মান) → যাকে বা যার জীবনপ্রক্রিয়াকে
يُتَوَفَّىٰ (ইউতাওয়াফ্ফা) → পূর্ণ মেয়াদ পূর্ণ করে তুলে নেওয়া হয় বা মৃত্যু দেওয়া হয়
وَمِنكُم (ওয়া মিনকুম) → আবার তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও আছে
مَّন (মান) → যাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বা পৌঁছে দেওয়া হয়
يُرَدُّ (ইউরাদ্দু) → ফিরিয়ে দেওয়া হয় / প্রত্যাবর্তন করানো হয়
إِلَىٰ (ইলা) → দিকে / স্তরে
أَرْذَلِ (আরযালিল) → সবচেয়ে নিকৃষ্ট, দুর্বল বা জরাজীর্ণ
الْعُمُرِ (আল-উমুরি) → বয়সের বা জীবনকালের স্তরে
لِكَيْ (লিকাই) → যাতে করে / এই কারণে যে সে
لَا (লা) → না / অক্ষম হয়ে পড়ে
يَعْلَمَ (ইয়া’লামা) → জ্ঞান বা স্মৃতি ধরে রাখতে বা বুঝতে
مِن بَعْدِ (মিন বা’দি) → পরবর্তী ধাপে / পরে
عِلْمٍ (ইলমিন) → একসময়কার সমস্ত অর্জিত প্রজ্ঞা বা জানার পর
شَيْئًا (শাইয়ান) → সামান্যতম কোনো বিষয় বা তথ্যও
وَتَرَى (ওয়া তারা) → এবং তুমি নিজ চোখে দেখতে পাও
الْأَرْضَ (আল-আরদা) → এই ভূমিকে বা জমিকে ( শাসন ও ক্ষমতার চত্বরকেও নির্দেশ করে)
هَامِدَةً (হামিদাতান) → মৃত, শুষ্ক ও সম্পূর্ণ নিষ্প্রাণ অবস্থায়
فَإِذَا (ফা ইযা) → অতঃপর যখনই
أَنزَلْنَا (আনযালনা) → আমরা বর্ষণ করি বা উপর থেকে নামিয়ে দিই
عَلَيْهَا (আলাইহা) → তার বুকের ওপরে
الْمَاءَ (আল-মায়া) → পানি / জীবনের মূল বুনিয়াদ ও সঞ্জীবনী শক্তিকে
اهْتَزَّتْ (ইহতাযযাত) → এটি আন্দোলিত হয় / স্পন্দিত ও জেগে ওঠে
وَرَبَتْ (ওয়া রাবাত) → এবং এটি ফুলে-ফেঁপে সমৃদ্ধ ও বৃদ্ধি পেতে থাকে
وَأَنبَتَتْ (ওয়া আম্বাতাত) → এবং এটি উৎপন্ন বা উৎপন্ন করতে শুরু করে
مِن (মিন) → থেকে / মাধ্যমে
كُلِّ (কুল্লি) → প্রত্যেকটি / সমস্ত প্রকারের
زَوْجٍ (যাওজিন) → জোড়া বা যুগল উপাদান
بَهِيجٍ (বাহীজ) → অত্যন্ত চমৎকার, নয়নাভিরাম ও কল্যাণময় উদ্ভিদের বা সৃষ্টির।


২২:৫ নম্বর আয়াতের মূল শব্দার্থ (Keywords)
تُرَابٍ (তুরাব): তাত্ত্বিক অর্থ: চেতনার প্রাথমিক অনুন্নত, স্থবির, নিষ্ক্রিয় এবং মৌলিক স্তর। (প্রথাগত আক্ষরিক “জড় মাটি” বা কাদার পরিবর্তে এটি মানুষের বিবর্তনের সবচেয়ে আদিম ও অনুন্নত মানসিক পর্যায়কে নির্দেশ করে)
نُّطْفَةٍ (নুৎফাহ): তাত্ত্বিক অর্থ: বিশৃঙ্খলা থেকে বের হয়ে মানুষের ভেতর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ চেতনার প্রাথমিক সুশৃঙ্খল বিন্দুর উম্মেষ। (এটি কোনো বস্তুগত বা জৈবিক তরল মিশ্রণ বা বীর্যবিন্দু নয়)
عَلَقَةٍ (আলাকাতিন): তাত্ত্বিক অর্থ: সুশৃঙ্খল পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা, আদর্শ বা মূল বুনিয়াদের সাথে দৃঢ়ভাবে লেপ্টে থাকা, সংযুক্ত হওয়া বা সংযোগ স্থাপনের সাংগঠনিক স্তর। (প্রচলিত “রক্তপিণ্ড বা ভ্রূণ”-এর পরিবর্তে এটি আদর্শিক সংযোগকে বোঝায়)
مُّضْغَةٍ (মুদগাতিন): তাত্ত্বিক অর্থ: প্রাথমিক সাংগঠনিক অবয়ব প্রাপ্তি বা চেতনার একটি দৃশ্যমান রূপ ধারণ করার পর্যায় (যা সমাজ ও ব্যবস্থার জন্য সুগঠিত কিংবা অপূর্ণাঙ্গ উভয়ই হতে পারে)
طِفْلًا (তিফ্লান): তাত্ত্বিক অর্থ: মানুষের বা কোনো ব্যবস্থার চরম অপরিপক্ক, অধৈর্য, দুর্বল এবং তাড়াহুড়ো করার প্রবণতাসম্পন্ন প্রাথমিক স্তর—যেখানে স্থিরতা (Nafs-e-Mutma’inna) বিকশিত হয়নি। (এটি কোনো বয়সভিত্তিক আক্ষরিক শিশু নয়)
يُتَوَفَّىٰ (ইউতাওয়াফ্ফা): তাত্ত্বিক অর্থ: অর্পিত দায়িত্ব, অধিকার বা মেয়াদের চক্রটি পূর্ণমাত্রায় বা সম্পূর্ণরূপে সফলভাবে সম্পন্ন করা বা মিশন পূর্ণতাপ্রাপ্তি হওয়া। (আক্ষরিক “মৃত্যু”র চেয়ে এটি দায়িত্বের চক্র পূরণকে নির্দেশ করে)
أَرْذَلِ الْعُمُرِ (আরযা তাত্ত্বিক অর্থ: চরিত্র, ব্যক্তিত্ব ও চেতনার দিক থেকে চরম সংকীর্ণ, পুষ্টিহীন, ঘাটতিযুক্ত ও মর্যাদাহীন এক জীবনকালের স্তর। (এটি আক্ষরিক বার্ধক্যের চেয়ে চারিত্রিক ও মানসিক পুষ্টিহীনতার নিকৃষ্ট স্তরকে নির্দেশ করে)

Ayat 6
ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَأَنَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“এটি এই কারণে যে, আল্লাহই হলেন একমাত্র পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্য (Al-Haqq), এবং তিনিই মৃত, নিষ্প্রাণ ও অজ্ঞ সমাজ-চেতনাকে কিতাবের জ্ঞান দিয়ে পুনরুজ্জীবিত ও সজীব করেন (Yuhyil-Mawtā), এবং নিশ্চয়ই তিনি সমস্ত বিষয়ের ওপর পূর্ণ পরিমাপ, সামর্থ্য ও ক্ষমতার অধিকারী।”
Keywords:
يُحْيِي الْمَوْتَىٰ (Yuhyil-Mawtā): কিতাবের ঐশী পুষ্টি উপাদান ও হিদায়াত দিয়ে অন্ধকার ও পশুবৃত্তিতে লিপ্ত নিষ্প্রাণ মানব সমাজকে একটি জীবন্ত, সচেতন ও বিবেকবান সমাজে রূপান্তর করা।

ذَٰلِكَ (যালিকা) → এটি এই কারণে / এই বাস্তবতার প্রমাণ
بِأَنَّ (বি-আন্না) → যে সুনিশ্চিতভাবে
اللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহ-ই
هُوَ (হুয়া) → একমাত্র তিনি-ই
الْحَقُّ (আল-হাক্কু) → পরম সত্য / একমাত্র অনস্বীকার্য বাস্তব সত্তা ও পরম অধিকার
وَأَنَّهُ (ওয়া আন্নাহু) → এবং নিশ্চয়ই তিনি
يُحْيِي (ইউহয়ী) → জীবন দান করেন / সঞ্জীবনী শক্তিতে পুনরুজ্জীবিত করেন
الْمَوْتَىٰ (আল-মাউতা) → মৃতদেরকে / নিষ্প্রাণ ও চরম অবাধ্যতায় নিমজ্জিত সত্তাকে (চরম কুফরের কারণে আত্মিক ও চেতনাগতভাবে মৃত অবস্থা)
وَأَنَّهُ (ওয়া আন্নাহু) → এবং সুনিশ্চিতভাবে তিনি
عَلَىٰ (আলা)যাবতীয় মর্যাদা, উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের বুনিয়াদে ( prestige, superiority, dignity)
كُلِّ (কুল্লি) → প্রতিটি / সমস্ত
شَيْءٍ (শাইয়িন) → বস্তু, বিষয় বা উপাদানের ওপর
قَدِيرٌ (কাদীর) → পরম ক্ষমতাবান / পরিমাপ ও শক্তি নিয়ন্ত্রণকারী

Ayat 7
وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَّا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَن فِي الْقُبُورِ
“আর নিশ্চয়ই সেই চূড়ান্ত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মুহূর্ত বা চূড়ান্ত জবাবদিহিতার সুনির্দিষ্ট মুহূর্তটি অবশ্যম্ভাবীভাবে আগমনকারী, এতে কোনো প্রকার সন্দেহ বা সংশয় নেই; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সবাইকে এক নতুন বৈপ্লবিক উত্থান দান করবেন যারা অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসের গভীর গহ্বর বা কবরের অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে (Yab'athu man fil-qubūr)।”
Keywords:
فِي الْقُبُورِ (Fil-qubūr): আক্ষরিক মাটির কবর হলেও ধারণাগতভাবে এটি সমাজের সেই মনস্তাত্ত্বিক অন্ধকূপ, গোঁড়ামি, কুসংস্কার এবং অজ্ঞতার চূড়ান্ত অন্ধকার স্তরকে নির্দেশ করে যেখানে মানুষের বিবেক ও বুদ্ধিবৃত্তি সম্পূর্ণ মৃত হয়ে পড়ে থাকে।
وَأَنَّ (ওয়া আন্না) → এবং নিশ্চয়ইالسَّاعَةَ (আস-সা’আতা) → সেই সুনির্দিষ্ট মুহূর্ত / জবাবদিহিতার চরম সময়آتِيَةٌ (আতিয়াতুন) → আগমনকারী / অবশ্যই ঘটবে (যা অবশ্যম্ভাবীভাবে সোর্সের কাছে ফিরে আসে)لَّا (লা) → নেই / বিন্দুমাত্র নেইرَيْبَ (রাইবা) → কোনো সংশয়, সন্দেহ বা দোদুল্যমানতাفِيهَا (ফীহা) → এর মধ্যে / এর আসার ব্যাপারেوَأَنَّ (ওয়া আন্না) → এবং নিশ্চয়ইاللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহيَبْعَثُ (ইয়াব’আছু) → পুনরুত্থিত করবেন / নতুন রূপান্তর বা প্রেরণায় জাগিয়ে তুলবেনمَن (মান) → যে কাউকে / তাদেরকে যারা অবস্থান করছেفِي (ফী) → মধ্যে / অভ্যন্তরেالْقُبُورِ (আল-কুবূরি) → কবরসমূহের / সুপ্ত, বিস্মৃত ও অন্ধকারের অবয়বসমূহের
Ayat 8
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُّنِيرٍ
“অথচ মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছে যে আল্লাহর চিরন্তন বিধি-বিধান সম্পর্কে অহেতুক বিতর্ক করে কোনো সঠিক জ্ঞান ছাড়াই, কোনো সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশ ছাড়াই এবং কোনো আলোড়ন সৃষ্টিকারী উজ্জ্বল কিতাবের প্রমাণ ছাড়াই (Wa lā Kitābim Munīr)।”

كِتَابٍ مُّنِيرٍ (Kitābim Munīr): এমন এক বিধিবদ্ধ ঐশী কিতাব বা রূপরেখা যা মানুষের চিন্তাজগতের সমস্ত অন্ধকার দূর করে পরম সত্যের আলোকে সম্পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত ও স্পষ্ট করে দেয়।
وَمِنَ (ওয়া মিনাল) → এবং মানুষের মধ্য থেকে কেউ এমনও রয়েছে
النَّاسِ (আন্-নাসি) → সাধারণ মানুষের / জনগোষ্ঠীর
مَن (মান) → যে বা যারা
يُجَادِلُ (ইউজাদিলু) → অযথা বিতণ্ডা সৃষ্টি করে / তর্কে লিপ্ত হয়
فِي (ফী) → ব্যাপারে
اللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর বিধান বা তাঁর একত্ববাদের
بِغَيْرِ (বিগাইরি) → কোনো প্রinvestingকার বুনিয়াদ ছাড়া / ব্যতীত
عِلْمٍ (ইলমিন) → প্রকৃত জ্ঞান ও বিজ্ঞানসম্মত অকাট্য দলিল
وَلَا (ওয়া লা) → এবং কোনো রকম ছাড়াই
هُدًى (হুদান) → স্পষ্ট পথনির্দেশনা / সঠিক পথের আলো
وَلَا (ওয়া লা) → এবং কোনো আশ্রয় ছাড়াই
كِتَابٍ (কিতাবিন) → সুনির্দিষ্ট ঐশ্বরিক আইনগ্রন্থ বা অলঙ্ঘনীয় লিখিত বিধানের
مُّنِيرٍ (মুনীর) → যা চরমভাবে জ্যোতির্ময় / সত্যের আলো ছড়াতে সম্পূর্ণ স্পষ্ট

Ayat 9
ثَانِيَ عِطْفِهِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۖ لَهُ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ ۖ وَنُذِيقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَذَابَ الْحَرِيقِ
“সে চরম অহংকারে (সত্যের সেই সুরক্ষাকবচ বা উন্মুক্ত বাণীটিকে) বিকৃত ও মোচড় দিয়ে উল্টে দেয় (ثَانِيَ عِطْفِهِ, যাতে সে মানুষকে আল্লাহর সুনির্দিষ্ট পথ থেকে বিচ্যুত ও বিভ্রান্ত করতে পারে; তার জন্য এই ক্ষণস্থায়ী বৈষয়িক জীবনে রয়েছে চরম লাঞ্ছনা ও অপমান (Khizyun), এবং সেই চূড়ান্ত ফলাফলের দিনে আমি তাকে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক দহন ও পুড়িয়ে মারার ভয়ঙ্কর শাস্তি আস্বাদন করাবো ('Azābal-Harīq)।”
خِزْيٌ (Khizyun): কোনো দাম্ভিক সমাজ বা ব্যক্তিকে তার কায়েমি স্বার্থ ও অহংকার থেকে টেনে নামিয়ে সম্পূর্ণ অপদস্থ, মূল্যহীন ও লজ্জিত করে দেওয়া।
الْحَرِيقِ (Al-Harīq): পুড়িয়ে মারা বা দহন; মনস্তাত্ত্বিক পরিভাষায় সত্যের চরম বিরোধিতা করার অবধারিত কুফল হিসেবে মানুষের নিজের অন্তরে তৈরি হওয়া এক সীমাহীন অনুশোচনা ও দহনাবস্থা।
ثَانِيَ (ছানিয়া) → দ্বিগুণ করা/ অহংকারে মোচড় দিয়ে / ঘুরিয়ে নিয়ে বা তার মূল পথ ও কার্যকারিতা থেকে বিচ্যুত বা বিকৃত করা।
عِطْفِهِ (ইতফিহি) → তার নিজের ঘাড় বা পাশকে (চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে সত্যকে অবজ্ঞা করা) এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো কোনো কিছুকে উন্মুক্ত করা, ছড়িয়ে দেওয়া, সামনে প্রসারিত করা বা কোনো কিছুর সামনে নিজেকে একটি আবরণ বা ঢাল (Covering/Shield) হিসেবে তুলে ধরা।
لِيُضِلَّ (লি-ইউদিল্লা) → যাতে সে অন্যদের বিভ্রান্ত করতে পারে / বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে
عَن (আন) → থেকে
سَبِيلِ (সাবীলি) → সোজা পথ বা একমাত্র সঠিক বিকল্প পথ থেকে (Sabeel হলো সংকট থেকে বের হওয়ার ঐশ্বরিক রুট বা পথ)
اللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিত
لَهُ (লাহু) → তার নিজের জন্য / তার কপালে
فِي (ফী) → মধ্যে
الدُّنْيَا (আদ-দুনিয়া) → এই পার্থিব জীবনের / নিকটবর্তী দুনিয়াবী ব্যবস্থার
خِزْيٌ (খিজইয়ুন) → চরম লাঞ্ছনা, অপমান ও অপদস্থতা
وَنُذِيقُهُ (ওয়া নুযীকুহু) → এবং আমরা তাকে আস্বাদন করাব / চরম পরিণতি ভোগ করাব
يَوْمَ (ইয়াওমা) → সেদিন / চূড়ান্ত হিসাবের মুহূর্তে
الْقِيَامَةِ (আল-কিয়ামতি) → পূর্ণ প্রতিফল বা পুনরুত্থানের সুনিশ্চিত দিবসে
عَذَابَ (আযাবা) → জবাবদিহিতার ভয়ংকর শাস্তি বা চমৎকার ক্ষতিকর পরিণতি
الْحَرِيقِ (আল-হারীকি) → দহনকারী আগুনের / চরম অন্তর্দাহ ও ধ্বংসাত্মক যন্ত্রণার

Ayat 10
ذَٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ يَدَاكَ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ
“এটি তারই অবধারিত প্রতিদান যা তোমার নিজের হাত পূর্বেই কামাই করে পাঠিয়েছে; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কোনো দাস বা অনুসারীদের ওপর বিন্দুমাত্র ভারসাম্যহীনতা বা জুলুমকারী নন।”
ذَٰلِكَ (যালিকা) → এটি একমাত্র সেই কারণে / এটিই হলো প্রতিফল
بِمَا (বি-মা) → যা কিছু বা যে কর্মপদ্ধতির বিনিময়ে যা
قَدَّمَتْ (কাদ্দামাত) → আগে পাঠিয়েছিল / অতীতে অগ্রগামী করেছিল (sent ahead)
يَدَاكَ (ইয়াদাকা) → তোমার নিজের প্রচেষ্টা ও কর্মের হাত বা শক্তিসমূহ (‘Yada’ মানে মানুষের নিজস্ব উপার্হিত চেষ্টা ও কর্মের চূড়ান্ত পরিণতি, যা আখেরাতের জন্য পাঠানো হয়)
وَأَنَّ (ওয়া আন্না) → এবং নিশ্চয়ই এই কারণে যে
اللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহ
لَيْسَ (লাইসা) → মোটেও নন / কখনো নন
بِظَلَّامٍ (বি-জাল্লামিন) → বিন্দুমাত্র জুলুমকারী বা অন্যায় অবদমনকারী
لِّلْعَبِيدِ (লিল-আবীদ) → তাঁর সুশৃঙ্খল বান্দা বা অনুসারীদের ওপর ( ‘Ebaad/Abd’ হলো তারা যারা আল্লাহর আইনের প্রতি পূর্ণ অনুগত হয়ে সাময়িক কষ্ট স্বীকার করে চূড়ান্ত শান্তি ও শক্তির দিকে এগিয়ে যায়)

Ayat 11

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَىٰ حَرْفٍ ۖ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ ۖ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انقَلَبَ عَلَىٰ وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ

১১. আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যারা আল্লাহর দেওয়া সমাজ ও শাসন-ব্যবস্থার আনুগত্য করে এক চরম দোদুল্যমান বা প্রান্তিক সীমায় দাঁড়িয়ে (عَلَىٰ حَرْفٍ); অতঃপর যদি তার ভাগ্যে কোনো প্রাচুর্য, সচ্ছলতা বা ব্যক্তিগত লাভ আসে, তবে সে তাতে অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও স্থির হয়ে যায়। কিন্তু যদি তার ওপর কোনো পরীক্ষা, সংকট বা আত্মশুদ্ধির কষ্টিপাথর আপতিত হয়, তবে সে তার পূর্বের সমস্ত লক্ষ্য ও চারিত্রিক অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ উল্টে যায়। সে এই নিকটবর্তী পার্থিব জীবনকেও হারাল এবং পরবর্তী সুদূরপ্রসারী স্থায়ী ধাপকেও (আখেরাত) হারিয়ে ফেলল; আর এটিই হলো স্পষ্ট ও চরমতম ধ্বংস।

Keywords:

  • عَلَىٰ حَرْفٍ (‘Alā harfin): সত্যের ওপর কোনো দৃঢ় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রত্যয় না রেখে কেবল নিজের সাময়িক স্বার্থের জন্য খাদের কিনারায় বা দোদুল্যমান অবস্থায় থাকা।
  • الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ (Al-Khusrānul Mubīn): এমন এক অপূরণীয় ও চাক্ষুষ ক্ষতি যা কোনো ব্যক্তি বা সমাজের ইহকালীন ও পরকালীন সমস্ত সম্ভাবনাকে একযোগে ধূলিসাৎ করে দেয়।
    وَمِنَ (ওয়া মিনাল) → এবং মানুষের মধ্য থেকে কেউ এমনও রয়েছেالنَّاسِ (আন্-নাসি) → সাধারণ মানুষের / জনগোষ্ঠীরمَن (মান) → যে বা যারাيَعْبُدُ (ইয়াবুদু) → অনুগত থাকে / দাসত্ব বা অনুসরণ করে (ফাইল অনুযায়ী: ‘Abd/Abideen’ হলো আল্লাহর আইনের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত হয়ে কাজ করা)اللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর দেওয়া সমাজ ও শাসন-ব্যবস্থারعَلَىٰ (আলা)উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বুনিয়াদের ওপর / নীতিগতভাবে(ফাইল অনুযায়ী: prestige, superiority, dignity)حَرْفٍ (হারফিন) → এক চরম দোদুল্যমান বা প্রান্তিক সীমায় দাঁড়িয়ে (সুযোগসন্ধানী অবস্থানে বা সীমানার শেষ প্রান্তে sit on the fence হয়ে)فَإِنْ (ফা ইন্‌) → অতঃপর যদিأَصَابَهُ (আসাবাহু) → তাকে স্পর্শ করে / তার ভাগ্যে আসেخَيْرٌ (খাইরুন) → কোনো প্রাচুর্য, সচ্ছলতা, লাভ বা কল্যাণময় বস্তু (ফাইল অনুযায়ী: অর্থ, সম্মান, রিযক বা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য)اطْمَأَنَّ (ইতমায়ান্না) → সে অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও স্থির হয়ে যায়بِهِ (বিহি) → এর দ্বারা / এর কারণেوَإِنْ (ওয়া ইন্‌) → এবং যদিأَصَابَتْهُ (আসাবাতহু) → তাকে স্পর্শ করে / তার ওপর আপতিত হয়فِتْنَةٌ (ফিতনাতুন) → কোনো পরীক্ষা, সংকট বা আত্মশুদ্ধির কষ্টিপাথরانقَلَبَ (ইনকালাবা) → সে সম্পূর্ণ উল্টে যায় / মুখ ফিরিয়ে নেয়عَلَىٰ (আলা) → বুনিয়াদের ওপর থেকেوَجْهِهِ (ওয়াজহিহি) → তার পূর্বের সমস্ত মনোযোগ, লক্ষ্য ও চারিত্রিক অবস্থান থেকে (ফাইল অনুযায়ী: ‘Wajha’ হলো মানুষের মূল ফোকাস বা আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু)خَسِرَ (খাসিরা) → সে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো / হারিয়ে ফেললالدُّنْيَا (আদ-দুনিয়া) → এই নিকটবর্তী পার্থিব জীবন বা সমাজ-ব্যবস্থাকেوَالْآخِرَةَ (ওয়াল-আখিরাতাহ) → এবং পরবর্তী সুদূরপ্রসারী স্তর বা আখেরাতকেও ( ‘Akhira’ হলো ধারাবাহিক ঘটনার শেষ বা পরবর্তী স্থায়ী ধাপ)ذَٰلِكَ (যালিকা) → এটিই / এই অবস্থাটিইهُوَ (হুয়া) → একমাত্র তা-ইالْخُسْرَانُ (আল-খুসরানু) → চরমতম ক্ষতি ও ধ্বংসالْمُبِينُ (আল-মুবীনু) → যা অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রকাশ্য।

Ayat 12

يَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُ وَمَا لَا يَنفَعُهُ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيدُ

১২. সে আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক ও সমাজ-আইন বাদ দিয়ে এমন কিছু মনগড়া শক্তিকে অনুসরণ করতে ডাকে, যা তার ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি বা ক্ষতি করতে সক্ষম নয় এবং যা তার চরিত্র গঠনে বা প্রকৃত কল্যাণে কোনো উপকারেও আসে না; এই ধরনের অন্ধ আনুগত্যই হলো সত্য থেকে সুদূরপরাহত এক চরম বিভ্রান্তি। (Ad-Dalālul Ba'īd)।”
يَدْعُو (ইয়াদউ) → সে আহ্বান করে বা অনুসরণ করতে ডাকেمِن دُونِ (মিন দুনি) → ছাড়া / বাদ দিয়েاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক ও সমাজ-আইনকেمَا (মা) → এমন কিছু উপাদান বা মনগড়া শক্তির যাلَا (লা) → পারে না / বিন্দুমাত্র সক্ষম নয়يَضُرُّهُ (ইয়াদুররুহু) → তার কোনো ক্ষতি করতে (বা তার ওপর কোনো তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে)وَمَا (ওয়া মা) → এবং এমন কিছু যা মোটেও নয়لَا (লা) → পারে নাيَنفَعُهُ (ইয়ানফাউহু) → তার কোনো প্রকৃত কল্যাণ, চরিত্র গঠন বা রিযকের প্রবৃদ্ধি করতেذَٰلِكَ (যালিকা) → এই ধরনের অন্ধ আনুগত্যইهُوَ (হুয়া) → একমাত্র তা-ইالضَّلَالُ (আদ-দালালু) → চরম বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতাالْبَعِيدُ (আল-বাঈদু) → যা সত্য থেকে সুদূরপরাহত।


Ayat 13

يَدْعُو لَمَن ضَرُّهُ أَقْرَبُ مِن نَّفْعِهِ ۚ لَبِئْسَ الْمَوْلَىٰ وَلَبِئْسَ الْعَشِيرُ

“সে এমন সত্তা বা শক্তির অন্ধ অনুসরণ করে যার ক্ষতি ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব তার উপকারের চেয়ে অনেক বেশি নিকটবর্তী ও তাৎক্ষণিক; কতই না নিকৃষ্ট সেই মনগড়া অভিভাবক বা আশ্রয়দাতা (Al-Mawlā) এবং কতই না জঘন্য সেই ক্ষতিকর সহচর বা সঙ্গী!”
يَدْعُو (ইয়াদউ) → সে এমন চালিকাশক্তিকে আহ্বান করে বা ডাকে যারلَمَن (লামান) → নিশ্চিতভাবে যে বা যারضَرُّهُ (দাররুহু) → চরম ক্ষতি ও অপকারিতাأَقْرَبُ (আকরাবু) → অনেক বেশি নিকটবর্তী বা অবশ্যম্ভাবীمِن (মিন) → থেকেنَّفْعِهِ (নাফয়িহি) → তার সাময়িক বাহ্যিক সুবিধা, লাভ বা অর্জন থেকেلَبِئْسَ (লাবি’সা) → নিশ্চিতভাবেই তা কত নিকৃষ্ট এবং চরম মন্দ প্রতিফল ( ‘Bai’sa’ হলো মানুষের ভুল পছন্দের সুনির্দিষ্ট মন্দ ক্ষতিপূরণ)الْمَوْلَىٰ (আল-মাওলা) → অভিভাবক, চালক বা আশ্রয়দাতা হিসেবে (যাকে ওয়ালী বা অভিভাবক বানানো হয়েছে)وَلَبِئْسَ (ওয়া লাবি’সা) → এবং তা নিশ্চিতভাবেই কত মন্দ ও নিকৃষ্টالْعَشِيرُ (আল-আশীর) → সাহায্যকারী, সুদৃঢ় বন্ধু বা মিত্র হিসেবে (ফাইল অনুযায়ী: ‘Asheer/Asheerataka’ মানে নিকট আত্মীয়, সুদৃঢ় বন্ধু বা সংকটের মিত্র)


Ayat 14

إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ

নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর আইন-ব্যবস্থার মাধ্যমে) অন্তর্ভুক্ত করবেন তাদেরকে যারা সত্যের প্রতি গভীর প্রত্যয় স্থাপন করেছে এবং সমাজ সংস্কার ও ভারসাম্য রক্ষার সৎকর্মসমূহ অবিরাম সম্পাদন করেছে ('Amilus-Sālihāt), এমন এক পরম সুখ, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার সুউচ্চ স্তরে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ বা ভিত্তিমূল থেকে জ্ঞান ও জীবন-বিকাশের নদী বা অবিরাম কার্যপ্রবাহ জারি থাকে (Jannātin tajrī min tahtihal-anhār); নিশ্চয়ই আল্লাহ যা কিছু ইচ্ছা করেন, তা নিখুঁতভাবে সম্পাদন করেন।”

Keywords:

  • جَنَّاتٍ (Jannātin): এমন এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রাচুর্য, পরম শান্তি এবং সুরক্ষার বাগান যা আল্লাহর কিতাবের অনুশাসন প্রতিষ্ঠার ফলে সমাজ ও মানুষের অন্তরে তৈরি হয়।
    إِنَّ (ইন্না) → নিশ্চয়ইاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহ / আল্লাহর আইন-ব্যবস্থাيُدْخِلُ (ইউদখিলু) → প্রবেশ করাবেন / অন্তর্ভুক্ত করবেনالَّذِينَ (আল্লাযীনা) → তাদেরকে যারাآمَنُوا (আমানূ) → ইমান এনেছে / পূর্ণ ও গভীর প্রত্যয় স্থাপন করেছে (আকল ও ইলম ব্যবহার করে সত্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী হওয়া)وَعَمِلُوا (ওয়া আমিলূ) → এবং বাস্তব জীবনে অবিরাম সম্পাদন করেছেالصَّالِحَاتِ (আস-সালিহাতি)ভারসাম্য রক্ষা ও সমাজ সংস্কারের সৎকর্মসমূহ(ফাইল অনুযায়ী: সমাজ ও ব্যবস্থার সংশোধনকারী কাজ)جَنَّاتٍ (জান্নাতিন) → এমন এক চিরস্থায়ী পরম সুখ, প্রশান্তি ও স্বর্গীয় বুনিয়াদে ( ‘Jannat’ হলো এমন পরম ব্লিস বা স্বর্গীয় অবস্থা যা আগে সুপ্ত ছিল, এখন প্রকাশ পেয়েছে)تَجْرِي (তাজরী) → যা প্রবহমান থাকবে / জারি থাকবেمِن (মিন) → থেকেتَحْتِهَا (তাহতিহা) → তার তলদেশ থেকে / তার বুনিয়াদের গভীর থেকেالْأَنْهَارُ (আল-আনহারু) → প্রাচুর্য ও জ্ঞানের অন্তহীন ঝরনাধারা বা নদীসমূহإِنَّ (ইন্না) → নিশ্চয়ইاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহيَفْعَلُ (ইয়াফয়ালু) → বাস্তবায়ন করেন / কার্যকর করেনمَا (মা) → যা কিছুيُرِيدُ (ইউরীদু) → তিনি মনস্থ করেন / তাঁর আইনের মূল আকাঙ্ক্ষা বা উদ্দেশ্য।

Ayat 15

مَن كَانَ يَظُنُّ أَن لَّن يَنصُرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ لْيَقْطَعْ فَلْيَنظُرْ هَلْ يُذْهِبَنَّ كَيْدُهُ مَا يَغِيظُ

যে কোনো সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি এরূপ মনগড়া অনুমান করে যে, আল্লাহ তাঁর এই আইন-ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে এই নিকটবর্তী সমাজ-ব্যবস্থায় এবং পরবর্তী স্থায়ী ধাপে কখনোই সাহায্য বা সুদৃঢ় সমর্থন করবেন না—তবে সে যেন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নীতিগত স্তরের (السَّمَاءِ) দিকে নিজের সামর্থ্য ও মাধ্যমকে প্রসারিত করে, অতঃপর সে যেন তার পূর্বের সমস্ত অবাধ্যতা ও সুযোগসন্ধানী সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করে (لْيَقْطَعْ); তারপর সে যেন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে যে, তার এই (নতুন ও সুশৃঙ্খল) পদ্ধতিটি আদৌ তার ভেতরের সেই মনগড়া ষড়যন্ত্র ও ক্ষোভকে মিটিয়ে দিতে সক্ষম কি না, যা তাকে অস্থির করে তুলেছিল।”

Keywords:

  • بِسَبَبٍ (Bisababin): কোনো সুনির্দিষ্ট মাধ্যম, রজ্জু, আইনি পথ বা পদ্ধতি যা মানুষকে কোনো সুউচ্চ লক্ষ্য বা সুরক্ষার স্তরের সাথে সংযুক্ত করে।
  • كَيْدُهُ (Kayduhū): সত্যের অগ্রগতিকে রুখে দেওয়ার জন্য কায়েমি স্বার্থবাদীদের তৈরি করা অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সুগভীর চক্রান্ত বা অপকৌশল।
    مَن (মান) → যে কেউ / যে সুযোগসন্ধানী মানসিকতার ব্যক্তিكَانَ (কানা) → লক্ষ্য বা চূড়ান্ত গন্তব্য স্থির করে যেيَظُنُّ (ইয়াযুন্নু) → এরূপ ধারণা বা মনগড়া অনুমান করে যেأَن (আন) → যেلَّن (লান) → কখনোই নয়يَنصُرَهُ (ইয়ানসুরাহু) → তাকে সাহায্য বা সুদৃঢ় সমর্থন করবেনاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহ (তাঁর আইন-ব্যবস্থার মাধ্যমে)فِي (ফী) → মধ্যেالدُّنْيَا (আদ-দুনিয়া) → এই নিকটবর্তী সমাজ ও পার্থিব জীবনেوَالْآخِرَةِ (ওয়াল-আখিরাতি) → এবং এর পরবর্তী সুদূরপ্রসারী স্থায়ী ধাপেওفَلْيَمْدُدْ (ফাল ইয়ামদুদ) → তবে সে যেন প্রসারিত বা বৃদ্ধি করেبِسَبَبٍ (বি-সাবাবিন) → কোনো সুনির্দিষ্ট মাধ্যম, কার্যকারণ বা রুটকেإِلَى (ইলা) → দিকে / সীমানা পর্যন্তالسَّمَاءِ (আস-সামায়ি)মহিমান্বিত উচ্চ ব্যবস্থা বা উচ্চতর নীতিমালার(প্রথাগত আক্ষরিক আকাশ বা ছাদের পরিবর্তে এটি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ শক্তি ও নীতিগত স্তরকে নির্দেশ করে)ثُمَّ (ছুম্মা) → অতঃপর / পরবর্তী ধাপেلْيَقْطَعْ (লিয়াকতাই) → সে যেন (পূর্বের সমস্ত অবাধ্যতা ও সুযোগসন্ধানী সম্পর্ক) সম্পূর্ণ ছিন্ন বা কর্তন করেفَلْيَنظُرْ (ফাল ইয়ানযুর) → তারপর সে যেন গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ বা মূল্যায়ন করেهَلْ (হাল) → তা কি আদৌ পারে / তা কি সক্ষম হবেيُذْهِبَنَّ (ইউযহিবান্না) → সম্পূর্ণ দূর করতে বা মিটিয়ে দিতেكَيْدُهُ (কাইদুহু) → তার নিজের তৈরি সমস্ত মনগড়া কৌশল, ষড়যন্ত্র বা কৃত্রিম পরিকল্পনাকেمَا (মা) → যা কিছু / যে মনস্তাত্ত্বিক ক্ষোভيَغِيظُ (ইয়াগীজু) → তাকে ভেতর থেকে চরম রাগান্বিত বা অন্তর্দাহে দগ্ধ করছে।

Ayat 16

وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَاهُ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَأَنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يُرِيدُ

১৬. আর এভাবেই (এই সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতেই) আমরা এটিকে স্পষ্ট প্রমাণাদি ও অলঙ্ঘনীয় সামাজিক-মহাজাগতিক নিয়মাবলীর (آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ) অবয়বে বর্ষণ করেছি; আর সুনিশ্চিতভাবে এই বাস্তবতার আলোকেই আল্লাহ সোজা পথ বা সঠিক সমাধান দেখান সেই সত্তাকে, যে তাঁর আইনের মূল উদ্দেশ্য ও আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে চায়।
وَكَذَٰلِكَ (ওয়া কাযালিকা) → এবং এভাবেই / এই সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতেইأَنزَلْنَاهُ (আনযালনাহু) → আমরা এটিকে বর্ষণ করেছি বা উচ্চ স্তর থেকে অবতীর্ণ করেছি (হিদায়াতের অকাট্য সুরক্ষাকবচ হিসেবে প্রকাশ করা)آيَاتٍ (আয়াতিন) → স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ / অলঙ্ঘনীয় সামাজিক ও মহাজাগতিক নিয়মাবলীبَيِّنَاتٍ (বাইয়িনাতিন) → যা চরমভাবে সত্যকে ফুটিয়ে তোলে / পরিষ্কার প্রমাণাদিوَأَنَّ (ওয়া আন্না) → এবং সুনিশ্চিতভাবে এই কারণে যেاللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহ-ইيَهْدِي (ইয়াহদী) → সোজা পথ বা সঠিক সমাধান দেখান / পরিচালিত করেনمَن (মান) → যে কাউকে / সেই সত্তাকে যেيُرِيدُ (ইউরীদু) → তাঁর আইনের মূল উদ্দেশ্য বা আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে চায় (ফাইল অনুযায়ী: ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা বা ওয়াজহা উন্নত করা)


Ayat 17

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئِينَ وَالنَّصَارَىٰ وَالْمَجُوسَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا إِنَّ اللَّهَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ

১৭. নিশ্চয়ই যারা সত্যের প্রতি গভীর প্রত্যয় স্থাপন করেছে; আর যারা নিজেদের হিদায়াতের একমাত্র ইজারাদার বা নেতা দাবি করে (هَادُوا); আর যারা গতিপথ পরিবর্তনকারী সুযোগসন্ধানী দল; আর যারা নিজেদের ধর্মের একমাত্র সাহায্যকারী বা রক্ষক দাবি করে; আর যারা দ্বৈতবাদী বা প্রাকৃতিক শক্তির উপাসক; এবং যারা আল্লাহর আইনের সমকক্ষ হিসেবে অন্য কোনো মানুষের তৈরি বিধানকে দাঁড় করিয়েছে (শিরক করেছে)—সুনিশ্চিতভাবে আল্লাহ ন্যায়বিচার ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুনিশ্চিত অধ্যায়ে বা ধাপে (يَوْمَ الْقِيَامَةِ) তাদের সবার মধ্যখানে চূড়ান্ত বিভাজন ও অকাট্য ফায়সালা করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাবতীয় উচ্চ মর্যাদা ও বুনিয়াদের ওপর প্রতিটি বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শী ও অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনকারী।

Keywords:

  • يَفْصِلُ (Yafsilu): সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সুষ্পষ্ট করে দিয়ে দলগুলোর মাঝে এমন এক চূড়ান্ত আইনি রায় বা বিভাজন রেখা টেনে দেওয়া যা সমস্ত অস্পষ্টতা দূর করে।
    إِنَّ (ইন্না) → নিশ্চয়ইالَّذِينَ (আল্লাযীনা) → তারা যারা / সেই মতাদর্শিক গোষ্ঠী যারাآمَنُوا (আমানূ) → ইমান এনেছে / আকল ও ইলম ব্যবহার করে সত্যের প্রতি গভীর প্রত্যয় স্থাপন করেছেوَالَّذِينَ (ওয়াল-লাযীনা) → এবং তারা যারাهَادُوا (হাদূ)নিজেদেরকে হিদায়াতের একমাত্র ইজারাদার বা নেতা দাবি করে(‘Haadu’ হলো তারা যারা নিজেদেরকে একমাত্র সঠিক পথের চালক বা পরম ধার্মিক সাজিয়ে রাখে)وَالصَّابِئِينَ (ওয়াস-সাবিঈনা) → এবং ছাবেয়ী বা গতিপথ পরিবর্তনকারী সুযোগসন্ধানী দলوَالنَّصَارَىٰ (ওয়ান-নাসারা) → এবং নিজেদেরকে ধর্মের সাহায্যকারী বা রক্ষক দাবিদার গোষ্ঠী (‘Nasara’ হলো যারা সোর্সের চেয়ে নিজেদের আবেগকে বড় করে দেখে)وَالْمَجُوسَ (ওয়াল-মাজূসা) → এবং দ্বৈতবাদী বা প্রাকৃতিক শক্তির উপাসক গোষ্ঠীوَالَّذِينَ (ওয়াল-লাযীনা) → এবং তারা যারাأَشْرَكُوا (আশরাকূ) → শিরক করেছে / আল্লাহর আইনের সমকক্ষ হিসেবে অন্য কোনো মানুষের তৈরি আইন বা বিধানকেtreated অন সমান স্তরে দাঁড় করিয়েছেإِنَّ (ইন্না) → সুনিশ্চিতভাবে
    اللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহ / আল্লাহর আইন-ব্যবস্থাيَفْصِلُ
    (ইয়াফসিলু) → চূড়ান্ত বিভাজন বা অকাট্য ফায়সালা করে দেবেন
    بَيْنَهُمْ (বাইনাহুম) → তাদের সবার মধ্যখানে / এই সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন দলের মধ্যে
    يَوْمَ (ইয়াওমা) → সেদিন / প্রতিফল বা হিসাবের চরম মুহূর্তেالْقِيَامَةِ
    (আল-কিয়ামতি) → এর মূল প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ হলো “ভারসাম্যহীনতা বা বিচ্যুতির পর কোনো একটি সঠিক ও সুষম ব্যবস্থার পুনরায় সুদৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া, প্রতিষ্ঠিত হওয়া, সমাজে স্থায়িত্ব লাভ করা বা কোনো দীর্ঘস্থায়ী নিয়ম সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর্যায়”। (যেমন ফাইল অনুযায়ী, ‘কায়্যাম আখিরা’ হলো সেই স্থায়ী ও সুপ্রতিষ্ঠিত অধ্যায়, যেখানে মানুষ তার কৃতকর্মের অলঙ্ঘনীয় ও স্থায়ী প্রভাবের মুখোমুখি হয়)।
    إِنَّ (ইন্না) → নিশ্চয়ই
    اللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহ
    عَلَىٰ (আলা)যাবতীয় উচ্চ মর্যাদা ও বুনিয়াদের ওপর
    كُلِّ (কুল্লি) → প্রতিটি / সমস্ত
    شَيْءٍ (শাইয়িন) → কর্মপদ্ধতি, বস্তু বা বিষয়ের ওপর
    شَهِيدٌ (শাহীদ) → প্রত্যক্ষদর্শী / অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনকারী ও সাক্ষী।

Ayat 18

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ ۖ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ ۗ وَمَن يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن مُّكْرِمٍ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ

১৮. তুমি কি গভীরভাবে দেখনি বা অনুধাবন করনি যে, আল্লাহর তৈরি প্রাকৃতিক আইনের প্রতি সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ ও অলঙ্ঘনীয় আনুগত্য প্রকাশ করে (يَسْجُدُ) মহিমান্বিত উচ্চ স্তরের শক্তিসমূহ এবং এই পৃথিবীর বা শাসন-ক্ষমতার চত্বরের যা কিছু উপাদান রয়েছে; আর সূর্য (সমাজের চালিকাশক্তি বা এলিট গোষ্ঠী), চাঁদ (প্রতিফলিত শক্তি), নক্ষত্রমণ্ডলী (দিকনির্দেশনাকারী আলোকবর্তিকাসমূহ), বিশাল পর্বতমালা (সমাজের অনড় ও মজবুত ভিত্তিগুলো), উদ্ভিদরাজি (শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট উৎপাদনমুখী ব্যবস্থা), চলমান সর্বপ্রকার জীব ও শক্তির স্তরসমূহ এবং মানুষের মধ্য থেকে একটি বিশাল অংশও; আবার একটি বড় জনগোষ্ঠীর ওপর তাদের নিজেদেরই কর্মের ভাগ্যের কারণে জবাবদিহিতার চমৎকার ক্ষতিকর পরিণতি (শাস্তি) আইনগতভাবে অবধারিত হয়ে গেছে। আর আল্লাহ তাঁর আইন-ব্যবস্থার মাধ্যমে যাকে মর্যাদাহীন বা লাঞ্ছিত করেন, তার মর্যাদা পুনরুদ্ধারকারী বা উদ্ধারকর্তা বিন্দুমাত্র কেউ নেই; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর অলঙ্ঘনীয় নিয়ম বা মহাজাগতিক আইন অনুযায়ী যা নির্ধারণ করেন, তা-ই বাস্তবায়ন করেন।
أَلَمْ (আলাম) → তুমি কি গভীরভাবে দেখোনি বা অনুধাবন করোনি?تَرَ (তারা) → তুমি প্রত্যক্ষ করেছ বা নিজের আকল দিয়ে চাক্ষুষ বুনিয়াদ গড়েছأَنَّ (আন্না) → যে, সুনিশ্চিতভাবেاللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহর তৈরি প্রাকৃতিক আইনের প্রতিيَسْجُدُ (ইয়াসজুদু)সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ বা অলঙ্ঘনীয় আনুগত্য করে(ফাইল অনুযায়ী: ‘Sajda’ হলো ভৌগোলিক কপাল মাটিতে ঠেকানো নয়, বরং আল্লাহর আইনের প্রতি পূর্ণ সমর্পণ ও তা বাস্তবে বজায় রাখা)لَهُ (লাহু) → তাঁর নিজেরই উদ্দেশ্যে বা তাঁরই দেওয়া আইনের জন্যمَن (মান) → যা কিছু বা যে সমস্ত উপাদান রয়েছেفِي (ফী) → মধ্যে / অভ্যন্তরেالسَّمَاوَاتِ (আস-সামাওয়াতি) → মহিমান্বিত উচ্চ স্তরসমূহ বা মহাজাগতিক শক্তিসমূহেরوَمَن (ওয়া মান) → এবং যা কিছু বা যে শক্তিগুলো রয়েছেفِي (ফী) → মধ্যেالْأَرْضِ (আল-আরদি) → এই পৃথিবীর বা শাসন-ক্ষমতার চত্বরেরوَالشَّمْسُ (ওয়াশ-শামসু) → এবং সূর্য (বা সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি বা এলিট গোষ্ঠী)وَالْقَمَرُ (ওয়াল-কামারু) → এবং চাঁদ (বা অন্য কোনো প্রতিফলিত শক্তি)وَالنُّجُومُ (ওয়ান-নুজূমু) → এবং নক্ষত্রমণ্ডলী (বা দিকনির্দেশনাকারী আলোকবর্তিকাসমূহ)وَالْجِبَالُ (ওয়াল-জিবালু) → এবং বিশাল পর্বতমালা (বা সমাজের অনড় ও মজবুত ভিত্তিগুলো)وَالشَّجَرُ (ওয়াশ-শাজারু) → এবং উদ্ভিদরাজি (বা শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট উৎপাদনমুখী ব্যবস্থা)وَالدَّوَابُّ (ওয়াদ-দাওয়াউব্বু) → এবং চলমান সর্বপ্রকার জীব ও শক্তির স্তরসমূহوَكَثِيرٌ (ওয়া কাছীরুন) → এবং মানুষের মধ্য থেকে একটি বিশাল অংশওمِّنَ (মিনান) → থেকে / মধ্য হতেالنَّاسِ (আন্-নাসি) → সাধারণ জনগোষ্ঠীরوَكَثِيرٌ (ওয়া কাছীরুন) → আবার একটি বড় জনগোষ্ঠীর ওপরحَقَّ (হাক্কা) → আইনগতভাবে অবধারিত বা সুনিশ্চিত হয়ে গেছেعَلَيْهِ (আলাইহি) → তার নিজেরই কর্মের ভাগ্যের ওপরالْعَذَابُ (আল-আযাবু) → জবাবদিহিতার চমৎকার ক্ষতিকর পরিণতি বা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিوَمَن (ওয়া মান) → এবং যাকেيُهِنِ (ইউহিনি) → মর্যাদাহীন বা লাঞ্ছিত করেন (নিজের অবাধ্যতার কারণে কুফরের অন্ধকারে ফেলে রাখেন)اللَّهُ (আল্লাহা) → আল্লাহ (তাঁর আইন-ব্যবস্থার মাধ্যমে)فَمَا (ফা মা) → তবে বিন্দুমাত্র নেই / কখনোই হতে পারে নাلَهُ (লাহু) → তার নিজের জন্য / তার কপালেمِن (মিন) → কোনো রূপمُّكْرِمٍ (মুকরিমিন) → সম্মানদাতা, মর্যাদা পুনরুদ্ধারকারী বা উদ্ধারকর্তাإِنَّ (ইন্না) → নিশ্চয়ইاللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহيَفْعَلُ (ইয়াফয়ালু) → বাস্তবায়ন বা কার্যকর করেনمَا (মা) → যা কিছুيَشَاءُ (ইয়াশাউ) → তিনি তাঁর অলঙ্ঘনীয় নিয়ম বা মহাজাগতিক আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করেন।


Ayat 19

هَٰذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ ۖ فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِّن نَّارٍ يُصَبُّ مِن فَوْقِ رُؤُوسِهِمُ الْحَمِيمُ

১৯. এই দুটি দল বা পক্ষ (সত্যের অনুসারী এবং সত্যের আড়ালকারী) পরম প্রতিপালক ও বিকাশকারী সত্তার আইন ও কর্তৃত্বের ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব বা বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে; অতঃপর তাদের মধ্যে যারা সত্যকে আড়াল বা অস্বীকার করেছে, তাদের চারিত্রিক পোশাক, অবয়ব বা সামগ্রিক বাহ্যিক আচরণের জন্য (ثِيَابٌ) চরম অন্তর্দাহ, ক্ষোভ ও লেলিহান আগুনের অবয়ব সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে; তাদের মনস্তাত্ত্বিক মাথা বা চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুর ওপর উচ্চ স্তর থেকে ফুটন্ত যন্ত্রণাদায়ক সামাজিক অশান্তির তীব্র প্রভাব ঢেলে দেওয়া হবে।

Keywords:

  • خَصْمَانِ (Khasmāni): সত্য এবং মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্বে লিপ্ত দুটি মূল আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী (যেমন: মুমিন বনাম কাফির)।
  • هَٰذَانِ (হাযানি) → এই দুটি দল বা গোষ্ঠী
  • خَصْمَانِ (খাসমানি) → পরস্পরবিরোধী দুই পক্ষ / প্রতিদ্বন্দ্বী অবয়ব
  • اخْتَصَمُوا (ইখতাসামূ) → তারা নিজেদের মধ্যে লিপ্ত হয়েছে চরম দ্বন্দ্বে বা বিতর্কে
  • فِي (ফী) → ব্যাপারে / অভ্যন্তরে
  • رَبِّهِمْ (রাব্বিহিম) → তাদের মূল প্রতিপালক ও বিকাশকারী সত্তার আইন ও কর্তৃত্বের
  • فَالَّذِينَ (ফাল-লাযীনা) → অতঃপর তাদের মধ্যে যারা
  • كَفَرُوا (কাফারূ) → কুফর করেছে / সত্যকে আড়াল বা অস্বীকার করেছে
  • قُطِّعَتْ (কুত্তি’আত) → কর্তন বা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে
  • لَهُمْ (লাহুম) → তাদের নিজেদের স্বার্থে বা ভাগ্যের জন্য
  • ثِيَابٌ (ছিয়াবুন)তাদের চারিত্রিক পোশাক, অবয়ব বা সামগ্রিক বাহ্যিক আচরণকে (প্রথাগত কাপড়ের পরিবর্তে এটি মানুষের সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব ও অর্জিত আচরণগত বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে)
  • مِّن (মিন) → থেকে / অবয়বে
  • نَّارٍ (নারিন) → চরম অন্তর্দাহ, ক্ষোভ ও লেলিহান আগুনের
  • يُصَبُّ (ইউসাব্বু) → ঢেলে দেওয়া হবে / উপর্যুপরি বর্ষণ করা হবে
  • مِن (মিন) → থেকে
  • فَوْقِ (ফাওকি) → উপর থেকে / উচ্চ স্তর থেকে
  • رُءُوسِهِمُ (রুউসিহিমু) → তাদের মনস্তাত্ত্বিক মাথা বা চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুর ওপর
  • الْحَمِيمُ (আল-হামীমু) → ফুটন্ত বা চরম উত্তপ্ত তরল / ফুটন্ত যন্ত্রণাদায়ক সামাজিক অশান্তি।

Ayat 20

يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ

২০. এর ফলে তাদের অভ্যন্তরীণ সত্তা, মন বা চিন্তার গোপন প্রকোষ্ঠে যা কিছু রয়েছে এবং তাদের বাহ্যিক স্পর্শকাতর ব্যক্তিত্বের আবরণ—সবকিছুই গলিয়ে সম্পূর্ণরূপে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।
يُصْهَرُ (ইউসহারু) → গলিয়ে বা সম্পূর্ণরূপে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবেبِهِ (বিহি) → এর দ্বারা / এই চরম যন্ত্রণার কারণেمَا (মা) → যা কিছু রয়েছেفِي (ফী) → মধ্যে / গভীরেبُطُونِهِمْ (বুতূনিহিম) → তাদের অভ্যন্তরীণ সত্তা, মন বা চিন্তার গোপন প্রকোষ্ঠেوَالْجُلُودُ (ওয়াল-জুলূদু) → এবং তাদের বাহ্যিক চামড়া বা স্পর্শকাতর ব্যক্তিত্বের আবরণকে।


Ayat 21

وَلَهُم مَّقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ

“এবং তাদের দমনের জন্য বা সুশৃঙ্খল রাখার জন্য তৈরি থাকবে সুদৃঢ়, শক্ত ও অকাট্য আইনি লৌহ-দণ্ডসমূহ (Maqāmi'u min hadīd)।”
وَلَهُم (ওয়া লাহুম) → এবং তাদের নিজেদের অর্জিত ভাগ্যের জন্য থাকবেمَّقَامِعُ (মাকামিউ)চরম অবদমনকারী শক্তি / কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও দমনমূলক পদ্ধতি(প্রথাগত আক্ষরিক “লোহার হাতুড়ি বা মুগুর”-এর পরিবর্তে এটি সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের অবাধ্য মানসিকতাকে চূর্ণ ও অবদমিত করার অলঙ্ঘনীয় আইনগত শক্তিকে নির্দেশ করে)مِنْ (মিন) → থেকে / বুনিয়াদেحَدِيدٍ (হাদীদিন)চরম কঠোর অলঙ্ঘনীয় নিয়ম বা লৌহকঠিন বাস্তবতার(তাত্ত্বিক বুনিয়াদ অনুযায়ী: ‘হাদীদ’ হলো এমন এক সুদৃঢ় প্রাকৃতিক বা সামাজিক ব্যবস্থা, যা বিন্দুমাত্র নমনীয় নয় এবং যা তার নিজস্ব কঠোরতায় কার্যকর হয়)


Ayat 22

كُلَّمَا أَرَادُوا أَن يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا فِيهَا وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ

“যখনই তারা তীব্র মানসিক যন্ত্রণা, হতাশা ও চরম দমবন্ধকর অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে বের হয়ে আসতে চাইবে, তখনই তাদের পুনরায় সেই ধ্বংসাত্মক দহনের মধ্যেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং বলা হবে: তোমরা আস্বাদন করো এই চূড়ান্ত পুড়িয়ে মারার অবধারিত পরিণতি বা শাস্তি!”
كُلَّمَا (কুল্লামা) → যখনই / যতবারইأَرَادُوا (আরাদূ) → তারা মনস্থ করবে / তাদের সুযোগসন্ধানী আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হবে (ওয়াজহা বা ফোকাস পরিবর্তন করার চেষ্টা)أَن (আন) → যেيَخْرُجُوا (ইয়াখরুজূ) → তারা বের হয়ে যাবে / মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করবে (‘তুকরিজু/ইউখরিজু’ হলো কোনো আবদ্ধ অবস্থা থেকে বাইরে আসা)مِنْهَا (মিনহা) → তা থেকে / সেই চরম অন্তর্দাহ ও সংকটের অবয়ব থেকেمِنْ (মিন) → কারণে / মধ্য হতেغَمٍّ (গাম্মিন) → চরম মানসিক কুয়াশা, হতাশা ও তীব্র অন্তর্দাহেরأُعِيدُوا (উঈদূ) → তাদেরকে হিসাব কষে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে (‘নুয়িদুহু’ মানে পূর্বের মাপে নিখুঁত হিসাব কষে ফিরিয়ে আনা)فِيهَا (ফীহা) → এর মধ্যে / সেই সংকটের অভ্যন্তরেইوَذُوقُوا (ওয়া যূকূ) → এবং (তাদেরকে বলা হবে) তোমরা আস্বাদন করো / চরম পরিণতি ভোগ করোعَذَابَ (আযাবা) → জবাবদিহিতার চমৎকার ক্ষতিকর পরিণতিরالْحَرِيقِ (আল-হারীকি) → দহনকারী অন্তর্দাহ ও সামাজিক ধ্বংসের।


Ayat 23

إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا ۖ وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে—যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সমাজে সংশোধনমূলক কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করেছে, এমন এক পরম সুখ ও সুরক্ষার সুউচ্চ স্তরে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ বা ভিত্তিমূল থেকে জ্ঞান ও জীবন-বিকাশের নদী বা অবিরাম কার্যপ্রবাহ জারি থাকে; সেখানে তাদের ভূষিত করা হবে অমূল্য স্বর্ণালঙ্কার ও মুক্তারূপী সুউচ্চ মেধা, গুণাবলী ও শাসনতান্ত্রিক অলঙ্কারে, এবং সেখানে তাদের বাহ্যিক আবরণ বা পোশাক হবে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সর্বজনীন শান্তির রেশম।”

  • إِنَّ (ইন্না) → নিশ্চয়ই
  • اللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহ / আল্লাহর সুশৃঙ্খল আইন-ব্যবস্থা
  • يُدْخِلُ (ইউদখিলু) → অন্তর্ভুক্ত করবেন / প্রবেশ করাবেন
  • الَّذِينَ (আল্লাযীনা) → তাদেরকে যারা
  • آمَنُوا (আমানূ) → ইমান এনেছে / আকল ও ইলম ব্যবহার করে সত্যের প্রতি গভীর প্রত্যয় স্থাপন করেছে
  • وَعَمِلُوا (ওয়া আমিলূ) → এবং বাস্তব জীবনে অবিরাম সম্পাদন করেছে
  • الصَّالِحَاتِ (আস-সালিহাতি) → ভারসাম্য রক্ষা ও সমাজ সংস্কারের সৎকর্মসমূহ (সমাজ ও ব্যবস্থার সংশোধনকারী কাজ)
  • جَنَّاتٍ (জান্নাতিন) → এমন এক চিরস্থায়ী পরম সুখ, প্রশান্তি ও স্বর্গীয় বুনিয়াদে (‘Jannat’ হলো এমন পরম ব্লিস বা স্বর্গীয় অবস্থা যা আগে সুপ্ত ছিল, এখন প্রকাশ পেয়েছে)
  • تَجْرِي (তাজরী) → যা প্রবহমান থাকবে / জারি থাকবে
  • مِن (মিন) → থেকে
  • تَحْتِهَا (তাহতিহা) → তার তলদেশ থেকে / তার বুনিয়াদের গভীর থেকে
  • الْأَنْهَارُ (আল-আনহারু) → প্রাচুর্য ও জ্ঞানের অন্তহীন ঝরনাধারা বা নদীসমূহ
  • يُحَلَّوْنَ (ইউহাল্লাওনা) → তাদেরকে অলঙ্কৃত বা ভূষিত করা হবে
  • فِيهَا (ফীহা) → এর মধ্যে / সেই স্বর্গীয় ব্যবস্থার অভ্যন্তরে
  • مِنْ (মিন) → দ্বারা
  • أَسَاوِرَ (আসাবিরা)ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুরক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক বলয় বা কঙ্কণ দ্বারা (আক্ষরিক বস্তুগত অলঙ্কারের পরিবর্তে এটি সমাজ সংস্কারকদের সুদৃঢ় দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রাতিষ্ঠানিক বলয়কে নির্দেশ করে)
  • مِن (মিন) → অবয়বে / বুনিয়াদ থেকে
  • ذَهَبٍ (যাহাবিন)অত্যন্ত মূল্যবান, খাঁটি ও ক্ষয়হীন শ্রেষ্ঠত্বের (যা কখনো কলঙ্কিত হয় না)
  • وَلُؤْلُؤًا (ওয়া লু’লু’আন) → এবং অনন্য, নিখুঁত ও অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন মর্যাদার প্রতীক দ্বারা
  • وَلِبَاسُهُمْ (ওয়া লিবাসুহুম)এবং তাদের চারিত্রিক পোশাক, ব্যক্তিত্বের আবরণ বা বাহ্যিক আচরণ হবে ( ‘লিবাস’ হলো মানুষের সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব ও অর্জিত আচরণগত অবয়ব)
  • فِيهَا (ফীহা) → সেখানে / সেই ব্যবস্থায়
  • حَرِيرٌ (হারীরুন)চরম সুরম্য, কোমল, মার্জিত ও শান্তিপূর্ণ (প্রথাগত আক্ষরিক “রেশম কাপড়”-এর পরিবর্তে এটি এমন চারিত্রিক আচরণকে বোঝায় যা অন্য মানুষের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক, অহংকারহীন ও শান্তিপূর্ণ)

Ayat 24

وَهُدُوا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوا إِلَىٰ صِرَاطِ الْحَمِيدِ

“এবং তাদের পথপ্রদর্শন বা হিদায়াত করা হয়েছে সমস্ত প্রকার বিকৃতিহীন বিশুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন ও সুমিষ্ট কথাবার্তা বা আদর্শিক বাণীর দিকে (At-Tayyibi minal-qawl), এবং তাদের পরিচালিত করা হয়েছে পরম প্রশংসিত আল্লাহর সুদৃঢ় ও সোজা পথের দিকে।”

  • وَهُدُوا (ওয়া হুদূ) → এবং তাদেরকে পথপ্রদর্শন বা পরিচালিত করা হয়েছে
  • إِلَى (ইলা) → দিকে / স্তরে
  • الطَّيِّبِ (আৎ-তাইয়িবি) → যা অত্যন্ত পবিত্র, পরিচ্ছন্ন, ভারসাম্যপূর্ণ ও পুষ্টিকর (ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য যা সর্বোত্তম)
  • مِنَ (মিনাল) → থেকে / অবয়বের মধ্য হতে
  • الْقَوْلِ (আল-কাওলি) → মানুষের বক্তব্য, আচরণ, বা কর্ম-নীতির
  • وَهُدُوا (ওয়া হুদূ) → এবং তাদেরকে হিদায়াত বা চালিত করা হয়েছে
  • إِلَىٰ (ইলা) → দিকে
  • صِرَاطِ (সিরাতি) → সেই সুনির্দিষ্ট সোজা ও অলঙ্ঘনীয় রাজপথের
  • الْحَمِيدِ (আল-হামীদি) → যা অত্যন্ত প্রশংসিত, সুষম এবং মহিমান্বিত কল্যাণে পরিপূর্ণ।


Ayat 25

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِي جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ سَوَاءً الْعَاكِفُ فِيهِ وَالْبَادِ ۚ وَمَن يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُّذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

২৫. নিশ্চয়ই যারা সত্যকে আড়াল বা অস্বীকার করেছে এবং তারা আল্লাহর নির্ধারিত সংকট মুক্তির সোজা পথ (সাবীল) থেকে এবং অলঙ্ঘনীয় আনুগত্যের সেই পবিত্র প্রাতিষ্ঠানিক চত্বর (মাসজিদুল হারাম) থেকে অবিরাম বাধা সৃষ্টি করে চলেছে—যাকে আমরা সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্য সম্পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে স্থাপন করেছি, যেখানে সমান অধিকার রয়েছে সেই ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর যারা এর অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে যুক্ত থেকে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখছে (الْعَاকِفُ فِيهِ) এবং সেই ব্যক্তিরও যে সাময়িকভাবে বাইরে থেকে বা দূরদূরান্ত থেকে আসে। আর যে কেউ এর অভ্যন্তরে কোনো প্রকার বিচ্যুতি, সত্যের বিকৃতি কিংবা চরম অন্যায়ের মাধ্যমে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টির কুৎসিত আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে, আমরা তাকে জবাবদিহিতার অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও ক্ষতিকর পরিণতির আস্বাদন করাব।

إِنَّ (ইন্না) → নিশ্চয়ইالَّذِينَ (আল্লাযীনা) → তারা যারা / সেই সুযোগসন্ধানী শোষক গোষ্ঠী যারাكَفَرُوا (কাফারূ) → কুফর করেছে / সত্যকে আড়াল বা অস্বীকার করেছেوَيَصُدُّونَ (ওয়া ইয়াসুদ্দূনা) → এবং তারা অবিরাম বাধা সৃষ্টি করে বা প্রতিরোধ গড়ে তোলেعَن (আন) → থেকেسَبِيلِ (সাবীলি) → সোজা পথ বা সংকট থেকে বের হওয়ার ঐশ্বরিক রুট থেকে (ফাইল অনুযায়ী: Sabeel হলো সংকট মুক্তির উপায় বা পথ)اللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিতوَالْمَسْجِدِ (ওয়াল-মাসজিদি) → এবং সিজদাহ বা অলঙ্ঘনীয় আনুগত্যের সেই প্রাতিষ্ঠানিক চত্বর থেকেالْحَرَامِ (আল-হারামি) → যা অত্যন্ত পবিত্র, সুরক্ষিত এবং যার আইনি সীমানা অলঙ্ঘনীয়الَّذِي (আল্লাযী) → যাকে / যে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাবলয়কেجَعَلْنَاهُ (জাআলনাহু) → আমরা সুনির্দিষ্টভাবে স্থাপন বা নিযুক্ত করেছিلِلنَّاسِ (লিন-নাসি) → সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্যسَوَاءً (সাওয়া-আন) → সম্পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে / সমান অধিকার দিয়েالْعَاكِفُ (আল-আকিফু)যেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এর অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে যুক্ত থেকে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখছে( ‘Aakif/Akifeena’ হলো তারা যারা সমাজ বা কমিউটিকে আল্লাহর দীনের আইনের বুনিয়াদে সুদৃঢ়ভাবে জুড়ে রাখে এবং ভাঙন রোধ করে)فِيهِ (ফীহি) → এর মধ্যে / এর অভ্যন্তরেوَالْبَادِ (ওয়াল-বাদি) → এবং যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বাইরে থেকে বা দূরদূরান্ত থেকে সাময়িকভাবে এখানে আসেوَمَن (ওয়া মান) → এবং যে কেউيُرِدْ (ইউরিদ) → মনস্থ করবে বা কোনো কুৎসিত আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবেفِيهِ (ফীহি) → এর অভ্যন্তরে / এই পবিত্র প্রাতিষ্ঠানিক চত্বরেبِإِلْحَادٍ (বি-ইলহাদিন) → কোনো প্রকার বিচ্যুতি, সত্যের বিকৃতি বা বক্রতার মাধ্যমেبِظُلْمٍ (বি-জুলমিন) → চরম অন্যায়, অবদমন বা ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেنُّذِقْهُ (নুযিকহু) → আমরা তাকে আস্বাদন করাব / চরম পরিণতি ভোগ করাবمِنْ (মিন) → থেকে / অবয়বেعَذَابٍ (আযাবিন) → জবাবদিহিতার অত্যন্ত ভয়ংকর ও ক্ষতিকর পরিণতিরأَلِيمٍ (আলীমিন) → যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং অন্তর্দাহ সৃষ্টিকারী।

আর স্মরণ করো, যখন আমি ইব্রাহীমকে (ঐশী বিধিবদ্ধ আইনের) সেই সুরক্ষিত ব্যবস্থার (বায়ত) সুদৃঢ় ভিত্তিমূল ও উচ্চ মর্যাদা (মাকান) চিহ্নিত করে দিয়েছিলাম (এবং নির্দেশ দিয়েছিলাম) যে, আমার সাথে কোনো কিছুকে অংশীদার (শিরক) করবে না; আর আমার এই নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে (বায়তি) কলুষতামুক্ত ও বিশুদ্ধ রাখবে আবর্তনকারীদের (তাওয়াফীন), দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনকারীদের (কায়েমীন) এবং সম্পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ ও মাথা নতকারীদের (রুক্কায়িস সুজুদ) জন্য।” [1]

  • بَوَّأْنَا (Bawwa’na): স্থান বা সীমানা চিহ্নিত করা / দায়িত্ব অর্পণ করা।
  • مَكَانَ ٱلْبَيْتِ (Makana Al-Bayt): সুরক্ষিত ঐশী ব্যবস্থার সুদৃঢ় অবস্থান বা মর্যাদাপূর্ণ ভিত্তি.
  • طَهِّرْ بَيْتِىَ (Tahhir Baytiya): আমার নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মানুষের তৈরি ভেজাল, অন্ধ অনুকরণ ও মনগড়া আইন থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও পরিষ্কার রাখা (1 Vocabula… p. 12)

  • ২২:২৬ নম্বর আয়াত
    ২৬. আর স্মরণ করো যখন আমরা ইব্রাহিমের (সেই মহান সংস্কারক ও একনিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের) জন্য আল্লাহর সেই পবিত্র কেন্দ্র ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর (مَكَانَ الْبَيْتِ) সুনির্দিষ্ট বুনিয়াদ নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এই শর্তে যে—”তুমি কখনোই আমার দেওয়া বিধানের সাথে সামান্যতম কোনো বিষয় বা মনগড়া আইনকে অংশীদার দাঁড় করাবে না (শিরক করবে না); এবং আমার এই পবিত্র প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আবর্জনামুক্ত ও পবিত্র রাখো তাদের জন্য—যারা এই ব্যবস্থার সেবায় অবিরাম সম্পৃক্ত রয়েছে (لِلطَّائِفِينَ), যারা দৃঢ়ভাবে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, এবং যারা বিন্দুমাত্র অহংকার না করে আল্লাহর আইনের সামনে বিনম্রভাবে মাথা নত করে বাস্তবে অবিরাম টিকে থাকে।”
  • وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَن لَّا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ
  • وَإِذْ (ওয়া ইয) → এবং স্মরণ করো যখন / যে মুহূর্তে
  • بَوَّأْنَا (বাউওয়া’না) → আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ঠিকানা, কেন্দ্র বা আবাসস্থল নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম
  • لِإِبْرَاهِيمَ (লি-ইব্রাহীমা) → ইব্রাহিমের জন্য / ইব্রাহিম নামক সেই মহান সংস্কারক ও একনিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জন্য
  • مَكَانَ (মাকানা) → মর্যাদাপূর্ণ স্থান বা বুনিয়াদকে (Maqaam হলো উচ্চ মর্যাদা, নিরাপদ মর্যাদা বা বুনিয়াদ)
  • الْبَيْتِ (আল-বাইতি) → আল্লাহর সেই পবিত্র কেন্দ্র, ব্যবস্থা বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর জন্য ( ‘Ameenal Baiyt’ বা আল্লাহর এই কিতাবভিত্তিক ঘর যা মানুষের জন্য পরম নিরাপত্তার আশ্রয়)
  • أَن (আন) → এই শর্তে বা এই নির্দেশনাসহ যে
  • لَّا (লা) → কখনোই করবে না
  • تُشْرِكْ (তুশরিক) → শিরক / আল্লাহর আইনের সমকক্ষ বা অংশীদার দাঁড় করাবে না
  • بِي (বী) → আমার সাথে / আমার দেওয়া আইনের সাথে
  • شَيْئًا (শাইয়ান) → সামান্যতম কোনো বিষয় বা মনগড়া বিধানকে
  • وَطَهِّרْ (ওয়া তাহহির) → এবং তুমি সম্পূর্ণ পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও আবর্জনামুক্ত রাখো
  • بَيْتِيَ (বাইতিয়া) → আমার এই পবিত্র কেন্দ্র বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে
  • لِلطَّائِفِينَ (লিত-তায়িফীনা)যারা এর চারিদিকে আবর্তিত হচ্ছে বা এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে (আক্ষরিক কাবার চারপাশে ঘোরা বা তাওয়াফ নয়, বরং আল্লাহর এই সামাজিক আইনি কাঠামোর সেবা ও আবর্তনে নিয়োজিত থাকা)
  • وَالْقَائِمِينَ (ওয়াল-কায়িমীনা) → এবং যারা দৃঢ়ভাবে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত বা এই ব্যবস্থাকে সমাজে টিকিয়ে রাখতে সংকল্পবদ্ধ
  • وَالرُّكَّعِ (ওয়ার-রুক্কায়ি) → এবং যারা বিন্দুমাত্র অহংকার না করে আল্লাহর আইনের সামনে বিনম্রভাবে মাথা নত করে
  • السُّجُودِ (আস-সুজূদি) → এবং যারা অলঙ্ঘনীয় আনুগত্য ও সমর্পণে বাস্তবে অবিরাম টিকে থাকে (ফাইল ৬ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Sajda’ হলো আল্লাহর আইনের প্রতি চরম সমর্পণ ও তা বজায় রাখা)
  • ২২:২৭ নম্বর আয়াত
    ২৭. এবং তুমি সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তথ্যানুসন্ধান, জ্ঞান ও কিতাবের অকাট্য প্রমাণ (হুজ্জাত) সংগ্রহের এই উৎসর্গীকৃত প্রক্রিয়ার (بِالْحَجِّ) ব্যাপক ঘোষণা দাও; তারা তোমার দিকে ছুটে আসবে নিজেদের সমস্ত শক্তি, সম্পদ ও সক্ষমতা উৎসর্গ করে (رِجَالًا), এবং তীব্র প্রচেষ্টা ও দূরপাল্লার সাধনায় পার্থিব লোভ-লালসামুক্ত ক্ষয়প্রাপ্ত কাঠামোর মাধ্যমে (ضَامِرٍ); তারা সত্যের সোর্সের কাছে অবধারিতভাবে হাজির হবে প্রতিটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী চিন্তার জটিল সামাজিক বাঁক অতিক্রম করে।
  • وَأَذِّن فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَىٰ كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ
  • وَأَذِّন (ওয়া আযযিন) → এবং তুমি স্পষ্ট ঘোষণা বা ব্যাপকভাবে প্রচার করো
  • فِي (ফী) → মধ্যে / অভ্যন্তরে
  • النَّاسِ (আন্-নাসি) → সর্বস্তরের মানুষের / মানবজাতির
  • بِالْحَجِّ (বিল-হাজ্জি)তথ্যানুসন্ধান, জ্ঞান ও অকাট্য প্রমাণ (হুজ্জাত) সংগ্রহের এই উৎসর্গীকৃত প্রক্রিয়ার (কিতাবের সত্য প্রমাণ বা ‘হুজ্জাত’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের উৎসর্গীকৃত সামাজিক প্রক্রিয়া)
  • يَأْتُوكَ (ইয়াতুকা) → তারা তোমার দিকে ছুটে আসবে / তোমার কাছে এসে পৌঁছাবে
  • رِجَالًا (রিজালান)নিজেদের সম্পূর্ণ শক্তি, সম্পদ ও সক্ষমতা উৎসর্গ করে ( ‘Rijaal’ হলো সমাজের সবচেয়ে প্রভাবশালী, কর্মক্ষম ও জীবন-ধারণের সম্পদে বলীয়ান বা সোর্সফুল মানব গোষ্ঠী, যা সাধারণ দুর্বল বা নিসার বিপরীত)
  • وَعَلَىٰ (ওয়া আলা) → এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নীতি ও সুদৃঢ় আদর্শের বুনিয়াদে প্রতিষ্ঠিত হয়ে
  • كُلِّ (কুল্লি) → প্রতিটি / সমস্ত প্রকারের
  • ضَامِرٍ (দামিরিন)তীব্র প্রচেষ্টা ও দূরপাল্লার সাধনায় ক্লান্ত ও ক্ষয়প্রাপ্ত কাঠামোর মাধ্যমে (প্রথাগত আক্ষরিক “কৃশকায় উট”-এর পরিবর্তে এটি এমন সাংগঠনিক মাধ্যম বা ত্যাগী মানসিকতাকে বোঝায় যা সুদূরপ্রসারী জ্ঞান-সাধনা ও মেহনতের কারণে পার্থিব লোভ-লালসা থেকে মুক্ত ও হালকা হয়েছে)
  • يَأْتِينَ (ইয়াতীনা) → তারা অবধারিতভাবে হাজির হবে / সত্যের সোর্সের কাছে ফিরে আসবে
  • مِن (মিন) → থেকে / মধ্য দিয়ে
  • كُلِّ (কুল্লি) → প্রতিটি / সমস্ত
  • فَجٍّ (ফাজ্জিন) → সংকটপূর্ণ গিরিপথ / জটিল সামাজিক বাঁক ও চিন্তার রুট
  • عَمِيقٍ (আমীকিন) → যা অত্যন্ত গভীর / সুদূরপ্রসারী এবং অন্তহীন চিন্তার স্তর।
  • ২২:২৮ নম্বর আয়াত
    ২৮. যাতে তারা তাদের নিজেদের আত্মিক ও সামাজিক ব্যবস্থার যাবতীয় কল্যাণ ও প্রবৃদ্ধি চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং অকাট্য সাক্ষী হতে পারে; আর তারা যেন আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট বড় নেয়ামত ও সম্পদের উৎসসমূহের মধ্য হতে অবুঝ পশুর ন্যায় স্বভাবসম্পন্ন শক্তির (সম্পদ স্তরের) ওপর আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট আইনি পরিচয়ের বুনিয়াদ ও গুণাবলীকে সুনিশ্চিত ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠিত পর্যায়সমূহের মাঝে (فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ) স্মরণে রাখে ও বাস্তবায়ন করে। অতএব তোমরা নিজেরা তা থেকে সচ্ছলতা ভোগ করো এবং পুষ্ট করো এমন ব্যক্তিকে যে ভুল পছন্দের মন্দ পরিণতির কারণে কষ্টকর অবস্থায় রয়েছে কিংবা তীব্র অভাবের কারণে সামাজিকভাবে দুর্বল ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
  • لِّيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ ۖ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ
  • لِّيَشْهَدُوا (লিয়াশহাদূ) → যেন তারা প্রত্যক্ষ করতে পারে ও অকাট্য সাক্ষী হতে পারে (‘Shahada’ হলো সর্বোচ্চ ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রতিটি কর্ম ও ভূমিকা চাক্ষুষ সাক্ষী হিসেবে বজায় রাখা)
  • مَنَافِعَ (মানাফিয়া) → যাবতীয় কল্যাণ, প্রবৃদ্ধি ও আত্মিক-সামাজিক উপকারের
  • لَهُمْ (লাহুম) → তাদের নিজেদের স্বার্থে বা সমাজ-ব্যবস্থার জন্য
  • وَيَذْكُرُوا (ওয়া ইয়াযকুরূ) → এবং তারা যেন স্মরণে রাখে ও বাস্তবায়ন করে ( ‘Zikar’ হলো আল্লাহর আয়াতসমূহ বুঝা, প্রয়োগ করা ও তাঁর নিয়ামতের অবিরাম বাস্তবায়ন করা)
  • اسْمَ (ইসমা) → নাম / আল্লাহর সুনির্দিষ্ট গুণের বা আইনি পরিচয়ের বুনিয়াদ
  • اللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিত
  • فِي (ফী) → মধ্যে / অভ্যন্তরে
  • أَيَّامٍ (আইয়ামিন) → সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠিত পর্যায় বা সময়সীমার মাঝে ( ‘Ayyam’ হলো সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুনিশ্চিত দিন বা ঘটনার পর্যায়সমূহ)
  • مَّعْلُومَاتٍ (মালূমাতিন) → যা অত্যন্ত সুপরিচিত, অকাট্য ও জ্ঞানভিত্তিক বা জানা
  • عَلَىٰ (আলা) → উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বুনিয়াদের ওপর নীতিগতভাবে
  • مَا (ما) → যা কিছু / যে নিয়ামত
  • رَزَقَهُم (রাযাকাহুম) → তিনি তাদের রিযক বা ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য পুষ্টিকর উপাদান হিসেবে দিয়েছেন (ফাইল ৩৬ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Rizq’ মানে ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র বিকাশের সর্বপ্রকার উপায় ও মাধ্যম)
  • مِّن (মিন) → থেকে
  • بَهِيمَةِ (বাহীমাতিল) → অবুঝ বা চতুষ্পদ পশুর ন্যায় স্বভাবসম্পন্ন শক্তির (বা সম্পদ স্তরের) মধ্য থেকে
  • الْأَنْعَامِ (আল-আনয়ামি) → আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট বড় নেয়ামত ও সম্পদের উৎসসমূহকে ( ‘Ana’am/Nai’mat’ হলো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বা কল্যাণময় সম্পদ)
  • فَكُلُوا (ফাকুলূ) → অতএব তোমরা নিজেরা তা ভোগ করো বা আত্মস্থ করো
  • مِنْهَا (মিনহা) → তা থেকে / সেই নিয়ামতসমূহ থেকে
  • وَأَطْعِمُوا (ওয়া আতইমূ) → এবং তোমরা আহার করাও বা রিযকের মাধ্যমে পুষ্ট করো
  • الْبَائِسَ (আল-বাইসা) → এমন ব্যক্তিকে যে ভুল সিদ্ধান্ত বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের কারণে চরম মন্দ ক্ষতিপূরণের মুখোমুখি হয়েছে ( ‘Bai’sa’ হলো ভুল পছন্দের মন্দ পরিণতি বা কষ্টকর অবস্থায় থাকা ব্যক্তি)
  • الْفَقِيرَ (আল-ফাকীরা) → ফকির / যে তীব্র অভাব বা সম্পদের চরম ঘাটতির কারণে সামাজিকভাবে দুর্বল ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
  • ২২:২৯ নম্বর আয়াত
    ২৯. অতঃপর (তথ্যানুসন্ধান ও প্রমাণের বুনিয়াদ অর্জনের পর) তারা যেন তাদের চারিত্রিক ময়লা, মনস্তাত্ত্বিক আবর্জনা বা মানসিক সংকীর্ণতা দূর করার কাজকে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করে, এবং তারা যেন পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তাদের নিজেদের কৃত অঙ্গীকার ও সামাজিক দায়িত্বসমূহ আদায় করে; আর তারা যেন অবিরাম আবর্তিত ও সম্পৃক্ত থাকে সেই প্রাচীন, স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও সুরক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সাথে (بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ)।
  • ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ
  • ثُمَّ (ছুম্মা) → অতঃপর / পরবর্তী ধাপে
  • لْيَقْضُوا (লিয়াকদ্বূ) → তারা যেন পূর্ণ বা চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করে
  • تَفَثَهُمْ (তাফাছাহুম) → তাদের চারিত্রিক ময়লা, মনস্তাত্ত্বিক আবর্জনা বা মানসিক সংকীর্ণতা দূর করার কাজকে (তথ্যানুসন্ধানের মাধ্যমে মনের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করা)
  • وَلْيُوفُوا (ওয়াল-ইউফূ) → এবং তারা যেন পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পূরণ বা আদায় করে
  • نُذُورَهُمْ (নুযূরাহুম) → তাদের নিজেদের কৃত অঙ্গীকার, প্রতিজ্ঞা বা সামাজিক দায়িত্বসমূহকে
  • وَلْيَطَّوَّفُوا (ওয়াল-ইয়াত্তাওওয়াফূ) → এবং তারা যেন অবিরাম আবর্তিত ও সম্পৃক্ত থাকে
  • بِالْبَيْتِ (বিল-বাইতি) → সেই পবিত্র কেন্দ্র বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সাথে
  • الْعَتِيقِ (আল-আতীকি) → যা অত্যন্ত প্রাচীন, মর্যাদাপূর্ণ, স্বাধীন এবং সমস্ত মানুষের জন্য উন্মুক্ত বা প্রাচীনকাল থেকে সুরক্ষিত।
  • ২২:৩০ নম্বর আয়াত
  • ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ ۗ وَأُحِلَّتْ لَكُمُ الْأَنْعَامُ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ ۖ فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ
  • ذَٰلِكَ (যালিকা) → এটিই হলো মূল বাস্তব বিধান
  • وَمَن (ওয়া মান) → এবং যে কেউ
  • يُعَظِّمْ (ইউয়াযযিম) → পরম মর্যাদা দেবে বা সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করবে
  • حُرُمَاتِ (হুরুমাতি) → অলঙ্ঘনীয় পবিত্র আইন, সীমানা ও বিধি-নিষেধসমূহকে
  • اللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিত
  • فَهُوَ (ফাহুয়া) → তবে সুনিশ্চিতভাবে তা-ই
  • خَيْرٌ (খাইরুন) → সর্বোত্তম, শ্রেয় এবং চরিত্র গঠনের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর ( ‘Khair’ মানে উৎকৃষ্ট সচ্ছলতা ও ব্যক্তিত্বের মর্যাদা)
  • لَّهُ (লাহু) → তার নিজের জন্য / তার কপালে
  • عِندَ (ইন্দা) → সমীপে / সান্নিধ্যে বা বিধান অনুসারে
  • رَبِّهِ (রাব্বিহি) → তার প্রতিপালক ও মূল বিকাশকারী সত্তার
  • وَأُحِلَّتْ (ওয়া উহিল্লাত) → এবং পরম বৈধ বা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ( ‘Uhilla’ হলো যা আল্লাহর কিতাবের সীমানার ভেতরে অনুমোদিত)
  • لَكُمُ (লাকুমু) → তোমাদের নিজেদের কল্যাণের স্বার্থে / তোমাদের জন্য
  • الْأَنْهَامُ (আল-আনয়ামু) → আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট বড় নেয়ামত, পশুজাত সম্পদ বা অনুকূল সামাজিক উৎসসমূহকে
  • إِلَّا (ইল্লা) → ব্যতীত / কেবল তা ছাড়া যা
  • مَا (মা) → যা কিছু
  • يُتْلَىٰ (ইউৎলা) → অনুধাবনসহ অবিরত তিলাওয়াত বা আবৃত্তি করে শোনানো হচ্ছে ( ‘Tilawat’ হলো সত্যের অনুকরণে তা হুবহু মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও অনুসরণ করা)
  • عَلَيْكُمْ (আলাইকুম) → তোমাদের ওপর / তোমাদের সামনে
  • فَاجْتَنِبُوا (ফাজতানি we bū) → অতএব তোমরা কঠোরভাবে পরিহার করো বা দূরে থাকো ( ‘Ajtanebu’ মানে কোনো মন্দকে সম্পূর্ণ বর্জন করে দূরে থাকা)
  • الرِّجْسَ (আর-রিজসা) → চরম নোংরামি, মনস্তাত্ত্বিক অপবিত্রতা বা শয়তানের তৈরি কুৎসিত নোংরা কর্মপদ্ধতি থেকে (‘Rijsun’ হলো শয়তানের তৈরি ক্ষতিকর কুৎসিত কাজ)
  • مِنَ (মিনাল) → থেকে / বুনিয়াদে
  • الْأَوْثَانِ (আল-আওছানি) → মনগড়া মূর্তি, ব্যক্তিত্বের অন্ধ পূজা বা কিতাব বহির্ভূত জরাজীর্ণ সমাজ-রীতি থেকে
  • وَاجْتَنِبُوا (ওয়াজতানি we bū) → এবং তোমরা সম্পূর্ণ বর্জন বা পরিহার করে চলো
  • قَوْلَ (কাওলা) → মানুষের বক্তব্য, আচরণ, বা কর্ম-নীতিকে যা
  • الزُّورِ (আয-যূরি) → চরম মিথ্যা, বিকৃতি, অসত্য ও প্রবঞ্চনাপূর্ণ ভন্ডামির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আয়াত ৩০

ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ ۗ وَأُحِلَّتْ لَكُمُ الْأَنْعَامُ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ ۖ فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ

৩০. এটিই হলো মূল বাস্তব বিধান; আর যে কেউ আল্লাহর নির্ধারিত অলঙ্ঘনীয় পবিত্র আইন, সীমানা ও বিধি-নিষেধসমূহকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করবে ও পরম মর্যাদা দেবে, তবে সুনিশ্চিতভাবে তা-ই তার প্রতিপালক ও বিকাশকারী সত্তার বিধান অনুসারে তার নিজের চরিত্র গঠনের জন্য সর্বোত্তম ও শ্রেয়। আর আল্লাহর কিতাবের সীমানার ভেতরে অনুধাবনসহ অবিরত যে তিলাওয়াত (يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ) তোমাদের সামনে আবৃত্তি করে শোনানো হচ্ছে, তা ছাড়া আল্লাহর দেওয়া সর্বপ্রকার অনুকূল সামাজিক উৎস ও সম্পদসমূহ তোমাদের জন্য পরম বৈধ করা হয়েছে। অতএব তোমরা কঠোরভাবে পরিহার করো মনগড়া মূর্তি, ব্যক্তিত্বের অন্ধ পূজা ও জরাজীর্ণ সমাজ-রীতির নোংরামি থেকে এবং সম্পূর্ণ বর্জন করে চলো মানুষের সেইসব বক্তব্য ও কর্ম-নীতিকে, যা চরম মিথ্যা, বিকৃতি ও প্রবঞ্চনাপূর্ণ ভন্ডামির ওপর প্রতিষ্ঠিত। (Qawl az-Zoor) সম্পূর্ণরূপে বর্জন করো।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • حُرُمَات (Hurumaat): আল্লাহর নির্ধারিত পবিত্র আইনি বা নৈতিক সীমারেখা।
  • خَيْر (Khair): যা মানুষের ব্যক্তিত্ব ও জীবনের জন্য প্রকৃত অর্থেই কল্যাণকর ও উন্নত .
  • أَنْعَام (An’aam): নেয়ামত বা জীবন ধারণের জন্য প্রদত্ত সহজলভ্য উপায়সমূহ .
  • أَوْثَان (Awt’aan): মনগড়া স্থির ধারণা, সামাজিক অন্ধবিশ্বাস বা নিষ্প্রাণ আদর্শ।
    ذَٰلِكَ (যালিকা) → এটিই হলো মূল বাস্তব বিধানوَمَن (ওয়া মান) → এবং যে কেউيُعَظِّمْ (ইউয়াযযিম) → পরম মর্যাদা দেবে বা সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করবেحُرُمَاتِ (হুরুমাতি) → অলঙ্ঘনীয় পবিত্র আইন, সীমানা ও বিধি-নিষেধসমূহকেاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিতفَهُوَ (ফাহুয়া) → তবে সুনিশ্চিতভাবে তা-ইخَيْرٌ (খাইরুন) → সর্বোত্তম, শ্রেয় এবং চরিত্র গঠনের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর (২৯ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Khair’ মানে উৎকৃষ্ট সচ্ছলতা ও ব্যক্তিত্বের মর্যাদা)لَّهُ (লাহু) → তার নিজের জন্য / তার কপালেعِندَ (ইন্দা) → সমীপে / সান্নিধ্যে বা বিধান অনুসারেرَبِّهِ (রাব্বিহি) → তার প্রতিপালক ও মূল বিকাশকারী সত্তারوَأُحِلَّتْ (ওয়া উহিল্লাত) → এবং পরম বৈধ বা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে (২৪ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Uhilla’ হলো যা আল্লাহর কিতাবের সীমানার ভেতরে অনুমোদিত)لَكُمُ (লাকুমু) → তোমাদের নিজেদের কল্যাণের স্বার্থে / তোমাদের জন্যالْأَنْهَامُ (আল-আনয়ামু) → আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট বড় নেয়ামত, পশুজাত সম্পদ বা অনুকূল সামাজিক উৎসসমূহকেإِلَّا (ইল্লা) → ব্যতীত / কেবল তা ছাড়া যাمَا (মা) → যা কিছুيُتْلَىٰ (ইউৎলা) → অনুধাবনসহ অবিরত তিলাওয়াত বা আবৃত্তি করে শোনানো হচ্ছে (৪১ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Tilawat’ হলো সত্যের অনুকরণে তা হুবহু মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও অনুসরণ করা)عَلَيْكُمْ (আলাইকুম) → তোমাদের ওপর / তোমাদের সামনেفَاجْتَنِبُوا (ফাজতানি we bū) → অতএব তোমরা কঠোরভাবে পরিহার করো বা দূরে থাকো (১৯ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Ajtanebu’ মানে কোনো মন্দকে সম্পূর্ণ বর্জন করে দূরে থাকা)الرِّجْسَ (আর-রিজসা) → চরম নোংরামি, মনস্তাত্ত্বিক অপবিত্রতা বা শয়তানের তৈরি কুৎসিত নোংরা কর্মপদ্ধতি থেকে (১৯ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Rijsun’ হলো শয়তানের তৈরি ক্ষতিকর কুৎসিত কাজ)مِنَ (মিনাল) → থেকে / বুনিয়াদেالْأَوْثَانِ (আল-আওছানি) → মনগড়া মূর্তি, ব্যক্তিত্বের অন্ধ পূজা বা কিতাব বহির্ভূত জরাজীর্ণ সমাজ-রীতি থেকেوَاجْتَنِبُوا (ওয়াজতানি we bū) → এবং তোমরা সম্পূর্ণ বর্জন বা পরিহার করে চলোقَوْلَ (কাওলা) → মানুষের বক্তব্য, আচরণ, বা কর্ম-নীতিকে যাالزُّورِ (আয-যূরি) → চরম মিথ্যা, বিকৃতি, অসত্য ও প্রবঞ্চনাপূর্ণ ভন্ডামির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আয়াত ৩১

حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ

বাংলা অনুবাদ:
আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ বা সোজা পথগামী (Hunafa) হয়ে, তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার (Shirk) না করে . আর যে কেউ আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করে, সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর পাখি তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল অথবা প্রবল বাতাস তাকে কোনো এক দূরবর্তী অন্ধকার জনহীন স্থানে নিক্ষেপ করল।

***৩১. অন্য সমস্ত বক্রতা বর্জন করে একনিষ্ঠভাবে সত্যের দিকে ধাবিত হয়ে (حُنَفَاءَ) তোমরা আল্লাহর দেওয়া একমাত্র আইন ও সমাজ-ব্যবস্থার প্রতি অনুগত থাকো—তাঁর সাথে সামান্যতম কোনো বিষয় বা মনগড়া বিধানকে অংশীদার না করে (শিরক না করে)। আর যে কেউ আল্লাহর আইনের সমকক্ষ হিসেবে অন্য কোনো মানুষের তৈরি কৃত্রিম বিধান দাঁড় করাবে, তার মনস্তাত্ত্বিক অবয়বটি ঠিক এমন হবে যে—সে যেন মহিমান্বিত উচ্চ ব্যবস্থা ও তার নীতিগত সর্বোচ্চ স্তর থেকে (مِنَ السَّمَاءِ) প্রচণ্ড বেগে আছড়ে পড়ল, অতঃপর পার্থিব ও বৈষয়িক উচ্চাভিলাষী ক্ষতিকর শক্তিসমূহ বা চিন্তাভাবনা (الطَّيْرُ) তাকে ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নিয়ে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল, অথবা সামাজিক কুসংস্কারের ঝড় ও বিভ্রান্তিকর মনস্তাত্ত্বিক হাওয়া (الرِّيحُ) তাকে উড়িয়ে নিয়ে ধ্বংসের এক চরম ও সুদূরবর্তী খাদের অভ্যন্তরে আছড়ে ফেলল।

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
তোমরা আল্লাহর আইনের প্রতি একনিষ্ঠ ও সোজা পথগামী (Hunafa) হও এবং তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার (Shirk) কোরো না (1 Vocabula… p. 26). আর যে কেউ আল্লাহর বিধানের পাশাপাশি অন্য কোনো মানুষের মনগড়া আইন বা সিদ্ধান্তকে সমান কর্তৃত্ব দেবে (Shirk), সে যেন উচ্চ আদর্শিক ও নৈতিক সুরক্ষার স্থান (As-Samaa) থেকে নিচে ছিটকে পড়ল; অতঃপর তার বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে মনগড়া অবাস্তব চিন্তা বা ক্ষণস্থায়ী কুপ্রবৃত্তিগুলো (At-Tayr) তাকে সম্পূর্ণ হরণ করে ফেলে, অথবা তার নিজস্ব অন্ধ আবেগ ও অহংকারের তীব্র তাড়না বা বাতাস (Ar-Reeh) তাকে সত্যের আলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে এক গভীর অন্ধকার ও দিশেহীন ধ্বংসের গহ্বরে নিক্ষেপ করে।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • حُنَفَاء (Hunafa): সব ধরনের ডানে-বামে বিচ্যুতি থেকে মুক্ত হয়ে সত্যের দিকে সোজা ও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়া।
  • شِرْك (Shirk): আল্লাহর দেওয়া চূড়ান্ত আইনের পাশাপাশি অন্য কোনো মানুষের তৈরি আইন বা সমাজকে সমান ঐশ্বরিক মর্যাদা দেওয়া (1 Vocabula… p. 26).
  • السَّمَاء (As-Samaa): উচ্চ নৈতিক স্তর, আল্লাহর দেওয়া চূড়ান্ত সত্যের উচ্চতা এবং একটি সুরক্ষিত আদর্শিক অবস্থান।
  • الطَّيْر (At-Tayr): মাটির বাস্তবতাহীন চিন্তা, অবাস্তব কল্পনা, উগ্র কুপ্রবৃত্তি বা শয়তানি আবেগ যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক মনোযোগ হরণ করে।

  • حُنَفَاء (Hunafa): সব ধরনের বিচ্যুতি থেকে মুক্ত হয়ে সত্যের দিকে সোজা ও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়া।
  • مُشْرِكِين (Mushrikeen) / شِرْك (Shirk): আল্লাহর দেওয়া চূড়ান্ত আইনের পাশাপাশি অন্য কারও মনগড়া আইন বা সিদ্ধান্তকে সমান কর্তৃত্ব দেওয়া
    حُنَفَاءَ (হুনাফায়া) → একনিষ্ঠভাবে সত্যের দিকে ধাবিত হয়ে / অন্য সমস্ত বক্রতা বর্জন করে একমুখী হয়েلِلَّهِ (লিল্লাহি) → আল্লাহর জন্য / আল্লাহর দেওয়া একমাত্র আইন ও সমাজ-ব্যবস্থার প্রতিغَيْرَ (গাইরা) → ব্যতীত / কোনো প্রকার অংশীদারিত্ব ছাড়াمُشْرِكِينَ (মুশরিকীনা) → শিরককারী বা সমকক্ষ স্থাপনকারী না হয়ে (আল্লাহর আইনের সমান মর্যাদায় অন্য কোনো আইনকে স্থান না দিয়ে)بِهِ (বিহি) → তাঁর সাথে / তাঁর দেওয়া অলঙ্ঘনীয় বিধানের সাথেوَمَن (ওয়া মান) → এবং যে কেউيُشْرِكْ (ইউশরিক) → শিরক করবে / আল্লাহর আইনের সমকক্ষ হিসেবে অন্য কোনো মানুষের তৈরি কৃত্রিম বিধান দাঁড় করাবেبِاللَّهِ (বিল্লাভি) → আল্লাহর সাথেفَكَأَنَّمَا (ফাকাআন্নামা) → তবে সে যেন / তার মনস্তাত্ত্বিক অবয়বটি ঠিক এমন হলো যেخَرَّ (খাররা) → সে প্রচণ্ড বেগে আছড়ে পড়ল বা বিচ্যুত হলোمِنَ (মিনাল) → থেকেالسَّمَاءِ (আস-সামায়ি)মহিমান্বিত উচ্চ ব্যবস্থা ও তার নীতিগত সর্বোচ্চ স্তর থেকে(প্রথাগত ভৌগোলিক আকাশ নয়, বরং সর্বোচ্চ মর্যাদার আইনি ও নীতিগত স্তর)فَتَخْطَفُهُ (ফাতাকাত্বাফুহু) → অতঃপর তাকে ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নিয়ে যায় / ছিন্নভিন্ন করে ফেলেالطَّيْرُ (আৎ-তাইরু)পার্থিব ও বৈষয়িক উচ্চাভিলাষী ক্ষতিকর শক্তিসমূহ বা চিন্তাভাবনা(যা মানুষকে তার মূল অবস্থান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়)أَوْ (আও) → অথবা / কিংবাتَهْوِي (তাহউই) → প্রচণ্ড বেগে নিক্ষেপ করে বা আছড়ে ফেলেبِهِ (বিহি) → তাকে / তার সেই চেতনাকেالرِّيحُ (আর-রীহু) → সামাজিক কুসংস্কারের ঝড়, সাময়িক অন্ধ আবেগ বা বিভ্রান্তিকর মনস্তাত্ত্বিক হাওয়াفِي (ফী) → মধ্যে / অভ্যন্তরেمَكَانٍ (মাকানিন) → এমন এক স্তরে, বুনিয়াদে বা অবস্থানেسَحِيقٍ (সাহীকিন) → যা অত্যন্ত গভীর, দূরবর্তী এবং যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব বা ধ্বংসের চরম খাদ।

আয়াত ৩২

ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ


৩২. এটিই হলো মূল বাস্তব সত্য; আর যে কেউ আল্লাহর নির্ধারিত আইনের স্পষ্ট প্রতীকসমূহ, সামাজিক দিকনির্দেশনা ও প্রজ্ঞার চিহ্নসমূহকে পরম মর্যাদা দেবে ও সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করবে, তবে সুনিশ্চিতভাবে এই আচরণটি তার মনস্তাত্ত্বিক অন্তর ও সংকল্পবদ্ধ হৃদয়ের গভীরতম স্তরসমূহের তাকওয়া থেকেই (مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ) উৎপন্ন হয়।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • شَعَائِر (Sha’aair): আল্লাহর দেওয়া সুষ্পষ্ট আইনি ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা ও প্রতীকসমূহ।
  • تَقْوَى (Taqwa): আল্লাহর আইন লঙ্ঘন থেকে নিজেকে রক্ষা করা, দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সঠিক পথে টিকে থাকার সতর্কতা (1 Vocabula… pp. 8, 32).
  • قُلُوب (Quloob): মানুষের সচেতন বুদ্ধিবৃত্তিক মন এবং ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্র ذَٰلِكَ (যালিকা) → এটিই হলো মূল বাস্তব সত্যوَمَن (ওয়া মান) → এবং যে কেউيُعَظِّمْ (ইউয়াযযিম) → পরম মর্যাদা দেবে বা সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করবেشَعَائِرَ (শা’আইরা) → আল্লাহর আইনের স্পষ্ট প্রতীকসমূহ, সামাজিক দিকনির্দেশনা বা প্রজ্ঞার চিহ্নসমূহকেاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিতفَإِنَّهَا (ফা-ইন্নাহা) → তবে সুনিশ্চিতভাবে তা / এই আচরণটিمِن (মিন) → থেকে / অবয়বের মধ্য হতেتَقْوَى (তাকওয়া) → তাকওয়া / নিজের বিশ্বাস ও আমলকে চরম সতর্কতার সাথে রক্ষা ও পুষ্ট করার মানসিকতাالْقُلُوبِ (আল-কুলূবি) → মনস্তাত্ত্বিক অন্তর, সঙ্কল্প বা intentional সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হৃদয়ের স্তরসমূহ থেকে।.

আয়াত ৩৩

لَكُمْ فِيهَا مَنَافِعُ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ مَحِلُّهَا إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ

৩৩. তোমাদের নিজেদের চরিত্র গঠন ও সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার অভ্যন্তরে এক সুনির্দিষ্ট ও নামাঙ্কিত মেয়াদ পর্যন্ত যাবতীয় আত্মিক-সামাজিক উপকারসমূহ রয়েছে; অতঃপর পরবর্তী ধাপে তার চূড়ান্ত গন্তব্য, বাস্তবায়ন বা সমাধানের স্থল হলো সেই প্রাচীন, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • أَجَلٍ مُّسَمًّى (Ajalum Musamma): একটি পূর্বনির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা সময়সীমা
  • الْبَيْت (Al-Bayt): সমাজ বা আদর্শের মূল কেন্দ্রবিন্দু ও আশ্রয়স্থল
    لَكُمْ (লাকুম) → তোমাদের নিজেদের স্বার্থে বা কল্যাণের জন্যفِيهَا (ফীহা) → এর মধ্যে / এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার অভ্যন্তরেمَنَافِعُ (মানাফিউ) → যাবতীয় কল্যাণ, প্রবৃদ্ধি ও আত্মিক-সামাজিক উপকারসমূহ রয়েছেإِلَىٰ (ইলা) → পর্যন্তأَجَلٍ (আজালিন) → একটি সুনির্দিষ্ট মেয়াদ বা সময়সীমাمُّسَمًّى (মুসাম্মান) → যা নামাঙ্কিত বা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছেثُمَّ (ছুম্মা) → অতঃপর / পরবর্তী ধাপেمَحِلُّهَا (মাহিললুহা) → তার চূড়ান্ত গন্তব্য, বাস্তবায়ন বা সমাধানের স্থলإِلَى (ইলা) → দিকে / সীমানা পর্যন্তالْبَيْتِ (আল-বাইতি) → সেই পবিত্র কেন্দ্র বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকেالْعَتِيقِ (আল-আতীকি) → যা অত্যন্ত প্রাচীন, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন

আয়াত ৩৪

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِّيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ ۗ فَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا ۗ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ

৩৪. আর প্রতিটি আদর্শিক সম্প্রদায় বা মৌলিক কাঠামোর জন্য আমরা সুনির্দিষ্টভাবে আত্মশুদ্ধির সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও উৎসর্গীকৃত পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি; যেন তারা আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট বড় নেয়ামত ও সম্পদের উৎসসমূহের মধ্য হতে অবুঝ পশুর ন্যায় স্বভাবসম্পন্ন শক্তির (বা সম্পদ স্তরের) ওপর আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট আইনি পরিচয়ের বুনিয়াদকে স্মরণে রাখে ও বাস্তবে প্রয়োগ করে। অতএব তোমাদের একমাত্র আইনদাতা ও আনুগত্যের মূল কেন্দ্র হলেন একক ও অনন্য এক সর্বময় সত্তা, সুতরাং একমাত্র তাঁরই দেওয়া আইনের সামনে তোমরা পূর্ণ আত্মসমর্পণ করো এবং আল্লাহর আইনের ভিত্তিতে শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন করো; আর তুমি চূড়ান্ত প্রাতিষ্ঠানিক সুসংবাদ দাও সেইসব মানুষদের—যারা অত্যন্ত বিনীত, অহংকারহীন এবং আল্লাহর আইনের সামনে বিনম্র চিত্তে সমর্পিত থাকে (الْمُخْبِتِينَ)।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • أُمَّة (Ummah): কোনো নির্দিষ্ট মৌল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত মানবদল বা সমাজ .
  • ذِكْر (Zikr): আল্লাহর বাণী শুধু মুখে জপ করা নয়, বরং তা গভীরভাবে বুঝে নিজের জীবনে প্রয়োগ ও স্মরণ রাখা .
  • أَسْلِمُوا (Aslimu): শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর দেওয়া আইনের সামনে নিজের ইচ্ছাকে নিঃশর্তে সমর্পণ করা।
    وَلِكُلِّ (ওয়া লিকুল্লি) → এবং প্রতিটি / সমস্তأُمَّةٍ (উম্মাতিন) → জাতি, বুনিয়াদ, আদর্শিক সম্প্রদায় বা মৌলিক কাঠামোর জন্যجَعَلْنَا (জাআলনা) → আমরা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ বা নিযুক্ত করেছিمَنسَكًا (মানসাকান) → উৎসর্গীকৃত পদ্ধতি বা আত্মশুদ্ধির সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধানلِّيَذْكُرُوا (লিয়াযকুরূ) → যেন তারা স্মরণে রাখে, বুঝেও বাস্তবে প্রয়োগ করেاسْمَ (ইসমা) → নাম / আল্লাহর সুনির্দিষ্ট গুণের বা আইনি পরিচয়ের বুনিয়াদاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিতعَلَىٰ (আলা) → উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বুনিয়াদের ওপর নীতিগতভাবেمَا (মা) → যা কিছু / যে নিয়ামতرَزَقَهُم (রাযাকাহুম) → তিনি তাদের রিযক বা ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য পুষ্টিকর উপাদান হিসেবে দিয়েছেনمِّن (মিন) → থেকে / উপাদান দ্বারাبَهِيمَةِ (বাহীমাতিল) → অবুঝ বা চতুষ্পদ পশুর ন্যায় স্বভাবসম্পন্ন শক্তির (বা সম্পদ স্তরের) মধ্য থেকেالْأَنْعَامِ (আল-আনয়ামি) → আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট বড় নেয়ামত ও সম্পদের উৎসসমূহকেفَإِلَٰهُكُمْ (ফা-ইলাহুকুম) → অতএব তোমাদের একমাত্র আইনদাতা / আনুগত্যের মূল কেন্দ্রإِلَٰهٌ (ইলাহুন) → এমন এক সর্বময় সত্তা বা বিধান যার আইন মানা আবশ্যকوَاحِدٌ (ওয়াহিদুন) → একক / অনন্যفَلَهُ (ফালাহু) → অতএব একমাত্র তাঁরই উদ্দেশ্যে বা তাঁরই দেওয়া আইনের সামনেأَسْلِمُوا (আস্লিমূ) → তোমরা পূর্ণ আত্মসমর্পণ করো / আল্লাহর আইনের ভিত্তিতে শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন করোوَبَشِّرِ (ওয়া বাশশিরি) → এবং তুমি চূড়ান্ত প্রাতিষ্ঠানিক সুসংবাদ দাওالْمُخْبِتِينَ (আল-মুখবিতীনা)যারা অত্যন্ত বিনীত, অহংকারহীন এবং আল্লাহর আইনের সামনে বিনম্র চিত্তে সমর্পিত থাকে(যারা সমস্ত মানসিক অহমিকা বর্জন করে পরম শান্তিতে সত্যকে গ্রহণ করে)

আয়াত ৩৫

الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهِ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَالصَّابِرِينَ عَلَىٰ مَا أَصَابَهُمْ وَالمُقِيمِي الصَّلَاةِ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ

৩৫. এরা তারাই, যখনই আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় বিধান ও আইনের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করা হয়, অমনি তাদের মনস্তাত্ত্বিক অন্তর ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হৃদয়ের স্তরসমূহ (قُلُوبُهُمْ) চরম সতর্ক ও প্রকম্পিত হয়ে ওঠে; এবং যারা তাদের ওপর আপতিত হওয়া সর্বপ্রকার প্রতিকূল সংকটে অত্যন্ত সুদৃঢ়, অবিচল ও স্থির থাকে; আর যারা সুদৃঢ়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে আল্লাহর দেওয়া সামগ্রিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের শৃঙ্খলকে (সালাত) এবং আমরা তাদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও চরিত্র গঠনের উপাদান হিসেবে যে রিযক দান করেছি, তা থেকে তারা অন্যান্য মানুষের প্রবৃদ্ধি ও কল্যাণের স্বার্থে অকাতরে উৎসর্গ করে।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • صَابِرِين (Sabireen): সত্যের পথে চলতে গিয়ে যে কোনো বাধা বা কষ্টের মুখে ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে অবিচল থাকা.
  • مُقِيمِي الصَّلَاة (Muqeemi-s-Salaat): আল্লাহর বিধান ও সামাজিক অনুশাসনকে সমাজে দৃঢ়ভাবে কার্যকর করা.
  • الَّذِينَ (আল্লাযীনা) → তারা যারা / সেই বিনীত বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরা যারা
  • إِذَا (ইযা) → যখনই / যে মুহূর্তে
  • ذُكِرَ (যুকিরা) → স্মরণ করা হয় বা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়
  • اللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর বিধান বা তাঁর অলঙ্ঘনীয় অলঙ্কার ও আইনের
  • وَجِلَتْ (ওয়াজিলাত) → প্রকম্পিত বা চরম সতর্ক ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে
  • قُلُوبُهُمْ (কুলূবুহুম)তাদের মনস্তাত্ত্বিক অন্তর, সঙ্কল্প বা intentional সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হৃদয়ের স্তরসমূহ (ফাইল অনুযায়ী: আল্লাহর ভয়ে তাদের সিদ্ধান্তগুলো আরও ন্যায়মুখী হয়)
  • وَالصَّابِرِينَ (ওয়াস-সাবিরীনা) → এবং যারা অত্যন্ত সুদৃঢ়, অবিচল ও স্থির থাকে
  • عَلَىٰ (আলা) → উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বুনিয়াদের ওপর / অটলভাবে
  • مَا (মা) → যা কিছু / যে প্রতিকূল সংকট
  • أَصَابَهُمْ (আসাবাহুম) → তাদের ওপর আপতিত হয় বা তাদের স্পর্শ করে
  • وَالْمُقِيمِي (ওয়াল-মুক্বীমী) → এবং যারা সুদৃঢ়ভাবে কায়েম বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে
  • الصَّلَاةِ (আস-সালাতি) → সালাত / আল্লাহর দেওয়া সামগ্রিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের শৃঙ্খলকে
  • وَمِمَّا (ওয়া মিম্মা) → এবং তা থেকে যা কিছু
  • رَزَقْنَاهُمْ (রাযাকনাহুম) → আমরা তাদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও চরিত্র গঠনের উপাদান বা রিযক হিসেবে দান করেছি
  • يُنفِقُونَ (ইউনফিকূনা) → তারা (অন্যান্য অভাবী মানুষের চরিত্র গঠন ও কল্যাণের স্বার্থে) অকাতরে ব্যয় বা উৎসর্গ করে।

আয়াত ৩৬

وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِر— اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ ۖ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ ۖ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

বাংলা অনুবাদ:
এবং প্রবৃদ্ধি বা বড় অবয়বসম্পন্ন সামাজিক উৎসব ও সম্পদসমূহকে—যা সমাজের চালিকাশক্তি, সেগুলোকে আমরা তোমাদের কল্যাণের জন্য আল্লাহর আইনের স্পষ্ট প্রতীক ও দিকনির্দেশনা হিসেবে নির্ধারণ করেছি; এগুলোর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট সচ্ছলতা ও কল্যাণ (خَيْرٌ)। অতএব, এই সম্পদ বা নেয়ামতগুলো যখন সুশৃঙ্খল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় কাতারবদ্ধ অবস্থায় সচল থাকে, তখন তোমরা এগুলোর ওপর আল্লাহর সুনির্দিষ্ট আইনি পরিচয়ের বুনিয়াদকে স্মরণে রাখো ও বাস্তবায়ন করো। অতঃপর যখন এই সম্পদ বা দায়িত্বের নির্দিষ্ট মেয়াদের অবসান ঘটবে ও লক্ষ্য অর্জিত হবে, তখন তা থেকে তোমরা নিজেরা লাভবান হও এবং পুষ্ট করো এমন অভাবী ব্যক্তিকে যে নিজের আত্মমর্যাদার কারণে হাত পাতে না, এবং তাকেও যে তীব্র সংকটের কারণে সাহায্য চাইতে বাধ্য হয়েছে। এভাবেই আমরা এই ব্যবস্থা ও সম্পদকে তোমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করেছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • بُدْن (Budn): বৃহৎ কুরবানি বা বড় আকারের দায়িত্ব, যা সমাজ গঠন ও ত্যাগের প্রতীক।
    وَالْبُدْنَ (ওয়াল-বুদনা) → এবং প্রবৃদ্ধি বা বড় অবয়বসম্পন্ন উৎস ও সম্পদসমূহকে (যা সমাজের বড় চালিকাশক্তি বা নেয়ামত)جَعَلْنَاهَا (জাআলনাহু) → আমরা সেগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে স্থাপন বা নিযুক্ত করেছিلَكُم (লাকুম) → তোমাদের নিজেদের কল্যাণের স্বার্থে / তোমাদের জন্যمِّن (মিন) → থেকে / বুনিয়াদেشَعَائِرِ (শা’আইরি) → আল্লাহর আইনের স্পষ্ট প্রতীকসমূহ, সামাজিক দিকনির্দেশনা বা প্রজ্ঞার চিহ্নসমূহেরاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিতلَكُمْ (লাকুম) → তোমাদের নিজেদের স্বার্থে বা সমাজ-ব্যবস্থার জন্যفِيهَا (ফীহা) → এর মধ্যে / এই উৎসগুলোর অভ্যন্তরেخَيْرٌ (খাইরুন) → উৎকৃষ্ট সচ্ছলতা ও ব্যক্তিত্বের মর্যাদা রয়েছে (ফাইল ২৯ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Khair’ মানে উৎকৃষ্ট প্রবৃদ্ধি ও চরিত্র পুষ্টকারী সচ্ছলতা)فَاذْكُرُوا (ফাযকুরূ) → অতএব তোমরা স্মরণে রাখো ও বাস্তবে প্রয়োগ করোاسْمَ (ইসমা) → নাম / আল্লাহর সুনির্দিষ্ট গুণের বা আইনি পরিচয়ের বুনিয়াদاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিতعَلَيْهَا (আলাইহা) → সেগুলোর ওপর / সেই সম্পদ উৎসগুলোর পরিচালনার বুনিয়াদেصَوَافَّ (সাওয়াফ্ফা) → সুশৃঙ্খলভাবে কাতারবদ্ধ বা সারিবদ্ধ অবস্থায় দাঁড়িয়ে (সুশৃঙ্খল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে)فَإِذَا (ফা ইযা) → অতঃপর যখনوَجَبَتْ (ওয়াজাবাত) → অবধারিতভাবে সম্পন্ন হবে / ঢলে পড়বেجُنُوبُهَا (জুনূবুহা) → তাদের পার্শ্ব বা একদিকের দায়িত্বের অংশসমূহ (কোনো সম্পদ উৎসের একদিকের মেয়াদের অবসান হওয়া বা উৎসর্গীকরণ চূড়ান্ত হওয়া)فَكُلُوا (ফাকুলূ) → তখন তোমরা নিজেরা তা ভোগ করো বা আত্মস্থ করোمِنْهَا (মিনহা) → তা থেকে / সেই উৎসর্গীকৃত সম্পদসমূহ থেকেوَأَطْعِمُوا (ওয়া আতইমু) → এবং তোমরা রিযকের মাধ্যমে পুষ্ট করো বা আহার করাওالْقَانِعَ (আল-কানিয়া) → এমন অভাবী ব্যক্তিকে যে নিজের মর্যাদার কারণে কারও কাছে হাত পাতে না / আত্মতুষ্ট বা ধৈর্যশীলوَالْمُعْتَرَّ (ওয়াল-মু’তাররা) → এবং এমন ব্যক্তিকে যে তীব্র সংকটের কারণে সাহায্যের মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছে বা সাহায্য চায়كَذَٰلِكَ (কাযালিকা) → এভাবেই / এই সুশৃঙ্খল উপায়েسَخَّرْنَاهَا (সাখখারনাহা) → আমরা সেগুলোকে বশীভূত বা তোমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে দিয়েছিلَكُم (লাকুম) → তোমাদের নিজেদের জন্য / তোমাদের কল্যাণেلَعَلَّكُمْ (লাআল্লাহকুম) → যাতে তোমরা নিজেরাتَشْكُرُونَ (তাশকুরূণ) → আল্লাহর দেওয়া সম্পদের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে কৃতজ্ঞ হতে পারো
  • شُكُر (Shukur): আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত বা ক্ষমতার অপচয় না করে তার সঠিক ব্যবহার ও বাস্তব মূল্যায়ন করা

আয়াত ৩৭

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ ۗ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ

বাংলা অনুবাদ:
আল্লাহর নিকট এইসব উৎসর্গের বাহ্যিক সাংগঠনিক কাঠামো বা অবয়ব (لُحُومُهَا) কিংবা তাদের অন্ধ সাময়িক আবেগ ও উদ্দীপনা (دِمَاؤُهَا) কখনোই আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না (বা গৃহীত হয় না); বরং আল্লাহর নিকট গৃহীত হয় কেবল তোমাদের ভেতরের আত্মশুদ্ধি, সচেতনতা ও সতর্ক নিষ্ঠা (التَّقْوَىٰ) (Taqwa) . এভাবেই তিনি এই সম্পদ, সামর্থ্য ও উৎসগুলোকে তোমাদের চারিত্রিক প্রবৃদ্ধির কল্যাণে সুনির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে সচল ও কার্যকর করে দিয়েছেন (سَخَّرَهَا لَكُمْ), যাতে তিনি তোমাদের যে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, সেই হিদায়াতের বুনিয়াদে তোমরা আল্লাহর আইনের সর্বোচ্চ মহিমা ও বড়ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারো। আর তুমি চূড়ান্ত প্রাতিষ্ঠানিক সুসংবাদ দাও সেইসব সমাজ সংস্কারক ও কল্যাণকামী ব্যক্তিবর্গকে (الْمُحْسِنِينَ), যারা কোনো প্রতিদানের আশা ছাড়া মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখে।(Al-Muhsineen).

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • تَقْوَى (Taqwa): বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে থাকা আসল খোদাভীতি ও মানসিক সচেতনতা
  • হিদায়াত (Hidayah): সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী আল্লাহর ঐশী আলো বা পথনির্দেশ
  • مُحْسِنِين (Muhsineen): যারা সমাজকে ভারসাম্যপূর্ণ করার জন্য নিজের হকের চেয়ে বেশি অন্যকে দেয় এবং নিজের পাওনার চেয়ে কম গ্রহণ করে
  • لَن (লান) → কখনোই নয় / বিন্দুমাত্র পৌঁছাবে না
  • يَنَالَ (ইয়ানালা) → স্পর্শ করবে বা নাগাল পাবে
  • اللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহর কাছে
  • لُحُومُهَا (লুহূমুহা) → সেগুলোর বাহ্যিক মাংস / বস্তুগত অবয়ব. এর মূল প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ হলো “বাহ্যিক অবয়ব, কাঠামো, সাংগঠনিক সংহতি, জোড়াতালি বা বস্তুগত রূপরেখা” (যেমন কোনো সামাজিক আন্দোলনের বাহ্যিক কাঠামো বা মাংসপেশীর মতো শক্তি)।
  • وَلَا (ওয়া লা) → এবং মোটেও নয়
  • دِمَاؤُهَا (দিমাউহা) → সেগুলোর রক্ত বা বাহ্যিক উৎসর্গীকরণের বস্তুগত রূপ, এর মূল অর্থ হলো “প্রাণশক্তি, জীবনীশক্তি, তীব্র আবেগ, তাড়না, উদ্দীপনা বা কোনো বিপ্লবের চালিকাশক্তি” (যেমন রক্ত যেভাবে শরীরে জীবন সঞ্চার করে, তেমনই ব্যবস্থার ভেতরের প্রধান জীবনীশক্তি)।
  • وَلَٰكِن (ওয়া লাকিন) → বরং আসল সত্য হলো
  • يَنَالُهُ (ইয়ানালুহু) → তাঁর কাছে পৌঁছাবে বা গৃহীত হবে
  • التَّقْوَىٰ (আত-তাকওয়া) → তাকওয়া / নিজের বিশ্বাস ও আমলকে চরম সতর্কতার সাথে রক্ষা ও পুষ্ট করার মানসিকতা
  • مِنكُمْ (মিনকুম) → তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে বা তোমাদের মনস্তাত্ত্বিক অবয়ব থেকে
  • كَذَٰلِكَ (কাযালিকা) → এভাবেই / এই সুশৃঙ্খল উপায়ে
  • سَخَّرهَا (সাখখারাহা) → তিনি সেগুলোকে বশীভূত বা তোমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে দিয়েছেন
  • لَكُمْ (লাকুম) → তোমাদের নিজেদের জন্য / তোমাদের কল্যাণে
  • لِتُكَبِّرُوا (লিতুকাব্বিরূ) → যাতে তোমরা সর্বোচ্চ মহিমা ও বড়ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারো
  • اللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহর আইনের ও তাঁর সর্বময় ক্ষমতার
  • عَلَىٰ (আলা)উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বুনিয়াদের ওপর নীতিগতভাবে (ফাইল ৭ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: prestige, superiority, dignity)
  • مَا (মা) → যে অলঙ্ঘনীয় সত্যের আলোকে
  • هَدَاكُمْ (হাদাকুম) → তিনি তোমাদের সোজা পথ বা সঠিক সমাধান দেখিয়েছেন
  • وَبَشِّرِ (ওয়া বাশশিরি) → এবং তুমি চূড়ান্ত প্রাতিষ্ঠানিক সুসংবাদ দাও
  • الْمُحْسِنِينَ (আল-মুহসিনীন)ভারসাম্য রক্ষা ও সমাজ সংস্কারে সর্বোত্তম অবদানকারী ব্যক্তিবর্গকে (ফাইল ৪২ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Mohsin’ হলো যে আদলের চেয়েও এক ধাপ উপরে উঠে নিজের হকের চেয়ে কম নেয় এবং অন্যকে হকের চেয়ে বেশি দেয়, কোনো প্রতিদানের আশা ছাড়া)
  • .

আয়াত ৩৮

إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর তৈরি সামাজিক ও প্রাকৃতিক আইন-ব্যবস্থার মাধ্যমে সেইসব মানুষের পক্ষ হয়ে অবিরত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ও সমস্ত ক্ষতি দূর করেন—যারা সত্যের প্রতি গভীর প্রত্যয় স্থাপন করেছে। সুনিশ্চিতভাবে আল্লাহ কোনো প্রকার বিশ্বাসঘাতক, আমানত লুণ্ঠনকারী বা সত্যকে আড়ালকারী জেদি দাম্ভিককে পছন্দ বা সমর্থন করেন না।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • آمَنُوا / إِيمَان (Amanu / Emaan): জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে অর্জিত পরম মানসিক শান্তি এবং সত্যের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় .
  • كَفُور / كُفْر (Kafur / Kufr): সত্য জানা সত্ত্বেও তা আড়াল করা, অস্বীকার করা অথবা চরম অকৃতজ্ঞতা দেখানো .
    إِنَّ (ইন্না) → নিশ্চয়ইاللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহ / আল্লাহর আইন-ব্যবস্থাيُدَافِعُ (ইউদাফিউ) → অবিরত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বা সমস্ত ক্ষতি দূর করেনعَنِ (আনি) → পক্ষ থেকে / সুরক্ষায়الَّذِينَ (আল্লাযীনা) → তাদের যারাآمَنُوا (আমানূ) → ইমান এনেছে / আকল ও ইলম ব্যবহার করে সত্যের প্রতি গভীর প্রত্যয় স্থাপন করেছেإِنَّ (ইন্না) → সুনিশ্চিতভাবেاللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহلَا (লা) → মোটেও করেন নাيُحِبُّ (ইউহিব্বু) → পছন্দ বা সমর্থন করেন নাكُلَّ (কুল্লা) → প্রতিটি / কোনো প্রকারخَوَّانٍ (খাওয়ানিন) → চরম বিশ্বাসঘাতক, আমানত লুণ্ঠনকারী বা সুবিধাবাদী মানসিকতাকেكَفُورٍ (কাফূরিন) → চরম অকৃতজ্ঞ বা সত্যকে আড়ালকারী জেদি দাম্ভিককে।

আয়াত ৩৯

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ

বাংলা অনুবাদ:
চূড়ান্ত আইনি অনুমতি ও অধিকার (أُذِنَ) দেওয়া হলো সেইসব অবদমিত মানুষদের যারা আক্রান্ত হচ্ছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে—কারণ তারা চরম জুলুম ও ভারসাম্যহীনতার শিকার হয়েছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য, উদ্ধার ও সুদৃঢ় সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ ক্ষমতাবান ও সমস্ত শক্তির পরিমাপকারী।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • أُذِن (Izn): ঐশী ঘোষণা, অনুমতি বা আইনি ডিক্রি .
  • ظُلِمُوا / ظُلْم (Zulm): কোনো কিছুর ভারসাম্য নষ্ট করা, অধিকার খর্ব করা অথবা অন্যায় অবিচার করা
  • نَصْر (Nasr): সত্যকে বিজয়ী করার জন্য প্রয়োজনীয় ঐশী বা বাস্তব সাহায্য ও সহযোগিতা
  • أُذِنَ (উযিনা) → চূড়ান্ত আইনি অনুমতি বা অধিকার জারি করা হয়েছে ( ‘Izan/Uzin’ হলো কোনো সত্য ও প্রজ্ঞার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা আইনগত অনুমতি)
  • لِّلَّذِينَ (লিল্লাযীনা) → তাদের নিজেদের কল্যাণের স্বার্থে যারা
  • يُقَاتَلُونَ (ইউকাতালূনা) → যাদের বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ বা চরম অবদমনমূলক আক্রমণ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে ( ‘Qitaal’ হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা)
  • بِأَنَّهُمْ (বি-আন্নাহুম) → এই সুনির্দিষ্ট কারণে যে, নিশ্চয়ই তারা
  • ظُلِمُوا (জুলিমূ) → চরম জুলুম, অত্যাচার ও ভারসাম্যহীনতার শিকার হয়েছে
  • وَإِنَّ (ওয়া ইন্না) → এবং সুনিশ্চিতভাবে
  • اللَّهَ (আল্লাহা) → আল্লাহ
  • عَلَىٰ (আলা)উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বুনিয়াদের ওপর নীতিগতভাবে
  • نَصْرِهِمْ (নাসরিহিম) → তাদের সাহায্য, উদ্ধার বা সুদৃঢ় সমর্থন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে
  • لَقَدِيرٌ (লাকাদীর) → পরম ক্ষমতাবান ও সমস্ত শক্তির পরিমাপকারী।

আয়াত ৪০

الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِم بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا أَن يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا ۗ وَلَيَنصُرَنَّ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ

এরা সেইসব মজলুম মানুষ, যারা নিজেদের নিরাপদ আবাসস্থল ও সমাজ-কাঠামো থেকে কোনো প্রকার ন্যায়সঙ্গত আইনি অধিকার ছাড়াই অন্যায়ভাবে উৎখাত হয়েছে, কেবল এই অপরাধে যে তারা ঘোষণা করত—”আমাদের একমাত্র প্রতিপালক ও বিকাশকারী সত্তা হলেন আল্লাহ।” আর আল্লাহ যদি মানুষের এক অংশ বা মতাদর্শিক গোষ্ঠীকে অন্য অংশের মাধ্যমে অবিরত প্রতিহত ও প্রতিরোধ না করতেন, তবে সত্য অনুসন্ধানের নিভৃত গবেষণাগার (খানকাহ), পারস্পরিক জ্ঞান ও সামাজিক চুক্তির বিনিময় কেন্দ্র (গির্জা/সিনাগগ), প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগের মূল শৃঙ্খল এবং আল্লাহর আইনের প্রতি অলঙ্ঘনীয় সমর্পণের প্রাতিষ্ঠানিক চত্বরসমূহ (وَمَسَاجِدُ) ধূলিসাৎ হয়ে যেত—যেখানে আল্লাহর আইনি বুনিয়াদ ও নাম অবিরত স্মরণ ও চর্চা করা হয়। আর আল্লাহ তাকে অবশ্যই সুদৃঢ় সমর্থন দেবেন যে আল্লাহর দীন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে সাহায্য করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিশালী এবং সকল ক্ষমতার অধিকারী।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • حَقّ (Haqq): পরম সত্য, অকাট্য বাস্তবতা এবং যার যা প্রাপ্য বা অর্পিত দায়িত্ব
  • مَسَاجِد (Masaajid): এমন যেকোনো জায়গা বা প্রতিষ্ঠান যেখানে আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক ও ঐশী আইনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য (সেজদা) প্রদর্শন করা হয়
  • عَزِيز (Aziz): এমন এক সত্তা যা সমস্ত ক্ষমতার উৎস, অনন্য সম্মানের অধিকারী এবং যাকে কেউ পরাভূত করতে পারে না
    الَّذِينَ (আল্লাযীনা) → তারা যারা / সেই মজলুমরা যারাأُخْرِجُوا (উখরিজূ) → অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত বা ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হয়েছেمِن (মিন) → থেকেدِيَارِهِم (দিয়ারিহিম) → তাদের নিজস্ব নিরাপদ আবাসস্থল বা সমাজ-কাঠামো থেকেبِغَيْرِ (বিগাইরি) → ছাড়া / কোনো প্রকার বুনিয়াদ ব্যতীতحَقٍّ (হাক্কিন) → সত্য বা ন্যায়সঙ্গত আইনি অধিকারإِلَّا (ইল্লা) → কেবল মাত্র এই অপরাধে বা কারণেأَن (আন) → যেيَقُولُوا (ইয়াকূলূ) → তারা সুনিশ্চিত ঘোষণা করত যেرَبُّنَا (রাব্বুনা) → আমাদের একমাত্র প্রতিপালক ও বিকাশকারী সত্তা হলেনاللَّهُ (আল্লাহা) → আল্লাহ-ইوَلَوْلَا (ওয়া লাওলা) → এবং যদি না হতো / যদি এই নিয়মটি না থাকত যেدَفْعُ (দাফউ) → অবিরত প্রতিরোধ গড়ে তোলা বা প্রতিহত করাاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর তৈরি প্রাকৃতিক বা সামাজিক আইনের মাধ্যমেالنَّاسَ (আন্-নাসি) → সর্বস্তরের মানুষদেরকেبَعْضَهُم (বাদাহুম) → তাদের এক অংশকে বা এক মতাদর্শিক গোষ্ঠীকেبِبَعْضٍ (বি-বাদিন) → অন্য অংশ বা অন্য শক্তির মাধ্যমে (অর্থাৎ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের শক্তিকে মুখোমুখি দাঁড় করানো)لَّهُدِّمَتْ (লাহুদ্দিমাত) → তবে সুনিশ্চিতভাবেই সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ বা ধ্বংস হয়ে যেতصَوَامِعُ (সাওয়ামিউ) → সত্য অনুসন্ধানের নিভৃত গবেষণাগার বা নির্জন চিন্তাকেন্দ্রসমূহوَبِيَعٌ (ওয়া বিয়াউন্) → এবং পারস্পরিক জ্ঞান ও সামাজিক চুক্তির আলয় বা বিনিময় কেন্দ্রসমূহوَصَلَوَاتٌ (ওয়া সালাওয়াতুন) → এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ ও সামগ্রিক সামাজিক দায়িত্বের মূল শৃঙ্খলসমূহوَمَسَاجِدُ (ওয়া মাসাজিদু) → এবং আল্লাহর আইনের প্রতি অলঙ্ঘনীয় আনুগত্য ও সমর্পণের সেই প্রাতিষ্ঠানিক চত্বরসমূহيُذْكَرُ (ইউযকারু) → যেখানে অবিরত স্মরণ, চর্চা ও বাস্তাবায়ন করা হয়فِيهَا (فীহা) → সেগুলোর অভ্যন্তরে / সেই সমস্ত কেন্দ্রেاسْمُ (ইসমা) → নাম / আল্লাহর সুনির্দিষ্ট গুণের বা আইনি পরিচয়ের বুনিয়াদاللَّهِ (আল্লাহি) → আল্লাহর নির্ধারিত



আয়াত ৩৪

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِّيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَىٰ مَا رَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ ۗ فَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا ۗ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
এবং প্রত্যেকটি ভিত্তিমূল বা মানবগোষ্ঠীর (Ummah) জন্য আমি একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি (1 Vocabula… p. 27), যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ (বাস্তবায়ন) করতে পারে (1 Vocabula… p. 28), সেই জীবন-উপকরণ বা রিজিকের ওপর যা তিনি সহজলভ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপায়সমূহ (An'aam) থেকে তাদের দান করেছেন (1 Vocabula… p. 2). অতএব তোমাদের ইলাহ (চূড়ান্ত আইন ও বিধানদাতা) কেবল একমাত্র ইলাহ; সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই নিকট শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে আত্মসমর্পণ (Aslimu) করো। আর সুসংবাদ দাও সেই বিনয়ী ও অনুগতদের (Al-Mukhbiteen) যারা নিজেদের অহংকার ও গোঁড়ামি ত্যাগ করে সত্যকে গ্রহণ করে।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • أُمَّة (Ummah): কোনো নির্দিষ্ট মৌল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত মানবদল বা সমাজ (1 Vocabula… p. 27).
  • ذِكْر (Zikr): আল্লাহর বাণী বা আইনকে গভীরভাবে বুঝে নিজের জীবনে প্রয়োগ করা ও স্মরণে রাখা (1 Vocabula… p. 28).
  • أَسْلِمُوا (Aslimu): শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর দেওয়া আইনের সামনে নিজের ইচ্ছাকে নিঃশর্তে সমর্পণ করা।

আয়াত ৩৫

الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهِ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَالصَّابِرِينَ عَلَىٰ مَا أَصَابَهُمْ وَالمُقِيمِي الصَّلَاةِ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
তারাই তারা, যাদের নিকট যখন আল্লাহর বাণী বা নিয়ম স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন তাদের সচেতন মন (Quloob) সজাগ ও প্রকম্পিত হয়ে ওঠে (1 Vocabula… p. 37), এবং যারা তাদের ওপর আপতিত যে কোনো প্রতিকূলতায় বা কষ্টের মুখে সত্যের ওপর দৃঢ় ও অবিচল থাকে (Sabireen) (1 Vocabula… p. 13), এবং যারা তাদের সামাজিক দায়িত্ব বা অনুশাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখে (Muqeemi-s-Salaat) (1 Vocabula… p. 16), এবং আমি তাদের যে রিজিক (জ্ঞান, সামর্থ্য ও সম্পদ) দিয়েছি তা থেকে তারা মানব কল্যাণে অকাতরে ব্যয় (Yunfiqun) করে।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • صَابِرِين (Sabireen): সত্যের পথে চলতে গিয়ে যে কোনো বাধা বা কষ্টের মুখে ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে অবিচল থাকা (1 Vocabula… p. 13).
  • مُقِيمِي الصَّلَاة (Muqeemi-s-Salaat): আল্লাহর বিধান এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের কাঠামোকে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ও কার্যকর করা (1 Vocabula… p. 16).

আয়াত ৩৬

وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ ۖ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ ۖ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرْنَاهَا Lَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
এবং বৃহত্তর উৎসর্গ বা বড় আকারের সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমসমূহকে (Al-Budn) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নির্দেশনার (Sha'aair) অংশ করেছি, যার মধ্যে তোমাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য প্রভূত কল্যাণ (Khair) রয়েছে (1 Vocabula… p. 42). সুতরাং সেগুলো যখন সারিবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনে দাঁড়ায়, তখন তার ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ ও নীতি প্রয়োগ করো। অতঃপর যখন তারা তাদের দায়িত্বের চূড়ান্ত রূপ লাভ করে (অর্থাৎ অর্পিত গুরুদায়িত্ব সম্পন্ন হয়), তখন তোমরা তা থেকে নিজেরাও সুফল লাভ বা ভোগ করো এবং যারা অল্পে তুষ্ট (Al-Qani') ও যারা অভাবগ্রস্ত সাহায্যপ্রার্থী (Al-Mu'tarr), তাদেরও তাতে অংশীদার করো। এভাবেই আমি এই বড় সামাজিক উপায়গুলোকে তোমাদের নিয়ন্ত্ৰণাধীন বা সহজসাধ্য করেছি যেন তোমরা নিয়ামতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা (Shukur) প্রকাশ করতে পারো (1 Vocabula… p. 28).

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • بُدْن (Budn): বৃহৎ কুরবানি বা বড় আকারের গুরুদায়িত্ব, যা সমাজ গঠন ও ত্যাগের প্রতীক।
  • شُكُر (Shukur): আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত বা ক্ষমতার অপচয় না করে তার সঠিক ব্যবহার ও বাস্তব মূল্যায়ন করা (1 Vocabula… p. 28).

আয়াত ৩৭

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ ۗ وَبَشِّরِ الْمُخْبِتِينَ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
আল্লাহর নিকট এগুলোর বাহ্যিক মাংস কিংবা রক্ত পৌঁছায় না, বরং তাঁর নিকট পৌঁছায় তোমাদের অন্তরের ভেতরের আত্মসংযম, দায়িত্বশীলতা ও সচেতন সুরক্ষা (Taqwa) (1 Vocabula… p. 32). এভাবেই তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও শ্রেষ্ঠ শাসন ঘোষণা করতে পারো এই ভিত্তিতে যে তিনি তোমাদের সঠিক ও স্পষ্ট পথনির্দেশ বা হিদায়াত (Hidayah) দিয়েছেন (1 Vocabula… p. 2). আর সুসংবাদ দাও সেই সর্বোত্তম আচরণকারী বা এহসানকারীদের (Al-Muhsineen) (1 Vocabula… p. 42).

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • تَقْوَى (Taqwa): বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে থাকা আসল খোদাভীতি ও মানসিক সচেতনতা (1 Vocabula… p. 32).
  • مُحْسِنِين (Muhsineen): যারা সমাজকে ভারসাম্যপূর্ণ করার জন্য নিজের হকের চেয়ে বেশি অন্যকে দেয় এবং নিজের পাওনার চেয়ে কম গ্রহণ করে (1 Vocabula… p. 42).

আয়াত ৩৮

إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের পক্ষ থেকে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি, ষড়যন্ত্র বা আক্রমণ প্রতিহত করেন যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস বা ইমান স্থাপন করেছে (Amanu) (1 Vocabula… p. 31). নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক, চরম অকৃতজ্ঞ ও সত্য গোপনকারীকে (Kafur) পছন্দ করেন না (1 Vocabula… p. 1).

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • آمَنُوا / إِيمَان (Amanu / Emaan): জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে অর্জিত পরম মানসিক শান্তি এবং সত্যের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় (1 Vocabula… p. 31).
  • كَفُور / كُفْر (Kafur / Kufr): সত্য জানা সত্ত্বেও তা আড়াল করা, নিজের স্বার্থে অস্বীকার করা অথবা চরম অকৃতজ্ঞতা দেখানো (1 Vocabula… p. 1).

আয়াত ৩৯

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ Lَقَدِيرٌ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
প্রতিরোধ বা যুদ্ধের আইনি অনুমতি (Izn) দেওয়া হলো তাদের, যাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে; কারণ তারা নিপীড়িত বা জুলুমের শিকার হয়েছে (Zulimu) (1 Vocabula… p. 24). এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে (Nasrihim) পূর্ণ সক্ষম ও সর্বোত্তম ক্ষমতাবান (1 Vocabula… p. 4).

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • أُذِن (Izn): ঐশী ঘোষণা, অনুমতি বা আইনি ডিক্রি (1 Vocabula… p. 24).
  • ظُلِمُوا / ظُلْم (Zulm): কোনো কিছুর ভারসাম্য বা সঠিক স্থান নষ্ট করা, অধিকার খর্ব করা অথবা অন্যায় অবিচার করা (1 Vocabula… p. 4).
  • نَصْر (Nasr): সত্যকে বিজয়ী করার জন্য প্রয়োজনীয় ঐশী বা বাস্তব সাহায্য ও সহযোগিতা (1 Vocabula… p. 5).

আয়াত ৪০

الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِم بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا أَن يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا ۗ وَلَيَنصُرَنَّ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
তাদেরকে অন্যায়ভাবে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল কোনো যথার্থ অধিকার বা সত্য ব্যতিরেকে (Bighairi Haqq), কেবল এই কারণে যে তারা বলেছিল: “আমাদের রব (একমাত্র লালনকর্তা ও চূড়ান্ত আইনদাতা) হলেন আল্লাহ।” আর আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত বা ভারসাম্যে না রাখতেন, তবে নিশ্চিতভাবেই ভেঙে ফেলা হতো সংসারবিরাগীদের মঠ, খ্রিষ্টানদের গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মুমিনদের সেইসব মসজিদ বা প্রতিষ্ঠানসমূহ (Masaajid), যেখানে আল্লাহর নাম ও তাঁর আইন প্রচুর পরিমাণে স্মরণ ও বাস্তবায়ন করা হয় (1 Vocabula… p. 6). আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন, যে তাঁর অনুশাসনকে জমিনে বিজয়ী করতে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিশালী ও অনন্য সম্মানের অধিকারী মহাপরাক্রমশালী (Aziz) (1 Vocabula… p. 7).

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ (Keywords):

  • حَقّ (Haqq): পরম সত্য, অকাট্য বাস্তবতা এবং যার যা প্রাপ্য বা অর্পিত দায়িত্ব (1 Vocabula… p. 21).
  • مَسَاجِد (Masaajid): এমন যেকোনো জায়গা, কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান যেখানে আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক ও ঐশী আইনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য (সেজদা) প্রদর্শন ও কার্যকর করা হয় (1 Vocabula… p. 6).
  • عَزِيز (Aziz): এমন এক সত্তা যা সমস্ত শক্তির উৎস, অনন্য সম্মানের অধিকারী এবং যাকে কেউ পরাভূত করতে পারে না (1 Vocabula… p. 7).

‘الْبَيْتِ الْعَتِيقِ’ (Al-Bayt al-Ateeq) শব্দের প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থ

১. الْبَيْت (Al-Bayt): এটি মূলত ب-ي-ت (B-Y-T) ধাতু থেকে এসেছে। এর অর্থ শুধু ইট-পাথরের ঘর বা ভৌত কোনো কেন্দ্র নয়। এর প্রকৃত অর্থ হলো “একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মতাদর্শ, জীবনবিধান বা আইনি ব্যবস্থা যা মানুষকে মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা, আশ্রয় এবং রাত্রিকালীন স্থিতি (স্থায়িত্ব) প্রদান করে।” (1 Vocabula… p. 9)
২. الْعَتِيق (Al-Ateeq): এটি এসেছে ع-ت-ق (A-T-Q) ধাতু থেকে। এর মূল অর্থ প্রাচীন বা পুরোনো নয়, বরং এর মূল অর্থ হলো “যা সমস্ত দাসত্ব, শৃঙ্খল ও পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত এবং স্বাধীন (Liberated/Free)” (যেমন আরবিতে দাস মুক্ত করাকে ‘ইতক’ বা ‘আতিক’ বলা হয়)।

সুতরাং, ‘আল-বাইত আল-আতিক’ বলতে কোনো প্রাচীন ভবনকে বোঝানো হচ্ছে না; বরং এর অর্থ হলো “আল্লাহর দেওয়া সেই চিরন্তন স্বাধীন, শৃঙ্খলমুক্ত ও সার্বভৌম আইনি ব্যবস্থা (The Liberated and Sovereign Divine System/Constitution), যা মানুষকে অন্য সমস্ত মানুষের তৈরি মনগড়া আইনের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়।”



‘رِزْق’ (Rizq / Razaqa) শব্দের প্রকৃত ধারণাগত অর্থ

১. মৌলিক অর্থ: আরবি অভিধান অনুযায়ী, ‘রিজিক’ বা ‘রাজাকা’ মানে কেবল মানুষের ব্যক্তিগত অন্ন, বস্ত্র, টাকা-পয়সা বা বৈষয়িক সুযোগ-সুবিধা নয়। এর আসল অর্থ হলো—“এমন এক সার্বিক ঐশী পুষ্টি, বিকাশ বা লালন-ব্যবস্থা যা কোনো সত্তা বা মানুষের ব্যক্তিত্ব, চরিত্র, মানসিকতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সুপ্ত সম্ভাবনাকে ধাপে ধাপে বিকশিত ও পুষ্ট করে (Personality Nourishment and Character Development)।”
২. কুরআনিক প্রয়োগ: কুরআনের জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোতে আল্লাহর দেওয়া ‘রিজিক’-এর সবচেয়ে বড় অংশ হলো তাঁর হিদায়াত, কিতাব এবং ঐশী জ্ঞান । কারণ কিতাবের জ্ঞানই মানুষের ভেতরের পশুবৃত্তিকে ধ্বংস করে তাকে প্রকৃত ‘মানুষ’ হিসেবে পুষ্ট ও বিকশিত করে ।

সুতরাং, আয়াত ৩৪-এ গবাদিপশু বা অর্থনৈতিক উপায়ের ওপর আল্লাহর নাম নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে—আল্লাহ মানুষকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য যে জ্ঞান ও ঐশী লালন-ব্যবস্থা (Nourishment system) দিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করে মানুষ যেন আল্লাহর দেওয়া চাক্ষুষ আইনি অনুশাসনসমূহকে সমাজে স্মরণ ও বাস্তবায়ন করে ।


নিচে ب-د-ن (B-D-N) ধাতুর প্রকৃত আভিধানিক অর্থ এবং এর ভিত্তিতে আয়াত ৩৬-এর সম্পূর্ণ সঠিক, ত্রুটিমুক্ত ও বিশুদ্ধ ধারণাগত অনুবাদ উপস্থাপন করা হলো:


‘الْبُدْن’ (Al-Budn) শব্দের প্রকৃত ধারণাগত ও কাঠামোগত অর্থ

১. মৌলিক আভিধানিক অর্থ: আরবি অভিধানে ‘বদন’ (بدن) বা ‘বদানাহ’ মানে হলো—“একটি সুদৃঢ়, শক্তিশালী, সুসংহত ও সুসংগঠিত কাঠামো বা শরীর (A Solid, Concrete, and Powerful Framework/Structure)।” এটি এমন এক বাহ্যিক অবয়ব যা ভেতরের শক্তি বা আদর্শকে একটি বাস্তব ও দৃশ্যমান রূপ দেয়।
২. কুরআনিক ও ধারণাগত প্রয়োগ: কুরআনের জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোতে ‘আল-বদন’ বলতে কোনো ভৌত বা আক্ষরিক কুরবানির পশুকে বোঝানো হচ্ছে না। বরং এর অর্থ হলো—“আল্লাহর দেওয়া সেই সুসংহত, শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বা শাসনতান্ত্রিক রূপ (The Concrete and Structured Constitutional Framework), যা আল্লাহর ন্যায়বিচার ও মানুষের চেতনা জাগ্রত করার অনুশাসনকে সমাজে বাস্তব রূপ দেয়।”

সুতরাং, আয়াত ৩৬-এ কোনো পশুকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানোর কথা বলা হচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে—আল্লাহর সেই সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যখন সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়, তখন তার ওপর আল্লাহর নাম ও বিধান জারি করতে হবে; যেন সমাজ তার চূড়ান্ত সুফল ভোগ করতে পারে।


আয়াত ৪১

الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
৪১. (এরা সেইসব ব্যক্তি বা সত্যনিষ্ঠ সমাজ সংস্কারক দল) যাদেরকে যদি আমরা এই পৃথিবী বা সামাজিক শাসন ও ক্ষমতার চত্বরে (فِي الْأَرْضِ) সুদৃঢ় ক্ষমতা, কর্তৃত্ব বা সামর্থ্য সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়, তবে তারা সুদৃঢ়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে আল্লাহর দেওয়া সামগ্রিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের শৃঙ্খলকে (সালাত) এবং তারা উৎসর্গ করে সমাজ ও ব্যক্তিত্বের আর্থিক ও আত্মিক প্রবৃদ্ধির সামাজিক কেয়ার সিস্টেমকে (যাকাত); আর তারা সুনির্দিষ্ট আইন ও নির্দেশনা জারি করে সুপরিচিত কল্যাণ ও বিবেকসম্মত ন্যায়বিচারের পক্ষে এবং কঠোরভাবে প্রতিরোধ করে সর্বপ্রকার অন্যায়, সমাজ বিধ্বংসী অনাচার ও কুৎসিত অপকর্ম থেকে। আর সমস্ত জাগতিক ও সামাজিক সামগ্রিক কার্যাবলীর চূড়ান্ত ফলাফল বা কর্মের যথাযথ প্রতিদান (عَاقِبَةُ الْأُمُورِ) একমাত্র আল্লাহরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ:

  • مَّكَّنَّاهُمْ (Makkannāhum): কোনো আদর্শ বা মানবদলকে কাজ করার জন্য জমিনে সুদৃঢ় ভিত্তি, ক্ষমতা, সুযোগ বা সক্ষমতা দান করা।
  • الصَّلَاة (Salāt): আল্লাহর বিধানের সাথে মানুষের সার্বক্ষণিক সচেতন সংযোগ ও সামাজিক অনুশাসনকে কার্যকর রাখা।
  • الزَّكَاة (Zakāt): মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনার বিকাশ, শুদ্ধিকরণ এবং সমাজের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
  • بِالْمَعْرُوفِ (Bil-Ma’rūf): সর্বজনস্বীকৃত সত্য, বিবেকসম্মত সুপরিচিত কল্যাণ এবং চাক্ষুষ বাস্তব নীতি।
  • الْمُنكَرِ (Al-Munkar): যা মানব প্রকৃতির পরিপন্থী, সমাজ-অস্বীকৃত বিকৃতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অস্বীকৃতি। 
  • الَّذِينَ (আল্লাযীনা) → তারা যারা / সেইসব ব্যক্তি বা সত্যনিষ্ঠ সমাজ সংস্কারক দল
  • إِن (ইন্) → যদি / যখনই আমরা
  • مَّكَّنَّاهُمْ (মাককান্নাহুম) → তাদেরকে সুদৃঢ় ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ বা সামর্থ্য দান করি
  • فِي (ফী) → মধ্যে / অভ্যন্তরে
  • الْأَرْضِ (আল-আরদি)এই পৃথিবী বা সামাজিক শাসন ও ক্ষমতার চত্বরে (শাসন-ক্ষমতা পরিচালনা করার চত্বর)
  • أَقَامُوا (আকামূ) → তারা সুদৃঢ়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে
  • الصَّلَاةَ (আস-সালাতা)সালাত / আল্লাহর দেওয়া সামগ্রিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের শৃঙ্খলকে (ফাইল ১৬ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: সমাজ রক্ষার সামগ্রিক দায়িত্বের সিস্টেম)
  • وَآتَوُا (ওয়া আতাউ) → এবং তারা ডেডিকেট করে বা নিয়ে আসে (‘Aa’tu’ মানে উৎস বা সম্পদ নিয়ে আসা)
  • الزَّكَاةَ (আয-যাকাতা)যাকাত / সমাজ ও ব্যক্তিত্বের আর্থিক ও আত্মিক প্রবৃদ্ধি ও বিকাশের সামাজিক কেয়ার সিস্টেমকে ( সামাজিক কেয়ার ও Nourishment এর জন্য সম্পদ উৎসর্গ করা)
  • وَأَمَرُوا (ওয়া আমারূ) → এবং তারা সুনির্দিষ্ট আইন বা নির্দেশনা জারি করে
  • بِالْمَعْرُوفِ (বিল-মা’রূফি) → সুপরিচিত কল্যাণ, বিবেকসম্মত ন্যায়বিচার ও মার্জিত আচরণের পক্ষে (ফাইল ১৫ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: সুপরিচিত আচরণ)
  • وَنَهَوْا (ওয়া নাহাও) → এবং তারা কঠোরভাবে প্রতিরোধ বা নিষেধ করে
  • عَنِ (আনি) → থেকে
  • الْمُنكَرِ (আল-মুনকারী) → সর্বপ্রকার অন্যায়, সমাজ বিধ্বংসী অনাচার ও কুৎসিত অপকর্ম থেকে
  • وَلِلَّهِ (ওয়া লিল্লাহি) → এবং একমাত্র আল্লাহর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন বা আইনি এখতিয়ারে রয়েছে
  • عَاقِبَةُ (আক্বিবাতু)চূড়ান্ত ফলাফল বা কর্মের যথাযথ প্রতিদান (Retribution, payback বা outcome অব কোড অ্যান্ড কনডাক্ট)
  • الْأُمُورِ (আল-উমুরি) → সমস্ত জাগতিক ও সামাজিক সামগ্রিক কার্যাবলীর বা বিষয়ের।

আয়াত ৪২

وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَعَادٌ وَثَمُودُ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
“এবং তারা যদি বিধানকে উপহাসে উড়িয়ে দেয়, মিথ্যা প্রতিপন্ন করে বা উপস্থাপিত সত্যকে অস্বীকার করে (Yukazzibūka), তবে জেনে রাখো যে, সুনিশ্চিতভাবেই তাদের পূর্বেও প্রত্যাখ্যান ও উপহাস করেছিল সংকট ও বিপর্যয় প্রতিরোধের সেই সুশৃঙ্খল ঐশ্বরিক কাঠামো ও পথকে অস্বীকারকারী মানসিকতার দল (قَوْمُ نُوحٍ), এবং চরম বৈরিতা ও শত্রুতার সমাজ (عَادٌ), এবং সম্পদের উৎস কুক্ষিগতকারী স্বার্থপর সমাজ বা মানসিকতার দলও (ثَمُودُ);” 

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ:

  • وَإِن (ওয়া ইন্‌) → এবং যদি
    يُكَذِّبُوكَ / تَكْذِيب (Yukazzibūka / Takzeeb): সত্যকে জানার বা বোঝার চেষ্টা না করে সরাসরি তার সত্যতাকে উড়িয়ে দেওয়া, অস্বীকার করা বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মানসিকতা। → তারা তোমাকে প্রত্যাখ্যান বা অস্বীকার করে / উপহাস উড়িয়ে দেয় ( ‘Mukazibeen’ হলো যারা আয়াতকে উপহাস ও অস্বীকার করে)فَقَدْ (ফাকাদ) → তবে জেনে রাখো যে সুনিশ্চিতভাবেইكَذَّبَتْ (কাযযাবাত) → প্রত্যাখ্যান ও উপহাস করেছিলقَبْلَهُمْ (কাবলাহুম) → তাদের পূর্বেও / তাদের আগে অতিক্রান্ত হওয়া
    نُوح (নূহ): এর মূল প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ হলো “শান্তি, স্বস্তি, স্থায়িত্ব, নিরাপদ আশ্রয়, এবং কোনো ঝড় বা বিপর্যয়ের মুখে টিকে থাকার জন্য একটি মজবুত বা সুশৃঙ্খল পরিকাঠামো।” (যেমন বিপর্যয় থেকে বাঁচতে যে ‘কিশতী’ বা নিরাপদ সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা-ই হলো নূহের ব্যবস্থার প্রতীক)।قَوْم (কাওম): এর অর্থ হলো কোনো নির্দিষ্ট আচরণ ও কর্মে একতাবদ্ধ জনগোষ্ঠী বা সমাজ।
    عَادٌ (আদ): এর মূল অর্থ হলো “চরম শত্রুতা, বৈরিতা, জেদ, বিদ্বেষ এবং সত্যের অলঙ্ঘনীয় আইনি ভারসাম্যকে আক্রমণ করার হিংস্র মানসিকতা।”
    ثَمُودُ (ছামূদ): এর মূল অর্থ হলো “প্রজ্ঞা বা সম্পদের মূল উৎসকে নিজের কুক্ষিগত করা, জমিয়ে রাখা, কৃপণতা ও স্বার্থপরতার চরম স্তরে আটকে থাকা।”

আয়াত ৪৩

وَقَوْمُ إِبْرَاهِيمَ وَقَوْمُ لُوطٍ
এবং পরম কল্যাণময় ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সমাজ-কাঠামোকে অস্বীকারকারী দল (قَوْمُ إِبْرَاهِيمَ), এবং সত্যের আলো থেকে নিজেদের অবরুদ্ধকারী ভ্রান্ত সমাজ বা মানসিকতার দলও (قَوْمُ لُوطٍ);

ইব্রাহিম (إِبْرَاهِيم): এর মূল অর্থ কোনো একক ব্যক্তির নাম নয়, বরং এর অর্থ হলো “মানবজাতির জন্য এক পরম কল্যাণময়, প্রজ্ঞাপূর্ণ, সুরক্ষাদায়ক এবং সুদৃঢ় আদর্শিক বুনিয়াদ বা সমাজ কাঠামো”
লূত (لُوط): এর মূল অর্থ হলো “এমন এক মানসিকতা বা সমাজ—যা সত্যের মূল আলো থেকে নিজেদের অবরুদ্ধ করে রাখে, সত্যকে আড়াল করে বা ভ্রান্ত রীতির আবর্তে লিপ্ত থাকে”


আয়াত ৪৪

وَأَصْحَابُ مَدْيَنَ ۖ وَكُذِّبَ مُوسَىٰ فَأَمْلَيْتُ لِلْكَافِرِينَ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ ۖ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
এবং অর্থনৈতিক লেনদেন ও বিচারিক আইনের সুষম ভারসাম্য ধ্বংসকারী সমাজ বা মানসিকতার অংশীদাররাও (أَصْحَابُ مَدْيَنَ); আর একইভাবে (অন্যায় ও দাসত্ব থেকে) মুক্তি ও স্বাধীনতার সেই সুশৃঙ্খল ঐশ্বরিক আইন ও পথকেও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল (وَكُذِّبَ مُوسَىٰ)। অতঃপর আমি সেইসব সত্যের চরম অবাধ্য ও অস্বীকারকারীদের (কাফিরদের) সাময়িক অবকাশ বা ঢিল দিয়েছিলাম, অতঃপর (পরবর্তী ধাপে) আমি তাদেরকে তাদেরই কৃতকর্মের জালে আবদ্ধ বা গ্রাস করেছিলাম। তখন কেমন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছিল আমার অস্বীকৃতি ও তাদের সামগ্রিক অস্তিত্বকে অস্বীকার করার অবয়ব!

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ:

  • فأَمْلَيْتُ (Fa-amlaytu): সত্য অস্বীকারের সাথে সাথেই ধ্বংস না করে তাদের স্বাধীন ইচ্ছার চূড়ান্ত প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বা অবকাশ দেওয়া।
  • لِلْكَافِرِينَ (Lil-Kāfirīn): যারা সত্য সুষ্পষ্ট হওয়ার পরেও নিজেদের অহংকার বা কায়েমি স্বার্থে তা ঢেকে রাখে বা আড়াল করে।
  • نَكِيرِ (Nakīri): কোনো বিষয়ের গতিপথকে সম্পূর্ণ উলটে দেওয়া, অস্বীকার বা আমূল পরিবর্তন করার প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়ম। 
  • وَأَصْحَابُ (ওয়া আসহাবু) → এবং সঙ্গী, সাথী বা বাসিন্দারা ‘Ashaabe’ মানে কোনো ব্যবস্থার সাথী বা অংশীদার)
  • مَدْيَنَ (মাদইয়ানা) → মাদইয়ান অঞ্চলের বা সমাজ-কাঠামোর, (মাদইয়ান): এর মূল প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক অর্থ হলো “সুনির্দিষ্ট বিচারিক আইন, ঋণ পরিশোধের কঠোর বিধিমালা, অর্থনৈতিক লেনদেনের বাধ্যবাধকতা, এবং ওজন ও মাপের সুষম সামাজিক ভারসাম্য।” (ইতিহাসে এই ব্যবস্থা বা মানসিকতার দলটির মূল বিচ্যুতিই ছিল অর্থনৈতিক শোষন, মাপে কম দেওয়া এবং বিচারিক নিয়মের অবক্ষয়)।
    আসহাবু মাদইয়ান)-এর প্রকৃত অর্থ কোনো প্রাচীন ভৌগোলিক অঞ্চলের বাসিন্দা নয়; বরং এর সমাজতাত্ত্বিক অর্থ: “অর্থনৈতিক লেনদেন ও বিচারিক আইনের সুষম ভারসাম্য ধ্বংসকারী সমাজ বা মানসিকতার দল।”
  • وَكُذِّبَ (ওয়া কুযযিবা) → এবং একইভাবে প্রত্যাখ্যান ও মিথ্যা সাব্যস্ত করা হয়েছিল
  • مُوسَىٰ (মূসা) (مُوسَىٰ): এর মূল প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক অর্থ হলো “এমন এক পথ, শক্তি, বা সুশৃঙ্খল ঐশ্বরিক আইনি দলিল—যা সমাজের যাবতীয় বিশৃঙ্খলা, অন্যায়, যুলুম এবং দাসত্ব থেকে মানুষকে মুক্তি দেয় ও টেনে বের করে আনে (The liberation force, the law/mechanism that pulls people out of oppression and slavery)”। (যেমন বনী-ইসরাঈলকে ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার সেই ঐশ্বরিক আইন ও ব্যবস্থা)।
  • فَأَمْلَيْتُ (ফাউমলাইতু) → অতঃপর আমি ঢিল দিয়েছিলাম / সাময়িক অবকাশ দিয়েছিলাম
  • لِلْكَافِرِينَ (লিল-কাফিরীনা) → সেইসব কাফির বা সত্যের চরম অবাধ্য অস্বীকারকারীদেরকে (ফাইল ১২ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: যারা কুফরে অনড় অবস্থান নেয়)
  • ثُمَّ (ছুম্মা) → অতঃপর / পরবর্তী ধাপে
  • أَخَذْتُهُمْ (আখাযতুহুম) → আমরা তাদের গ্রাস বা পাকড়াও করেছিলাম (তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জালে আবদ্ধ করেছিলাম)
  • فَكَيْفَ (ফাকাইফা) → তখন কেমন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল!
  • كَانَ (কানা) → হয়েছিল / পৌঁছেছিল তার চূড়ান্ত পরিণতিতে
  • نَكِيرِ (নাকীরি) → আমার অস্বীকৃতি, ক্রোধ বা তাদের সামগ্রিক অস্তিত্বকে অস্বীকার করার অবয়ব।

আয়াত ৪৫

فَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا وَهِيَ ظَالِمَةٌ فَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا وَبِئْرٍ مُّعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَّشِيدٍ

ধারণাগত বাংলা অনুবাদ:
আর কত শত জনপদ ও সভ্যতাকে আমরা (তাদের নিজেদের ভুল আচরণের কারণে) সম্পূর্ণ কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বহীন করেছি (أَهْلَكْنَاهَا), এই অবস্থায় যে—তারা নিজেরা ছিল চরম যুলুম ও ভারসাম্যহীনতায় লিপ্ত; ফলে সেই সমাজ-ব্যবস্থাগুলো এখন তাদের নিজেদেরই ক্ষমতার উচ্চ স্তম্ভ ও উচ্চ স্তরের কাঠামোর ওপর (عَلَىٰ عُرُوشِهَا) সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও ধ্বসে পড়া অবস্থায় রয়েছে; এবং জীবন ও প্রজ্ঞার মূল সঞ্জীবনী শক্তির সুপ্ত উৎস বা কুয়োগুলো সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ও অকেজো হয়ে পড়ে আছে এবং ক্ষমতা ও অহংকারের সুউচ্চ প্রাসাদসমূহ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

মূল কী-ওয়ার্ডসমূহ:

  • ظَالِمَةٌ (Zālimah): কোনো সমাজ যখন নিজের সাম্য ও ন্যায়ের ভারসাম্য নষ্ট করে চরম জুলুম, অবিচার ও সীমালঙ্ঘনে মত্ত হয়।
  • بِئْرٍ مُّعَطَّلَةٍ (Bi’rin Mu’attalah): আক্ষরিক অর্থে ‘পরিত্যক্ত কূপ’ হলেও ধারণাগতভাবে এটি সমাজের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও জীবন-বিকাশের সচল এবং সুপেয় উৎসসমূহকে নির্দেশ করে, যা সঠিক ব্যবহারের অভাবে অকেজো হয়ে যায়।
  • قَصْرٍ مَّشِيدٍ (Qasrim Mashīd): আক্ষরিক অর্থে ‘সুদৃঢ় প্রাসাদ’, কিন্তু ধারণাগতভাবে এটি কায়েমি স্বার্থবাদী ও অহংকারীদের তৈরি করা শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার এমন কাঠামো বা প্রতিষ্ঠান যা সত্যকে রুখে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়। 
    فَكَأَيِّน (ফাকাআইয়িন) → আর কত শত / কত বিশাল সংখ্যকمِّن (মিন) → থেকে / মধ্য হতেقَرْيَةٍ (কারয়াতিন) → জনপদ, সমাজ-ব্যবস্থা বা সভ্যতাকেأَهْلَكْنَاهَا (আহলাকনাহা) → আমরা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিوَهِيَ (ওয়া হিয়া) → এই অবস্থায় যে, তারা নিজেরা ছিলظَالِمَةٌ (জালিমাতুন) → চরম জুলুমকারী, অত্যাচারী ও ভারসাম্যহীনতায় লিপ্তفَهِيَ (ফাহিয়া) → ফলে সেই সমাজ-ব্যবস্থাগুলো এখনخَاوِيَةٌ (খাওয়িয়াতুন) → সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত, উল্টে পড়া বা ধ্বসে যাওয়া অবস্থায় রয়েছেعَلَىٰ (আলা)তাদের নিজেদেরই উচ্চ স্তরের কাঠামো বা বুনিয়াদের ওপরعُرُوشِهَا (উরুশিহা) → সেগুলোর ছাদ, উচ্চ মহল বা ক্ষমতার উচ্চ স্তম্ভসমূহের ওপরوَبِئْرٍ (ওয়া বি’রিন)এবং জীবন ও প্রজ্ঞার মূল সঞ্জীবনী পানির সুপ্ত উৎস বা কুয়োসমূহمُّعَطَّلَةٍ (মুয়াত্তালাতিন) → যা এখন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত, অকেজো ও অচল হয়ে পড়ে আছে (মানুষ যখন প্রজ্ঞার মূল উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়)وَقَصْرٍ (ওয়া কাসরিন) → এবং ক্ষমতা ও অহংকারের সুউচ্চ প্রাসাদ বা সুরক্ষিত দুর্গসমূহمَّشِيدٍ (মাশীদের) → যা একসময় অত্যন্ত চুনকাম করা, মজবুত ও সুদৃঢ়ভাবে নির্মিত হয়েছিল।

Ayat 46

أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا أَوْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا ۖ فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَٰكِن تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ

তবে কি তারা এই পৃথিবী বা সামাজিক শাসন ও ক্ষমতার চত্বরে (فِي الْأَرْضِ) অবিরত পর্যবেক্ষণমূলক ভ্রমণ করেনি এবং ইতিহাসের গতিধারাকে গভীরভাবে খতিয়ে দেখেনি? ফলে অর্জিত হতো এমন এক সচেতন মানসিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেক (قُلُوبٌ), যার দ্বারা তারা আকল বা যুক্তি খাটিয়ে বিচার করতে পারত, অথবা অর্জিত হতো উপলব্ধি করার মতো গভীর মানসিক মনোযোগ (آذَانٌ), যার মাধ্যমে তারা সত্যের সুর অনুধাবন করতে পারত। কারণ মূলত আসল সত্য হলো এই যে, মানুষের বাহ্যিক বা শারীরিক চোখসমূহ অন্ধ বা বিকৃত হয় না; বরং আসল অন্ধত্ব ও বন্ধ্যাত্ব তৈরি হয় মানুষের বাহ্যিক রূপ ও সামাজিক পরিচয়ের সম্মুখভাগে (فِي الصُّدُورِ) অবস্থান করা মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কল্প ও বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্রগুলোর (الْقُلُوبُ)। (Al-Qulūbul latī fis-Sudūr)।”

Keywords:

  • يَسِيرُوا (Yasīrū): কেবল ভৌগোলিক ভ্রমণ নয়, বরং অতীত জাতির ঐতিহাসিক উত্থান-পতনের বাস্তব প্রমাণাদি ও মনস্তাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের গভীরে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচরণ।
  • يَعْقِلُونَ (Ya’qilūna): অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে যৌক্তিক কার্যকারণ বিশ্লেষণ করা, আবেগমুক্ত হয়ে সত্যকে বাঁধা বা ধারণ করা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। তারা আকল ও বুদ্ধিবৃত্তি খাটাত / যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে বিচার করত (Faculties of thinking, pondering and reasoning)
  • تَعْمَى الْقُلُوبُ (Ta’mal-Qulūb): মানুষের সচেতন বুদ্ধিবৃত্তিক মন ও চিন্তাশক্তির অসাড়তা, অন্ধত্ব বা বিবেকহীন দিশেহারা অবস্থা।
    أَفَلَمْ (আফালাম) → তবে কি তারা করেনি / অতএব কি তারা করেনি?
  • فِي (ফী) → মধ্যে / অভ্যন্তরে
  • الْأَرْضِ (আল-আরদি)এই পৃথিবী বা সামাজিক শাসন ও ক্ষমতার চত্বরে (ফাইল ২৬ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: শাসন-ক্ষমতা পরিচালনার চত্বর)
  • فَتَكُونَ (ফাতাকূনা) → ফলে অর্জিত হতো বা তারা পৌঁছাতে পারত এমন এক গন্তব্যে যেখানে
  • لَهُمْ (লাহুম) → তাদের নিজেদের জন্য / তাদের মধ্যে থাকত
  • قُلُوبٌ (কুলূবুন)মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কল্প, বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেক বা সচেতন মানসিকতা (ফাইল ১১ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Quloob’ হলো মানুষের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক কেন্দ্র, যা কেবল শারীরিক হৃৎপিণ্ড নয়)
  • بِهَا (বিহা) → এর দ্বারা / যার মাধ্যমে
  • أَوْ (আও) → অথবা / কিংবা
  • آذَانٌ (আযানুন)মনোযোগ দিয়ে শোনার চেতনা বা উপলব্ধি করার ক্ষমতা (ফাইল ৩ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘Azaan’ বলতে কেবল শারীরিক কান নয়, বরং গভীর ঘোষণা শোনার ও উপলব্ধি করার মানসিক মনোযোগ)
  • يَسْمَعُونَ (ইয়াসমাউনা) → তারা সত্যের সুর শুনত / অনুধাবন করতে পারত
  • بِهَا (বিহা) → এর দ্বারা / যার মাধ্যমে
  • فَإِنَّهَا (ফা ইন্নাহা) → কারণ মূলত আসল সত্য হলো এই যে
  • لَا (লা) → অন্ধ বা বিকৃত হয় না
  • تَعْمَى (তা’মা) → দৃষ্টিহীনতা বা অন্ধত্ব তৈরি হওয়া (ফাইল ১১-১২ নং পৃষ্ঠা অনুযায়ী: ‘A’amu/Umyun’ মানে আকল ও চিন্তাভাবনার বক্রতা বা অন্ধ অনুকরণে নিজের অনড় অবস্থান নেওয়া)
  • الْأَبْصَارُ (আল-আবসারু) → বাহ্যিক বা শারীরিক চোখসমূহ
  • وَلَٰكِن (ওয়া লাকিন) → বরং আসল অন্ধত্ব ও বন্ধ্যাত্ব তৈরি হয়
  • تَعْمَى (তা’মা) → অন্ধ বা বিকৃত হয়ে পড়ে
  • الْقُلُوبُ (আল-কুলূবু) → মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কল্প ও বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেই কেন্দ্রগুলো
  • الَّتِي (আল্লাতী) → যা কিছু অবস্থান করছে
  • فِي (ফী) → মধ্যে / অভ্যন্তরে
  • الصُّدُورِ (আস-সুদুরি) → মানুষের ভেতরের গোপন চিন্তাভাবনা, উদ্দেশ্য, কায়েমি স্বার্থ এবং মানসিক বাসনার মূল আধার বা বক্ষপঞ্জর।

Ayat 47

وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَلَن يُخْلِفَ اللَّهُ وَعْدَهُ ۚ وَإِنَّ يَوْمًا عِندَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ

“আর তারা তোমার কাছে (তাদের সেই স্বভাবসুলভ অধৈর্য ও তাড়াহুড়োর কারণে) জবাবদিহিতার চমৎকার ক্ষতিকর পরিণতি বা সেই চরম শাস্তির দ্রুত দাবি করছে; অথচ আল্লাহ তাঁর সুনিশ্চিত প্রতিশ্রুতি বা অলঙ্ঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়মের বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম বা খেলাফ করবেন না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর পরিমাপ ও আইন অনুসারে সুনিশ্চিত সামাজিক বা মহাজাগতিক রূপান্তরের একটি সুনির্দিষ্ট পর্যায় বা চক্রের সময়কাল (يَوْمًا), তোমরা নিজেদের সীমিত গণ্ডির ভেতরে যা কিছু গণনা বা হিসাব করে থাকো (تَعُدُّونَ), তার চেয়ে হাজার গুণের মতো এক বিশাল সুদীর্ঘ মেয়াদের তুল্য।”

Keywords:

  • بِالْعَذَابِ (‘Azāb): মানুষের কৃতকর্মের অবধারিত সামাজিক বা প্রাকৃতিক ধ্বংসাত্মক পরিণতি যা সত্য প্রত্যাখ্যানের ফলে নেমে আসে।
  • يَوْمًا (Yawman): আক্ষরিক ১২ বা ২৪ ঘণ্টার দিন নয়, বরং একটি বড় সামাজিক রূপান্তর, যুগের পরিবর্তন বা চূড়ান্ত ফলাফলের সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক পর্যায়। একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠিত পর্যায়, চক্র বা ঘটনার সময়কাল (‘Ayyam/Yaom’ হলো সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুনিশ্চিত সামাজিক বা মহাজাগতিক রূপান্তরের পর্যায়সমূহ)
    وَيَسْتَعْجِلُونَكَ (ওয়া ইয়াস্তাজিলূনাকা) → এবং তারা তোমার কাছে অধৈর্য হয়ে তাড়াহুড়ো করছে বা দ্রুত দাবি করছে ( ‘A’ajal/Tasta’jeluna’ হলো মানুষের অধৈর্য হয়ে দ্রুত পরিণতির দিকে ছুটে যাওয়ার স্বভাব)
  • بِالْعَذَابِ (বিল-আযাবি) → জবাবদিহিতার চমৎকার ক্ষতিকর পরিণতি বা সেই চরম শাস্তির
  • وَلَن (ওয়া লান) → এবং কখনোই করবেন না / বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম হবে না
  • يُخْلِفَ (ইউখলিফা) → ভঙ্গ করা বা খেলাফ করা
  • اللَّهُ (আল্লাহা) → আল্লাহ
  • وَعْدَهُ (ওয়াদাহু) → তাঁর সুনিশ্চিত প্রতিশ্রুতি বা অলঙ্ঘনীয় প্রাকৃতিক নিয়মকে
  • وَإِنَّ (ওয়া ইন্না) → এবং নিশ্চয়ই
  • يَوْمًا (ইয়াওমান)
  • عِندَ (ইন্দা) → সমীপে / পরিমাপে বা আইন অনুসারে
  • رَبِّكَ (রাব্বিকা) → তোমার প্রতিপালক ও বিকাশকারী সত্তার
  • كَأَلْفِ (কা-আলফি) → হাজার গুণের মতো / এক বিশাল সুদীর্ঘ মেয়াদের তুল্য
  • سَنَةٍ (সানাতিন) → বছরের / সময়ের আবর্তনের বা চক্রের
  • مِّمَّا (মিম্মা) → তা থেকে যা কিছু
  • تَعُدُّونَ (তাউদ্দূনা)তোমরা গণনা বা হিসাব করে থাকো (‘Ma’dudat/Ta’uddun’ হলো মানুষের তৈরি সীমিত গণ্ডির হিসাব, সিদ্ধান্ত বা ধারণা)

Ayat 48

وَكَأَيِّن مِّন قَرْيَةٍ أَمْلَيْتُ لَهَا وَهِيَ ظَالِمَةٌ ثُمَّ أَخَذْتُهَا وَإِلَيَّ الْمَصِيرُ

আর কত শত জনপদ, সমাজ-ব্যবস্থা ও সভ্যতাকে আমরা (তাদের সংশোধনের স্বার্থে) সাময়িক অবকাশ বা ঢিল দিয়েছিলাম এই অবস্থায় যে—তারা নিজেরা ছিল চরম জুলুম ও ভারসাম্যহীনতায় লিপ্ত; অতঃপর পরবর্তী ধাপে আমরা তাকে তার নিজেরই কৃতকর্মের জালে গ্রাস বা পাকড়াও করেছিলাম, এবং একমাত্র আমারই আইনি ব্যবস্থার কাছেই রয়েছে চূড়ান্ত গন্তব্য ও অবধারিত শেষ রূপান্তর।

Keywords:

  • أَمْلَيْتُ (Amlaytu): সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের তাৎক্ষণিক ধ্বংস না করে তাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও কর্মের চূড়ান্ত প্রকাশের জন্য দীর্ঘ সময় বা সুযোগ দেওয়া। সাময়িক অবকাশ
    وَكَأَيِّن (ওয়া কাআইয়িন) → আর কত শত / কত বিশাল সংখ্যক
  • مِّن (মিন) → থেকে / মধ্য হতে
  • قَرْيَةٍ (কারয়াতিন) → জনপদ, সমাজ-ব্যবস্থা বা সভ্যতাকে
  • لَهَا (লাহা) → তার কল্যাণের বা সংশোধনের স্বার্থে / তাকে
  • وَهِيَ (ওয়া হিয়া) → এই অবস্থায় যে, তারা নিজেরা ছিল
  • ظَالِمَةٌ (জালিমাতুন) → চরম জুলুমকারী, অত্যাচারী ও ভারসাম্যহীনতায় লিপ্ত
  • ثُمَّ (ছুম্মা) → অতঃপর / পরবর্তী ধাপে
  • أَخَذْتُهَا (আখাযতুহা) → আমরা তাকে গ্রাস বা পাকড়াও করেছিলাম (তার নিজেরই কৃতকর্মের জালে তাকে আবদ্ধ করেছিলাম)
  • وَإِلَيَّ (ওয়া ইলাইয়া) → এবং একমাত্র আমারই দিকে / আমার আইনি ব্যবস্থার কাছেই
  • الْمَصِيرُ (আল-মাসীরু) → চূড়ান্ত গন্তব্য, ফিরে আসা বা শেষ অবধারিত রূপান্তর। কোনো কর্ম বা ব্যবস্থার ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়ে তার চূড়ান্ত গন্তব্য, পরিণতি বা মূল উৎসের দিকে ফিরে যাওয়া।

Ayat 49

قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ نَذِيرٌ مُّبِينٌ

স্পষ্ট ঘোষণা করো, “হে সমগ্র মানবজাতি! আমি তো কেবল তোমাদের জন্য একজন অত্যন্ত পরিষ্কার, প্রকাশ্য ও সুনির্দিষ্ট সতর্ককারী এবং আসন্ন বিপদের যৌক্তিক চিত্র উপস্থাপনকারী।”

  • نَذِيرٌ (Nazīr): এমন পথপ্রদর্শক যিনি কোনো ব্যক্তি বা সমাজকে তার ভুল সিদ্ধান্ত ও কুপ্রবৃত্তির অবধারিত ও ভয়ঙ্কর কুফল সম্পর্কে অকাট্য যুক্তি দিয়ে আগেই সতর্ক করেন।
  • مُّبِينٌ (Mubīn): যা কোনো অস্পষ্টতা বা রহস্য ছাড়াই একদম প্রকাশ্য, প্রাঞ্জল, চাক্ষুষ ও যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রমাণিত।قُلْ (কুল) → তুমি স্পষ্ট ঘোষণা করো / স্পষ্ট বলোيَا أَيُّهَا (ইয়া আইয়ুহা) → হে তোমরা যারা!النَّاسُ (আন্-নাসু) → সমগ্র মানবজাতি / সর্বস্তরের মানুষ!إِنَّمَا (ইন্নামা) → কেবল মাত্র / নিশ্চয়ইأَنَا (আনা) → আমি নিজেلَكُمْ (লাকুম) → তোমাদের নিজেদের কল্যাণের স্বার্থে / তোমাদের জন্যنَذِيرٌ (নাযীরুন) → একজন স্পষ্ট সতর্ককারী / আসন্ন বিপদের যৌক্তিক চিত্র উপস্থাপনকারী (‘Injeel/Nazeer’ মানে সতর্কবাণী ও নিয়ম লঙ্ঘনের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করা)مُبِينٌ (মুবীনুন) → যা অত্যন্ত পরিষ্কার, প্রকাশ্য ও সুনির্দিষ্ট।

Ayat 50

فَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ

“সুতরাং যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে পরম মানসিক শান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে (Āmanū) এবং সমাজে ভারসাম্য ও সংশোধনমূলক কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করেছে ('Amilus-Sālihāt), তাদের নিজেদের জন্য রয়েছে ভুল পথের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সার্বিক সুরক্ষা (Maghfirah) এবং একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক লালন ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের ব্যবস্থা (Rizqun Karīm)।”

  • الصَّالِحَاتِ (As-Sālihāt): এমন সমস্ত গঠনমূলক ও সংশোধনমূলক কর্ম যা সমাজের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মানবীয় ত্রুটি দূর করে সমাজকে সুস্থির করে।
  • مَّغْفِرَةٌ (Maghfirah): মানুষের মানসিক বা সামাজিক বিকৃতি, পঙ্কিলতা ও ভুলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা বা ঢাল দেওয়া।
  • رِزْقٌ كَرِيمٌ (Rizqun Karīm): মানুষের আত্মিক, নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনাকে উন্নত করার জন্য আল্লাহর দেওয়া অত্যন্ত উচ্চমানের ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞানতাত্ত্বিক পুষ্টি বা লালন-ব্যবস্থা।
    فَالَّذِينَ (ফাল-লাযীনা) → অতঃপর তাদের মধ্যে যারাآمَنُوا (আমানূ) → ইমান এনেছে / আকল ও ইলম ব্যবহার করে সত্যের প্রতি গভীর প্রত্যয় স্থাপন করেছেوَعَمِلُوا (ওয়া আমিলূ) → এবং বাস্তব জীবনে অবিরাম সম্পাদন করেছেالصَّالِحَاتِ (আস-সালিহাতি) → ভারসাম্য রক্ষা ও সমাজ সংস্কারের সৎকর্মসমূহلَهُم (লাহুম) → তাদের নিজেদের জন্য / তাদের ভাগ্যে রয়েছেمَّغْفِرَةٌ (মাগফিরাতুন)ত্রুটি ও বিচ্যুতির কুফল থেকে সার্বিক সুরক্ষা, প্রলেপ বা ঢাল( ‘Ghaffar/Maghfirat’ হলো ভুল পথের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার কুশলতা)وَرِزْقٌ (ওয়া রিযকুন) → এবং রিযক / ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র বিকাশের সর্বপ্রকার উপায় ও মাধ্যমكَرِيمٌ (কারীমুন) → যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, সম্মানিত, প্রাচুর্যময় ও উদার।

Ayat 51

وَالَّذِينَ سَعَوْا فِي آيَاتِنَا مُعَاجِزِينَ أُوْلَٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ

“আর যারা আমার দেওয়া নিদর্শনসমূহ বা অকাট্য বিধি-বিধানগুলোকে (Āyātinā) ব্যর্থ বা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার জন্য চরম অপচেষ্টা ও দৌড়ঝাঁপ করে (Sa'aw... Mu'ājazīna), তারাই হলো তীব্র মানসিক দহন, অনুশোচনা ও ধ্বংসাত্মক আগুনের স্থায়ী বাসিন্দা (As-hābul Jahīm)।”

Keywords:

  • آيَاتِنَا (Āyātinā): আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক নিদর্শনসমূহ এবং কিতাবের সুনির্দিষ্ট সুবিন্যস্ত বাণী বা আইনি অনুশাসনমালা।
  • مُعَاجِزِينَ (Mu’ājazīna): আল্লাহর দেওয়া চিরন্তন সত্য ও প্রাকৃতিক নিয়মাবলিকে মানুষের মনগড়া যুক্তি বা অপকৌশল দিয়ে দুর্বল, অকেজো বা পরাভূত করার হীন চেষ্টা করা।
  • الْجَحِيمِ (Al-Jahīm): তীব্র উত্তাপ বা আগুন; মনস্তাত্ত্বিক পরিভাষায় এটি মানুষের ভেতরের চরম হতাশা, ক্ষোভ, অনুশোচনা এবং অশান্তির এক ভয়ঙ্কর নরকসদৃশ দহনাবস্থা।

Please carefully review the semantic rendering and linguistic flow of these five verses. If any phrasing requires further adjustment or alignment with a specific root property from the files, let me know the precise word, and we will update it. Otherwise, let me know if we are ready to move onto verses 52 to 57!

yes

Ayat 52

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّىٰ أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

“এবং তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো বাণীবাহক (Rasūl) কিংবা সংবাদদাতাকে (Nabiyy) প্রেরণ করিনি, যে যখনই কোনো মহান উদ্দেশ্য বা আদর্শিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষা করেছে (Tamannā), তখনই শয়তানি শক্তি বা কায়েমি স্বার্থবাদী মানসিকতা তার সেই আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের মধ্যে বিভ্রান্তিকর উপাদান বা নিজস্ব এজেন্ডা নিক্ষেপ করেছে (Alqash-Shaytānu fī Umniyyatihī); অতঃপর শয়তান যা কিছু নিক্ষেপ করে, আল্লাহ তাঁর প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়মে সেটিকে সম্পূর্ণরূপে অপসারিত বা বাতিল করে দেন (Fayansakhullāhu mā yulqish-Shaytān), অতঃপর আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ বা অকাট্য বিধি-বিধানগুলোকে সুদৃঢ় ও সুপ্রতিষ্ঠিত করেন (Thumma Yuhkimullāhu Āyātihī); আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম প্রজ্ঞাময়।”

Keywords:

  • تَمَنَّىٰ / أُمْنِيَّتِهِ (Tamannā / Umniyyah): কেবল কাল্পনিক বাসনা নয়, বরং একটি আদর্শিক রূপরেখা, শাসনতান্ত্রিক নকশা বা সমাজ পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট দূরদর্শী লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা।
  • الشَّيْطَانُ (Ash-Shaytān): মানুষের ভেতরের উগ্র অহংকার, কুপ্রবৃত্তি এবং সমাজের কায়েমি স্বার্থান্বেষী বিদ্রোহী শক্তি যা সত্যকে বিকৃত করতে চায়।
  • فَيَنسَخُ (Fayansakhu): কোনো বিকৃতি, বাতিল উপাদান বা ভুল ধারণাকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা, নাকচ করা এবং সঠিক আইন দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা।
  • يُحْكِمُ (Yuhkimu): কোনো বিধি-বিধান বা আইনকে সমস্ত প্রকার ত্রুটি ও দুর্বলতা থেকে মুক্ত করে চূড়ান্তভাবে সুদৃঢ়, অকাট্য ও অপরিবর্তনীয় করা।

Ayat 53

لِّيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةً لِّلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ ۗ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ

“এটি এই জন্য যে, শয়তান যা কিছু নিক্ষেপ করে, সেটিকে তিনি একটি চরম পরীক্ষা বা মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা (Fitnah) হিসেবে দাঁড় করান তাদের জন্য—যাদের সচেতন মনে বা চিন্তাশক্তিতে ব্যাধি রয়েছে (Fī Qulūbihim Marad) এবং যাদের মন অহংকারে অত্যন্ত কঠিন ও পাথরের মতো অনুভূতিহীন হয়ে গেছে (Al-Qāsiyati Qulūbuhum); আর নিশ্চয়ই এই ভারসাম্যহীন অন্যায়কারীরা (Zālimīn) সত্যের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক সুদূরপ্রসারী বিরোধ ও চরম ভাঙনের মধ্যে লিপ্ত রয়েছে।”

Keywords:

  • فِتْنَةً (Fitnah): এমন পরিস্থিতি বা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব যা মানুষের ভেতরের আসল মানসিকতা, সততা বা খামতিকে প্রকাশ করে দেয়; এক প্রকার যাচাইকরণ পরীক্ষা।
  • مَّرَضٌ (Marad): সন্দেহ, কপটতা, মানসিক দোদুল্যমানতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার কারণে তৈরি হওয়া মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা।
  • شِقَاقٍ (Shiqāq): সত্য এবং ন্যায়ের মূল ভিত্তি থেকে ছিটকে গিয়ে নিজেদের মধ্যে দল উপদলে বিভক্ত হওয়া এবং চরম শত্রুতামূলক ভাঙন তৈরি করা।

Ayat 54

وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ ۗ وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

“এবং যাতে তারা—যাদেরকে প্রকৃত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে (Ūtul-'Ilma), তারা সুস্পষ্ঠভাবে অনুধাবন করতে পারে যে এটিই তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত অকাট্য বাস্তব সত্য (Al-Haqq), অতঃপর তারা এর প্রতি পূর্ণ মানসিক শান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে (Fayu'minū bihī), ফলে তাদের সচেতন মন বা বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র এর সামনে অহংকারমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণরূপে অনুগত ও বিনম্র হয়ে যায় (Fatukhbita lahū Qulūbuhum); আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের—যারা দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে, একটি সুষম, সোজা ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত পথের দিকে হিদায়াত বা পথপ্রদর্শন করেন (Sirātim Mustaqīm)।”

Keywords:

  • الْحَقُّ (Al-Haqq): পরম সত্য, অকাট্য বাস্তবতা, যা চিরন্তন এবং যা যার প্রাপ্য বা যার যে দায়িত্ব তা সুনির্দিষ্টকারী আইনি বিধান।
  • فَتُخْبِتَ (Fatukhbita): ভেতরের সমস্ত অহংকার, জেদ ও গোঁড়ামি ভেঙে ফেলে সত্যের সামনে সম্পূর্ণ বিনয়ী, শান্ত, অনুগত ও সমর্পিত হওয়া।
  • صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ (Sirātim Mustaqīm): এমন এক সুষম ও সোজা জীবনবিধান বা পথ, যা কোনো ডানে-বামে বিচ্যুতি ছাড়াই মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।

Ayat 55

وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي مِرْيَةٍ مِّنْهُ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً أَوْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَقِيمٍ

“আর যারা সত্যকে জেনেবুঝে আড়াল বা অস্বীকার করেছে (Kafarū), তারা সর্বদা এর প্রতি এক ক্ষতিকর সন্দেহ, সংশয় ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যেই লিপ্ত থাকবে (Fī Miryatim minhu), যতক্ষণ না তাদের ওপর সেই অবধারিত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মুহূর্ত বা মহাসংকট আকস্মিকভাবে আপতিত হয় (As-Sā'atu Baghtatan), অথবা তাদের ওপর এমন এক চরম পরিণতির দিন বা পর্যায় নেমে আসে যা তাদের সমস্ত সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ্যা বা নিষ্ক্রিয় করে দেয় ('Azābu Yawmin 'Aqīm)।”

Keywords:

  • مِرْيَةٍ (Miryah): এমন জেদ ও অহংকার মিশ্রিত অহেতুক সন্দেহ, যা মানুষকে সত্য গ্রহণ করতে বাধা দেয় এবং মানসিক অস্থিরতায় রাখে।
  • السَّاعَةُ (As-Sā’ah): একটি সুনির্দিষ্ট ও অবধারিত সময়কাল; ধারণাগতভাবে এটি কায়েমি স্বার্থবাদীদের পতন এবং সত্যপন্থীদের উত্থানের সেই চূড়ান্ত বৈপ্লবিক বা শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের মুহূর্ত।
  • عَقِيمٍ (‘Aqīm): আক্ষরিক অর্থে ‘বন্ধ্যা’ বা ‘নিষ্ফলা’; শাসনতান্ত্রিক পরিভাষায় এমন এক চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক পরিণতি যা শত্রুদের সমস্ত শক্তি, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়।

Ayat 56

الْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ لِّلَّهِ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ ۚ فَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ

“সেই সুনির্দিষ্ট বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিনে (Yawma'izin) সমস্ত সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও চূড়ান্ত শাসনক্ষমতা থাকবে কেবল আল্লাহরই একক নিয়ন্ত্রণে (Al-Mulku lillāh); তিনি তাদের মাঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও মীমাংসা জারি করবেন। সুতরাং যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছে (Āmanū) এবং সমাজে সংশোধনমূলক কল্যাণকর কর্ম সম্পাদন করেছে ('Amilus-Sālihāt), তারা চিরস্থায়ী সুখ, সমৃদ্ধি ও পরম স্বাচ্ছন্দ্যের সুউচ্চ স্তরে (Jannātin-Na'īm) অবস্থান করবে।”

Keywords:

  • الْمُلْكُ (Al-Mulk): সার্বভৌম ক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব, মালিকানা এবং সমাজ পরিচালনার চূড়ান্ত আইনি নিয়ন্ত্রণ।
  • جَنَّاتِ النَّعِيمِ (Jannātin-Na’īm): এমন এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, প্রাচুর্য ও পরম শান্তির অবস্থা যা আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার ফলে মানুষ লাভ করে।

Ayat 57

وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَأُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ

“আর যারা সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরেও তা ঢেকে রেখেছে (Kafarū) এবং আমার দেওয়া অকাট্য বিধি-বিধান ও নিদর্শনগুলোকে সরাসরি অস্বীকার করেছে (Kazzabū bi-Āyātinā), তাদের জন্য রয়েছে এক চরম অপমানজনক ও মর্যাদাহানিকর ধ্বংসাত্মক পরিণতি ('Azābum Muhīn)।”

Keywords:

  • مُّهِينٌ (Muhīn): যা কোনো ব্যক্তি বা দাম্ভিক সমাজকে তার চরম অহংকার থেকে টেনে নামিয়ে সম্পূর্ণ লাঞ্ছিত, অপদস্থ ও মূল্যহীন করে দেয়।

দয়া করে এই আয়াতগুলোর শব্দার্থিক ধারাবাহিকতা এবং অনুবাদ বিন্যাসটি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করুন। কোনো বাক্যাংশ বা শব্দমূলকে আরও নিখুঁত করতে চাইলে দয়া করে নির্দিষ্ট অংশটি নির্দেশ করুন। অন্যথায়, আমরা কি এর পরবর্তী আয়াত ৫৮ থেকে ৬২ পর্যন্ত অগ্রসর হব?

৫৮ থেকে 72

Ayat 58

وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوا أَوْ مَاتُوا لَيَرْزُقَنَّهُمُ اللَّهُ رِزْقًا حَسَنًا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

“আর যারা আল্লাহর সুনির্দিষ্ট পথের উদ্দেশ্যে নিজেদের চেনা পরিবেশ, কায়েমি স্বার্থ ও পুরোনো মানসিকতা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করেছে (Hājarū), অতঃপর সত্যের দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে (Qutilū) কিংবা স্বাভাবিক নিয়মে তাদের কর্মকালের সমাপ্তি ঘটেছে (Mātū), আল্লাহ অবশ্যই তাদের এক সর্বোত্তম মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক লালন এবং পরম পুষ্টি ব্যবস্থা দান করবেন (Layarzuqannahumullāhu Rizqan Hasanā); আর নিশ্চয়ই আল্লাহ হলেন লালন ও বিকাশ-ব্যবস্থা দানকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।”

Keywords:

  • هَاجَرُوا (Hājarū): কেবল ভৌগোলিক হিজরত নয়, বরং সত্যকে ধারণ করার জন্য নিজের পুরোনো অভ্যাস, কুসংস্কার, সমাজ ও মানসিকতাকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করে সত্যের দিকে যাত্রা করা।
  • قتِلُوا (Qutilū): সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের মানসিক বা শারীরিক আক্রমণে বিপর্যস্ত, অচল বা বিধ্বস্ত হওয়া।
  • رِزْقًا حَسَنًا (Rizqan Hasanā): মানুষের মানসিকতা, মেধা ও চরিত্রকে উন্নত ও সুসংগত করার জন্য আল্লাহর দেওয়া সর্বোত্তম জ্ঞানতাত্ত্বিক পুষ্টি ও লালন-উপাদান।

Ayat 59

لَيُدْخِلَنَّهُم مُّدْخَلًا يَرْضَوْنَهُ ۗ وَإِنَّ اللَّهَ لَعَلِيمٌ حَلِيمٌ

“তিনি অবশ্যই তাদেরকে এমন এক সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক স্তরে প্রবেশ করাবেন, যা তাদেরকে সম্পূর্ণ তৃপ্ত ও সন্তুষ্ট করবে (Mudkhalany Yardawnahū); আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম সহনশীল ও সুগভীর ধৈর্যশীল।”

Keywords:

  • يَرْضَوْنَهُ (Yardawnahū): এমন এক অভ্যন্তরীণ সন্তুষ্টি, মানসিক শান্তি ও পরম স্থিতি যেখানে মানুষের চেতনা আর কোনো সংশয় বা অতৃপ্তিতে ভোগে না।

Ayat 60

ذَٰلِكَ وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنصُرَنَّهُ اللَّهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌ

“এটাই বাস্তব। আর যে কেউ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়ের বিপরীতে ঠিক সমপরিমাণ প্রতিরোধ বা আইনি প্রতিবিধান নিশ্চিত করে ('Āqaba bimithli mā 'ūqiba bihī), অতঃপর আবারও তার ওপর সীমালঙ্ঘন বা নিপীড়ন চালানো হয় (Bughiya 'alayhi), আল্লাহ অবশ্যই তাকে তাঁর প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়মে বিজয়ী বা সাহায্য করবেন (Layansurannahullāhu); নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম মার্জনাকারী ও সমস্ত ত্রুটির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষাদাতা।”

Keywords:

  • عَاقَبَ (‘Āqaba): কোনো অন্যায় বা অপরাধের সমপরিমাণ ও ন্যায়সঙ্গত আইনি প্রতিবিধান বা ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা।
  • بُغِيَ (Bughiya): নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা, অন্যের অধিকার খর্ব করা বা অন্যায়ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিপীড়ন চালানো।

Ayat 61

ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَأَنَّ اللَّהَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ

“এটি এই কারণে যে, আল্লাহ (তাঁর মহাজাগতিক ও সামাজিক নিয়মে) রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান (অর্থাৎ তিনি অন্ধকার পর্যায়কে আলো দ্বারা এবং আলোর পর্যায়কে অন্ধকার দ্বারা ধাপে ধাপে প্রতিস্থাপিত করেন); আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও প্রত্যক্ষ করেন।”

Keywords:

  • يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ (Yūlijul-Layla fin-Nahār): সমাজ ও প্রকৃতির বিবর্তন প্রক্রিয়া, যেখানে অজ্ঞানতা ও জুলুমের অন্ধকার পর্যায় সুসংগত জ্ঞান ও ন্যায়ের আলো দ্বারা ক্রমান্বয়ে অপসারিত হয়।

Ayat 62

ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ

“এটি এই জন্য যে, আল্লাহই হলেন একমাত্র পরম ও অকাট্য বাস্তব সত্য (Al-Haqq), আর তাঁর বিধান ব্যতিরেকে তারা অন্য যাদেরকে বা যা কিছুকে কর্তৃত্বের জন্য আহ্বান করে, তা সবই সম্পূর্ণ অসাড় ও মিথ্যা (Al-Bātil); আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সুউচ্চ মর্যাদাবান, পরম মহান।”

Keywords:

  • الْبَاطِلُ (Al-Bātil): যা অবাস্তব, ক্ষণস্থায়ী, যার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই এবং যা সমাজ বা মানুষের জীবনে কোনো স্থায়ী সুফল দিতে পারে না।

Ayat 63

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَتُصْبِحُ الْأَرْضُ مُخْضَرَّةً ۗ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ

“তুমি কি গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করোনি যে, আল্লাহ উচ্চ জ্ঞান ও সুরক্ষার স্তর থেকে পুষ্টিকর জীবন-উপকরণ বা কিতাবের বাণী বর্ষণ করেন (Anzala minas-Sāmā'i Mā'an), যার ফলে মানুষের ভেতরের সুপ্ত মেধা ও সমাজ জীবনের উর্বর ক্ষেত্রটি সম্পূর্ণ সজীব, সবুজ ও উৎপাদনশীল হয়ে ওঠে (Mukhdarratan); নিশ্চয়ই আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।”

Keywords:

  • مُخْضَرَّةً (Mukhdarratan): কিতাবের ঐশী পুষ্টি পেয়ে মানুষের চিন্তাজগত এবং সমাজ কাঠামোর সজীব, ভারসাম্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠা।

Ayat 64

لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ

“উচ্চ নৈতিক ও মহাজাগতিক স্তরে যা কিছু রয়েছে এবং এই বাস্তব পৃথিবীর বুকে যা কিছু বিদ্যমান, তার সমস্ত কিছুর মালিকানা ও কর্তৃত্ব কেবল তাঁরই; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সম্পূর্ণ পরমুখাপেক্ষীহীন, পরম প্রশংসিত।”


Ayat 65

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي الْأَرْضِ وَالْفُلْكَ تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِأَمْرِهِ وَيُمْسِكُ السَّمَاءَ أَن تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ

“তুমি কি লক্ষ্য করোনি যে, পৃথিবীর বুকে যা কিছু আছে সেগুলোকে আল্লাহ তোমাদের জন্য সুসংগত ও কার্যোপযোগী করে দিয়েছেন (Sakkhara lakum), এবং তাঁরই সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রাকৃতিক অনুশাসনে সামাজিক বা অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বে ও সমাজ-সমুদ্রে সমস্ত বড় বড় নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বা চালিকাশক্তিগুলো সচল থাকে (Al-Fulka tajrī fil-Bahri bi-Amrihī); আর তিনি উচ্চ সুরক্ষামূলক আদর্শকে সুদৃঢ় রাখেন যেন তা সামাজিক বিপর্যয়ের কারণে বিশৃঙ্খল মাটিতে ভেঙে না পড়ে, তবে তাঁর দেওয়া আইনি অনুমতি বা প্রাকৃতিক নিয়ম ব্যতিরেকে নয়; নিশ্চয়ই আল্লাহ মানবজাতির প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।”

Keywords:

  • وَالْفُلْكَ (Al-Fulk): আক্ষরিক অর্থে ‘নৌযান’ হলেও সামাজিক পরিভাষায় এটি এমন সুশৃঙ্খল মতাদর্শ, সামাজিক দল বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান যা মানুষের প্রয়োজন পূরণের জন্য সমাজ-সমুদ্রে সচল থাকে।
  • بِأَمْرِهِ (Bi-Amrihī): আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট আইনি অনুশাসন, ডিক্রি বা প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে।

Ayat 66

وَهُوَ الَّذِي أَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ۗ إِنَّ الْإِنسَانَ لَكَفُورٌ

“আর তিনিই তোমাদের জড়তা ও অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সচেতন জীবন বা বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা দান করেছেন (Ahyākum), অতঃপর তিনি তোমাদের কর্মকালের সমাপ্তি ঘটান, এবং (বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে) পুনরায় তোমাদের এক নতুন সজীব জীবন দান করবেন; নিশ্চয়ই মানুষ চরম অকৃতজ্ঞ ও সত্য গোপনকারী।”

Keywords:

  • أَحْيَاكُمْ (Ahyākum): পশুবৃত্তির জড়তা ও মানসিক অজ্ঞতা দূর করে মানুষকে জ্ঞান ও বিবেকের আলো দিয়ে সজীব ও সচেতন করা।

Ayat 67

لِّكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ ۖ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ ۚ وَادْعُ إِلَىٰ رَبِّكَ ۖ إِنَّكَ لَعَلَىٰ هُدًى مُّسْتَقِيمٍ

“প্রত্যেকটি আদর্শিক ভিত্তিমূল বা মানবগোষ্ঠীর জন্য আমি এক একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি যা তারা নিজস্ব সামাজিক জীবনে কার্যকর করে (Mansakan hum nāsikūhu); সুতরাং তারা যেন এই পরম সত্যের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তোমার সাথে কোনো বিবাদ বা বিতর্ক তৈরি না করে (Falā yunāzi'unnaka fil-Amr); আর তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের বিধানের দিকে আহ্বান করো, নিশ্চয়ই তুমি এক সুদৃঢ় ও সোজা পথনির্দেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত।”

Keywords:

  • مَنسَكًا (Mansak): সমাজ গঠন ও পরিচালনার সুনির্দিষ্ট সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মপদ্ধতি বা জীবনধারা।

Ayat 68

وَإِن جَادَلُوكَ فَقُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ

“এবং তারা যদি (জেদ ও অহংকারবশত) তোমার সাথে অহেতুক বিতর্ক বা ঝগড়ায় লিপ্ত হয় (Jādalūka), তবে তুমি বলে দাও: তোমরা যা কিছু করছ, সে সম্পর্কে আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।”

Keywords:

  • جَادَلُوكَ (Jādalūka): সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা না রেখে কেবল নিজের গোঁড়ামি ও কায়েমি স্বার্থ রক্ষার্থে অহংকার মিশ্রিত যুক্তির মারপ্যাঁচ তৈরি করা।

Ayat 69

اللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كُنتُ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ

“তোমরা যে সমস্ত বিষয়ে নিজেদের মধ্যে চরম মতবিরোধ ও বিভেদ তৈরি করছ (Takhtalifūna), সেই সুনির্দিষ্ট বৈপ্লবিক উত্থান ও চূড়ান্ত ফলাফলের দিনে (Yawmal-Qiyāmah) আল্লাহ তোমাদের মাঝে চূড়ান্ত রায় ও মীমাংসা জারি করবেন।”

Keywords:

  • يَوْمَ الْقِيَامَةِ (Yawmal-Qiyāmah): আক্ষরিক পুনরুত্থান দিবসের পাশাপাশি ধারণাগতভাবে এটি সত্য ও মিথ্যার চূড়ান্ত দ্বন্দ্বে সত্যপন্থীদের সুদৃঢ় উত্থান, কায়েমি স্বার্থবাদীদের পতন এবং কর্মের অবধারিত ফলাফল প্রকাশের পর্যায়।

Ayat 70

أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّהَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۗ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَابٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ

“তুমি কি জানো না যে, উচ্চ নৈতিক বা মহাজাগতিক স্তরে এবং এই বাস্তব পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তার সমস্ত কিছুই আল্লাহ সুস্পষ্ঠভাবে জানেন? নিশ্চয়ই এই সমস্ত কিছু এক সুনির্দিষ্ট সুরক্ষিত মহাফেজখানায় বা নিয়মের বিধিবদ্ধ কিতাবে নিবন্ধিত রয়েছে (Fī Kitāb); নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ।”

Keywords:

  • كِتَابٍ (Kitāb): আল্লাহর দেওয়া কিতাব এবং মহাবিশ্বের সমস্ত তথ্য ও কর্মের অবধারিত ফলাফল ধারণকারী সুরক্ষিত ঐশী প্রাকৃতিক নিয়ম-ব্যবস্থা।

Ayat 71

وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَمَا لَيْسَ لَهُم بِهِ عِلْمٌ ۗ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِن نَّصِيرٍ

“অথচ তারা আল্লাহর চূড়ান্ত আইনকে বর্জন করে অন্য এমন কিছুর দাসত্ব ও অন্ধ অনুসরণ করে (Ya'budūna), যার সপক্ষে আল্লাহ কোনো অকাট্য প্রমাণ, দলিল বা কর্তৃত্ব অবতীর্ণ করেননি (Sultānan) এবং যে বিষয়ে তাদের নিজেদেরও কোনো সঠিক জ্ঞান বা প্রজ্ঞা নেই; আর এই ভারসাম্যহীন অন্যায়কারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী বা উদ্ধারকারী থাকবে না।”

Keywords:

  • يَعْبُدُونَ (Ya’budūna): আল্লাহর দেওয়া আইন ছেড়ে অন্য কোনো মনগড়া প্রথা, মানুষের তৈরি আইন বা নিজের কুপ্রবৃত্তির নিঃশর্ত দাসত্ব ও অন্ধ আনুগত্য করা।
  • سُلْطَانًا (Sultānan): অকাট্য যৌক্তিক প্রমাণ, সুস্পষ্ঠ শাসনতান্ত্রিক আইনি দলিল বা এমন কর্তৃত্ব যা কোনো সত্যকে অকাট্যভাবে প্রমাণ করে।

Ayat 72

وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ تَعْرِفُ فِي وُجُوهِ الَّذِينَ كَفَرُوا الْمُنكَرَ ۖ يَكَادُونَ يَسْطُونَ بِالَّذِينَ يَتْلُونَ عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا ۗ قُلْ أَفَأُنَبِّئُكُم بِشَرٍّ مِّن ذَٰلِكُمْ ۖ النَّارُ وَعَدَهَا اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

“এবং যখন তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ঠ ও চাক্ষুষ আয়াত বা আইনি অনুশাসনসমূহ ধারাবাহিক বিশ্লেষণ করে শোনানো হয় (Tutlā 'alayhim Āyātunā Bayyināt), তখন যারা সত্যকে আড়াল বা অস্বীকার করেছে তাদের চেহারায় ও অভিব্যক্তিতে তুমি এক চরম অস্বীকৃতি, ক্ষোভ ও অসন্তোষের কালো ছায়া দেখতে পাবে (Al-Munkar); যারা তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করে, তারা যেন তাদের ওপর হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্যত হয়! তুমি বলো: আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর কোনো পরিণতির সংবাদ দেব? তা হলো তীব্র মানসিক দহন ও ধ্বংসের আগুন (An-Nār), যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের দিয়েছেন; আর তা কতই না নিকৃষ্ট চূড়ান্ত গন্তব্য!”

Keywords:

  • الْمُنكَرَ (Al-Munkar): সত্যের সামনে মানুষের কুপ্রবৃত্তি ও কায়েমি স্বার্থে আঘাত লাগার ফলে তৈরি হওয়া তীব্র মানসিক অস্বীকৃতি ও অসন্তোষ।
  • النَّارُ (An-Nār): আক্ষরিক আগুন; মনস্তাত্ত্বিক পরিভাষায় এটি সত্যের বিরোধিতা করার ফলে মানুষের নিজের ভেতরে তৈরি হওয়া তীব্র ক্রোধ, হিংসা, অশান্তি ও অনুশোচনার ভয়ঙ্কর দহনাবস্থা।


Ayat 73

يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ ۚ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَن يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوْ اجْتَمَعُوا لَهُ ۖ وَإِن يَسْلَبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَّا يَسْتَنقِذُوهُ مِنْهُ ۚ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ

“হে মানবসমাজ! একটি সুনির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত বা বাস্তব সমীকরণ উপস্থাপন করা হলো, সুতরাং তোমরা তা গভীর মনোযোগের সাথে অবধান করো; নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ছেড়ে তোমরা অন্য যাদেরকে বা যা কিছুকে নিজেদের কর্তৃত্ব ও আশ্রয়ের জন্য আহ্বান করো, তারা সবাই একত্রিত হয়ে চেষ্টা করলেও একটি অতি ক্ষুদ্র ভাসমান ও চঞ্চল সত্তা বা মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না (Lan yakhluqū zubābā)। এমনকি সেই মাছিটি যদি তাদের নিকট থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে বা হরণ করে নিয়ে যায়, তবে তার কাছ থেকে সেটি উদ্ধার বা পুনরুদ্ধার করার সামর্থ্যও তাদের নেই; প্রকৃতপক্ষে হরণকারী বা অন্বেষণকারী এবং যার নিকট অন্বেষণ করা হচ্ছে—উভয় পক্ষই অত্যন্ত অসাড় ও ক্ষমতাহীন।” 

Keywords:

  • ذُبَابًا (Zubābā): আক্ষরিক মাছি হলেও ধারণাগতভাবে এটি প্রকৃতির এমন এক অতি ক্ষুদ্র, চঞ্চল ও দুর্বলতম সৃষ্টি বা উপাদানকে নির্দেশ করে যা মানুষের তৈরি কোনো কৃত্রিম আদর্শ ল্যাবরেটরিতে তৈরি করতে পারে না।
  • ضَعُفَ (Da’ufa): কোনো সত্তা বা ব্যবস্থার ভেতরের সামর্থ্য, যুক্তি ও ক্ষমতার চূড়ান্ত অসাড়তা, দুর্বলতা ও অসারতা প্রকাশ পাওয়া।

Ayat 74

مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزيزٌ

“তারা আল্লাহর পরম ক্ষমতা, মহত্ত্ব ও নিয়ম-ব্যবস্থাকে যেভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল, সেভাবে তার সঠিক মূল্যায়ন ও অনুধাবন করতে পারেনি (Mā qadarullāha haqqa qadrihī); নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।”

Keywords:

  • حَقَّ قَدْرِهِ (Haqqa Qadrihī): কোনো সত্তা বা বিষয়ের আসল যোগ্যতা, মর্যাদা, অকাট্য পরিমাপ ও বাস্তব মূল্যকে যথাযথভাবে অনুধাবন ও স্বীকার করা।

Ayat 75

اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ

“আল্লাহ মহাজাগতিক ও প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের (Malā'ikah) মধ্য থেকে তাঁর বাণীবাহক বা সচল চালিকাশক্তি নির্বাচন করেন (Yastafī) এবং মানবজাতির মধ্য থেকেও (তিনি বাণীবাহক মনোনীত করেন); নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও নিখুঁতভাবে প্রত্যক্ষ করেন।” 

Keywords:

  • يَصْطَفِي (Yastafī): কোনো সুনির্দিষ্ট মহৎ দায়িত্ব বা বৈপ্লবিক রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য সমস্ত আবিলতা থেকে মুক্ত করে সর্বোত্তম উপাদান বা যোগ্যতম ব্যক্তিত্বকে বেছে নেওয়া।
  • الْمَلَائِكَةِ (Malā’ikah): মহাবিশ্বের সমস্ত অদৃশ্য প্রাকৃতিক নিয়মতান্ত্রিক চালিকাশক্তি, শক্তিস্তর বা ফিজিক্যাল ফোর্স যা আল্লাহর হুকুমে বিশ্ব পরিচালনায় ব্যস্ত থাকে।

Ayat 76

يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۗ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ

“তাদের সম্মুখে যা কিছু বর্তমান রয়েছে এবং তাদের অগোচরে পেছনে যা কিছু অনাগত বা অতীত হয়ে গেছে, তার সমস্ত কিছুই তিনি সুস্পষ্ঠভাবে জানেন; আর সমস্ত বিষয়ের সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণ চূড়ান্তভাবে আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়।” 


Ayat 77

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

“হে ইমানদারগণ! যারা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছ, তোমরা আল্লাহর বিধানের সামনে বিনীতভাবে নতি স্বীকার করো (Irka'ū), তাঁর সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক ও ঐশী আইনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও নিঃশর্ত সমর্পণ প্রদর্শন করো (Usjudū), কেবল তোমাদের প্রতিপালকেরই দাসত্ব ও অনুশাসন কার্যকর করো (Wa'budū Rabbakum) এবং সমাজ জীবনে সর্বপ্রকার কল্যাণকর ও গঠনমূলক কর্ম সম্পাদন করো (Waf'alul-Khair), যেন তোমরা চূড়ান্ত সাফল্য, বিকাশ ও সমৃদ্ধি লাভ করতে পারো (La'allakum Tuflihūn)।”

Keywords:

  • ارْكَعُوا (Irka’ū): কোনো বিধান বা পরম সত্যের শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করে নিজের অহংকার ত্যাগ করে বিনীত হওয়া বা আইনি বশ্যতা স্বীকার করা।
  • اسْجُدُوا (Usjudū): আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক ও ঐশী নিয়মের সামনে নিজের স্বাধীন ইচ্ছাকে সম্পূর্ণরূপে বিলীন করে দিয়ে চূড়ান্ত বাস্তব আনুগত্য প্রদর্শন করা।
  • تُفْلِحُونَ (Tuflihūn): সমস্ত প্রকার বাধা-বিপত্তি ও সংকটের দেয়াল ভেঙে বীজ থেকে মহীরুহ হওয়ার মতো মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক কাঠামোর চূড়ান্ত বিকাশ ও সফলতায় পৌঁছানো।

Ayat 78

وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ ۚ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ ۚ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَٰذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ ۚ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ ۖ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ

“এবং তোমরা আল্লাহর পথে ও তাঁর বিধান প্রতিষ্ঠায় সেভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা করো যেভাবে করা উচিত (Wa jāhidū fillāhi haqqa jihādihī); তিনি তোমাদেরকে এই মহান কাজের জন্য মনোনীত করেছেন (Hwajtabākum) এবং জীবন পরিচালন ব্যবস্থা বা সমাজ অনুশাসনের ক্ষেত্রে (Ad-Dīn) তোমাদের ওপর কোনো প্রকার সংকীর্ণতা, জবরদস্তি বা প্রতিবন্ধকতা চাপিয়ে দেননি (Min Haraj); এটি তোমাদের আদর্শিক পিতা ইব্রাহীমের চিরন্তন ধারা বা মিল্লাত; তিনিই পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছিলেন ‘মুসলিম’ বা শান্তি ও আত্মসমর্পণের অনুসারী হিসেবে এবং এই কিতাবেও তা বহাল রাখা হয়েছে, যাতে আল্লাহর বাণীবাহক বা আদর্শ তোমাদের ওপর চাক্ষুষ বাস্তবতার সাক্ষী হতে পারে (Shahīdan 'alaykum) এবং তোমরাও সমগ্র মানবজাতির সামনে সত্য ও ন্যায়ের বাস্তব সাক্ষী বা রোল মডেল হতে পারো (Shuhadā'a 'alan-nās); সুতরাং তোমরা সামাজিক সংযোগ ও অনুশাসনের ব্যবস্থাকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখো (Faaqīmu-s-Salāt), আত্মশুদ্ধি ও সমাজ বিকাশের পুষ্টি উপাদানসমূহ সমাজকে প্রদান করো (Wa ātu-z-Zakāt) এবং আল্লাহর সুদৃঢ় রজ্জু বা বিধানকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো; তিনিই তোমাদের একমাত্র অভিভাবক, কতই না চমৎকার অভিভাবক এবং কতই না সর্বোত্তম সাহায্যকারী!”

Keywords:

  • جَاهِدُوا (Jāhidū): সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত না হয়ে নিজের ভেতরের কুপ্রবৃত্তি এবং বাইরের সমাজ-বিকৃতির বিরুদ্ধে জান-মাল ও মেধা দিয়ে সর্বোচ্চ ও অবিরাম বুদ্ধিবৃত্তিক ও বাস্তব সংগ্রাম চালানো।
  • الدِّينِ (Ad-Dīn): আল্লাহর দেওয়া চিরন্তন জীবন পরিচালন পদ্ধতি, সামাজিক অনুশাসন, বিচার ও শাসনতান্ত্রিক রূপরেখা।
  • حَرَجٍ (Haraj): এমন কোনো অযৌক্তিক অন্ধ নিয়ম বা গোঁড়ামি যা মানুষের স্বাভাবিক বিকাশকে অবরুদ্ধ বা সংকীর্ণ করে ফেলে।
  • شُهَدَاءَ (Shuhadā’): যারা কেবল মুখের বুলি নয়, বরং নিজের বাস্তব চরিত্র, কর্ম ও সমাজ কাঠামোর মাধ্যমে সত্যকে পৃথিবীর বুকে চাক্ষুষভাবে ফুটিয়ে তোলে ও পরম আদর্শের জ্যান্ত প্রমাণে পরিণত হয়।
  • وَاعْتَصِمُوا (Wa’tasimū): কোনো সুদৃঢ় আশ্রয়, কেল্লা বা চূড়ান্ত সুরক্ষাকবচকে (আল্লাহর কিতাবকে) জীবনের সমস্ত ঝড়-ঝাপটায় শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রক্ষা পাওয়া।


“এবং তোমরা আল্লাহর পথে ও তাঁর বিধান প্রতিষ্ঠায় সেভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা করো যেভাবে করা উচিত (Wa jāhidū fillāhi haqqa jihādihī); তিনি তোমাদেরকে এই মহান কাজের জন্য মনোনীত করেছেন (Hwajtabākum) এবং জীবন পরিচালন ব্যবস্থা বা সমাজ অনুশাসনের ক্ষেত্রে (Ad-Dīn) তোমাদের ওপর কোনো প্রকার সংকীর্ণতা, জবরদস্তি বা প্রতিবন্ধকতা চাপিয়ে দেননি (Min Haraj); এটি তোমাদের আদর্শিক পিতা ইব্রাহীমের চিরন্তন ধারা বা মিল্লাত; তিনিই পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছিলেন ‘মুসলিম’ বা শান্তি ও আত্মসমর্পণের অনুসারী হিসেবে এবং এই কিতাবেও তা বহাল রাখা হয়েছে, যাতে আল্লাহর বাণীবাহক বা আদর্শ তোমাদের ওপর চাক্ষুষ বাস্তবতার সাক্ষী হতে পারে (Shahīdan 'alaykum) এবং তোমরাও সমগ্র মানবজাতির সামনে সত্য ও ন্যায়ের বাস্তব সাক্ষী বা রোল মডেল হতে পারো (Shuhadā'a 'alan-nās); সুতরাং তোমরা সামাজিক সংযোগ ও অনুশাসনের ব্যবস্থাকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখো (Faaqīmu-s-Salāt), আত্মশুদ্ধি ও সমাজ বিকাশের পুষ্টি উপাদানসমূহ সমাজকে প্রদান করো (Wa ātu-z-Zakāt) এবং আল্লাহর সুদৃঢ় রজ্জু বা বিধানকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো; তিনিই তোমাদের একমাত্র অভিভাবক, কতই না চমৎকার অভিভাবক এবং কতই না সর্বোত্তম সাহায্যকারী!”

Keywords:

  • جَاهِدُوا (Jāhidū): সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত না হয়ে নিজের ভেতরের কুপ্রবৃত্তি এবং বাইরের সমাজ-বিকৃতির বিরুদ্ধে জান-মাল ও মেধা দিয়ে সর্বোচ্চ ও অবিরাম বুদ্ধিবৃত্তিক ও বাস্তব সংগ্রাম চালানো।
  • الدِّينِ (Ad-Dīn): আল্লাহর দেওয়া চিরন্তন জীবন পরিচালন পদ্ধতি, সামাজিক অনুশাসন, বিচার ও শাসনতান্ত্রিক রূপরেখা।
  • حَرَجٍ (Haraj): এমন কোনো অযৌক্তিক অন্ধ নিয়ম বা গোঁড়ামি যা মানুষের স্বাভাবিক বিকাশকে অবরুদ্ধ বা সংকীর্ণ করে ফেলে।
  • شُهَدَاءَ (Shuhadā’): যারা কেবল মুখের বুলি নয়, বরং নিজের বাস্তব চরিত্র, কর্ম ও সমাজ কাঠামোর মাধ্যমে সত্যকে পৃথিবীর বুকে চাক্ষুষভাবে ফুটিয়ে তোলে ও পরম আদর্শের জ্যান্ত প্রমাণে পরিণত হয়।
  • وَاعْتَصِمُوا (Wa’tasimū): কোনো সুদৃঢ় আশ্রয়, কেল্লা বা চূড়ান্ত সুরক্ষাকবচকে (আল্লাহর কিতাবকে) জীবনের সমস্ত ঝড়-ঝাপটায় শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রক্ষা পাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *